শুক্রবার ,১৪ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 351

ছাত্রদল-ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক যশোরের সন্তান

দেশের বৃহত্তম দুই ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করছেন যশোরের দুই কৃতি সন্তান। দুই বছর আগে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান যশোরের মনিরামপুর উপজেলার সন্তান লেখক ভট্টাচার্য।

রোববার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন কেশবপুর উপজেলার সন্তান রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ। তাদের এই দায়িত্ব প্রাপ্তিতে উচ্ছ্বসিত ও আনন্দিত যশোরবাসী।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে অনুষ্ঠিত ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে ২ বছর মেয়াদি কমিটি গঠিত হয়েছিল। ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তাদের দুইজনকে পদ থেকে সরিয়ে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয় প্রথম সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে। একইসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

এরপর ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি তাদেরকে ভারমুক্ত করা হয়। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বাসিন্দা লেখক ভট্টাচার্য। তিনি যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ বিভাগে (২০০৮-০৯ সেশনে) ভর্তি হন তিনি। বর্তমানে তিনি এই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করেন।

জগন্নাথ হলের আবাসিক ছাত্র লেখক বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

অপরদিকে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হয়েছেন যশোরের ছেলে কাজী রওনাকুল ইসলাম (শ্রাবণ)। দেড় যুগ আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। তবে তার পরিবারের সদস্যরা রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

রওনাকুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি যশোরের কেশবপুর উপজেলার চিংড়া গ্রামে। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী রফিকুল ইসলাম কেশবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। ২০০৩ সালে কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন শ্রাবণ। থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে।

শ্রাবণের বড় ভাই মুস্তাফিজুল ইসলাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন। পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তিনি এখন দল থেকে বহিষ্কৃত। আরেক ভাই মোজাহিদুল ইসলাম উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক। আর ছোট ভাই আযাহারুল ইসলাম উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক।

এ বিষয়ে যশোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণের। জাতীয়তাবাদী ছাত্ররাজনীতির মধ্যদিয়ে যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে শ্রাবণ। তার সেই ভূমিকার যথার্থ মূল্যায়ন করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শ্রাবণ ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ায় যশোরবাসী হিসেবে গর্বিত ও আনন্দিত।

কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ বলেন, কেশবপুরের সন্তান শ্রাবণ জাতীয় পর্যায়ে ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় কেশবপুরবাসী গর্বিত। শ্রাবণ জাতীয়তাবাদী রাজনীতির একজন সূর্যসন্তান।

আওয়ামী লীগের কেশবপুর শাখার সভাপতি মাস্টার রুহুল আমীন বলেন, শ্রাবণ কেশবপুরের সন্তান। বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা সবাই আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। শ্রাবণ ছাত্রদলের জাতীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তিনি দোষের কিছু দেখছেন না।

আওয়ামী লীগের কেশবপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান শ্রাবণ ছাত্রদলের সভাপতি হওয়ায় তার পরিবারের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। তিনিও এটা স্বাভাবিকভাবে দেখেন।

গত রোববার ছাত্রদলের সভাপতি হিসাবে শ্রাবণের নাম জানার পর কেশবপুরের সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত কেশবপুরের রাজনীতি কোন দিকে যাবে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে পর্তুগালে নিম্নআয়ের মানুষ বিপাকে

পর্তুগালের বাজারে ইউক্রেন এবং রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সাত দফায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে নিম্নআয়ের মানুষের সীমিত আয় দিয়ে জীবন নির্বাহ দুরূহ হয়ে যাচ্ছে। গত ১৪ এপ্রিল পর্তুগালের ভোক্তা অধিকার রক্ষা অ্যাসোসিয়েশন ডেকো প্রেটেস্ট তাদের সমীক্ষায় চালানো দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চিত্র প্রকাশ করেছে।

সমীক্ষায় দেখা যায়, যুদ্ধ শুরুর আগের দিন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের পরিপূর্ণ একটি ঝুড়ির সমপরিমাণ পণ্য ক্রয় করতে প্রয়োজন হতো ১৮৩ ইউরোর কিছু বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৮,৩০০ টাকার মতো এবং ৭ দফায় বেড়ে গত ১৩ ই এপ্রিল এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০২ ইউরো; যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২০,২০০ টাকার সমতুল্য প্রায়। এর মধ্যে রয়েছে খাদ্যপণ্যের তারতম্য ভেদে প্রায় ৬৩ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী।

দেশটির নাগরিকদের খ্রিস্টধর্মের বড় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে হঠাৎ করেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সবাইকে এক ধরনের মানসিক চাপের মুখে ফেলেছে। প্রতি বছরই বেতন বৃদ্ধির সাথে সাথে দ্রব্যমূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পায়, তবে বর্তমানে তা নিম্নআয়ের মানুষের জন্য খুবই অসামঞ্জস্য। উক্ত উৎসব পালনের প্রয়োজনীয় পণ্যগুলোতে দাম ছিল অস্বাভাবিক এবং অপ্রতুল।

ইউক্রেনের কাছ থেকে প্রধান খাদ্যপণ্য আমদানি নির্ভরতা এবং জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে হঠাৎ করেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তবে পরবর্তী মহামারীর কারণে ও মজুত স্বল্পতায় অনেকাংশে দায়ী। জানুয়ারি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে উৎপাদন এবং পরিবহনেও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। উপকূলবর্তী দেশটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাছের দামের স্থিতিশীলতা থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে মাছধরা জাহাজের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছের মূল্যেও এর প্রভাব পড়েছে।

এখানে বসবাসরত নিম্নআয়ের মানুষ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই মূল্যবৃদ্ধিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন যে, এখানে আমার নিজের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বাংলাদেশে অবস্থিত পরিবারকে আগের চেয়ে কম অর্থ প্রেরণ করতে হবে; যা রমজান মাসে পরিবারকে একটি কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত নাগরিক মারিয়া জোজে জানান, যে পরিমাণ অবসর ভাতা পাই হঠাৎ এই দামের তারতম্য আমাদের আনন্দগুলো ছিনিয়ে নিয়েছে। যুদ্ধর বিষয়টি কোনোভাবেই তিনি মেনে নিতে পারছেন না। তিনি বলেছেন, সরকার আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে তা এড়ানো যেত। একই মতামত প্রকাশ করেছেন বেশ কয়েকজন স্থানীয় নাগরিক। তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি খুব শীঘ্রই পরিবর্তন হবে যুদ্ধাবস্থার অবসান হলে।

হামলাকারীকে ধরিয়ে দিয়ে ৪৩ লাখ টাকা পুরস্কার পেলেন সিরিয়ান যুবক

নিউইয়র্কে পাতাল ট্রেনে বন্দুক হামলাকারীকে ধরিয়ে দিয়ে ৪৩ লাখ টাকা (৫০ হাজার মার্কিন ডলার) পুরস্কার পেলেন ২১ বছর বয়সী সিরিয়ান অভিবাসী জাকারিয়া তাহহান ওরফে জাচ তাহহান। গত ১২ এপ্রিল নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের সানসেট পার্ক এলাকার ৩৬তম স্ট্রিটের পাতাল ট্রেনে এক বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ ২৯ ব্যক্তি আহত হন। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে সরাসরি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিয়ে তাকে ধরিয়ে দিয়ে পুলিশ বিভাগ ঘোষিত ৪৩ লাখ টাকা (৫০ হাজার মার্কিন ডলার) পুরস্কার পান জাকারিয়া।

নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ গত বুধবার (১৩ এপ্রিল) জাকারিয়া তাহহানকে পুরস্কারপ্রাপ্তের নাম ঘোষণাসহ নায়ক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেন। ২১ বছর বয়সী সিরিয়ান অভিবাসী জাকারিয়া তাহহান ওরফে জাচ তাহহান ৫ বছর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা হলেও কর্মসূত্রে বর্তমানে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের বসবাস করছেন জাকারিয়া।

তিনি পাঁচটি ভাষায় কথা বলতে পারেন। তিনি একটি কোম্পানির সব ধরনের নজরদারি ক্যামেরা ইনস্টল করে থাকেন। পাতাল ট্রেনে বন্দুক হামলাকারীকে ধরিয়ে দেবার পর জাকারিয়া রাস্তায় একটি সংবাদ সম্মেলন করেছিল যেখানে কয়েক ডজন সাংবাদিক তাকে ঘিরে ধরেছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিগুণ পুরস্কারও প্রদানের কথাও দাবি করেন, কারণ কেউ জানে না বন্দুক হামলাকারী ফ্র্যাঙ্ক জেমস আর কী কী করতে যাচ্ছিল।

সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, আমার যখন ১৩ বছর বয়স তখন ২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। চোখের সামনে মানুষ মানুষকে হত্যা করার বীভৎস দৃশ্য দেখেছি। এ কারণে যখনই কোনো হামলার ঘটনা দেখি, তখনই আমার পুরনো স্মৃতি মনে পড়ে। আমি মনে করি, যেসব নিরপরাধ মানুষের ওপর হামলা হয়েছে, তাদেরও স্ত্রী-সন্তান ও পরিবার-পরিজন আছে। কেন অকারণে মানুষ মানুষকে হত্যা করছে। তাই টিভিতে হামলাকারীকে দেখামাত্র পুলিশকে ফেন দিই এবং তাকে গ্রেফতারে সব ধরনের সহযোগিতা করি। এ ঘটনার পরে রাতারাতি হিরো বনে যান সিরীয় এই তরুণ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির বাসিন্দা হলেও কর্মসূত্রে বর্তমানে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের বসবাস করছেন। গ্রেফতারের পর হামলাকারী পুলিশকে জানিয়েছেন, আরও ভয়াবহ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। অর্থাৎ তাকে যথাসময়ে গ্রেফতার করতে না পারলে আরও হামলার আশঙ্কা ছিল।

সুদ বেতন ভর্তুকিতেই ৪৯ শতাংশ ব্যয়

ব্যয় সংকোচন নীতির পথে হাঁটলেও আগামী বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় বরাদ্দ বাড়ছে। একইভাবে দেশি ও বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধেও বড় অঙ্ক গুনতে হবে। আর চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে বেড়ে যাওয়া জ্বালানি তেল, সার, গ্যাসের বর্ধিত মূল্য সমন্বয় করতে হচ্ছে সরকারকে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী বছরের জন্য ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে বড় ধরনের বরাদ্দ বাড়াতে হচ্ছে। ফলে উল্লেখিত তিনটি খাতে নতুন বাজেটের ৪৯ শতাংশই ব্যয় হবে। টাকার অঙ্কে এটি ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা। অবশ্য ৬ লাখ ৭৭ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য ধরে আগামী অর্থবছরের (২০২২-২৩) বাজেটের রূপরেখা প্রণয়ন করেছে অর্থ বিভাগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

আগামী ৯ জুন জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অর্থ বিভাগ এরই মধ্যে বাজেটের রূপরেখা প্রণয়ন করেছে। যা গত রোববার বাজেট ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, সরকার ব্যয় সংকোচন নীতির আলোকে বাজেট প্রণয়ন করছে। করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ার সঙ্গে অর্থনীতির সংকট কাটছে ধীরে ধীরে। তবে এখনো সরকারের করোনামুখী ব্যয় নানাভাবে হচ্ছে। এসব দিক বিবেচনা করেই সব খাতে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কিছু এরিয়া আছে যেখানে ব্যয় কমানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সেখানে বরাদ্দ বাড়ানো হবে।

আগামী বাজেটের যে রূপরেখা প্রণয়ন করেছে সেটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সরকারের পরিচালনা ব্যয়ের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। এই ব্যয়ের মধ্যে দেশি ও বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধ, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা প্রদান এবং ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ বাবদ ব্যয় করতে হবে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা। এ ব্যয় নতুন বাজেটের ৪৯.২৪ শতাংশ।

সূত্র জানায়, আগামী বাজেটে সবচেয়ে বেশি চাপ থাকছে ভর্তুকিতে। চলমান রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এটি হয়েছে। এই যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য প্রতি ব্যারেল ১০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত অতিক্রম করেছিল। এখন কিছুটা কমছে। পাশাপাশি সার, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বিশ্ববাজারে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু এসব পণ্যের দাম দেশের বাজারে খুব বেশি বাড়ানো হয়নি। বিশেষ করে কৃষকের সারের মূল্য আগের অবস্থায় আছে। গ্যাসের মূল্যও বাড়ানো হয়নি। শুধু জ্বালানি তেলের মূল্য এক দফা সমন্বয় করা হয়েছে।

মূল্য সমন্বয় না করায় সরকারের ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে ব্যয় বেড়েছে। নতুন বাজেটে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণে বরাদ্দ থাকছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ৪ শতাংশের সমান। চলতি বছরের তুলনায় এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে ২৭ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। এ বছর ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ বাবদ বরাদ্দ দেওয়া আছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা।

এদিকে কৃষি ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি না কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক সিনিয়র অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ। যুগান্তরকে তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে হবে। রাজস্ব আহরণ বাড়িয়ে ভর্তুকি বরাদ্দ সমন্বয় করার প্রতি জোর দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, রপ্তানির সব খাতে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। আদৌ সব খাতে প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখা উচিত। তবে কিছু এরিয়াতে এই মুহূর্তে ব্যয় সংকোচন করতে হবে। বিশেষ করে কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অর্থ ব্যয় কমাতে হবে। এদিক থেকে কিছু অর্থ সাশ্রয় হবে।

জানা গেছে, অর্থনীতির নানা দিক থেকে চাপের মধ্যে আছে সরকার। ফলে ব্যয় সংকোচন নীতি কৌশল নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিছু বরাদ্দ খাত আছে যেখানে ব্যয় কাটছাঁট করা সম্ভব নয়। এর একটি হচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা। আগামী বছরে এ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৭৬ হাজার ৪১২ কোটি টাকা। এটি চলতি বছরের চেয়ে ৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা বেশি। চলতি বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ আছে ৬৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগ মনে করছে করোনার কারণে দীর্ঘদিন জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি তা শুরু হয়েছে। এজন্য আগামী বছরে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে। এছাড়া চাকরিজীবীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়। সেজন্যও অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হবে। যে কারণে বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে।

ব্যয়ে একটি বড় খাত ঋণের সুদ পরিশোধে। আগামী অর্থবছরে শুধু সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে ৮০ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। এটি অর্থনীতিতে এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। এই সুদ পরিশোধ হবে মূলত দেশি ও বিদেশ থেকে ঋণ গ্রহণের বিপরীতে। নতুন বছরে সুদ খাতে চলতি বছরের তুলনায় বেশি ব্যয় হবে ১১ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। এ বছর সুদ পরিশোধে বরাদ্দ আছে ৬৮ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ সুদের হার নির্ধারণ

ব্যাংকের পর এবার ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও আমানত ও ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ১১ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে পারবে। আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদ দেওয়া যাবে।

সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়।

আগামী ১ জুলাই থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর। নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার আগের আমানতের ক্ষেত্রে সুদের হার ওই আমানতের বর্তমান মেয়াদপূর্তির পর নতুন নির্দশনা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

এর আগে ২০২০ সালের এপ্রিলে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ব্যাংক ঋণে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ আর আমানতে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদহার ঠিক করে দেওয়া হয়। তবে তখন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুদহার নির্ধারণ করা হয়নি।

এসব প্রতিষ্ঠানে সব সময়ই আমানত ও ঋণের সুদহার তুলনামূলক বেশি থাকে । এই বিবেচনায় আমানতের ক্ষেত্রে এক শতাংশ, আর ঋণের ক্ষেত্রে দুই শতাংশ বাড়তি সুদের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকগুলো চলতিসহ সব ধরনের আমানত নিতে পারে। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছয় মাসের কম মেয়াদি কোনো আমানত নিতে পারে না।

কোনো কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান আগের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। এতে সাধারণ আমানতকারীদের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোও এখন এসব প্রতিষ্ঠানে আগের মতো টাকা রাখতে চাইছে না।

আমানত টানতে অনেক প্রতিষ্ঠান ৮ থেকে ১২ শতাংশ সুদ দিতে চাইছে। আর ঋণ দিচ্ছে ১৮ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত সুদে।

এ পরিস্থিতিতে গত ২৭ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও ঋণ ও আমানতে সুদ হারের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা কূটনীতিকদের তালিকা তৈরির আহ্বান

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কূটনীতিকদের তালিকা তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন সাবেক কূটনীতিকরা। সোমবার ফরেন সার্ভিস ডে উপলক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা এএইচ মাহমুদ আলী বলেন, বাংলাদেশ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইতিহাস সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে আরও বেশি জানার সুযোগ করে দিতে হবে। নতুন প্রজন্ম যদি জানতে চায় তাহলে আনন্দের সঙ্গে তাদের ওই সময়ে কী হয়েছিল সেটা বলতে আমি আগ্রহী। এ বিষয়ে আমার বই লেখার কাজ চলছে।

সাবেক কূটনীতিক ওয়ালিয়ার রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের আগে যেসব কূটনীতিক পক্ষ ত্যাগ করেছে বা চাকরি ছেড়ে দিয়েছে তাদের পূর্ণ তালিকা তৈরি করা দরকার।

সাবেক কূটনীতিক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ইরাক, আর্জেন্টিনা ও ফিলিপিন্সে ওই সময় রাষ্টদূতরা বাঙালি ছিলেন এবং তারাও পক্ষত্যাগ করেছিলেন। এর ফলে সারা বিশ্বে একটি আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের প্রধান আলী হোসেনসহ ৬৫ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী পক্ষ ত্যাগ করেন এবং এদিন বিদেশের মাটিতে প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ উপলক্ষে দিনটিকে ফরেন সার্ভিস ডে পালন করা হয়।

আন্দোলনে ছাত্রদলকে ভ্যানগার্ডের ভূমিকা পালন করতে হবে: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে রাজপথে ছাত্রদলকে ভ্যানগার্ডের ভূমিকা পালন করতে হবে।

সোমবার রাতে তার উত্তরার বাসায় ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির নেতারা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি একথা বলেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সভাপতি-কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবন, সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, সিনিয়র সহ-সভাপতি-রাশেদ ইকবাল খান, ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাংগঠনিক সম্পাদক-আবু আফসার মোহাম্মদ ইয়াহিয়া।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রসমাজ অগ্ৰভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। দেশ আজ মহাসংকটে। এ সংকট উত্তরণে ছাত্রদলকে আবার রাজপথে অগ্ৰসেনানীর ভূমিকায় দেখতে চাই। নতুন নেতৃত্ব তা পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

এসময় ছাত্রদলের নেতারা মহাসচিবকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, গণতন্ত্র ও আমাদের চেয়ারপারসনের মুক্তি আন্দোলনে জীবন বাজি রেখে রাজপথে থাকব।

পরে মির্জা ফখরুলের হাতে ফুলের তোড়া দেন নবগঠিত কমিটির নেতারা। রোববার ছাত্রদলের আগের কমিটি ভেঙে দিয়ে পাঁচ সদস্যের নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

মানবাধিকার প্রতিবেদন সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না: যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার প্রতিবেদন দুই দেশের সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির নতুন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তারা।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান উপস্থিত ছিলেন ।

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনটি সঠিক নয়। এসব রিপোর্ট মানুষের কাছ থেকে শুনে করা হয়েছে।’

এর জবাবে হাস বলেন, ‘সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে আমরা মানবাধিকার প্রতিবেদন তৈরি করি। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এটি করা হয়। তবে বাংলাদেশকে নিয়ে এই প্রতিবেদন দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না।’

এর আগে গত রোববার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার প্রতিবেদন বিষয়ে ব্যাখা চাইবে বাংলাদেশ।

সোমবারের বৈঠকে মানবাধিকার প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনার পর জ্বালানি ও অন্যান্য খাতে মার্কিন বিনিয়োগ নিয়ে পিটার হাসের সঙ্গে কথা বলেন সালমান এফ রহমান।

এসব খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, ‘এটি একটি সফল বৈঠক ছিল। দুই দেশের অর্থনীতির সহযোগিতার বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’

প্রসঙ্গত, গত ১২ এপ্রিল প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমালোচনা করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিপীড়ন ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ব্যাপকভাবে দায়মুক্তি ভোগ করে আসছে বলে খবর রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক নিপীড়ন, হত্যা ও দুর্নীতির খুব কম সংখ্যক ঘটনায় তদন্ত ও বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

এ ছাড়া প্রতিবেদনে রাজনৈতিক দলগুলোর উপর গুরুতর এবং অযৌক্তিক বিধিনিষেধ, সরকারি দুর্নীতি; দেশীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে।

বেসরকারি ২৩ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসির আলটিমেটাম

দেশের ২৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে চতুর্থদফা আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এতে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ভাড়া বাড়ি থেকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আগামী ১ জানুয়ারি থেকে নতুন ছাত্রছাত্রী ভর্তি বন্ধ করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অস্থায়ী ক্যাম্পাস অবৈধ ঘোষণা করা হবে ।

২৭ মার্চ ইউজিসিতে অনুষ্ঠিত সভায় আলটিমেটাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিদ্ধান্তের কথা রোববার জানানো হয়েছে। সাময়িক সনদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে, অথচ স্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম পুরোপুরি স্থানান্তরিত করেনি-এমন ২৩ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে গত নভেম্বরে ৩ থেকে ৫ দিনের সময় দিয়ে শোকজ করা হয়েছিল। ওই শোকজের জবাব পর্যালোচনার পরই এই ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

আইন লঙ্ঘন করে ভাড়া বাড়িতে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গত এক যুগে দেওয়া এটি চতুর্থ আলটিমেটাম। সর্বশেষ তৃতীয়দফার আলটিমেটামে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তখন বলা হয়েছিল-নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হলে ভর্তি বন্ধ করে দেওয়া হবে। সে অনুযায়ী ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভর্তি বন্ধের কথা ছিল। কিন্তু ওই আলটিমেটাম উপেক্ষিত হয়েছে। এর বিপরীতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি ৪ বছরে কোনো মিটিং পর্যন্ত হয়নি। অবশ্য ইউজিসি একাধিক দফায় বিষয়টি অবহিত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, এর নেপথ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে পার করে দেওয়ার বিষয় থাকতে পারে। চট্টগ্রামের ওই প্রতিষ্ঠানের একাধিক ক্যাম্পাস আছে। সবকটিকে স্থায়ী ক্যাম্পাসের মর্যাদা দেওয়ার ব্যাপারে ইউজিসির ওপর দীর্ঘদিন চাপ ছিল। কিন্তু আইনে অখণ্ড জমিতে ক্যাম্পাস থাকার বাধ্যবাধকতা আছে। ইউজিসির সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা আইনের দিকটি উল্লেখ করে ওই বিশ্ববিদ্যালয়কে সুপারিশ করতে অপারগতা প্রকাশ করে আসছিল। এজন্য দুই কর্মকর্তাকে ইউজিসির সংশ্লিষ্ট দপ্তর পর্যন্ত ছাড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। সম্প্রতি ওই প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশ পূর্ণ হয়েছে। এরপরই এই নতুন আলটিমেটাম এলো কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জানতে চাইলে ইউজিসির সদস্য (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ অবশ্য যুগান্তরকে বলেন, যেসব বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১২ বছর পার হয়েছে কিন্তু স্থায়ী ক্যাম্পাসে যায়নি, শুধু তাদের শোকজ করা হয়েছে। এরপর শোকজের জবাব সামনে রেখে নতুন আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এখানে অন্য কোনো বিবেচনা প্রাধান্য পায়নি।

দেশে অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ১০৮টি। কিন্তু বর্তমানে ৯৯টির কার্যক্রম চলছে, এর মধ্যে ২০১০ সালের আগের আইনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ৫২টি। এগুলোর মধ্যে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ আদালতে এক মামলার রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালে সরকার বন্ধ করে দেয়। অবশিষ্ট ৫১টির মধ্যে ২৮টি স্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম শুরু করেছে। বাকি ২৩টি স্থায়ী ক্যাম্পাস বানায়নি। আবার কয়েকটি কোনো ধরনেরই পদক্ষেপ নেয়নি। এমন বাস্তবতায় স্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম শুরু করতে ২০১০ সালের পর থেকে সরকার আলটিমেটাম দিয়ে আসছে।

সূত্র জানায়, ২৩ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল। ২০০২ সালে অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানটির স্থায়ী ক্যাম্পাস ঢাকার বাইরে। এরপরও ঢাকার শুক্রাবাদে ২টি ক্যাম্পাসে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের কার্যক্রম চলছে। শোকজের জবাবে তারা আগামী বছরের অক্টোবর পর্যন্ত এখানেই কার্যক্রম চালানোর কথা জানায়। এটা মানতে নারাজ ইউজিসি। তাদের কার্যক্রম এ বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই স্থায়ী ক্যাম্পাসে গুটিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কোনো প্রোগ্রামেই নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না। এছাড়া ক্যাম্পাস দুটি অবৈধ ঘোষণা করা হবে।

ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগং (ইউএসটিসি) শোকজের কোনো জবাবই দেয়নি। এ অবস্থায় স্থায়ী ক্যাম্পাস সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে ইউজিসির সংশ্লিষ্ট সদস্যের নেতৃত্বে কমিটি করা হয়েছে। এতে অভিজ্ঞ আইনজীবীদের সদস্য হিসাবে রাখা হয়েছে। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ স্থায়ী ক্যাম্পাসে পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।

এবারও ব্যর্থ হলে সব অস্থায়ী ক্যাম্পাস অবৈধ ঘোষণা, শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৩৫(৭) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়লেও রিসার্চ সেন্টারের নামে ধানমন্ডি এলাকায় ক্যাম্পাস ধরে রেখেছে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বনানী ও গ্রিন রোডে ক্যাম্পাস আছে। সাতারকুলে তৈরি স্থায়ী ক্যাম্পাসেও প্রতিষ্ঠানটি আংশিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে এরপরও অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যক্রম চালাতে চায় তারা। মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি দুইভাগে পরিচালিত হচ্ছে। একটি আছে গুলশানে, আরেকটি আশুলিয়ায়। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এখনো স্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ করতে পেরেছে।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিও দুইভাগে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর মধ্যে মোহাম্মদপুরের আদাবরে ৪টি প্রোগ্রামের কার্যক্রম চলছে। বাকি কাজ চালাচ্ছে ইকবাল রোডের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে। একই পরিস্থিতি সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের। বনানীতে আছে প্রতিষ্ঠানটির অস্থায়ী ক্যাম্পাস, আর তেজগাঁওয়ে স্থায়ী। তবে প্রতিষ্ঠানটির ৪টি অননুমোদিত ক্যাম্পাস আছে। যে কারণে ইউজিসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায় এটি লাল তারকাভুক্ত হিসাবে চিহ্নিত। শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটির উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে আছে স্থায়ী ক্যাম্পাস। কিন্তু এরপরও একই এলাকার ১৩ নম্বর সেক্টরে ও লালমাটিয়ায় ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে।

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময় চাচ্ছে। এরপর তারা ডেমরায় গ্রিন মডেল টাউনে কার্যক্রম স্থানান্তর করবে। আর স্টেট ইউনিভার্সিটি চাচ্ছে ২০২৫ সাল পর্যন্ত। এই প্রতিষ্ঠানটি ঢাকায় দুটি ঠিকানায় ক্যাম্পাস চালাচ্ছে। স্থায়ী ক্যাম্পাস বানাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে। তবে চলতি বছরের মধ্যেই বনানী থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে আশকোনায় স্থায়ীভাবে কার্যক্রম শুরু করতে চায় নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি। প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি ২০২৭ সালে যেতে চায় স্থায়ী ক্যাম্পাসে। আর ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার কথা বলেছে ২০২৬ সালে। দুটি প্রতিষ্ঠানই ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত। আশা ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার অনুমোদন পেয়েছে ২০০৬ সালে। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠান স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার কোনো সদিচ্ছাই নেই বলে মনে করছে ইউজিসি।

উত্তরা ইউনিভার্সিটি বলছে, ২০২১ সালে এক নির্দেশনায় তাদের ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। অননুমোদিত ২টি ক্যাম্পাসসহ চলছে ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি। প্রতিষ্ঠানটি কবে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাবে তা জানায়নি। তবে বলেছে, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাবে। রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা বলছে, স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য ইতঃপূর্বে গাজীপুর ও ভৈরবে জমি কিনেছে। কিন্তু তারা এখন ছাত্রছাত্রীদের কথা ভাবছে। এজন্য ঢাকায় তেজগাঁওয়ে জমি কেনার প্রক্রিয়া চলছে। আগামী বছরের মধ্যে এই কাজ তারা শেষ করতে চায়। লাল তারকাভুক্ত ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ অননুমোদিত ৮টি ক্যাম্পাস চালাচ্ছে। ধানমন্ডিতে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানটি গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি কিনেছে। কবে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাবে তা জানায়নি।

স্থায়ী ক্যাম্পাসে দুটি ভবনের মধ্যে একটি তৈরির কাজ শেষ করেছে গ্রিন ইউনিভার্সিটি। আরেকটি ১০তলা ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। তবু এ প্রতিষ্ঠানটির আরও ২ বছর লাগবে স্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম শুরু করতে। এজন্য ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময় চাচ্ছে। দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটি মতিঝিলে অপর্যাপ্ত ও ফাউন্ডেশনের নামে রেজিস্ট্রিকৃত জমিতে গড়া ক্যাম্পাসে চালাচ্ছে কার্যক্রম। একইভাবে অপর্যাপ্ত জমিতে কার্যক্রম চলছে প্রাইম ইউনিভার্সিটির। এর মধ্যে অবশ্য প্রথমটিকে আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয়টি কোনো আলটিমেটাম দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।

রোজায় ডায়াবেটিক রোগীদের সুগার কেন বাড়ে?

রমজান মাসে ডায়াবেটিক রোগীদের শরীরের বিশেষ যত্ন নিতে হয়। ১২-১৪ ঘণ্টা অভুক্ত থাকার কারণে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। সুগার বেড়ে যেতে পারে।

রোজায় সুগার বেড়ে যাওয়ার কারণ নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন পথ্য ও পুষ্টিবিদ জাহিদা সুলতানা।

* খেজুর বেশি খেলে সুগার বাড়ে।

* অনেকেই ওরস্যালাইন/ টেস্টি স্যালাইন খান, ভাবেন এটা তো নোনতা, কিন্তু এতে গ্লুকোজ আছে।

* ইফতারের সময় সামান্য চিনি দিয়ে শরবত খান। ভাববেন না যেন সারাদিন না খেয়ে ছিলাম তাই সামান্য চিনিতে কোনো ক্ষতি হবে না।

* অল্প অল্প করে ২-৩ রকম মিষ্টি ফল খান। তরমুজ, আপেল, পেয়ারা, আনারস, লিচু, আম যা ব্লাড সুগার বৃদ্ধিতে সহায়ক।

* একসঙ্গে ইফতারে বেশি পরিমাণে খাবার গ্রহণ করলে গ্লুকোজ লেভেল বাড়ে।

* রাতের খাবার বাদ দিয়ে ইফতারে বেশি খেলে এর প্রভাব পরবর্তী দিনের রোজায় পড়ে।

* অনেকেই সেহরির সময় দুধ, ভাত ও কলা মিশিয়ে খান, এটা ব্লাড সুগার বাড়তে সাহায্য করে।

যেসব ভুল এড়িয়ে যেভাবে রোজা সুস্থতার সঙ্গে পালন করা যায়-

* ইসবগুল/তোকমার শরবত কৃত্রিম চিনি দিয়ে তৈরি করে খেতে পারেন। চিনি ছাড়া টক ফলের জুস বাসায় তৈরি করতে পারেন। মিষ্টি ফলের জুস যাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে (খাবার পর ব্লাড সুগার ৮ মিলিমোল/লিটার) তারা খেতে পারেন।

* নবিজির সুন্নত পালনের জন্য একটি খেজুর খান, এর বেশি নয়।

* টক মিষ্টি ফল মিশ্রিত করে খাবেন। যাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বাইরে তারা অবশ্যই ব্লাড সুগার বৃদ্ধি করে এমন ফল খাওয়া বন্ধ রাখুন।

* ইফতারে অল্প খান, রাতের সমপরিমাণ খাবার খাবেন ইফতারে। রাতের খাবার হবে সকালের নাশতার সমপরিমাণ।

* সেহরির সময় দুপুরের খাবারের সমান খাবার খাবেন এবং শেষ সময়ে খাবেন তার মানে আপনার সেহরি খাওয়া শেষ হবার ৫ মি. পরই যেন ফজরের আজান দেয়।

* সেহরির সময় দুধ ও ভাত/দুধ কলা মিশিয়ে খান। দুধ ও কলা/আম ও ভাত গ্রহণ হতে বিরত থাকুন।