বৃহস্পতিবার ,১৪ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 584

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না: ওবায়দুল কাদের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আগামী নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, বিজয়ের মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করবে, তবে এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না। নির্বাচনে প্রভাব ফেলার তো কোনো কারণ নেই। আমাদের নির্বাচন আমরা করব। যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শে নির্বাচন করব নাকি?

সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞায় কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র দেখছেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ষড়যন্ত্রের বিষয় তো অবশ্যই আছে। আমাদের এই বিজয়ের মাসে যুক্তরাষ্ট্রের যে বক্তব্য, সেটা আমাদের দেশের জঙ্গিবাদ, জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক ও সন্ত্রাসীদের উৎসাহিত করছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি প্রশ্ন রেখে ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল সাহেবকে আমি প্রশ্ন করতে চাই-মুরাদ যা বলেছে, তার চেয়েও ঘৃণ্য ও জঘন্য কথা বলার পর আলালকে তিনি সমর্থন করেছেন। এটা হলো আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের পার্থক্য। এত অশ্রাব্য ও অশোভন বক্তব্য কী করে মির্জা ফখরুল সমর্থন করেন? আমরা তো মুরাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। কিন্তু তারা আলালকে বহিষ্কার তো দূরের কথা, নৈতিক সমর্থন দিয়েছেন।

মুজিববর্ষে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতাদের সংবর্ধনা কর্মসূচির বাস্তবায়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, মুজিববর্ষ শেষ হয়ে যায়নি। আগামী মার্চ পর্যন্ত চলবে। এর মধ্যে আমাদের অনেক কাজ হয়ে গেছে। লেখা সংগ্রহ করা, জেলা পর্যায় থেকে প্রবীণ তালিকা নেওয়া হয়ে গেছে। এখন আমাদের সুবিধামতো সময়ে মার্চের মধ্যে আয়োজন করব।

১৬ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর পরিচালনায় যে শপথ অনুষ্ঠান হবে তাতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু ঢাকায় নয়, একই সঙ্গে সারা দেশে এই চেতনা ছড়িয়ে দিতে চাই। শুধু আমাদের নেতাকর্মীরা নয়, মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের, অসাম্প্রদায়িক চেতনার সব শ্রেণি-পেশার জনগণকেও আমরা এতে অংশগ্রহণে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠান, এটি জাতির অনুষ্ঠান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এ বিষয়ে বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা সমন্বয় করবেন। ১৮ ডিসেম্বর আমরা একটি বিজয় শোভাযাত্রার আয়োজন করেছি। এ শোভাযাত্রা কীভাবে সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খল করা যায়, সেই ব্যাপারে আমরা আলোচনা করেছি। শিখা চিরন্তন থেকে বঙ্গবন্ধু ভবন পর্যন্ত এই শোভাযাত্রাটি হবে।

১১ ও ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে টুঙ্গিপাড়ায় আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হবে বলে জানান তিনি।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন ও আফজাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ও উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান।

সভায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের দলীয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচার পরিচালনার জন্য একটি সমন্বয় কমিটি করা হয়েছে বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, এ কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। আর সদস্য সচিব থাকবেন সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম। আমরা যারা সংসদ সদস্য, তারা যেতে পারব না। কিন্তু যারা এমাপি নন, তাদের সুবিধা। এই কমিটিতে আরও কয়েকজন থাকবেন বলেও জানান তিনি।

ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কে ফাটল ধরাতে তৃতীয় পক্ষের হাত দেখছে ১৪ দল

যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের সম্মেলনে বাংলাদেশকে দাওয়াত না দেওয়ার বিষয়টিকে দেশটির ‘ভূ-রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশের’ প্রতিফলন হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট।

একই সঙ্গে ঢাকা-ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক ফাটল ধরাতে ‘তৃতীয়পক্ষ ষড়যন্ত্র করছে’ দাবি করে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার এবং বন্ধু দেশগুলোর কাছে সব বিষয়ে ‘সঠিক তথ্য’ তুলে ধরার পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন জোটের নেতারা।

সোমবার এক ভার্চুয়ালি আলোচনা সভায় জোট নেতারা এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতির বক্তব্যে জোটের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, সারাবিশ্ব যখন জঙ্গিবাদ আলোড়িত একটি বিষয়, সেই সময়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জঙ্গিবাদ নির্মূল করা হয়েছে। জঙ্গি নির্মূলে যেই সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ অবদান সেই সংস্থাকে আঘাত করা হচ্ছে কেন, আমাদের তা বোধগম্য নয়।

তিনি বলেন, আজকে বঙ্গোপসাগর নিয়ে যে বলয় সৃষ্টি হয়েছে, সেই বলয়ে আমাদের দেশ অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার কারণেই চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে আমরা মনে করি। এটা তাদের জন্যই একটা অসম্মানজনক সিদ্ধান্ত বলে পরিগণিত হবে।

তিনি বলেন, পুলিশ এবং র্যাব সদস্যরা শুধু দেশের জঙ্গিবাদ নির্মূলে সফল নয়, বিভিন্ন দেশের শান্তিরক্ষায় সফলভাবে কাজ করছে, প্রশংসিত হয়েছে। এখানে তৃতীয় কোনো শক্তি আমাদের সম্পর্কের মধ্যে ফাটল ধরানো বা এ ধরনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই দেশের জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করার কোনো প্রয়াস আছে কিনা বা তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে কিনা, বিষয়টি তলিয়ে দেখা উচিত।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন কোনো দেশের সরকারকে পছন্দ না করেন বা তার ইচ্ছা অনুযায়ী সরকার পরিবর্তন করতে চান- তখন তাদের ওপর বিভিন্ন দোষারোপ করে। বাইডেন কিন্তু ঘোষণাই দিয়েছে সে বিশ্ব নেতৃত্বে ফিরতে চায়। এজন্য বিভিন্ন দেশকে তাদের বলয়বৃত্ত করার চেষ্টা করছে। এ অঞ্চলেও তারা প্রভাব বলয় সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। গণতন্ত্রের সম্মেলনে দাওয়াত না দেওয়া সেই ভূরাজনীতিই কাজ করেছে। আর যুক্তরাষ্ট্র যখন মানবাধিকারের কথা বলে, বিশ্ব তখন তা বিশ্বাস করে না।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, এ বিজয়ের মাসে যুক্তরাষ্ট্র কতিপয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার যুক্তরাষ্টে প্রবেশাধিকারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে- যা এই দুই রাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে বৈসাদৃশ্য। সংবিধানের বিধান সমুন্নত রেখেই র্যাব আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশেরও যদি বাহিনীর কোনো সদস্যই বিধান ও আইনের বাইরে গিয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড করে তাকে সাজা দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যে অবস্থান সেই নীতির সঙ্গে এই ঘোষণা বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে তা ভুল তথ্য দ্বারা পরিচালিত। বিদেশের কোন রাষ্ট্র কী বলল, সেটি দেশে বাংলাদেশের ক্ষমতার হিসাব-নিকাশ যারা করে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে যে শক্তি মানতে পারেনি, সেই শক্তি এই বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর লগ্নে আমাদের আঘাত করার চেষ্টা করছে। যখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে, সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত দূরভিসন্ধি এবং অনেক প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।

আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপির সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া, তরিকত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী এমপি, জোটের নেতা রেজাউর রশীদ খান, এস কে সিকদার, এজাজ আহম্মেদ মুক্তা, ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, ডা. শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।

খালেদা জিয়া প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরু থেকে প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করেছেন। তিনি পুরো সময়টা পাক হানাদার বাহিনীর কারাগারে বন্দি ছিলেন দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে। ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাক হানাদার বাহিনীর কারাগারে ছিলেন।

আজ রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চক্রান্তের পর, সরকার এখন জীবননাশের ষড়যন্ত্র করছে। তাকে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। বিদেশের যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।

সোমবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি এ সভার আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ৭১ এর সঙ্গে বর্তমানের চেহারার কোনও পার্থক্য নেই। তরুণ যুবকদের গণতন্ত্রের কথা বলায় হত্যা করা হয়েছে। বর্তমান সরকার স্বাধীনতার কথা বলে জনগণের ওপর স্টিম রোলার চালাচ্ছে। হানাদারদের থেকে কোনও অংশে পিছিয়ে নেই তারা। ১২ বছরে ৬’শ ওপর নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। হাজারের ওপর নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।

সরকার জনগণের ওপর অত্যাচার করে দেশের সম্মান নষ্ট করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সারাবিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে ক্ষমতাসীনরা। মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে বিশ্ব দরবারে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে যাদের কারণে, সরকার সেই র‌্যাব কর্মকর্তাদের সাফাই গাইছে। কিন্তু বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মানবাধিকারশূন্য হিসেবে চিহ্নিত। নির্বাচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ধ্বংস করে লুটপাটের অর্থনীতির জন্যও পরিচিতি পেয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার চাইলেই খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠাতে পারেন। বিদেশে যেতে পারবে না বলে যে শর্ত দেওয়া হয়েছে তা তুলে নিলেই হয়। কিন্তু সরকার তা চায় না।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, দক্ষিণের আব্দুস সালাম, যুবদলের সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আব্দুল কাদির ভ‚ইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন প্রমুখ।

শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে।

মঙ্গলবার সকালে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এসএম সালাউদ্দিন ইসলাম।

আর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকীব আহমেদ চৌধুরী।

এ সময় বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল সামরিক কায়দায় সালাম জানায়।

পরে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সর্বসাধারণ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

দিবসটি উপলক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতি ও পেশাজীবী সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এছাড়া আলোচনাসভার আয়োজন করেছে অনেক দল ও সংগঠন।

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিধনে মাঠে নামে।

রাতের অন্ধকারে বাসা কিংবা কর্মস্থল থেকে চোখ বেঁধে নিয়ে তারা শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের হত্যা করে।

এ হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করা। দেশের নানা জায়গায় হত্যাযজ্ঞ চললেও মূল হত্যাযজ্ঞ চলে রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে।

সেই থেকে ১৪ ডিসেম্বর দিনটিকে জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে, পালন করে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে।

মাদক মামলায় পরীমনির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন শুনানি আজ

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় ঢাকাই সিনেমার নায়িকা পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের জন্য আজকের দিন ধার্য রয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এ হাজির হবেন পরীমনি।

গত ১৫ নভেম্বর চার্জশিট গ্রহণ করে শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালত।
এ মামলার অপর দুই আসামি হলেন— আশরাফুল ইসলাম দীপু ও কবির হোসেন।

গত ৪ অক্টোবর এ মামলায় পরীমনিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেয় সিআইডি।

এর আগে ১০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এর পর আদালত মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ দেন।

৪ আগস্ট বিকালে রাজধানীর বনানীর বাসায় অভিযান চালানোর পর পরীমনিকে বাসা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

৩১ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ শুনানি শেষে পরীমনির জামিন মঞ্জুর করলে পর দিন ১ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্ত হন এ চিত্রনায়িকা।

নরেন্দ্র মোদির টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাকড

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির টুইটার অ্যাকাউন্ট শনিবার মধ্যরাতে হ্যাকড হয়েছে।

হ্যাকড করার পর সেই অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হলো— ‘দেশে বৈধতা পাচ্ছে বিট কয়েন। সরকার ৫০০ বিট কয়েন কিনেছে। দেশবাসীর মধ্যে তা ভাগ করে দেওয়া হবে।’ খবর এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার।

এর পরই মোদির টুইটার অ্যাকাউন্টের সেই স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়ে যায়। তড়িঘড়ি করে তদন্তে নামেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।

টুইটার কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার পর ওই সময়ের মধ্যে করা বেশিরভাগ টুইট মুছে দেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে ওই সব টুইটের স্ক্রিনশট ঘুরতে শুরু করেছে নেটমাধ্যমে। ‘হ্যাশট্যাগ হ্যাকড’-ও ট্রেন্ডিং হতে শুরু করে।

মোদির টুইটার হ্যাক করার পেছনে কারা জড়িত তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।

ফাইভ-জি যুগে বাংলাদেশ

দেশে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হলো ফাইভ-জি সেবা। ডিজিটাল রূপান্তরের যাত্রা ত্বরান্বিত করতে ও দেশের সব গ্রাহক যেন পঞ্চম প্রজন্মের (ফাইভ-জি) মোবাইল প্রযুক্তির অত্যাধুনিক সুবিধা উপভোগ করতে পারে, সেজন্য ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে এই সেবা চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রীয় টেলিকম অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ পরীক্ষামূলকভাবে দেশে ফাইভ-জি সেবা চালু করেছে।

রোববার রাতে রাজধানীর রেডিসন হোটেলে ‘নিউ ইরা উইথ ৫ জি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে এ সেবার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীপুত্র ও তার আইসিটিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াাজেদ জয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সজীব ওয়াাজেদ জয় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে পরীক্ষামূলক ফাইভ-জি সেবার উন্মোচন করেন। নতুন ফাইভ-জি সেবা উদ্বোধন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি একেএম রহমতুল্লাহ্ এমপি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. খলিলুর রহমান, বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার ও টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. সাহাব উদ্দিন। এ ছাড়া হুয়াওয়ের পক্ষে কোম্পানিটির আঞ্চলিক প্রধান সিমন লিন ও হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঝাং ঝেংজুন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

প্রাথমিকভাবে হুয়াওয়ে ও নোকিয়ার সহযোগিতায় ছয়টি সাইটে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হয়। সাইটগুলো যেসব এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে সেগুলো হলো- বাংলাদেশ সচিবালয়, জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু স্মৃতিসৌধ, সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থল।

পরবর্তী সময়ে জেলা পর্যায়ে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা হবে। আগামী বছরের মধ্যে টেলিটকের ২০০টি সাইটে ফাইভ-জি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফাইভ-জি সাপোর্টেড স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফাইভ-জি সেবা ব্যবহার করা যাবে। এক্ষেত্রে গ্রাহকদের সিম পরিবর্তন করতে হবে না।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা ফাইভ-জি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইন্টারনেট গতি, অতি স্বল্প ল্যাটেন্সি, ভার্চুয়াল বা অগমেন্টেড রিয়েলিটি সার্ভিসগুলোর ওপর অভিজ্ঞতা নেন। ফোর-জি সেবার তুলনায় ফাইভ-জির গতি প্রায় ২০ গুণ বাড়বে এবং ল্যাটেন্সি ১০ ভাগের ১ ভাগে কমে আসবে। ফাইভ-জি সেবা দেওয়ার জন্য টেলিটক বিটিআরসি থেকে ৬০ মেগাহার্জ স্পেকট্রাম ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে।

পায়ের যত্নের সঠিক উপায়

পঞ্চাষোর্ধরা প্রায়ই পায়ের জয়েন্টের ব্যথা বা পা ফোলার অভিযোগ করে থাকেন। এর সঙ্গে পা লাল হয়ে যাওয়া বা এর সঙ্গে ত্বকে কালো স্পট হয়। কখনো পায়ের ঘা বা ক্ষত সহজে না শুকানো ও পায়ের শিরা নীলও হয়ে যায়। এমন হলে আমরা এটিকে শুধু পায়ের সমস্যা বলে মনে করি এবং বয়স্কদের জন্য এটি স্বাভাবিক বলে ধরে নেই। তবে অল্প বয়সেও কিন্তু এমন সমস্যা হতে পারে।

পায়ের স্বাস্থ্যের শত্রু কারা

প্রধান শত্রু হচ্ছে পর্যাপ্ত পরিমাণ হাঁটা বা ব্যায়াম না করা। যারা দীর্ঘক্ষণ ও দীর্ঘদিন ধরে চেয়ার বা পিড়িতে বসে কাজ করেন তাদের জীবনের কোনো এক সময় ওপরের লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। যারা স্থূলকায় বা যাদের দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত রক্তের সুগার আছে তাদের এ সমস্যা পাশাপাশি পায়ে জ্বালা-পোড়া বা বিদ্যুৎ চমকানোর মতো উপসর্গ প্রকাশ পায়। পায়ের স্বাস্থ্যের আরেকটি ঝুঁকি উপাদান হচ্ছে যারা ধূমপান বা অ্যালকোহল সেবন করেন। আমাদের মতো দেশে ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগেও এ সমস্যা হয়।

পায়ের সুস্বাস্থ্য কী প্রয়োজন

ধমনির মাধ্যমে হার্ট থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ রক্ত পায়ে প্রবাহিত হয় বলে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটতে পারি এবং পায়ের যে কোনো ক্ষত বা ঘা হওয়া থেকে দূরে থাকি। এ ধমনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে অনিয়ন্ত্রিত রক্তের সুগার ও ধূমপান।

পক্ষান্তরে দূষিত রক্ত শিরা দিয়ে পা থেকে ফুসফুসে যায়। এ রক্ত ঠিকমতো প্রবাহিত হলে পা ফোলে না বা পায়ে লাল বা কালো স্পট তৈরি হয় না। শুয়ে-বসে থাকা বা পর্যাপ্ত পরিমাণে হাঁটাচলা বা ব্যায়াম না করলে এবং শারীরিক ওজন বেশি হলে এ শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

লসিকা নালি থেকে রস যা লিম্ফ নামে পরিচিত তা পা থেকে হার্টে যায়। কোনো কারণে এ নালি ব্লক হয়ে গেলে পা ফুলে যায়। শুরুতেই এর চিকিৎসা না করালে পা ফুলে যায়। পাকস্থলী ও অন্ত্রের ক্যান্সার এবং এক ধরনের মশার কারণেও এ লসিকা নালি ব্লক হয়ে যেতে পারে। পায়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখেত এ ধমনি, শিরা ও লসিকা নালির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একজন ভাসকুলার বা রক্তনালির সার্জন পায়ের এসব সমস্যা বুঝতেও চিকিৎসা দক্ষতা রাখে।

করণীয়

* প্রতিদিন দু’ঘণ্টা হাঁটা ও ওজন সুনিয়ন্ত্রিত রাখতে হবে।

* সূর্যরশ্মির সংস্পর্শে প্রতিদিন ২-৩ ঘণ্টা থাকবেন।

* দীর্ঘসময় ধরে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকবেন না।

* সাঁতার কাটা ও সাইক্লিং পায়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

* পান, জর্দা, জাফরানি, গুল, ধূমপান থেকে বিরত থাকবেন।

* ডায়াবেটিস সুনিয়ন্ত্রণে রাখবেন এবং এ রোগীরা তাদের পায়ের যত্ন নেবেন।

* ডায়াবেটিস রোগীরা পায়ের যে কোনো আঘাত থেকে সতর্ক থাকবেন।

* নরম জুতা মোজাসহ পরিধান করবেন, স্যান্ডেল, স্লিপার পরা থেকে বিরত থাকবেন, ঘরে বা বাইরে খালি পায়ে হাঁটবেন না।

* মশা যেন পায়ে না কামড়ায় সেদিকে সতর্ক থাকবেন। এক্ষেত্রে মশা নাশক স্প্রে বা মশারি ব্যবহার করবেন। এর মাধ্যমে ফাইলেরিয়া রোগ হবে না।

সমস্যা হলে কোথায় যাবেন

পায়ের ত্বকে কালো স্পট, ঘা, নীলচে শিরা কিংবা পা ফুলে গেলে অবিলম্বে একজন ভাসকুলার সার্জন বা রক্তনালি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন। তিনি প্রয়োজনে পায়ের কালার ডপলার, এনজিওগ্রাম, ভেনোগ্রাফি, লিম্ফেনজিওগ্রাফি এবং ভেনটিলেশন পারফিউশন স্ক্যান করবেন।

লেখক : সিনিয়র কনসালট্যান্ট, ভাসকুলার ও কাডিওথোরাসিক বিভাগ, অ্যাপোলো হাসপাতাল, নিউ দিল্লি।

থ্যালাসেমিয়া রোগে কী হয়

থ্যালাসেমিয়া হচ্ছে এমন একটি রোগ, যেটি উত্তরাধিকারসূত্রে হয়ে থাকে। আর এ রোগে আক্রান্ত রোগীর শরীরে রক্তের ব্যাধি হয়ে থাকে, যা শরীরের হিমোগ্লোবিন এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরির ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।

থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে লোহিত রক্তকণিকা ও হিমোগ্লোবিনের মাত্রা অনেক কম থাকে এবং লোহিত রক্তকণিকা আকারে খুব ছোট হতে পারে। আর এ রোগটি হলে তার প্রভাব হালকা থেকে শুরু করে অনেক গুরুতর ও প্রাণঘাতী পর্যন্ত হতে পারে।

বছরে প্রায় এক লাখ নবজাতক গুরুতর থ্যালাসেমিয়াসহ নিয়ে থাকে। আর এটি ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলো যেমন— মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দেশগুলোয় এ সমস্যা বেশি থাকলেও গ্লোবালাইজেশনের কারণে এখন পৃথিবীর সব দেশেই এ রোগী পাওয়া যায়।

থ্যালাসেমিয়ার উপসর্গ থ্যালাসেমিয়া রোগের ধরনের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। বিটা থ্যালাসেমিয়া এবং কিছু ধরনের আলফা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশুর মধ্যে ৬ মাস বয়স পর্যন্ত কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তবে এর পরে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আসুন জেনে নিই থ্যালাসেমিয়া হলে কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে—

১. জন্ডিস ও ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণে শিশুদের জন্ডিস হতে পারে এবং তাদের ত্বক ফ্যাকাশে দেখাতে পারে।

২. তন্দ্রা ও ক্লান্তি
থ্যালাসেমিয়া হলে অনেক বেশি পরিমাণে তন্দ্রা লেগে থাকা ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

৩. বুকে ব্যথা
থ্যালাসেমিয়ার কারণে বুকে ব্যথা হতে পারে।

৪. হাত পা ঠণ্ডা হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৫. নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৬. থ্যালাসেমিয়ার কারণে পায়ে ক্রাম্প হতে পারে।

৭. থ্যালাসেমিয়া হলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে।

৮. অনেক সময় থ্যালাসেমিয়া হলে শিশুরা আর খেতে চায় না বা খাবারে অনীহা দেখা দিতে পারে।

৯. থ্যালাসেমিয়ার কারণে শিশুদের বৃদ্ধিতে বিলম্ব দেখা দিতে পারে বা শিশুরা ঠিক মতো বেড়ে ওঠে না।

১০. অনেক সময় মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।

১১. মাথা ঘোরা ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

১২. ইনফেকশন বা সংক্রমণে সহজেই প্রভাবিত হওয়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

 

তথ্যসূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে

এই শীতে যেসব অস্বাভাবিক লক্ষণে বুঝবেন শরীরে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি

ভিটামিন ডি আমাদের শরীরের সুস্থ কার্যকারিতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি অপরিহার্য পুষ্টি আর বিভিন্ন খাবারের পাশাপাশি এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে অর্জিত হতে পারে সূর্য থেকে।

সূর্যালোকের এক্সপোজার বা ভোরের সূর্যের আলো শরীরে ভিটামিন ডি এর মাত্রা বাড়ানোর সর্বোত্তম ও সবচেয়ে প্রাকৃতিক উপায়।

ভিটামিন ডি এর পর্যাপ্ত মাত্রা শরীরে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস শোষণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি ইমিউন ফাংশন উন্নত করে, বিভিন্ন সংক্রমণ এবং রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং হাড় ও দাঁতের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশকে সহজ করে। এ ছাড়াও উদ্বেগ কমাতে এবং সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকেই এই ভিটামিনটিকে গুরুত্ব দেই না। আর এই ভিটামিনের ঘাটতির ফলে শরীরে যেসব লক্ষণ দেখা দেয় তা সম্পর্কেও অনেকে জানেন না। তাই আজকে জেনে নিন, এই শীতে যেসব অস্বাভাবিক লক্ষণে বুঝবেন শরীরে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি—

১. অসুস্থ হওয়া বা প্রায়ই সংক্রমণ
ভিটামিন ডি এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখা এবং অসুস্থতা সৃষ্টিকারী ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করা। আপনি যদি প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়েন, বিশেষ করে সর্দি-কাশি বা ফ্লুতে আক্রান্ত হন এটি ভিটামিন ডি-এর মাত্রা কমে যাওয়ার একটি কারণ হতে পারে।

২. ক্লান্তি এবং দুর্বলতা
শরীরে ভিটামিন ডি’র ঘাটতির কারাণে প্রায়শই সাধারণ ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব হতে পারে। এমনকি দুর্বলতার কারণে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে বা মেঝে থেকে উঠতে বা নিচু চেয়ারে বসতেও অসুবিধা হতে পারে। তাই এ শীতে আপনার এমন মনে হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।

৩. হাড় ও পিঠে ব্যথা
ভিটামিন ডি আমাদের হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু আপনার যদি নিয়মিত হাড়ে এবং পিঠের নিচের দিকে ব্যথা হয় তবে এটি হতে পারে শরীরে অপর্যাপ্ত ভিটামিন ডি মাত্রার লক্ষণ।

৪. বিষন্নতা
বিষন্নতা বা মেজাজ খারাপ হয়ে যাওয়াও ভিটামিন ডি-এর অভাবের লক্ষণ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, যাদের শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব রয়েছে তাদের মধ্যে বিষন্নতা দেখা দিতে পারে। আর এটি মৌসুমী বিষন্নতা বা সাধারণত শীতের সময়ে ঘটতে দেখা যায়।

৫. চুল পড়া
চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যাটি প্রায়ই মানসিক চাপের জন্য দায়ী হয়ে থাকে। আবার এ সমস্যাটি ভিটামিন ডি এর অভাবের কারণেও হতে পারে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ভিটামিন ডি এর মাত্রা কম হলে চুল পড়ার প্রবণতা বেশি থাকে।

৬. পেশী ব্যথা
প্রায় সময়েই পেশীতে ব্যথার আসল কারণ চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে কিছু প্রমাণ রয়েছে যে, ভিটামিন ডি এর অভাবে পেশী ব্যথার একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। ভিটামিন ডি রিসেপ্টর নোসিসেপ্টর নামক স্নায়ু কোষে উপস্থিত থাকে। আর এ কারণে ভিটামিন ডি এর অভাবে পেশিতে ব্যথা অনুভব হতে পারে।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, হেলথলাইন ডটকম