বুধবার ,১০ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 499

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন যারা

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২১ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার বাংলা একাডেমির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, বাংলা একাডেমি নির্বাহী পরিষদের অনুমোদনক্রমে রোববার ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২১’ ঘোষণা করা হয়। অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার প্রদান করবেন।

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২১ প্রাপ্তরা হলেন-

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২১ প্রাপ্তরা হলেন- আসাদ মান্নান, বিমল গুহ (কবিতা), ঝর্না রহমান, বিশ্বজিৎ চৌধুরী (কথাসাহিত্য), হোসেনউদ্দীন হোসেন (প্রবন্ধ/গবেষণা), আমিনুর রহমান, রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী (অনুবাদ), সাধনা আহমেদ (নাটক), রফিকুর রশীদ (শিশুসাহিত্য), পান্না কায়সার (মুক্তিযুদ্ধ-ভিত্তিক গবেষণা), হারুন-অর-রশিদ (বঙ্গবন্ধু-বিষয়ক গবেষণা), শুভাগত চৌধুরী (বিজ্ঞান/কল্পবিজ্ঞান/পরিবেশ বিজ্ঞান), সুফিয়া খাতুন, হায়দার আকবর খান রনো (আত্মজীবনী/স্মৃতিকথা/ভ্রমণকাহিনি) ও আমিনুর রহমান সুলতান (ফোকলোর)।

ভারত-বাংলাদেশ অ্যাডুট্রেইনমেন্ট সেন্টার করবে আইসিটি বিভাগ

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে এবার দেশজুড়ে ৫০টি বাংলাদেশ-ভারত অ্যাডুট্রেইনমেন্ট সার্ভিস সেন্টার স্থাপন করবে আইসিটি বিভাগ। যেখানে থাকবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষাদান কার্যক্রম এবং মুভি দেখার থিয়েটার। দিনে চলবে স্কুল এবং রাতে দেখানো হবে মুভি।

শিক্ষাকার্যক্রমকে আনন্দদায়ক করতে এ কাজে বাংলাদেশকে ৫০ কোটি টাকা দেবে ভারত সরকার। আর বাংলাদেশ বিনিয়োগ করবে দেড় থেকে ২০০ কোটি টাকা। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁও এ আইসিটি বিভাগের সম্মেলন কেন্দ্রে এ বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। এ ছাড়াও চুক্তি হয়েছে সাইবার সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার। এর মাধ্যমে ভারতের খড়গপুরের আইআইটি ইন্ডিয়াতে বাংলাদেশের ৩২ হাজার পেশাদারকে দেওয়া হবে প্রশিক্ষণ। আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিক্রম দোরাইস্বামীর উপস্থিতিতে এসব চুক্তি হয়েছে।

ইসিমের পর এবার আসছে আইসিম

ইন্টিগ্রেটেড সাবস্কাইবার আইডেন্টিটি মডিউল সংক্ষেপে আইসিম (iSIM) ফোনের প্রসেসরের মধ্যেই সংযুক্ত থাকবে। বেশ কিছুদিন থেকেই ইসিমের হিড়িক লক্ষ করা গিয়েছিল। যদিও ইসিম খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি। এর মধ্যেই আবার আইসিম প্রযুক্তির নাম শোনা যাচ্ছে। আজকের আয়োজনে আইসিম প্রযুক্তি কী, কীভাবে কাজ

করে এ প্রযুক্তি তারই বিস্তারিত লিখেছেন- ফয়সাল আহমাদ

শোনা যাচ্ছে আইসিম এনাবেল স্মার্টফোনে কোনো সিম কার্ড স্লট থাকবে না। আর থাকবে না বলেই সেই ফোনের ডিজাইন ভালো হবে, ব্যাটারি হবে আরও শক্তিশালী। আকার বা আয়তনের দিক থেকে সিম কার্ড পরিবর্তিত হলেও মূল ধারণা কিন্তু একই রয়েছে। মার্কেট থেকে এখনো ফিজিক্যাল সিম কার্ডের দৌরাত্ম্য কাটেনি। প্রথাগত ফিজিক্যাল সিম কার্ডের থেকে আকারে খুবই ছোট্ট ইসিম কার্ডের মাধ্যমে যে কোনো টেলিকম অপারেটরের কানেকশন ব্যবহার করা যায়। চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কোয়ালকম নতুন ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে। অপারেশনাল স্মার্টফোনে এ আইসিম প্রদর্শনের জন্য ভোডাফোন এবং থেলসের সঙ্গে জোটও বেঁধেছে সেমিকন্ডাক্টর প্রস্তুতকারক মার্কিন এ কোম্পানিটি।

কী এই আইসিম প্রযুক্তি?

আইসিম নতুন প্রযুক্তি হলেও এতে প্রথাগত সিম কার্ডের সব গুণাবলি থাকবে। কিন্তু তা ডিভাইসের প্রসেসরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। অর্থাৎ ফোনে কোনো সিম কার্ড স্লট থাকবে না কিন্তু আইসিম ফোনের ইন-বিল্ট প্রসেসর ইন্টিগ্রেট করা থাকবে। এ প্রযুক্তি এলে অনেকটাই ইসিমের মতো। অবশ্য আইসিম ডিভাইসের সঙ্গে অ্যামবেডেড থাকবে, যেটা ইসিমে ছিল না। জিএসএমএ স্পেসিফিকেশন্স মেনে চলে আইসিম, ডিভাইসের মূল প্রসেসরেই সিম ফাংশনালিটি অ্যামবেড করা রাখতে পারে এ প্রযুক্তি। কোয়ালকমের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আইসিম ব্যবহার করলে স্মার্টফোনের পারফরমেন্স আরও ভালো হবে, মেমোরি ক্যাপাসিটি আরও বাড়বে এবং সেই বৃহত্তর সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনও পাওয়া যাবে।

আইসিমের সুবিধা কী?

স্মার্টফোনের বাইরে গিয়েও একটা সিম কার্ডের ব্যবহার তুলে ধরা আইসিম প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য। আইসিম প্রযুক্তি ল্যাপটপ থেকে শুরু করে আইওটি, ডিভাইস, স্মার্টওয়াচ, এমনকি ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি প্ল্যাটফরমেও ব্যবহার করা যেতে পারে। কোয়ালকম-জানিয়েছে, এর সুবিধা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম হতে পারে। উদাহরণ হিসাবে বলা যেতে পারে, ডিভাইসের ডিজাইন এবং পারফরমেন্স আগের থেকে আরও উন্নত হবে। কারণ এ প্রযুক্তি ডিভাইসে অনেকটাই জায়গা খালি করে দেবে। সিম কার্ড স্লট না থাকার ফলে স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো ফোনের ডিজাইনে আরও পরিবর্তন আনতে পারবে। একটা ডিভাইসে সিম কার্ড না দিয়েই তার সব সুবিধা উপভোগ করতে দেবে এ আইসিম প্রযুক্তি।

আইসিমের প্রভাব বাজারে কবে আসবে?

আইসিম বিশ্বের কাছে একটা নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করবে, বিশেষ করে আইওটি ডিভাইসের ক্ষেত্রে। একজন মানুষ আইসিম কানেক্টেড ডিভাইস নিয়ে নিরাপদভাবে আইওটি নেটওয়ার্কে থেকে বিশ্বের যে কোনো জায়গায় ঘুরে বেড়াতে পারবেন। মেইনস্ট্রিমে ছড়িয়ে দিতে এ প্রযুক্তিকে আপন করে নিতে হবে টেলিকম সংস্থাগুলোকে। আইসিম কানেক্টেড ডিভাইস হাতে পেতে এখনো অনেকটাই দেরি, বেশ কিছু বছর লেগে যেতে পারে। প্রথমে প্রযুক্তিটি লঞ্চ হবে আর তার পরে তা দেওয়া হবে বিভিন্ন ডিভাইসে।

ভোডাফোনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইউরোপে এ ডেমনস্ট্রেশন করা হয়েছিল। যে ডিভাইস ব্যবহৃত হয়েছিল, সেটি হলো স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফ্লিপ থ্রি ৫জি, যাতে কোয়ালকমেরই স্ন্যাপড্রাগন ৮৮৮ ৫জি প্রসেসর রয়েছে। সেই প্রসেসরের সঙ্গেই ইন্টিগ্রেট করা হয়েছিল আইসিম এবং থেলসের আইসিম অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহৃত হয়েছিল।

বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীতে লন্ডন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের অসাধারণ উদ্যোগ

যুক্তরাজ্যের লন্ডন বারা অব টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের উদ্যোগে ৫ জন বিশিষ্ট বাঙালির নামে পাঁচটি নতুন ভবনের নামকরণের ঘোষণা করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন মেয়র জন বিগস।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ব্রিটেনে বাংলাদেশি-অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল পাঁচজন বিশিষ্ট বাঙালির নামে পাঁচটি নতুন ভবনের নামকরণের ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন- সমাজসেবক তাসাদ্দুক আহমেদ এমবিই, আলতাব আলী, লন্ডনের প্রয়াত সাংবাদিক শাহাবউদ্দিন আহমেদ বেলাল, কবি বেগম সুফিয়া কামাল ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

মেয়র জন বিগস জানান, কমিউনিটির এই পাঁচ ব্যক্তিত্বকে সম্মাননা জানানোর মধ্য দিয়ে সেই ইতিহাস এবং পূর্ব লন্ডনে বাংলাদেশি অভিবাসীদের সার্বিক অবদানকেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আমরা এটা করছি যাতে বহু জাতিসত্তার এই সমাজে মানুষ তার শেকড়কে ভুলে না যায়।

যে পাঁচজনকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে তাদের অবদানের কথা তুলে ধরা হয় এই সংবাদ সম্মেলনে।

তাসাদ্দুক আহমেদ এমবিই: তাসাদ্দুক আহমদ এমবিইকে, পূর্ব লল্ডনের ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের গৌরবময় ইতিহাসের সাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাসাদ্দুক আহমেদ ছিলেন ব্রিটেনের বাঙালি কমিউনিটির এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। এই কমিউনিটির অগ্রযাত্রায় তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন এবং তার হাত ধরে বহু সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়। তিনি দেশের ডাক এবং ইন্টার্ন নিউজ নামে দুটি সংবাদপত্র তিনি প্রকাশ করেন।

সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৯ সালে তাকে রানির সম্মাননাসূচক খেতাব এমবিই প্রদান করা হয়। এছাড়া ২০০০ সালে তিনি টাওয়ার হ্যামলেটসের ফ্রিডম অফ দ্য বারা সম্মান অর্জন করেন।

আলতাব আলী: একজন সাধারণ অভিবাসী শ্রমিক আলতাব আলী তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পূর্ব লন্ডনে বর্ণবাদ ও ফ্যাসিবাদ-বিরোধী আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হন। মি. আলী ১৯৭৮ সালে এক বর্ণবাদী হামলায় প্রাণ হারান। তার মৃত্যুর পর প্রায় সাত হাজার মানুষ তার কফিন বহন করে যান মধ্য লন্ডনে। হাইড পার্ক, ট্রাফালগার স্কোয়ার এবং প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। লন্ডনের শ্বেতাঙ্গ, ভারতীয়, পাকিস্তানি ও ক্যারিবীয় অভিবাসী আন্দোলনকারীরাও এ আন্দোলনে যোগ দেন।

সাংবাদিক শাহাবউদ্দিন আহমেদ বেলাল: সাংবাদিকতায় তার অবদান অপরিসীম। পাশাপাশি শাহাবউদ্দিন আহমেদ বেলাল ব্রিটেনে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন। তিনি শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে কমিউনিটিতে অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি এক সময় স্টেপনি গ্রিন এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলার হিসেবেও মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন।

বেগম সুফিয়া কামাল : বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা, নারীবাদী ও আধুনিক বাংলাদেশের নারী প্রগতি আন্দোলনের একজন পুরোধা ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দিশারির ভূমিকা পালন ছাড়াও কবি সুফিয়া কামাল নারী প্রগতি আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেও ছিল তার অসামান্য ভূমিকা। ১৯৯১ সালে তিনি মারা যান। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী, যাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম: তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ ও মন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ষষ্ঠ সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ২০১৫ সাল থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। এর পূর্বে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নামটি অপরিচিত নয়; কিন্তু বিলেতের বাঙালি কমিউনিটির সেবায়ও তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন বলে জানায় টাওয়ার হ্যামলেটস কর্তৃপক্ষ। এক সময় তিনি টাওয়ার হ্যামলেটসের শিক্ষা বিভাগে কাজ করেছেন এবং কমিউনিটিতে বিশেষ অবদান রেখেছেন। তার এ বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি জানাল লন্ডন বারা অব টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল।

আমিরাতের চেম্বার অব কমার্সের মহাসচিবের সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরাসরি নৌ যোগাযোগ চালুর অনুরোধ করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবু জাফর। আমিরাত ফেডারেশন অব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফসিসিআই) মহাসচিব হুমাইদ মোহাম্মদ বিন সালেমের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ অনুরোধ করেন।

বুধবার (১৯ জানুয়ারি) এফসিসিআই কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে উভয়েই ইউএই এফসিসিআই ও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে যৌথ ব্যবসায়িক কাউন্সিল সক্রিয় করতে সম্মত হন। এতে রাষ্ট্রদূত কৃষি, তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়া শিল্প, এসএমই সেক্টর ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরেন।
বাংলাদেশি পণ্য আমদানির পাশাপাশি বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশংসা করে এফসিসিআই মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে রাজনৈতিক স্তরে এবং জনগণের সঙ্গে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। যেহেতু দুবাই মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল এবং এর বাইরেও একটি ট্রেডিং হাব ও গেটওয়ে হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, তাই দুবাইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্য সহজেই এ বাজারে পৌঁছাতে পারে।

নবীজি (সা.) যেভাবে পানি পান করতে বলেছেন

মহান রাব্বুল আলামিনের নিয়ামতসমূহের মধ্যে পানি অন্যতম। পানি ছাড়া মানুষের জীবনধারণ অসম্ভব। কেননা পৃথিবীর সব প্রাণের উৎস পানি এবং আমরা সবাই পানির ওপর নির্ভরশীল।

আল্লাহতায়ালা পানিকে শুধুমাত্র মানুষের পান করার চাহিদা মেটানোর জন্যই তৈরি করেননি। পানিকে করেছেন সৃষ্টির বিভিন্ন কাজের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। এছাড়া খাওয়া-দাওয়া, চলাফেরা, চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য সব কিছুই মানুষের জন্য ইবাদত হবে যখন এসব কাজ ইসলামি পদ্ধতিতে করা হবে।

যেমন মানুষের বেঁচে থাকার জন্য খাবার ও পানীয় গ্রহণ করা অত্যন্ত আবশ্যক। আবার জীবনধারণে পানি পান করাও আবশ্যক। পানির অপর নাম জীবন। জীবন বাঁচাতে পানি পানের বিকল্প নেই। সব সৃষ্টিরই বেঁচে থাকার তাগিদে পানি পান করতে হয়।

আর মানুষের পানি পানে রয়েছে কিছু ইসলামি নিয়ম ও পদ্ধতি। কাজটি ছোট হলেও প্রতিদিন অনেকবার মানুষকে পানি পান করতে হয়। পানি পানের সময় স্বয়ং বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুনির্দিষ্ট কিছু আমল করতেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাস্তব জীবনের এ আমলগুলো উঠে এসেছে হাদিসের বর্ণনায়।

পানি পান করার সুন্নতসমূহ:

১.ডান হাতে পান করা। কেননা শয়তান বাম হাত দিয়ে পানি পান করে। (সহিহ মুসলিম ২/১৭২)

২.বসে পান করা, দাঁড়িয়ে পান করা নিষেধ। (সহিহ মুসলিম ২/১৭৩)

৩. শুরুতে (বিছমিল্লাহ) পড়া এবং শেষে (আলহামদু লিল্লাহ) পড়া। (সুনানে তিরমিযী ২/১০)

৪. তিন নিঃশ্বাসে পানি পান করা, নিঃশ্বাস ফেলার সময় গ্লাস থেকে মুখ আলাদা করা। (সহিহ মুসলিম ২/১৭৪)

৫. গ্লাসের ভাঙা অংশের দিক দিয়ে পান না করা। (সুনানে আবু দাউদ ২/১৬৭)

৬. জগ ইত্যাদি বড় পাত্রে মুখ লাগিয়ে পান করবেন না। কেননা এতে বেশি পানি চলে আসার বা সাপ-বিচ্ছু থাকার সম্ভাবনা থাকে। (বুখারী ২/৮৪১, মুসলিম ২/১৭৩)

৭. পানি পান করার পর অন্যজনকে দিতে হলে প্রথমে ডান পাশের জনকে দিবেন। সেও তার ডান পাশের জনকে দিবেন, এভাবেই চলবে। চা ও অন্যান্য পানীয়ের ক্ষেত্রে এটাই নিয়ম। (বুখারী ২/৮৪০ ও মুসলিম ২/১৭৪)

৮. ওজু করার পর যে পাত্রে হাত দিয়ে পানি নেয়া হয়, সে পাত্রের অবশিষ্ট পানি কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে পান করা। এতে বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি হতে আরোগ্য লাভ হয়। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং- ৫৬১৬)

৯. পানীয় দ্রব্য পান করে কাউকে দিতে হলে ডান দিকের ব্যক্তিকে আগে দেয়া এবং এই ধারাবাহিকতা অনুযায়ীই শেষ করা। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং- ৫৬১৯)

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘আর আমি প্রাণবান সবকিছু সৃষ্টি করলাম পানি হতে, তবুও কি তারা ঈমান আনবে না? (আম্বিয়া ৩০)।

আল্লাহ তায়ালা আরো ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা যে পানি পান কর, সে সম্পর্কে কি তোমরা চিন্তা করেছ? তোমরাই কি তা মেঘ হতে নামিয়ে আন, না আমি তা বর্ষণ করি? আমি ইচ্ছা করলে তা লবণাক্ত করে দিতে পারি। তবুও কেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না? (ওয়াক্বিয়াহ ৬৮-৭০)।

আল্লাহ তায়ালা মাখলুক সৃষ্টিতে পানি ব্যবহার করেছেন। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন, আল্লাহ সমস্ত জীব সৃষ্টি করেছেন পানি হতে, ওদের কতেক পেটে ভর দিয়ে চলে (সাপ), কতেক দুই পায়ে চলে (মানুষ) এবং কতেক চলে চার পায়ে (জন্তু-জানোয়ার) আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন, আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।’ (সুরা: নুর : আয়াত : ৪৫)।

আল্লাহ অন্যত্র বলেন, অবিশ্বাসীরা কি ভেবে দেখেনা যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম, এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না। (সুরা: আম্বিয়া, আয়াত : ৩০)।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষের জীবিকা তথা ফলমূল তৈরিতে পরিমাণ মতো পানি দান করে থাকেন। যা ছাড়া কোনো ফলমূল উৎপন্ন হতো না।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, যে পবিত্রসত্তা তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসেবে। অতএব, আল্লাহর সঙ্গে তোমরা অন্য কাউকে সমকক্ষ করো না। বস্তুতঃ এসব তোমরা জান।’ (সুরা: বাকারা, আয়াত : ২২)।

হজরত সাহল ইবনু সা‘দ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে একটি পেয়ালা আনা হল। তিনি তা হতে পান করলেন। তখন তার ডান দিকে ছিল একজন বয়ঃকনিষ্ঠ বালক আর বয়স্ক লোকেরা ছিলেন তার বাম দিকে।

তিনি বললেন, হে বালক! তুমি কি আমাকে অবশিষ্ট (পানিটুকু) বয়স্কদেরকে দেওয়ার অনুমতি দিবে? সে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আপনার নিকট থেকে ফজিলত পাওয়ার ব্যাপারে আমি আমার চেয়ে অন্য কাউকে প্রাধান্য দিব না। অতঃপর তিনি তা তাকে প্রদান করলেন। (২৩৬৬, ২৪৫১, ২৬০২, ২৬০৫, ৫৬২০, মুসলিম ৩৬/১৭, হাদিস ২০৩০, আহমাদ ২২৮৮৭)।

আল্লাহতায়ালা সবাইকে নিত্যদিনের প্রত্যেকটি কাজে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সুন্নাহ সমুহ অনুসরণ ও অনুকরণ করার তাওফিক দান করুক। আমিন।

বইমেলায় আসছে সাড়া জাগানো বই ‘মুসলিম সভ্যতার ১০০১ আবিষ্কার’

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২২ উপলক্ষে সুলতানস থেকে প্রকাশিত হচ্ছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক থেকে মুদ্রিত প্রফেসর সেলিম টিএস আল-হাসসানি রচিত 1001 Inventions : The Enduring Legacy of Muslim Civilization নামক বিশ্ববিখ্যাত সাড়া জাগানো গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ গ্রন্থ ‘মুসলিম সভ্যতার ১০০১ আবিস্কার’।

বাংলা ভাষায় গ্রন্থটি অনুবাদ করেছেন বেস্টসেলার বই প্রোডাক্টিভ মুসলিমের অনুবাদক মিরাজ রহমান এবং ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ মো. আবুল বাশার।

গ্রন্থটির প্রতিটি লাইনে লাইনে উঠে এসেছে বিশ্ব সভ্যতা বির্নিমাণের নেপথ্যে মুসলিম সভ্যতার অবদানের চেপে রাখা ইতিহাস। ৩৭৬ পৃষ্ঠা বা ৪৭ ফর্মা বৃহৎ কলেবরের এ গ্রন্থটিতে মোট ৮ অধ্যায়ে শতাধিক বিষয়ভিত্তিক শিরোনামে অসংখ্য আবিস্কার ও উন্নয়নের নেপথ্য মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদান-ভূমিকার সত্য ইতিহাসগুলো সংকলিত হয়েছে।

এ ছাড়া মুসলিম সভ্যতার উন্নয়নের সময়কাল ও মুসলিম সভ্যতার প্রধান প্রধান অবদানের মানচিত্র শিরোনামের ২টি ব্যতিক্রমধর্মী টাইমলাইন সংযোজন করার পাশাপাশি সাড়ে ৯ ইঞ্চি বাই সাড়ে ৬ ইঞ্চি সাইজের বইটি যুক্ত করা হয়েছে অসংখ্য দূর্লভ ও বিরল হিস্ট্রিক্যাল ছবিও।

বইটি সম্পর্কে অনুবাদক মিরাজ রহমান বলেন,‘গোটা বিশ্বের ইতিহাস থেকে মুসলিম সভ্যতার অবদানমুখর একটি অধ্যায়কে মুছে ফেলে এবং সকল প্রকারের শিক্ষা পাঠ্যক্রম থেকে এ আলোচনাকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদানমূখর যে সময়টিকে ‘ডার্ক এইজ’ বা অন্ধকার যুগ হিসেবে পরিচিত করানো হয়েছে,এ গ্রন্থে মূলত সে সময়টিকে ‘গোল্ডেন এইজ’ বা স্বর্ণযুগ হিসেবে প্রমাণ করা হয়েছে।’

বইবাজার.কম, রকমারি.কম, ওয়াফিলাইফ.কম ও বইফেরী.কমসহ দেশের বিভিন্ন অনলাইন বুকশপে বইটির প্রি-অর্ডার চলছে। ৭০০ টাকা মুদ্রিত মূল্যের বইটি প্রি-অর্ডার ক্রয় করা যাবে ৪৫% ছাড়ে মাত্র ৩৮৫ টাকায়।

এছাড়া প্রত্যেক প্রি-অর্ডারকারীকে উপহার হিসেবে প্রদান করা হবে রাসুলের (সা.) দরুদ আঁকা আকর্ষণীয় নোটবুক। সরাসরি সুলতানস থেকে বইটি কিনেতে চাইলে কল করতে পারেন ০১৮১০০১১১২৫ বা ২৬ নম্বরে।

বিশ্ব সভ্যতা বিনির্মাণের নেপথ্যে যারা মুসলিম সভ্যতার অবদানের ইতিহাস জানতে চান; আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান-তথ্য-প্রযুক্তি এবং উন্নয়ন-আবিষ্কারে মুসলিম বিজ্ঞানীদের ভূমিকার সঠিক ইতিহাস যারা পড়তে চান— এ গ্রন্থ তাদের জন্য।

কোলন ক্যান্সার কি পুরোপুরি নিরাময় হয়?

কোলন অথবা বৃহদন্ত্রের ক্যান্সার একটি জটিল রোগ। সঠিক চিকিৎসা না নিলে স্বাভাবিক জীবন ধারন কঠিন হয়ে পড়ে। দিন দিন মৃত্যুর অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।

কোলন ক্যান্সারের একটি প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি হচ্ছে কোলন কেটে ফেলা দেওয়া এবং রোগীকে বিকল্প পথে মলত্যাগের ব্যবস্থা করা। ল্যাপারস্কপি পদ্ধতিতে অপারেশন এক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত তৈরি করেছে। এই পদ্ধতিতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পেট না কেটে ও মলদ্বার অপসারণ না করে ক্যান্সারটি সম্পূর্ণরূপে ব্যবচ্ছেদ করে আরোগ্য লাভ করা সম্ভব হয়।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ইডেন মাল্টিকেয়ার হাসপাতালের ল্যাপারোস্কপিক ও কলোরেক্টাল সার্জন অধ্যাপক ডা. একেএম ফজলুল হক।

মলাশয়ের ক্যান্সার সাধারণত পায়ুপথে রক্তক্ষরণ এবং মলত্যাগের অভ্যাসের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। মলত্যাগের বেগ এলে রোগী তড়িঘড়ি করে টয়লেটে যায় ও শ্লেষ্মাযুক্ত রক্ত মলদ্বার দিয়ে বেরিয়ে আসে। প্রথম দিকে যেহেতু উপসর্গ তত মারাত্মক নয় রোগী নিজ থেকেই অনেক সময় চিন্তা করে যে হয়তো বা আমাশয় আক্রান্ত হয়েছে অথবা তার পাইলস হতে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।

আমাদের দেশে পাইলস অথবা পেট খারাপ বা আমাশয় আক্রান্ত হওয়া বেশ সাধারণ ব্যাপার। ভেজাল, নষ্ট হওয়া খাবার-দাবারে অথবা রেস্তোরাঁয় খেয়ে পেট খারাপ বা মলত্যাগের অভ্যাসের পরিবর্তনকে সহজভাবে গ্রহণ করা আমাদের রোগীদের জন্য স্বাভাবিক। সে কারণে পায়ুপথে রক্তক্ষরণ, মলত্যাগের অভ্যাসের পরিবর্তন, কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা পাতলা পায়খানা উপসর্গগুলো যে ক্যান্সারেরও উপসর্গ সেটা অনুধাবন করতে রোগীর অনেক দেরি হয়ে যেতে পারে যদিও এর মাঝে ক্যান্সারটি বড় হয়ে মলাশয়/বৃহদন্ত্রের অকুস্থলের চারপাশে এবং পরবর্তী সময়ে ফুসফুস ও যকৃতে ছড়িয়ে যায়।

এ সময় পেটে ব্যথা হয়, মল আটকে গিয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেট ফুলে ওঠে। অপারেশান ছাড়া রোগ মুক্তির জন্য রোগী হাতুড়ে ডাক্তারসহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে চিকিৎসার শরণাপন্ন হয়ে প্রকৃত চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণরূপে ভালো হয়ে যাওয়ার সুযোগ হারান।

ক্যান্সার মলাশয় এবং মলদ্বারের পাশের স্নায়ু ও মাংসপেশিতে ছড়িয়ে পায়ুপথে প্রচণ্ড ব্যথার জন্ম দেয়।

আগের দিনে সচরাচর পায়ুপথ বা মলদ্বার ফেলে দিয়ে পেটের ডান বা বাঁয়ের যে কোনো একপাশে কৃত্রিম মলদ্বার বানিয়ে সেখানে ব্যাগ লাগিয়ে দেওয়া হতো। মল ওই ব্যাগে জমা হতো এবং রোগীকে সময়মতো মাঝে মাঝে ব্যাগ পরিষ্কার করে নিতে হতো।

এ স্থায়ী ব্যাগ লাগানো অনেক রোগীর কাছে অগ্রহণযোগ্য, সামাজিকভাবে অমর্যাদাপূর্ণ, অরুচিসম্মত হিসেবে গণ্য করে এবং সে পরিপ্রেক্ষিতে যেভাবেই হোক রোগী স্থায়ী ব্যাগ পরিহার করার চেষ্টা করে। মলাশয় অথবা মলদ্বারের সাধারণ অসুখ যেগুলো ক্যান্সারের মতো মারাত্মক নয় যেমন- ফিশার, পাইলস, ইত্যাদির উপসর্গ এবং ক্যান্সারের উপসর্গ একই রকম হতে পারে।

রোগীর ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা এবং কোলনস্কপি ও বায়োপসি করে রোগ নির্ণয়ের পর সিটি এবং এমআরআই দ্বারা স্টেজিং করার পরই চিকিৎসা প্রণালি নির্ধারণ করে চিকিৎসা শুরু করা হয়।

আগে প্রচলিত অথবা অত্যাধুনিক অস্ত্রোপচারেই মলাশয় এবং বৃহদন্ত্রের ক্যান্সারের চিকিৎসার মুখ্য পদ্ধতি। আধুনিক পদ্ধতিতে ল্যাপারস্কপি বা রোবটের মাধ্যমে অপারেশন করে আশপাশের গ্লান্ড যেখানে ক্যান্সার ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে সেই গ্লান্ডসহ ক্যান্সারটিকে সম্পূর্ণ অপসারণ করা।
প্রায় নব্বই ভাগেরও বেশি ক্ষেত্রে পেট না কেটে ও মলদ্বার অপসারণ না করে ক্যান্সারটি সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়া সম্ভব হয়। অপারেশানের আগে অথবা পরে কেমোথেরাপি অথবা/এবং রেডিওথেরাপির প্রয়োজন আছে কিংবা নেই সেটা নির্ভর করে ক্যান্সার স্টেজিংয়ের ওপর।

ল্যাপারস্কপির মাধ্যমে অস্ত্রেপচারের পর মলদ্বার অক্ষত থাকে, রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে, ক্যান্সার থেকে আরোগ্য পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায় এবং দ্রুত স্বাভাবিক কাজকর্ম ফিরে যেতে পারে।

মলদ্বারে ক্ষত ও রক্তক্ষরণ হলে কী করবেন?

মলদ্বারে জটিল বহু রোগ আছে। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে অনেক সময় মলদ্বারের দেয়ালের পর্দা ফেঁটে যেতে পারে। আবার ক্ষত হয়ে গিয়ে রক্তক্ষরণও হতে পারে। সঠিক চিকিৎসা না নিলে জটিলতা আরও বাড়তে পারে।

মলদ্বারের দেয়ালের পাতলা প্রথম আস্তর ফেটে বা ছিঁড়ে যখন ক্ষতের সৃষ্টি হয় সেই ক্ষতকে এনাল ফিশার বলা হয়ে থাকে। মলত্যাগের সময় যখন শক্ত অথবা বড় আকারের মল পায়ুপথ দিয়ে বেরিয়ে আসে তখন ক্ষতের সৃষ্টি হয়ে এনাল ফিশারের সূচনা করে। মলত্যাগে ব্যথা এবং রক্তক্ষরণ এনাল ফিশারের প্রধান উপসর্গ। এনাল ফিশার হলে মলদ্বারে যে মাংসপেশি (এনাল/মলদ্বার স্ফিংটার) থাকে সেই পেশির ব্যথাযুক্ত সংকোচন অনুভূত হতে পারে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বৃহদান্ত ও পায়ুপথ সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রকিবুল আনোয়ার।

সচরাচর ছোট শিশুদের এনাল ফিশার হলেও যে কোনো বয়সেই এনাল ফিশার হতে পারে। মধ্য বয়সেও এনাল ফিশার হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

বেশিরভাগ এনাল ফিশার সহজ সাধারণ চিকিৎসার মাধ্যমেই ভালো করা সম্ভব যেমন খাবারে বেশি করে শাকসবজি, ফলমূল যোগ করা, অধিক পরিমাণে পানি পান করা ইত্যাদি। যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ওষুধ অথবা সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।

প্রধান উপসর্গ মলমূত্র ত্যাগের সময় ব্যথা এবং সেই ব্যথা অনেক সময় মারাত্মক ও অসহনীয়। ব্যথা মলত্যাগের পরে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত প্রলম্বিত হতে পারে। মলের ওপর তাজা রক্ত দেখা যায় অথবা মল ত্যাগ করার পর টয়লেট পেপারে রক্ত দেখা যেতে পারে। পায়ুপথের শেষে ঘা অনুভব করা যায় এবং বেশ কিছুদিন থাকার পর ওই ত্বক ঘায়ের নিচে কিছুটা পর্যন্ত ফেটে গিয়ে চামড়ার ছোট একটা পিণ্ড সৃষ্টি হয় যার অলঙ্কারিক নাম ‘পাইলস প্রহরী’।

সচরাচর শক্ত অথবা বিশাল আকারের মলত্যাগ, কোষ্ঠকাঠিন্য, দীর্ঘস্থায়ী পাতলা পায়খানা, পায়ুপথকে যৌনসহবাসে ব্যবহার এবং সন্তান জন্মদানের সময় এনাল ফিশার সৃষ্টি করে। মাঝেমধ্যে ক্রোনস অথবা অন্ত্রের অন্যান্য প্রদাহ, পায়ুপথের ক্যান্সার, এইডস, সিফিলিস এবং টিবির কারণে এনাল ফিসারের সৃষ্টি হয়।

দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগের সময় বেশি চাপ দেওয়া, গর্ভধারণ, সন্তান প্রসব, অন্ত্রের প্রদাহ ইত্যাদি এনাল ফিশার সৃষ্টির আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।

জটিলতা হিসেবে এনাল ফিশার ক্রনিক বা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ফিশার যদি ৮ সপ্তাহের বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে সেই ফিশারকে ক্রনিক ফিশার হিসেবে অবিহিত করা হয়ে থাকে। ক্রনিক ফিশার সাধারণত মাংসপেশি বা স্ফিংটার পর্যন্ত বর্ধিত হয়ে সার্জারি ছাড়া আরোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। এনাল ফিশার একবার হলে বারবার হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

পায়ুপথে এনাল ফিশারের অবস্থান ফিশার হওয়ার কারণ নির্দেশনা করতে পারে। পায়ুপথের সামনে অথবা পেছন দিকে না হয়ে ফিশারের পার্শ্বস্থানে অবস্থান সাধারণত ক্রোনস, টিবি, সিফিলিস ইত্যাদি কারণে হয়ে থাকে।

প্রতিকার

স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস ও জীবন যাপন এনাল ফিশার প্রতিরোধ সাহায্য করে। নিয়মিত শাকসবজি, প্রচুর পানি পান এবং নিয়মিত হাঁটাচলা ব্যায়াম শুধু সুস্বাস্থ্যের নিশ্চয়তাই করে না এনাল ফিশারসহ দেহের অন্য সব মারাত্মক রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য, দীর্ঘস্থায়ী পাতলা পায়খানা পরিহার করে নিয়মিত ও সঠিক মলত্যাগ করা স্বাস্থ্যহানী প্রতিরোধে অত্যাবশ্যকীয়।

চিকিৎসা

চিকিৎসক সাধারণত রোগীর ইতিহাস জেনে সাবধানে পায়ুপথটা পর্যবেক্ষণ করবেন। সাধারণত ফিশার সহজে অবলোকন করা যায়। যদি স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা পরিচালনায় উপকার না হয় তবে চিকিৎসক মেডিকেল চিকিৎসা শুরু করবেন। উপসর্গ ও ফিশার ভালো না হওয়ার কারণ হচ্ছে, যে মুহূর্তে পায়ুপথ ছিঁড়ে যায় সে মুহূর্তে মলদ্বারের মাংসপেশির (এনাল/মলদ্বার স্ফিংটার) সেই ব্যথাযুক্ত সংকোচন হয় এবং সেই সংকোচন ব্যথার সৃষ্টি করে এবং ফিশারের ঘা শুকাতে বাধার সৃষ্টি করে।
ওষুধ, স্নায়ুবিক নিয়ন্ত্রণ অথবা শল্য চিকিৎসা সবই নির্ভর করে ওই পেশিসংকচন প্রতিরোধ করার ব্যবস্থাপনার ওপর। পেশিসংকচন বন্ধ করে পেশির শিথিলতা নিশ্চিত করতে পারলে ফিশার ভালো হওয়া শুরু করে।

পেশির শিথিলতার জন্য ব্যবহার করা হয় নাইট্রাইট জাতীয় ওষুধ যা হৃৎপিণ্ডের ব্যথা এনজাইনা রোধে ব্যবহার করা হয়। ওই ওষুধ হৃৎপিণ্ডের পেশির মতো পায়ুপথের পেশিকে শিথিল করে ফিশার নিরাময়ে সাহায্য করে। বটুলিনিয়াম টক্সিন পায়ুপথের স্নায়ুকে অবশ করে মাংসপেশি শিথিল করে এবং সার্জারির মাধ্যমে ল্যাটারাল স্ফিংটারোটোমি ও একইভাবে স্থায়ীভাবে এনাল/মলদ্বার স্ফিংটার শিথিল করে, সে কারণে অপারেশন করলে ফিশার দ্রুত ও স্থায়ী আরোগ্য লাভ সম্ভব হয়। ক্রনিক ফিসারের জন্য সার্জারিই গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড (স্বর্ণমান) হিসাবে বিবেচিত হয়।

জাফর ইকবালের অনুরোধে শাবি শিক্ষার্থীদের অনশন স্থগিত, আন্দোলন চলবে

অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের অনুরোধে অবশেষে অনশন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তবে শাবিপ্রবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলমান থাকবে।

বুধবার ভোরে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙার প্রস্তাব দেন। শিক্ষার্থীরা তার অনুরোধে অনশন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন।

বুধবার সকালে যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অনশনকারীদের মুখপাত্র শাহরিয়ার আবেদিন।

এর আগে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট নিরসনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে সিলেটে পৌঁছান অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল ও ইয়াসমীন হক। রাত পৌনে ৪টায় ক্যাম্পাসে পৌঁছেই সরাসরি চলে যান অনশনস্থলে। সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন।

শিক্ষার্থীরা পুরো ঘটনা খুলে বলার পর তিনি তাদের জানান, সরকারের কাছে আন্দোলনের সঠিক তথ্য নেই। তিনি সরকারের কাছে তাদের প্রকৃত তথ্য তুলে ধরবেন।

এ সময় তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যৌক্তিক। তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙার প্রস্তাব দেন। শিক্ষার্থীরা তার অনুরোধে অনশন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন। শিক্ষার্থীরা বাকি অনশনকারীদের হাসপাতাল থেকে অনশনস্থলে আনার জন্য সকাল ৮টা পর্যন্ত সময় চান।

এ সময় আন্দোলনে সহায়তার জন্য পাঁচ সাবেক শিক্ষার্থীর গ্রেফতারের কথা শুনে জাফর ইকবাল আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের হাতে ১০ হাজার টাকার একটি খাম তুলে দিয়ে বলেন, এখন ওরা যেন তাকেও গ্রেফতার করে।

এ ছাড়া অনশনস্থলে চিকিৎসা সেবা তুলে নেওয়ার কথা শুনে ড. জাফর ইকবাল বলেন, যেখানে শিক্ষার্থীরা অনশন করে মৃত্যুর দিকে যাচ্ছে, সেখান থেকে যারা চিকিৎসাসেবা প্রত্যাহার করেছে, তারা আসলে শিক্ষার্থীদের হত্যার পরিকল্পনা করেছিল।

তিনি সরকারের ওপর মহলে এসব অভিযোগ তুলে ধরবেন বলে জানান। সকাল ৬টার দিকে অনশনস্থল ত্যাগ করলে শিক্ষার্থীদের দেওয়া সময় অনুযায়ী সকাল ৮টায় আবারও অনশনস্থলে আসেন ড. জাফর দম্পতি। তবে তখনও হাসপাতাল থেকে বাকি ২০ অনশনকারী সেখানে পৌঁছাননি।

এদিকে আলোচনার পর আন্দোলনকারীদের মুখপত্র শাহরিয়ার আবেদিন যুগান্তরকে জানান, জাফর স্যার, ম্যাডাম তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি সরকারকে বলবেন। তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে অনশন কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান শাহরিয়ার আবেদিন। তবে উপাচার্য পদত্যাগের দাবিতে তাদের আন্দোলন চলমান থাকবে।

প্রসঙ্গত আন্দোলনে অর্থ জোগানের অভিযোগে শাবিপ্রবির সাবেক ৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে সিলেট মহানগর পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পর রাতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এর আগে ঢাকা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ওই ৫ জনকে সিলেট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

মামলার পর তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ।

গ্রেফতার সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থী হলেন— হাবিবুর রহমান খান (২৬), রেজা নুর মুইন (৩১), এএফএম নাজমুল সাকিব (৩২), একেএম মারুফ হোসেন (২৭), ফয়সাল আহমেদ (২৭)।