পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আমির ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর বল হাতে প্রতিপক্ষদের একের পর এক কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন । বয়স যখন মাত্র ১৮ বছর অস্ট্রেলিয়া থেকে শুরু করে ইংল্যান্ড, প্রায় প্রতিটি প্রতিপক্ষের শিবিরে কাঁপন ধরিয়েছিলেন আমির।
পাকিস্তানের এই পেসার পা দিয়েছিলেন স্পট ফিক্সিংয়ের ফাঁদে । ফলশ্রুতিতে ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হন আমির। এরপর শাস্তিও ভোগ করেন এই পাকিস্তানি পেসার। নিষেধাজ্ঞার শাস্তি শেষ হওয়ার পর আবারও ক্রিকেটে ফিরেছিলেন আমির। খেলেছিলেন জাতীয় দলের হয়েও। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতিয়েছিলেন দলকে।
কিন্তু এরপর রমিজ রাজা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সভাপতি হিসেবে আসতেই আমিরের জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন ফিকে হতে থাকে। রমিজের প্রথম কথা ছিল, যারা অতীতে দুর্নীতি করেছে তাদের জাতীয় দলে খেলতে দেবেন না তিনি। আমিরও হতাশায় পড়ে ২০২০ সালে জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়ে ফেলেন।
তবে গত বছর রমিজ আবার সভাপতির পদ থেকে সরে গেলে আবারও আমিরের জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন জেগে ওঠে। পিসিবির বর্তমান সভাপতি নাজম শেঠির সঙ্গে আমিরের সম্পর্ক বেশ ভালো বলে আমিরের জাতীয় দলে ফেরার গুঞ্জন ওঠে। অবশেষে শেঠি জানিয়ে দিয়েছেন, যদি আমির নিজের অবসরের সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে নেন তবে পাকিস্তানের জার্সিতে আবারও খেলতে পারবেন।
নাজম শেঠি বলেন, ‘মোহাম্মদ আমির পাকিস্তান জাতীয় দলের হয়ে আবারও ক্রিকেট খেলতে পারবে যদি সে তার অবসরের সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে নেন। আমি সবসময় ম্যাচ-ফিক্সিং ইস্যুতে শক্ত অবস্থানে থাকতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, কোনো দোষী ক্রিকেটার পার পাবে না। কিন্তু একই সঙ্গে এই কথাও বলতে চাই, কোনো ক্রিকেটার তার প্রাপ্য শাস্তি পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে আর কোনো বাধা থাকবে না।
মোহাম্মদ আমির মনে করেছে আগের বোর্ডের অধীনে সে ঠিকমতো ক্রিকেট খেলতে পারবে না। রমিজ রাজার ভাবনা ছিল, যে একবার দুর্নীতি করেছে সে আর কখনও পাকিস্তানের হয়ে খেলতে পারবে না। কিন্তু আমার ভাবনা এমন নয়। কেউ শাস্তি ভোগ করলে তার পাকিস্তানের জার্সিতে কামব্যাক করার অধিকার আছে।’
১৩ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা আমির জাতীয় দলের হয়ে ৩৬টি টেস্ট, ৬১টি ওয়ানডে এবং ৫০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। ৩০ বছর বয়সী এই পাকিস্তানি ক্রিকেটার জাতীয় দলের হয়ে একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছেন। আমিরের অভিষেকের পর থেকে এটিই পাকিস্তানের সাফল্য।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব
এ বছরের অক্টোবরে এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত কথা রয়েছে । এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) পক্ষ থেকে চলতি বছরের এশিয়া কাপের পূর্বনির্ধারিত ভেন্যু ছিল পাকিস্তান। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সাধারণ সম্পাদক জয় শাহ গত বছর গণমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিল, ‘পাকিস্তানের মাটিতে এশিয়া কাপ হলে, সে টুর্নামেন্টের কোনো ম্যাচই খেলতে যাবে না ভারতীয় ক্রিকেট দল।
জয় শাহ এসিসির বর্তমান সভাপতি আর তার এমন বক্তব্যে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। জয়ের এমন বক্তব্যের বিপরীতে পিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারত যদি এশিয়া কাপ খেলতে না আসে তবে পাকিস্তানও ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না।
পিসিবির সাবেক সভাপতি রমিজ রাজা তো জয় শাহের এমন সিদ্ধান্তকে রীতিমতো ছিনতাই বলেই দাবি করেছিলেন। তবে বর্তমান সভাপতি নাজম শেঠি এখন পর্যন্ত চলতি বছরের এশিয়া কাপ নিয়ে কোনো মন্তব্যই করেননি। তিনি আসছে ৪ ফেব্রুয়ারিতে এসিসির বৈঠকে নিজের সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে গণমাধ্যমে জানিয়েছেন।
বাহরাইনে অনুষ্ঠেয় এসিসির সেই বৈঠকে চলতি বছরের এশিয়া কাপ নিয়ে সিদ্ধান্ত আসবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন পিসিবির বর্তমান সভাপতি।
নাজম শেঠি বলেন, ‘ফাইনালি, এসিসি অফিসিয়ালির বৈঠকের জন্য তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি আমি এসিসির বৈঠকের জন্য বাহরাইনে যাব। আমি এখন পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে কিছু বলতে পারবো না। বৈঠক চলাকালীন সবকিছু শুনে, বুঝে এরপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।
বিসিসিআই চায়, পাকিস্তান ক্রিকেট দল ভারতে ভ্রমণ করুক। কিন্তু ভারতীয় দল পাকিস্তানে আসুক, এমনটা চায় না বিসিসিআই।’
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব
সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার, ২৫ জানুয়ারি দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন চলছে। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।বুধবার, লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টা পর ডিএসইর সাধারণ সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৩০৮ পয়েন্টে অবস্থান করে। ডিএসই শরীয়াহ্ সূচক ৩ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে যথাক্রমে ১৩৭৫ ও ২২৩৪ পয়েন্টে রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে লেনদেন হয়েছে ১৪২ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।
বুধবার এ সময়ে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ৮৮টির, কমেছে ৬২টির এবং অপরির্বতিত রয়েছে ১১৫টি কোম্পানির শেয়ার। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানি হলো-ইস্টার্ন হাউজিং, ইউনিক হোটেল, জেনেক্স, আমরা নেটওয়ার্কস, বসুন্ধরা পেপার, ইন্ট্রাকো, অরিয়ন ফার্মা, রূপালী লাইফ, জেমেনী সি ফুড ও নাভানা ফার্মা।
আজ লেনদেন শুরুর প্রথম ৫ মিনিটে ডিএসইএক্স সূচক বাড়ে ৮ পয়েন্ট। সকাল ১০টা ১০ মিনিটে সূচক আগের অবস্থান থেকে আরও ৪ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এরপর সূচকের গতি ঊর্ধ্বমুখী দেখা যায়। লেনদেন শুরুর ২০ মিনিট পর সকাল ১০টা ২০ মিনিটে সূচক আগের দিনের চেয়ে ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৩০৬ পয়েন্টে অবস্থান করে।
অপরদিকে লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএএসপিআই সূচক ৫১ পয়েন্ট বেড়ে ১৮ হাজার ৬০৯ পয়েন্টে অবস্থান করে। এরপর সূচকের গতি ঊর্ধ্বমুখী দেখা যায়। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ সময়ের ২৩টি কোম্পানির দাম বেড়েছে, কমেছে ১১টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৮টি কোম্পানি শেয়ারের দর।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব
উত্তরা ও আগারগাঁওয়ের পর এবার খুলে দেওয়া হলো মেট্রোরেলের পল্লবী স্টেশনের দুয়ার। বুধবার, ২৫ জানুয়ারি সকাল সাড়ে আটটার পর পল্লবী স্টেশনে এসে থামে মেট্রোরেল। এবার যাত্রীরা পল্লবী থেকে উত্তরা ও আগারগাঁও পর্যন্ত যাতায়াত করতে পারবেন। এ নিয়ে তিনটি স্টেশনে থামছে মেট্রোরেল। এ স্টেশন চালুর পর মিরপুর, বেনারসি পল্লী, মিরপুর ১২, মিরপুর সাড়ে ১১, পুরবী এলাকার মানুষও মেট্রোরেলের সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া এদিন নতুন সময়ে চলাচল শুরু করে মেট্রোরেল।এখন থেকে সকাল ৮টার পরিবর্তে সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলবে।
যাত্রীদের জন্য সকাল ৮টায় স্টেশনের গেট খোলা হয়েছে। সাড়ে আটটা থেকে ট্রেনগুলো আগের মতোই দশ মিনিট পরপর চলাচল করছে। পল্লবী স্টেশন চালু হওয়ায় বেশ আনন্দিত যাত্রীরা। তারা বলছেন এখন থেকে খুব অল্প সময়ে আমরা পল্লবী থেকে আগারগাঁও ও উত্তরা যাতায়াত করতে পারব।
উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মোট ৯টি স্টেশন রয়েছে। সেগুলো হলো, উত্তরা উত্তর (দিয়াবাড়ি), উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া ও আগারগাঁও।
গেল ২৮ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেট্রোরেল উদ্বোধন করেন। পরের দিন থেকে মেট্রোরেল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয়।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব