শুক্রবার ,১৫ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 583

উইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে পাকিস্তানের বিশাল জয়

পাকিস্তানের কাছে পাত্তাই পেল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১ রানের বিশাল টার্গেট তাড়ায় ১৯ ওভারে ১৩৭ রানে অলআউট হয় উইন্ডিজ। ৬৩ রানের জয়ে সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল পাকিস্তান।

সোমবার করাচির জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে মোহাম্মদ রিজওয়ান, হায়দার আলী ও মোহাম্মদ নওয়াজের ব্যাটিং তাণ্ডবে ৬ উইকেটে ২০০ রানের পাহাড় গড়ে পাকিস্তান।

প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের চতুর্থ বলে দলীয় ১ রানে আউট হন বাবর আজম। অধিনায়ক ও দলের সেরা ব্যাটসম্যানের উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া পাকিস্তান ৪.৫ ওভারে দলীয় ৩৫ রানে হারায় ফখর জামানের উইকেট।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে হায়দার আলীকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাটিং তাণ্ডব চালান ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ান। এই জুটিতে মাত্র ৬৩ বলে ১০৫ রান স্কোর বোর্ডে যোগ করেন তারা।

এরপর মাত্র ২১ রানের ব্যবধানে পাকিস্তান হারায় ৩ উইকেট। ৫২ বলে ১০টি চারের সাহায্যে ৭৮ রান করে ফেরেন রিজওয়ান। আসিফ আলী ও ইফতেখার আহমেদ ফেরেন ১ ও ৭ রান করে।

ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে মোহাম্মদ নওয়াজকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ১১ বলে ৩০ রানের জুটি গড়েন হায়দার আলী। ইনিংস শেষ হওয়ার ৩ বল আগেই আউট হন হায়দার আলী। তার আগে ৩৯ বলে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় করেন ৬৮ রান। ১০ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলকে ২০০/৬ রানে পৌঁছে দেন মোহাম্মদ নওয়াজ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

পাকিস্তান: ২০ ওভারে ২০০/৬ রান ( মোহাম্মদ রিজওয়ান ৭৮, হায়দার আলী ৬৮, মোহাম্মদ নওয়াজ ৩০*)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৯ ওভারে ১৩৭/১০ (শাই হোপ ৩১, ওডিয়ান স্মিথ ২৪, রোভম্যান পাওয়েল ২৩, রোমারিও শেফার্ড ২১, নিকোলাস পুরান ১৮; মোহাম্মদ ওয়াসিম ৪/৪০, শাদাব খান ৩/১৭)।

ফল: পাকিস্তান ৬৩ রানে জয়ী।

বাংলাদেশে পাকিস্তানের সাফল্যের রহস্য জানালেন বাবর

সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো খেলে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে ভারত, নিউজিল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই সেমিফাইনালে ওঠে পাকিস্তান। কিন্তু সেমিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে যায় বাবর আজমরা।

বিশ্বকাপ মিশন শেষ করেই সোজা বাংলাদেশ সফরে চলে আসে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। ঢাকা সফরে এসে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে টাইগারদের হোয়াইটওয়াশ করে পাকিস্তান। এরপর দুই টেস্টের সিরিজেও বাংলাদেশ দলকে মগজধোলাই করে বাবর আজমরা।

বিশ্বকাপ ও বাংলাদেশ সফরে সাফল্যের রহস্য জানাতে গিয়ে পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম বলেন, আমাদের কোচ সাকলায়েন মুশতাক সব সময় আমাদের পাশে থাকেন। তিনি আমাদের সঙ্গে বসেন ও পরিকল্পনা নিয়ে আলাপ করেন। সাকলায়েন খেলোয়াড়দের বলেন, পাকিস্তানকে সবার আগে প্রাধান্য দিতে। কারণ আমরা ২২ কোটি মানুষের জন্য খেলি। তাদের আনন্দ দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।

বাবর আজম আরও বলেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমরা যে পারফরম্যান্স করেছি সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখেত চাই। অনেকেই বলছেন, তাদের দলে বড় নাম নেই। কিন্তু আমরা তাদের হালকাভাবে নিতে চাই না।

এর আগে পাকিস্তানের লেগস্পিনার শাদাব খান বলেছেন, খেলোয়াড়রা বাবরের জন্য নিজেদের জীবন দিতে প্রস্তুত।

এ ব্যাপারে বাবর আজম বলেন, অধিনায়ক হিসেবে সতীর্থরা যখন পারফর্ম করতে পারে না তখন তাদের অনুপ্রাণিত করতে আপনাকে সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আমার খেলোয়াড়রা কথা শুনে এবং তারা দায়িত্ব নিয়ে খেলে।

আইসিসি শিরোপা জয়ে নিজেদের করণীয় জানালেন রোহিত

বিরাট কোহলি টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেন। ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব থেকে তাকে সরিয়ে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)।

বর্তমানে ভারতের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ভারতীয় এই তারকা ওপেনার সাবেক অধিনায়ক বিরাট কোহলির নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, বিরাট কোহলি পাঁচ বছর দলটাকে নেতৃত্ব দিয়েছে। আমরা যখনই মাঠে নামতাম, সব সময়ই প্রতিটি ম্যাচ জেতার একটা চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞা থাকত আমাদের। পুরো দলের উদ্দেশে কোহলির বার্তাই থাকত এমন।

তিনি আরও বলেন, কোহলির অধীন খেলার সময়টা দারুণ কেটেছে আমাদের। ওর অধীন অনেক ম্যাচ খেলেছি আমি। প্রত্যেকটা মুহূর্তই উপভোগ করেছি, এখনো করি।

বিরাট কোহলি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে সফল হলেও অধিনায়ক হিসেবে ভারতকে আইসিসির ৫টি শিরোপা লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়ে কোনো ট্রফি উপহার দিতে পারেননি।

আইসিসি শিরোপা জয় নিয়ে ভারতের নতুন অধিনায়ক রোহিত শর্মা বলেন, শেষ পর্যন্ত ফলটা নিজেদের পক্ষে আনতে চাইলে তার আগে অনেক কাজ আমাদের ঠিকভাবে করতে হবে। আমরা সর্বশেষ আইসিসি টুর্নামেন্ট (চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি) জিতেছি ২০১৩ সালে। তবে সেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর আমরা যেভাবে এগিয়েছি, তাতে ভুল কিছু দেখি না। একটা দল হিসেবেই খেলেছি আমরা, শুধু শিরোপা জিততে যে বাড়তি কিছু লাগে, সেটা ছিল না আমাদের।

ভারতের হয়ে ইতোমধ্যে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলে ৪১টি সেঞ্চুরি করা রোহিত শর্মা বলেন, আগামী কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি বিশ্বকাপ আসছে, সেগুলোতে ভারত ভালো করার চেষ্টা সব সময়ই করবে। আমাদের মূল মনোযোগ শিরোপা জেতা, তবে সেখানে একটা প্রক্রিয়া আছে। দল হিসেবে সেটা আগে মানতে হবে আমাদের। আইসিসির টুর্নামেন্ট জিততে হলে তার আগের অনেক কাজ ঠিকভাবে করতে হবে, তারপরই পারব শিরোপা জেতার কথা ভাবতে।

ভারতের অন্যতম সেরা এই ওপেনার আরও বলেন, যখন চ্যালেঞ্জ আসে, তখন ওই কঠিন পরিস্থিতিতে আমরা কী করতে পারছি, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয়, আগে আমরা যখনই তেমন পরিস্থিতিতে পড়েছি, ১০ রানে ৩ উইকেট পড়ে গেল বা ১৫ রানে ২ উইকেট, আমরা সেখান থেকে ফিরে আসতে পারিনি।

ভাতীয় দলের নেতৃত্ব দেওয়া প্রসঙ্গে রোহিত বলেন, আমি আগেও সীমিতভাবে ভারতের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। আর যখনই সুযোগ পেয়েছি, তখন চেষ্টা করেছি সবকিছু সরল রাখতে। একটা দিক সব সময়ই ঠিক রাখতে চেয়েছি, তা হলো খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে পরিষ্কার থাকা। চেষ্টা করেছি, ওরা যেন ওদের ভূমিকা ঠিকমতো বোঝে, সেটা নিশ্চিত করতে। আমি এটাই নিশ্চিত করতে চাই, খেলোয়াড়েরা যেন বোঝে তাদের ঠিক কী কারণে দলে নেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ্যে মাইক্রোতে তুলে অপহরণ, ৩ দিন পর মিলল যুবকের লাশ

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় অপহরণের তিন দিন পর হৃদয় (২৪) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া মসজিদসংলগ্ন একটা বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত হৃদয় হোসেন উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের নতুন রূপপুর গ্রামের মজনুর ছেলে। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রূপপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আতিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, গত শনিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর তিন বটতলা এলাকা থেকে হৃদয়কে প্রকাশ্যে মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করা হয়। সেখানে উপস্থিত লোকজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন হৃদয়কে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে পাবনার দিকে চলে যায়। পরে অপহরণকারীরা হৃদয়ের মোবাইল ফোন থেকে কল দিয়ে তার স্বজনের কাছে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

এ ঘটনার পরই পরিবারের পক্ষ থেকে ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। তবে অপহরণের তিন দিন অতিবাহিত হলেও কোনো খোঁজ মেলেনি হৃদয়ের। অবশেষে সোমবার রাতে দাশুড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া মসজিদসংলগ্ন একটা বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মুক্তিপণের টাকা না দেওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

কাউন্সিলর হত্যা: ‘হিট স্কোয়াডে’ থাকা ২ জন গ্রেফতার

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ মোহাম্মদ সোহেল (৫০) ও তার সহযোগী আওয়ামী লীগ কর্মী হরিপদ সাহাকে (৫৫) হত্যার ঘটনায় অস্ত্রের জোগানদাতা এবং ‘হিট স্কোয়াডে’ থাকা এজাহারবহির্ভূত দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সোমবার রাত ৯টার দিকে অভিযান চালিয়ে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সহযোগিতায় তাদের গ্রেফতার করেন জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা।

গ্রেফতারকৃতরা হলো— নগরীর শুভপুর এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে মো. নাজিম ওরফে পিচ্চি নাজিম (৩০) এবং জেলার চৌদ্দগ্রামের গুণবতী গ্রামের মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. রিশাত ওরফে নিশাত (২৫)।

সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পরিমল দাস। তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্তকৃত কিলিং স্কোয়াডের সদস্য নাজিমকে সোমবার রাত ৯টার দিকে এবং রিশাতকে রাত ১০টার দিকে তাদের নিজ নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রিশাত হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের অন্যতম জোগানদাতা। তাদের ডিবি পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, সোহেল ও হরিপদকে গুলি করে হত্যার সময় হিট স্কোয়াডে ছিলেন ছয় সন্ত্রাসী। তারা হলেন— মামলার এজহারনামীয় প্রধান আসামি শাহ আলম, ২ নম্বর আসামি সোহেল ওরফে জেল সোহেল, ৩ নম্বর আসামি মো. সাব্বির হোসেন, ৫ নম্বর আসামি সাজন, এজাহারবহির্ভূত স্থানীয় নাজিম নামে এক যুবক ও ফেনী থেকে আগত সন্ত্রাসী নিশাত।

সর্বশেষ পুলিশ জানতে পারে, রিশাত ওরফে নিশাতের বাড়ি ফেনী নয়, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে। এই ছয়জনের মধ্যে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন শাহ আলম, সাব্বির ও সাজন। আর জেল সোহেল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে এখন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে।

গত ২২ নভেম্বর বিকাল ৪টার দিকে নগরীর পাথরিয়াপাড়া থ্রি-স্টার এন্টারপ্রাইজে কাউন্সিলর কার্যালয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন কাউন্সিলর সোহেল ও হরিপদ সাহা। কাউন্সিলর সোহেল কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য ও ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।

নিহত হরিপদ সাহা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য এবং সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যা!

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় স্বামীর পরকীয়ার জের মাহফুজা আকতার সোনিয়া (২০) নামে এক গৃহবধূকে গলা টিপে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার বাড়ি উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড নারিশ্চা বটতল এলাকায়।

সোমবার সকাল ৭টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ১০টার দিকে অভিযোগ পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে লাশ নিয়ে আসে পুলিশ। পরে ওই গৃহবধূর বাবা মো. হারুন বাদী হয়ে মাহফুজার স্বামী মো. আক্কাছ আলী, শাশুড়ি রহিমা বেগমসহ শ্বশুরবাড়ির ৪ সদস্যকে আসামি করে রাঙ্গুনিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মাহফুজার পৈতৃক বাড়ি পদুয়া ইউনিয়নের দ্বারিকোপ মৌলভীরখীল এলাকায় লাশ রাত ৮টার দিকে দাফন করা হয়েছে।

মাহফুজার বাবা মো. হারুন বলেন, আমার মেয়ে মাহফুজার সাথে একই ইউনিয়নের জামাল মিয়ার ছেলে আক্কাছ আলীর সঙ্গে ২০১৯ সালে বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকে আমার মেয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন জ্বালাতন করে আসছে। মেয়ে জানিয়েছে আমার মেয়ের স্বামী আক্কাছ আলীর সঙ্গে তার বড় ভাবীর পরকীয়া সম্পর্ক ছিল।

তার দাবি, বিষয়টি মাহফুজা টের পেয়ে প্রতিবাদ করলে তার উপর নেমে আসে দিনের পর দিন অমানুষিক নির্যাতন। নির্যাতনের বিষয়টি একাধিকবার মাহফুজা জানিয়েছিল। ঘটনার জেরে সোমবার সকাল ৭টার দিকে আমার মেয়ে মাহফুজাকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন গলা টিপে মেরে ফেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আনার আগে তার মৃত্যু হয়েছে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।

জানতে চাইলে রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মো. মাহবুব মিলকী বলেন, সকাল ১০টার দিকে উপজেলা সদরের ইছাখালি হাসপাতালের সামনে থেকে মাহফুজা আকতারের স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে দিয়ে দেয়া হয়।

স্কুলে ঢুকে ‘নিজেকে উড়িয়ে দিল’ তরুণ

স্কুলের ভেতরে ঢুকে এক তরুণ আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার একটি অর্থোডক্স স্কুলের ১৮ বছর বয়সী ওই সোমবার ওই আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে নিজেকে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এ হামলায় এক কিশোর আহত হয় বলে জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৮ বছর বয়সী এক স্নাতক ভেডেন্সকি কনভেন্টের অর্থোডক্স জিমনেসিয়ামে ঢুকে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।

মস্কোর দক্ষিণে সেরপুখভ শহরে ওই হামলায় ১৫ বছর বয়সী একজন কিশোর আহত হয়েছেন বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

তবে ওই আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ওই তরুণের মৃত্যু হয়নি বলে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, বিস্ফোরণের পর স্কুলের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং অন্য কেউ এতে হতাহত হয়েছে কী না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই হামলায় মোট সাতজন আহত হয়েছেন বলে বেশ কয়েকটি রুশ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।

মস্কোর প্রসিকিউটররা ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। ওই ভিডিওতে তুষারপাতের মধ্যে কনভেন্টের বাইরে পুলিশ এবং অ্যাম্বুলেন্স দেখা গেছে।
দেশটির অপরাধ তদন্তকারী কমিটি জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থলে গোয়েন্দা পাঠিয়েছে।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার স্কুলগুলোতে কিশোর-তরুণীদের হামলা চালানোর সংখ্যা বেড়ে গেছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার পের্ম শহরের একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ শিক্ষার্থীর হামলায় ছয়জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন।

চলতি বছরের মে মাসে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ কাজান শহরে তার পুরোনো স্কুলে গিয়ে গুলি চালালে নয়জনের মৃত্যু হয়।

 

লন্ডনে করোনা আক্রান্তদের ৪৪ শতাংশ ওমিক্রনে সংক্রমিত

ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভেদ বলেছেন, করোনার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট যুক্তরাজ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। লন্ডনে আক্রান্তের ৪৪ শতাংশ ওমিক্রনে সংক্রমিত, আর যুক্তরাজ্যে ২০ শতাংশ।

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনে প্রথম মৃত্যু হলো ব্রিটেনে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সোমবার গণমাধ্যমকে এ কথা জানিয়েছেন। খবর বিবিসির।

জনসন বলেছেন, এই দেশে ওমিক্রনে আক্রান্ত অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দ্রুত মিউটেশনের ফলে ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়তে পারে ওমিক্রনের তরঙ্গ। এর জন্য সচেতন থাকা জরুরি। খবর বিবিসির।

তবে ওমিক্রনে মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে এর বেশি তথ্য দেননি বরিস। তার বিদেশে যাওয়ার কোনো ইতিহাস ছিল কিনা, তাও জানা যায়নি।

ব্রিটেনে গত ২৭ নভেম্বর প্রথম ওমিক্রন আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। রোববার প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে বুস্টার টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

ওমিক্রন ধরন প্রথম আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানায় শনাক্ত হয়। এর পর করোনার এ ধরন আফ্রিকার আরও কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, হংকং, ইসরাইল, ইতালি, জাপান, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, স্পেন, সুইডেন, যুক্তরাজ্য, নাইজেরিয়া।

নতুন ধরন ছড়ানো শুরুর পর থেকে আফ্রিকার দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে বিভিন্ন দেশ।

এই ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার ঠেকাতে কমপক্ষে ৭০ দেশ ও অঞ্চল আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

ওমিক্রন সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, যারা আগে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তারাও ওমিক্রনে আক্রান্ত হতে পারেন। যদিও কতটা সংক্রামক তা এখনও স্পষ্ট নয়। আরটি-পিসিআর পরীক্ষা এই রূপকে দ্রুত ধরতে সক্ষম বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।

ইসরাইল মুসলিম বিশ্বের এক নম্বর শত্রু : ইরান

ইসরাইলকে আবারও মুসলিম বিশ্বের এক নম্বর শত্রু হিসেবে ঘোষণা করেছে ইরান।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে আসার পর এক প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবজাদেহ এ ঘোষণা দিয়েছেন। খবর পার্সটুডের।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ইসরাইল মুসলিম বিশ্বের প্রধান শত্রু ছিল, আছে এবং থাকবে।

তিনি বলেছেন, বিগত ৭০ বছর ধরে মুসলিম ও আরব দেশগুলোতে যে অবৈধ সরকার নিরাপত্তাহীনতা, উত্তেজনা ও যুদ্ধের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করেছে, তার প্রধানমন্ত্রীকে একটি মুসলিম দেশের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে আসার এ ঘটনা ফিলিস্তিনি জাতিসহ বিশ্বের সব স্বাধীনচেতা জাতি চিরকাল ঘৃণাভরে স্মরণ রাখবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, পবিত্র আল-আকসা বা বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলিমবিশ্বের প্রথম কিবলা, যা বর্তমানে ইহুদিবাদীদের দখলে রয়েছে।

গোটা মুসলিমবিশ্ব কখনই তাদের প্রথম কিবলা ইসরাইলিদের জবরদখল থেকে মুক্ত করার স্বপ্ন পরিত্যাগ করবে না।

ইরানের এ মুখপাত্র বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের তাবেদার মুসলিম শাসকগুলো যতই ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করুক না কেন, এ অঞ্চলের জনগণ কোনো দিন ইহুদিবাদীদের মুসলিম বিদ্বেষ ও শত্রুতা ভুলে যাবে না এবং তারা চিরকাল এই দখলদার সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিরোধিতা করে যাবে।

ইহুদিবাদী ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যে তার অবৈধ শাসনকে স্থায়িত্ব দিতে পারে এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া থেকে তিনি এ অঞ্চলের তাবেদার শাসকদের সতর্ক করে দেন।

ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত রোববার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন। বেনেতের আরব আমিরাত সফরের প্রতিবাদ জানিয়েছে ফিলিস্তিনের ইসলামি জিহাদ আন্দোলন। এ সফরকে ফিলিস্তিনি জাতির প্রতি আমিরাতের বিশ্বাসঘাতকতা বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

ব্যাংক লেনদেনে মিথ্যা তথ্য দিলেই জেল-জরিমানা

ব্যাংক লেনদেনের ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য দিলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রেখে নতুন আইনে সায় দিয়েছে সরকার।

সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটলম্যান্ট সিস্টেমস আইন, ২০২১’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয় বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সাংবাদিকদের বলেন, ব্যাংকে পেমেন্ট ও সেটেলম্যান্ট নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট আইন ছিল না। কিছু বিধি দিয়ে পরিচালিত হতো। তাই ডিজিটাল লেনদেন সুরক্ষায় এ আইন নিয়ে আসা হয়েছে।

তিনি বলেন, খসড়া আইনে চেকের মাধ্যমে লেনদেন ও ইলেকট্রনিক তহবিল স্থানান্তরের বিধান আনা হয়েছে। পেমেন্ট সিস্টেম পরিচালনার ন্যূনতম মূলধন, পর্ষদ গঠন ও ব্যবস্থাপনা, মালিকানা ও পরিচালনা, পরিদর্শন ব্যবস্থাপনা, সেবাদানের নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে।

চেক ও ইলেক্ট্রনিক তহবিল স্থানান্তর, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ইলেক্ট্রনিক মুদ্রা ইস্যু সংক্রান্ত বিধানও যুক্ত করা হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান।

খসড়া আইনে কিছু বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে উল্লেখ করে আনোয়ারুল বলেন, কীভাবে লেনদেন হবে, পরিশোধ হবে, পরিচালনা হবে এবং সেবা কীভাবে দেওয়া হবে, সেগুলো ৪ এবং ৫ নম্বর ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে। ৪ ধারার বিধান (কেউ) লঙ্ঘন করলে (আদালত) তাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং অনধিক ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দিতে পারবে।

খসড়া আইনের ৩৮ নম্বর ধারায় বিভিন্ন রকমের অপরাধের শাস্তির কথা তুলে ধরা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ব্যাংক, কোম্পানির মাধ্যমে গৃহীত বা সংগঠিত অপরাধের ক্ষেত্রে এ কোম্পানির মালিক, পরিচালক, কোম্পানির প্রধান নির্বাহী, ব্যবস্থাপক, সচিব বা অন্য কোনো কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা থাকলে তাদের পদ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অপসারণের বিধান ৩৯ ধারায় রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, মিথ্যা তথ্য বা দলিল বা বিবৃতি দিলে অনধিক ৩ বছরের কারাদণ্ড, অনধিক ৫০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয়দণ্ড হতে পারে। গ্রাহকের স্বার্থ সংরক্ষণে ফি আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে ক্ষমতা ও দায়িত্ব প্রিসাইজ করে দেওয়া হয়েছে।

নতুন আইনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট নিয়ে এতোদিন কোনো আইন ছিল না। ১৮৭২ সালের কন্ট্রাক্ট ল এর অধীনে কিছু রেগুলেশন ছিল। এখান দেখা যাচ্ছে যে, ট্রানজেকশন ও ব্যাংকিং অনেক বিস্তৃত হয়ে যাচ্ছে। এটা ডিজিটাল হয়ে যাচ্ছে। এগুলো বিধি-বিধানগুলোর মধ্যে ছিল না। সেজন্য পুরো পদ্ধতিগুলোকে আলাদা করে আইনে আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই আইনের মাধ্যমে অনলাইন ব্যাংকিং ও বিকাশ-নগদের মতো মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লেনদেনও আইনি সুরক্ষা পাবে।