বাঘায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভরাজশাহীর বাঘায় আওয়ামী লীগের সম্মেলনে হামলা করার ঘটনায় সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান পাকুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলাম মেরাজের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা শেষে কুশপুত্তলিকাদাহ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা ছাত্রলীগের আয়োজনে এ বিক্ষোভ করা হয়েছে। বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলার প্রধান-প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বঙ্গবন্ধু চত্বরে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পথসভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহানুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন। পরে মিছিলটি দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে মেরাজুল ইসলাম মেরাজের কুশপুত্তলিকাদাহ করা হয়। এদিকে তাকে সকাল ৯টায় রাজশাহী নগরীর শিরোইল এলাকা থেকে জেলা ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করেন। মেরাজ উপজেলার কিশোর গ্রামের মৃত রাকিব সরকারের ছেলে। অপরদিকে বাঘা থানার পুলিশ বাঘা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জুবান আলী মালিথাকে গ্রেফতার করেছেন। তিনি বাঘা পৌরসভার কলিগ্রামের বাসিন্দা। এদিকে এ সম্মেলনে সংঘর্ষের ঘটনার পর এলাকায় একের পর এক মারপিট ঘটনা ঘটেই চলেছে। এতে উপজেলায় আক্কাস সমর্থিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। সেই সঙ্গে উভয়পক্ষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা চলছে। এর মধ্যে মারপিটে আকুল হোসেন ও রতন আলী নামে দুজন আহত হয়েছে। উপজেলার নারায়ণপুর বাজারে ও কিশোরপুর গ্রামে এ পৃথক মারপিটের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে সাবেক মেয়র আক্কাস আলীর ছোট ভাই আকুল হোসেনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং রতন আলীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রে ভর্তি করা হয়েছে। এর জের ধরে মঙ্গলবার দুপুরে চেয়ারম্যান মেরাজের বাড়িতে ও তার বাড়ির পাশে কিশোরপুর পদ্মা নদীর ধারে দর্শনার্থীদের বসার বাঁশের তৈরি গোলঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সোমবার উপজেলার শাহদৌলা সরকারি কলেজ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বাঘা পৌরসভার সাবেক মেয়র আক্কাস আলীর সমর্থকরা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মঞ্চের সামনে আক্কাস ভাই আক্কাস ভাই বলে স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপির সমর্থকরা। এতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে দুপক্ষের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। দুটি মামলায় ৮২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৭০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার রাতে এ মামলা দুটি করা হয়েছে।
হিলারির বিরুদ্ধে মামলা করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনসহ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আরও কয়েকজন নেতা এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
২০১৬ সালের নির্বাচনি প্রচারের সময় ট্রাম্পের সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে বলে ডেমোক্র্যাট শিবির থেকে যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তা নিয়েই এতদিন পর মামলা করলেন এ রিপাবলিকান নেতা। খবর সিএনএন, রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ানের।
হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করার ৬ বছর পর ২০১৬ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ করে ডেমোক্র্যাট শিবির।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানা যায়, বৃহস্পতিবার হিলারি ক্লিনটন, ২০১৬ নির্বাচনে তার প্রচার দলের চেয়ারম্যান জন পোডেস্টা, সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমে, পারকিনস কোয়ি ল’ ফার্ম ও ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির নামে মামলা করেছেন ট্রাম্প।
ফ্লোরিডার একটি ফেডারেল আদালতে করা মামলায় বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে হিলারি ক্লিনটন ও তার সহযোগীরা এক ‘অভাবনীয় ষড়যন্ত্র’ করেছিলেন, যা ছিল বিবেকের ওপর চরম আঘাত ও মার্কিন গণতন্ত্রের স্পষ্ট অবমাননা।
ট্রাম্পের মামলায় সাবেক ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার স্টিলিকেও আসামি করা হয়েছে। ২০১৬ নির্বাচনি প্রচারণার সময় স্টিলি ট্রাম্পের কথিত গোপন তথ্য সংবলিত একটি ডসিয়ার তৈরি করেছিলেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বরাবরই এসব তথ্য ভুয়া বলে দাবি করে আসছেন এবং মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমসও বলেছে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তোলা অনেক অভিযোগেরই সমর্থনযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই।
রাশিয়ার যে বিশ্লেষক ডসিয়ারটি তৈরিতে সাহায্য করেছিলেন, তাকে এফবিআই এজেন্টদের কাছে মিথ্যা বলার জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের বিষয়ে গবেষণার জন্য ফিউশন জিপিএস নামে যে বেসরকারি ফার্মকে ভাড়া করেছিল পারকিনস কোয়ি ল’ ফার্ম, তাদেরও আসামি করা হয়েছে বৃহস্পতিবারের মামলায়।
ট্রাম্প তার অভিযোগের বিষয়ে একটি জুরি ট্রায়াল আশা করছেন এবং মানহানিসহ অন্যান্য ক্ষতির জন্য অন্তত ৭ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
১০৮ পাতার অভিযোগে এও বলা হয়েছে যে, ২০২০ সালের নির্বাচনে প্রতারণা করে জিতেছেন জো বাইডেন।
ট্রাম্পের অভিযোগ, আসামিরা বিদ্বেষপূর্ণভাবে একটি মিথ্যা গল্প বুনতে ষড়যন্ত্র করেছিলেন যে, তাদের রিপাবলিকান প্রতিপক্ষ একটি বৈরী সম্পর্কযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে যোগসাজশ করছেন। তাদের ঐক্যবদ্ধ এই কর্মকাণ্ডের একটাই উদ্দেশ্য ছিল: ডোনাল্ড ট্রাম্পের মানহানি করা।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, আসামিরা ষড়যন্ত্র এগিয়ে নিতে ভুয়া প্রমাণ তৈরি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে প্রতারণা ও সংবেদনশীল তথ্যের উৎসগুলো বিনষ্ট করায় এতটাই আপত্তিকর এবং ধ্বংসাত্মক ছিল যে, এর সামনে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারিও তুচ্ছ মনে হয়।
আফগানিস্তানে আকস্মিক সফরে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী
চীনের স্টেট কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এক আকস্মিক সফরে বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল পৌঁছেছেন।
এ সফরের আগে দুই পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। খবর গ্লোবাল টাইমসের।
এর আগে গত সোম ও মঙ্গলবার তিনি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন।
আগামী ৩০ ও ৩১ মার্চ আফগানিস্তান বিষয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর অংশগ্রহণে একটি সম্মেলন করতে যাচ্ছে বেইজিং। এর এক সপ্তাহ আগে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফগানিস্তানে এ সফর করছেন।
তালেবান সরকারকে কিভাবে সহযোগিতা করা যায় তা নিয়ে সেখানে আলোচনা হবে। এর আগে ইরান ও পাকিস্তান এ ধরনের সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
তালেবান ক্ষমতায় আসার পর চীন সরকারের পক্ষ থেকে ওয়াং ই সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা হিসেবে প্রথম আফগানিস্তান সফর করলেন।
রাজধানী কাবুলে পৌঁছানোর পর ওয়াং ই-কে দেশটির ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি অভ্যর্থনা জানান। আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে চীনের ভূমিকাসহ নানা ইস্যু নিয়ে দুপক্ষ আলোচনা করবে।
দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের মুখে দুর্নীতিবিরোধী কথা হাস্যকর: হানিফ
যে দলের প্রধান দুই নেতা দুর্নীতির দায়ে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত; তাদের মুখে দুর্নীতির কথা মানায় না। এমন দুর্নীতিগ্রস্ত দলের নেতাদের মুখে দুর্নীতিবিরোধী কথা হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ।
বৃহস্পতিবার কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেছেন।
হানিফ বলেন, দুর্নীতির দায়ে তারেক রহমান বিদেশে পলাতক রয়েছে আর খালেদা জিয়া দেশেই কারাভোগ করছেন। দুর্নীতি জায়েজ করতে তারা নিজ দলের গঠনতন্ত্রেরও পরিবর্তন এনেছেন।
তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে দেশকে দুর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন করেছিল। তাই দেশের জনগণ বিএনপিকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি বলেন, যে কর্মীর চুলায় আগুন জ্বলে না তাদের মূল্যায়ন করা হয় না দলে। নেতাদের তেল মারার জন্য বড় বড় সাইনবোর্ড টাঙিয়ে মন জয়ের চেষ্টা করা হয়। এসব নেতাকর্মীরা মাঝে মধ্যে বিশেষ সুবিধাও দিয়ে থাকে।
তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, যারা রাজনৈতিক দলের পদ পদবী বিক্রি করে তাদের দেহ ব্যবসায়ীদের চেয়ে নিকৃষ্ট।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সায়ীদ মোহাম্মদ স্বপন, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, কক্সবাজার সদর রামু আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল, মহেশখালী কুতুবদিয়া আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক মুকুল প্রমুখ।
ইউক্রেনের পক্ষে ভোট দিল বাংলাদেশ
রাশিয়ার হামলার জেরে সৃষ্ট মানবিক সংকট নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে ইউক্রেনের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে বাংলাদেশে।
বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে পরিষদের জরুরি অধিবেশন এ ভোটাভুটি হয়েছে।
প্রস্তাবটি বুধবার উত্থাপন করে ইউক্রেন। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১৪০ সদস্য দেশ। ভোটদানে বিরত ছিল ৩৮ দেশ। আর প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে পাঁচটি দেশ। এই পাঁচ দেশ হলো রাশিয়া, বেলারুশ, উত্তর কোরিয়া, ইরিত্রিয়া ও সিরিয়া। তবে এই প্রস্তাব মেনে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই রাশিয়ার।
এদিনই ইউক্রেনের ‘মানবিক পরিস্থিতি’ নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল রাশিয়াও। তবে সেটি গৃহীত হয়নি।
ইউক্রেনের আনীত ওই প্রস্তাবটি ১৪০ ভোটে পাস হয়েছে। খবর এএফপির।
এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবে ইউক্রেনের পক্ষে অর্থাৎ মানবিক সংকট নিরসনে ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে ভোট দেয় ১৪০ সদস্যদেশ।
এর আগে গত ২ মার্চ ইউক্রেনে হামলা বন্ধে সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব পাস করে ১৪১ দেশ।
তখন ওই প্রস্তাবে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল বাংলাদেশ। ভারত, চীন, বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ ৩৫টি দেশ ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল। প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয় রাশিয়াসহ পাঁচটি দেশ।
বিভীষিকার সেই কালরাত আজ
সময় থমকে গিয়েছিল এ বাংলার বুকে। তার পাতায় পড়েছিল কালিমার ছাপ। আর পৃথিবী নীরব চোখে দেখেছিল এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞ।
মেশিনগানের গুলিতে মারা হয়েছিল নিরস্ত্র বাঙালিদের। বাদ যায়নি বৃদ্ধ-বয়স্ক-জোয়ান-কিশোর-শিশু কেউ। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘরবাড়ি। আজ সেই বিভীষকার ২৫ মার্চের কালরাত।
পাকিস্তানি সামরিক জান্তার আগ্রাসনে বাংলার বুকে নেমে এসেছিল মৃত্যুর কালো আঁধার। স্বাধীনতাকামী বাঙালির ওপর বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী হিংস্র হায়েনার মতো হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে ১৯৭১ সালের এদিন রাত ১০টা অতিক্রম করার সঙ্গে সঙ্গে শুরু করে দেশব্যাপী পৃথিবীর ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলীলা। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পরিচিত ছিল এ হত্যা-অভিযান। শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ এড়িয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া বাঙালি হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়নের পথেই এগিয়েছিলেন। অত্যাচার, উৎপীড়ন, পাশবিকতা, নৃশংসতা আর হিংস্রতার কালো থাবায় মৃত্যুর নগরীতে পরিণত করেছিলেন ঢাকা শহরকে।
বর্বর হত্যাযজ্ঞের এ দিনটি ‘গণহত্যা দিবস’ হিসাবে বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে। দিনটিকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসাবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের কাজ চলছে। এ দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। স্বাধীনতার জন্য প্রাণ উৎসর্গকারীদের প্রতি তারা গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
১৯৭১ সালের এ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদাররা রাজারবাগ পুলিশলাইন, পিলখানা ইপিআর সদর দপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা ঢাকা শহরে চালায় হত্যাযজ্ঞ এবং অগ্নিসংযোগ। এ রাতেই গ্রেফতার করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তিনি দেশকে শুত্রুমুক্ত করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান। এ রাতের বেদনাদায়ক ঘটনা সমগ্র জাতিকে শিহরিত করে। হত্যা করে সেদিন মুক্তিকামী মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করা যায়নি। ভয়াবহ সেই হত্যাযজ্ঞ বাঙালিকে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রণোদনা জোগায়।
প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের এদিন সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে সরাসরি এয়ারপোর্ট চলে যান। নিরপরাধ বাঙালিদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়ে রাত পৌনে ৮টায় তিনি গোপনে বিমানে ঢাকা ত্যাগ করেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এ রাতে শহরে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা করে।
রাত ১টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে পরিকল্পনা অনুযায়ী ২২তম বেলুচ রেজিমেন্টের সৈন্যরা পিলখানা ইপিআর হেডকোয়ার্টারে আক্রমণ চালায়। কেন্দ্রীয় কোয়ার্টারে ১৮ জন বাঙালি গার্ড থাকলেও তারা পালটা আক্রমণের সুযোগ পাননি। পিলখানা আক্রমণের পাশাপাশি রাজারবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাঁখারি বাজারসহ সমগ্র ঢাকাতেই শুরু হয় প্রচণ্ড আক্রমণ। বিভিন্ন এলাকাতে যথেচ্ছ হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ করে বর্বর হানাদার বাহিনী।
মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকে ট্যাংক ও সেনা বোঝাই লরি। ইকবাল হল (বর্তমানে জহুরুল হক হল), জগন্নাথ হলে মধ্যযুগীয় কায়দায় চলে পাকিস্তানি হানাদারদের বর্বরতা। শহিদ হন কয়েকশ ছাত্রছাত্রী। ড. গোবিন্দচন্দ্র দেব, ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, ড. মনিরুজ্জামানসহ বিভিন্ন বিভাগের নয়জন শিক্ষককে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। হানাদারর চলার পথে রাস্তার দুপাশে গুলি ছুড়ে মারে অসংখ্য নিরীহ, গরিব মানুষকে। মেডিকেল কলেজ ও ছাত্রাবাসে গোলার পর গোলা ছুড়ে হত্যা করা হয় অজস্র মানুষকে। রাজারবাগে পুলিশের বাঙালি সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তাদের সামান্য অস্ত্রশস্ত্র দিয়েই।
ট্যাংক আর ভারী মেশিনগানের মুখে এ প্রতিরোধ বেশিক্ষণ টেকেনি। গ্যাসোলিন ছিটিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় পুরো সদর দপ্তর।
২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে মুক্তিসংগ্রামের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। গোপন ওয়্যারলেস বার্তায় তিনি বলেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আমাদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। ছাত্র-জনতা-পুলিশ-ইপিআর শত্রুর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রাম শুরু হয়েছে। আমি ঘোষণা করছি, আজ থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। সর্বস্তরের নাগরিকদের আমি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা যে যেখানে যে অবস্থাতেই থাকুন, যার যা আছে তাই নিয়ে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ না করা পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। সম্মিলিতভাবে শত্রুর মোকাবিলা করুন। এ হয়তো আপনাদের প্রতি আমার শেষ বাণী হতে পারে। আপনারা শেষ শত্রুটি দেশ থেকে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যান।
এর আগে সকালে প্রেসিডেন্ট ভবনে ভুট্টো-ইয়াহিয়া এবং ইয়াহিয়া ও পিপলস পার্টির উপদেষ্টাদের মধ্যে আলোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধুর কাছে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার ঢাকা ত্যাগের খবর সঙ্গে সঙ্গেই পৌঁছেছিল। রাত ৯টার পর বঙ্গবন্ধু তার বাসভবনে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমরা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছি। কিন্তু জেনারেল ইয়াহিয়া খান সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের মধ্য দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে চাইছেন। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট অখণ্ড পাকিস্তানের সমাপ্তি টানতে চলেছেন।
বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার লিখিত বাণী পিলখানায় ইপিআর ব্যারাক ও অন্যান্য স্থান থেকে ওয়্যারলেসের মাধ্যমে সারা দেশে মেসেজ আকারে পাঠানো হয়। এ বার্তা চট্টগ্রাম ইপিআর সদর দপ্তরে পৌঁছায়। চট্টগ্রাম উপকূলে নোঙর করা একটি বিদেশি জাহাজও এ বার্তা গ্রহণ করে। চট্টগ্রামে অবস্থানকারী আওয়ামী লীগের শ্রম সম্পাদক জহুর আহমেদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার বাণী সাইক্লোস্টাইল করে রাতেই শহরবাসীর মধ্যে বিলির ব্যবস্থা করেন।
রাত ১টায় পাকিস্তানি বাহিনীর একটি দল বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের অদূরে শুক্রাবাদে ব্যারিকেডের মুখোমুখি হয়। এখানে প্রতিরোধ ব্যূহ ভেঙে হানাদাররা রাত দেড়টায় বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনে আসে। তারা বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে এলাপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। বঙ্গবন্ধুকে রাত দেড়টায় বন্দি করে শেরেবাংলা নগরের সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে স্থানান্তর করা হয় সেনানিবাসে। সকাল পর্যন্ত আদমজী কলেজের একটি কক্ষে তাকে আটক রাখা হয়।
২৫ মার্চের পরদিন সকালে লুকিয়ে জগন্নাথ হলের হত্যাযজ্ঞের কিছু আলোকচিত্র ও ভিডিও ধারণ করেছিলেন বুয়েটের অধ্যাপক ড. নূরুল উলা। ১৯৭২ সালে বাংলার বাণী পত্রিকার এক বিশেষ সংখ্যায় ‘জগন্নাথ হলের মাঠে’ শীর্ষক লেখায় তিনি লিখেন, ‘২৬ মার্চ সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যবর্তী সময়ে ক্যামেরা চালু করি। জানালা দিয়ে লক্ষ্য করলাম, জগন্নাথ হলের সামনেই মাঠে কিছু ছেলেকে ধরে বাইরে আনা হচ্ছে এবং তাদের লাইনে দাঁড় করানো হচ্ছে। তখনই আমার সন্দেহ হয় এবং আমি ক্যামেরা অন করি। দেখলাম একজন বুড়ো দাড়িওয়ালা লোক রয়েছে। সে বসে পড়ে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইছে। তার দাড়ি দেখিয়ে বোঝাতে চেয়েছিল যে সে মুসলমান। কিন্তু বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী তার কোনো কথাই শুনতে চায়নি। তাকে গুলি করে মারা হলো। মাঠের পূর্ব পাশে পাকিস্তানি বাহিনী একটা তাঁবু বানিয়ে ছাউনি করেছিল। সেখানে দেখছিলাম, ওরা চেয়ারে বসে বেশ কয়েকজন চা খাচ্ছে আর হাসি-তামাশা ও আনন্দ-উল্লাসে ফেটে পড়ছে। যাদের আমার চোখের সামনে মারা হয়েছে ও যাদের মারার ছবি আমার ক্যামেরায় রয়েছে, তাদের দিয়ে প্রথমে হলের ভেতর থেকে মৃতদেহ বের করে আনা হচ্ছিল। মৃতদেহগুলো এনে সব এক জায়গায় জমা করা হচ্ছিল এবং ওদের দিয়ে লেবারের কাজ করানোর পর আবার ওদেরই লাইনে দাঁড় করিয়ে এক সারিতে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমার মনে হয়, প্রায় ৭০-৮০ জনের মৃতদেহ এক জায়গায় জমা করা হয়েছিল।
শহিদ জননী জাহানার ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলি’ গ্রন্থে কালরাত নিয়ে ২৬ মার্চের লেখার এক জায়গায় লিখেছেন, রাজারবাগ পুলিশ লাইনে প্রচণ্ড যুদ্ধের পর বাঙালি পুলিশরা বেশিরভাগ প্রাণ দিয়েছে। অল্প কয়েকজন পালাতে পেরেছে। রাজারবাগ পুলিশ লাইন পাকসেনার গুলিতে ঝাঁজরা। পাক আর্মি ‘দ্য পিপল’ অফিস পুড়িয়েছে, পুড়িয়েছে ইত্তেফাক অফিস। ঢাকায় যত বাজার আছে, বস্তি আছে, সব জায়গা আগুনে পুড়ে ছাই-ছাই হয়েছে রায়েরবাজার, ঠাটারি বাজার, নয়াবাজার, শাঁখারি পট্টি।’
ইয়াবা-হেরোইনসহ ৫৯ জনকে গ্রেফতার
বিপুল পরিমান ইয়াবা, হেরোইন এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্যসহ অন্তত ৫৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক সেবন ও বেচাকেনায় জড়িত সন্দেহে তাদেরকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।
বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে শুক্রবার একই সময় পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ৩২১৫ পিস ইয়াবা বড়ি, ২৩ বোতল দেশি মদ, ১০২ গ্রাম ৫১ পুরিয়া হেরোইন ও ২৫ কেজি ৮১২ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪০টি মামলা করা হয়েছে।
বিদেশি কর্মী নিয়োগে খরচের নীতি প্রবর্তনের আহবান এমইএফের
মালয়েশিয়ান এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (এমইএফ) বলেছে, নিয়োগকর্তারা বিদেশি কর্মী নিয়োগের সব খরচ বহন করতে চায় আর এজন্য একটি সামগ্রিক খরচের নীতি প্রবর্তনের জন্য সরকারকে অনুরোধ করেছেন এমইএফের সভাপতি দাতুক ড. সৈয়দ হুসেইন সৈয়দ হুসমান। তিনি সে দেশে প্রবেশকারী বিদেশি কর্মীদের জন্য কোয়ারেন্টাইন এবং বাসস্থানের খরচ পর্যালোচনা করার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
২১ মার্চ এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিদেশী কর্মী নিয়োগের খরচ খুবই ব্যয়বহুল। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশে এজেন্টের ফি দেওয়াসহ একজন বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগের খরচ প্রায় ২০,০০০ রিঙ্গিত ( ৪ লক্ষাধিক টাকা)। একজন ইন্দোনেশিয়ান গৃহকর্মী নিয়োগের খরচ প্রায় ২০,০০০ রিঙ্গিত – ২৫,০০০ রিঙ্গিত।
২১ মার্চ এমইএফ সভাপতি এক বিবৃতিতে এসব উল্লেখ করে শ্রমিক উৎস দেশে নিয়োগকারী এজেন্টদের দ্বারা আরোপিত চার্জের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ এবং খরচ স্থায়ী করতে নেগোসিয়েট করার জন্য সরকারকে অনুরোধ করেছেন।
সৈয়দ হুসেন সরকারকে ক্লাং উপত্যকার বাইরে কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র স্থাপন এবং কোয়ারেন্টাইনের খরচ কমাতে এর সর্বোচ্চ সিলিং নির্ধারণ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
“আগমনের পরে বিদেশী কর্মীদের ক্লাং উপত্যকায় অবস্থিত কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রগুলিতে থাকতে হবে। কোয়ারেন্টাইনের আনুমানিক খরচ ২,০০০ রিঙ্গিত থেকে ৩,০০০ রিঙ্গিত যার মধ্যে, আবাসন, খাবার এবং পানীয় (দিনে তিনবার), কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে পরিবহনের এবং কোয়ারেন্টাইন সময়কালে কোভিড -১৯ স্ক্রিনিংসহ। বিদেশী কর্মীদের জন্য বাসস্থানের খরচও যুক্তিযুক্ত করা দরকার। আইন ৪৪৬ অনুযায়ী নিয়োগকারীরা প্রত্যেক বিদেশী কর্মীর আবাসনর জন্য প্রতি মাসে প্রায় ৩০০ রিঙ্গিত থেকে ৪০০ রিঙ্গিত দেয়। বর্তমানে নিয়োগকর্তারা আবাসনের জন্য প্রত্যেক শ্রমিকের নিকট প্রতি মাসে শুধুমাত্র ১০০ রিঙ্গিত চার্জ করার অনুমতি পাচ্ছে।
সৈয়দ হুসেন বলেন, এমইএফ সরকারের কাছে আবেদন করেন যাতে নিয়োগকর্তারা বিদেশী কর্মীদের নিকট থেকে আবাসন বাবদ প্রকৃত খরচ আদায় করতে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশি কর্মীদের ফ্রি আবাসন নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়োগকর্তার সেক্ষেত্রে আবাসন খরচ কর্মীদের কাছ থেকে আদায় করা যৌক্তিক হবে না।
পাঁচ বছর পর রোহিঙ্গা নিধনকে ‘গণহত্যা’ বলল যুক্তরাষ্ট্র
মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী কর্তৃক সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের নিধনকে পাঁচ বছর পর আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন স্থানীয় সময় সোমবার (২১ মার্চ) ওয়াশিংটনের ইউএস হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের এই স্বীকৃতির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। এই হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়ামে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা নিয়ে একটি প্রদর্শনী চলছে।
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির সামরিক বাহিনীর সহিংসতার শিকার হন কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। তাদের নিধনে চালানো হয় গণহত্যা। জীবন বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে ১০ লাখের বেশি মানুষ আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওআইসির সহযোগিতায় ২০১৯ সালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলা করে গাম্বিয়া। ওই বছর মামলার প্রথম দফার শুনানিও হয়; কিন্তু এসব ঘটনার পরও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতাকে গণহত্যার স্বীকৃতি দেওয়া থেকে বিরত ছিল যুক্তরাষ্ট্র।
রোহিঙ্গা নির্যাতনকে দ্রুত গণহত্যা হিসেবে স্বীকার করার জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এতে সহায়তা করেছে অন্য একটি আইনি সংস্থা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় ১৪ মাস পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে গণহত্যার স্বীকৃতি দিয়ে মিয়ানমারে সহিংসতার বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অ্যান্টনি ব্লিংকেন। এর আগে বিষয়টি স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।
যুক্তরাষ্ট্র এই প্রথম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর সহিংসতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন গত বছরের ডিসেম্বরে মালয়েশিয়া সফরের সময় বলেছিলেন, রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমারের আচরণ গণহত্যা কি না, তা খুবই সক্রিয়ভাবে খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।
রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে মামলা চলছে। দ্য হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ২০১৯ সালে মামলাটির প্রাথমিক শুনানি শুরু হয়। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের নভেম্বরে আইসিজেতে মামলাটি করে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।
জাতিসংঘের একটি ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন’ ২০১৮ সালে এই উপসংহারে পৌঁছায় যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযানে ‘গণহত্যামূলক কাজ’ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে তখন ওয়াশিংটন এই নৃশংসতাকে ‘জাতিগত নির্মূল’ হিসেবে অভিহিত করেছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে এই শব্দবন্ধের কোনো আইনগত সংজ্ঞা নেই।
সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির সদস্য সেন জেফ মার্কলে রোববার এক বিবৃতিতে বলেছেন, অবশেষে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতাকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আমি বাইডেন প্রশাসনকে সাধুবাদ জানাই। যদিও অনেক দেরিতে এই স্বীকৃতি এসেছে। তবুও মিয়ানমার জান্তাকে জবাবদিহি করতে এই স্বীকৃতি একটি শক্তিশালী এবং সমালোচনামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এ বিষয়ে জানতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনে মিয়ানমার দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং দেশটির সামরিক জান্তার এক মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য করেননি তারা।
ব্ল্যাক হোলের হার্টবিট
ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর মহাকাশের এমন একটি বিশেষ স্থান যেখান থেকে কোনো কিছু, এমনকি আলো পর্যন্ত বের হয়ে আসতে পারে না। এটা তৈরি হয় খুবই বেশি পরিমাণ ঘনত্ব বিশিষ্ট ভর থেকে। কোনো অল্প স্থানে খুব বেশি পরিমাণ ভর একত্র হলে সেটি আর স্বাভাবিক অবস্থায় থাকতে পারে না। এই কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে গবেষণা নতুন কিছু নয়। আইনস্টাইন থেকে শুরু করে বিশ্বের বড় বড় বিজ্ঞানীরা ব্ল্যাক হোল নিয়ে দিনের পর দিন গবেষণা করেছেন। এখনো চলছে নানা গবেষণা। কয়েক বছর আগেই বিজ্ঞানীরা ব্ল্যাক হোলের ছবি প্রকাশ করে এর অস্তিত্বের প্রমাণ দিয়েছিলেন। এবার এর হার্টবিট বা হৃদস্পন্দনের ছবি তুললেন বিজ্ঞানীরা। আর সেই ছবিই প্লাজমা জেটগুলোর একটি বড় রহস্যের সমাধান করেছে।
ব্ল্যাক হোলের এই হার্টবিট বা তার থেকে নির্গত আলোর ওঠানামা প্রায় ১৫ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। আর সেই পর্যবেক্ষণ থেকে উঠে এসেছে, ব্ল্যাক হোলের খাওয়ানোর ধরন সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। ব্ল্যাক হোলের ইভেন্ট হরাইজনের বাইরে রয়েছে একটি কাঠামো, যাকে বলা হয় করোনা ফর্মস। সেখানেই প্লাজমার শক্তিশালী জেটগুলো খুঁটি থেকে উৎক্ষেপণ শুরু করে। এই প্রক্রিয়াটি করোনা থেকে উপাদানকে শূন্যে আলোর কাছাকাছি গতিতে ইন্টারস্টেলার স্পেস বা আন্তঃনাক্ষত্রিক স্থানে ঠেলে দেয়। এ প্রক্রিয়াটিকেই বলা হচ্ছে কৃষ্ণগহ্বরের হৃদস্পন্দন বা ব্ল্যাক হোলের হার্টবিট। ব্ল্যাক হোল কীভাবে কাজ করে, সেই সংক্রান্ত সব দ্বন্দ্বের সমাধান করে দিচ্ছে এই প্রক্রিয়া।
যদিও আগে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, করোনা ও জেট একই জিনিস। কিন্তু পরে দেখা গেল, তারা একের পর এক উত্থিত হয় এবং জেটটি করোনা থেকে অনুসরণ করে বলে জানিয়েছে নিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট মারিয়ানো মেন্ডেজ। পর্যবেক্ষণের জন্য যে ব্ল্যাক হোলটিকে কাজে লাগানো হয়েছিল, সেটির নাম জিআরএস ১৯১৫ + ১০৫। সূর্য থেকে প্রায় ৩৬ হাজার আলোকবর্ষ দূরে এর অবস্থান।

