রবিবার ,১৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 541

মোবাইল গেম ও অ্যাপ্লিকেশন উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন

মোবাইল গেম ও অ্যাপ্লিকেশন উন্নয়ন প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এটি বাস্তবায়নে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৩৩০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।পুরোটাই সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে।এ নিয়ে তিনবার প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ানো হলো।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিফ্রিং করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।

ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, ‘মোবাইল গেম ও অ্যাপ্লিকেশন সংক্রান্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক তরুণকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মোবাইল গেম ও অ্যাপ্লিকেশন উন্নয়ন বিষয়ে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের মতো ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির রাষ্ট্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর মোবাইল গেম অ্যাপস প্রযুক্তি নিয়ে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল দুই বছরের মধ্যেই। কিন্তু বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। ফলে এটি বাস্তবায়নে সময় যাচ্ছে ৭ বছর। তবে এক্ষেত্রে করোনা মহামারির দোহাই দেওয়া হয়েছে। এজন্য ‘মোবাইল গেম ও অ্যাপ্লিকেশনের দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়।

প্রকল্পের আওতায় মূল কার্যক্রম হচ্ছে, ২৭ হাজার ৪২৫ জনের প্রশিক্ষণ, ২৮৯টি মোবাইল অ্যাপস ও গেম ডেভেলপমেন্ট এবং ৩৩টি জেলা পর্যায়ে মোবাইল অ্যাপস টেস্টিং সেন্টার স্থাপন করা। এছাড়া ৮টি বিভাগীয় পর্যায়ে মোবাইল অ্যাপস ও গেম টেস্টিং সেন্টার, ৯টি মোবাইল অ্যাপস ও গেম ডেভেলপমেন্ট মার্কেটিং অ্যান্ড প্রমোশন, ৪ জন পরামর্শক সেবা ক্রয় এবং প্রাইস কন্টিজেন্সি ব্যয় মেটানো।

প্রকল্পটির সংশোধনী প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মোবাইল অ্যাপস ও গেম নির্মাণ প্রযুক্তি বিশ্বে একটি অন্যতম শিল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মোবাইল গেম ও অ্যাপস নির্মাণ হয়ে উঠবে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। বিশেষত বাংলাদেশের মতো একটি ক্ষুদ্র জনবহুল দেশে যেখানে ভারী শিল্প নির্মাণের কাঁচামালের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। সেজন্য শ্রম, মেধা, সৃজনশীলতানির্ভর মোবাইল গেম ও অ্যাপস নির্মাণ শিল্প অনেক বেশি উপযোগী। এ দেশে শিক্ষিত তরুণ জনগোষ্ঠীর বিরাট অংশ বেকার। তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ শিল্পে যুক্ত করতে পারলে দেশের বেকার সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। তারা একদিকে নিজেরা স্বাবলম্বী হবে, অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, নতুন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৭টি নতুন কার্যক্রম, বঙ্গবন্ধু শৈশব নিয়ে ১০ পর্বের অ্যানিমেটেড মুভি ‘খোকা’ নির্মাণ এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিশু-কিশোরদের সংযোগ স্থাপনের জন্য গেমসভিত্তিক ওয়েভ প্ল্যাটফরমের আওতায় ১২টি গেম নির্মাণ করা হবে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ভার্চুয়াল ট্যুরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার ৫০ বছর শিরোনামে অ্যানিমেটেড মুভি এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে মোবাইল গেমের দ্বিতীয় ভার্সন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে নির্মাণ করা হচ্ছে। শেখ রাসেলের জীবনী নিয়ে থ্রিডি অ্যানিমেটেড মুভি ‘রাসেল সোনা’ নির্মাণ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের জন্য অ্যানিমেশন ল্যাব স্থাপনের প্রস্তাব সংযোজন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির আওতায় চলতি বছরের ৩০ জুন প্রকল্পের ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় হয়েছে ১৭৫ কোটি ৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৬২ দশমিক ১২ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি ৭৯ শতাংশ।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটির মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ২৮১ কোটি ৮০ লাখ ৮২ হাজার টাকা। ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের জুনে বাস্তবায়নের জন্য ২০১৬ সালের ১৪ জুন একনেক সভায় অনুমোদন পায়। এরপর প্রকল্পের ব্যয় ছাড়া বাস্তবায়ন মেয়াদ এক বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী আনা হয়। সেটি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ ২০১৮ সালের ৪ জুলাইয়ে অনুমোদন করে। পরে আইএমইডির সুপারিশের প্রেক্ষিতে প্রকল্পটির মেয়াদ ২ বছর বাড়িয়ে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্পটির মোট ব্যয় অপরিবর্তিত রেখে কিছু নতুন কম্পোনেন্ট সংযোজন করে পরিকল্পনামন্ত্রী ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দেন। বর্তমানে বাস্তব চাহিদার জন্য নতুন কিছু কার্যক্রম সংযোজন ও চলমান অনুমোদিত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে করার জন্য তৃতীয় সংশোধনীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৩৩০ কোটি টাকা নির্ধারণ করে ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুনে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পটিতে পরামর্শক খাতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকায়। বর্তমানে ৯ জন পরামর্শকের জন্য ধরা হয়েছিল ৩ কোটি ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এখন ৭৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন যথাসময়ে না হওয়ার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা উচিত। সময়মতো শেষ না হলে ব্যয় বেড়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই অতিরিক্ত ব্যয়ের দায় কে নেবে?। সেই সঙ্গে সময়মতো প্রকল্প শেষ হওয়ার সুফল থেকে বঞ্চিত থাকছে দেশ। কিন্তু কী কারণে শেষ হলো না সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় না আনায় একই ঘটনা সব ক্ষেত্রেই ঘটছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরামর্শক খাতের ব্যয় নিয়ে নানা ধরনের কথা শোনা যায়। এর মধ্যে নেতিবাচক কথাই বেশি আসে। ফলে পরিকল্পনা কমিশনের উচিত এসব ব্যয় বিশেষভাবে যাচাই-বাছাই করা। তবে পরিকল্পনা কমিশন অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন তুলে থাকে। কিন্তু এতেই দায়িত্ব শেষ করা ঠিক নয়।

প্রবাসে বিমর্ষ রাত

আজ বছরের পহেলা রাত
করোনার তাণ্ডব চারিদিক,
কোথাও কপোত-কপোতীর অট্টহাসি
কিংবা চুম্বনের কোন দেখা নেই।
জনমানব নেই, নেই পুলিশের হুইসেল
তবুও আমি হাঁটছি, হেঁটে চলছি দিগ্বিদিক,
পরিবেশে বরফের বার্তা থাকলেও
তার কোনো দেখা নেই, নেই শীতের প্রকটতা।
আজ আমার এক অনন্য রাত
রাজা, সেনা-সৈন্য নেই, নেই আরো গোলাবারুদ,
কোনো অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীর ভয় নেই
প্রিয়তমার হাত ধরে চলার অবকাশ নেই,
নেই আরও জন্মভূমির সবুজ সমাগম
তবুও আমি হেঁটে চলছি।
আজ বিষণ্ন ভগ্নহৃদয়ে টালমাটাল
চারিদিকে এত আলোকপাত,
তবুও কোথাও একটু সত্যের আলিঙ্গন নেই
শুধু পড়ে আছে ভিঞ্চির আঁকা মোনালিসা,
শতাব্দীর সাক্ষী আছে শুধু বিজয়ী আইফেল
আর বিমর্ষ রাতে নিশাচর এক ফেরিওয়ালা।

যে সময়ের ইবাদতে আল্লাহ সবচেয়ে বেশি খুশি হোন

মানুষের সৃষ্টি ইবাদতের জন্যই। আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় ইবাদতগুজার বান্দা। গভীর রাতের ইবাদত অনেক বেশি পছন্দ করেন আল্লাহ তায়ালা।

আল্লাহকে ডাক দিলে তিনি ফেরেশতাদের কাছে তার খুশি প্রকাশ করেন। নামাজে সুরা পাঠ করলে তিনি ফেরেশতাদের বলতে থাকেন, তোমরা দেখ আমার বান্দা আমার প্রশংসা করছে।

পৃথিবীতে যদি শুধু ইলমই আমাদের জন্য যথেষ্ট হতো আমলের প্রয়োজন না হতো, তাহলে আল্লাহ তায়ালা রাতের শেষ ভাগে এসে বান্দাদের প্রতি তার এই ঘোষণা অনর্থক হতো।

কোন প্রয়োজন প্রার্থী আছে? (আমি তার প্রয়োজন পূর্ণ করবো)। ২. কোন ক্ষমা প্রার্থনকারী আছে? (আমি তাকে ক্ষমা করে দিব)। কোন তাওবাকারী আছে? (আমি তার তাওবা কবুল করবো)।

রাসুলের (সা.) কাছে একদা সাহাবায়ে কেরামের এক জামাত আবদুল্লাহ ইবনে উমরের (রা.) প্রশংসা করলে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কতইনা প্রসংশনীয় সে ব্যক্তি যে তাহাজ্জুদ পড়ে রাতের শেষ ভাগে। (বুখারি ও মুসলিম)

অপর সাহাবিকে রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপদেশ দিয়ে বললেন, হে অমুক! ঘুমে বেশি সময় অতিবাহিত করো না, কেননা রাতের অধিক ঘুম তোমাকে কিয়ামতের দিন নিঃস্ব বানিয়ে উঠাবে। (ইবনে মাজাহ)

মহান রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে তাহাজ্জুদ পড়ার আদেশ করেছেন। তাহাজ্জুদ আদায়কারীদের প্রশংসা ও গুনকীর্তন করেছেন।

আল্লাহ তায়ালা তাহাজ্জুদের আদেশ করতে গিয়ে ইরশাদ করেন, তোমরা রাতের শেষ ভাগে তাহাজ্জুদ আদায় কর। (সূরা বনি ইসরাঈল ৭৯)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা শেষ রাতে ইবাদতকারীদের প্রশংসা করতে গিয়ে বলেন, রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত ।

অপর আয়াতে বিশেষ ব্যক্তিদের সাথে শেষ রজনীতে ইবাদত কারীদের আলোচনা করতঃ ইরশাদ করেন, তারা ধৈর্য ধারনকারী, সত্যবাদী, নির্দেশ সম্পাদনকারী, সৎপথে ব্যয়কারী। শেষ রাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী, (সূরা আল ইমরান ১৭)

হাদিস শরীফে বর্নিত আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তিন প্রকারের আওয়াজ আল্লাহ তায়ালার কাছে খুবই প্রিয়

১. ভোর বেলায় মোরগের ডাক। ২. কুরআন তেলাওয়াতের আওয়াজ। ৩. শেষ রজনীতে ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের কান্নাকাটির আওয়াজ।

হযরত সুফিয়ান সাওরী (রহ.) হতে বর্ণিত, শেষ রজনীতে আল্লাহ তায়ালা এমন এক বাতাস প্রবাহিত করেন, যা বান্দাদের শেষ রজনীর ইবাদত, যিকির, দুআ ও ইস্তেগফার আল্লাহ তায়ালা কাছে নিয়ে যায়।

হযরত সুফিয়ান সাওরী (রহ.) হতে আরো বর্ণিত আছে, রাতের অগ্রভাগে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন, হে ইবাদতকারী বান্দা বান্দিরা! উঠে যাও, তখন ইবাদত কারীরা উঠে নামাজে দাড়িয়ে যায়, যতক্ষণ ইচ্ছা নামাজ আদায় করতে থাকেন। এরপর মধ্যরাতে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন, ওহে আল্লাহর আনুগত্য বান্দা বান্দিরা! উঠে যাও তখন তারা উঠে রাতের শেষাংশ পর্যন্ত নামাজ আদায় করতে থাকে।

এভাবে রাতের শেষ ভাগে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন ওহে ক্ষমা প্রার্থনাকারীরা! উঠে যাও তখন ক্ষমা প্রার্থীরা উঠে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাক।

অবশেষে যখন ফজরের সময় ঘনিয়ে আসে তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন, হে গাফেলরা! হে উদাসীনতার চাদর আবৃতব্যক্তিরা! গাফলতির চাদর ছেড়ে দিয়ে উঠ। তখন তারা ধীরে ধীরে উঠতে থাকে, যেন মৃতদেরকে কবর থেকে উঠানো হচ্ছে।

লেখক: তরুণ আলেম ও আলোচক

শীতের রাতে আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ আমল

এখন শীতকাল, রাত অনেক বড়। সহজেই শেষ রাতে উঠে বিশেষ ইবাদত করা যায়। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে শুরু করে রাতের আধার ঘনিয়ে আসা পর্যন্ত নামাজ প্রতিষ্ঠিত করো আর প্রভাতে কোরআন পড়াকে গুরুত্ব প্রদান করো। প্রভাতে কুরআন পাঠ নিশ্চয়ই এমন যে তা সাক্ষ্য প্রদান করে থাকে, আর রাতের এক অংশেও তার (কুরআন পাঠের) সাথে তাহাজ্জদ পড়তে থাকো। এটা তোমাদের জন্য হবে নফল বিশেষ। আশা করা যায় তোমার প্রভু প্রতিপালক তোমাকে এক বিশেষ প্রশংসনীয় মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করবেন’ (সুরা বনী ইসরাইল, আয়াত: ৭৮-৭৯)।

উল্লিখিত আয়াতে আমাদেরকে আল্লাহতায়ালার নৈকট্য লাভের পদ্ধতি শেখানো হয়েছে। আমরা যদি তার নৈকট্য লাভ করতে চাই তাহলে আমাদেরকে নীরবে একনিষ্ঠ হয়ে তার কাছে কান্নাকাটি করে আমাদের পাপসমূহের ক্ষমা চাইতে হবে।

আল্লাহপাক ক্ষমাশীল, তিনি চাইলে আমাদের পাপ ক্ষমা করতে পারেন। আমাদের কাজ হচ্ছে ক্ষমা চাইতে থাকা আর দোয়া করতে থাকা। ক্ষমা করবেন কি করবেন না এটা একান্তই আল্লাহতায়ালার কাজ। দোয়া করার উত্তম একটি সময় হল গভীর রাত অর্থাৎ তাহাজ্জুদের সময়।

হাদিসে এসেছে, হজরত বেলাল (রা.) বর্ণনা করেছেন, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তাহাজ্জুদ নামাজ তোমাদের নিয়মিতভাবে পড়া উচিত, কেননা এটা অতীতকালের সৎকর্মশীলদের পদ্ধতি ছিল এবং স্রষ্টার নৈকট্য লাভের মাধ্যম ছিল। এই অভ্যাস পাপকর্ম থেকে বিরত রাখে, মন্দকর্ম দূর করে আর শারীরিক রোগ-ব্যাধি থেকে রক্ষা করে’ (তিরমিজি, আবওয়াবুদ দাওয়াত)।

অপর একটি হাদিসে রয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রাতে শেষ প্রহর যখন আসে আল্লাহতায়ালা তখন পৃথিবী সকাশে অবতরণ করেন আর বলেন, আছে কী কেউ? যে আমার কাছে দোয়া যাচনা করবে আর আমি তার দোয়া কবুল করবো। কেউ কী আছে? যে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে আর আমি তাকে মার্জনা করবো। কেউ কী আছে? আছে সে তার নিজের দু:খ ক্লেশ দূর করার জন্য দোয়া করলে আমি দু:খ ক্লেশ বিদূরিত করবো। এভাবে আল্লাহতায়ালার এই আহ্বান করা (ততক্ষণ পর্যন্ত) চলতেই থাকে এমন কি সুবেহ সাদেক-প্রভাতের আলোক রেখা ফুটে ওঠে।’ (মুসনাদ আহমদ বিন হাম্বল, ২য় খণ্ড)

অপর আরেকটি হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, হজরত আবু হুরায়ারা (রা.) আরও বর্ণনা করেন, মহানবী (সা.) বলেন, ‘সেই ব্যক্তির ওপর আল্লাহতায়ালা রহম করুন যে রাতের বেলায় জেগে ওঠে ও নামাজ পড়ে আর প্রিয়তমা স্ত্রীকে জাগিয়ে দেয়। স্ত্রী জেগে ওঠতে গরিমসি করলে তার মুখমন্ডলে পানি ছিটিয়ে দেয় যাতে সজাগ হয়ে সে ওঠে পড়ে। অনুরূপভাবে আল্লাহতায়ালা সেই মহিলার প্রতিও রহম করুন, প্রথমে জেগে ওঠে, নামাজ পড়ে আর প্রিয়তম স্বামীকেও জাগিয়ে তুলে। স্বামী জেগে ওঠতে গড়িমসি করলে তার মুখমণ্ডলে পানি ছিটিয়ে দেয় যাতে সে জেগে ওঠে।’ (আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত)

তাই আসুন, অলসতা পরিহার করে রাতগুলোকে জাগ্রত করি ইবাদতের মাধ্যমে। আল্লাহতায়ালার কাছে ক্রন্দনরত হয়ে দোয়া করি তিনি যেন বিশ্ববাসীকে ক্ষমা করেন এবং মহামারি করোনা ও ওমিক্রন থেকে রক্ষা করেন।

লেখক: ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট
masumon83@yahoo.com

শপথ নিলেন নিউইয়র্কের মেয়র

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে করোনা শনাক্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় অত্যন্ত স্বল্প আয়োজনে শপথ নিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির ১১০তম মেয়র এরিক অ্যাডামস। নতুন বছরের প্রথম দিন শনিবার (১ জানুয়ারি) ম্যানহাটানের টাইমস স্কয়ারে শপথ নেন এরিক অ্যাডামস।

এর আগে ঐতিহ্যবাহী কিংস থিয়েটারে ১ জানুয়ারি অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে সিটির মেয়র হিসেবে এরিক এডামস, কম্পট্ররার ব্র্যান্ড ল্যান্ডার এবং পাবলিক অ্যাডভোকেট জুমানি উইলিয়ামস এর শপথ নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু আকস্মিক অত্যন্ত সংক্রমনশীল ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট দ্রুতগতিতে নিউইয়র্ক সিটিতে ছড়িয়ে পড়ার কারণে স্থগিত করা হয়।
এই তিন নির্বাচিত নেতা মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) শপথ অনুষ্ঠান স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমরা কোনভাবেই জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝঁকিপূর্ণ এমন কাজ করতে পারি না। অবস্থার উন্নতি হলে আমরা এই অনুষ্ঠান সকলে মিলে করতে চাই।
প্রতি চার বছর অন্তর সিটি হলের সামনে উন্মুক্ত প্লাজায় উৎসবমুখর পরিবেশে নবনির্বাচিত মেয়রের শপথ অনুষ্ঠান হয় বিপুল সংখ্যক আমন্ত্রিত অতিথির উপস্থিতিতে। কিন্তু এ বছর নিউইয়র্ক সিটির তিনজন প্রধান ব্যক্তিই ব্রুকলীনের হওয়ায় তারা ৩০০০ আসন বিশিষ্ট ব্রুকলীনের কিংস থিয়েটারে এই শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজনের কথা ঘোষণা করেন। এই তিন নেতা হলেন মেয়র এরিক এডামস, তিনি এখনো ব্রুকলীন বরো প্রেসিডেন্ট, কম্পট্রলার ব্র্যাড ল্যান্ডার যিনি এখনো ডিস্ট্রিক্ট-৩৯ এর সিটি কাউন্সিলম্যান এবং পুনর্নিবাচিত পাবলিক এডভোকেট জুমানি উইলিয়ামস। তবে তারা অফিসিয়ালি শপথ গ্রহণ করে ১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় এদিন অত্যন্ত স্বল্প আয়োজনে শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানে মেয়র কোনো বক্তব্যও রাখেননি। এরিক অ্যাডামস নিউইয়র্ক সিটির ৩২৬ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয় কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র হিসাবে যাত্রা শুরু করলেন। ২৮ বছর আগে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র নির্বাচিত হন ডেভিড ডিনকিন। এরিক অ্যাডামস সদ্য বিদায়ী মেয়র বিল ডি ব্ল্যাজিও’র স্থলাভিষিক্ত হলেন।
নতুন মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের সময় কোন বিষয়ে মন্তব্য করেননি এরিক অ্যাডামস। সাংবাদিকদের প্রশ্নও তিনি এড়িয়ে গেছেন। তবে শপথ গ্রহণের দুইদিন আগে তিনি বলেছেন, নতুন মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সদস্য বিদায় মেয়র বিল ডি ব্ল্যাজিওর করোনা নিয়ে কিছু সিদ্ধান্ত তিনি অব্যাহত রাখবেন। যার মধ্যে ভ্যাকসিন ম্যান্ডেট অন্যতম।
করোনা মোকাবেলায় পরিকল্পনা হিসেবে নিউ ইয়র্কের নতুন মেয়র এরিক অ্যাডামস বলেছেন, ‘আমরা নতুন করে আর লকডাউন বা শাটডাউনের কথা ভাবছি না। আমরা স্কুলগুলো বন্ধ না রাখার চেষ্টা করছি; যাতে শিক্ষা কার্যক্রম সচল থাকে। এছাড়া সিটির কর্মীদের টিকা দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিকে কর্মী সংকটে কয়েকটি সাবওয়ে ট্রেন বন্ধ রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি কোন কিছুই বন্ধ না করতে। তিনি বলেন, যেখানে ভিড় হচ্ছে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। জনসাধারণকে বলছি আপনারা গণজমায়েত এড়িয়ে চলুন। দ্রুত টিকা নিন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। নিউইয়র্ক সিটি একটি চমৎকার শহর। আমরা একটি ইতিবাচক প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আছি।’

এরিক অ্যাডামসের জন্ম ১৯৬০ সালে কুইন্সের এক শ্রমজীবী পরিবারে। তার মা ছিলেন একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। আর বাবা কসাই হিসেবে কাজ করতেন। এরিক কিশোর বয়সে একটি অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। ১৫ বছর বয়সে তিনি গ্রেপ্তার হন। নিউইয়র্ক পুলিশের দুই সদস্য তাঁকে মারধরও করেছিলেন তখন। আর সেসময় থেকেই নিউইয়র্ক পুলিশে যোগ দেওয়ার সংকল্প করেন এ কৃষ্ণাঙ্গ। আশির দশকের মাঝামাঝি পুলিশে যোগ দেন তিনি। এরপর ২২ বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০৬ সালে পুলিশের ক্যাপ্টেন পদে থেকে অবসরে যান এরিক অ্যাডামস।

১৯৯৫ সালে এরিক এডামস পুলিশের বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে ‘হান্ড্রেড ব্ল্যাকস ইন ল এনফোর্সমেন্ট হু কেয়ার’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। এটি এখনো বহাল আছে। অবসরে যাবার পর নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেটে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়লাভ করেন এরিক অ্যাডামস। ২০১৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এরপর ব্রুকলিন বরো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং তখন থেকেই নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হওয়ার স্বপ্ন দেখতে থাকেন এরিক অ্যাডামস।
এরিক অ্যাডামস প্রশাসনের ইতিমধ্যে রাজনৈতিক নিয়োগ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি কৃষ্ণাঙ্গ, দক্ষিণ এশিয় এবং মুসলিম কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়োগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশিও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

নতুন মেয়র হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এরিক অ্যাডামসের সামনে যে চ্যালেঞ্জটি সবচেয়ে বড়, তা হলো বৈশ্বিক মহামারী করোনা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া। করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন-এর ভয়াবহ তাণ্ডব শুরুর পর থেকে নিউ ইয়র্ক সিটির করোনা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। প্রায় প্রতিদিন রেকর্ডসংখ্যক করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সিটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী সংকট দেখা দিয়েছে। সিটি স্কুলগুলো সশরীরে পাঠ্যক্রম চালানোর বিষয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শহসিটির নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে করোনা পরিস্থিতি কার্যকর উপায়ে প্রতিরোধ করা দরকার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর এ বিষয়টিকে নতুন মেয়রের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তারা। তবে কেউ কেউ নিউইয়র্ক সিটিতে বন্দুক হামলার বিষয়টি নিয়েও কথা বলেছেন।

শারজায় সাধারণ ক্ষমার গুজব, শাস্তির আওতায় আসছেন প্রচারকারীরা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় গত ৩১ ডিসেম্বর হঠাৎ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ ক্ষমার গুজব ছড়িয়ে পড়ে৷ গুজবের ভিত্তিতে শারজাহ মেগামলের পেছনে মালুমাত সেন্টারে ভিড় করতে থাকেন অবৈধভাবে বসবাসরত প্রবাসীরা৷ ১৩০ দিরহাম দিয়ে প্রবাসীরা জরিমানা মওকুফের আবেদন করেন। প্রথম দিন ভিড় কম হলেও দ্বিতীয় দিন হাজারো মানুষ ভিড় করেন৷ এতে করোনার বিধিনিষেধ অমান্য করা হয়৷

স্থানীয় গণমাধ্যমে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাধারণ ক্ষমার খবরটি ভুয়া বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলে গণমাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হতো বলে জানায় প্রশাসন।

এদিকে শারজাহ পুলিশ সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানোর অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়া এক্টিভিস্টদের শাস্তির আওতায় আনতে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিচ্ছে৷ যাচাই-বাছাই না করে এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ প্রচার করে বিভ্রান্ত সৃষ্টিকারীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে৷ তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলেও পুলিশ জানায়৷

আরব আমিরাতে গুজব ছড়ানোর অভিযোগের শাস্তি সর্বনিম্ন ১ বছরের জেল ও ১০০০০০ দিরহাম জরিমানার বিধান রয়েছে।

জরিমানা মওকুফের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশি মালিকানাধীন আমের সেন্টারের ম্যানেজার কামাল হোসেন সুমন জানান, জরিমানা কমানোর আবেদন যেকোনো টাইপিং বা আমের সেন্টার থেকে করা যায়৷ আর আবেদন মানেই সাধারণ ক্ষমা নয়৷ এমনকি এই আবেদন করলেই যে বৈধ হওয়া যায় বিষয়টিও এমন নয়৷ এটা জরিমানা মওকুফের জন্য আবেদন মাত্র৷ হয়তো অনেকে না বুঝে গুজব ছড়িয়েছেন৷

ছেলেদের ত্বক ও চুলের যত্ন

বাইরের ধুলাবালি, সারা দিনের কাজের চাপ আর খাবারের কারণেও ত্বকের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় ছেলেদের। এ ছাড়া ঋতুভেদে শীতের এ সময়েও পুরুষের ত্বকে ব্রণসহ র‌্যাশ, কালচে দাগ কিংবা পা ফাটার মতো রুক্ষতা আর মলিনতা ধরা দেয় ত্বকে। খুব সহজেই ঘরে বসে কীভাবে ত্বকের যত্ন নেওয়া সম্ভব তাই জানিয়েছেন রেড বিউটি স্যালুনের স্বত্বাধিকারী আফরোজা পারভীন। গ্রন্থনা করেছেন ষ ফারিন সুমাইয়া

ছেলেদের ত্বক তুলনামূলক বেশ রুক্ষ হয়ে থাকে। তাই পুরুষের ত্বক খুব তাড়াতাড়ি তার মলিনতা হারিয়ে ফেলে। আর এ ক্ষেত্রে ত্বকের পাশাপাশি তা ফুটে ওঠে হাতে এবং পায়ে। ত্বকের রুক্ষতার ক্ষেত্রে সবেচেয়ে বেশি চোখে পড়ে পা ফাটার মতো সমস্যাটি। তাই বাইরে থেকে বাসায় ফেরার পর হালকা গরম পানিতে পা পরিষ্কার করে নিলে কিংবা সাবান দিয়ে ভালো করে ম্যাসাজ করে পরিষ্কার করে নিলে বেশ ভালো উপকার পাওয়া সম্ভব। এ ছাড়া রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মোটা করে পেট্রোলিয়াম জেলি পা ফাটার জায়গায় প্রলেপ আকারে লাগিয়ে মোজা পরে ঘুমালে পা ফাটার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এতে করে খুব দ্রুত পা ফাটা বন্ধ হবে এবং পা তার আগের রূপ ফিরে পেতে শুরু করবে। অন্যদিকে যাদের পা ফাটার সমস্যা মাত্র শুরু হয়েছে শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে তারা পা ভালো করে পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে শীতজুড়েই পাবে সুন্দর পায়ের ত্বক।

এ ছাড়া শীতের এ সময়েও অনেক ক্ষেত্রেই সানবার্নের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় ছেলেদের। এ ক্ষেত্রে হাতের এক অংশ পর্যন্ত কালচে আভা কিংবা পায়ের গোড়ালিতে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত বসে থাকার দরুন কালো দাগের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে যারা চশমা পরে থাকেন তাদের নাকের এক অংশ পর্যন্ত কালচেভাবের সৃষ্টি হয়। এ ক্ষেত্রে সমপরিমাণ টকদই আর হলুদের গুঁড়া মিশিয়ে প্যাক আকারে ব্যবহার করলে এ দাগ থেকে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মিলবে মুক্তি। তবে এ ক্ষেত্রে প্যাক ব্যবহারের পর অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে পাশাপাশি ১৫ থেকে ২০ মিনিট মিশ্রণটি রেখে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় থাকা পানি দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

শীতের এ সময়ে ছেলেদের আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে খুশকি। খুশকির কারণে চুলের গোড়া যেমন নরম হয়ে যায় তেমনি চুল পড়ার সমস্যাও দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন চুলের গোড়ায় ভালো করে ওয়েল ম্যাসাজ করে এর পর লেবু আর টকদইয়ের মিশ্রণ ব্যবহার করতে হবে। ১৫ থেকে ২০ মিনিট রাখার পর ভালো করে শ্যাম্পু করে নিতে হবে। এতে করে চুল যেমন আগের রূপ ফিরে পাবে তেমনি চুল পড়া বন্ধ হবে এবং চুলের গোড়াও হবে মজবুত আর আপনি পাবেন ঝলমলে চুল।

ফায়ার সার্ভিসে ৩ পদে চাকরির সুযোগ

জনবল নিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে তিন পদে ৫ জনকে নিয়োগ দেবে প্রতিষ্ঠানটি। যোগ্যতা থাকলে আবেদন করতে পারেন অনলাইনে।

পদের নাম: সহকারী মেকানিক (গ্রেড: ১৫)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় পাস। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ট্রেড সার্টিফিকেট থাকতে হবে।
বেতন: ৯,৭০০/- থেকে ২৩,৪৯০/-

পদের নাম: স্টোর সহকারী (গ্রেড: ১৬)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে উচ্চমাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় পাস।
বেতন: ৯,৩০০/- থেকে ২২,৪৯০/-

পদের নাম: ওয়ার্কশপ হেলপার (গ্রেড: ১৯)
পদ সংখ্যা: ৩ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট বা টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সার্টিফিকেট থাকতে হবে।
বেতন: ৮,৫০০/- থেকে ২০,৫৭০/-

এতে স্থায়ীভাবে লোক নেওয়া হবে। আবেদন করতে পারবেন শুধু পুরুষ প্রার্থীরা।

বয়স: আগ্রহী প্রার্থীর বয়স ২০২১ সালের ১ ডিসেম্বর হিসেবে ১৮-৩০ বছর হতে হবে। তবে ২০২০ সালের ২৫ মার্চে যাদের ৩০ বছর হয়েছে তারাও আবেদন করতে পারবেন।

আবেদন সংগ্রহ করা যাবে প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে- http://www.fireservice.gov.bd/

আবেদনের ঠিকানা- মহাপরিচালক, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, কাজী আলাউদ্দিন রোড, ঢাকা।

আবেদনের বিস্তারিত জানা যাবে বিজ্ঞপ্তিতে। বিজ্ঞপ্তি দেখুন এখানে—

আবেদনের শেষ সময়— ১২ জানুয়ারি ২০২২

মেদ কমাতে জীবনধারায় আনুন ৫ পরিবর্তন

শরীরের বাড়তি মেদ আমাদের অনেকেরই চিন্তার কারণ। এটি নিয়ে একদিকে যেমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়, তেমনি নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিও দেখা দেয়। জটিল এ সমস্যার সহজ সমাধান মিলতে পারে সহজেই। জীবনধারায় কিছু পরিবর্তন আনলেই ওজন কমিয়ে ঝরঝরে হওয়া সম্ভব।

যদিও বিভিন্ন লোকের ওজন ভিন্নভাবে কমে থাকে। তবে বেশিরভাগ লোকেরই সমস্যা ক্ষেত্র হিসেবেই থাকে পেটের মেদ। পেটের মেদ একবার হয়ে গেলে তা থেকে মুক্তি পাওয়া বেশিরভাগ মানুষের জন্যেই কঠিন হয়ে পড়ে।

এ ছাড়া পেটের চর্বি বা মেদ আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যও বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে ও মেদ কমাতে সহায়তা করতে পারে একটি সুস্থ ও সুন্দর জীবনধারা। তাই জেনে নিন মেদ কমাতে যে জীবনধারায় আনবেন ৫ পরিবর্তন—

১. হাইড্রেটেড থাকা

হাইড্রেটেড থাকা বা বেশি বেশি পানি পান করা ওজন কমানো ও স্বাস্থ্য বজায় রাখার সর্বোত্তম উপায়। এর জন্য আপনি ডিটক্স ওয়াটার, গ্রিন টি, ব্ল্যাক টি, ব্ল্যাক কফি, ফলের জুস ইত্যাদি তরল পানীয় বেশি পান করতে পারেন। এ ধরনের পানীয় আপনার স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং পেটের মেদ কমাতেও সাহায্য করবে।

২. চিনিযুক্ত খাবার এড়ানো

চিনিযুক্ত খাবারগুলো সাধারণত অক্সিটোসিনে পূর্ণ থাকে। চিনি সমৃদ্ধ যে কোনো খাবার অনেক সুস্বাদু হলেও এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকরও বটে। এগুলোকে ধীর বিষ হিসেবেও বলা হয়ে থাকে। তাই এ ধরনের খাবারগুলো পরিহার করতে হবে।

৩. প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া
প্রোটিন জাতীয় খাবার আপনাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য পেট ভরা থাকতে সহায়তা করে। কারণ এ ধরনের খাবারগুলো হজম হতে সময় নেয়। তাই এগুলো মেদ কম হতেও সহায়তা করে। এ জন্য আপনার ডায়েটে সেরা খাবার হিসেবে ডাল, ওটস, সবুজ শাকসবজি, ডিম এবং বাদাম রাখতে পারেন।

৪. লবণ কম খাওয়া
লবণে থাকা সোডিয়াম আমাদের শরীরের ফোলাভাব কমায়, যা বিপাককে ধীর করে দেয়। একটি ধীর বিপাকীয় হার একজনের পক্ষে ওজন হ্রাস করা কঠিন করে তোলে। তাই যতটা সম্ভব কম লবণ খাওয়া ভালো।

৫. শস্যজাতীয় খাবার খাওয়া
পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবারগুলো ওজন কমানোর জন্য অনেক বেশি কার্যকরী ও সহায়ক। বিপরীতে রুটি, আটা, বিস্কুট ও অন্যান্য খাবার পরিশোধিত শস্য থেকে করার কারণে তা ওজন কমাতে কম সহায়ক হিসেবে কাজ করে। তাই আপনার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় পুরো শস্যজাতীয় খাবার যোগ করুন।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ফেঁসে যাচ্ছেন যবিপ্রবির ভিসি ও রেজিস্ট্রার

ফেঁসে যাচ্ছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ভিসি, রেজিস্ট্রারসহ তিনজন। পরপর দুই দফায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি অবমাননা করায় তাদের শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

 

সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী তাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী সংবিধান ও আইন মোতাবেক তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে। শিগগিরই তাদের শাস্তি কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে রায়ের কপি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পৌঁছে।

এ বিষয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানির পর রায় দেন বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এমকে রহমান, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

আইনজীবী এমকে রহমান বলেন, যশোর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল রিটটি করেছিলেন। রুল ইস্যু হয়েছে। রুল শুনানির পরে অ্যাবসুলেট হয়েছে। কোর্ট বলেছেন, এ কাজটা আইনগত বহির্ভূত। হাইকোর্ট ক্যাবিনেট সেক্রেটারিকে বলছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী সংবিধান ও আইন মোতাবেক কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। রায় প্রাপ্তির এক মাসের মধ্যে উপচার্য, রেজিস্ট্রার ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রায় কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি সংবিধানের ৪(ক) অনুচ্ছেদে জাতির পিতার ছবি সংরক্ষণ এবং প্রদর্শনের কথা আছে। সেটা অবমাননা করা যাবে না। ৭(ক) অনুচ্ছেদে আছে কেউ যদি সংবিধানের কোনো অংশ বা অনুচ্ছেদ অসম্মান করার চেষ্টা করে রাষ্ট্রদ্রোহে সে অভিযুক্ত হবে।’

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আদেশে আদালত বলেছেন তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংবিধান এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।

হাইকোর্টে দেওয়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিবেদনে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম অভিযুক্ত হলেন তিনজন-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও জনসংযোগ কর্মকর্তা। এ ঘটনায় হাইকোর্টে রিট করেছিলেন যশোর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেন।

কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিসির লিখিত বক্তব্য, উপস্থিত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য, ভিসি অফিসের রক্ষিত কাগজপত্র ও পরিবেশ পরিস্থিতি এবং এ রিট দাখিলকারীর বক্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। তাছাড়া ডেস্ক ক্যালেন্ডারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সার্বিক পর্যালোচনায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ২০১৮ সালের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি এবং ২০১৯ সালের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে তারা দায়িত্ব পালন করেননি।

তদন্ত প্রতিবেদনের মন্তব্য অংশে বলা হয়, এক. ২০১৮ সালের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে জাতির পিতার ছবির ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির নাম লেখা সমীচীন হয়নি। এজন্য কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।

দুই. ২০১৯ সালের ডেস্ক ক্যালেন্ডার পুনর্মুদ্রিত। পূর্বের (প্রথম) প্রিন্ট করা কপিতে জাতির পিতার ছবি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছিদ্র করে স্পাইরাল বাইন্ডিং করা হয়েছে। এছাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি (ছবির মাথা কেটে) বিকৃত করা হয়েছে। তা প্রথম মুদ্রিত ডেস্ক ক্যালেন্ডার থেকে স্পষ্টতই প্রমাণ পাওয়া যায়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত ছিল, তা করেননি। এক্ষেত্রে কোনোভাবেই তারা দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। তাদের ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত ছিল। আসামিপক্ষের আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, তারা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেছেন (সিপি ১৮১৫/২১)। আপিলের দরখাস্তকারী অ্যাডভোকেট নাসিমা সুলতানা।