রবিবার ,১৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 535

নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি

বিএনপি মূলত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করতে চায়। এ কারণে তারা সংলাপ বর্জন করেছে। জাতীয় সরকার গঠনের কিংবা অস্বাভাবিক সরকারের দাবি জানিয়ে দেশকে কার্যত সাংবিধানিক ধারার বাইরে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা করছে। এসব কথা বলেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি। যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা বলে, শুধু ভালো নির্বাচন দেশে রাজনৈতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র শর্ত না, আরও কিছু শর্ত আছে। এসব শর্ত পূরণ করা না গেলে ভোটের মাঠে যারা পরাজিত হবেন, তারা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে। সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রও করবে।

 

এজন্য সবার আগে প্রয়োজন ৫০ বছর ধরে চলতে থাকা অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মীমাংসা হওয়া। এটা না হওয়া পর্যন্ত দেশে এক হাজার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে না। দীর্ঘ আলাপচারিতায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের চলমান সংলাপ, বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের এই সংলাপ বর্জন, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের সফলতা-ব্যর্থতা, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন ইনু। সম্প্রতি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের ন্যাম ভবনে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন শেখ মামুনুর রশীদ। আলাপচারিতার চুম্বকীয় অংশ নিচে দেওয়া হলো-

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চলমান সংলাপ প্রসঙ্গে হাসানুল হক ইনু বলেন, ইসি গঠনের সাংবিধানিক ক্ষমতা একমাত্র মহামান্য রাষ্ট্রপতির। এজন্য তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিনিময় করার যে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, তা ওনার মহানুভবতা। আমি এজন্য তাকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। রাষ্ট্রপতি এটা না করলেও তার কোনো ক্ষতি ছিল না। বরং তার এই সংলাপে বসার উদ্যোগ ইসি গঠন প্রক্রিয়াকে অংশগ্রহণমূলক করতে সাহায্য করছে। বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের এই সংলাপে অংশ না নেওয়াটা সত্যিই দুঃখজনক। অতীতে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত ইসি কখনো ভালো কাজ করেছে, কখনো একটু খারাপ কাজ করেছে। সুতরাং রাষ্ট্রপতির মনোনীত ইসি একেবারেই অর্থহীন-এই ভাবনাটা সঠিক মনে করি না।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, রাষ্ট্রের প্রতীক হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি। এই প্রতিষ্ঠানকে সমুন্নত রাখা সবারই কর্তব্য। সংলাপ কখনো শতভাগ সফল হয় না। কখনো শতভাগ ব্যর্থও হয় না। কখনো এক বা দুইবার ফল আসেনি। তারপরও চেষ্টা করতে দোষ নেই। আমরা সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী ইসি গঠনে আইন প্রণয়নের কথা বলেছি। অতীতেও একাধিকবার এই দাবি জানিয়েছি। যেহেতু আইনটি হয়নি বা সরকার এই আইনটি করার উদ্যোগ নেয়নি, এর জন্য আমরা সরকারের সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু রাষ্ট্রপতির আহ্বানকে উপেক্ষা করতে পারি না। এটা করা ঠিকও হবে না।

হাসানুল হক ইনু বলেন, ধরেন ইসি খুব ভালো হলো। যারা নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবেন, তারা ইসিকে সাধুবাদ জানাবেন। কিন্তু যারা পরাজিত হবেন, তারা ফলাফল মানবেন কি না, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। না আওয়ামী লীগ, না বিএনপি, না অন্য কোনো রাজনৈতিক দল।

তিনি আরও বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা কী বলে, ইসির অধীনে নব্বইয়ের পর নির্বাচনে অংশ নিয়ে যারা পরাজিত হয়েছেন, তারা ফলাফল মেনে নেননি। একানব্বইয়ের পর চারটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে। চারটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইসি গঠন করেছে। কিন্তু প্রতিবারই পরাজিতরা ইসির ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। নির্বাচন নাকচ করেছে। এমনকি ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে। এ থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়েছে যে নির্বাচনের পর কখনো বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবারই দেখা গেছে, পরাজিতরা সরকার উৎখাতে এবং সংসদকে অকার্যকর করার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে, হইচই করেছে।

এই অচলায়তন থেকে উত্তরণের পথ কী-এমন প্রশ্নের জবাবে প্রবীণ এই বামপন্থি নেতা বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্যি স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর হয়ে গেলেও ঐতিহাসিক কিছু বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হয়নি। যেমন: স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, জাতির পিতা, সংবিধানের চার মূলনীতি প্রভৃতি। এর ফলে কেউ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে, কেউ যুদ্ধাপরাধীদের লালন করে। কেউ বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা বলে। আরেক পক্ষ ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলার চেষ্টা, বঙ্গবন্ধুকে নির্বাসনে পাঠায়। এক পক্ষ সংবিধানের চার মূলনীতিকে সামনে রেখে পথ চলে, আরেক পক্ষ সামরিক শাসনকে মহিমান্বিত করে। এসব জাতীয় ইস্যুতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা না হলে, বছরের পর বছর চলতে থাকা এসব অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মীমাংসা না হলে, দেশে এক হাজার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে না। দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। আমি একটা বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই, সেটি হচ্ছে-জাতীয় ও মৌলিক বিষয়গুলোয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা গেলেই কেবল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করা সম্ভব হবে।

হাসানুল হক ইনু বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। অনেকেই এ নিয়ে বিতর্ক শুরু করেছেন। প্রশ্ন হচ্ছে-আগামী নির্বাচনের পর যে সরকার গঠিত হবে, সেই সরকার যদি চিহ্নিত চোরদের কিংবা দণ্ডিত অপরাধীদের বিচার করে; অন্যদিকে আরেক পক্ষ যদি সরকারে এসে রাজাকারদের ক্ষমতার ভাগীদার বানায়, বঙ্গবন্ধুকে উড়িয়ে দেয়, বঙ্গবন্ধুকে নির্বাসনে পাঠায়, তাহলে সংকটের সমাধান হবে না বরং বাড়বে।

মাঠের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। রাষ্ট্রপতির সংলাপও তারা ইতোমধ্যে বর্জন করেছে। কী হতে যাচ্ছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে, কী মনে হয় আপনার-এমন প্রশ্নে জাসদ সভাপতি বলেন, যারা সরকারের পদত্যাগ চায়, জাতীয় সরকার চায়, কিংবা অসাংবিধানিক সরকার চায়, যারা সংলাপ বর্জন করছে, তারা আসলে আগামী দিনে একটি ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য লড়াই করছে না। তাদের মূল লক্ষ্য স্বাধীনতাবিরোধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে, তাদের সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করা, পাকিস্তান পন্থাকে অনুসরণ করা, সাম্প্রদায়িক চর্চাকে অনুকরণ করা, মীমাংসিত বিষয়গুলোকে আবারও নতুন করে অমীমাংসিত করে তোলা। সর্বোপরি তাদের নেতা-নেত্রীদের অপরাধ থেকে রক্ষা করা।

বিএনপির বাইরে অনেক বাম প্রগতিশীল ঘরানার রাজনৈতিক দলও রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ নেয়নি। এটাকে কী বলবেন-জবাবে হাসানুল হক ইনু বলেন, কেউ বুঝে আবার কেউ না বুঝে সংলাপ বর্জন করেছেন। সবার লক্ষ্য এক না হলেও না বুঝে কেউ কেউ হয়তো পাকিস্তান পন্থার ফাঁদে পা দিয়েছেন। এতে মূলত স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দিনশেষে লাভবান হবে একাত্তরের পরাজিত শক্তিরাই।

বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। এবার কী করবে তারা, শেষ মুহূর্তে কি দলটি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে, কী মনে হয় আপনার-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচন তাদের লক্ষ্য না। নির্বাচন বানচালই তাদের লক্ষ্য। অস্বাভাবিক সরকার তাদের লক্ষ্য। এজন্যই শুরুতে রাষ্ট্রপতির সংলাপ প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে বিএনপি। তাদের ভাষায় সংলাপ আইওয়াশ মাত্র, এটা বিএনপির কাল্পনিক ভাবনা। সংবিধানে আইন প্রণয়নের কথা বলা আছে, কিন্তু দুঃখজনক হলেও আইনটি হয়নি। এ অবস্থায় সাংবিধানিক ক্ষমতা বলেই রাষ্ট্রপতি ইসি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এজন্য আমাদের সবার রাষ্ট্রপতির ওপরই আস্থা রাখতে হবে। যারা রাষ্ট্রপতির ওপর আস্থা রাখছেন না, তারা হয় বুঝে, না হয় না বুঝে নির্বাচন বানচালের চক্রের পথে পা দিচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে প্রশাসন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করে। এ কারণেই হয়তো রাজনৈতিক দলগুলো নির্দলীয় সরকার, কিংবা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। এই চাওয়াটা কি অমূলক, কী মনে হয়-জবাবে হাসানুল হক ইনু বলেন, সব নির্বাচনেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। হয়তো মাত্রার হেরফের ছিল। রাতের ভোট বন্ধে প্রশাসনের নিরপেক্ষ অবস্থান থাকতে হবে। আমরা মনে করি, ভোটের কারচুপিতে প্রশাসনের যুক্ত হওয়া উচিত না। এটি একটি গুরুতর অপরাধ। আবার এটাও ঠিক যে সব রাজনৈতিক পক্ষকে নির্বাচনের মাঠে থাকতে হবে। সব পক্ষ ভোটের মাঠে সক্রিয়ভাবে থাকলে প্রশাসন সেভাবে পক্ষপাতিত্ব করতে পারে না। তাদের মনে ভয় কাজ করে।

জাসদ সভাপতি বলেন, এতকিছু সত্ত্বেও আমি মনে করি, যা করার সংবিধানের ভেতরে থেকেই করতে হবে। এর বাইরে গিয়ে কিছু করা যাবে না। সংবিধানের বাইরে গিয়ে চক্রান্তের রাজনীতির সূত্রপাত করলে দেশে আবার নতুন করে অস্থিতিশীলতারই জন্ম দেবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অনেকেই সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এবার দেখা যাচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই ধারাবাহিকতা। গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য নিশ্চয়ই এটি একটি নেতিবাচক দিক, কী বলেন আপনি-এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, সব দল নির্বাচনে অংশ নিলে নিশ্চয়ই এমন ঘটনা ঘটত না। এ কথা যেমন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেলায় সত্য, তেমনই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্যও প্রযোজ্য। আমি আগেই বলেছি, সব দল ও তাদের প্রার্থী ভোটের মাঠে থাকলে প্রশাসন বাধ্য হয়ে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করত। তেমনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে না।

আওয়ামী লীগ একটানা তেরো বছর রাষ্ট্রক্ষমতায়। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব মিলিয়েছেন কখনো-জবাবে তিনি বলেন, ২০০৯ সালের পর থেকে বিএনপির টার্গেট হচ্ছে দেশে একটি অস্বাভাবিক সরকার গঠন করা। পঁচাত্তর-পরবর্তী জিয়া-এরশাদের শাসনামলের ভাবনা মাথায় রেখে তারা এখনো পাকিস্তানের ট্রেনেই আছে। এই ট্রেন থেকে আজও নামতে পারেনি। এ কারণেই দলটি নতুনভাবে আবার সক্রিয় হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের কার্যক্রমের বিরোধিতা করছে। এখনো তারা স্বাধীনতাবিরোধী, পরাজিত শক্তি যুদ্ধাপরাধী, জামায়াতের পার্টনারশিপ ছাড়তে পারেনি। এখনো তারা সাংবিধানিক সরকার উৎখাত করে অসাংবিধানিক সরকার চায়। সংবিধানের বাইরে দেশকে ঠেলে দিতে চায়।

হাসানুল হক ইনু বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত তেরো বছর বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় পথ চলছে। সংবিধানের চার মূলনীতি অনুসরণ করে পথ চলছে। এই তেরো বছরে শেখ হাসিনাকে পাকিস্তানপন্থাকে মোকাবিলা করতে হয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত, জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করতে হয়েছে, সন্ত্রাসী হামলা মোকাবিলা করতে হয়েছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানপন্থার যুদ্ধাবস্থার মধ্যে দেশকে এগিয়ে নিতে হয়েছে শেখ হাসিনাকে। গত তেরো বছরে এটাই আমাদের বড় অর্জন, বড় প্রাপ্তি।

কিন্তু এই সময়ের মধ্যে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, সর্বত্র দলীয়করণ, আমলানির্ভরতার অভিযোগটাকে কীভাবে দেখবেন-জবাবে তিনি বলেন, এটা শাসন-প্রশাসনের ব্যর্থতা। সুশাসনের ঘাটতি। দুর্নীতিবাজদের সিন্ডিকেট এবং দলবাজদের গুন্ডাবাজি। এই দুটি বিষয় আপদ হিসাবে দেখা দিলেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে শক্তভাবে আছে। দুর্নীতিবাজদের সিন্ডিকেট এবং দলভাজদের গুন্ডাবাজির আপদ-আগামী দিনে এই চ্যালেঞ্জ শেখ হাসিনার সরকার কীভাবে মোকাবিলা করবে, তার ওপর সুশাসনের মাত্রা নির্ধারিত হবে।

জাসদ ১৪ দলীয় জোটে আছে। জোট সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। এখন সংসদীয় কমিটির সভাপতি। জোটের ভেতরে কেন আছেন-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ২০০৮ সাল থেকে দেশের রাজনীতিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলির যদি ধারাবাহিকতা দেখি তাহলে বলব, ওই সময়ে যে কারণে ১৪ দলীয় জোট গঠিত হয়েছিল, সেই কারণটি এখনো বিদ্যমান। যে বিরুদ্ধ রাজনৈতিক সে াতের বিপরীতে ১৪ দলের যাত্রা, সেই বিরুদ্ধ রাজনৈতিক সে াতে দেশ এখনো জর্জরিত। আগের দুটি নির্বাচন বিএনপি বানচাল করতে চেয়েছে। একটিতে অংশ নেয়নি। আরেকটিতে শেষ মুহূর্তে এসে অংশ নেয়। এবারও তাদের প্রধান লক্ষ্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করা। এর বিপরীতে ১৪ দলকে রাজনৈতিক কারণেই সক্রিয় রাখতে হবে। জোটকেও অটুট রাখতে হবে। আর জোটে থাকলে সেখানে চাওয়া-পাওয়ার স্বপ্ন, আশা-বেদনা-সংকট থাকবেই। এসব থাকা সত্ত্বেও আমি মনে করি, ১৪ দলের ঢালটাকে আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার নতুন কমিটি

কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার (সিজেএফডি) নতুন কমিটি হয়েছে। এতে দৈনিক জনকণ্ঠের মো. শরীফুল ইসলামকে সভাপতি, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাজ্জাদ হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক ও জাগো নিউজের সালাহ উদ্দিন জসিমকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়।

শনিবার (৮ জানুয়ারি) ঘোষণা করা হয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এর আগে শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা হয়।

কমিটির অন্যান্যরা হলেন- সহ-সভাপতি সাঈদ আহমেদ খান (ইনকিলাব) ও ফারুক খান (বাংলাদেশ কণ্ঠ)। যুগ্ম-সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন (দেশ সংবাদ), সাইফুল ইসলাম (জিটিভি), অর্থ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম (এসবিসি৭১.কম), দপ্তর সম্পাদক তাহমিনা আক্তার (দৈনিক কালবেলা), তথ্য-প্রযুক্তি সম্পাদক মনির মিল্লাত (একাত্তর টিভি), শিক্ষা প্রশিক্ষণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু নাছের (এসএটিভি), প্রচার সম্পাদক শরিফুল ইসলাম (দ্য রিপোর্ট), প্রকাশনা সম্পাদক ইমরান মাহফুজ (ডেইলি স্টার), ক্রীড়া-সংস্কৃতি সম্পাদক সোলাইমান সালমান (ডেইলি সান), সমাজ কল্যাণ সম্পাদক হালিম মোহাম্মদ (সংবাদ সারাবেলা), আন্তর্জাতিক সম্পাদক কমল চৌধুরী (সাউথ এশিয়ান টাইমস), ইভেন্ট-আপ্যায়ন সম্পাদক জহির আলম সিকদার (আমাদের কণ্ঠ)।

এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হলেন- একে সালমান (দৈনিক যুগান্তর),শিমুল মাহমুদ (বাংলাদেশ প্রতিদিন), মো. আবু তাহের (দৈনিক প্রভাত), মো. দিদারুল আলম দিদার (বাসস), সা. মো. মসিহ্ রানা (বাংলাদেশ প্রতিদিন), মাইনুল আহসান (এটিএন বাংলা), নাসরিন সুলতানা (সংবাদ সারাবেলা), মো. আবদুল ওয়াদুদ (দৈনিক ইনকিলাব), কামরুজ্জামান বাবলু (নিউ নেশন), মুশফিকুর রহমান (মোহনা টিভি), খান আল আমিন (আরটিভি), খন্দকার আলমগীর হোসেন (আমাদের নতুন সময়), সায়ীদ আবদুল মালিক (দেশ সংবাদ), শাহরিয়ার আরিফ (চ্যানেল২৪), নার্গিস জুঁই (বিটিভি), মাহমুদুল হাসান নাজিম (ডিবিসি টিভি), ফখরুল ইসলাম (নিউজ টোয়েন্টিফোর), মোশাররফ হোসেন ভূইয়া (বাংলাদেশ কণ্ঠ), শফিকুল ইসলাম সাদ্দাম (দৈনিক দিন প্রতিদিন), শাহ নেওয়াজ বাবলু (দৈনিক মানবজমিন), জহিরুল ইসলাম (কালের কণ্ঠ), আবুল বাশার (এটিএন বাংলা), সাইফুল ইসলাম (মানবকণ্ঠ), শাহাদাত হোসেন রাকিব (ঢাকা পোস্ট), সেরাজুম মুনিরা (জিটিভি), নিজাম উদ্দিন দরবেশ (টাচ নিউজ)।

অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে বাড়ছে উত্তাপ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচন সামনে রেখে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বন্দরনগরী। প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় দুগ্রুপের দীর্ঘদিনের বিরোধ এখন আবার তুঙ্গে।

 

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিষোদ্গার বিষয়টিকে আরও খোলাসা করে দিয়েছে। মেয়র ছাড়া কাউন্সিলর পদেও দুপক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। অনেক ওয়ার্ডে দুপক্ষের একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।

অপরদিকে বিএনপির কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করে মাঠে থাকা স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার দলটির অনেক নেতাকর্মী নিয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তৈমুরবিরোধীদের অনেকেই রয়েছেন নিষ্ক্রিয়। এমন পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল সামনে চলে এসেছে।

বড় দুদলের অভ্যন্তরীণ এসব কোন্দলে নির্বাচন সহিংসতায় রূপ নিতে পারে-এমন আশঙ্কা করছেন স্থানীয় অনেক ভোটার। তবে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকার বিষয়টি মানতে নারাজ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

এদিকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আইভীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় অংশ না নেওয়ায় শনিবার নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম শনিবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, নারায়ণগঞ্জে তৃণমূল আওয়ামী লীগে কোনো বিরোধ বা দ্বন্দ্ব নেই। তারা নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ।

আইভীর বিজয়ের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের বিজয় হবে। এটা নিয়ে কোনো ধরনের দুরভিসন্ধি করার কোনো সুযোগ নেই। ভোটের পরিবেশও ভালো আছে। ভোটারদের মধ্যে কোনো শঙ্কা নেই।

দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলীয় শৃঙ্খলার স্বার্থে এগুলো নিয়ে ১৬ তারিখের পরে যা যা ব্যবস্থা দরকার তা নেওয়া হবে। নির্বাচনে নানা ধরনের কথাবার্তা অভিযোগ আসে। আমরা একটু সময় নিয়েই আলোচনা করে এগুলোর বিষয়ে পদক্ষেপ নেব।

জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন, বিএনপিতে কোনো অভ্যন্তরীণ কোন্দল নেই। আমাদের অনেক নেতাকর্মী তৈমুর আলম খন্দকারের পক্ষে কাজ করছেন। সেটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়।

১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে সাতজন মেয়র প্রার্থী, সংরক্ষিত ৯টি ওয়ার্ডে ৩৪ জন নারী কাউন্সিলর এবং ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৪৮ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) এ সিটিতে ভোট নেওয়া হবে। এ সিটি করপোরেশনে ভোটার রয়েছেন পাঁচ লাখ ১৭ হাজার ৩৫৭ জন। ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৯০টি।

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে আইভী-শামীম দ্বন্দ্ব বহু দিনের। ২০১১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শামীমকে ওসমানকে হারিয়ে প্রথম মেয়র হন আইভী। তখন দলীয় প্রতীকে না হলেও আইন সংশোধনের কারণে এখন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচন।

২০১৬ সালে নৌকার প্রার্থী হিসাবে বিজয়ী হন আইভী। এবার নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন তিনি। আইভীকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকেই সব জায়গায় আলোচনা ছিল শামীম ওসমানকে নিয়ে। অতীতের বিভেদ ভুলে শামীম ওসমান আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন কিনা-সে প্রশ্ন ছিল সবখানে।

নাসিক নির্বাচন সমন্বয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে গঠিত টিমের আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারাও অভ্যন্তরীণ ঐক্য ফেরানোর বিষয়ে শুরু থেকেই ছিলেন বেশ সক্রিয়। টিমের সদস্যরা প্রায় প্রতিদিনই নারায়ণগঞ্জ গিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগে ঐক্য ফেরাতে সেখানকার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

কেন্দ্রীয় নেতাদের দিয়ে গঠন করা হয়েছে ওয়ার্ডভিত্তিক টিমও। এছাড়া নির্বাচনি প্রচারে মাঠে নেমেছে দলের সহযোগী সংগঠনও। জানা গেছে, নাসিক নির্বাচন সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় নেতারা শুরু থেকেই ভোটের মাঠে আইভীর পক্ষে শামীম ওসমানকে সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন।

কিন্তু তারা সফল হতে পারেননি। এর আগে নির্বাচন সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় নেতারা ঢাকায় নির্বাচনি কৌশল নির্ধারণী একটি বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য শামীম ওসমানকে ডেকেছিলেন। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে ওই বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন না তিনি।

ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে অভ্যন্তরীণ ভেদাভেদ ভুলে নৌকাকে বিজয়ী করতে দলের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেদিন দল মনোনীত মেয়র প্রার্থী আইভীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

ওইদিন সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে আইভী বলেছিলেন, শামীম ওসমান নৌকার লোক। উনি নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করতে পারেন না। উনি আমাদের দলের লোক, জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মী। উনি অবশ্যই নৌকার জন্য কাজ করবেন। তবে ভোটের মাঠে আইভীর পক্ষে শামীম ওসমানসহ প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন নেতাকে সক্রিয় দেখা যায়নি।

এ নিয়ে আওয়ামী লীগের ভেতরে আলোচনা থাকলেও শনিবার বন্দর এলাকায় গণসংযোগকালে তা প্রকাশ্যে নিয়ে এলেন আইভী নিজেই। বিএনপির প্রতীক ছেড়ে নির্বাচনে নামা তৈমুর আলম খন্দকারকে ‘ওসমান পরিবারের প্রার্থী’ হিসাবে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

আইভী বলেন, তৈমুর আলম খন্দকার শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমান এই দুই ভাইয়ের ক্যান্ডিডেট। উনি বিএনপির প্রার্থী নন, স্বতন্ত্র প্রার্থী নন; তিনি ওসমান পরিবারের প্রার্থী।

শুক্রবার তৈমুরের প্রচারে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের ঘনিষ্ঠ চার ইউপি চেয়ারম্যানের অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আইভী বলেন, এতে প্রমাণিত হয়, সারা নারায়ণগঞ্জে গত কয়েকদিন ধরে যে গুঞ্জন ছিল, তৈমুর আলম খন্দকার শামীম ওসমানের প্রার্থী-সেটি প্রমাণিত হয়েছে।

এদিকে আইভীর অভিযোগের পরে শামীম ওসমানকে ইঙ্গিত করে দলের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। শনিবার নারায়ণগঞ্জে আইভীর পক্ষে মতবিনিময় সভায় দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, এখানে কোনো ব্যক্তি বিষয় নয়।

এ নির্বাচনে আমি কী অবদান রাখব, দায়িত্ব পালন করব কিনা-তা আমার ওপরই নির্ভর করে। যদি আমি ব্যর্থ হই সেজন্য দলের কাছে জবাবদিহি করতে হবে, সে যেই হন না কেন। নৌকার জন্য যদি কাজ না করেন, তাহলে নিজের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে।

সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, যার কথা বলা হচ্ছে (শামীম ওসমান) তিনি একটা দলের আদর্শ নীতি-শৃঙ্খলা নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ ইত্যাদি লালন করেই এত ‘বড় নেতা’ হয়েছেন।

উনি যদি আজ সেগুলো প্রতিপালন না করেন এবং দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, আমাদের কাছে যেসব খবর আসছে সেগুলোর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি।

উনি আমাদের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন নিশ্চিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া আমাদের কাছে বিকল্প থাকবে না। তার বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০টি (সিদ্ধিরগঞ্জ) ওয়ার্ডই শামীম ওসমানের নির্বাচনি এলাকায়। বাকি ১৭টি ওয়ার্ড (শহর ও বন্দর) পড়েছে সেলিম ওসমানের নির্বাচনি (নারায়ণগঞ্জ-৫) আসনের মধ্যে।

নির্বাচনি এলাকায় এই দুই এমপির অবস্থানও শক্তিশালী। ফলে তাদের দুজনকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ভোটের হিসাব মেলানো কঠিন।

সেখানে প্রকাশ্যে শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানকে গডফাদার আখ্যা দেওয়ার কারণে এখন বিরোধটি শেষ সীমানায় পৌঁছে গেল। এই বিরোধ নৌকার প্রার্থীর ভোটের সমীকরণে অবশ্যই প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।

অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার বিএনপি থেকে অব্যাহতি পেলেও তার সঙ্গে নাসিকের তিন অঞ্চলের বিএনপি ও অঙ্গদলের নেতারা রয়েছেন। শুধু সিদ্ধিরগঞ্জের সাবেক বিএনপিদলীয় এমপি গিয়াস উদ্দিন এখনো লোকচক্ষুর অন্তরালে আছেন।

তৈমুরের প্রচারণায় দলীয় নেতাকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন। রাজনৈতিক কৌশলেও তৈমুর বারবার বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে। তিনি একাধিকবার বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে জেতার মতো প্রার্থী হিসাবে উল্লেখ করেছেন। তবে শেষ হাসি কে হাসবেন সেই সমীকরণ এখন অনেক বেশ জটিল হয়ে পড়েছে নাসিকের ভোট অঙ্কে।

মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত : আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আইভীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় অংশ না নেওয়ায় মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সংসদের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় মহানগর সভাপতি হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক হাসনাত রহমানের নেতৃত্বে থাকা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মেয়াদোত্তীর্ণের কথা বলা হলেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল-দলীয় প্রার্থী আইভীর নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় না নামা। কেন্দ্রীয়ভাবে গঠিত আওয়ামী লীগের টিমের নেতারাও নির্বাচনি প্রচারে গিয়ে তাদের পাননি।

জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক ইন্দ্রনীল দেব শর্মা শনিবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে যেভাবে কাজ করা দরকার ছিল তারা তা করেননি।

এছাড়া এ কমিটির (নারায়ণগঞ্জ মহানগর) মেয়াদও উত্তীর্ণ ছিল। সব মিলিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে তাদের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

মাঝরাতে মেঘনায় যাত্রীবাহী লঞ্চে আগুন

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে আগুন লাগার সেই ভয়াবহ ঘটনার ১৬ দিন পর ফের একইরকম দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এবার চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে বরিশালগামী যাত্রীবাহী এমভি সুরভী-৯ নামের লঞ্চে আগুন লেগেছে।

তবে লঞ্চে থাকা স্টাফরা দ্রুতই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে চাঁদপুরের মতলব উত্তরের মোহনপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে নৌ-ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। লঞ্চটি এ মুহূর্তে মোহনপুরেই অবস্থান করছে।

নৌ-ফায়ার সার্ভিসের ধারণা লঞ্চের ইঞ্জিনের সাইলেন্সার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

এ বিষয়ে চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক মো. কায়ছারুল ইসলাম বলেন, লঞ্চের ইঞ্জিনের সাইলেন্সার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বর্তমানে লঞ্চটি মোহনপুরে রয়েছে। যাত্রীরা নিরাপদে আছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই লঞ্চ চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনাল হয়ে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে বিআইডব্লিউটিএর একটি টিম লঞ্চে তাদের সঙ্গে বরিশাল যাবে। এছাড়া কোস্টগার্ডের একটি টিম চাঁদপুর সীমানা পর্যন্ত লঞ্চটিকে এগিয়ে দিয়ে আসবে।

এমভি সুরভী-৯ নামের লঞ্চটি ঢাকা থেকে বরিশাল যাচ্ছিল।

স্বামী-সন্তানের পর মিথিলাও করোনা আক্রান্ত

স্বামী সৃজিত মুখোপাধ্যায় ও মেয়ে আইরা তেহরীম খানের পর এবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা।

শুক্রবার তার কোভিড টেস্ট পজিটিভ এসেছে বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন এই তারকা।

মিথিলার পরিবারের তিন সদস্যই এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। তবে এরমধ্যে স্বামী ও সন্তানের জ্বর কমে এসেছে বলে জানান।

চলতি বছরের প্রথমদিনই করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর দেন মিথিলার স্বামী নির্মাতা সৃজিত মুখার্জি। এরপর ৫ জানুয়ারি মিথিলা-তাহসানের কন্যা আইরা তেহরীম খানেরও পজিটিভ আসে।

মিথিলা বলেন, কদিন ধরেই আমরা সাবধানে ছিলাম। কিন্তু আমার মধ্যেও করোনার লক্ষণ ছিল। তাই ৩-৪ দিন আগে পরীক্ষা করিয়েছিলাম। তখন কিন্তু নেগেটিভ এসেছিল। বৃহস্পতিবার আবারও নমুনা পরীক্ষা করালে শুক্রবার বিকালে পজিটিভ রিপোর্ট আসে।

আসছে ‘ওসি হারুনের’ দ্বিতীয় কিস্তি

পর্দায় আসছে মোশারফ করিমের ব্যাপক আলোচিত ও প্রশংসিত ওয়েব সিরিজ ‘মহানগর’এর দ্বিতীয় সিরিজ।

বৃহস্পতিবার রাতে এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই।

প্রথম সিরিজটিতে ওসি হারুনের সঙ্গে আলোচিত হন ইন্সপেক্টর মলয়। তবে চরিত্র দুটোতে এবারও মোশাররফ করিম ও মোস্তাফিজুর নূর ইমরান থাকছেন কিনা তা এখনই জানাননি নির্মাতা আশফাক নিপুণ।

ভারতীয় প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশের বিজনেস লিড সাকিব আর খান বলেন, আমরা এরই মধ্যে সিরিজটির দ্বিতীয় সিজনের বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করেছি। আশা করছি, গল্প লেখা ও শুটিং শেষে বছরের দ্বিতীয় ভাগের যে কোনও সময়ে মুক্তি দিতে পারবো। গল্পের মূল চরিত্র যেহেতু ওসি হারুন, অবশ্যই পুলিশের গল্প থাকবে। তবে এবারের গল্পটি আগেরটির চেয়ে আলাদা হবে।

গত বছর ২৬ মার্চ ‘হইচই’-এ মুক্তি পেয়েছিল মহানগর ওয়েব সিরিজটি। মুক্তির পর থেকে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে সেটি।

যে কারণে দ্বিতীয় টেস্টে কোনো ভয় নেই বাংলাদেশের

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে রোববার ভোরে দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ায় বাংলাদেশের সামনে আছে সিরিজ জয়ের সুযোগ।

ম্যাচটির আগে টাইগার কোচ রাসেল ডমিঙ্গো সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন। তিনি জানান, দ্বিতীয় টেস্টে ভয়হীন ক্রিকেট খেলবে তার শিষ্যরা।

নিউজিল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে ভয়হীন খেলা কিভাবে খেলবে, এর কারণটা জানাতে গিয়ে ডমিঙ্গো বলেন, এটা তরুণ একটা দল। ফলে পুরোনোদের মতো নিউজিল্যান্ডে বিপক্ষে এতবার খেলে হারার ক্ষতটা তাদের নেই। দলের পরিবেশ বেশ ভালো এখন।

তিনি আরো বলেন, এই তরুণেরা বাংলাদেশের ক্রিকেটে লম্বা ক্যারিয়ার গড়তে চায়। তারা অনেক উদ্যমী, প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নিউজিল্যান্ডে আগে বাংলাদেশের কোনো দলই সিরিজ জিততে পারেনি, সেটা করার জন্য তারা উদ্গ্রীব হয়ে আছে। কাজ শেষ হয়নি এখনো। ছেলেরা বিশেষ কিছু অর্জন করতে চায়, যেটা দেখে পরবর্তী প্রজন্ম উৎসাহিত হতে পারে।

ক্রাইস্টচার্চের পিচ হলো পেসারদের স্বর্গরাজ্য। এতেও একটুও বিচলিত না টাইগাররা। কোচ রাসেল ডমিঙ্গো বলেছেন, নিউজিল্যান্ডের যেমন পেসার আছে। বাংলাদেশেরও আছে।

বার্সেলোনার সাবেক কোচ নিলেন বাংলাদেশের দায়িত্ব!

ইংল্যান্ডের জেমি ডেকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার পর তিন মাস কোনো স্থায়ী কোচ ছিল না বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের। ফলে নতুন স্থায়ী কোচের সন্ধান করছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ইংল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স ও স্পেন থেকে জামালদের দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন অনেকে।

অবশেষে স্পেনের হাভিয়ের কাবরেরাকে দায়িত্ব দিয়েছে ফেডারেশন।

হাভিয়ের কাবরেরার প্রোফাইল দেখলে বাংলাদেশের অনেকেই অবাক হবেন। কারণ তিনি স্পেনের বিখ্যাত ক্লাব বার্সেলোনার দায়িত্ব পালন করেছেন। হাভিয়ের কাবরেরা কাজ করেছেন বার্সার যুব দলের সঙ্গে। তার দায়িত্ব ছিল মূল দলের জন্য নতুন খেলোয়াড় তৈরি করা।

৩৭ বছর বয়সী হাভিয়ের কাবরেরার সঙ্গে আপাতত এক বছরের চুক্তি হবে। জামালদের দায়িত্ব নিতে আগামী সপ্তাহে ঢাকায় আসবেন তিনি। এসেই শুরু করবেন কাজ।

কাবরেরা বার্সার যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া শাখা একাডেমির কোচ ছিলেন। স্প্যানিশ ক্লাব দেপোর্তিভো আলাভেসের একাডেমিতেও কাজ করেছেন তিনি।
তাছাড়া স্প্যানিশ লা লিগার ট্যাকনিকেল ডিরেক্টর পদেও দায়িত্বরত ছিলেন। এই পদে থাকার সুবাদে ভারতের স্কুল ফুটবল কার্যক্রমেও কাজ করেছেন।

এদিকে জেমি ডে কে অব্যাহতি দেয়ার পর অন্তবর্তীকালীন কোচ হিসেবে জামালদের দায়িত্ব নিয়েছিলেন বসুন্ধরা কিংসের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজোন ও ঢাকা আবাহনীর কোচ মারিও লেমস।

ভোট পুনর্গণনার দাবি চার মেম্বার প্রার্থীর

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ৩নং দেওরগাছ ও পাইকপাড়া ইউনিয়নের নির্বাচনে তিনটি ওয়ার্ডে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন উপজেলার চার ইউপি মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকরা। শনিবার দুপুরে চান্দপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন- পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে উপজেলার দেওরগাছ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য পদে ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে নির্বাচনে ফুটবল প্রতীকে বর্তমান সদস্য নৃপেন পাল ৫৬৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী কাঞ্চন পান ৪৯৯ ভোট ও বিদ্যুৎ ভৌমিক পান ৫৩০ ভোট।

মানববন্ধনে মেম্বার প্রার্থী কাঞ্চন বলেন, আমি ৯ শতাধিক ভোট পেয়েছি। আমার এজেন্টকে কেন্দ্রে থেকে বের করে দিয়ে ভোট গণনা করা হয়েছে। ভোট গণনায় কারচুপি হয়েছে। আমি পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানাচ্ছি। একই অভিযোগ বিদ্যুৎ ভৌমিকেরও। তিনি বলেন, আমাকে কারচুপি করে হারানো হয়েছে।

এদিকে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে দেওরগাছা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার প্রার্থী শিরিন আক্তার ও ৭নং ওয়ার্ডের ভজন ভৌমিক।

মুজিববর্ষের সময় বাড়ল

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের লক্ষে ঘোষিত মুজিববর্ষের সময় আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। করোনার কারণে ঘোষিত কর্মসূচি শেষ করতে না পারায় এই সময়সীমা বাড়ানো হলো।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে বলা হয়েছে, স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের লক্ষ্যে সরকার ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ সময়কে মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করে। মুজিববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে গৃহীত কর্মসূচি কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারির কারণে নির্ধারিত সময়ে যথাযথভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব না হওয়ায় মুজিববর্ষের সময়কাল গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছিল।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিসৌধে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠান ও লোকজ মেলা আয়োজন, অনলাইন কুইজের পুরস্কার বিতরণ, বিভিন্ন প্রকাশনা মুদ্রণের কাজ সম্পন্ন, জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির কার্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যাদি সম্পন্ন, নথিপত্র, অফিস সরঞ্জামাদি, প্রকাশনাগুলো সরকার নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর, আর্থিক বিষয়াদি নিষ্পন্ন করা, ব্যাংক হিসাব বন্ধ করা, অডিট সম্পাদন ইত্যাদি কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে সরকার মুজিববর্ষের সময়কাল এবং ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটি’ ও ‘জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’র মেয়াদ আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বর্ধিত ঘোষণা করা হলো।