রবিবার ,১৬ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 402

খালেদা জিয়া বাংলাদেশের আসল সম্মানি লোক: রেজা কিবরিয়া

খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের আসল সম্মানি লোক বলে মন্তব্য করেছেন গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া।

গণতন্ত্রের জন্য খালেদা জিয়ার সাহসিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া সাহসের সঙ্গে এতো বছর যুদ্ধ করছেন, উনাকে দেখে সবসময় আমার একটা অনুপ্রেরণা হয় যে, এতো সাহস এই মানুষটির মধ্যে। এটাতে আমি আশ্বস্থ হই। উনি আসল সম্মানি লোক বাংলাদেশের। আমি আশা করি, এই সম্মানটা কোনো মানুষের কেড়ে নেয়ার সুযোগ নেই।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যাশা ও আজকের বাংলাদেশ এবং চলমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘আপনারা (মুক্তিযোদ্ধারা) যে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন একাত্তরে, সেই স্বাধীনতাটা আর নেই এদেশে। এটা মুক্ত দেশ না। এখন নতুন একটা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এসেছে এই দেশে। সেটাতে আপনারা সবাই অংশগ্রহন করবেন। ইনশাল্লাহ যদি আল্লাহ আমাকে সুযোগ দেয় আমিও থাকবো সেই যুদ্ধে।’

তিনি বলেন,‘ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই জালেম সরকারকে আমাদের সরাতে হবে। আমাদের গণঅধিকার পরিষদের উদ্দেশ্য মানুষের অধিকার ফেরত দেয়া একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে। আমরা মোটামুটি একই জিনিস চাই। অন্য ব্যাপারে মতবিরোধী থাকতে পারে তবে এই সরকারকে যেতে হবে এবং একটা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই-এই ব্যাপারে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই।’

ভোজ্যতেল আমদানি কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে সয়াবিন, সরিষাসহ তেলজাতীয় শস্যের উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন— প্রয়োজনে তেলবীজ উৎপাদনে আরও গবেষণা করতে হবে। এজন্য কৃষকদের উৎসাহ দিতে হবে। মূলত ভোজ্যতেল আমদানি কমিয়ে দেশেই সয়াবিন, সূর্যমুখী, বাদামসহ বিভিন্ন তেলবীজ উৎপাদন বাড়াতে একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী অনুশাসন দিয়েছেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভোজ্যতেল আমদানি কমিয়ে উৎপাদনে যেতে হবে।

দেশে উৎপাদনে যেতে হলে সয়াবিন ও সূর্যমুখীর চাষ করতে হবে। এ জন্য বেশি বেশি সয়াবিন ও সূর্যমুখীর চাষ করতে বলেছেন তিনি।

একনেকে ১৫ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প অনুমোদন

সংসদ সদস্যদের জন্য পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণসহ ১২টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় একনেকের সভা শুরু হয়। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১৫ হাজার ৭৪৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১১ হাজার ৬৪৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে ৪ হাজার ৬৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এ ছাড়া সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে এক কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। সভাশেষে এসব তথ্য জানান, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।

শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভ্যেজ্যতেল আমদানি কমিয়ে উৎপাদনে যেতে হবে।

দেশে উৎপাদনে যেতে হলে সয়াবিন ও সূর্যমুখীর চাষ করতে হবে। এ জন্য বেশি বেশি সয়াবিন ও সূর্যমুখীর চাষ করতে বলেছেন তিনি।

ব্যাংক হিসাবের জাকাত বাধ্যতামূলক

উত্তর দিয়েছেন

মুফতি তানজিল আমির

আলেম ও গণমাধ্যমকর্মী

শাহেদ কারীম ইমরুল, মুরাদনগর, কুমিল্লা

প্রশ্ন: ব্যাংকের ব্যক্তি মালিকানাধীন অ্যাকাউন্টের জাকাত দিতে হবে?

উত্তর : ব্যাংকের ব্যক্তি মালিকানাধীন সব ধরনের অ্যাকাউন্ট জাকাতযোগ্য। অ্যাকাউন্ট হোল্ডার নেসাবের মালিক হলেই তাকে ব্যাংকে গচ্ছিত টাকাগুলোর জাকাত প্রদান করতে হবে।

চলতি হিসাব, সঞ্চয়ী হিসাব, দীর্ঘ মেয়াদি ও ডিপিএস হিসাবসহ সব অ্যাকাউন্ট এ হুকুমের আওতাভুক্ত হবে। ব্যাংক হিসাবের স্টেটমেন্ট দেখে জাকাত প্রদান করা যেতে পারে। জাকাতদাতার হিসাব বর্ষের শেষে স্টেটমেন্টে যত টাকা পাওয়া যাবে তার জাকাত সে প্রদান করবে।

কোনো এক অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি ট্যাক্স বা সার্ভিস চার্জ কাটা গেলে জাকাতের হিসাবে এ টাকা অন্তর্ভুক্ত হবে না।

অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের জমাকৃত টাকা ছাড়া ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত যদি সুদ (বা মুনাফা নামের সুদ) জমা হয় তবে তা জাকাতযোগ্য নয়; বরং সুদ ও হারামের মাল হস্তগত হলে তা পুরোটাই সদকা করে দিতে হবে।

অবশ্য জাকাত দেওয়ার সঙ্গে পুরো টাকার হিসাব করে নিলে এ নিয়ত করে নেবে যে সুদের অংশের ২.৫ শতাংশ জাকাত হিসাবে দিচ্ছে না; বরং ওই অংশের ২.৫ শতাংশ দায়িত্ব মুক্তির জন্য আদায় করছে। এরপর যখন সে হারাম টাকা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া দান করবে তখন জাকাতের সঙ্গে প্রদানকৃত ২.৫ শতাংশ বাদ দিয়ে বাকিটা সদকা করতে হবে।

সাইফুল হক তুষার, খিলগাঁও, ঢাকা

প্রশ্ন: আমি কাঁটাবন থেকে একটি পাখি কিনে এনেছি। অনেকে বলেন, পাখি খাঁচায় আটকে পালন করা বৈধ নয়। কথাটি কি ঠিক?

উত্তর : যেসব পাখি খাঁচাতেই জন্মায় এবং এখানেই জীবনযাপন করে অর্থাৎ (উড়া পাখি নিয়ে এসে বন্দি করা হয়েছে এমন নয়) এসব পালিত পাখিকে নিয়মিত খাবার পানি ও চিকিৎসা দিয়ে সুন্দরভাবে পরিচর্যা করতে পারলে খাঁচায় রেখে লালন-পালন করা জায়েজ হবে।

কিছু সাহাবি থেকে খাঁচায় পাখি লালন-পালন করা প্রমাণিত রয়েছে। হজরত হিশাম ইবনে উরওয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রা.) মক্কায় ছিলেন। তখন সাহাবিরা খাঁচায় পাখি রাখতেন। (আল আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ৩৮৩)।

কিন্তু এ ক্ষেত্রে যথাযথ পরিচর্যা করতে হবে। পরিচর্যা করতে না পারলে অথবা বন্দি করে রাখার কারণে কষ্ট পেলে খাঁচায় আটকে রাখা জায়েজ হবে না। বরং ছেড়ে দিতে হবে।

খাবার-পানির সঠিক ব্যবস্থা করে ও কোনো ধরনের কষ্ট না দিলে খাঁচায় বন্দি করে পাখি পোষা জায়েজ। (আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল : ৪/৪৫৪)।

প্রকাশ থাকে যে, বাইরে উড়ে বেড়ায় এমন পাখিকে খাঁচায় বন্দি করলে তাদের কষ্ট হতে পারে। তাই এ ধরনের পাখি খাঁচায় বন্দি না করাই উচিত। কেননা এতে তাদের স্বাধীন জীবনযাপন ব্যাহত হয়।

তথ্যসূত্র : সহিহ বুখারি, হাদিস ৬২০৩; ফাতহুল বারী ১০/৬০১; রদ্দুল মুহতার ৬/৪০১

স্পেনে প্রবাসী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সভা

স্পেনে প্রবাসী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার রাত ১০টায় স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের বাঙালি অধ্যুষিত লাভাপিয়েস এলাকার রাজপুত রেস্টুরেন্টে প্রবাসী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে এ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নরসিংদী ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ইন স্পেনের সভাপতি আল আমিন মিয়ার সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আবু বক্কর তামিমের সঞ্চালনায় কুরআন তিলাওয়াত করেন হাফিজ আক্তার হোসেন।

সাধারণ সভায় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সাবেক সভাপতি কাজী এনায়েতুল করিম তারেক,সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সুন্দর, স্পেন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি নুর হোসেন পাটোয়ারী, গ্রেটার ঢাকা অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সাধারণ সম্পাদক মিল্টন ভূইয়া কচি, কমিউনিটি নেতা আব্দুল কাইয়ুম মাসুক, নজরুল ইসলাম লিটন, আবুল হোসেন, সৈয়দ মাসুদুর রহমান নাসিম, ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম মাসুদুর রহমান, হেমায়েত খান,সাইফুল মুন্সি ইকবাল, আব্দুল মজিদ সুজন, নরসিংদী ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ইন স্পেনের সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াছিন সিকদারসহ মাদ্রিদ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা।

সমিতির প্রত্যেক সদস্যের এক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও পাসপোর্ট বা স্পেনের রেসিডেন্স কার্ডের ফটোকপি সংযুক্তসহ সদস্য ফরম পূরণ করে তা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা করেন। পরিশেষে নৈশভোজের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি হয়।

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সেবার মান নিয়ে অভিযোগ কেন থাকবে

দেশে যাব। যখনই ভাবি ঠিক তখনই মাথায় ঘুরপাক খেতে শুরু করে বিমানবন্দরে ভোগান্তি, হয়রানি আর অনিরাপত্তার। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর- যেখানে দৈনিক কয়েকশ বিমান ওঠা-নামা করে। নামে আন্তর্জাতিক হলেও মানে কি তাই বলে…?

সাংবাদিকতা, লেখা-লেখির সঙ্গে ছুটে চলা এক যুগেরও বেশি সময়। তার মাঝে দুটি বছর কাতার এয়ারপোর্টে চাকরি করার সৌভাগ্য হয়েছিল। সেখানে বিমানবন্দরের পরিচালক থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবিরত যাত্রীদের সেবার মান শতভাগ নিশ্চিত করাই ছিল একমাত্র লক্ষ্য। তারপর কাতার থেকে এসে বাংলাদেশ এয়ারপোর্টে একটি এয়ারলাইন্সে কিছুদিন কাজ করেছি। খুব কাছ থেকে দেখিছি অবকাঠামো থেকে শুরু করে দুটি এয়ারপোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সেবার মান আকাশ-পাতাল পার্থক্য। যেমনটি অভিজ্ঞতা আছে যাত্রী হিসেবেও। দেশে ফিরেই বিমানবন্দরে চরম হয়রানির কথা বলতে শোনা যায় যাত্রীদের। শুধু বিদেশফেরত যাত্রীই নন, বিদেশগমনের ক্ষেত্রেও যাত্রীরা হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি যারা বিশ্বের আনাচে-কানাচে বসবাস করছেন। প্রবাসীরা দেশে ফেরত আসাকালীন সময় প্রতিনিয়ত বিমানবন্দরে কর্মরত কতিপয় কর্মকর্তার অসদাচরণ এবং দুর্নীতির মাধ্যমেও নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অসংখ্য অভিযোগ, বছরের পর বছর সংবাদ প্রকাশ, মন্ত্রীপর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সিভিল অ্যাভিয়েশনের কড়া তদারকি, প্রশাসনিক নজরদারিসহ গোয়েন্দা বিভাগগুলোর নানামুখী তৎপরতার পরও বন্ধ হচ্ছে না হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী হয়রানি।

শাহজালাল বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন ১১০ থেকে ১২৮টি ফ্লাইট এ বিমানবন্দরে ওঠানামা করে। এসব ফ্লাইটে প্রায় ২০ হাজার যাত্রী প্রতিদিন যাতায়াত করেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধের ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া থাকলেও কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না এ হয়রানি। নিরাপত্তা তল্লাশির নামে যাত্রীদের এ ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, যাত্রীদের লাগেজ সংগ্রহে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করা। বিমানবন্দরের ভেতরে অনেক সময় সংঘবদ্ধ চক্র লাগেজ কেটে ফেলে আবার গায়েব করে ফেলে। প্রবাসীদের পাশাপাশি ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে বিদেশিরা বিমানবন্দরে এসে রক্ষা পাচ্ছেন না এই হেনস্তার শিকার থেকে।

এদিকে ভোগান্তির পাশাপাশি প্রবাসীদের জীবনের ঝুঁকি ও নিরাপত্তাহীনতার বাড়ছে প্রতিনিয়ত। সন্ধ্যা নামার পরপরই বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকার আশপাশে ডাকাতদলের কবলে পড়ছেন প্রবাসী যাত্রীরা। গত মাসের ফেব্রুয়ারিতে একই দিনে সৌদি আরব প্রবাসী গিয়াস উদ্দীন সবুজ ও কাজী জামাল উদ্দিনও ডাকাতের কবলে পড়েছেন। বিয়ে ঠিক হয়েছে। তাই হবু স্ত্রী জন্য অলংকার, কসমেটিকস নিয়ে সৌদি আরব থেকে দেশে এসেছেন কুমিল্লার ছেলে জাহিদ হাসান। পথে ডাকাত দলের কবলে পড়ে সব হারিয়ে কোনোরকমে জীবন রক্ষা করলেন। যারা প্রবাসে থাকেন তাদের অধিকাংশই বাড়ি গ্রামে। ফ্লাইট যদি সন্ধ্যার পরে ল্যান্ডিং করে অনিরাপত্তার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ে প্রবাসীদের কপালে। ভিনদেশে পরিশ্রম করে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে নিজদেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেন বড়ি ফিরতে হয় প্রবাসীদের। তাই রাতের ফ্লাইট মানে একটি আতঙ্ক মনে করেন প্রবাসীরা। পুলিশ বলছে, বিদেশ ফেরতরাই ডাকাতদের টার্গেট থাকে। তার মানে বিমানবন্দর থেকে চক্রটি কাজ করে। তাই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার দাবি প্রবাসীদের।

মোবাইলে কথা হয়েছিল পরিচিত মুখ শাখাওয়াত হোসেন নামে এক ভদ্রলোকের সঙ্গে। তিনি কিছুদিন আগে সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশ গিয়ে ছুটি কাটিয়ে আসছেন। ফোনে জানাচ্ছিলেন বিমানবন্দরের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা। শাখাওয়াত হোসেন বলেন, অনেক দিন পর বাংলাদেশে গিয়েছি তাই সিমকার্ডও সঙ্গে ছিল না। তাই বাইরে অপেক্ষমান স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন। বিমানবন্দরে নামে মাত্র টেলিফোন বুথ দিয়ে রাখছে ব্যবহার করা যায় না। বাইরে কিছু লোক থাকে কল করার জন্য এতে করে অনেক টাকা লাগে (আমার দিতে হইছে ৫০০ টাকা)। তিনি আরও বলেন, লাগেজ পেতে অনেক দেরি হয়েছে। কর্মকর্তাদের কাজের গতি খুবি স্লো যার কারণে যে কোনো কিছুতে দীর্ঘ লাইন। করোনার দোহাই দিয়ে টিকিটের দাম বেশি। করোনা টেস্ট নিয়েও চরম হয়রানি নানা বিড়ম্বনা। একটু বসার কোনো সু-ব্যবস্থাও নেই। আর মশার কথা কি আর বলব। প্রবাসীরা যখন বিমানবন্দরে পা রাখেন তখন তারা আগেই ফ্রি ইন্টারনেট সেবা পাওয়ার চেষ্টা করেন। যেসব প্রবাসী বছরের পর বছর বিদেশে থাকেন তাদের কাছে বাংলাদেশি কোনো সিম থাকে না। পরিবহণ সেবা নিতে ও বিমানবন্দরে আসা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সমস্যায় পড়তে হয়। যার ফলে প্রবাসীদের সুবিধার জন্য বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড বা বিটিসিএলের সহায়তায় চারটি টেলিফোন বুথ স্থাপন করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এমন উদ্যোগে সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু না! যাত্রীরা এই ফ্রি ইন্টারনেট ও টেলিফোনকে বলছেন ‘ভুতুড়ে আয়োজন’। যাত্রীদের মতে, ফ্রি-ইন্টারনেট ও ফ্রি টেলিফোন সেবার নামে এ ধরনের ‘ভুতুড়ে আয়োজন’ করে রেখেছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে প্রবাসীদের সুবিধার জন্য এ দুটি সেবা ফ্রি করা হয়েছে বলে প্রচার করা হয়। তবে প্রবাসীরা ওই দুই ফ্রি সেবা পান না বললেই চলে।

বিমানবন্দরে ‘আমরা’ ও ‘উই’- এর মাধ্যমে ফ্রি ইন্টারনেট সেবার আয়োজন করে রেখেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু প্রবাসীরা যখন বিমানবন্দরে ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা পেতে চান। কিন্তু শত চেষ্টা করেও তাদের পক্ষে ওই সেবা নেয়া সম্ভব হয় না। কারণ ফ্রি ইন্টারনেট সেবা পেতে গেলে প্রথমেই বাংলাদেশি একটি মোবাইল নাম্বার চাওয়া হয়। কারণ ওই নাম্বারে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি পাঠাবে। কিন্তু যেসব প্রবাসী বছরের পর বছর বিদেশে থাকেন তাদের কাছে বাংলাদেশি কোনো সিম থাকে না। তাই ওই ফ্রি সেবাও নেওয়া সম্ভব হয় না। বিশ্বের অন্যান্য দেশে পাসপোর্ট নাম্বারের মাধ্যমে ফ্রি ইন্টারনেট সেবা দেয়া হলেও বাংলাদেশে এখনো ওই ব্যবস্থা করা হয়নি। অথচ দেশে ফিরে বিমানবন্দরে নেমেই ভোগান্তির মুখে পড়েন রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে খ্যাত প্রবাসীরা। এ কারণে যাত্রীরা ফ্রি ইন্টারনেট ও টেলিফোনকে বলছেন ‘ভুতুড়ে আয়োজন’। কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য দেশে পাসপোর্ট নাম্বারের মাধ্যমে ফ্রি ইন্টারনেট সেবা দেওয়া হলেও বাংলাদেশে এখনো ওই ব্যবস্থা করা হয়নি। ঝাঁকে ঝাঁকে মশার কারণে শান্তিতে দাঁড়ানোর উপায় নেই বিমানবন্দরে।

শাহজালাল বিমানবন্দরে ‘যাত্রীসেবায়’ জ্বলছে ধূপ- প্রথম আলোর এমন শিরোনামের নিউজ কমেন্ট বক্সে মো. জাহিদ নামে একজনে লিখছেন- ‘বিমানবন্দরের মশা তাড়াতে যারা ব্যর্থ তারা দেশকে উন্নয়নের চূড়ান্ত সীমায় কিভাবে চিন্তা করে? বিদেশিরা দেশের ঢোকে বিমানবন্দর দিয়ে, বিমানবন্দর থেকে একটা দেশ সম্পর্কে অনেক কিছু ধারণা পাওয়া যায়। এয়ারপোর্টে এই মশা নিয়ে প্রতি বছরই রিপোর্ট হয় কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোনো টনক নড়ে না।’ মিহেরাজ রাজু নামে আরো একজন কমেন্ট করেছেন, কিছুদিন আগে বিমানবন্দরে গিয়েছিলাম যেভাবে মশা আক্রমণ করেছিল আরো কিছুক্ষণ থাকলে মশা উরিয়ে অন্য দেশে নিয়ে যেত বিমানের দরকার হতো না। শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বিদেশে যেতে বা ফিরে এসে মশা নিয়ে যাত্রী ও স্বজনদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ এবং ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকলেও চিত্র বদলায়নি। শাহজালাল বিমানবন্দর ঘিরে আন্তর্জাতিকমানের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হলেও মশার কাছে হার মানতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে! শাহজালালের বিস্তীর্ণ এলাকা, জলাশয়ের নোংরা পানি ও ঝোপঝাড়ের কারণে মশার উপদ্রব কমছে না। এগুলো পরিষ্কার রাখার কোনো উদ্যোগও নেই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের। প্রজননের উর্বর ক্ষেত্র হওয়ায় দিন দিন মশার উপদ্রব বাড়ছে। মশার প্রজনন বন্ধে এসব স্থানের ওপর কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর দেওয়া উচিত বলে মনে করেন যাত্রীরা।

আব্দুল হালিম সোহাগ গত ডিসেম্বর মাসে কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে গিয়ে কিছুদিন আগে আবার কোরিয়াতে ফিরছেন, গল্পের ছলে জানাচ্ছিলেন এয়ারপোর্টে ভোগান্তির করুণ বাস্তব অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, দেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কোরিয়ার ইনচন এয়ারপোর্ট থেকে বিমানে উঠে বাংলাদেশ বিমানবন্দরে যখন পা রাখলাম তখনই মনে হচ্ছে ভোগান্তি শুরু। ইমিগ্রেশনের সুশৃঙ্খল লাইনের কোনো ব্যবস্থা দেখলাম না। বিশাল লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। বিমানবন্দরের কর্তব্যরত আনসার ট্রলিম্যান কিছু ভিআইপিকে টার্গেট করে তাদের সার্ভিস দেওয়ার চেষ্টা করছে। বেল্টে লাগেজ আসতেও অনেক দেরি। তারপর এদিকে ট্রলির হাহাকার। কেউ কেউ ট্রলি না পেয়ে মাথায় করে ভারি লাগেজ বা ব্যাগ নিয়ে বিমানবন্দর থেকে বের হচ্ছে। আব্দুল হালিম আরো বলেন, আড়াই শতাংশ প্রণোদনা দিয়ে কি হবে যদি লাগেজ মাথায় নিয়ে এয়ারপোর্ট থেকে বাহির হওয়া লাগে। যাদের গাড়ি আছে তাদের কোনো সমস্যা নেই আর যাদের নেই তারা লাগেজ মাথায় করে এয়ারপোর্ট থেকে বের হতে হচ্ছে। বিমানবন্দর রয়েছে ট্রলি তীব্র সংকট। এর আগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বিমানবন্দরের দুই টার্মিনাল ঘুরে ব্যবস্থাপনা দেখেন। যাত্রীদের সঙ্গে ভোগান্তির বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী ট্রলি সংকটের জন্য যাত্রীদের ভোগান্তি শিকার করে যাত্রীদের কাছে আমি ক্ষমাও চেয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী। কথা দিয়েছিলেন যাত্রীদের বিদেশযাত্রা ও আগমনকে আরও আরামদায়ক করতে চলতি বছরের গেল ফেব্রুয়ারি মাসে মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন করে ২৫ ট্রলি যুক্ত হবে।

বিমানবন্দরের আশপাশে দালাল চক্রের নিয়মিত শোডাউন চলে নতুন সহজ-সরল যাত্রীদের কেন্দ্র করে। বিমানবন্দরের ভেতরে কর্মরত একশ্রেণির আনসার, সিভিল এভিয়েশন কর্মী, কাস্টমস-ইমিগ্রেশন পুলিশ এ হয়রানির ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তাদের কারণে অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হচ্ছে প্রবাসীদের। প্রবাসীদের খুব বেশি চাওয়া নেই, হাজারও প্রবাসী স্বপ্ন দেখে কিছু অর্থ উপার্জন করে নিরাপদে দেশে ফিরে যাবে। ফিরে যাবে প্রিয়তমা স্ত্রী-সন্তানের কাছে, বাবা- মায়ের কাছে। প্রবাসে পাখির ডাকে ভোরে ঘুম ভাঙে না, ভাঙে ঘড়ির অ্যালার্মে।

যেসব লক্ষণে বুঝবেন কোলোরেক্টাল ক্যান্সার

কোলোরেক্টাল ক্যান্সার একটি জটিল রোগে। খাদ্যাভ্যাস ও জীবনপদ্ধতির পরিবর্তনসহ নানা কারণে এই ক্যান্সার হয়।

এপেনডিক্স, পায়ুপথ ও বৃহদান্ত্রের ক্যানসারকে কোলোরেক্টাল ক্যান্সার বলা হয়।

কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি ও উপসর্গ নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বৃহদান্ত্র ও পায়ুপথ সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. একেএম ফজলুল হক।

বয়স : কোলোরেক্টাল ক্যান্সার যে কোনো বয়সেই হতে পারে। তবে এ রোগে আক্রান্ত প্রতি ১০ জনের ৫০ বছর বা এর চেয়ে বেশি বয়সে এ রোগ হতে পারে।

লিঙ্গ : পুরুষ ও মহিলা উভয়েই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

ধূমপান ও অ্যালকোহলের ব্যবহার : ধূমপায়ীরা অধূমপায়ীদের চেয়ে ৩০-৪০ ভাগ বেশি কোলোরেক্টাল ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। অ্যালকোহল ব্যবহারকারীদের মধ্যেও এ রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
অন্ত্রের অন্যান্য অসুখ : আগে থেকেই অন্ত্রের অন্য কোনো অংশে থাকা ক্যান্সার বা পলিপ অথবা অন্ত্রের অন্যান্য রোগ, যেমন মলাশয়ে আলসার তৈরি করে এমন প্রদাহ, অন্ত্রের প্রদাহ এ রকম কিছু কারণে কোলোরেক্টাল ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

বংশগত : বংশগত কারণেও কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। মা-বাবা, ভাইবোনের কারোর ৬০ বছর বয়সের নিচে অন্ত্রের পলিপ বা ক্যান্সার থাকলে অথবা যে কোনো বয়সে যে কোনো দুজনের এ ধরনের সমস্যা থাকলে আপনি কোলোরেক্টাল ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন।

লক্ষণ : মলত্যাগের অভ্যাসের পরিবর্তন। ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা পর্যায়ক্রমে ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য। মলের সঙ্গে রক্ত মিশে থাকে। ওজন কমে যায়। দুর্বলতা। পেটে অস্বস্তিভাব যেমন- গ্যাস, পেট ফুলে থাকা, পেট ভর্তি ভাব, কামড়ানো প্রভৃতি। রক্তশূন্যতা। রোগের শেষপর্যায়ে মলত্যাগ করতে না-পারা বা অন্ত্রনালি বন্ধ হয়ে যাওয়া।

মানবদেহে আয়োডিনের কাজ কী?

মানবদেহে আয়োডিন খুবই অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হলেও এর গুরুত্ব কিন্তু কোনো অংশে কম নয়। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের আয়োডিন প্রয়োজন দৈনিক ১৫০ মাইক্রোগ্রাম। মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশ ও থায়রয়েড হরমোন তৈরির জন্য আয়োডিন প্রয়োজন। এই হরমোন রক্তের মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন অংশের চলাচলকে নিয়ন্ত্রণ করে। গলার সামনের দিকে প্রজাপতির মতো এ গ্ল্যান্ডের অবস্থান। শরীরের তাপ ও শক্তির জন্যও আয়োডিন প্রয়োজন। এর অভাব শরীরে প্রকটরূপে দেখা যায়। গর্ভবতী মহিলাদের আয়োডিনের অভাব হলে কয়েকটি সমস্যা দেখা যায়। যেমন-গর্ভপাত, মৃত শিশুর জন্ম, বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম, মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুর জন্ম। অর্থাৎ অনেক সময় শিশু বোবা কানা ও ট্যারা হয়। খাদ্যে আয়োডিনের ঘাটতি হলে কয়েকটি অসুস্থতা দেখা যায়। যেমন গলগন্ড বা গলাফোলা রোগ, হাইপোথায়রয়েডিজম (থায়রয়েডগ্রন্থির কর্মক্ষমতা হ্রাস), ক্রেটিনিজম (হাবাগোবা ও বামনত্ব), প্রজনন সমস্যা ও শিশু মৃত্যু।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বারডেম হাসপাতালের চিফ নিউট্রিশন অফিসার ও বিভাগীয় প্রধান (অব.) আখতারুন নাহার আলো।

গলগন্ড বা গলাফোলা রোগ : আয়োডিনের অভাবে এই রোগ দেখা যায়। এই রোগে তেমন কষ্ট না হলেও রোগী সব সময় অস্বস্তিতে ভুগে। এতে থায়রয়েড গ্ল্যান্ড স্বাভাবিকের চেয়ে আকারে বড় হয়। যেহেতু দেহে থায়রয়েড হরমোন তৈরি হয় না। সেহেতু এই গ্ল্যান্ডকে অভাব পূরণের জন্য অতিরিক্ত কাজ করতে হয় বলেই গ্ল্যান্ডটি বড় হয়ে যায়।

হাইপোথায়রয়েডিজম : এতে থায়রয়েড হরমোন ঠিকমতো কাজ করে না বলে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন ক্লান্তি, আলসেমি, অতিরিক্ত ঋতুস্রাব, নিদ্রাহীনতা, ভুলে যাওয়া, ওজন বৃদ্ধি, শুষ্ক ও অমসৃণ ত্বক, খরখরে কণ্ঠ, শীতে অসহনশীলতা, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি। কোনো কোনো সময় দেখা যায় শিশুরা পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে থাকে। হাইপোথায়রয়েডিজমের জন্য খাবারে মুলা, ফুলকপি ও বাঁধাকপি বাদ দেওয়া ভালো। থায়ামিন বা ভিটামিন বি১, যুক্ত খাবার তাদের জন্য উপকারী।

ক্রেটিনিজম (হাবাগোবা অথবা বামনত্ব) : গর্ভাবস্থায় মা যদি আয়োডিনের অভাবে ভুগেন, তাহলে তিনি ক্রেটিনিজম শিশুর জন্ম দিতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হয়। এ ধরনের শিশুরা বোকা, কানা, বোধবুদ্ধিহীন, শারীরিক প্রতিবন্ধী হতে পারে। এদের ঠোঁট মোটা ও নিচের দিকে ঝুলে থাকে। ভ্রূণের বৃদ্ধির বিশেষ পর্যায়ে গর্ভস্থ ভ্রূণ উপযুক্ত আয়োডিন না পেলে শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এমনকি মৃত্যু হতে পারে।

রান্নার ফলে আয়োডিন কখনো নষ্ট হয় না। আয়োডিন পাওয়া যায় উদ্ভিদ ও প্রাণী থেকে। মাছের মধ্যে সমুদ্রের মাছে আয়োডিন বিদ্যমান। এছাড়া সমুদ্রের উপকূলবর্তী স্থানের শাকসবজিতে ও গবাদি পশুর মাংসে আয়োডিন থাকে। এদিকে পেঁয়াজ ও পালংশাকের মধ্যে আয়োডিন পাওয়া যায়। সপ্তাহে দু-একদিন সমুদ্রের মাছ খেতে পারলে ভালো হয়। আয়োডিন খুবই কম পরিমাণে প্রয়োজন।

মাইগ্রেনের চিকিৎসায় কী করবেন?

অনেকের প্রায়ই মাথাব্যথা হয়। দীর্ঘ সময় কাজের চাপে বা কোনো কিছুতে একনাগাড়ে ব্যস্ত থাকলে ব্রেনে চাপ পড়ে মাথাব্যথা করতেই পারে। এটি নিয়ে খুব বেশি চিন্তার কিছু নেই। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলে ঠিক হয়ে যায়। অন্যদিকে মাইগ্রেন হলো এক বিশেষ ধরনের মাথাব্যথা। এ ব্যথা মাথার যে কোনো একপাশ থেকে শুরু হয়। আস্তে আস্তে পুরো মাথায় ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র ব্যথা ও যন্ত্রণা শুরু হয়। এতে মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়। সুতরাং কীভাবে বুঝবেন এ মাথাব্যথাটা স্বাভাবিক নাকি মাইগ্রেন?

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ডা. অপূর্ব চৌধুরী।

মাথাব্যথা এবং মাইগ্রেন। দুটিই অনেকের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা। কিন্তু কীভাবে বুঝবেন কোনটি কেবল মাথাব্যথা কিংবা কোনটি শুধু মাইগ্রেন।

মাথাব্যথা এবং মাইগ্রেন, দুটিই একটি সমস্যার ফলাফল। মাথায় যন্ত্রণা।

পেইন বা যন্ত্রণা হলো শরীরের একটি প্রতিক্রিয়া। স্নায়ুবিক প্রতিক্রিয়া। শরীরের কোথাও আঘাত পেলে, রাসায়নিক কোনো বিক্রিয়া ঘটলে, অথবা অন্য কোনো পরিবর্তন হলে, এ পরিবর্তনটি, মস্তিষ্কে একটি সিগন্যাল দেয়, এ সিগন্যালটি মস্তিষ্ক যেভাবে অনুভব করে, সেটাই পেইন বা যন্ত্রণা।

আমাদের শরীরের উপরিভাগে কিছু নার্ভ রিসেপ্টর থাকে। এদের বলে নসিসেপ্টর। এদের কাজ হলো শরীরের কোথাও কোনো পরিবর্তন হলে সেই পরিবর্তনের সিগন্যাল স্নায়ু কোষের মাধ্যমে স্পাইনাল কর্ডে প্রেরণ করে। সেখান থেকে স্নায়ুর সেই সিগন্যাল মস্তিষ্কে পৌঁছায়। এতে মস্তিষ্কের ব্রেইন স্টিম, হাইপোথেলামাস এবং কর্টেক্স এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিউরোক্যামিকেল স্টিমুলেশন ঘটে। এই স্টিমুলেশনটি মস্তিষ্ক সমন্বয় করে যে অনুভব করে সেটাই পেইন বা যন্ত্রণা।

তাহলে মাথাব্যথা অথবা মাইগ্রেনে এমনকি হয়, যার কারণে মস্তিষ্ক সেটিকে যন্ত্রণা হিসাবে অনুভব করে।

সহজ করে বললে শুধু মাথাব্যথা এবং মাইগ্রেনের পার্থক্য হলো : শুধু মাথাব্যথায় কেবল মাথার যন্ত্রণা করে, কিন্তু মাইগ্রেনে মাথার যন্ত্রণার সঙ্গে শরীরে আরও কিছু সমস্যা দেখা দেয়। সঙ্গে শুধু মাথাব্যথা হলে মাথার যন্ত্রণাটি পুরো মাথাজুড়ে হতে পারে। কিন্তু মাইগ্রেন হলে মাইগ্রেন সচরাচর মাথার যে কোনো একপাশে হয়। শুধু মাথার যন্ত্রণা যতটা মারাত্মক হয়, মাইগ্রেনের যন্ত্রণা আরও বেশি হয়।

শুধু মাথাব্যথা বলতে বুঝায়-মাথা অথবা মুখ অথবা ঘাড়ে কোনো ধরনের যন্ত্রণা করা। সে পেইন মস্তিষ্কের ভেতর, মস্তিষ্কের ওপর, ঘাড়ে অথবা মুখের পেশি, চোখ, নাক, কান, গলা, মুখ এবং এই অঞ্চলটি ঘিরে হাড়গুলোতেও হতে পারে।

পৃথিবীর ৭৫ ভাগ মানুষের কোনো না কোনো ধরনের মাথার যন্ত্রণা বছরের কোনো একটা সময় একবার অথবা একাধিকবার হয়।

শুধু মাথাব্যথার অনেক কারণ থাকতে পারে। তার মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হলো মাইগ্রেন। মাইগ্রেন হলে প্রচণ্ড মাথাব্যথা হয়।

মাইগ্রেন হলো মস্তিষ্কের এক ধরনের নিউরোলজিক্যাল পেইন বা যন্ত্রণা। আগেই বলেছিলাম মাইগ্রেন হলে এটি সচরাচর মস্তিষ্কের একপাশে হয়। কিন্তু মাইগ্রেন ছাড়া অন্য কোনো মস্তিষ্কের যন্ত্রণা হলে সেটি পুরো মস্তিষ্কজুড়ে অথবা মস্তিষ্কের আশপাশের অংশে যে কোথাও হতে পারে। শুধু মস্তিষ্কের যন্ত্রণা যতটা ভোগায় তার চেয়ে মাইগ্রেনের যন্ত্রণা আরও বেশি ভোগায়। মাইগ্রেন হলে মাইগ্রেনের আগে কিছু সমস্যা বা পূর্বাভাস দেখা দেয়। শুধু মাথাব্যথা বা যন্ত্রণায় এমন কোনো পূর্বাভাসের লক্ষণ দেখা যায় কম। মাইগ্রেন জেনেটিক কারণে বেশি হয়ে থাকে। শুধু মাথাব্যথার জেনেটিক কারণ যতটা থাকে তার চেয়ে অন্য অনেক কারণ, পরিবেশ, শরীরের অবস্থা, স্ট্রেস, এমন সব অবস্থাগুলো দায়ী।

শুধু মাথাব্যথা হলে মাথায় নিউরোলজিক্যাল পেইন অনুভব করে। কিন্তু মাইগ্রেন হলে মাথার সঙ্গে চোখ, পেট, মুখ, নাক, অনেক কিছুই আক্রান্ত হয় বা হতে পারে। মাইগ্রেন হলে আলো, শব্দ, গন্ধ, দৃষ্টিতে সমস্যা, চিন্তায় অস্বচ্ছ হয়ে যাওয়া, ফোকাসিং পাওয়ার কমে যাওয়া, শরীরজুড়ে অস্বস্তি, বমি বমি ভাব অথবা বমি হওয়া, কথা বলতে সমস্যা, রোদ, তীব্র লাইট, হালকা শব্দ এবং ধুলোবালি সহ্য করতে পারে না।

মাইগ্রেন হলে মস্তিষ্কে এক ধরনের নিউরোকেমিক্যাল সমস্যা দেখা দেয়। এই নিউরোকেমিক্যাল সমস্যার কারণে মাইগ্রেন হওয়ার আগেই কিছু প্রি সিম্পটম দেখা যায়। অবস্থাটিকে বলে Aura। এমন হলে চোখে কম দেখতে থাকে, জিগজাগ লাইন দেখতে থাকে, অথবা ফ্লাশিং লাইট দেখতে থাকে। তখনো মাথার যন্ত্রণা শুরু হয় না।

তারপর মস্তিষ্কের কিছু অংশ তার নরমাল কাজগুলো করতে পারে না বলে ব্রেইন ফ্রগ বা মস্তিষ্ক কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে যেতে থাকে। এতে মস্তিষ্কের কগনিটিভ পাওয়ার বা চিন্তা করার ক্ষমতা কমে যায়।

মস্তিষ্কের সঙ্গে পেটের একটি সংযোগ আছে। সংযোগটি তৈরি করে শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু ভেগাস নার্ভ। মাইগ্রেনে এটির কাজ বা মস্তিষ্কের সঙ্গে শরীরের বা পেটের অংশের কার্যক্ষমতা কমে যায়। ফলে পেটে পরিপাকের কিছু সমস্যা যেমন দেখা দেয়, সঙ্গে পেটে খাবার থেকে গেলে সেই খাবারটি অন্ত্রে পরিশোধিত হওয়ার কাজটি কমে যায়। আর তাতে বমি বমি ভাব হয় অথবা বমি হতে থাকে।

মাইগ্রেন বা শুধু মাথাব্যথা হলে তা থেকে শরীরকে রক্ষা করার সবচেয়ে বড় উপায় হলো-ঠিক যে কারণে হয়, সে কারণগুলো খুঁজে বের করতে পারা। তারপর সে কারণগুলো হতে না দেওয়া। এক্ষেত্রে মাইগ্রেন যেহেতু শুধু মাথাব্যথার চেয়ে অধিক বার হয়, মাসে যদি একাধিকবার হয়, তবে একটি মাইগ্রেন হেডেক ডায়েরি মেন্টেন করবেন। কিছুদিন পর দেখতে পাবেন একটি ফ্রিকোয়েন্ট অনুযায়ী ব্যথাটি আসছে। সেই সময়টির এক বা দুই দিন আগে থেকে সাবধানতা অবলম্বন করলে অথবা যে কারণগুলো সেই অবস্থানের দিকে নিয়ে যায় তা থেকে দূরে থাকলে মাইগ্রেনও আপনার থেকে দূরে থাকবে।

শুধু মাথাব্যথা হলে যে কোনো পেইন কিলার সহজে কাজ করে। কিন্তু মাইগ্রেন হলে স্পেসিফিক পেইন কিলার যতটা ভালো কাজ করে, এবং সেই মেডিসিন যথাসময়ে খেলে আরও দ্রুত কাজ করে। বিশেষ করে ট্রিপটান জাতীয় ওষুধ মাইগ্রেন এর ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে। একনাগাড়ে এক সপ্তাহের বেশি এমন জাতীয় মাইগ্রেনের ওষুধ খাবেন না। সঙ্গে বমি বমি ভাব হলে বমির ভাব দূর করার ওষুধ খেতে পারেন। তবে সব ক্ষেত্রেই আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারলে ভালো। মাইগ্রেন যেহেতু জেনেটিক এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের হয়ে থাকে, সঙ্গে খুব স্পেসিফিক প্যাটার্নের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তাতে মাইগ্রেন ডায়াগনোসিস করা সহজ হয়। কিন্তু শুধু মাথাব্যথা থাকলে তার অনেক কারণ অনুসন্ধান করে সেই কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা করতে পারলে শুধু মাথা ব্যথা কম হয় এবং সহজে চলে যায়।

২০ রমজান পর্যন্ত খোলা থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয়

এবার ২০ রমজান পর্যন্ত সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন।

শনিবার কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার খনজনমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেছেন বলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনাকালে বন্ধের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তোমরা এ দেশের ভবিষ্যৎ। তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে দেশ। তোমরা সুশিক্ষা অর্জন করে কেউ সচিব, কেউ চিকিৎসক, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ রাজনীতিবিদ, আবার কেউ হবে এ দেশের প্রধানমন্ত্রী। তাই লেখাপড়া ভালো করে করতে হবে। লেখাপড়ার বিকল্প কিছু নেই।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শহীদুল ইসলাম মণ্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল্লাহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার স্মৃতি, রংপুর বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা উপপরিচালক মোজাহিদুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার ও বন্দবেড় ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল কাদের প্রমুখ।