সোমবার ,১৫ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 424

আমাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল: মমতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘আমাকে প্রচার করতে দেওয়া হয়নি। আমাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল।’

বুধবার দেশটির বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণ নিয়ে আলোচনার সময় দাঁড়িয়ে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মমতা।

মমতার দাবি, নির্বাচনের প্রচারণার সময় নন্দীগ্রামে গেলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল।

মমতার এমন দাবি করার সময় বিজেপি বিধায়করা কোনো প্রতিবাদ করেননি।

পরে সংবাদ সম্মেলনে এসে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তুলেন, এমন গুরুতর অভিযোগ এতোদিন পর কেন করলেন মমতা? কেন কোনো পদক্ষেপ করল না পুলিশ? এমন ঘটনায় নিরাপত্তায় গাফিলতির জন্য কোনো পুলিশ কর্মকর্তাও বরখাস্ত হলেন না!

মমতাকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, ‘আসলে নন্দীগ্রামে হারের যন্ত্রণা উনি ভুলতে পারছেন না। বার বার সেই যন্ত্রণা থেকে এইসব বলে চলেছেন।’ এদিন মমতাকে কম্পার্টমেন্টাল মুখ্যমন্ত্রী বলেও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু।

প্রসঙ্গত, ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দিতা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে প্রায় ২ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। পরে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদ ধরে রাখেন তিনি।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

খারকিভে রুশ বাহিনীর হামলায় নিহত ৪

ইউক্রেনের খারকিভ শহরের পাশে একটি আবাসিক ভবনে রুশ বাহিনীর গোলাবর্ষণে দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিস (এসইএস)।

বুধবার রাতে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্ব স্লোবোঝানস্ক গ্রামে এই গোলাবর্ষণ করে রাশিয়া। খবর বিবিসির।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত পাঁচ বছর বয়সি এক মেয়েশিশুকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এসইএস জানিয়েছে, উদ্ধারকারীরা ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে বৃহস্পতিবার মৃতদেহ উদ্ধারে অভিযান চালাবে। এ ছাড়া খারকিভের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি শপিংমলে রুশ বাহিনীর বোমা হামলায় আগুন ধরে যায়। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশের পর ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। এ অভিযানের অংশ হিসেবে স্থল, আকাশ ও জলপথে ইউক্রেনে হামলা চালানো হচ্ছে। অভিযান শুরুর পর ইউক্রেনের সেনাবাহিনীও প্রতিরোধের চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে দুপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে।

লাগাম টানায় শেয়ারবাজারে বড় উত্থান

দরপতনের লাগাম টানায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে শেয়ারবাজার। বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেনকৃত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। আর দিনশেষে মূল্যসূচক ১৫৫ পয়েন্ট বেড়েছে। এর ফলে একদিনে ডিএসইর বাজারমূলধন বাড়ল ১১ হাজার কোটি টাকা। লেনদেনও আগের দিনের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে।

জানা গেছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও শেয়ারবাজারে টানা পতন শুরু হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল, পুরো বাজারে এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ও দরপতনের লাগাম টানতে মঙ্গলবার বড় দুটি সিদ্ধান্ত নেয় শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এগুলো হলো- সার্কিট ব্রেকারের (একদিনে শেয়ার দাম বৃদ্ধি বা কমার সর্বোচ্চ সীমা) সীমা কমিয়ে আনা এবং বাজার স্থিতিশীলতায় গঠিত নতুন তহবিল থেকে ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ। এর ফলে মঙ্গলবারই পতন বন্ধ হয়। বুধবার পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়ায় বাজার।

একক দিন হিসেবে ডিএসইতে বুধবার ৩৭৮টি কোম্পানির ২০ কোটি ৫২ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ৭৭৩ কোটি ১ লাখ টাকা। এরমধ্যে দাম বেড়েছে ৩৬৫টি কোম্পানির শেয়ারের, কমেছে ৩টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১০টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

ডিএসইর ব্রড সূচক আগের দিনের চেয়ে ১৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৬৩০ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক ৪১ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৪১৫ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৪২৯ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসইর বাজারমূলধন আগের দিনের চেয়ে বেড়ে ৫ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে উন্নয়ন গতি বাড়বে তিন শতাংশ

দুর্নীতি প্রতিরোধে আইএমএফের পরামর্শ কার্যকর করতে পারলে উন্নয়নের গতি আরও ৩ শতাংশ বাড়বে। আর সাধারণ মানুষের কল্যাণের আকাঙ্ক্ষা ভালোভাবে মেটানো যাবে-এমন মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, যদি দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে বেড়ে যাবে আয় বৈষম্য। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে হতদরিদ্র নিরসনের লক্ষ্যে পৌঁছানো কঠিন হবে।

বিশেষজ্ঞদের আরও অভিমত, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করার বিষয়টি নতুন কিছু নয়। সরকার নিজেও অঙ্গীকার করেছে এ বিষয়ে। এখন আইএমএফও বলছে। কারণ এটি কার্যকর হচ্ছে না।

বাংলাদেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড বা আইএমএফ) কান্ট্রি রিপোর্টের ওপর অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বুধবার যুগান্তরের কাছে উল্লিখিত মন্তব্য করেন। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টটি নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে আইএমএফ।

আইএমএফের কান্ট্রি রিপোর্টে বাংলাদেশের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে সুশাসন নিশ্চিতের বিষয়টি। সংস্থাটি বলেছে, বিনিয়োগ আকর্ষণে তখনই সহায়তা করবে যখন শাসন ব্যবস্থা শক্তিশালী করে দুর্নীতির ঝুঁকি কমিয়ে কাঠামোগত উন্নয়ন করা যাবে। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ এবং হালনাগাদ করার মানসম্পন্ন পদ্ধতি প্রণয়ন করার কথাও বলা হয়। তবে দুর্নীতি কমাতে সরকারি খাত ডিজিটালাইজেশনের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, আইএমএফের প্রতিবেদন টিআইবির বাস্তবতা প্রমাণ হয়েছে। এখন সরকারের উচিত আন্তর্জাতিক এ সংস্থার পরামর্শগুলো বাস্তবায়ন করা। সেটি করতে পারলে দেশের উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে।

বিশেষ করে এসব পরামর্শ কার্যকর করা হলে উন্নয়নের গতি আরও ৩ শতাংশ বাড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, দেশে উন্নয়ন হচ্ছে।

কিন্তু দুর্নীতির কারণে আয়বৈষম্য বাড়ছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে হতদরিদ্র দূরীকরণে যে ভিশন নির্ধারণ করেছে সেখানে পৌঁছানো কঠিন হবে। ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করার বিষয়টি নতুন কিছু নয়। সরকার নিজেও অঙ্গীকার করেছে এ বিষয়ে। এখন আইএমএফও বলছে। কারণ এটি কার্যকর হচ্ছে না। অর্থনীতিবিদ মইনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দেশের দুর্নীতি নিয়ে আইএমএফ তাদের প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে এটি নতুন কিছু নয়।

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আফগানিস্তানের পর দুর্নীতিতে অবস্থান বাংলাদেশের। ফলে আইএমএফের প্রতিবেদন ঠিক আছে। কিন্তু বর্তমান সরকার দুর্নীতি বন্ধে আন্তরিক এটি আমি বলতে পারছি না।

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, সুশাসন নিশ্চিত করা নতুন কিছু নয়। আর দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাবে দ্বিমতের সুযোগ নেই। সরকারি খরচের ক্ষেত্রে দুর্নীতির কারণে অপচয় হচ্ছে। যে কারণে সরকারি বিনিয়োগের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেখা যায় ৫ বছর মেয়াদের প্রকল্প শেষ হতে ৯ বছর লেগে যাচ্ছে। এতে বাজেট এক টাকা থেকে বেড়ে তিন টাকা দাঁড়াচ্ছে। দুর্নীতির কারণেই মূলত প্রকল্প সময়মতো শেষ করা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে জবাবদিহিতা গুরুত্বপর্ণূ। বিশেষ করে বাস্তবায়নে যারা জড়িত, তাদেরই নির্ধারণ করতে হবে-ব্যর্থতার দায় কার। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলে ব্যয়ের ক্ষেত্রে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের দরজা খুলে যাবে। তিনি আরও বলেন, সরকারের টাকা আয় ঘিরেও দুর্নীতি হয়। বিশেষ করে রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে। করদাতা কর দিলেও ঠিকমতো কোষাগারে জমা হয় না। লিকেজ থাকছে সেখানে। ফলে রাজস্ব আহরণের বড় বাধার একটি হচ্ছে দুর্নীতি। এ জন্য করদাতা ও করগ্রহীতার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক এড়াতে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। এ অর্থনীতিবিদ মনে করেন, সরকারি আয় ও ব্যয়ের মধ্যে দুর্র্নীতির প্রভাব কমাতে পারলে সাধারণ মানুষের কল্যাণ আকাঙ্ক্ষা ভালোভাবে মেটানো সম্ভব।

আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনা এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়াতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানো, বাণিজ্যকেন্দ্রিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিল্পকেন্দ্রিক দক্ষতা বাড়াতে হবে। মামলার জট কমাতে আদালতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সম্পত্তির অধিকার ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিমারির অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে বিভিন্ন কারণে অভ্যন্তরীণ ও বহির্বিশ্ব সংক্রান্ত কিছু ঝুঁকি রয়েছে। এ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাণিজ্যে অংশীদার দেশগুলোতে পুনরুদ্ধারের গতি প্রত্যাশার চেয়ে কম থাকা, জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়া এবং সাইবার আক্রমণের আশঙ্কা। অভ্যন্তরীণ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে প্রত্যাশার তুলনায় করোনার টিকাদানের হার কম থাকা এবং খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি।

এছাড়া বাংলাদেশের দুর্বল ব্যাংক খাত কোভিডের কারণে আরও দুর্বল হয়েছে। মধ্য মেয়াদে টেকসই ও উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী ব্যাংক খাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এ খাতের অবস্থার উন্নতির জন্য কোভিড মোকাবিলায় ঋণগ্রহীতাদের দেওয়া সুবিধা থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে আসা, নিয়ম-কানুন ও তদারকি জোরদার এবং ঋণদাতার অধিকার সুরক্ষায় আইনি সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

এ ছাড়া বলেছে, আর্থিক খাতে সুশাসন এবং দক্ষতা উন্নয়ন মধ্যমেয়াদের বিভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আইএমএফ বলেছে, রাজস্ব প্রশাসনকে শক্তিশালী করতে একটি বহুমুখী রাজস্ব কৌশল হাতে নিতে হবে। বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে রাজস্বনীতি কাঠামোতে সংস্কার আনতে হবে।

সামাজিক উন্নয়ন এবং জলবায়ু সম্পর্কিত ব্যয় বাড়ানোর আর্থিক ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নয়নের জন্য সরকারের ঋণগ্রহণ সম্পর্কিত ঝুঁকি কম রয়েছে। তবে টেকসই উপায়ে উন্নয়ন এবং সামাজিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রাজস্ব আহরণের হার আরও বাড়াতে হবে।

ফরিদপুরে বাবর যুগের অবসান

খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর। ২০০৭ সালে নিজের এলাকা কৈজুরীতে ছোট্ট একটি মুরগির ফার্ম গড়ে মুরগি ও ডিমের ব্যবসা শুরু করেন।

২০০৮ সালে বড় ভাই ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর মন্ত্রী হন।

এরপরই মোহতেশাম হোসেন বাবরের উত্থান ঘটতে থাকে। কয়েক বছরের মধ্যে মুরগি ব্যবসায়ী থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে যান।

শুধু বিপুল সম্পদ অর্জন নয়, ভাইয়ের আশীর্বাদে ফরিদপুরে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের রাজনীতির নীতিনির্ধারক বনে যান বাবর।

তার কথায় সেসময় প্রশাসন থাকত তটস্থ। তিনি যা বলতেন, প্রশাসন তাই করত। বাবরের বিরোধিতা তো দূরের কথা, কেউ তার অপকর্ম নিয়ে কথা বলতে সাহস পেতেন না। হোক সেটা গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে। ‘হাতুড়ি’ আর ‘হেলমেট’ বাহিনী দিয়ে শায়েস্তা করা হতো বিরোধীদের। টেন্ডার থেকে শুরু করে হাটবাজারের ইজারা, বালু ব্যবসা, বিভিন্ন কাজের পার্সেন্টেজ, নিয়োগ বাণিজ্যসহ এহেন কোনো অফিস নেই যেখান থেকে টাকা তুলতেন না বাবর ও তার বাহিনী। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের পর্দা কেলেঙ্কারির অন্যতম নায়ক এই বাবর।

বড় ভাই ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের এমপি খন্দকার মোশাররফ হোসেন ২০০৮ সালে মন্ত্রী হন। এরপর থেকেই ভাইয়ের সবকিছু দেখাশোনার দায়িত্ব পান বাবর। বিভিন্ন স্থানের সভা-সমাবেশে খন্দকার মোশাররফ হোসেন ছোট ভাই ‘বাবর’কে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলতেন, ‘আমার অবর্তমানে রাজনীতিসহ সবকিছুই দেখবে বাবর।’

এরপর থেকেই বিস্ময়কর ও অভাবনীয় উত্থান ঘটে বাবরের। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পাসপোর্ট অফিস, সড়ক বিভাগ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, বিদ্যুৎ বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাজ বাবরের নির্দেশ ছাড়া কেউ পেতেন না। তিনি ফরিদপুরে ‘মিস্টার ১৫ পার্সেন্টেজ ম্যান’ হিসাবে পরিচিত ছিলেন। ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দোর্দণ্ডপ্রতাপের কারণে ফরিদপুরের মানুষ তাকে ‘সম্রাট বাবর’ হিসাবে ডাকতেন। প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়তার সুযোগ নিয়ে ফরিদপুরের মানুষকে রীতিমতো জিম্মি করে রেখেছিলেন খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর। সোমবার ফরিদপুর পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর পতন ঘটে ‘বাবর যুগের’। তার পতনে উল্লাসে মেতে উঠে ফরিদপুরবাসী। আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণও হয় বিভিন্ন স্থানে।

২০১০ সালে বাবর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত হন। এরপর তিনি ফরিদপুরের ক্ষমতাসীন দলের নেতা হয়ে ব্যাপকভাবে তৎপরতা শুরু করেন। ২০১৪ সালে সদর উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই সময়ে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মাহাবুবুল হাসান ভুইয়া। তিনি অভিযোগ করেন, বাবর ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে আমার বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে। সে সময়ে হাজারো সাধারণ মানুষ বাবরের এহেন অপকর্মের জন্য আল্লাহর কাছে বিচার চেয়েছিলেন। আল্লাহ সেই অসহায় মানুষের প্রার্থনা শুনেছেন।

বাবর ২০১৫ সালে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হন। তার অপকর্মের কারণে অতিষ্ঠ ছিলেন ফরিদপুরের অন্য আসনের সংসদ-সদস্য এবং আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা। তার থেকে বয়সে বড় এবং কেন্দ্রীয় নেতাদেরও তিনি পরোয়া করতেন না।

নানা অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া বাবরের অঢেল সম্পদের খোঁজ পায় গোয়েন্দা সংস্থা। ফরিদপুর শহরের অদূরে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক বাড়ি করেছেন তিনি। এছাড়া নিজ এলাকা কৈজুরীসহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে হাজার বিঘা জমি। ঢাকায় কয়েকটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়ায় বাড়ি রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাবর নিজস্ব বলয়ে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে হাতুড়ি ও হেলমেট বিশেষ বাহিনী গঠন করেন। এই বাহিনী দিয়ে হেন কাজ নেই তিনি করাননি। জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকে তার বাহিনী প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেছে। এ নিয়ে কেউ মামলার কথা চিন্তাও করতে পারেননি। তার মতের বিরোধীদের দমন করেছেন নানাভাবে নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে। বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টাকা দিতে গড়িমসি করলে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠাতে দ্বিধা করতেন না বাবর। তিনি বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের পুনর্বাসিত করেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদ দিয়ে।

বাবরের বিরুদ্ধে ফরিদপুর নিউমার্কেটের নতুন ভবন নির্মাণের কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে। শুধু টাকা নিয়েই ক্ষান্ত হননি, যারা দীর্ঘদিন মার্কেটে ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন, তাদের হটাতে মামলা দিয়ে, পুলিশ দিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। সেই নির্যাতন এবং দোকান হারিয়ে অনেকেই মারা যান। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোটি টাকার পর্দা কেলেঙ্কারির অন্যতম নায়কও বাবর। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।

বাবর ও তার বাহিনীর নির্মম অত্যাচার আর নির্যাতনের ভয়াবহতার কথা জানার পর প্রধানমন্ত্রী ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযানের সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৯ সালে ফরিদপুরে শুদ্ধি আভিযান চলে। সেই অভিযানে একে একে ধরা পড়েন আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। এরপর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান মোহতেশাম হোসেন বাবর। ফরিদপুর থেকে গোপনে ঢাকায় পাড়ি জমান বাবর। বেশ কিছুদিন বিদেশেও ছিলেন। ২০২০ সালের ২৬ জুন দুই হাজার কোটি টাকা অর্থ পাচার মামলায় নাম আসে বাবরের। মামলায় বাবরসহ ১০ নেতার নামে ঢাকার সিআইডি মামলা করে।

২০২১ সালের ৩ মার্চ মোহতেশাম হোসেন বাবরসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি

। ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাস।

সম্প্রতি আদালত চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ৮ মার্চ পুলিশ মোহতেশাম হোসেন বাবরকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে। আর এর মধ্য দিয়ে অবসান ঘটে রাজনৈতিক দানব হিসাবে পরিচিত ‘বাবর যুগের’।

ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র অমিতাব বোস বলেন, বাবর ছিলেন ফরিদপুরের রাজনৈতিক দানব। এই দানবের অপকর্মের কারণে ফরিদপুরবাসী অতিষ্ঠ ছিল।

তার পতন হওয়ায় এ জনপদের মানুষ উল্লসিত। জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি শামীম হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে এহেন কোনো অপকর্ম নেই যা মোহতেশাম হোসেন বাবর করেনি। বাবর গ্রেফতার হওয়ায় ফরিদপুরের মানুষ আনন্দ মিছিল করেছে। মিষ্টি বিতরণ করেছে। তার কঠিন শাস্তি হোক-এটা দেখতে চায় ফরিদপুরবাসী।

চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি অনুমোদন

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে।

এতে দেবাশীষ নাথ দেবু সভাপতি এবং আজিজুর রহমান আজিজ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু আগামী তিন বছরের জন্য এই কমিটির অনুমোদন দেন।

বুধবার রাতে সেচ্ছাসেবক লীগের দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কমিটিতে ১১ জন সহ সভাপতি এবং তিনজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, তিন জন সাংগঠনিক সম্পাদক এবং প্রচার সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘােষণা করা হবে বলেও এতে জানানো হয়।

ডা. শারমিনকে হাইকোর্টে তলব

এক কিশোরীর ধর্ষণ মামলার মেডিকেল রিপোর্টের তথ্যে অসংগতি থাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শারমিন হককে তলব করেছেন হাইকোর্ট। ৫ এপ্রিল তাকে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। বুধবার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ধর্ষণ মামলার আসামি সুমন মিয়ার জামিন শুনানিকালে মেডিকেল রিপোর্টে অসংগতি থাকার বিষয়টি নজরে পড়ে। এ জন্য ব্যাখ্যা চেয়ে ডা. শারমিন হককে তলব করেন হাইকোর্ট। আদালতে আসামির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আলী আহসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ আহমদ হিরো।

৬৪ কোটি টাকা খরচেও মেলেনি নৌযান

জলে পড়ল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ৬৪ কোটি ২০ লাখ টাকা।

মোটা অঙ্কের এই অর্থ খরচ করেও ‘এমভি বঙ্গমাতা’ এবং ‘এমভি বঙ্গতরী’ নামের দুটি যাত্রীবাহী নৌযান আজও সরবরাহ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

অথচ ঢাকা-বরিশাল-খুলনা নৌরুটে যাত্রী পরিবহণের কাজে ২০১৭ সাল থেকে এ জাহাজ দুটি বিআইডব্লিউটিসির বহরে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল।

বারবার সময় বৃদ্ধি ও আর্থিক সুবিধা দেওয়ার পরও একটিও নৌযান বিআইডব্লিউটিসিকে বুঝিয়ে দিতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিউ ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপ বিল্ডার্স।

ওই ব্যর্থতার দায়ে এ প্রতিষ্ঠানটিকে সম্প্রতি কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চট্টগ্রামের শিপইয়ার্ডেই পড়ে থাকা নৌযান দুটি যে অবস্থায় আছে ওই অবস্থায় হস্তান্তর করতে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানতে চাইলে নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, সরকার চায় দেশীয় জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে যাক। এ কারণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ধারাবাহিকভাবে দেশীয় এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজ দেওয়া হচ্ছে। সেগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে নিউ ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপ বিল্ডার্স। প্রতিষ্ঠানটি সময়মতো জাহাজ সরবরাহ করতে না পারার পরও বিআইডব্লিউটিসি বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়েছিল বলে জানতে পেরেছি। এরপরও তারা জাহাজ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বাধ্য হয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

নির্মাণাধীন জাহাজ দুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির একাধিক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, জাহাজ দুটি যে অবস্থায় শিপইয়ার্ডে রেখে দেওয়া হয়েছে তা ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘদিন মাটির ওপরে এভাবে রেখে দেওয়ার কারণে বডিতে ফাটল দেখা দিতে পারে। মূল ইঞ্জিন, জেনারেটর ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি নিয়মিত চালু এবং নিয়ম অনুযায়ী তেল পরিবর্তন করা না হলে সেগুলোতেও বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর ওই আশঙ্কা সত্যি হলে পুরো টাকাই জলে যাবে। তারা বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পারফরম্যান্স গ্যারান্টির মেয়াদ গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়ে গেছে। এরপর নবায়ন না করায় পারফরম্যান্স গ্যারান্টি হিসাবে থাকা চুক্তির ১০ শতাংশ টাকা এখন নিতে পারবে না বিআইডব্লিউটিসি। এছাড়া দেরিতে কাজ দেওয়ার জরিমানা (এলডি) যা প্রায় ১৫ কোটি টাকার কাছাকাছি হলেও তা আদায় করা যাবে কিনা- তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন জাহাজ বহরে যুক্ত না হওয়ায় একদিকে যাত্রীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অপরদিকে সংস্থাটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন্ন হচ্ছে।

জানা গেছে, ‘ঢাকা-বরিশাল-খুলনা নৌরুটের জন্য দুটি নতুন যাত্রীবাহী জাহাজ সংগ্রহ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এমভি বঙ্গমাতা ও এমভি বঙ্গতরী নৌযান সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল শুরু হওয়া এ প্রকল্পটি শুরু হয়। এ দুটি জাহাজ নির্মাণে নিউ ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপ বিল্ডার্সের সঙ্গে পৃথক দুটি চুক্তি হয় ২০১৬ সালের ১ জুন ও ১৯ ডিসেম্বর।

২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্প শেষ হওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল। এ দুটি জাহাজ নির্মাণে ৬৭ কোটি ৭৫ লাখ ৭২ হাজার টাকার চুক্তিও হয়। নির্ধারিত সময়ে জাহাজ নির্মাণ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রথমে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর এবং দ্বিতীয় ধাপে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এ সময়ের মধ্যেও জাহাজ নির্মাণ কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয় নিউ ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপ বিল্ডার্স। জাহাজ বুঝে না পেয়েই ইতোমধ্যে প্রকল্পটি সমাপ্ত ঘোষণা করেছে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়।

প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও নিয়মের বাইরে গিয়ে নতুন চুক্তির মাধ্যমে গত বছর ৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা নিয়ে যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।

এই বিষয় নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে ২০২০ সালের ২৮ জুন ‘এমভি বঙ্গতরী ও বঙ্গমাতা : নির্মাণ আটকে পুরো বিল নিচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান’ শিরোনামে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছিল। এই সংবাদ প্রকাশের পরও ওই ৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা বিল দেয় সংস্থাটি।

সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি আমদানির নামে ৬ কোটি ১০ লাখ এবং দেশীয় বাজার থেকে পণ্য কেনার জন্য ৫০ লাখ নিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।

গতকাল পর্যন্ত ওইসব যন্ত্রপাতি কেনার জন্য কোনো এলসি খোলেনি। সংস্থাটির সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ওই টাকা নিয়েছিল।

সূত্র আরও জানায়, বিভিন্ন সময়ে নানা প্রতিশ্রুতি ও নতুন চুক্তির মাধ্যমে গতকাল পর্যন্ত ৬৪ কোটি ১৯ লাখ ৮২ হাজার টাকা নিয়ে গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।

অথচ এ দুটি জাহাজ নির্মাণ সফলভাবে শেষ করার পর বিল দেওয়ার কথা ছিল ৬৭ কোটি ৭৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা। অথচ দুটি জাহাজ নির্মাণে গড় অগ্রগতি ৭০ ভাগেরও কম। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিসির একটি প্রতিনিধি দল ওই শিপইয়ার্ড পরিদর্শন করে জাহাজ নির্মাণ অগ্রগতি নিয়ে একটি রিপোর্ট দিয়েছে।

ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, এমভি বঙ্গতরী জাহাজের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। জাহাজটির ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্টের আনুমানিক কাজ হয়েছে ৪০ শতাংশ, প্যানেলিং ডিপার্টমেন্টের কাজ ৬৫ শতাংশ ও পেইন্টিংয়ের কাজ ৫০ শতাংশ হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, এমভি বঙ্গমাতা জাহাজের কয়েকটি অংশে কাজ চলমান আছে। পেইন্টিং কাজ আনুমানিক ৫০ শতাংশ ও ইলেকট্রনিক্যাল ওয়্যারিং ৫ শতাংশ। প্যানেলিং ডিপার্টমেন্টের কোনো কাজ হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান আহমদ শামীম আল রাজী যুগান্তরকে বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে যে অঙ্কের টাকার বিল দেওয়া হয়েছে তার তুলনায় নির্মাণ কাজের অগ্রগতি কম হয়েছে। জাহাজ দুটির নির্মাণকাজের অগ্রগতি ঠিক কী পরিমাণ হয়েছে তা আমরা এখনো জানি না।

শিগগিরই একটি কমিটির মাধ্যমে পরিমাপ করে তা নির্ণয় করা হবে। কাজের অগ্রগতির তুলনায় বাড়তি বিল কীভাবে আদায় করা হবে-এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কমিটি কাজের অগ্রগতি নির্ধারণ করার পরই বর্তমানে যেই অবস্থায় আছে সেই অবস্থায় এ দুটি জাহাজকে আমাদের নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করে বাকি টাকা আদায় করা হবে।

আরও জানা গেছে, সম্প্রতি নিউ ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপ বিল্ডার্সকে কালো তালিকাভুক্ত করে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে (আএমইডি) চিঠি দিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি।

সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) জেসমিন আরা বেগম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, জাহাজ দুটি নির্মাণ শেষ করার লক্ষ্যে ২০২১ সালের ৪ মার্চ নতুন দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে ঠিকাদারের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়।

তারপরও জাহাজ দুটি নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেনি ওই প্রতিষ্ঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ২৮ জুন ও ১৭ নভেম্বর জাহাজ দুটিকে বিআইডব্লিউটিসিকে বুঝিয়ে দিতে বলা হলেও তা মানা হয়নি।

চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি জাহাজ দুটি না দেওয়ার ব্যর্থতা জানতে চেয়ে নোটিশ দেওয়া হলেও তার জবাবও দেয়নি। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হলো। এ বিষয়টি জানিয়ে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বন্দর, বিআইডব্লিউটিএ, কোস্টগার্ড, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামভিত্তিক ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান নিউ ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড। ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের নামে এক সময় বিদেশে জাহাজ রপ্তানি করা হতো। আর নিউ ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপ বিল্ডার্সের নামে দেশীয় জাহাজ নির্মাণ করা হয়।

দুই প্রতিষ্ঠানের নামে একই শিপইয়ার্ড জাহাজ নির্মাণ করা হয়। পরিচালকরাও প্রায় অভিন্ন। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন সোহেল হাসান যুগান্তরের কাছে দাবি করেন, জাহাজ দুটির ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

ব্যাংকের সিবিআর সমস্যার কারণে আমরা কোনো পণ্য আমদানির এলসি খুলতে পারছি না। তা সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি জানিয়ে বিআইডব্লিউটিসিকে চিঠি দেওয়ার পরও আমাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হলো।

শিক্ষার্থীকে মারধর, ৪ ছাত্রলীগ কর্মী বহিষ্কারে প্রতিবাদ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়ালিদ নিহাদের ওপর হামলার দায়ে চার ছাত্রলীগ কর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবনের সামনে শাখা ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী এ মানববন্ধনে অংশ নেন। এ সময় তারা স্লোগান দিয়ে উত্তাল করে তুলেন ক্যাম্পাস।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দাবি- ওয়ালিদ নিহাদের ওপর হামলার দায়ে চার ছাত্রলীগ কর্মীকে অন্যায়ভাবে ও বিনা দোষে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তারা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ওয়ালিদ নিহাদের ওপর হামলাকারীর বিচার দাবি করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান বলেন, নিহাদের ওপর হামলার দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কলা অনুষদের সভাপতি আবু নাঈম আব্দুল্লাহসহ চার শিক্ষার্থীকে অন্যায়ভাবে ও বিনা দোষে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমি চাই প্রশাসন সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ওয়ালিদ নিহাদের ওপর হামলাকারীদের বিচার হোক। তবে এ মানববন্ধন সম্পর্কে জানেন না বলে জানান শাখা সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবু। তিনিও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর উজ্জল কুমার প্রধান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই আমাদের শিক্ষার্থী। সব শিক্ষার্থী আমাদের কাছে সমান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বৈঠকে সব দিক বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর আগে সোমবার বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা বোর্ড মিটিং বসে। বোর্ড মিটিং চলে একটানা রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। মিটিংয়ের সিদ্ধান্তে সাময়িকভাবে চারজনকে বহিষ্কার এবং সাত শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন শাস্তির সুপারিশ করা হয়।

নাট্যকলা ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের ২০১৬-১৭ ব্যাচের সামিউল হক হিমেল, ফোকলোর বিভাগের ২০১৫-১৬ ব্যাচের আবু নাঈম আব্দুল্লাহ (যাযাবর নাঈম), লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালন বিদ্যার ২০১৪-১৫ বিভাগের মোমেন সরকার, লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালন বিদ্যার ২০১৮-১৯ বিভাগের তানভির আহমেদ তুহিনকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে।

বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার বরাবর কেন তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না- তার জবাব আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ ইস্যুর সুপারিশ করেছে প্রশাসন। সেই সঙ্গে তাদের স্ব-স্ব হলের বরাদ্দকৃত সিট বাতিল করার সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া বৈঠকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজনকে সতর্কীকরণপত্র ইস্যু ও হলের বরাদ্দকৃত সিট বাতিল করা, তিনজন শিক্ষার্থীকে সতর্কীকরণপত্র ইস্যু, তিনজন শিক্ষার্থীর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ৩২৪নং কক্ষের বরাদ্দকৃত আসন বাতিলের সুপারিশ করা হয়।

উল্লেখ্য, কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ না করায় লোক প্রশাসন ও সরকার বিদ্যা বিভাগের ২০১৯-২০ বর্ষের ওয়ালিদ নিহাদ নামে এক ছাত্রকে হলের একটি কক্ষে ডেকে রাতভর নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারসহ সাত দফা দাবির প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ, মোমবাতি প্রজ্বালন ও আমরণ অনশন করেন।

যে কারণে চবি ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

র‌্যাগ অনুষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেওয়ার জেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক উপগ্রুপ বিজয় ও সিএফসি সদস্যদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের দুইজন আহত হয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত ও সোহরাওয়ার্দী হলের মধ্যবর্তী স্থানে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ।

চবি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদে অর্থনীতি বিভাগের র‌্যাগ ডে উপলক্ষে কনসার্টের আয়োজন করা হয়। সিএফসির কিছু নেতাকর্মী ওই কনসার্টে ঢুকতে গেলে বিজয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা বাধা দেন।

এ ঘটনায় উত্তেজনার সৃষ্টি হলে বিজয়ের নেতাকর্মীরা সোহরাওয়ার্দী ও সিএফসির নেতাকর্মীর শাহ আমানত হলে অবস্থান নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে এ অবস্থা। এতে দুই গ্রুপের দুইজন আহত হন। পরে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. কবির হোসেন যুগান্তরকে বলেন, র‌্যাগ উপলক্ষে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয়পক্ষের দুইজন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।