রবিবার ,১৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 526

দিনাজপুরে বৃষ্টি ৬ বছরে রেকর্ড ভাঙল

পৌষের শেষে আবারও বৃষ্টি, শীত আর ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত দিনাজপুরসহ দেশের উত্তর জনপদের স্বাভাবিক জনজীবন। গত ২৪ ঘণ্টায় দিনাজপুরে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জানুয়ারি মাসে এই বৃষ্টিপাত গত ছয় বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

এবারের পৌষের শীতে দিনাজপুরে বুধবার দ্বিতীয় দফায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। বিকাল থেকে দ্বিতীয় দফার এই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত শুরু হয়। রাতে বজ্রসহ প্রবল বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়।

দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় দিনাজপুরে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৮ মিলিমিটার। এ সময়ে এটিই দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

তিনি জানান, জানুয়ারি মাসে গত ছয় বছরে এটিই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। এর আগে গত ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে দিনাজপুরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ২০ মিলিমিটার। এর পর গত পাঁচ বছরে জানুয়ারি মাসে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৯ মিলিমিটার।

চলতি পৌষ মাসের মাঝামাঝি সময়ে দিনাজপুরে প্রথম দফায় বৃষ্টিপাত হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর দিনাজপুরে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। সেদিন ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ৫ দশমিক ২ মিলিমিটার।

বুধবার দিন ও রাতের বৃষ্টিপাতের পর দিনাজপুরে তাপমাত্রা আবারও কমতে শুরু করেছে। দিনাজপুরে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকবে এবং চলতি জানুয়ারি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে আরও একটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

শীত, বৃষ্টি আর ঘন কুয়াশায় বিঘ্নিত হচ্ছে দিনাজপুরসহ এই অঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশেষ করে কাজের সন্ধানে বের হওয়া নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছে বিপাকে।

পৌষের শেষে আবারও বৃষ্টি, শীত আর ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত দিনাজপুরসহ দেশের উত্তর জনপদের স্বাভাবিক জনজীবন। গত ২৪ ঘণ্টায় দিনাজপুরে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর জানুয়ারি মাসে এই বৃষ্টিপাত গত ছয় বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

এবারের পৌষের শীতে দিনাজপুরে বুধবার দ্বিতীয় দফায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। বিকাল থেকে দ্বিতীয় দফার এই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত শুরু হয়। রাতে বজ্রসহ প্রবল বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়।

দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় দিনাজপুরে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৮ মিলিমিটার। এই সময়ে এটিই দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

তিনি জানান, জানুয়ারি মাসে গত ছয় বছরে এটিই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। এর আগে গত ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে দিনাজপুরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ২০ মিলিমিটার। এর পর গত ৫ বছরে জানুয়ারি মাসে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিলো ৯ মিলিমিটার।

চলতি পৌষ মাসের মাঝামাঝি সময়ে দিনাজপুরে প্রথম দফায় বৃষ্টিপাত হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর দিনাজপুরে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। সেদিন ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ৫ দশমিক ২ মিলিমিটার।

বুধবার দিন ও রাতের বৃষ্টিপাতের পর দিনাজপুরে তাপমাত্রা আবারও কমতে শুরু করেছে। দিনাজপুরে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকবে এবং চলতি জানুয়ারি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে আরও একটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

শীত, বৃষ্টি আর ঘন কুয়াশায় বিঘ্নিত হচ্ছে দিনাজপুরসহ এই অঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশেষ করে কাজের সন্ধানে বের হওয়া নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছে বিপাকে।

ভারতে একদিনে করোনা রোগী বাড়ল আড়াই লাখ

ভারতে আবারও লাফিয়ে বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে একদিনের সর্বোচ্চ রেকর্ড আজ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে করোনার নতুন সংক্রমণ ওমিক্রন।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন দুই লাখ ৫০ হাজার জন। এ সময়ে দেশটিতে মারা গেছেন ৩৮০ জন।

এ নিয়ে ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার ৫১০ জনে। এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৩৪ জনের।

যা আগের দিনের তুলনায় ১৫.৮ শতাংশ বেশি। মঙ্গলবার এ সংখ্যাটা ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার।

প্রতিদিন প্রতি ১০০টি করোনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হচ্ছে ৩.০৮ শতাংশ। এবং ৯৫.৫৯ শতাংশ সুস্থ হচ্ছে।

ভারতে এখন পর্যন্ত ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৪৮৮ জন।

মৃত্যু সংখ্যায় প্রথম স্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্র (৮ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮২ জন) ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ব্রাজিল (৬ লাখ ২০ হাজার ৪১৯ জন), এর পরই ভারতের অবস্থান।

বরিস জনসনকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান

লকডাউন চলাকালীন ড্রিঙ্কস পার্টিতে যোগ দেওয়ার ঘটনায় ‘আন্তরিকভাবে ক্ষমা’ চাওয়ার পর বরিস জনসনকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারির মাঝেই ডাউনিং স্ট্রিটের বাগানের পার্টির জেরে তার দল কনজারভেটিভ পার্টির সিনিয়র সদস্যরাই তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বলছেন।

এ বিষয়ে ক্ষমা চাওয়ার পর স্কটল্যান্ডের সিনিয়র কনজারভেটিভ ডগলাস রস ও এমপি উইলিয়াম র্যাগ, ক্যারোলাইন নকস ও রজার গালে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বলেছেন। খবর বিবিসির।

২০২০ সালের মে মাসে ডাউনিং স্ট্রিটের কর্মীদের নিয়ে ওই পার্টি দিয়েছিলেন বরিস জনসন। লকডাউনের মধ্যেই ডাউনিং স্ট্রিটের বাগানে মদের পার্টি করে সমালোচনার মুখে পড়েন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

বরিস জনসন বলেন, হাজার হাজার ব্রিটিশ নাগরিক যখন করোনা বিধির প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রিয়জনদের শেষকৃত্যে পর্যন্ত নেওয়া থেকে বিরত থেকেছে, সেখানে তার এহেন আচরণ মোটেও প্রশংসাযোগ্য নয়।

এদিকে প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা কেইর স্টার্মার বরিসের এই ক্ষমা প্রার্থনাকে ‘অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়ে এতো দেরি করে এ ব্যাপারে মুখ খোলার জন্য বরিসকে উপহাস করেছেন।

এ ব্যাপারে স্টার্মার প্রশ্ন তোলেন, তিনি (বরিস) কি ভদ্রোচিতভাবে পদত্যাগ করবেন? এর আগে অবশ্য এই ঘটনার জন্য স্টার্মার বরিসকে ‘নির্লজ্জ’ বলেছিলেন।

২০২০ সালের ওই পার্টির ভিডিও সামনে আসার পর থেকেই অবশ্য ব্রিটেন জুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনা জনগণের মনে ক্ষোভের জন্ম দেয়। এমনকি জনমত জরিপেও বরিসের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়।

প্রসঙ্গত ২০২০ সালের ২০ মে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাগানে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে মদের আসর বসে। এই আসরে বরিস জনসন ও তার স্ত্রী ক্যারি সিমন্ডস ছাড়াও শতাধিক অতিথি ছিলেন। ওই সময় যুক্তরাজ্যে স্কুল, রেস্টুরেন্ট, মদের দোকান বন্ধ থাকাসহ সমাজিক মেলামেশায় কঠোর নিষেধ ছিল।

স্থানীয় সময় সোমবার আয়োজন-সংক্রান্ত একটি ই-মেইল ফাঁস হলে এ তথ্য প্রকাশ্যে আসে। জানা যায়, ই-মেইলের মাধ্যমে সরকারের জ্যেষ্ঠ আমলা মার্টিন রেনল্ডস অতিথিদের দাওয়াত করেছিলেন।

এলএনজি আমদানিতে সংকটে সরকার

তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি নিয়ে গভীর সংকটে পড়েছে সরকার। একদিকে আমদানির জন্য হাতে পর্যাপ্ত টাকা নেই।

 

অপরদিকে আমদানি না করলে বিপর্যয়ে পড়বে শিল্পায়ন। জ্বালানি বিভাগ বলছে, বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় দৈনিক ৯৫০ এমএমসিএফডি এলএনজি আমদানি করতে প্রয়োজন বছরে ৪০ হাজার কোটি টাকা।

এরমধ্যে শুধু ১৮ হাজার কোটি টাকা লাগবে সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে। এর চেয়ে কিছুটা কম আমদানি করা যায়। সেক্ষেত্রে পরিমাণ হবে ৮৫০ এমএমসিএফডি। এ পরিমাণ এলএনজি আমদানি করতে প্রয়োজন ৩৬ হাজার কোটি টাকা। এ খাতেও ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে হবে ১৭ হাজার কোটি টাকা।

জানা গেছে, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও সারে বছরে ভর্তুকি লাগে ৭০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু সরকার দিচ্ছে মাত্র সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। বাকি ৫৮ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি। এ অবস্থায় এলএনজি আমদানিতে বিপাকে পড়েছে জ্বালানি বিভাগ। বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, এ সংকট নিরসনে হয়তো গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারের দাম বাড়াতে হবে। অন্যথা এলএনজি আমদানিতে ভ্যাট-ট্যাক্স বাতিল করতে হবে। তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি না করলে শিল্প-কলকারখানায় গ্যাসের জোগান দেওয়া সম্ভব হবে না। গ্যাস না পেলে অর্ধেকের বেশি শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে প্রাকৃতিক গ্যাসের সঙ্গে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৮৫০ এমএমসিএফডি (মিলিয়ন কিউবিক ফুট পার ডে) এলএনজি মিশ্রণ করে চাহিদার পূরণ করা হচ্ছে।

নাম গোপন রাখার শর্তে জ্বালানি বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ভর্তুকির ৫৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে তারা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দাম বাড়ানোর আবেদন তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে জমা দেবে প্রস্তাবনা। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যদি গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয় তাহলে সারের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে।

২৮ ডিসেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় জানানো হয়, সার, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের জন্য চলতি অর্থবছরে (২০২১-২২) ৭০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন। এ ভর্তুকির বিপরীতে চলতি বছরের বাজেটে এখন পর্যন্ত বরাদ্দ রয়েছে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু জ্বালানি খাতে ভর্তুকি বরাদ্দ রয়েছে ৪ হাজার কোটি টাকা। ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় দুই হাজার কোটি টাকা জ্বালানি বিভাগকে দিয়েছে। এলএনজি আমদানি করতে সরকারের এখনই দরকার ১৬০০ কোটি টাকা। কিন্তু এ বরাদ্দও যথেষ্ট নয় বলে মনে করছে জ্বালানি বিভাগ। সে কারণে নভেম্বরে অর্থ বিভাগের কাছে ৯৩৩১ কোটি টাকার ভর্তুকি চেয়ে চিঠি দিয়েছে তারা।

জানা গেছে, প্রতি হাজার ঘনফুট এলএনজির দাম গত বছরের আগস্টের আগে ছিল ১০ ডলার। এখন বেড়ে ৪৫ ডলার হয়েছে। সাড়ে চারগুণ দাম বেড়েছে এলএনজির স্পট মার্কেটে। দেশে এখন গ্যাসের চাহিদা দৈনিক ৪২০ কোটি ঘনফুট। সরবরাহ হচ্ছে ৩০০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে ১০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি আমদানি করে সরকার। অর্থাৎ সরবরাহকৃত গ্যাসের তিন ভাগের এক ভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এ বিপুল পরিমাণ এলএনজি আমদানির কারণে গ্যাস খাতে ভর্তুকি বেড়েছে।

জ্বালানি বিভাগের ওই বৈঠকে আরও বলা হয়েছে, গ্যাসের দাম বাড়লে বিদ্যুতেরও দাম বাড়বে। কারণ দেশের প্রায় ৭০ ভাগ বিদ্যুৎ আসে গ্যাস থেকে। বাকি ৩০ ভাগ বিদ্যুতের বড় অংশ আসে তেল থেকে। এর আগে সরকার তেলের দাম বাড়িয়েছে ২৩ ভাগ। ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বৃদ্ধি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ বেড়ে যাওয়ায় সরকার ঘাটতি মেটাতে এ দুটি পণ্যের পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়াতে চায়।

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান যুগান্তরকে বলেন, পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়লে খুচরা পর্যায়ের দাম বাড়াতেই হবে। আমরা অপেক্ষা করছি পিডিবির পাইকারি প্রস্তাবের ওপর। তারপর আমাদের পক্ষ থেকে গ্রাহক পর্যায় খুচরা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আবেদন করা হবে।

এদিকে গ্যাস সংকট সমাধানে এলএনজি ফিলিং স্টেশনে রেশনিং শুরু হয়েছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে এটি সমাধান নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ হিসাবে তারা বলছেন, প্রতি বছর দেশে গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে গড়ে ১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) বা ১০০ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) থেকে ১ দশমিক ১ টিসিএফ গ্যাস। এর মধ্যে বিদ্যুতে ব্যবহার হয় ৪৩.২৮ শতাংশ, শিল্পকারখানায় ১৫.৭৯ শতাংশ, বাসা-বাড়িতে ১৫.২৫ শতাংশ, শিল্পকারখানার নিজস্ব বিদ্যুৎ কেন্দ্র (ক্যাপটিভ পাওয়ার) ১৫.১২ শতাংশ, সার উৎপাদনে ৫.৫৪ শতাংশ, সিএনজি দশমিক ১৬ শতাংশ, বাণিজ্যিক দশমিক ৭৬ শতাংশ ও চা বাগানে দশমিক ১০ শতাংশ। আর এ মুহূর্তে গ্যাসের অভাবে প্রায় ২৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না।

রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য আট হাজার কোটি ডলার

নতুন রপ্তানি নীতিতে আট হাজার কোটি (৮০ বিলিয়ন) ডলার পণ্য রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২১-২০২৪-এই তিন অর্থবছরের রপ্তানি নীতিমালায় এ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

এর আগের রপ্তানি নীতিমালায় এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার কোটি ডলার। এখনো সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।

বুধবার অর্থনৈতিক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া পৃথক বৈঠকে ১০ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩টি ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

 

ভার্চুয়াল দুটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন আর বেশি হওয়ার আশঙ্কা নেই। জ্বালানি তেলের দাম কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করবে সরকার।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৪ সাল পর্যন্ত রপ্তানির একটি নীতিমালা আমরা অনুমোদন দিয়েছি। রপ্তানি লক্ষ্য বাড়ানোর পাশাপাশি বেশকিছু নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নতুন নীতিতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কৌশল গ্রহণ করে রপ্তানি বাণিজ্য কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কর্মকৌশল নিয়েও বিস্তারিত পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া রপ্তানি পণ্য উৎপাদনে টেকসই নীতিকৌশল গ্রহণে উৎসাহিতকরণ, আইসিটি ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজসহ অন্যান্য সেবা খাতসহ রপ্তানিমুখী সব খাতে একইভাবে নীতিসুবিধা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের রপ্তানিতে সম্পৃক্ততা বাড়ানো, ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহজীকরণে বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

ওই বৈঠকে জ্বালানি তেলের দাম কমানো প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে। আমার বিশ্বাস, যখন যা করা দরকার, সরকার অবশ্যই করবে। আপনারা জানেন, জ্বালানি তেলের দাম কতটা ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এখন আমরা নিুমুখী দেখতে পাচ্ছি। আমার বিশ্বাস, সরকার সেটি বিবেচনা করবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, এ মুহূর্তে মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ট্র্যাপের মধ্যে পড়াটা আমাদের জন্য কার্যকর নয়। ২০৪১ সাল পর্যন্ত আমরা যে পরিকল্পনা করেছি, সেখানে বাৎসরিক আমাদের প্রক্ষেপণ এবং বাস্তবায়ন সবকিছু উল্লেখ করা আছে। আমি মনে করি, অন্যদের সঙ্গে আমাদের মেলানো যাবে না।

মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধিসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের কিছু ডিফারেন্স (পার্থক্য) আছে, সেটি আমরা স্বীকার করি। যেহেতু রপ্তানি বাড়ছে, আমদানিও বাড়ছে। আমদানির জন্য সেখানে ফিন্যান্সিং করা লাগে। তাই মার্কেট ওঠানামা করবেই। সেটা অনেক বেশি ওঠানামা দেখতে পারব না। আমাদের এখানে ডলারের রেট বেশি বাড়ার আশঙ্কা নেই।’

সভা শেষে অনুমোদিত ক্রয়প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আরেফিন। তিনি বলেন, ২০২২ সালের (জানুয়ারি-জুন) সময়ের জন্য পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির একটি ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এর মধ্যে ১৪ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল প্রিমিয়াম ও রেফারেন্স মূল্যসহ ৮ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে ৯০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হবে। ব্যয় হবে ৫১২ কোটি টাকা। এছাড়া রংপুর, নাটোর, জামালপুর, ময়মনসিংহ এবং ঢাকা, খুলনা, গোপালগঞ্জ, বরিশালে আইটি/হাইটেক পার্ক স্থাপন করা হবে, এতে মোট ব্যয় হবে ১২০৫ কোটি টাকা।

‘বাপবিবোর বৈদ্যুতিক বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ক্ষমতাবর্ধন (খুলনা বিভাগ)’ প্রকল্পের আওতায় ৩২ হাজার ৪০০টি এসপিসি পোল কেনা হবে। এতে ব্যয় হবে ৩১ কোটি টাকা। একই প্রকল্পের আওতায় ৩২ হাজার ৩৯৬টি এসপিসি পোল কেনার আরও ক্রয়প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এতে ব্যয় হবে ৩১ কোটি টাকা। এছাড়া ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩ হাজার ৪০টি ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

পুরোনো ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তুলাই এবং পুনর্ভবা নদীর নাব্যতা উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার’ প্রকল্পের নদী খননকাজের অনুমোদন দেওয়া হয়। মোট ব্যয় হবে ১১৪ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য দুইটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাগবোট ক্রয় করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৮৮ কোটি টাকা। আর মোংলা বন্দরের জন্য ২টি টাগবোট ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সেবা ক্রয় করা হবে। ব্যয় হবে প্রায় ২২৩ কোটি টাকা।

নৌকার প্রচারণায় তারকা খেলোয়াড়রা

জমে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। দুই হেভিওয়েট প্রার্থী আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের ডা. সেলিনা হায়াত আইভী ও হাতি প্রতীকের অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার তাদের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মাঝে মাঝে তাদের সঙ্গে খেলোয়াড় ও শিল্পীদের দেখা যাচ্ছে।

বুধবার মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভীর নৌকা প্রতীকের প্রচারণায় নারায়ণগঞ্জে আসেন সাবেক ও বর্তমান তারকা ফুলবলার, হকি খেলোয়াড়সহ ক্রীড়াঙ্গনের খেলোয়াড়রা। তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক জাতীয় ফুটবলার আব্দুল গাফফার, শেখ আসলাম, বিশ্বজিৎ দাস রুপু, গোলাম সৈযদ জ্বিলানী, ফজলুর রহমান বাবুল, কামাল, সুজন, সাবেক জাতীয় হকি খেলোয়াড় মাহাবুব রানা প্রমুখ। তারা শহরের বিভিন্ন স্থানে নৌকার প্রচারণা চালান।

এছাড়া হাতি মার্কার মেয়র প্রার্থী তৈমুরের নির্বাচনি প্রচারণায় যোগ দিয়েছেন জনপ্রিয় শিল্পী আসিফ আকবর। নগরীর মেট্রোহল এলাকায় বুধবার দুপুরে তৈমুরের নির্বাচনি প্রচারণায় যোগ দিয়ে বক্তব্য রাখেন শিল্পী আসিফ আকবর।

এ সময় তিনি বলেন, ১৬ তারিখ অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে হাতি মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। সেই সঙ্গে এই লুটেরা, দুর্নীতিবাজ, ভোটচোর সরকারের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে তাতে সামিল হবে।

তিনি বলেন, হাতি মার্কার বিজয়ের মধ্য দিয়ে সরকারকে বার্তা দিতে হবে যে আগামী নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে করা যাবে না। ১৬ তারিখ সকাল সকাল ভোট কেন্দ্রে যাবেন। ভোটকেন্দ্র পাহারা দিবেন এবং ভোট গণনা পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। জনগণের যে জোয়ার উঠেছে তাতে তৈমুর আলম খন্দকার ভাইয়ের বিজয় নিশ্চিত।

‘চায়ের দোকানিও বলেন আইভীকে ভোট দিলে চা খাওয়াবো’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রচারণা চালাতে বুধবার বন্দরের কয়েকটি ওয়ার্ডে যান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।

সেখানে আচরণ বিধি ভঙ্গ করেই বক্তব্য রাখেন আড়াইহাজারের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু।

স্থানীয় একটি স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত সভায় নজরুল ইসলাম বাবু এমপি বলেন, বন্দরের রাস্তাঘাট অলিগলি বলছে নৌকা নৌকা। এই বন্দরের দিকে তাকালে শুধু দেখা যায় আইভীর উন্নয়ন। কোন এমপি মন্ত্রী এই উন্নয়ন করেননি, করেছেন আইভী। বন্দরের যত উন্নয়ন তার সবই করেছেন আইভী।

তিনি বলেন, বন্দরের মানুষ বলেছেন আমাকে, আমরা যারা লাঙ্গলে ভোট দিয়েছিলাম তারা কিছুই পাইনি, লাঙ্গলের লোকজন কিছুই দেয়নি। আজকে ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেও তারা বলে আইভীর নৌকায় ভোট দেব। চায়ের দোকানের দোকানীও বলেন আইভীকে ভোট দিলে চা খাওয়াবো।

তিনি আরও বলেন, আপনারা ১৬ জানুয়ারি আইভীকে নৌকায় ভোট দিলে আরও অনেক উন্নয়ন হবে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, এই নির্বাচনের ফলাফল কি হবে তা নানা গোয়েন্দা সংস্থা ও মানুষের মুখে মুখে ঘুরে ফিরছে। এই তথ্যে বিরোধী প্রার্থীর হৃদকম্পন শুরু হয়ে গেছে। তার পরাজয় নিশ্চিত এটা তিনিও জেনে গেছেন। কিন্তু ১৬ তারিখ সকালে হাতি প্রতীকের প্রার্থী সকালে বলবেন এখন পর্যন্ত নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে, ভোটাররা ভোট দিতে পারছে। ১২টার পর থেকেই বলতে শুরু করবেন নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নাই। মানুষ ভোট দিতে পারছে না। বিকাল ৫টার পরই বলবে এই নির্বাচনের ফলাফল আমি প্রত্যাখ্যান করছি। কিন্তু পরিবেশ অবাধ সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ হবে এবং সেই নির্বাচনে সবাই নৌকায় ভোট দিয়ে আইভীকে জয়ী করবে।

অপর প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার সালাম পৌঁছে দিতে এসেছি।

তিনি বলেন, আমি আইভীকে মনোনয়ন দিয়েছি তিনি উন্নয়ন করেছেন। সেই আইভীকে আবার মনোনয়ন দিয়েছি, আইভী জয়ী হলে নারায়ণগঞ্জের সকল উন্নয়নের দায়িত্ব আমি নিব। তৈমুর আলম একবার বলেন তিনি বিএনপির প্রার্থী, একবার বলেন জনতার প্রার্থী। উনি আসলে সেটাই জনগণ জানে না, তাকে কিভাবে মানুষ ভোট দিবে।

বুস্টার ডোজে দেওয়া হবে মডার্নার টিকা

করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় বুস্টার ডোজে ফাইজারের পরিবর্তে এখন থেকে দেওয়া হবে মডার্নার টিকা।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাশার খুরশিদ আলমের বরাত দিয়ে পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর শামসুল হকের স্বাক্ষর করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতদিন ফাইজারের টিকা দিয়েই বুস্টার ডোজ দেওয়া হচ্ছিল। আজকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে— দেশের সব পর্যায়ে বুস্টার ডোজ দেওয়ার ক্ষেত্রে ফাইজারের টিকার পরিবর্তে মডার্নার টিকা দেওয়া হবে। স্কুল-কলেজগামী ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিক্ষার্থীদের এবং যারা প্রথম ডোজ হিসেবে ফাইজার নিয়েছেন, তাদের জন্য এই টিকা সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

মার্কিন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের তৈরি ফাইজার-বায়েএনটেকের টিকা বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্সের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসছে। মডার্নার টিকাও যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি। এই দুটি টিকা করোনা থেকে সুরক্ষা দিতে বেশ কার্যকর বলে একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে।

১১ দফা বিধিনিষেধ কার্যকর আজ থেকে

করোনার উর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে সরকারের জারি করা ১১ দফা বিধিনিষেধ আজ বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হচ্ছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সবাইকে এসব বিধিনিষেধ বাধ্যতামূলকভাবে মানতে হবে।

আজ থেকে ১১টি বিধিনিষেধ মেনে চলার কথা বলা হলেও গণপরিবহনে আসন সংখ্যার অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে শনিবার থেকে।

সোমবার বিকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাব ও দেশে এ রোগের সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৩ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সার্বিক কাৰ্যাবলি ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো।

এর ব্যত্যয় হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, করোনা রোধে এটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তবে বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ না করলে ওমিক্রন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যেসব বিধিনিষেধ দিয়েছে সেগুলো হলো-
১. দোকান, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সব জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে মাস্ক পরতে হবে, নইলে তাকে শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে;
২. অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে ব্যত্যয় রোধে সারা দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে;
৩. রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়া ও আবাসিক হোটেলে থাকার জন্য অবশ্যই করোনা টিকা সনদ দেখাতে হবে;
৪. ১২ বছর ঊর্ধ্বের ছাত্রছাত্রীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত তারিখের পর টিকা সনদ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
৫. স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরে স্ক্রিনিংয়ের সংখ্যা বাড়াতে হবে। পোর্টে ক্রুদের জাহাজের বাইরে আসার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে। স্থলবন্দরগুলোতেও আগত ট্রাকের সঙ্গে শুধু ড্রাইভার থাকতে পারবে। বিদেশগামীদের সঙ্গে আসা দর্শনার্থীদের বিমানবন্দরে প্রবেশ বন্ধ করতে হবে।

৬. ট্রেন, বাস ও লঞ্চে সক্ষমতার অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নেওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকরের তারিখসহ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে। সবরকম যানের চালক ও সহকারীদের আবশ্যিকভাবে কোভিড-১৯ টিকা সনদধারী হতে হবে; ৭. বিদেশ থেকে আসা যাত্রীসহ সবাইকে বাধ্যতামূলক কোভিড-১৯ টিকা সনদ প্রদর্শন ও র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করতে হবে।

৮. স্বাস্থ্যবিধি পালন এবং মাস্ক পরিধানের বিষয়ে সব মসজিদে জুমার নামাজের খুতবায় ইমামরা সংশ্লিষ্টদের সচেতন করবেন। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।
৯. সবার করোনার টিকা ও বুস্টার ডোজ গ্রহণ ত্বরান্বিত করতে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রচার এবং উদ্যোগ নেবে। এক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহায়তা নেবেন।
১০. উন্মুক্ত স্থানে সবরকম সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সমাবেশ বন্ধ রাখতে হবে।
১১. কোনো এলাকার ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

জনবল নেবে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়

জনবল নিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রতিষ্ঠানটির অধীনে মহিলাবিষযক অধিদপ্তর পরিচালিত একটি প্রকল্পের একটি পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদন করা যাবে ডাকযোগে।

সংস্থা: মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর

প্রকল্পের নাম: ২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প

পদের নাম: ডে কেয়ার অফিসার
পদ সংখ্যা: ১
যোগ্যতা: স্নাতকোত্তর পাস হতে হবে।
বেতন: ২৭,১০০
চাকরির ধরন: অস্থায়ী

এতে শুধু নারীরা আবেদন করতে পারবেন।

বয়স: আগ্রহী প্রার্থীর বয়স ২০২২ সালের ২০ জানুয়ারি হিসাবে সর্বোচ্চ ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে।

আবেদনের নিয়ম: আবেদনের জন্য http://www.mowca.gov.bd/-এ ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। পরে আবেদনপত্র পূরণ করে ডাকযোগে পাঠাতে হবে।

বিজ্ঞপ্তি দেখুন এখানে-

আবেদনের ঠিকানা: সচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, পরিবহণ পুল ভবন, কক্ষ নং-৮১১, সচিবালয় লিংক রোড, ঢাকা।

আবেদনের শেষ সময়: ২০ জানুয়ারি ২০২২