শনিবার ,১৫ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 380

আইস-ইয়াবাসহ মিয়ানমারের ২ নাগরিক আটক

কক্সবাজারের টেকনাফে ১ কেজি ৬৯ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ বা আইস এবং ৫৪ হাজার পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করেছে বিজিবি ২ ব্যাটালিয়ন সদস্যরা।

এ সময় আটক করা হয়েছে দুই মিয়ানমার নাগরিকসহ একটি নৌকা।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- মিয়ানমার মংডু এলাকার মো. সিরাজ উদ্দীনের ছেলে মো. জুবায়ের আহমদ (২২) এবং মৃত আব্দুল গনির ছেলে মো. রফিক (২৩)।

শনিবার সকালে টেকনাফ বিজিবি ২ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার গণমাধ্যম পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ভোর জালিয়ারদ্বীপ এলাকায় নাফ নদীর সীমান্ত দিয়ে মাদকের একটি চালান মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পাচার হতে পারে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ সদর ও দমদমিয়া বিওপি থেকে দুইটি বিশেষ টহল দল নাফ নদীর জালিয়ারদ্বীপে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে।

আগত নৌকাটি বাংলাদেশের অভ্যন্তর প্রবেশেকালে বিজিবি থামার সংকেত দিলে পালিয়ে যেতে চেষ্টা করলে ধাওয়া করে নৌকাটি আটক করেন। পরে ওই নৌকাটি তল্লাশি করে আইস ও ইয়াবা উদ্ধার করেন।

তিনি আরও জানান, ক্রিস্টাল মেথ আইস, ইয়াবা বহন, পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ব্যক্তি ও জব্দকৃত মাদকসহ নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ইউক্রেনকে আরও ৩০০ মিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিচ্ছে পেন্টাগন

নিরাপত্তা সহায়তার হিসেবে ইউক্রেনকে অতিরিক্ত ৩০০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

শুক্রবার পেন্টাগন এ সহায়তা ঘোষণা করে। খবর বিবিসির।

অর্থের সহায়তা প্যাকেজে থাকছে- লেজার ও নির্দেশিত রকেট সিস্টেম, অত্যাধুনিক ড্রোন, হামভি গাড়ি, রাতে দেখার চশমা, মেশিন গান এবং চিকিৎসা সামগ্রী।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি আগে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর এখন পর্যন্ত কিয়েভকে ১.৬ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীকে আরও সুসংহত করার জন্য একটি চুক্তি প্রক্রিয়ার শুরুর প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ওয়াশিংটন এই সামরিক সহায়তা প্যাকেজ দিচ্ছে।

রুশ এবং বেলারুশিয়ান প্রতিরক্ষা, মহাকাশ এবং সামুদ্রিক খাতে ১২০টি সংস্থার ওপর শুক্রবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ।

বাণিজ্য সচিব জিনা রাইমন্দো বলেছেন, ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেন আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত তার দেশ এবং অর্থনীতিকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। শুক্রবারের পদক্ষেপ সেই বিচ্ছিন্নতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে গেছে।

আমাকে খুন করা হতে পারে: ইমরান খান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, আমার জীবন বিপদের মুখে। আমাকে খুন করা হতে পারে।

শুক্রবার এআরওয়াই নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ শঙ্কার কথা বলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার এমন কথাই পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গণে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী ইমরান খান দাবি করেন, তার জীবন বিপন্ন। বিশ্বস্ত এক সূত্রে এমন খবর পেয়েছেন তিনি। তবে সেই ভয়ে তিনি পিছপা হবেন না।

তিনি বলেন, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক পাকিস্তানের জন্য যত দূর লড়াই করতে হয় করব। এ জন্য আমার প্রাণহানির আশঙ্কা থাকলেও ভয় পাই না।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, তার সামনে তিনটি পথ বেছে দেওয়া হয়েছে। আর সেই পথ বেছে দিয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো আস্থাভোট, দ্বিতীয়টি দ্রুত নির্বাচন এবং তৃতীয় পথ থেকে সরে দাড়ানো। এই তিন পথের মধ্যে প্রথমটি রোববার।

অর্থাৎ ওইদিন আস্থাভোটে ইমরানকে নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে। ফলাফল স্রোতের প্রতিকূলে হলে দ্বিতীয় পথটি বেছে নেবেন, দ্রুত নির্বাচন।

ইমরান বলেন, আমার প্রাণহানির আশঙ্কা তো আছেই, সেই সঙ্গে বিরোধীরাও আমাকে সরাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সে কারণে বিদেশি শক্তির সঙ্গেও হাত মিলিয়েছে তারা। বিরোধীরা আমার চরিত্রহনন করতেও ছাড়ছে না। এমনকি আমার স্ত্রীর চরিত্র তুলেও আক্রমণ করছে।

প্রসঙ্গত, ৭৫ বছরের ইতিহাসে পাকিস্তানে এখন পর্যন্ত কোনো প্রধানমন্ত্রী তার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে বিপর্যয় ডেকে এনেছে অভিযোগ করে অনাস্থা প্রস্তাব দেয় বিরোধীরা। ৪ এপ্রিলের মধ্যে এই প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হবে।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর আগে দুবার দায়িত্বরত প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়েছে। তবে সেই দুবারই তত্কালীন প্রধানমন্ত্রীরা (১৯৮৯ সালে বেনজীর ভুট্টো এবং ২০০৬ সালে শওকত আজিজ) দায়িত্বে থেকে যেতে সক্ষম হন।

এ আর রহমানকে কর সুবিধা দিল এনবিআর

‘ক্রিকেট সেলিব্রেটস মুজিব হানড্রেড’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন অস্কারজয়ী কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ এ আর রহমানসহ দেশী-বিদেশি দুই শতাধিক শিল্পী ও কলাকুশলী।

তাদের ফি বা পারিশ্রমিকসহ বিভিন্ন খরচের ওপর প্রযোজ্য আয়কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই তথ্য জানা গেছে।

গত ২৮ মার্চ এ বিষয়ে সিন্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। শনিবার এনবিআরের জনসংযোগ দপ্তর সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এনবিআরের আদেশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কর্তৃক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি শিল্পী ও কলাকুশীদের অংশগ্রহণে ২৯ মার্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানের জন্য অংশগ্রহণকারীদের ফি বা পারিশ্রমিক, আবাসন বা হোটেল ভাড়া, বিমান ভাড়া, যাতায়াতসহ অন্যান্য খরচের ওপর প্রযোজ্য সব প্রকার আয়কর প্রদান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।

এছাড়া অনুষ্ঠানের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অনুষ্ঠানের জন্য বিদেশ থেকে আমদানিতথ্য বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, সাউন্ড সিস্টেমস, লাইট, এলইডি স্ক্রিন, স্টেজ নির্মাণ সামগ্রী ও আতশবাজী সামগ্রীর ওপর আরোপণীয় উৎস আয়কর এবং টেলিভিশন প্রোডাকশন ব্যয়ের ওপর আরোপণী সব প্রকার আয়কর হতে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তবে শর্ত রয়েছে, কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত অর্থ দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যয় করতে হবে। এ আদেশ ২৮ মার্চ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।

ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা কমছে অর্থনীতিতে

করোনাভাইরাসের সংক্রমণজনিত ক্ষতি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা কমছে। এর মধ্যে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমায় আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। রেমিট্যান্স কমায় রিজার্ভ বাড়ার গতি থেমে গেছে। আমদানি ব্যয় মেটাতে ব্যাংকগুলোতে ডলারের সংকট হওয়ায় এর দাম বেড়ে টাকার মান কমে যাচ্ছে। ফলে কমছে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা।

ব্যাংকগুলোতে আমানত প্রবাহ কমা এবং ঋণপ্রবাহ বাড়ায় তারল্য ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে। ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাড়তি তারল্যের জোগান দিতে গিয়ে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে বাজারে। এসব মিলে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকগুলোর অবস্থান আগের চেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, গত ডিসেম্বরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৪ হাজার ৬১৫ কোটি ডলার, যা গড়ে ৫ মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান। গত সেপ্টেম্বরে ছিল ৪ হাজার ৬২০ কোটি ডলার। যা ওই সময়ে ৬ মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান ছিল। এর আগে করোনার আগে ২০১৯ সালের নয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমান রিজার্ভ ছিল। গত ২৩ মার্চ রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৩০ কোটি ডলার। যা দিয়ে ৫ মাসেরও কম সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনা ও যুদ্ধের প্রভাবে অর্থনীতিতে ঝুঁকির মাত্রা বেড়েছে। বিশেষ করে আমদানি ও কর্মসংস্থানজনিত ঝুঁকিই বেশি। এখন আমদানি ব্যয় বেশি হওয়ায় ও মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যাওয়ায় সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে চাপ বেড়েছে

। এই অবস্থায় রিজার্ভ বেশি থাকলে, ব্যাংকে তারল্য প্রবাহ পর্যাপ্ত হলে, বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ বাড়লে ঝুঁকি মোকাবিলা সহজ হতো। কিন্তু এগুলো হচ্ছে না। এখন বৈদেশিক মুদ্রার অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যয় কমিয়ে আয় বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্যাংকে সঞ্চয় বাড়িয়ে তারল্য বৃদ্ধি করতে হবে। ছোট ও মাঝারি শিল্প খাতকে চাঙ্গা করে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে দরিদ্রপ্রবণ এলাকাগুলোতে অর্থের প্রবাহ বাড়াতে হবে।

সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ও জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়ার কারণে আমদানি ব্যয় বেড়েছে লাগামহীনভাবে। গত অর্থবছরের জুলাই জানুয়ারির তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৪৬ শতাংশের বেশি। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে কমেছিল শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশ। দেশের মোট আমদানির ৬০ শতাংশ ব্যয় মেটানো হয় রপ্তানি আয়ের অর্থ দিয়ে।

বাকি ৪০ শতাংশ মেটানো হয় রেমিট্যান্স থেকে অর্থ নিয়ে। সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ কম থাকায় তা দিয়ে আমদানিসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাজারে ডলারের জোগান দিতে হচ্ছে। আমদানি ব্যয় মেটাতে গত ৯ মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৩৭৯ কোটি ৭০ লাখ ডলারের জোগান দেওয়া হয়েছে। ফলে রিজার্ভ কমেছে।

গত নয় মাসে রিজার্ভ কমেছে ২০৯ কোটি ডলার। এতে আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতাও কমে গেছে। যদিও আন্তর্জাতিক নিরাপদ মান অনুযায়ী কমপক্ষে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ থাকলেই তাকে নিরাপদ ধরা হয়। আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের মতে অর্থনীতিতে ঝুঁকির প্রবণতা বাড়লে কমপক্ষে ৫ মাসের সমান রিজার্ভ থাকতে হয়। বর্তমানে করোনা ও যুদ্ধের প্রভাবে ঝুঁকির মাত্রা বেড়েছে। ফলে আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য রিজার্ভও বেশি থাকতে হবে। কেননা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলসহ প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়ছে।

এদিকে চলতি অর্থবছরের জুলাই ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ। এর বিপরীতে আমদানি বেড়েছে ৪৬ শতাংশের বেশি। ফলে বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়েছে। গত অর্থবছরের জুলাই ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স বেড়েছিল ৩৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে কমেছে ২০ শতাংশ। ফলে সার্বিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রা আয় কমে গেছে।

অন্যদিকে আমদানি খাতের চলতি ব্যয়সহ বকেয়া দেনা পরিশোধ, চিকিৎসা, শিক্ষা ও ভ্রমণ খাতে বৈদেশিক মুদ্রার খরচ বাড়ায় সার্বিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়ে গেছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার চলতি হিসাবে ঘাটতি বেড়ে গেছে। গত অর্থবছরের জুলাই জানুয়ারি সময়ে চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত ছিল ১৫৫ কোটি ডলার।

চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ঘাটতি হয়েছে ১ হাজার ৬ কোটি ডলার। এতে বিনিময় হারে চাপ পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে গত এক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হিসাবে টাকার মান কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ।

এদিকে সার্বিকভাবে ঋণপ্রবাহ বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এখনো বেশ কম রয়েছে। বিনিয়োগও মন্দা বিদ্যমান। ফলে ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতাও কমছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে ৮৩ দশমিক ৭০ শতাংশ ছিল বেসরকারি খাতের। গত ডিসেম্বরে তা কমে ৮২ দশমিক ৪৫ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ বেসরকারি খাতে ঋণের অংশ কমে গেছে। অথচ জিডিপিতে বেসরকারি খাতের অবদানই বেশি। মোট কর্মসংস্থানের ৫ শতাংশ সরকারি খাতে। বাকি ৯৫ শতাংশই বেসরকারি খাতে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই জানুয়ারিতে বৈদেশিক সম্পদের প্রবৃদ্ধি কমেছে ২ দশমিক ২৩ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। অথচ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির। আমদানি ব্যয় মাত্রাতিরিক্ত বাড়ায় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ কমায় বৈদেশিক সম্পদের প্রবৃদ্ধি কমেছে।

তাদেরকে সরে যেতে হবে: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকারের ওপর এদেশের মানুষের আর কোনো আস্থা নেই। তাদেরকে সরে যেতে হবে। আর একটি নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচনের মাধ্যমে একটা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেই আন্দোলন আমাদের শুরু করতে হবে।

শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির যৌথ উদ্যোগে ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সর্বগ্রাসী দুর্নীতির প্রতিবাদে’ এক প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে এ মন্তব্য করেন তিনি। সকাল ১০টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতেরর মধ্যে এ কর্মসূচি শুরু হয়। চলবে বিকাল ৩টা পর্যন্ত।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার জনগণকে স্বস্তি দিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এই সরকার ব্যর্থ হয়েছে আমাদের চাল, ডাল, তেল, লবণসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম কমাতে। এই সরকার কি করছে? তাদের সম্পূর্ণ যে ব্যর্থতা এবং তাদের লাগামহীন যে লোভ এবং তাদের সিন্ডিকেটে লোভের কারণে প্রত্যেকটি জিনিসের মূল্য আকাশচুম্বি হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, আজকে ভয়াবহভাবে যে অবস্থার সৃষ্টি করেছে এই ‘অনির্বাচিত’ আওয়ামী লীগ সরকার। তাদেরকে যদি আমরা পরাজিত করতে না পারি, তাদেরকে যদি ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে না পারি তাহলে এদেশের মানুষের অস্তিত্ব থাকবে না।

এদিকে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই ব্যানার ও ফেস্টুনসহ খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নগর বিএনপির বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং থানার নেতাকর্মীদেরকে কর্মসূচিতে জড়ো হতে দেখা গেছে। অনশনে নেতাকর্মীরা দ্রব্যমূল্যের দাম কমানো এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিসহ বিভিন্ন স্লোগানে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ মুখরিত করে তুলেছেন।

প্রতীকী অনশন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মৎস্য ভবন, কদম ফোয়ারা, পল্টনসহ প্রেসক্লাবের আশেপাশে কঠোর নিরাপত্তার বলয় গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন সংস্থার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে।

মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লা আমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আমিনুল হকের সঞ্চালনায় অনশনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, সহ প্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ কয়েকশ নেতাকর্মী উপস্থিত আছেন।

সংবিধানের বাইরে যাওয়ার পথ খোলা নেই: নানক

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, আপনি ক্ষণে বলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, ক্ষণে বলেন জাতীয় সরকার, ক্ষণে বলেন তারেকের সরকার। এই দিবাস্বপ্ন দেখে কোন লাভ নেই। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোন পথ আমাদের খোলা নেই।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের লালবাগ থানার অন্তর্গত ২৪ নং ওয়ার্ডের সম্মেলন তিনি এসব কথা বলেন।

আমলীগোলা বালুর ঘাট মাঠে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় নেতাকর্মীদের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, এই ষড়যন্ত্রকারীরা চুপ করে বসে নেই। তারা ষড়যন্ত্র করছে। সেই ষড়যন্ত্রের বিষদাঁত ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিতে হবে। তাছাড়া আমাদের কোন বিকল্প পথ নেই।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান রয়েছে। আমরা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যুদ্ধ করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সংবিধান অর্জন করেছি। সেই সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোন পথ আমাদের খোলা নেই। আপনি ক্ষণে বলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, ক্ষণে বলেন জাতীয় সরকার, ক্ষণে বলেন তারেকের সরকার; এই দিবা স্বপ্ন দেখে কোন লাভ নেই বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী।

ওয়ার্ড সম্মেলনে আগত নেতাকর্মীদের কিছু শৃংখলার প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, লালবাগ এসেছিলাম অনেক আশা করে। এই লালবাগ বঙ্গবন্ধুর ঘাঁটি, আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। এখানে একটি রাজনৈতিক স্লোগান পেলাম না। যে নেতাদের পক্ষে শ্লোগান দিচ্ছেন সেই নেতাদের লজ্জা করে কি না আমি জানি না। তবে আমি লজ্জা পেয়েছি। যাদের নামে স্লোগান দেয় তার কর্মীরা তারা লজ্জা পেয়েছে কি না জানি না?

এবিষয়ে তিনি আরও বলেন, ব্যক্তির প্রতি ব্যক্তির মোহ থাকতেই পারে। কিন্তু সেই ব্যক্তি কার উর্ধ্বে কিসের উপরে? একটি স্লোগান রাজনৈতিক স্লোগান ছিল না, এটা দুঃখজনক। লালবাগ এতো আওয়ামী লীগ ভরে গেছে, লালবাগ এতো রাজনৈতিক কর্মী বিমুখ হয়ে গেছে, আমি অবাক হয়ে গেছি। আমার মনে হয় যেন হাইব্রিড এসে দখল করে ফেলেছে লালবাগ। এসময় জাহাঙ্গীর কবির নানক নিজেই স্লোগান ধরেন। স্লোগানে তিনি ‘জয়বাংলা’ ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ বলার পর ‘শেখ হাসিনা এগিয়ে চলো…. স্লোগান দিতে শুরু করেন। উপস্থিত নেতাকর্মীরা তার স্লোগানে কন্ঠ মেলাতে থাকেন।

লালবাগ থানার আওতাধীন ২৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ইকরাম উল্লাহ সরওয়ার্দীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফী। প্রধান বক্তা হিসাবে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরসহ মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা। সম্মেলন পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন।

কাল রোজা কিনা জানা যাবে সন্ধ্যায়

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা শনিবার বাদ-মাগরিব (সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।

পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) এ সভার আয়োজন করেছে।

ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন। শুক্রবার এক সরকারি তথ্য বিবরণীতে এ কথা জানানো হয়।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেলে টেলিফোন নম্বর: ০২-২২৩৩৮১৭২৫, ০২-৪১০৫০৯১২, ০২-৪১০৫০৯১৬ ও ০২-৪১০৫০৯১৭ এবং ফ্যাক্স নম্বর: ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ ও ০২-৯৫৫৫৯৫১ অথবা সংশি¬ষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানোর জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আ.লীগ নেতা টিপু হত্যার মাস্টারমাইন্ডসহ গ্রেপ্তার ৪

রাজধানীর শাহজাহানপুরে ফিল্মিস্টাইলে দুর্বৃত্তের গুলিতে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপুর হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

শুক্রবার রাতে র‍্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানান।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, বহুল আলোচিত এবং চাঞ্চল্যকর জাহিদুল ইসলাম টিপু এবং সামিয়া আফরান প্রীতি হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড এবং টিপুকে অনুসরণকারীসহ চার জনকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও তিনি জানান।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের সামনের সড়কে দুর্বৃত্তরা টিপুকে লক্ষ্য করে এ গুলি চালায় বলে জানান স্থানীয়রা। এতে এক কলেজছাত্রীও নিহত হয়।

নিহতদের মধ্যে জাহিদুল ইসলাম টিপু (৫৪) মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। নিহত অপরজনের নাম সামিয়া আরেফিন প্রীতি (২৪)। তিনি বদরুন্নেসা কলেজের ছাত্রী ছিলেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির নাম মুন্না। তিনি নিহত জাহিদুল ইসলাম টিপুর গাড়িচালক বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, হামলার সময় টিপু একটি গাড়িতে ছিলেন। দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। রাত সোয়া ১১টার দিকে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

শুক্রবার সকালে শাহজাহানপুর থানায় করা এ মামলায় তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি। অজ্ঞাত আসামি হিসেবে মামলা করেছেন ডলি।

শাহজাহানপুর থানার ওসি মনির হোসেন মোল্লা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, নিহত জাহিদুল ইসলাম টিপুর স্ত্রী সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম ডলি শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলা নম্বর-১৮। অভিযোগে তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি।

মামলার এজাহারে টিপুর স্ত্রী অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে শাহজাহানপুর থানাধীন ২০২ উত্তর শাহজাহানপুর মানামা ভবনে বাটার দোকানের সামনে পৌঁছামাত্র অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা হামলা করেন। তারা আমার স্বামী জাহিদুল ইসলাম টিপুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে গুলি করেন।

রহমতের রমজান

ইবাদতের বসন্তকালখ্যাত ‘মাহে রমজান’-এর আগমনী বার্তায় মুখরিত পৃথিবী। আগামী শনিবার ২ এপ্রিল সন্ধ্যায় বাংলাদেশর আকাশে রমজানের চাঁদ দেখা গেলে ৩ এপ্রিল রোববার থেকে শুরু হবে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা।

রাতে তারাবির নামাজ পড়া এবং শেষ রাতে সেহরি খাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে মাহে রমজানের আনুষ্ঠানিকতা। রোজার মাসআলা-মাসায়িল, গুরুত্ব ও ফজিলত নিয়ে লিখেছেন-মাওলানা তোফায়েল গাজালি

রোজার নিয়ত

রোজার নিয়তের জন্য মুখ দিয়ে নির্ধারিত শব্দ বা বাক্য উচ্চারণ করা জরুরি নয়। বরং অন্তরের ইচ্ছাই যথেষ্ট। এমনকি রোজার জন্য সেহরি খাওয়াটাও নিয়তের স্থলাভিষিক্ত। কিছু লোক আরবিতে রোজার নিয়ত করাকে আবশ্যকীয় মনে করে থাকেন অথচ তা সঠিক নয় (জাওয়াহিরুল ফিক্হ ১/৩৭৮)। তবে আরবি নিয়ত করলে অসুবিধা নেই।

প্রত্যেক রোজার জন্য ভিন্ন ভিন্ন নিয়ত করা জরুরি (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া ১/১৯৫)। অর্ধ দিনের আগে নিয়ত করলে রোজা বিশুদ্ধ হয়ে যাবে (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া ১/১৯৫)।

আরবি নিয়ত : নাওয়াইতু আন আছুম্মা গাদাম মিন শাহরি রমাজানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা, ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।

বাংলায় নিয়ত : হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ (নিয়্যত) করলাম। অতএব, তুমি আমার পক্ষ থেকে (আমার রোজা তথা পানাহার থেকে বিরত থাকাকে) কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

বরকতময় সেহরি

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) নবি (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে দিনের রোজা পূর্ণ করার জন্য সাহায্য নাও এবং দুপুরে ঘুমের মাধ্যমে রাতের নামাজের জন্য সাহায্য নাও।’ (ইবনে মাজাহ : ১৬৯৩)। পেটে ক্ষুধা না থাকলেও সেহরি খাওয়া উচিত।

হজরত আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত-হাদিসে নবি (সা.) বলেছেন, ‘সেহরি খাওয়া বরকত। একে পরিত্যাগ করো না, যদিও এক ঢোক পানির মাধ্যমে হয়। আল্লাহ ও ফেরেশতা সেহরি ভক্ষণকারীদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।’ (মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল : ১১১০১)। সেহরি খুবই বরকতময় জিনিস। বিভিন্ন হাদিসে বিষয়টি ব্যক্ত হয়েছে। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত-নবি (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেহরি খাও, সেহরিতে বরকত আছে।’ (বুখারি : ১৮২৩)।

যদি কোনো ব্যক্তি সেহরি খাওয়া ছাড়াই রোজার নিয়ত করে নেয়, তথাপিও তার রোজা হয়ে যাবে। তবে সে সেহরির বরকত পাবে না। [শামী ৩/৪০০]। সেহরি দেরিতে করা মুস্তাহাব। তবে এত দেরি করা কাম্য নয় যে, সময়ের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়ে যায়। যা মাকরুহ। [হেদায়া ১/২২৫ মারাকিল ফালাহ ৩৭৩]।

ইফতারের ফজিলত

সারা দিন রোজা রেখে সূর্যাস্তের পর প্রথম যে পানাহারের মাধ্যমে উপবাস ভঙ্গ করা হয়, তাকে ‘ইফতার’ বলে। ইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা উত্তম। ইফতারের আগেই ইফতারি সামনে নিয়ে অপেক্ষা করা এবং যথাসময়ে ইফতার করা সুন্নাত।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে রোজাদারের দোয়া আল্লাহর কাছে এতই আকর্ষণীয় যে আল্লাহতায়ালা রমজানের সময় ফেরেশতাদের উদ্দেশে ঘোষণা করেন, ‘রমজানে তোমাদের পূর্বের দায়িত্ব মওকুফ করা হলো এবং নতুন দায়িত্বের আদেশ করা হলো, তা হলো আমার রোজাদার বান্দাগণ যখন কোনো দোয়া মোনাজাত করবে, তখন তোমরা আমিন! আমিন!! বলতে থাকবে।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক)।

মহানবি (সা.) বলেছেন, ‘রোজাদারের জন্য দুটি খুশি; একটি ইফতারের সময়, অপরটি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়।’ (মুসলিম)।

হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেন, ‘আমার বান্দাদের মধ্যে তারা আমার বেশি প্রিয়, যারা দ্রুত ইফতার করে।’ (তিরমিজি, আলফিয়্যাতুল হাদিস : ৫৬০, পৃষ্ঠা : ১৩১)। হজরত সাহল ইবনে সাআদ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যত দিন লোকেরা ওয়াক্ত হওয়ামাত্র ইফতার করবে, তত দিন তারা কল্যাণের ওপর থাকবে।’ (বুখারি, সাওম অধ্যায়, হাদিস : ১৮৩৩)।

খেজুর দ্বারা ইফতার করা সুন্নাত; যে কোনো ফল দ্বারা ইফতার করলেও সুন্নাত আদায় হবে। মিষ্টান্ন দ্বারা ইফতার করলেও সুন্নাত পালন হবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ রোজা রাখলে খেজুর দিয়ে যেন ইফতার করে, খেজুর না হলে পানি দ্বারা; নিশ্চয়ই পানি পবিত্র।’ (তিরমিজি ও আবু দাউদ; আলফিয়্যাতুল হাদিস : ৫৬২, পৃষ্ঠা : ১৩১-১৩২)।

ইফতার করা যেমন ফজিলতের, ইফতার করানোও তেমনি বরকতের। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, তার গুনাহ মাফ হয়ে যাবে, সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে এবং রোজাদারের সওয়াবের সমপরিমাণ সওয়াব সে লাভ করবে। তবে ওই রোজাদারের সওয়াব কম করা হবে না।’ সাহাবায়ে কিরাম বললেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ (সা.)!

আমাদের অনেকেরই রোজাদারকে ইফতার করানোর সামর্থ্য নেই।’ রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘পানিমিশ্রিত এক পেয়ালা দুধ বা একটি খেজুর অথবা এক ঢোক পানি দ্বারাও যদি কেউ কোনো রোজাদারকে ইফতার করায়, তাতেও সেই পরিমাণ সওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে তৃপ্তিসহকারে আহার করাবে, আল্লাহতায়ালা তাকে আমার হাউজে কাউসার থেকে এমন পানীয় পান করাবেন, যার ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করার পূর্ব পর্যন্ত তৃষ্ণার্ত হবে না।’ (মুসনাদে আহমাদ)।

ইফতারের দোয়া

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেওয়া রিজিকের মাধ্যমে ইফতার করছি।

তারাবিহের নামাজ

তারাবিহ অর্থ আরাম বা বিশ্রাম নেওয়া। হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) বলেন, রমজানের রাতে জামাতসহকারে যে নামাজ আদায় করা হয় তার নাম তারাবিহ রাখা হয়েছে এ জন্য যে, যখন সাহাবায়ে কেরাম এ নামাজের জন্য একত্রিত হতেন তখন তারা দুই সালাম অর্থাৎ চার রাকাতের পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম গ্রহণ করতেন। আর এ জন্যই এ নামাজের নাম রাখা হয় তারাবিহ [ফাতহুল বারী ৪/৩১৪]।

রমজানুল মোবারকে এশার নামাজের পর বিশ রাকাত তারাবিহ দশ সালামের সঙ্গে আদায় করা পুরুষ ও মহিলা সবার জন্য সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্ [দুররে মুখতার ২/৪২৯]।

তারাবিহের নিয়ত

তারাবিহের নামাজ এবং সব সুন্নাত ও নফল নামাজের জন্য সাধারণভাবে নামাজের নিয়ত করলেও যথেষ্ট। এতদসত্ত্বেও সতর্কতাবশত তারাবিহ নামাজের জন্য অন্তরে ইচ্ছা পোষণ করে নেওয়া উত্তম [দুররে মুখতার২/৮৬]। তারাবিহের মধ্যে কমপক্ষে একবার কুরআন খতম করা সুন্নাত। আর একবারের অধিকবার পড়া মুস্তাহাব [দুররে মুখতার ২/৪৩৩, আলমগিরী ১/১৭৭]।

সিয়াম বা রোজা

মুমিন জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার রমজান। আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযমের মাধ্যমে আত্ম উন্নয়নের চেতনায় জীবনের কাক্সিক্ষত পরিবর্তনের জন্য করুণাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতের অফুরান ভান্ডার নিয়ে আসে রমজান। প্রিয় নবি (সা.) এই মাসকে ‘শাহরুন আজিম’ মহান সম্মানিত মাস এবং ‘শাহরুম মোবারক’ বরকতময় মাস নামে আখ্যায়িত করেছেন।

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম রোজা। ইমান, নামাজ ও জাকাতের পরই রোজার স্থান। আরবি ভাষায় রোজাকে ‘সাওম’ বলা হয়। যার আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা। শরিয়তের পরিভাষায় সাওম বলা হয় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজার নিয়তে পানাহার, স্ত্রী সহবাস ও রোজা ভঙ্গকারী কাজ থেকে বিরত থাকাকে।

সুতরাং রমজানের চাঁদ উদিত হলে প্রত্যেক সুস্থ, প্রাপ্তবয়স্ক নর-নারীর ওপর পূর্ণ রমজানের রোজা রাখা ফরজ। আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদাররা তোমাদের ওপর (রমজানের) রোজা ফরজ করা হয়েছে। যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যাতে করে তোমরা মুত্তাকি হতে পার।’ (সূরা বাকারা, আয়াত : ১৮৩)।

নবি কারিম (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানসহ সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে, তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করা হবে। আর যে ব্যক্তি ইমানসহ সওয়াবের আশায় কিয়ামে রমজান অর্থাৎ তারাবির নামাজ আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী গোনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় শবেকদরে রাত জেগে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করবে তারও পূর্ববর্তী গুনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হবে। (বুখারি শরিফ ১/২৫৫, মুসলিম শরিফ ১/২৫৯, মেশকাত শরিফ ১/১৭৩)।

রমজানের তাৎপর্য

হজরত সালমান ফার্সি (রা.) বর্ণনা করেন, শাবান মাসের শেষ দিনে নবি কারিম (সা.) মিম্বরে বসে বলেন, হে লোকজন! তোমাদের ওপর এক মহা ও বরকতময় মাস আগত প্রায়। এমন মাস, যার মধ্যে এমন একটি রাত (শবেকদর) আছে যা হাজার মাস থেকে উত্তম। (অর্থাৎ ওই এক রাতের ইবাদতের সওয়াব হাজার মাসের থেকে বেশি) আল্লাহতায়ালা এ মাসে দিনেরবেলা রোজা ফরজ করেছেন আর রাতে ইবাদতকে করেছেন নফল। এ মাসে যে ব্যক্তি নেক আমলের দ্বারা আল্লাহতায়ালার নৈকট্য অর্জনের প্রত্যাশী হবে, তার অবস্থা এরূপ যে কেমন যেন সে অন্য মাসে ফরজ আদায় করেছে। অর্থাৎ নফলের সওয়াব ফরজের সমতুল্য হবে। আর যে ব্যক্তি এ মোবারক মাসে কোনো ফরজ আদায় করবে তার অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ আদায়ের সমান সাওয়াব হবে।

অর্থাৎ রমজানে এক ফরজের সাওয়াব সত্তর গুণ বেড়ে যায়। রমজান সবরের মাস, আর সবরের সাওয়াব ও বদলা হলো জান্নাত। এ মাস মানুষের সঙ্গে সদাচার ও কল্যাণকামিতার মাস। এ মাসে মুমিনের রিজিক বৃদ্ধি করা হয়। যে ব্যক্তি এ মাসে কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে তার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। আর জাহান্নাম থেকে মুক্তির পরওয়ানা মিলবে। সঙ্গে সঙ্গে রোজাদারের সওয়াব কম করা ছাড়াই ইফতার করানো ব্যক্তি রোজার অনুরূপ সওয়াব লাভ করবে। এ কথা শুনে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! (সা.) আমাদের মধ্যে অনেক মানুষ এমন রয়েছে, যাদের এ সামর্থ্য নেই যে, তারা অন্যকে ইফতার করাবে, আর এমন সওয়াব লাভ করবে।

এ প্রশ্ন শুনে নবি কারিম (সা.) এমন জওয়াব দিলেন যা শুনে তাদের হতাশা ও কষ্টগুলো আশা এবং আনন্দে পরিণত হলো। তিনি (সা.) বললেন, আল্লাহতায়ালা এসব পুরস্কার ওইসব ব্যক্তিদেরও দেবেন, যারা কোনো রোজাদারকে এক ঢোক দুধ, একটি খেজুর, এমনকি এক ঢোক পানি পান করাবে। তবে যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে পেট ভরে খাওয়াবে আল্লাহতায়ালা তাকে কেয়ামতের দিন আমার হাউজে কাওসার থেকে এমন পানি পান করাবেন যে তারপর চিরস্থায়ী জান্নাতে প্রবেশের আগে তার আর পিপাসা লাগবে না। এরপর নবি কারিম (সা.) বলেন, রমজান এমন মাস, যার প্রথম দশক রহমত, দ্বিতীয় দশক মাগফিরাত আর শেষ দশক জাহান্নাম থেকে মুক্তির দশক। যে ব্যক্তি এ মাসে তার গোলাম (কর্মচারী, চাকর, এক কথায় অধীনস্থ প্রত্যেক ব্যক্তি) থেকে কাজের বোঝা বা দায়িত্ব হালকা করে দেবে আল্লাহতায়ালা তাকে ক্ষমা করে দেবেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন।

হে লোকজন! এ মাসে চারটি জিনিসের ওপর খুব গুরুত্ব দাও এবং বেশি বেশি করে কর। ১. কালিমা তাইয়্যেবা-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু। ২. ইস্তিগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনা। ৩. জান্নাত চাওয়া। ৪. জাহান্নাম থেকে মুক্তি কামনা করা। (মেশকাত শরিফ : ১/১৭৪, বায়হাকি, শুয়াবুল ইমান ৩/৩০৫)।

ইতিহাসে রমজান

হজরত আদম (আ.) থেকে রাসূল (সা.) পর্যন্ত সব যুগের মানুষ, তথা সব নবির শরিয়তের রোজা পালনের বিধান ছিল তা কুরআনুল কারিম দ্বারা প্রমাণিত। আদম (আ.)-এর যুগে প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখার বিধান ছিল। হজরত দাউদ (আ.) একদিন পর একদিন রোজা রাখতেন। হজরত মারইয়াম (আ.)-এর ব্যাপারে কুরআন মাজিদে আছে, ‘আপনি বলুন, আমি আল্লাহর জন্য রোজা পালন করছি, আজ আমি কারও সঙ্গে কথা বলব না। (সূরা মারইয়াম : আয়াত ২৬)।

তাফসিরে হাক্কানিতে তাওরাত তথা বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্টের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ইহুদিদের ওপর সপ্তম মাসের ১০ তারিখে কাফফারার রোজা রাখা ওয়াজিব ছিল। প্রাচীন খ্রিষ্টানরাও সেই রোজা রাখত বলে প্রকাশ আছে। হজরত মুসা (আ.) তুর পর্বতে ৪০ দিন রোজা রেখেছেন। হজরত দানিয়াল (আ.) একাধারে তিন সপ্তাহ রোজা পালন করেছেন। বাইবেল থেকে প্রতীয়মান হয়, ইহুদি-খ্রিষ্টানরা এ ছাড়া আরও রোজা রাখত। বর্তমান যুগেও তাদের ধর্মপরায়ণ লোকেরা বছরের বিভিন্ন সময়ে রোজা পালন করে আসছে।

আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ গ্রন্থে বলেন, হিজরি দ্বিতীয় সনে শাবান মাসে বদর যুদ্ধের আগে রমজানের রোজা ফরজ করা হয়।

ইতিকাফ

হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত শবেকদর। প্রত্যেক মুমিনের উচিত এ রাতে ইবাদত বন্দেগি করে খোদার সন্তুষ্টি অর্জন করা। যুগে যুগে আল্লাহর প্রিয় বান্দারা শবেকদরের সন্ধানে রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন।

হজরত উমর (রা.) বর্ণনা করেন-নবি কারিম (সা.) রমজান মাসের শেষ দশকে ইতিকাফ করেছেন (বুখারি, মুসলিম)। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন-আল্লাহর রাসূল (সা.) রমজানের মধ্যের দশকে ইতিকাফ করতেন। এক বছর এভাবে ইতিকাফ করছিলেন-যখন একুশের রাত এলো, যে রাতের সকালে তিনি তার ইতিকাফ থেকে বের হবেন, তখন তিনি বললেন, যারা আমার সঙ্গে ইতিকাফ করেছে, তারা যেন শেষ দশকেও ইতিকাফ করে। আমাকে স্বপ্নে এ রাত (শবেকদর) দেখানো হয়েছিল, পরে আমাকে তা (সঠিক তারিখ) ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অবশ্য আমি স্বপ্নে দেখতে পেয়েছি যে, ওই রাতের সকালে আমি কাদাপানির মাঝে সিজদা করছি। তোমরা তা শেষ দশকে তালাশ কর এবং প্রত্যেক বিজোড় রাতে তালাশ কর। পরে এ রাতে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হয়। মসজিদের ছাদ ছিল খেজুর পাতার ছাউনির। ফলে মসজিদে টপটপ করে বৃষ্টি পড়তে লাগল। একুশের রাতের সকালে আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর কপালে কাদাপানির চিহ্ন আমার এ দুচোখ দেখতে পায় [বুখারি শরিফ]। এ জন্য প্রত্যেক শবেকদর তালাশকারীর উচিত রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করা।

ইতিকাফের পরিচয়

ইতিকাফ শব্দের অর্থ-অবস্থান করা, আটকে রাখা। শরিয়তের পরিভাষায় ইতিকাফ বলা হয়-ইতিকাফের নিয়তে পুরুষের এমন মসজিদে অবস্থান করা যেখানে পাঁচওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা হয় এবং কোনো মহিলার নিজ গৃহে নামাজের স্থানে অথবা ঘরের এক কোণে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলে।

মহিলাদের ইতিকাফ

কোনো মহিলা ইতিকাফ করতে চাইলে সে বাড়ির কোনো একটি কামরায় ইতিকাফ করতে পারে। আর ওই কামরা তার জন্য মসজিদের মতো। অর্থাৎ ওই কামরা থেকে প্রয়োজন ছাড়া বের হতে পারবে না। যদি বের হয়, তাহলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে [আলমগিরী ১/২১১]।

রোজার পুরস্কার

মহানবি (সা.) বলেন, ‘রোজার প্রতিদান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নিজেই দেবেন এবং বিনা হিসাবে দেবেন।’ [বুখারি শরিফ হাদিস ১৮৯৪]। আল্লাহতায়ালা রোজাদারকে কিয়ামতের দিন পানি পান করাবেন। [মুসনাদে বাজজার হাদিস : ১০৩৯]। ‘রোজা হলো জান্নাত লাভের পথ’। [মুসনাদে আহমদ, হাদিস ২৩৩২৪]।

‘রোজা জাহান্নাম হতে রক্ষাকারী ঢাল ও দুর্গ’। [মুসনাদে আহমদ হাদিস, ১৪৬৬৯]। ‘রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশকের চেয়েও সুগন্ধিযুক্ত। [বুখারি হাদিস-১৯০৪]। রোজাদারের দুটি আনন্দঘন মুহূর্ত। ১. ইফতারের সময় ২. যখন সে তার রবের সঙ্গে মিলিত হবে। [বুখারি হাদিস ১৯০৪]। এ ছাড়া আরও অনেক হাদিসে রোজার বিশেষ ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে।

যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হয় না

ভুল করে কোনো কিছু খেয়ে ফেললে রোজা ভঙ্গ হবে না [বুখারি শরিফ ১/২৫৯]। মশা-মাছি, কীটপতঙ্গ ইত্যাদি অনিচ্ছাকৃত পেটের ভেতর ঢুকে গেলেও রোজা ভাঙবে না [মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা ৬/৩৪৯]। অনিচ্ছাকৃত বমি হলে [এমনকি মুখ ভরে হলেও] রোজা ভাঙবে না। তেমনি বমি মুখে এসে নিজে নিজেই ভেতরে চলে গেলেও রোজা ভাঙবে না [তিরমিজি ১/১৫৩]। রোজার কথা ভুলে গিয়ে পানাহার করলে রোজা নষ্ট হবে না। তবে রোজা স্মরণ হওয়ামাত্র পানাহার ছেড়ে দিতে হবে [মুসলিম ১/২০২]। দাঁত থেকে রক্ত বের হয়ে পেটের মধ্যে না গেলে রোজা ভাঙবে না [শামি ৩/৩৬৭]। কোনো খাদ্যদ্রব্য বুট বা ছোট ছোলার কম পরিমাণ যদি দাঁতের সঙ্গে লেগে থাকে ও গলার ভেতর চলে যায়, তাহলে রোজা ভাঙবে না [হিন্দিয়া ১/২০২]। হ্যাঁ, দাঁত থেকে বের করে হাতে নিয়ে স্বেচ্ছায় খেয়ে ফেললে রোজা নিশ্চিতভাবে ভেঙে যাবে [হিন্দিয়া ১/২০২]। অতিরিক্ত গরম বা পিপাসার কারণে যদি গোসলের মাধ্যমে শরীরকে ঠান্ডা করে তাহলেও রোজার কোনো ক্ষতি হবে না [হিন্দিয়া ১/২০৩]। কুলি করার পর পানির অবশিষ্ট আর্দ্রতা থুথুর সঙ্গে গিলে ফেললে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না [হিন্দিয়া ১/২০৩]। ঘাম অথবা চোখের অশ্রুর দু-এক ফোঁটা যদি অনিচ্ছায় মুখে চলে যায়, তাহলে রোজা নষ্ট হবে না [হিন্দিয়া ১/২০৩]। কানের ময়লা বাইর করার দ্বারাও রোজা ভাঙবে না [মারাকিল ফালাহ ৩৪২]। যদি পান খাওয়ার পর খুব ভালোভাবে কুলি করার পরও রোজা অবস্থায় থুথুর সঙ্গে লাল রং বের হয়, তাহলে কোনো সমস্যা নেই [হিন্দিয়া ১/২০৩]। নাক এত জোরে সাফ করা, যার ফলে কফ গলার মধ্যে চলে যায়, তাহলেও কোনো সমস্যা নেই [দুররে মুখতার ৩/৩৭৩]। রোজা অবস্থায় আতর বা ফুলের ঘ্রাণ নিলেও কোনো সমস্যা নেই [মারাকিল ফালাহ, ৩৬১]। শরীর বা মাথায় তেল ব্যবহার করলে রোজা ভাঙবে না, বরং তা বৈধ [মুসান্নাফে আব্দুর রাজজাক ৪/৩১৩]। রোজা অবস্থায় অনিচ্ছাকৃত মুখের মধ্যে ধুলাবালি ঢুকে গেলে রোজা ভাঙবে না [দুররে মুখতার ৩/৩৬৬]। যদি রোজাদারের গোসল করার সময় অথবা বৃষ্টিতে ভেজার সময় কানের মধ্যে অনিচ্ছায় পানি চলে যায়, তাহলে সর্বসম্মতিক্রমে রোজা নষ্ট হবে না [ফাতহুল কাদির ২/৩৪৭]। সুস্থ অবস্থায় রোজার নিয়ত করার পর যদি অজ্ঞান, অচেতন বা পাগল হয়ে যায়, তাহলে রোজা নষ্ট হবে না [সুনানে কুবরা বায়হাকি ৪/২৩৫]।

যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হয়

রোজা অবস্থায় অসুস্থতার কারণে ইনহেলার (Inhelar) ব্যবহারের দ্বারা রোজা ভেঙে যায় [শামি ৩/৩৬৬]। রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃত বমি করা বা মুখে বমি চলে আসার পর তা পরিমাণে অল্প হলেও ইচ্ছাকৃত গিলে ফেললে রোজা ভেঙে যাবে [মুসান্নাফে আব্দুর রাজজাক ৪/১৯৭]। যদি নাশিকা দিয়ে রক্ত বের হওয়ার পর মুখে চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে [তাতারখানিয়া ৩/৩৮৩]। রোজাদার যদি মুখে পান রেখে ঘুমিয়ে পড়ে আর এমতাবস্থায় সুবহে সাদিক হয়ে যায় ও পানের কিছু অংশ পেটে চলে যায়, তাহলে তার রোজা হবে না। পরে কাজা করতে হবে। হ্যাঁ, কাফফারা দেওয়া লাগবে না [শামি ৩/৩৭৪]। কুলি করার সময় যদি অনিচ্ছাকৃত পানি গলা দিয়ে পেটে চলে যায় তাহলে রোজা কাজা করতে হবে। কাফফারা ওয়াজিব হবে না। আর যদি রোজার কথা স্মরণই না থাকে, পানি মুখে নিয়ে খেয়ে ফেলে তাহলে রোজা ভাঙবে না [তাতারখানিয়া ৩/৩৭৮]। নাক অথবা কানের মধ্যে তৈল দেওয়ার দ্বারা রোজা ভেঙে যাবে। তবে কাফফারা ওয়াজিব হবে না [হেদায়া ১/২২০]। যদি কোনো ব্যক্তি কারও ধমকের কারণে অথবা ভুল করে যেমন রোজার কথা ভুলে গিয়ে পানাহার করে অতঃপর রোজা ভেঙে গেছে মনে করে ইচ্ছা করে পানাহার করল, তাহলে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে এবং কাজা করা জরুরি [মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা ৬/১৪৯]। পাথরের কণা, মাটি, ঘাস, কাগজ ইত্যাদি মোটকথা যা সাধারণ আহারযোগ্য নয় বা কোনো উপকারে আসে না তা খেলেও রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা করতে হবে [বাযযাযিয়া, ৪/৯৯]। দাঁত থেকে রক্ত বের হয়ে যদি থুথুর সঙ্গে ভেতরে চলে যায়। আর রক্তের পরিমাণ যদি থুথুর সমান বা বেশি হয় তাহলে রোজা ভেঙে যাবে [বুখারি ১/২৬০]। বিড়ি সিগারেট, হুঁকা পান করলে রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা করা জরুরি [শামি ৩/৩৬৬]।

কঠিন অসুস্থতার ফলে যদি কোনো মানুষ রোজা ভেঙে ফেলে, তাহলে শুধু কাজা করতে হবে। কাফফারা দেওয়া লাগবে না [তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/১৮৯]। যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত রোজা ভেঙে ফেলে অতঃপর খুব অসুস্থ হয়ে যায় অথবা কোনো নারীর প্রিয়ড হয়, তাহলে শুধু কাজা করতে হবে। কাফফারা দেওয়া লাগবে না [হিন্দিয়া ১/২০৬]। রোজা অবস্থায় স্ত্রীর সঙ্গে তার স্বামী জোর করে সহবাস করলে স্ত্রীকে শুধু কাজা আদায় করতে হবে। কাফফারা নয় [তাতারখানিয়া ৩/৩৯৪]।

যদি কোনো ব্যক্তি রোজা অবস্থায় সফর করে তার জন্য কোনো ওজর ছাড়া রোজা ভেঙে ফেলা অনুচিত। যদি ভেঙে ফেলে তাহলে শুধু কাজা জরুরি, কাফফারা নয় [আলমগিরি ১/২০৬]। যদি কোনো পুরুষের প্রস্রাবের রাস্তায় কোনো ওষুধ দেওয়া হয় আর অণ্ডকোষ পর্যন্ত পৌঁছে, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে অন্যথায় নয় [তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/১৮৩]। কোন নারীর লজ্জাস্থানে ওষুধ লাগানোর সঙ্গে সঙ্গেই রোজা ভেঙে যাবে [বাহরুর রায়েক ২/৪৮৮]।

রোজার আধুনিক মাসআলা

চোখে ওষুধ, ড্রপ বা সুরমা ইত্যাদি লাগালে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। [আবু দাউদ-১/৩৩২]। রোজা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত বের করে টেস্ট বা পরীক্ষা করালে রোজা ভঙ্গ হয় না। [আলমগিরি ১/১৯৯]। হৃৎপিণ্ডের অসুস্থতার ফলে যে ওষুধ জিহ্বার নিচে রাখা হয় তার দ্বারা রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। তবে তা বিগলিত হয়ে থুথুর সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে গলা বা পেটের মধ্যে ঢুকে গেলে রোজা ভেঙে যাবে [শামি ৩/৩৬৭]। যদি রোজা অবস্থায় এমন ইঞ্জেকশন গ্রহণ করে যা পেটের মধ্যে অথবা মস্তিষ্কের মধ্যে চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে [জাওরাহিরুল ফিকহ ১/৩৭৯]।

শরীরে স্যালাইন লাগানোর দ্বারা রোজা নষ্ট হবে না। তবে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া দেওয়া অনুচিত [তাতারখানিয়া ৩/৩৭৯]। ডায়ালাইসিস করার দ্বারা রোজা ভঙ্গ হবে না [তাতারখানিয়া ৩/৩৭৯]। রোজা অবস্থায় অক্সিজেন নেওয়ার দ্বারা রোজা নষ্ট হয় না [আয়েনায়ে রমজান ৬৫]। হোমিওপ্যাথিক ওষুধের ঘ্রাণ নেওয়ার দ্বারা রোজা ভঙ্গ হয় না [মারাকিল ফালাহ ৫৪৩, আয়েনায়ে রমজান ৭১]। যদি পেট পরীক্ষা বা টেস্টের জন্য পেটের মধ্যে নাক বা গলা দিয়ে কোনো নল প্রবেশ করানো হয় আর তার মধ্যে কোনো ওষুধ মিশ্রিত করা হয়, তাহলে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে [মুফতিরাতিস সিয়ামুল মুআ’সারাহ ৪৫-৫২]।

রোজা মাকরুহ হয়ে যায়

রোজা অবস্থায় মুখের মধ্যে থুথু জমা করা [হিন্দিয়া ১/১৯১]। বিনা প্রয়োজনে কোনো কিছুর স্বাদ নেওয়া বা চিবানো (শামি ৩/৩৯৫)। টুথপেস্ট অথবা কোনো মাজন দ্বারা দাঁত পরিষ্কার করা (শামি ৩/৩৯৫)। প্রত্যেক ভারী কাজ যার ফলে রোজা ভেঙে ফেলার উপক্রম হয় [দুররে মুখতার ৩/৪০০]। রোজা অবস্থায় গুনাহের কাজ করা [তিরমিজি ১/১৫০]। কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার সময় অতিরঞ্জন করা [হিন্দিয়া ১/১৯৯]। সন্দেহযুক্ত সময়ে সেহরি করা [হিন্দিয়া ১/২০০]। স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রীর নফল রোজা রাখা [হিন্দিয়া ১/২০১]। রোজা অবস্থায় লিপস্টিক দেওয়া মাকরুহ। কেননা তা মুখের মধ্যে চলে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। তবে মাথায় মেহেদি লাগানোতে কোনো সমস্যা নেই (তাতারখানিয়া ৩/৩৯৫)।

রোজা রেখে করোনার টিকা নিতে পারবেন

করোনাভাইরাসের টিকা মাংসপেশিতে গ্রহণ করা হয় এবং তা সরাসরি খাদ্যনালি ও পাকস্থলীতে প্রবেশ করে না, সেহেতু রমজান মাসে রোজাদার দিনের বেলায় শরীরে করোনাভাইরাসের টিকা গ্রহণ করলে রোজা ভঙ্গ হবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ)।