সোমবার ,১৫ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 421

ইউক্রেন জীবাণু অস্ত্রের চিহ্ন সরিয়ে ফেলেছে: রাশিয়া

ইউক্রেন ল্যাব থেকে জীবাণু অস্ত্রের চিহ্ন সরিয়ে ফেলেছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া।

জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া দাবি করেছেন, রুশ বাহিনী ইউক্রেনে জীবাণু অস্ত্রের চিহ্ন সরিয়ে ফেলার তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে। খবর বিবিসির।

নিরাপত্তা পরিষদের এক বিশেষ অধিবেশনে ভাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, রুশ বাহিনী ইউক্রেনে কমপক্ষে ৩০টি গবেষণাগারের তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে ইউক্রেন অত্যন্ত বিপজ্জনক জীবাণু নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চলছিল।

তবে নেবেনজিয়া জাতিসংঘে তার দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি।

জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত প্রধান ইজুমি নাকামিৎসু বলেন, ইউক্রেনে কোনো জীবাণু অস্ত্র কর্মসূচির ব্যাপারে জাতিসংঘ কিছুই জানে না।

নিত্যপণ্যের অগ্নিমূল্যে দিশেহারা মানুষ

আসন্ন রোজা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েই চলছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে ভোজ্যতেল, চিনি ও ছোলার ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে এলসি মার্জিন প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব পণ্য আমদানির বিপরীতে এলসি কমিশন ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতকিছুর পরও বাজার লাগামহীন।

নিত্যপণ্যের অগ্নিমূল্যে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে জীবনযাত্রার অন্যান্য সেবা, খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ব্যয়ও। প্রায় সব খাতেই বাড়তি ব্যয় সামাল দেওয়ার মতো আয় বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কমাতে হচ্ছে খাদ্য, বিনোদন ও অন্যান্য চাহিদা।

সূত্র জানায়, করোনার সংক্রমণ কমার পর হঠাৎ করে চাহিদা বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের কারণে আন্তর্জাতিকসহ দেশীয় বাজারে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে। আসন্ন রমজান ঘিরে ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার প্রবণতায় পণ্যের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে।

গত এক মাসের ব্যবধানে মোটা চালের দাম বেড়েছে সাড়ে ৪ শতাংশ, চিকন চালের দাম সোয়া ৩ শতাংশ, আটার দাম ৯ শতাংশ, মসুর ডালের দাম ৯ শতাংশ, পেঁয়াজের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।

ভোজ্যতেলে দাম লিটারে সর্বোচ্চ বেড়েছে ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। প্রতিকেজি আদা ১৫ শতাংশ ও রসুন ১৪ শতাংশ, গরু ও খাসির মাংসের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি প্রতিকেজি চিনির দাম ৩ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়েছে।

প্রতিহালি ডিমের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৭৮। এছাড়া জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে পরিবহণ খরচ ও সেচ খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় সবজির দাম বেড়েছে গড়ে ৪ শতাংশ।

এভাবে সব পণ্য ও সেবার দাম বেড়েছে। গত এক মাসের ব্যবধানে তো আয় বাড়েইনি। গত এক বছরের ব্যবধানেও বাড়েনি। উলটো অনেকের আয় কমেছে। ফলে ভোক্তাদের জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে আপস করে খাদ্য ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হয়েছে।

এর মধ্যে খাদ্যে বাজেট কমছে। একই সঙ্গে শিক্ষা ও চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাড়া খাতে ব্যয় কমছে। ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভালো শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে খাদ্য বাজেটে কাটছাঁট করায় পুষ্টি গ্রহণের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার শঙ্কা আছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপেও পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে অপুষ্টিতে ভোগার তথ্য উঠে এসেছে। পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে মানুষ যে কতটা অসহায় তা একজন ভোক্তার বক্তব্য থেকে পষ্ট হয়ে ওঠে।

রাজধানীর কাওরান বাজারে কথা হয় একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. শফিউদ্দিনের (ছদ্মনাম) সঙ্গে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দুই ছেলে, স্ত্রী ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে আমার পরিবার।

সেগুনবাগিচা এলাকায় থাকি। চাকরি করে বেতন পাই ৫৫ হাজার টাকা। এই বেতন দিয়ে গত দুই বছর আগেও পরিবার নিয়ে বেশ ভালো ছিলাম। কিন্তু এখন ভালো নেই।

এখন সংসারের চাহিদা মেটাতে পারছি না। অভাব কাটছে না। এই আয় দিয়ে ব্যয় সামলাতে পারছি না। প্রতিমাসেই ধারদেনা করে চলতে হচ্ছে। তিনি বলেন, যে বাসায় থাকি তার ভাড়া ২০ হাজার টাকা।

বড় ছেলে অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র। প্রতি সেমিস্টারে (৪ মাস) তার পড়ার খরচ ৩৫ হাজার টাকা। সেমিস্টারে ফি’র জন্য প্রতিমাসে সাড়ে ৮ হাজার টাকা করে রাখতে হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতসহ ছেলেকে হাতখরচ দিতে হয় মাসে সাড়ে ৪ হাজার টাকা। ছোট ছেলে নবম শ্রেণিতে পড়ে। মাসে যাতায়াত খরচসহ স্কুল ফি ৬ হাজার টাকা।

এর পর পরিবারের ৫ সদস্যের জন্য মাসে চাল দরকার ৩৫-৪০ কেজি। ৬৫ টাকা কেজি ধরলেও প্রায় ২৬০০ টাকা হয়। মাসের শুকনা বাজারসহ মাছ-সবজিসহ অন্যান্য পণ্য কিনতে যায় ১০ হাজার টাকা।

গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির বিল চার হাজার টাকা। এতেই বেতনের টাকা শেষ। এরপর আছে আমার নিজের অফিসে যাতায়াত খরচ, চিকিৎসা, ছেলেদের বইখাতা-কলমসহ অন্যান্য ব্যয়।

এক সময় ভালো খাওয়ার অভ্যাস ছিল। এখন সব ভুলে গেছি। বাজারে সবকিছুর দাম বাড়তি। চাল থেকে শুরু করে ডাল এমনকি চিনি-লবণ পর্যন্ত বাড়তি দরে কিনতে হয়। পেঁয়াজ ও তেলের দাম আকাশচুম্বী। মাংস তো কেনাই যায় না। সবজির দামও অনেক। তাই যা জুটছে তা কিনে খেয়েপরে বাঁচতে হচ্ছে। এসব দেখার কেউ নেই।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, পণ্যের বেসামাল দামে মধ্যবিত্ত অসহায়। তার চেয়ে বেশি অসহায় হয়ে পড়েছে নিুআয়ের মানুষ। সব মিলে এই দুই শ্রেণির

মানুষের আয়ের সঙ্গে পরিবারের সব ব্যয় সামলাতে

পারছে না। প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছে। অনেকেই ব্যয় সামলাতে খাবার কেনার বাজেট কাটছাঁট করছেন।

কম করে পণ্য কিনছেন। এতে পুষ্টির অভাব হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে মানুষকে বের করে আনতে হবে। পণ্যের দাম কমাতে সঠিক উদ্যোগ নিতে হবে।

কঠোর বাজার তদারকির পাশাপাশি যেসব পণ্য আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয়, সেসব পণ্যের সব ধরনের ভ্যাট/শুল্ক প্রত্যাহার করতে হবে। মজুত বাড়াতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বেশি করে পণ্য ভর্তুকি মূল্যে খোলাবাজারে ছাড়তে হবে।

ব্যবসায়ীদের একটি নিয়মের মধ্যে আসতে হবে। এসবের পাশাপাশি যেসব পণ্য উৎপাদন করা হয়, কৃষি খাত থেকে বাজার পর্যন্ত সার্বিক তদারকির আওতায় আনতে হবে।

এছাড়া জীবনমান ভালো রাখতে জ্বালানি, পানি ও গ্যাসের দাম কমাতে হবে। তিনি আরও বলেন, মধ্যবিত্ত মানুষের এখন আর স্বাদ আহ্লাদ বলতে কিছু নেই। পরিবার নিয়ে আয়ের সঙ্গে ব্যয় সামলিয়ে চলাই দায় হয়ে গেছে। এখন এসব বিষয়ে ভাবার সময় এসেছে। কারণ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, জ্বালানি তেলকে অর্থনীতির লাইফ লাইন হিসাবে অভিহিত করা হয়। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ও মানুষের জীবনযাপনে সবকিছুতেই জ্বালানি তেলের ভূমিকা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু-হু করে বাড়ছে।

গত আগস্টে ছিল প্রতি ব্যারেল ৬০ ডলার। এখন তা বেড়ে ১১২ ডলারে উঠেছে। জ্বালানি তেলের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য পরিবহণ ব্যয় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে সব ধরনের পণ্যের আমদানি ব্যয় বেড়েছে।

দেশে ডলারের দাম বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি তো আছেই। বিশ্ববাজারে এক মাস আগে প্রতিটন গমের দাম ছিল ২৩৫ ডলার। এখন তা বেড়ে হয়েছে ২৭৮ ডলার।

ফলে দেশের বাজারেও মনপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেড়েছে। খুচরা বাজারে কেজিতে ৩৫ থেকে বেড়ে ৪৫ টাকা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের দাম প্রতিটন ছিল ১ হাজার ১০০ ডলার। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৮৩০ ডলার। দাম আরও বাড়ছে। এদিকে বাজারে সয়াবিনের লিটার বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকার বেশি দামে।

বিশ্ববাজারে এসব পণ্যের দাম বাড়লেও দেশে এখনই এর প্রভাব পড়ার কথা নয়। কারণ এখন যেসব পণ্য বাজারে আছে সেগুলো আমদানি হয়েছে ৪ থেকে ৫ মাস আগে। যেসব পণ্য আসছে সেগুলোর এলসি খোলা হয়েছে কমপক্ষে ২ মাস আগে।

ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও দেশের বাজারে এখনই এসব পণ্যের দাম বাড়ার কথা নয়। বাড়তি দামে যেসব এলসি খোলা হয়েছে সেগুলো দেশে আসতে আরও দুই মাস সময় লাগবে। এগুলো পরিশোধন করে বাজারে আসতে লাগবে কমপক্ষে এক মাস।

ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দাম বৃদ্ধির কথা নয়। কিন্তু ব্যবসায়ী এখনই দাম বাড়ানোর জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। সরকার দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নাকচ করে দিলে সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকট করে দাম বাড়ানো হয়েছে।

বাজার তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার যুগান্তরকে বলেন, রমজানসহ ধর্মীয় উৎসবে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী পণ্যের দাম বাড়িয়ে অতিমুনাফা করার চেষ্টা চালায়।

এবারও একই ঘটনা ঘটানোর পাঁয়তারা চলছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বেশকিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। এছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধকে হাতিয়ার করে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। এতে ক্রেতার নাভিশ্বাস বাড়ছে।

তবে ভোক্তার স্বস্তি ফেরাতে আমরা বসে নেই। বিশেষ তদারকি টিম করে বড়-ছোট সব স্থানে অভিযান পরিচালনা করছি। যেখানে অনিয়ম সেখানেই পৌঁছে গিয়ে আইনের আওতায় আনছি। গত কয়েকদিনের তুলনায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। আশা করি পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

সূত্র জানায়, চালের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে সামান্য বেড়েছে। আমদানি করা চালের চেয়ে বাজারে দেশি চালই বেশি। দেশে ধানের বাম্পার ফলন হচ্ছে। মজুত ও সরবরাহও বেশি। তারপরও এর দাম কেজিতে ৪ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম কমতে শুরু করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর প্রতিটন চিনি ৪০৯ ডলারে উঠেছিল। এখন তা কমে ৩৯৬ ডলারে নেমেছে। আগে ছিল ৩৫০ ডলার। আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম কমলেও খুচরা বাজারে কমেনি। প্রতিকেজি ৮৫ টাকা দরেই বিক্রি হচ্ছে।

ফার্মের মুরগি ও ডিমের দাম শীতে কম থাকে। কারণ এ সময়ে উৎপাদন বেশি হয় এবং মুরগির আয়ুষ্কাল কম থাকে বলে ব্যবসায়ীরা তা বাজারে দ্রুত বিক্রি করে দেন।

গত বছর এই সময়ে প্রতিকেজি ফার্মের মুরগি ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এখন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি। ডিসেম্বরে এক ডজন ডিম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা হয়েছে। এছাড়া ডাল, ছোলা, মসলা, মাছ, মাংসের দামও বেড়েছে।

এদিকে বেসরকারি বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার হিসাবে দেখা যায়, করোনার কারণে গত দুই বছরে মানুষের আয় কমেছে। এতে আড়াই কোটি লোক নতুন করে দারিদ্র্যের আওতায় নাম লিখিয়েছিল।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের ফলে কিছু মানুষের আয় বাড়ায় নতুন দারিদ্র্যের আওতা থেকে বেরিয়ে এসেছে। এখনো ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়ে গেছে।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ভোগ্যপণ্যের মধ্যে বিশেষ করে চালের দাম বাড়লে স্বল্প আয়ের প্রায় ১ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যায়। এ কারণে চালসহ ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে দারিদ্র্য বিমোচন প্রক্রিয়াটি টেকসই হবে না।

কাগুজে মুনাফায় বড় ঝুঁকি দুর্নীতিতেই দুর্বল ব্যাংক

ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতির লাগাম টানা যাচ্ছে না। উদ্যোক্তাদের একটি অসাধু অংশের পাশাপাশি ব্যাংকাররাও দুর্নীতির চক্রে জড়িয়ে পড়ছেন।

ব্যাংকের কিছু পরিচালকের অনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে এর প্রসার ঘটেছে। ফলে জালজালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। এক পর্যায়ে এসব ঋণের গ্রাহকের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না। পরিণত হচ্ছে বেনামি ঋণে। যাদের অস্তিত্ব মিলছে তাদের কাছ থেকে ঋণ আদায় হচ্ছে না।

ফলে বেড়ে যাচ্ছে খেলাপি ঋণ। বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ। কমে যাচ্ছে আয়। ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। সব মিলে দুর্নীতির চক্রে পড়ে দুর্বল হয়ে পড়ছে ব্যাংক খাত। এর মধ্যে দুই বছর ধরে চলছে করোনার আঘাত। এতে ব্যাংকগুলোর দুর্বলতা আরও প্রকট হয়েছে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এসব জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর ব্যাংকিং খাতে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। গত এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে, আমানত কমেছে, টাকা তোলার হার বেড়েছে। সার্বিকভাবে ব্যাংকগুলোর আয় কমেছে, প্রণোদনার ঋণ নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে, ছোটদের কাছে প্রণোদনার ঋণ পৌঁছানো যায়নি যথাসময়ে। তারল্য ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায়ও শৃঙ্খলা ফেরেনি। ঋণ আদায় এখনো তলানিতে। বাড়েনি বিনিয়োগ সক্ষমতা।

তবে আশার কথা, গত দুই বছরে করোনার প্রভাব মোকাবিলা করতে যেসব ছাড় দেওয়া হয়েছিল সেগুলো ধীরে ধীরে তুলে নেওয়া হচ্ছে। স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে ব্যাংক খাত। নতুন করে করোনার আর কোনো আঘাত না এলে ২০২৩ সালের মধ্যে করোনা পূর্ববর্তী অবস্থায় যাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তবে এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা মনে করেন, করোনার আগের চেয়ে গত দুই বছরে ব্যাংক খাতে সুশাসন ব্যবস্থার অবনতি হয়েছে। গত দুই বছরে ঋণ আদায়ে যে ছাড় দেওয়া হয়েছে তা পুরো স্বাভাবিক করা কঠিন।

সূত্র জানায়, করোনার কারণে ঋণ আদায় স্থগিত থাকায় ও খেলাপি ঋণ বাড়ায় ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের হার বেড়েছে। দুই বছর আগে এ সম্পদ ৯ শতাংশের নিচে ছিল। এখন তা বেড়ে সাড়ে ১১ শতাংশ হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে ছিল ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ কমেছে।

ব্যাংকগুলোর ঋণ থেকে আয় কমেছে। বেড়েছে সার্ভিস চার্জ ও কমিশন থেকে। সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ঋণ থেকে সুদ আয় এখনো নেতিবাচক। তবে গত বছরের তুলনায় এ হার কিছুটা বেড়েছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর এ আয়ও কমেছে। তবে গত ডিসেম্বরের তুলনায় বেড়েছে।

ব্যাংকগুলোর আয়ের প্রধান অংশই আসার কথা সুদ থেকে। কিন্তু এ খাতের আয় কমে গেছে। অন্য খাতে বিশেষ করে সার্ভিস চার্জ ও কমিশন থেকে আয় বেড়েছে। এ ধরনের আয় ব্যাংক খাতকে টেকসই করতে পারে না, বরং ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু করোনার সময়ে সুদ আদায় স্থগিত থাকায় এ খাতে আয় কমেছে। যে আয় হয়েছে তাতেও আছে শুভঙ্করের ফাঁকি। কেননা করোনার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বিশেষ ছাড় দিয়েছে।

কোনো ঋণ বা সুদ পুরো আদায় না হলেও ২৫ শতাংশ ঋণ পরিশোধ করলে ওই সুদ আয় খাতে নিতে পারবে। এছাড়া নিয়মিত ঋণের সুদও আয় খাতে নিতে কোনো বাধা নেই। ফলে ব্যাংকগুলোর সুদ আদায় করেই তা কাগজে-কলমে আয় খাতে নিয়ে মুনাফা দেখিয়েছে। তাতেও এ খাতে আয় আগের চেয়ে কম। এটি ব্যাংক খাতের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি বলে মনে করছেন বিশ্লেকরা। তাদের মতে, কাগুজে আয় দিয়ে ব্যাংক টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, কাগুজে মুনাফা সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে এটি বিপদ ডেকে আনবে। কাগুজে মুনাফার প্রবণতা থেকে বের হওয়াটা জরুরি। ব্যাংক খাতে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সুশাসনের। এর অভাব বেশি থাকলে আর্থিক খাতের মেরুদণ্ড আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। তখন সোজা করে দাঁড় করানো কঠিন হবে।

সূত্র জানায়, গত জানুয়ারি থেকে সফটওয়্যারভিত্তিতে ব্যাংকগুলোতে পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে নানা অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। ব্যাংকের আয় কমে যাচ্ছে। আরও বাড়ছে খেলাপি ঋণ। এছাড়া ঋণ বিতরণে অনিয়মের চিত্রও উঠে আসছে।

মানি লন্ডারিং আইন অনুযায়ী ব্যাংকগুলোতে বেনামি হিসাব থাকার কোনো সুযোগ নেই। তারপরও ব্যাংকে বেনামি হিসাবের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে। এসব হিসাবে হাজার হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়া হচ্ছে। যেগুলো আদায় হচ্ছে না। খেলাপি হয়ে ব্যাংকের ভিতকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এর সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তাদের একটি অংশ জড়িত। প্রণোদনার ঋণ নিয়ে ব্যাংকগুলোতে যে জালিয়াতি হয়েছে তার সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বড় বড় যেসব ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর সঙ্গেও ব্যাংক কর্মকর্তারা জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন ভাতা প্রদান করা হয়। সেখানেও বেনামে হিসাব খোলা হচ্ছে। এগুলোর সঙ্গেও কতিপয় অসাধু ব্যাংকারের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বড় ধরনের ১২টি ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এগুলোর মাধ্যমে নেওয়া ঋণের মধ্যে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা এখন খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এর বিপরীতে গত এক বছরে অনারোপিত সুদ এসেছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। যা ব্যাংক আদায়ও করতে পারছে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল্যায়নে কেবল দুর্নীতির কারণে ১২টি ব্যাংকের অবস্থা বেশ খারাপ। এগুলোকে নীতি সহায়তায় ছাড় দিয়ে সচল রাখা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ব্যাংকে বড় বড় জালিয়াতি হলেও সরকারি গ্যারান্টির কারণে সচল আছে। একটি ব্যাংকে ১২ হাজার কোটি টাকার জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকার ঋণ নবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আরও কিছু ঋণ নিয়মিত হয়েছে। বাকিগুলো খেলাপি। করোনায় ঋণ শিথিলতার সুযোগ নিয়ে অনেক ঋণ পুনর্গঠন হয়েছে। এর মধ্যে জালজালিয়াতির ঋণও রয়েছে।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে পরিচালকদের থাবা এখনো বেশ জোরালো। পরিচালকরা নিজ ব্যাংকের পাশাপাশি অন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিচ্ছেন। এ ঋণ প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে রয়েছে বেনামি ঋণ।

করোনার সময়ে ব্যাংকগুলোকে ঋণ বিতরণে ব্যাপক ছাড় দেওয়া হয়েছে। বিধিবিধান অনেক শিথিল করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নামমাত্র সুদে তহবিলের জোগান দেওয়া হলেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী ঋণ বিতরণ করতে পারেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ছিল পুরোনো গ্রাহকদের পাশাপাশি অনেক নতুন গ্রাহকের মধ্যে ঋণ বিতরণ করা। সে লক্ষ্য অর্জিত হয়নি ব্যাংকের বিনিয়োগ সক্ষমতা কম হওয়ার কারণে।

ব্যাংকগুলো তাদের মোট আমানতের ৮৮ থেকে ৯২ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারে। এর বাইরে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ ও মূলধনের অংশের পুরোটাই বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সরকারি মোট আমানতের ৫২ শতাংশ, বেসরকারি ব্যাংকগুলো ৭৫ শতাংশ ও বিদেশি ব্যাংকগুলো ৫৪ শতাংশ বিনিয়োগে সক্ষম হয়েছে। বাকি অর্থ অলস পড়ে রয়েছে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত তারল্য প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা। প্রণোদনার ঋণ দিতে দুই দফায় ১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আধা থেকে ৩ শতাংশ সুদে জোগান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা। এ তহবিলের বড় অংশ ব্যবহার হয়নি। ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকেও ঋণ ছাড় করতে পারেনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এটিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বড় দুর্বলতা হিসাবে দেখছে। বড় দুর্যোগের সময়ই ব্যাংকের সেবার হাত সম্প্রসারিত করার মতো কাঠামো এখনো গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। এ দুর্বলতা রোধে ছোট, বড় বা অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের একটি তথ্য ভান্ডার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাতে দুর্যোগের সময়ে ঋণ সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুনের পর থেকে হঠাৎ করে ব্যাংকের আমানত কমতে শুরু করেছে। এজন্য তারা দুটি কারণ শনাক্ত করেছে- ১. হঠাৎ করেই রেমিট্যান্স ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকা এবং ২. করোনার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় পারিবারিক ব্যয় বেড়ে যাওয়া। তবে আমানত কমলেও ব্যাপক পরিসরে ব্যাংক খাতে এখনো স্থিতিশীলতা রয়েছে। এখনো যে অতিরিক্ত তারল্য আছে তা দিয়ে ঋণের বাড়তি চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থের জোগান দেওয়ার পথ খোলা রাখা হয়েছে। তবে এতে মূল্যস্ফীতির হার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। এ কারণে ব্যাংকগুলোকে আমানত বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। গত জুলাই-জানুয়ারি সময়ে আমানত কমেছে ৫২ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়েছিল ৪৪ শতাংশ। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক খাতে তারল্য কমে যাওয়ার তিনটি কারণ শনাক্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ১. ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি, ২. আমানত প্রবাহ হ্রাস এবং ৩. ডলারের জোগান বাড়ানো।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে ঋণপ্রবাহ বেড়েছে ৭৩ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ৪৪ শতাংশ কমেছিল। চলতি অর্থবছরের ওই সময়ে ৯৫ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে বেরিয়েছে। এছাড়া আমদানি ব্যয় মাত্রাতিরিক্ত বাড়ায় ব্যাংকগুলোকে ওই সময়ে ৩২৮ কোটি ডলারের জোগান দিয়েছে। এর বিপরীতে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চলে গেছে।

ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনায় আরও একটি দুর্বলতা শনাক্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেটি হলো বিধিবদ্ধ জমা সংরক্ষণ। ব্যাংকগুলো বাজারে বিনিয়োগ করতে না পেরে চাহিদার তুলনায় বেশি অর্থ সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করে। গত ফেব্রুয়ারিতে চাহিদার তুলনায় প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা বেশি জমা আছে। করোনার কারণে ব্যাংকিং খাতে ঋণের চাহিদা কমেছে। আগে বছরে গড়ে ১৮ শতাংশ ঋণ বাড়ত। দুই বছর ধরে চাহিদা ৮ শতাংশের বেশি বাড়ছে না।

সরকারের দুর্নীতির কারণেই দাম বাড়ছে: মির্জা ফখরুল

সরকারের দুর্নীতির কারণেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, সারা দেশের মানুষ চিৎকার করে বলছে, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে, আর পারছি না। তাতে সরকারের কিছু যায় আসে না। উন্নয়ন তো হচ্ছে। শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে’ এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, এখন আর কোনো কথা নেই। একটাই কথা-এখন সরে দাঁড়াও, সরে যাও। অনেক হয়েছে, অনেক মানুষকে নির্যাতন করেছ। হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছ, অনেক নেতাকর্মীকে গুম করেছ। ৩৫ লাখ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়েছ। ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তা না হলে জনগণই ঘাড় ধরে বের করে দেবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বললেন রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এটা আরেকটা মিথ্যা কথা। কারণ যুদ্ধের আগে থেকেই তো দাম বাড়ছে। চাল-তেল-পেঁয়াজের দাম তো হু-হু করে বাড়ছেই। কারণ একটাই-সব লুট করছে, চুরি করছে, ডাকাতি করছে। আর যারা দাম বাড়াচ্ছে তারা সব আওয়ামী লীগের লোক।

কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল ও প্রচার সম্পাদক শামসুর রহমান শামসের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, কৃষক দলের নাসির হায়দার, মামুনুর রশীদ খান, এসএম ফয়সাল, আনম খলিলুর রহমান, ওমর ফারুক শাফিন, সৈয়দ অলিউল্লাহ সিদ্দিকী, টিএস আইয়ুব, ফজলে হুদা বাবুল, শাহ আবদুল্লাহ আল বাকী, শাহ মো. মনিরুর রহমান, মাহমুদা হাবিবা, মনিরুল ইসলাম রয়েল, ইউসুফ আলী মোল্লা, ইশতিয়াক আহমেদ নাসির, সাখাওয়াত হোসেন নান্নু, শফিকুর রহমান মিঠু প্রমুখ।

টিসিবির ট্রাকের পেছনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো সাধারণ মানুষের চরম দুরবস্থার কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা বলছে যখন সয়াবিন তেল-চাল-চিনি-লবণ-পেঁয়াজ কিনতে পারি না, বাসায় ফিরে বাচ্চাগুলোর মুখে কী দেব সে চিন্তায় পাগল হয়ে যাই। তখন এই পদ্মা সেতু, উড়াল সেতু আর উন্নয়ন দেখে কি কোনো লাভ আছে? এটাই হচ্ছে সাধারণ মানুষের মনের কথা।

তিনি বলেন, আজকে মূল্য বৃদ্ধিতে নিম্ন আয়ের মানুষ, মধ্য আয়ের মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। এই যে করুণ অবস্থা সাধারণ মানুষের, তা সরকারের গায়ে লাগে না। তাদের মন্ত্রীরা সুন্দর সুন্দর কাপড় গায়ে দিয়ে চমৎকার জায়গায় দুদিকে ফুল নিয়ে বসে বক্তৃতা দেয়, বিবৃতি দেয়। কী বলে? আরে দাম তো একটু সারা বিশ্বেই বাড়ছে, সেই সঙ্গে আমাদের ক্রয়ক্ষমতাও বেড়ে গেছে।

‘ক্রয়ক্ষমতা কাকে বলে?’ প্রশ্ন করে মির্জা ফখরুল বলেন, ক্রয়ক্ষমতা মানে সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, টরেন্টো, নিউইয়র্কে যারা কেনাকাটা করে অথবা বাড়ি কিনেছে তাদের কথা বলছেন। নাকি আমাদের অসহায়, নিরীহ মানুষ, কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি জনতার কথা বলছেন। আমার কৃষক ভাইয়ের তো ক্রয়ক্ষমতা বাড়েনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমার একদম সোজা কথা-এই দাম বাড়ল কেন? কারণ সরকার সব চুরি করতে শুরু করেছে। চুরি বললে ভুল হবে- ডাকাতি। এসব সাধারণ ডাকাত নয়, বর্গিদের ডাকাতি। এটা বর্গির সরকার। এই সরকারের গায়ের চামড়া গণ্ডারের চেয়েও মোটা। এই সরকার স্বাধীনতাবিরোধী সরকার। এই সরকার জনগণের বিরোধী সরকার, কৃষক-শ্রমিক-সাধারণ মানুষবিরোধী সরকার। মানুষের জন্য এদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।

নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি যদি ভোটে না যায়, কেয়ারটেকার সরকার নিয়ে কথা বলতে থাকে তাহলে অতল জলে ডুবে যাবে।’ তাকে (ওবায়দুল কাদের) বলতে চাই-এত ভয় কেন নিরপেক্ষ সরকারে? এত ভয় কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারে? নির্বাচনকালীন একটা নিরপেক্ষ সরকার দিয়ে দেখেন না-আওয়ামী লীগ ডোবে, না বিএনপি ডোবে।

মানুষ বুঝে গেছে আপনাদের চালাকি, ছক বুঝে গেছে। এজন্য যারা অতীতে আওয়ামী লীগে ভোট দিয়েছিল তারা এখন বলতে শুরু করেছে আগে জানলে তোর ভাঙা নৌকায় উঠতাম না। আওয়ামী লীগ হচ্ছে মিথ্যাবাদী প্রতারক দল, এরা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে।

এরা বিশ্বাসঘাতক দল। তথ্য সন্ত্রাস চলছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বৃহস্পতিবার স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘এখন বড় সমস্যা হচ্ছে তথ্য সন্ত্রাস’। এটা কী? যেটা আসল সেটা বলা হয় না, নকলটা বলা হয়। আজকে এই সরকারের যত তথ্য সব ভুয়া। সরকার বলছে জিডিপি বেড়েছে। যে সংখ্যা বলছে তা ভুয়া। তাদের হিসাব অনুযায়ী এই জিডিপির ৪২% হচ্ছে ঋণ। অর্থাৎ আপনাকে আমাকে, আমাদের সবাইকে ঋণে জর্জরিত করে দিচ্ছে।

কৃষকদের করুণ অবস্থা তুলে ধরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে কৃষকদের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, বিএনপি যদি আবার সরকারে আসতে পারে কৃষকদের উন্নয়ন করবে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দূর করবে।

আগামী সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে জাতীয় পার্টি

কোনো দলের সঙ্গে জোটে নেই বলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। জাতীয় পার্টি কারো সঙ্গে জোট নাই। জাতীয় পার্টি একটি দল তাদের নিজস্ব কর্মসূচি আর ক্ষমতা আছে। তাই আমরা দলকে সুসংগঠিত করে মানুষের কাছে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে যাব। আগামী সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন করবো। বিগত দিনে জাতীয় পার্টি থেকে সিলেট-২ আসনে ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া এমপি ছিল। তাই আগামীতেও তাকে বিবেচনায় রাখবেন বলে জানান।

শুক্রবার রাতে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকজী বাজার পয়েন্টে উপজেলা জাতীয় পার্টির আয়োজনে এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে আজ দেশের মানুষ ভালো নেই। ৩১ বছর ধরে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় না থাকায় মানুষ আজ দিশেহারা। লাখ লাখ ছেলে মেয়ে অনেক কষ্টে পড়ালেখা করে ঘরে বসে থাকলেও তাদের চাকরির কোনো খবর নাই।

তিনি বলেন, জিনিষপত্রের দাম বাড়লেও বাড়েনি মানুষের আয় রোজগার। সরকারের এ বিষয়ে কোনো রূপরেখাও নাই। বিএনপিরও এ রকম কোনো চিন্তা ভাবনা নাই। দেশের মানুষ মরছে বিনা চিকিৎসায়। হাসপাতালের বাথরুমে রোগী, বারান্দায় রোগী, ডাক্তার এবং ওষুধ নাই। আর সরকার আকাশের উপর দিয়ে ফ্লাইওভার করে, মাটির নিচ দিয়ে করে টানেল।

তিনি আরও বলেন, আগে মানুষকে বাঁচান, চাকরির ব্যবস্থা করেন, চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন, তারপর এগুলো করার জন্য তিনি সরকারের কাছে আহবান জানান।

উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহবায়ক একেএম দুলালের পরিচালনায় পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়ো, সাব্বির আহমদ, সদস্য আ ন ম ওহিদ কনা মিয়া, সিলেট জেলা জাপার সভাপতি কুনু মিয়া, উপজেলা জাপার আহবায়ক জয়নাল আবেদীন, জাপা নেতা ফিরোজ আলী ও সাদিক হোসেন।

আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে

সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।

শুক্রবার সকাল থেকে পরবর্তী তিন দিনে আবহাওয়ার অবস্থা সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। খবর বাসসের।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, পশ্চিমা লঘুচাপের বাড়তি অংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ এবং এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

শুক্রবার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। ঢাকায় পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘন্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়। এছাড়া সকালে ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৬২ শতাংশ।

গত বৃহস্পতিবার সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কক্সবাজারে মিলেমিশে ভ্যাট ফাঁকি

কক্সবাজারের হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলো মাসিক চুক্তি অনুযায়ী ভ্যাট কর্মকর্তাদের ঘুস দেয়। এমনকি ভ্যাট ফাঁকি দিতে কর্মকর্তাদের পরামর্শে বিক্রির একাধিক রেজিস্ট্রার রাখা হয়।

একটি ভ্যাট অফিসের জন্য, অন্যটি মালিকপক্ষের জন্য। এতে সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর অনুসন্ধানে এ দুর্নীতির তথ্য উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের হোটেল, মোটেল ও রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, এখানে মালিকরা ভ্যাট ফাঁকি দিতে একাধিক রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ করেন বলে দুদক থেকে যে অভিযোগ করা হয়েছে সে বিষয়ে আমার জানা নেই। আর ভ্যাট কর্মকর্তাদের মাসোহারা দেন কিনা তাও বলতে পারব না। কারণ প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানই নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবসা করেন। রাজস্ব সংশ্লিষ্ট বিষয়ে হওয়ায় এ নিয়ে আর মন্তব্য করতে চাই না।

গত বছর ৩ ফেব্রুয়ারি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে চট্টগ্রাম কার্যালয়কে কক্সবাজারের হোটেল, মোটেল ও রেস্টুরেন্টে ভ্যাট ফাঁকির বিষয় অনুসন্ধানে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত দল ৭টি হোটেলে অভিযান চালিয়ে ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পায়। এর ভিত্তিতে ২৩ মার্চ প্রধান কার্যালয়ে এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদন পাঠানো হয়।

দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কক্সবাজারের ডায়মন্ড রেস্টুরেন্ট, জাফরান রেস্টুরেন্ট, অস্টার ইকো, ইউনি রিসোর্ট হোটেল, উইন্ডে টেরিন, আইলেন্ডিয়া ও হোটেল সি উত্তরা ভ্যাট পরিশোধ করছে না। কোনো হোটেলই অতিথিদের এন্ট্রি রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ করে না এবং রুম ভাড়ার তালিকা নেই। এছাড়া রেস্টুরেন্টগুলো ভ্যাট ফরমও ব্যবহার করে না। মাস শেষে তারা ভ্যাট কর্মকর্তাদের মাসিক রেটে নির্দিষ্ট ভ্যাট পরিশোধ করে থাকে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কর্মকর্তারা হোটেল-রেস্টুরেন্ট থেকে মাসিক অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার সুবিধার্থে প্রায় হোটেল দুটি রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ করে। একটি রেজিস্ট্রার ভ্যাট কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততায় প্রকৃত আয় প্রদর্শন না করে সংরক্ষণ করা হয়। আরেকটি লুকায়িত অবস্থায় হোটেল-মোটেল ব্যবস্থাপনায় জড়িতদের জন্য নির্ধারিত থাকে। কক্সবাজারের অন্য হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোরও একই অবস্থা। এতে সরকার প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুটি রেজিস্ট্রার সংরক্ষণের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা যে ভ্যাট ফাঁকি দেন, এটা সবারই জানা। দুদকের তদন্তে সেটি আবার প্রমাণিত হলো। তবে দুদকের প্রতিবেদনে ভ্যাট কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি আরও বিস্তারিত তুলে ধরা উচিত ছিল।

যেমন কত মাসোহারা নেন, কীভাবে নেন, তাদের সম্পদের তথ্য তুলে ধরা হলে প্রতিবেদনটি আরও সমৃদ্ধ হতো। দুদকের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট সার্কেলের কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করা গেলে এ ধরনের প্রবণতা বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

এ বিষয়ে কক্সবাজার কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ডিভিশনের বিভাগীয় কর্মকর্তা উপকমিশনার সৈয়দুল আলম বলেন, এক বছর আগে কক্সবাজারে ভ্যাট আদায়ে কী ঘটনা ঘটেছে সে সম্পর্কে আমি বলতে পারব না। আমি যোগদানের পর ভ্যাট আদায় বেড়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে যেখানে ১৬৯ কোটি টাকা ভ্যাট আদায় হয়েছে, সেখানে গত অর্থবছরে ভ্যাট আদায় হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর ৪০০ কোটি টাকার লক্ষ্য আদায়ে কাজ করছে ভ্যাট বিভাগ। জানুয়ারিতে চলাচলে বিধিনিষেধ থাকার পরও আমরা লক্ষ্য অর্জন করতে পারব বলে আশা করছি।

তিনি আরও বলেন, মাসোহারা ভিত্তিতে ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেওয়ার যে কথা বলা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন। এখন অনলাইনে রিটার্ন জমা নেওয়া হয়। ব্যবসায়ীরা ঘরে বসেই রিটার্ন জমা দিতে পারেন। ভ্যাট কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করার প্রয়োজন নেই। এছাড়া ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে দুটি ভ্যাট মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। খুচরা পর্যায়ে ভ্যাট আদায় নিশ্চিত করতে হোটেল রেস্টুরেন্টে ১০২টি ইএফডি মেশিন বসানো হয়েছে। চলতি মাসেই আরও ১০০ মেশিন বসানো হবে।

মুমিন যেভাবে রমজানের প্রস্তুতি নেবে

বছর ঘুরে আবারও আগমন ঘটেছে শাবান মাসের। ইসলামে এ মাসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এ মাসে রয়েছে অনেক বরকত ও ফজিলত।

শাবান মাসের পরেই আগমন ঘটে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সমন্বয়ে পবিত্র রমজান মাসের। রমজান মাসে আল্লাহতায়ালার পক্ষ হতে বান্দার জন্য রয়েছে অসংখ্য নেয়ামত। রমজান মাসে বান্দা একনিষ্ঠভাবে ইবাদত করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য ও তাকওয়া অর্জন করতে পারে।

প্রিয় নবী (সা.) শাবান মাসে অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশি বেশি নফল রোজা, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও নামাজ আদায় করতেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) রজব ও শাবান মাসব্যাপী এ দোয়া বেশি বেশি পড়তেন, ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজব ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগ না রমাদান’।

অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ! রজব মাস ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন আর আমাদের রমজানে পৌঁছে দিন।’

শাবান মাসে রাহমাতুল্লিল আলামিন হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর বিশেষ কিছু আমল তথা মাহে রমজান পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে মুমিনের কি করা উচিত তা আলোচনা করা হয়েছে।

১. রোজা রাখা: একাধিক হাদিস দ্বারা প্রমাণিত বিশ্বনবী (সা.) শাবান মাসে সবচেয়ে বেশি রোজা পালন করেছেন।

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসূলকে (সা.) রমজান ব্যতীত অন্য কোনো মাসে পূর্ণ এক মাস রোজা পালন করতে দেখিনি। কিন্তু শাবান মাসে তিনি বেশি নফল রোজা রেখেছেন’ (মুসলিম)। তাই আমাদেরও শাবান মাসে রোজা রাখা উচিত।

২. বেশি দরুদ ও সালাম পাঠ করা: প্রত্যেক মুমিনের জন্য প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদের (সা.) ওপর দরূদ শরীফ পাঠ করা সর্বোত্তম ইবাদত। এটি মানুষের জন্য একমাত্র ইবাদত যা স্বয়ং মহান আল্লাহতায়ালা ও ফেরেশতাগণ পালন করেন এবং পৃথিবীর সকল ঈমানদারকে নবীর প্রতি দরূদ পড়ার নির্দেশ আল্লাহতায়ালা নিজেই দিয়েছেন।

পবিত্র কুরআনে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতি দরুদ পাঠের নির্দেশনা সংবলিত আয়াতটিও এ মাসেই নাযিল হয়েছিল।

বরকতময় আয়াতের অর্থ হলো: ‘নিশ্চয় আল্লাহ (ঊর্ধ্ব জগতে ফেরেশতাদের মধ্যে) নবীর প্রশংসা করেন এবং তার ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি অনুগ্রহ করেন। হে মুমিনগণ, তোমরাও নবীর উপর দরূদ পাঠ কর এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও ।‘ (সুরা: আল-আহযাব-৫৬)

৩. তওবা ও ইস্তেগফার করা: মানুষ স্বভাবত শয়তানে ধোঁকায় নিজেকে গুনাহের কাজে লিপ্ত করবে। কিন্তু মহান আল্লাহতায়ালা হলেন, ‘গাফির’ ক্ষমাকারী, ‘গফুর’ ক্ষমাশীল, ‘গফফার’ সর্বাধিক ক্ষমাকারী।

তাই বান্দা যখন নিজের গুনাহের জন্য অনুতপ্ত, লজ্জিত হয় এবং তওবা ও ইস্তেগফার পাঠ করে আল্লাহর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তখনই আল্লাহতায়ালা বান্দার গুনাহ মাফ করে দেন। তওবাকারীকে আল্লাহতায়ালা ভালোবাসেন।

৪. কুরআন পড়া ও বুঝা: মহাগ্রন্থ পবিত্র কুরআন পড়া ও বুঝা সর্বোত্তম নফল ইবাদত। রমজান মাস কুরআন নাযিলের মাস। তাই রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে কুরআন পড়া ও বুঝা উচিত।

৫. দান-সদকা করা: ধনী-গরিব নিয়েই আমাদের জীবন। কারো অগাধ পরিমাণ সম্পদ আছে, আবার কারো কিছুই নেই। ইসলাম সাম্যের ধর্ম। তাই ধনবান ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে নিদিষ্ট পরিমাণে গরিব ব্যক্তিদের দান করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমাদের প্রিয় নবী (সা.) নিজে সর্বদা বেশি বেশি দান-সদকা করতেন এবং সাহাবাগণকে দান করতে উৎসাহী করতেন।

রমজান মহান আল্লাহর অপূর্ব রহমতের বারিধারায় সমৃদ্ধ একটি মাস। মুমিনের জন্য রমজান মাস ইবাদতের বসন্তকাল। তাই রমজান মাস যথার্থভাবে উদযাপনের জন্য শাবান মাস থেকেই এর প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়।

আসুন, নিজের খারাপ ও বাজে অভ্যাসগুলো পরিত্যাগ করে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করি। মহান আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে শাবান মাসে বরকত মাহাত্ম্য উপলব্ধি করার মতো সঠিক জ্ঞান দান করুক। পাশাপাশি পবিত্র মাহে রমজানের জন্য নিজেকে ইবাদতের জন্য উপযুক্ত করার তাওফিক দান করুক। আমিন।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও শিক্ষার্থী

আমাদের মতবিরোধ ও তার কারণ

এক ঘরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া ছিল। পরিবারের এক মুরুব্বি তাদের কাছে যান, যেন দুইজনের মিলমিশ করিয়ে দিতে পারেন। দুজনের কথাবার্তা শোনার পর বুঝতে পারলেন তাদের ঝগড়ার মূল কারণ হলো ‘সংসারে কার হুকুম চলবে’।

স্বামী চান তার কথা মানতে হবে, আর স্ত্রী বলেন আমার কথাই চলবে। এটাই তাদের সব ঝগড়ার মূল।

মুরুব্বি যখন স্ত্রীকে বোঝাতে গেলেন, স্ত্রী ক্ষোভ ঝেড়ে বলল— ‘ও সবকিছু নিজের মনমতো করে, আমার একটা কথাও শুনে না।’

মুরুব্বি বললেন, ‘এটা কোনো সমস্যা না, তুমি স্বামীকে কর্তা মেনে নাও, তাহলেই ঝগড়া খতম।’ স্ত্রী বলে, ‘এটা কীভাবে সম্ভব? আমার তো তাহলে কোনো স্বাধীনতাই থাকবে না।’

মুরুব্বি বললেন, ‘তোমাদের নিত্যদিনকার ঝগড়ার বাচ্চাদের জীবন ধ্বংস হচ্ছে, সংসারের সবকিছুই এলোমেলো, যদি স্বামীকে কর্তা মেনে নিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়, তো এতে তেমন কী ক্ষতি?’

স্ত্রী বলে, ‘একথা ওনাকে গিয়ে বোঝান, উনি কেন আমাকে সহ্য করতে পারছেন না?’

মুরুব্বি যখন একথা শুনলেন, তাৎক্ষণিক দাঁড়িয়ে গেলেন। তারপর বললেন, ‘মনোযোগ দিয়ে শুনো। ভিন্ন চিন্তার দুজন মানুষের একসাথে থাকতে হলে যেকোনো একজনকে ছোট হতে হয়। দশজনের মধ্যে নয়জন নিজেকে ছোট বানিয়ে নেয়, তখনই গিয়ে একজন নেতা হয়ে ওঠে এবং একতা তৈরি হয়। আর যেখানে শৃঙ্খলা ও একতা থাকে না, সেখানে কেবলই বিবাদের জন্ম নেয়, তারপর তারা ঝড়ো গতিতে এগিয়ে যায় ধ্বংসের দিকে। যেখানে প্রত্যেকেই বড় হতে চায়, সেখানে একতা জন্ম নিতে পারে না। নয়জনের কোরবানির কারণেই দশজন সংঘবদ্ধ হতে পারে এবং তার ফলাফল পায়। কিন্তু যেখানে কোরবানি করার কেউ নেই, সেখানে দশজনেই ধ্বংসের দিকে মুখ থুবড়ে পড়ে।’

ছোট হতে রাজি না হওয়ার মনোভাবই সমস্ত খারাবির মূল কারণ। মানুষ ছোট হতে চায় না, অথচ মৃত্যু এটাই প্রতিদিন কানে কানে বলে যায়— তুমি নিজেকে যতই বড় ভাবো, আমার কাছে কিছুই না।

নিজেদের মধ্যকার একজনকে বড় মানলে, তার বিপরীতে সবাই নিজেকে ছোট করলে, এর ফলাফল হবে পুরো জাতি শৃঙ্খলাবদ্ধ ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

মানুষ ব্যক্তিগত ‘বড়ত্ব’-কে কোরবানি দিলে জাতিগত ‘বড়ত্বের’ সন্ধান পায়। কিন্তু কোনো লোকই এই সহজ সমাধান কবুল করে নিতে রাজি নয়।

সে মিছেমিছি বড়ত্ব নিয়ে অহংকার করতে ভালোবাসে, অথচ মৃত্যু তাকে সর্বকালের জন্য ছোট বানিয়ে কবরে ঠেলে দিতে দাঁড়িয়ে আছে দরজার ওপাশেই।

সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন

সুইজারল্যান্ডের লুজানে সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগ এর ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন আগামী ১৩ মার্চ রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উক্ত সম্মেলনে দলীয় সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনে দুইটি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন দলের চলতি সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলাম এবং নজরুল ইসলাম জমাদ্দার। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চারজনের প্রার্থী তালিকায় যথাক্রমে আছেন- চলতি দায়িত্বে থাকা শ্যামল খান, কারার কাওসার, রহমান খলিলুর মামুন এবং রনি সাব্বির।

সম্মেলনে প্রধান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যথাক্রমে- সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি এম নজরুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান। নির্বাচনি বিধান মোতাবেক কাউন্সেলদের সবাইকে পরিচয় পত্র পেশ করে ভোটসহ সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করতে হবে। ভোটার তালিকার সঙ্গে নামে অমিল কেউ কাউন্সিলর হিসেবে গণ্য হবেন না।

এবারের সম্মলনে ১৬০ জন কাউন্সেলর তাদের প্রার্থী নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রদান করবেন। সাতজন নির্বাচন কমিশনের পক্ষে বিবৃতি প্রদান করেন আহম্মেদ সয়োপন।