শনিবার ,১৫ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 375

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে মানুষের হাহাকার, সরকার উৎসবে: রিজভী

গ্যাস, বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষ হাহাকার করছে আর সরকার উৎসবে মেতে উঠেছে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, গতকাল প্রথম রোজা ছিল আর ওই দিনই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস ছিল না।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, তারা (সরকার) উৎসবে মেতে উঠেছে। বাইরের দেশ থেকে শিল্পী এনে নাচ-গান করছে যেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থাকেন। আর দেশের জনগণ আধাবেলা খাচ্ছে না, না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। এসবের কোনো খোঁজ তারা রাখে না। এদিকে দৃষ্টি না দেওয়ার কারণে দেশে দুর্ভিক্ষের পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে।

রিজভী বলেন, ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা গ্যাস না থাকার কারণে ইফতার তৈরি করতে পারেনি। দেশের জনগণ কষ্টে আছে। তার ভ্রূক্ষেপ করে না সরকার। শুধু উন্নয়ন উন্নয়ন বলে চিৎকার করে। আর দেশে গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সমস্যার কারণে মানুষ হাহাকার করছে।

তিনি বলেন, রমজান মাসেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মিথ্যা বলতে কোনো জুড়ি নেই। তারা বিদ্যুৎ নিয়ে কথা বলে। কয়েকটা বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলছেন, ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দিয়েছি। তারা তো আলো পৌঁছে দেয়নি অন্ধকার দিয়েছে। তারা গণবিরোধী সরকার বলেই জনগণের কোনো উপকার করতে পারে না।

দেশের জনগণের ওপর অবিচার-অনাচারের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এ সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে রাস্তায় নামতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

মাদক সেবন ও কেনাবেচার অভিযোগে ৩৭ জনকে গ্রেফতার

ইয়াবা, হেরোইন এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্যসহ ৩৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক সেবন ও কেনাবেচার অভিযোগে তাদেরকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

সোমবার ভোর ৬টা থেকে মঙ্গলবার একই সময় পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে যেসব মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- ৭৮১ পিস ইয়াবা বড়ি, ১৫.৫ গ্রাম হেরোইন ও ১৭ কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২৭টি মামলা করা হয়েছে।

১২ হাজার ১৬ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প অনুমোদন

১২ হাজার ১৬ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প অনুমোদনশহর উন্নয়নসহ ১২ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার ১৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৭ হাজার ৯৯০ কোটি ১৪ লাখ টাকা, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৩ হাজার ৪৩২ কোটি এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৫৯৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। গণভবন থেকে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মামুন-আল-রশীদ ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম প্রমুখ। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আরবান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিটি গভর্ন্যান্স প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৩৯৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে এক হাজার ১৮২ কোটি ২৫ লাখ টাকা, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণ থেকে ২ হাজার ২১৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। চলতি বছর থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে— রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ শিল্পকলা একাডেমি ও আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, মিঠামইন, কিশোরগঞ্জ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইস্টিটিটিউট (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। সরকারি শিশু পরিবার এবং ছোটমনি নিবাস হোস্টেল নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

বাংলা সাহিত্যে রাজশাহী

রাজশাহীকে বাংলা সাহিত্যবৃক্ষের অন্যতম উৎসমুখ বলা যায়। বাংলাভাষার প্রাচীন নিদর্শন চর্যাপদেরও চর্চা হয়েছে রাজশাহী অঞ্চলের বরেন্দ্রভূমিতে। মধ্যযুগের প্রখ্যাত কবি নরোত্তম দাস (১৫৩১-১৬১১), অষ্টাদশ শতকে শুকুর মাহমুদ, ঊনবিংশ-বিংশ শতকে মির্জা ইউসুফ আলী (১৮৫৮-১৯২০), কান্তকবি রজনীকান্ত সেন (১৮৬৫-১৯২৪), ঐতিহাসিক অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় (১৮৬১-১৯৩০), বিংশ-একবিংশ শতকে হাসান আজিজুল হক, জুলফিকার মতিন, আবুবকর সিদ্দিক, সনৎকুমার সাহা, স্বরোচিষ সরকার, প্রমুখ বাংলাভাষায় সাহিত্যচর্চায় কৃতিত্ব স্থাপন করেছেন। বর্তমানে আমেরিকার ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ইমিরেটাস প্রফেসর, পদার্থবিদ খন্দকার রেজাউল করিম ‘কোয়ান্টাম রাজ্যে ডালিম কুমার’, এবং ‘কাল্পনিক বিতর্ক-বিজ্ঞান সাহিত্য দর্শন’; বিজ্ঞান-বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি বইয়ের মাধ্যমে জ্ঞনপিপাসু পাঠকের মন জয় করেছেন।

রাজশাহীর সাহিত্যচর্চার ইতিহাস প্রাচীন বাংলা থেকে হলেও বর্তমান রাজশাহী মহানগরীকেন্দ্রিক সাহিত্যচর্চার শুরু হয়; উনিশ শতকে। তার পূর্বে বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বা বৃহত্তর রাজশাহীর বর্তমান নওগাঁ, নাটোরের বিভিন্ন জায়গায় বিখ্যাত সাহিত্যিক-লেখকের জন্ম হয়েছিল। ১৮২৫ সালে জেলার প্রশাসনিক অফিস নাটোর থেকে রাজশাহীতে স্থানান্তরিত হওয়ার পর পেশাগত কারণেই এখানে বেশ কিছু শিক্ষিত ও সমাজ সচেতন ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটে। বৃহত্তর রাজশাহীর বিভিন্ন অঞ্চলের জমিদাররাও কুঠি স্থাপন করেন। এসব জমিদার ও সমাজ সচেতন ব্যক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরবর্তী সময়ে পত্রিকা প্রকাশের বিষয়ে মনোযোগী হন। ফলে সাহিত্যচর্চারও পরিবেশ গড়ে ওঠে।

১৮২৮ সালে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল (তৎকালে ইংলিশ স্কুল) স্থাপনের ফলে এখানে যেমন ইংরেজি শিক্ষার সম্প্রসারণ আরম্ভ হয়। তার প্রায় অর্ধ শতাব্দী পর রাজশাহী কলেজকে কেন্দ্র করে সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা বিভিন্নভাবে সমৃদ্ধ হতে থাকে। অবশ্য মুদ্রিত আকারে সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চা শুরু হয়েছিল এ কলেজ প্রতিষ্ঠার আগেই। ১৮৭০/১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে রাজশাহী থেকে জ্ঞানাংকুর পত্রিকা প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে এ পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৬১-১৯৪১) প্রথম প্রকাশিত কাহিনি কাব্য বনফুল ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। রাজশাহী থেকে প্রকাশিত শিক্ষা পরিচয়, উদ্বোধন, ঐতিহাসিক চিত্র, রাজশাহী সমাচার, নূর-উল ঈমান, উৎসব, পল্লী বান্ধব, পল্লী শক্তি, পল্লব প্রভৃতি সাহিত্যচর্চার অগ্রগতি বৃদ্ধি করে। ১৮৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী অ্যাসোসিয়েশন সাহিত্যচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। ১৮৯২ খিষ্টাব্দে নভেম্বরে রাজশাহী অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত রাজশাহী কলেজে সাহিত্য সভায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘শিক্ষার হেরফের’ নামের বিখ্যাত প্রবন্ধটি পাঠ করেছিলেন।

১৯২৭ সালে দি রাজশাহী মুসলিম ক্লাব স্থাপন ও তার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬)-এর আগমন রাজশাহীর মুসলিম তরুণ সমাজের মধ্যে সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।

১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ও বাংলা বিভক্তির ফলে বাংলাদেশে বাংলাভাষার স্বতন্ত্র সাহিত্যচর্চা আরম্ভ হয়। তার প্রভাব রাজশাহীতেও পড়ে। তদুপরি, রাষ্ট্রভাষাকে কেন্দ্র করে এখানকার শিক্ষিত তরুণ সমাজের মাঝে নব চেতনা গড়ে উঠতে শুরু করে। ১৯৫০/১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে দিশারী সাহিত্য মজলিশ নামের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে এবং প্রতিষ্ঠানটি হাবিবুর রহমান শেলীর সম্পাদনায় দিশারী নামের একটি পত্রিকা প্রকাশ করে। এ প্রতিষ্ঠান ও পত্রিকাটি রাজশাহীর তরুণদের মধ্যে নতুন স্বাদ এনে দিয়েছিল। ১৯৫৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে সাহিত্যচর্চায় ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৮৮৫-১৯৬৯), ড. মুহম্মদ এনামুল হক (১৯০৬-১৯৮২), ড. মযহারুল ইসলাম (১৯২৮), ড. কাজী আব্দুল মান্নান (১৯৩০-১৯৯৪), ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল (১৯৩৬-১৯৮৯), ড. মুস্তাফা নূর-উল ইসলাম (১৯২৭), ড. সুনীল কুমার মুখোপাধ্যায় (১৯২৭-১৯৮৪) প্রমুখ শিক্ষকের প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক সাহিত্যচর্চা ও গবেষণার পথ প্রশস্ত হয়। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী (১৯২৮), আলী আনোয়ার, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের পরিচালক ড. মুখলেসুর রহমান, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক ড. এ. আর. মল্লিক, ড. সালাহউদ্দিন আহমদ প্রমুখের সাহিত্য সাধনা, গবেষণা ও পত্রপত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে রাজশাহীর সাহিত্য অগ্রগতি লাভ করে। ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর তত্ত্বাবধানে ড. মযহারুল ইসলাম কবি হেয়াত মামুদ সম্পর্কে গবেষণা অভিসন্দর্ভ রচনা করে প্রথম পিএইচডি লাভ করেন। ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে ড. কাজী আব্দুল মান্নানের গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘আধুনিক বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাধনা’ রাজশাহী থেকে প্রকাশিত হয়। সে সময় মুস্তাফা নূর-উল-ইসলাম ও জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর সম্পাদনায় ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘পূর্বমেঘ’ সমগ্র দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। অনেক লেখক সৃষ্টি হয়েছে এ পত্রিকার মাধ্যমে। একই সময়ে মহসীন রেজার সম্পাদনায় ‘সুনিকেত মল্লার’ ও ডক্টর মযহারুল ইসলামের ‘উত্তর অণ্বেষা’ পত্রিকা ঘিরে একদল লেখক তৈরি হয়েছে। আব্দুল হাফিজের নেতৃত্বে প্রগতিশীল লেখকরা অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন। মুস্তাফিজুর রহমান, ফরহাদ খান, রুহুল আমিন প্রামাণিক, সিকান্দার আবু জাফর, সেলিনা হোসেন, ফজলুল হক, জুলফিকার মতিন প্রমুখ সে সময়ের উজ্জ্বল নক্ষত্র। এ লেখকদের অনেকে বর্তমানে সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করছেন।

স্বাধীন বাংলাদেশে রাজশাহীর সাহিত্যচর্চায় নতুন মাত্রা পেয়ে যায়। কবি আতাউর রহমান, কবি আবুবকর সিদ্দিক, কবি আসাদুজ্জামান, কবি জুলফিকার মতিন, কবি মযহারুল ইসলাম, কবি সৈয়দ আলী আহসান, কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হকের সান্নিধ্যে অনেক তরুণ লেখক নিজেদের যোগ্য রূপে গড়ে তোলেন। ড. মজির উদ্দীনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় একদল তরুণ গবেষণায় কৃতিত্ব অর্জন করেন। এদের মধ্যে ড. মো. হারুন-অর-রশীদ, ড. অমৃতলাল বালা, ড. তসিকুল ইসলাম রাজা, ড. অনীক মাহমুদ, ড. ফরিদা সুলতানা, ড. মনিরা কায়েস এ সময়ের উল্লেখযোগ্য নাম।

১৯৭৬ সালে রাজশাহী থেকে জাতীয় মানের পত্রিকা দৈনিক বার্তা প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকায় চাকরি সূত্রে দেশের বেশ কজন উল্লেখযোগ্য সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আসেন রাজশাহীতে। নুরুল ইসলাম পাটোয়ারি, আব্দুর রাজ্জাক চৌধুরী, সৈয়দ রেদওয়ানুর রহমান, কামাল লোহানী, আজিজ মিসির, মীর নুরুল ইসলাম, মোসলেম আলী বিশ্বাস, ওয়াজেদ মাহমুদ তাদের মধ্যে অন্যতম। এসব সাহিত্যিক ও সাংবাদিকদের অবদানে রাজশাহীতে একদল তরুণ লেখক তৈরি হয়। তারা আজ অনেকে লেখক হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। তাদের মধ্যে কৌশিক আহমেদ, জামিল রায়হান, অনীক মাহমুদ, মামুন হুসাইন, মনিরা কায়েস, আরিফুল হক কুমার, নাজিব ওয়াদুদ, মোহাম্মদ কামাল, সরকার মাসুদ, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, মোহাম্মদ মুসা, হাসনাত আমজাদ, তপন দাশ, মালেক মেহমুদ, মীর রবিউল ইসলাম, আশরাফুল আলম পিনটু, সিরাজুদ্দৌলাহ বাহার, ওয়ালী কিরণ, রাশেদ রাইন প্রমুখ অন্যতম। শুরুতে দৈনিক বার্তার সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন ওয়াজেদ মাহমুদ। এ পত্রিকাটির কিশোর কুঁড়ির মেলা নামে বিভাগও তরুণ লেখক তৈরি করে। এ বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন মাহমুদ আনোয়ার হোসেন। পরবর্তী সময়ে এমএ কাইউম এ দায়িত্ব পালন করেন।

উল্লিখিত কৃতীমান ছাড়াও স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে রাজশাহী থেকে অনেকে সাহিত্য ও গবেষণায় ভূমিকা পালন করেছেন এবং অব্যাহত রেখেছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য-এবনে গোলাম সামাদ, আব্দুর রশীদ খান, একেএম ইয়াকুব আলী, ড. মো. মাহবুবর রহমান, ড. সাইফুদ্দিন চৌধুরী, ড. মুহম্মদ আব্দুল জলিল, মুকুল কেশরী, আবুবকর সিদ্দিক, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান (ভাষাসৈনিক ও প্রধান বিচারপতি), খোন্দকার সিরাজুল হক, অধ্যাপক ফজলুল হক, মাহবুব সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট আবুল কাসেম, আশফাকুল আশেকীন, মুহাম্মদ লুৎফুল হক, মলয় ভৌমিক, ফরহাদ খান, মাহতাব উদ্দিন, খোন্দকার আমিনুল হক, রুহুল আমিন প্রামাণিক, নূরউল ইসলাম, এসএমএ কাদের, অধ্যাপক গোলাম কবির, প্রশান্ত কুমার সাহা, সরদার আবদুর রহমান, কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ জুলফিকার, মো. খোসবর আলী, আলাউদ্দিন আহমেদ, ড. সুজিত সরকার, মাহবুবুর রহমান বাদশাহ, মোস্তাক রহমান, মঞ্জুর রহমান বাবু, জামাল দ্বীন সুমন, পূরবী যাফর, সুখেন মুখোপাধ্যায়, রুবিনা আনিস, ওয়ালী উল ইসলাম, সৈয়দ সোহেল, সাবরিনা ইয়াসমিন, ফৌজিয়া ইয়াসমিন, সোহেল মাহবুব, মিথুশিলাক মুরমু, জাকির তালুকদার, আমিনুল ইসলাম, মনজু রহমান, খোকন তালুকদার, মনোরঞ্জন নন্দী, জিএম হারূন, সরদার সাইফুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান খোকন, সালিম সাবরিন, আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ, আলমগীর মালেক, শফিকুল আলম শফিক, দেওয়ান মো. শামসুজ্জামান, কামরুল বাহার আরিফ, মনিস রফিক, শিবলী নোমান, অনুপম হাসান, হাসান রাজা, শামীম হোসেন, মঈন শেখ, মাসউদ আহমাদ, সাবরিনা আনাম, মাহফুজুর রহমান আখন্দ, বর্ষা জহীন, তৌহিদ ইমাম, মুহসীন মোসাদ্দেক, হিম ঋতব্রত প্রমুখ।

প্রাতিষ্ঠানিকভাবে রাজশাহীতে সাহিত্যচর্চায় যেসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘকাল ধরে অবদান রেখেছে তাদের মধ্যে রাজশাহী অ্যাসোসিয়েশন (১৮৭২), রাজশাহী সাহিত্য মজলিশ, উত্তরা সাহিত্য মজলিশ, কতিপয় সাহিত্য গোষ্ঠী, কবিতা সারথি, নব প্রবাহ সাহিত্য গোষ্ঠী, স্পন্দন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংসদ, বাংলা সাহিত্যিকী, প্রত্যয় সংস্কৃতি পরিষদ, অনির্বাণ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদ, খামখেয়ালি সাহিত্য গোষ্ঠী, রবিবাসরীয় সাহিত্য সংসদ, হিমাচল সাহিত্য-সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, উদ্বেল সাহিত্য গোষ্ঠী, উদ্ভাস সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, আব্দুল হাই সাহিত্য-সংস্কৃত সংসদ, বরেন্দ্র একাডেমি, ড. হিলালী স্মৃতি সংসদ, ধ্রুব সাহিত্য গোষ্ঠী, রাজশাহী কলেজের বাংলা সাহিত্য মজলিশ, রাজশাহী সাংস্কৃতিক সমিতি, রাজশাহী সাংস্কৃতিক পরিষদ, রাজশাহী কলেজ সাহিত্য মজলিশ, উত্তর বাঙলা সাহিত্য সংসদ, সুনিকেতন মল্লার সাহিত্য গোষ্ঠী, সূর্য সারথী, রাজশাহী লেখক পরিষদ, মুক্ত সাহিত্য সমাবেশ, কবিকুঞ্জ, ধ্রুব সাহিত্য গোষ্ঠী, উচ্চারণ, রাজশাহী কলেজ থিয়েটার, লোক সংস্কৃতি কেন্দ্র, তরুণ লেখক পরিষদ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। দেশ স্বাধীনের পর প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক সাহিত্যচর্চারও প্রয়াস ঘটে। উত্তরা সাহিত্য মজলিশ (১৯৭৩) থেকে কবি বন্দে আলী মিয়ার সম্পাদনায় প্রতীতি নামে একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে। প্রবীণ সাংবাদিক ও সাহিত্যিক মুহম্মদ আব্দুস সামাদ, অধ্যাপক এসএম আব্দুল লতিফ, ড. রশীদুল আলম, মরহুম আব্দুল গনি, কবি খন্দকার জাহানারা বেগম, মুস্তাফিজুর রহমান, শামসুল হক কোরায়শী, আনোয়ারুল আবেদীন প্রমুখ প্রতীতিতে নিয়মিত লিখতেন।

এক সময় রবিবাসরীয় সাহিত্য সংসদ নিয়মিত সাহিত্য আসরের আয়োজন করত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনন, শব্দায়ন, আড্ডা প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত আবৃত্তিচর্চা ও সাহিত্য সভার আয়োজন করা হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরাম, সন্দীপন সাহিত্য পরিষদ (১৯৯৬) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত আরও দুটি প্রতিষ্ঠানে। ফজলুল হক (মৃত্যু ১৩ আগস্ট ২০০৯) ও শামসুল আলম সরদারের পরিচালনায় ১ অক্টোবর ১৯৯৩ তারিখে জন্মলাভ করে রাজশাহী সাহিত্য পরিষদ সাহিত্যচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়।

নিয়মিত সাহিত্য বৈঠক ও প্রকাশনার জন্য রাজশাহী লেখিকা সংঘের অবদানও প্রশংসনীয়। এ প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে সাহিত্যচর্চা করে খ্যাতি অর্জন করেছেন জাহান আরা বেগম, আজিজা বেগম, খোদেজা বেগম, হামিদা হক, খন্দকার জাহানারা বেগম, রেবেকা আসাদ, হেলেনা বেগম, রোকেয়া রহমান, মাফরুহা আকতার উর্মি, মিতা জামান, শামসুজজাহান সুলতানা বানু, সৈয়দা মাস্তুরা মোনালিসা, লুৎফুন্নেসা আজিজ, রোজেটি নাজনীন, সৈয়দা আয়েশা বেগম, ফরিদা খানম, রোজিনা ইসলাম, শাকিয়া হায়দার, সৈয়দা সুরাইয়া হক প্রমুখ।

সরাসরি না হলেও সাহিত্যচর্চায় কিছু প্রতিষ্ঠান ও কিছু আয়োজককে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যায়। যেমন-রাজশাহী থিয়েটার অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের জন্ম ও মৃত্যু দিবস উপলক্ষে নাটক, আলোচনা এবং গবেষণায় অবদান রাখার জন্য পুরস্কার দিয়ে থাকে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১৯৯০-১৯৯১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও তৎকালীন শিক্ষকরা ১৮ মার্চ ২০২২ তারিখে বন্ধু মিলনমেলা শিরোনামের অনুষ্ঠানে সাহিত্য ও গবেষণায় অবদান রাখার জন্য তাদেরই সহপাঠী আনারুল হক আনা, মাহমুদুল হক আরিফ, ছমির আমিনুল ও বাবুলকে সংবর্ধিত করে।

একটা দীর্ঘশ্বাস

একটা ভালোবাসার কথা,

কেমন যেন থাকলো রয়ে

বুকের মাঝে ব্যথা।

একটা প্রেমের উপাখ্যান,

স্রোতস্বিণী গেলোই বয়ে

ছাড়লো না সে ধ্যান।

একটা গল্প দিয়ে শুরু,

গোলাপ পাপড়ি ঘ্রাণ ছড়ালো

থাকলো পরে পুরো।

একটা গানের হলো সুর,

প্রেমটা ভাবে দু’জন মিলে

যাবে কতদূর!

একটা রাগের আকাশ নীল,

ছন্দ লয়ে এগোচ্ছে না

হলো না তো মিল।

একটা বিলাবল ভৈরবী,

আশাবরী খাম্বাজ ছেড়ে

কল্যাণে পূরবী।

একটা অসময়ের তান,

তানপুরাটা দারুণ রাগী

হচ্ছে না তো গান।

একটা পেন্সিল বাঁকা ঠোঁটে,

বখাটে সব ছবিগুলো

বিশ্রী ভেংচি কাটে।

একটা ইচ্ছের পরবাস,

একাকীত্বের অট্টহাসি

একটা দীর্ঘশ্বাস।

স্পেনে প্রবাসীদের উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

স্পেনে ৫১তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছে প্রবাসীদের অভিভাবক সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেন।

বুধবার (৩০ মার্চ) রাত ৯টায় দেশটির রাজধানী মাদ্রিদের বাঙালি অধ্যুষিত লাভাপিয়েসের বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন হলরুমে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সভাপতি আল মামুনের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল খানের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংঠনের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ মজুমদার।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ দূতাবাসের দূতালয় প্রধান এটিএম আব্দুর রউফ মন্ডল ও বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দূতাবাসের কাউন্সেলর (লেবার উইং) মো. মোহতাসিমুল ইসলাম।

কমিউনিটি নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম মজুমদার, অ্যাসোসিয়েশন ভালিয়ান্তে বাংলার সভাপতি ফজলে এলাহি, আঞ্জুমানে আল ইসলাহ স্পেনের সভাপতি মাওলানা আসাদুজ্জামান রাজ্জাক, নারায়ণগঞ্জ জেলা অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সভাপতি একরামুজ্জামান কিরণ, মাহবুবুর রহমান ঝন্টু, রাসেল দেওয়ান, গ্রেটার সিলেট অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সহকারী কমিশনার এইচ এম দবির তালুকদার, সদস্য সচিব বকুল খান,সিলেট জেলা অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের আহ্বায়ক সেলিম আলম, সাইফুল মুন্সি ইকবাল, সাইফুর রাহমান লিটন প্রমুখ।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের কার্যকরী কমিটির নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সহ-সভাপতি শামিম আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ওহিদুজ্জামান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক দীন মোহাম্মদ, সহ-কোষাধ্যক্ষ পিয়াস পাটোয়ারী, সহ-প্রচার ও অফিস সম্পাদক আব্দুল মালিক, শিক্ষা সাংস্কৃতিক ও ধর্ম সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন, সহ-শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক শামিম খান বিপ্লব, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সুমন, সহ-মহিলা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা রুমি খালেদা, সদস্য আহমেদ আসাদুর রাহমান সাদ।

বক্তারা দেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এক হয়ে কাজ করতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান। পরে দেশের সমৃদ্ধি, শান্তি ও ঐক্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি করা হয়।

মালয়েশিয়ায় রমজানের প্রথম দিনেই উপচেপড়া ভিড়

সরকারের ঘোষণায় মালয়েশিয়ায় রমজান বাজারের কার্যক্রম যথারীতি চলছে। রমজান বাজার মহামারি করোনায় ব্যবসায়ীদের আলাদা করে রেখেছিল। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাজার চালু হওয়ায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তাদের ইফতার সামগ্রী কিনতে মিস করেননি। কুয়ালালামপুর হাসপাতালের একজন কর্মী আব্দুল হাফিজ আবদুল্লানি বলেন, এটি একটি আকাঙ্ক্ষার অনুভূতি, কারণ আমি অনেক দিন ধরে এখনকার মতো পরিবেশ অনুভব করিনি, এটি একটি ভিন্ন অনুভূতি।

কাম্পুং বারু ব্যবসায়ী আরিয়ান রামলি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমরা যথারীতি ব্যবসা করতে পারি, দুই বছরের বেশি সময় ধরে কোনো বাজার ছিল না, এই বছর আবার ব্যবসা করতে পেরে আমরা ভাগ্যবান।

এর আগে, ফেডারেল টেরিটরির মন্ত্রী দাতুক সেরি শাহিদান কাসিম জানিয়েছিলেন, রমজান মাসে ৫,০০০ স্টলসহ মোট ৭২টি রমজান বাজারের অবস্থান রাজধানীজুড়ে কাজ করবে।

কুয়ালালামপুরে ১০টি সেরা রমজান বাজার- টিটিডিআই, কাম্পং বারু, বাংসার, স্টেডিয়াম শাহ আলম, বুকিত বিনতাং, কেলানা জায়া, মেলাওয়াতী, মসজিদ ইন্ডিয়া, বান্দর তুন রাজাক, এসএস ১৩। বেশিরভাগ বাজারে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে দোকানে ইফতার সামগ্রী নিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। গরম-গরম সর্বোত্তম খাবার তৈরিতে ব্যস্ত থাকেন ব্যবসায়ীরা।

মালয়েশিয়ায় মসজিদ থেকে রোজাদারদের ‘বুবুর ল্যাম্বাক’ নামক একটি খাবার বিনামূল্যে দেওয়া হয়। চাল, মাংস, নারিকেল, দুধ, ঘি ইত্যাদি দিয়ে বুবুর ল্যাম্ব্যাক তৈরি করা হয়। প্রায় পাঁচ দশক আগে কুয়ালালামপুর কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে এ খাবারটি বিতরণের প্রচলন শুরু হয়।

রমজানের কল্যাণে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে তুলি

আলহামদুলিল্লাহ। পবিত্র মাহে রমজানের ১টি রোজা রাখার তৌফিক লাভ করেছি আমরা।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ভালোবাসা লাভ করার সর্বোত্তম মাধ্যম হলো রোজা। কেননা রোজা কেবলমাত্র আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই রাখা হয় আর এর পুরস্কারও স্বয়ং তিনিই দিয়ে থাকেন।

রমজানের ফরজ রোজা বা অন্যান্য দিনের নফল রোজা, যে রোজাই হোক না কেন তা আমাদের আত্মার সংশোধনের কারণ হয়ে থাকে। আর বিশেষ করে পবিত্র মাহে রমজানের রোজা আমাদের পুরো বছরের দোষত্রুটি ক্ষমার কারণ হয়।

কেননা, মানুষ যখন আল্লাহতায়ালার জন্য জাগতিক আরাম-আয়েশ, চাওয়া-পাওয়া ইত্যাদি থেকে বিরত থাকে তখন সে তার নফসকে পুণ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখতে অধিক শক্তি পায়।

কিন্তু এ বিষয়টি স্মরণ রাখা উচিত, রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য কেবল উপবাস থাকাই নয়। যদি উপবাস থাকার ফলে জান্নাত পাওয়া যেত তাহলে প্রতিটি ব্যক্তি এ জান্নাত পাওয়ার চেষ্টা করতো। কেননা উপবাস থেকে মৃত্যু বরণ করে নেয়াটা তেমন কোন কঠিন বিষয় নয় বরং কঠিন বিষয় হলো আধ্যাত্মিক ও চারিত্রিক পরিবর্তন সাধন করা।

হাদিস পাঠে জানা জায়, ‘রোজা ধৈর্যের অর্ধেক আর ধৈর্য ঈমানের অর্ধেক। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে রমজানের রোজা স্রষ্টার সঙ্গে বান্দার সাক্ষাৎ লাভের মাধ্যম হিসেবে সর্বশ্রেষ্ঠ স্তম্ভ।

আর এজন্যই মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে কুদসির মাধ্যমে এরশাদ করেছেন ‘সম্মান ও মর্যাদার প্রভু আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের অন্য সব কাজ তার নিজের জন্য, কিন্তু রোজা একান্তই আমার জন্য এবং আমি এর জন্য তাকে পুরস্কৃত করব’। রোজা ঢাল স্বরূপ। তার নামে বলছি, যার হাতে মুহাম্মদের জীবন, রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশকের গন্ধের চেয়েও পবিত্র। একজন রোজাদার দু’টি আনন্দ লাভ করে। সে আনন্দিত হয় যখন সে ইফতার করে এবং রোজার কল্যাণে সে আনন্দিত হয় যখন সে তার প্রভূর সাথে মিলিত হয়’ (বোখারি)।

রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো, মানুষের নাফস অর্থাৎ আমাদের আত্মা যেন পবিত্র হয়। কেননা আল্লাহ পরম পবিত্র আর তিনি পবিত্র আত্মার অধিকারীদেরকেই ভালোবাসেন। তিনি চান মানুষ যেন রোজার মাধ্যমে সকল প্রকার পাপ কাজ পরিহার করে হৃদয়কে পাক পবিত্র এবং পরিস্কার করে ধৌত করেন।

এমন হৃদয় যে হৃদয়ে খোদার জ্যোতির বিকাশ ঘটবে। এছাড়া এই রোজার মাধ্যমে মানুষের শারীরিক, চারিত্রিক, আধ্যাত্মিক এবং সামাজিক সকল প্রকার কল্যাণও লাভ হয়। যেভাবে বাহ্যিক খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে আমরা শারীরিকভাবে শক্তি লাভ করি ঠিক তেমনি রোজার ফলে আমাদের রুহ বা আত্মায় শক্তি লাভ করে আর এই শক্তির বলে একজন মুমিন তার চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে।

মোটকথা, রোজা শারীরিক সুস্থতারও কারন আর আধ্যাত্মিক দিক থেকেও এর অনেক কল্যাণ রয়েছে। রোজার মাধ্যমে আমরা অনেক ধরণের মন্দ থেকে বাঁচতে পারি এবং উত্তম চরিত্রের অধিকারীও হতে পারি।

কানজুল উম্মালের এক হাদিসে এসেছে, মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে জেনে বুঝে পাপ করে বা কোন মুমিনকে নিয়ে কুৎসা রটনা করে, কোন নেশাদ্রব্য ব্যাবহার করে তাহলে আল্লাহতায়ালা তার সমস্ত আমলকে নষ্ট করে দিবেন। সুতরাং তোমরা পবিত্র রমজান মাসে খোদা ভীতি অবলম্বন কর। কেননা এটি আল্লাহতায়ালার পবিত্র মাস’ (কানজুল উম্মাল)।

আসুন, রমজানের প্রত্যেকটি সময়কে পুণ্য কাজে ব্যবহার করি, রাতগুলোকে ইবাদতে রত থেকে অতিবাহিত করি আর আল্লাহতায়ালার দরবারে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের পাপ সমূহ ক্ষমা করে তার সন্তুষ্টির চাদরে জড়িয়ে নেন, আমিন।
লেখক: ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট

masumon83@yahoo.com

রোজায় কী খাবেন কী খাবেন না

সুষম খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে পবিত্র রমজান মাসের সিয়াম সাধনা আমাদের জন্য অত্যন্ত স্বাস্থ্যবান্ধব।কারণ রোজা পালনে ‌আমাদের রক্তে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে।‌রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণ করে‌ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে‌ ডিটক্সিফিকেশনের মাধ্যমে রোজা পালনের সময় আমাদের শরীরের চর্বিতে ফ্যাট ও সঞ্চিত টক্সিন ধ্বংস হয়‌ রোজা আমাদের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় ডিএনএ ড্যামেজ প্রতিরোধ করে‌ অন্ত্রের ও খাদ্যনালীর সমস্যা নিরাময় করে এবং মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

রোজায় কী ধরনের খাবার বর্জন করা উচিত:

১. অতিরিক্ত তেলে ভাজা ও মসলাযুক্ত খাবার, যা আমাদের পরিপাক ক্রিয়ায় বাধা দেয়।
২. অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার, যা আমাদের শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।এগুলো অবশ্যই বর্জনীয়।

রমজান মাসে প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাস:

→ সাহরি ও ইফতার যথেষ্ট পুষ্টিকর ও পরিমিত হওয়া।
→ আমিষ, শর্করা, চর্বি, ভিটামিন ও মিনারেল সংমিশ্রনে একটি সুষম খাদ্য তালিকা প্রস্তুত করতে হবে।
→ আমাদের সাহরি ও ইফতারে জটিল শর্করা ও আঁশযুক্ত খাদ্য অন্তর্ভুক্ত রাখতে হবে। যেমন- খেজুর, বাদাম, খোসাসমেত ফল, শাকসবজি ইত্যাদি।

পানিশূন্যতা রোধে যা করণীয়:

★ ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত বয়স এবং ওজন-উচ্চতা ভেদে দৈনিক ৮ থেকে ১২ গ্লাস পানি পান করতে হবে।

★ পানি স্বল্পতা রোধে বিশেষ কিছু টিপসও ব্যবহার করা যেতে পারে।যেমন: সাহরিতে অতিরিক্ত চা-কফি পান না করা, যা আমাদের শরীরের পানি চাহিদা বাড়িয়ে দেয়।অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার বর্জন করতে হবে, যা আমাদের শরীরের পানি স্বল্পতা রোধে সহায়তা করবে।

রমজানে যেসব খাওয়া জরুরি-

ছোলা: ১৫০ গ্রাম ছোলাতে প্রায় ১৫০ কিলো ক্যালরি শক্তি আছে।এর থেকে আমাদের দৈনিক খাদ্য আঁশের চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পেতে পারি।এছাড়াও এতে আছে প্রচুর প্রোটিন ও মিনারেল।

খেজুর: সাহরি ও ইফতার দুটি সময়ই খেজুর খুব পুষ্টিকর একটি খাবার।এতে আছে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের খুব চমৎকার একটি সংমিশ্রণ। অর্থাৎ খেজুরের একটি অংশ থেকে আমরা অতিদ্রুত শক্তি পাই।আবার কিছু অংশ ধীরে ধীরে দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে শক্তি প্রদান করতে থাকে।

দই-চিঁড়া: এতে আছে প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেটের যুগলবন্দি।ভিন্নধর্মী খাদ্যাভ্যাসের কারণে রোজায় অনেকেরই বিভিন্ন ধরনের হজমের সমস্যা দেখা দেয়।ইফতারে দই আমাদের ডাইজেস্টিভ হেলথকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।

চৌধুরী তাসনীম হাসীন
প্রিন্সিপাল ডায়েটিশিয়ান, ইউনাইটেড হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা।

পাইলস কখন হয়, প্রতিরোধের উপায়

পাইলসের কোনো সঠিক সংজ্ঞা এখনো পর্যন্ত চিকিৎসকদের জানা নেই। কারণ এ রোগটির আসল প্রকৃতি এখনো পর্যন্ত পুরোপুরি বোধগম্য নয়। পাইলস বলতে আমরা বুঝি মলদ্বারের ভেতরে ফুলে ওঠা রক্তের শিরার একটি মাংসপিণ্ড। এরূপ রক্তের শিরার মাংসপিণ্ড বা ‘কুশন’ সব মানুষেরই রয়েছে। তাই প্রকৃত অর্থে পাইলস বা ‘হেমোরয়েড’ আমরা তখনই বলি যখন এটি কোনোরূপ উপসর্গ সৃষ্টি করছে। যেমন মলদ্বারের বাইরে ঝুলে পড়া মাংসপিণ্ড অথবা রক্ত যাওয়া। প্রতিটি মানুষের তিনটি পাইলস বা ‘কুশন’ আছে। বড় পাইলসের মাঝখানে ছোট ছোট পাইলসও থাকতে পারে। মলত্যাগ করার সময় শিরাগুলো কিছুটা ঝুলে পড়ে এবং রক্ত ভর্তি হয়ে ফুলে ওঠে তারপর ফেটে গিয়ে রক্ত বের হয়।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ইডেন মাল্টি-কেয়ার হাসপাতালের (প্রা.) ল্যাপারোস্কপিক অ্যান্ড লেজার সার্জন ডা. আসিফ আলমাস হক।

পাইলস কখন হয় : ৩০ থেকে ৬০ বৎসর বয়সের ভেতর এ রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। ২০ বছর বয়সের নিচে পাইলস খুব একটা দেখা যায় না। এ রোগ মহিলাদের চেয়ে পুরুষের কিছুটা বেশি হয়।

কারণ : কয়েক শতাব্দীর গবেষণা সত্ত্বেও পাইলসের প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হয়নি। তবে কিছু কিছু রোগ পাইলস হওয়াকে ত্বরান্বিত করে, যেমন- মলত্যাগে অতিরিক্ত কোঁত দেওয়া, অনিয়মিত মলত্যাগের অভ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া ইত্যাদি। অন্য কিছু কিছু কারণ আছে যার জন্য পাইলস হতে পারে, যেমন- বংশগত, অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা, অনেকক্ষণ গরমে থাকা, ভারী ওজন তোলা, গর্ভাবস্থা, আঁটসাঁট পোশাক পরা, হরমোনের প্রভাব, আঁশজাতীয় খাবারের অভাব ইত্যাদি।

উপসর্গ : বহিঃস্থিত পাইলসের ক্ষেত্রে মলদ্বারের বাইরে ফোলা থাকে এবং কিছুটা ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে। অভ্যন্তরীণ পাইলসের ক্ষেত্রে টয়লেটে টাটকা লাল রক্ত দেখা যায়। কোনোরূপ ব্যথা থাকে না। মলত্যাগের শেষে রক্ত যায়। রক্ত ফোঁটায় ফোঁটায় যায় আবার কখনো তীরের বেগে যায়। রক্ত যাওয়ার পর যদি বেশি ব্যথা ও জ্বালাপোড়া হয় তাহলে এনাল ফিশার বা ক্যানসার হতে পারে। রক্ত যেতে যেতে রোগী গভীর রক্তশূন্যতায় ভুগতে পারেন। মলদ্বারের বাইরে পাইলসটি ঝুলে পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে মলত্যাগ শেষে পাইলসটি আপনা আপনি ভেতরে ঢুকে যেতে পারে। পাইলসে সাধারণত ব্যথা হয় না। থ্রম্বোসিস হলে বা পাইলস বাইরে অতিরিক্ত ঝুলে থাকলে ব্যথা হতে পারে। মলদ্বারে শুধু পাইলস রোগই হয় না আরও অনেক রোগ হয় যার শতকরা বিশ ভাগ রোগী পাইলসে আক্রান্ত।

প্রতিরোধের উপায় : এ রোগ প্রতিরোধের উপায় হচ্ছে সময়মতো কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়ার চিকিৎসা করা, টয়লেটে বসে বসে পেপার/বই না পড়া, খাবারের সঙ্গে আঁশ জাতীয় জিনিস যেমন-ফল, সবজি, সালাদ পরিমাণ মতো খাওয়া, দৈনিক ৬-৮ গ্লাস পানি পান করা, ভারী ওজন না তোলা, অতিরিক্ত গরমে বেশিক্ষণ না থাকা ইত্যাদি।