শুক্রবার ,১৪ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 343

থায়রয়েড হরমোন কমে গেলে যেসব জটিলতা দেখা দেয়, কী করবেন?

হরমোনের তারতম্যের কারণে শরীরে নানা জটিলতা দেখা দেয়। থায়রয়েড হরমোনের কম বেশি হওয়ার কারণে শিশু, নারীসহ সব বয়সি মানুষের স্বাস্থ্য সমস্যার কথা শোনা যায়। নারীদের অনেকের মাসিকে সমস্যা, অনেকের বন্ধত্য দেখা দেয়। আবার শিশুরা অনেকে হাবাগোবা হয়ে উঠে।

থায়রয়েড হরমোনের তারতম্যজনিত সমস্যা দুই রকম হতে পারে। যেমন- শরীরে থায়রয়েড হরমোনের পরিমাণ কমে গেলে বা হাইপোথায়রয়েডিজম, আবার বেড়ে গেলে হাইপারথায়রয়েডিজম। হাইপোথায়রয়েডিজমের রোগের সংখ্যা হাইপারথায়রয়েডিজমের চেয়ে অনেক বেশি।

আমাদের দেশে সেটি আরও প্রকট। বাংলাদেশের আয়োডিন ঘাটতিজনিত ব্যাপক জনগোষ্ঠী এ সমস্যায় আক্রান্ত। আমাদের সামগ্রিক জীবনমানের ওপরে থায়রয়েড হরমোন ঘাটতি সুগভীর ঋণাত্মক প্রভাব বিস্তার করে আছে। আমাদের দেশে ব্যাপক সংখ্যক নির্বোধ মানুষ, বন্ধ্যা দম্পতি ও স্থূলদেহী জনগোষ্ঠীর পেছনে হাইপোথায়রয়েডিজম অন্যতম কারণ।

হাইপোথাইরয়েডিজম হলে শিশুদের বেলায় অবর্ধনজনিত রোগ বা ক্রিটিনিজম হবে এবং উঠতি বয়স্কদের বা প্রাপ্তবয়স্কদের মিক্সিডিমা হয়। ক্রিটিনিজমের লক্ষণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- মাংসপেশি ও হাড় এবং স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক বর্ধন না হওয়া। এর ফলে শিশু বেঁটে হয়, বোকা বা বুদ্ধিহীন হয়ে থাকে। জিহ্বা বড় হবে ও মুখ থেকে বেরিয়ে আসে এবং নাভির হার্নিয়া হয়। হাইপোথাইরয়েডিজম হওয়ার উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে অটোইমিউন ধ্বংসপ্রাপ্ত, ওষুধ, টিএসএইচ স্বল্পতা ও গর্ভাবস্থায় মায়ের থাইরয়েড হরমোন স্বল্পতা ইত্যাদি।

কম হরমোনের চিকিৎসা

রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা পদ্ধতিও ভিন্ন। তবে অধিকাংশ রোগীই ভোগেন হাইপোথায়রয়েডিজম অর্থাৎ তাদের থায়রয়েড গ্ল্যান্ড থেকে কম পরিমাণ থায়রয়েড হরমোন থাইরক্সিন নিঃসৃত হয়। এ ঘাটতি পূরণ করার জন্য ডাক্তাররা তাদের থাইরক্সিন ট্যাবলেট খাওয়ার পরামর্শ দেন। প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীকে ১০০ থেকে ২০০ মাইক্রোগ্রাম থাইরক্সিন দেওয়া হয়।

ওষুধ খাওয়ার নিয়ম

সারা জীবন ওষুধ খেতে হবে কিনা, তা রোগের ধরনের ওপর নির্ভরশীল। যার থাইরক্সিন ঘাটতি সামান্য বা উপসর্গও কম, তার সারা জীবন ওষুধ খাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ৬ মাস থেকে ২ বছরেই সে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবে। অনেক ওষুধ ছাড়াও সুস্থ হয়ে যান। কিন্তু যার একেবারেই থাইরক্সিন নিঃসরণ হয় না বা কোনো কারণে থায়রয়েড গ্যান্ডটিকেই কেটে বাদ দিতে হয়েছে, তাদের সারা জীবন ওষুধ না খেয়ে উপায় নেই।

ওষুধ খাওয়া হঠাৎ বন্ধ করা সম্পর্কিত বিষয়

ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করা যেতে পারে। তবে নিজের ইচ্ছায় ওষুধ খাওয়া বন্ধ করলে অল্প দিনের মধ্যেই রোগটা ভয়ঙ্করভাবে ফিরে আসবে। জীবন সংশয় হতে পারে।

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ওষুধের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। কারণ শরীরে স্বাভাবিকভাবে যেটুকু থাইরক্সিন হরমোন থাকা দরকার, সেটি নেই বলেই তো বাইরে থেকে তা গ্রহণ করতে হয়। এক কথায় ঘাটতি পূরণ। সারা জীবন খেলেও কোনো অসুবিধা হয় না।

রক্ত পরীক্ষা

চিকিৎসা চলাকালীন বছরে অন্তত একবার রক্তে থাইরক্সিন বা T4 এবং TSH পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

রোজায় মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে কী করবেন?

রমজান মাসে মুখের বিশেষ যত্ন নিতে হয়। দীর্ঘসময় পানাহার থেকে বিরত থাকায় মুখে এক ধরনের দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। আবার ইফতারের পর থেকে সেহরি পর্যন্ত বেশি খাবার খাওয়ার কারণে দাঁতে সমস্যা দেখা দেয়। এসব সমস্যা থেকে বাঁচতে সাবধানতা ও সচেতনতা জরুরি।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন রাজ ডেন্টাল সেন্টারের ডেন্টাল সার্জন ডা. মো. আসাফুজ্জোহা রাজ।

রোজায় মুখের মধ্যকার যে পরিবর্তনগুলো হয়ে থাকে, সেগুলো হচ্ছে—

শুষ্কতা
সারা দিন পানি পান না করার কারণে মুখে লালা নিঃসরণ কমে যাওয়ায় মুখ শুষ্ক হয়ে পড়ে। ফলে লালার স্বাভাবিক কাজ যেমন দাঁত পরিষ্কার রাখা, জীবাণু প্রতিহত করা, মুখ পিচ্ছিল রেখে কথা বলতে সাহায্য করা ও ঘর্ষণজনিত ক্ষুদ্র ক্ষত থেকে রক্ষা করাসহ নানা বিষয় ব্যাহত হয়। ফলে মাড়ি রোগসহ দাঁতে ক্যারিজ হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।

করণীয় : ইফতারের পর থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত তরল পান করতে হবে। বাজারজাত কোমল পানীয় বা কৃত্রিম ফলের জুস পরিহার করে বিশুদ্ধ পানি, লেবু শরবত, মৌসুমি ফলের জুস যেমন কাঁচা আম, মালটা, বেল, তরমুজ, ইসপগুলের ভুসি জাতীয় তরল পান করতে হবে। তবে চিনি মুক্ত রাখা শ্রেয়। আমাদের মুখের স্বাস্থ্য রক্ষা ও শরীরকে রোগ প্রতিরোধ রাখতে চিনির তৈরি খাবার কমাতে হবে, আসলে শরীরে বাড়তি চিনির তেমন কোনো প্রয়োজন নেই, বাকি স্বাস্থ্যকর খাবার চিনির চাহিদা মেটাতে পারে।

ডায়াবেটিসের জটিলতা না থাকলে চিনির পরিবর্তে মধু নেওয়া যেতে পারে। সেহরির শেষ সময়ের ৩০ মিনিট আগে খাবার গ্রহণ করে ২০ মিনিট পর পর্যাপ্ত পানি পান করা ভালো। যাদের মুখ অতিরিক্ত শুষ্ক হয়, তারা সেহরির পর দুটি এলাচ দানা চিবিয়ে খেয়ে দেখতে পারে। খুব বেশি শুষ্ক থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

মুখে দুর্গন্ধ

রমজানে মুখের দুর্গন্ধে অনেকেই বিব্রত থাকে। মুখের দুর্গন্ধ নিয়ে নানা কথা থাকলেও এটা স্পষ্ট পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। গবেষকদের মতে রোজা অবস্থায় মেসওয়াক বা প্রয়োজনে সাবধানতার সঙ্গে দাঁত ব্রাশও করা যেতে পারে। গন্ধ ও স্বাদ বিহীন টুথপেস্ট পাওয়া যায়, একান্তই না পারলে মেসওয়াক কার্যকর। প্রতি নামাজের আগে হাদিসে মেসওয়াকের বিষয়টি শক্ত ভাবে উঠে এসেছে, তবে সেটি যেন নরম ও নিয়ম মাফিক হয়।

সাধারণত অনেকেই ইফতার শেষে মাগরিবের নামাজ ও পরবর্তিতে তারাবিহ্ নামাজের জন্য দাঁত ব্রাশ করে না, আবার দেরিতে তাড়াহুড়া সেহরি করে বলে ফজরের আজানের সময় হয়ে যাওয়ায় দাঁত ব্রাশ করে না। মুখ পরিষ্কারের অবহেলা, মুখের শুষ্কতা, আর সারা দিন না খাওয়া ইত্যাদি নানা কারণে মুখের মধ্যকার জীবাণু সক্রিয় হয়ে ওঠে, জিহ্বা, ঠোঁট, গাল কম নড়ার কারণে দাঁতের পৃষ্ঠে জমে থাকা খাদ্যকণা ও জীবাণু নানা রোগসহ মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করতে পারে।

করণীয় : ইফতার ও সেহরির পর অন্তত দুই মিনিট করে নিয়ম অনুযায়ী দাঁত ও মুখ পরিষ্কার করা, সঙ্গে সেহরির পর ডেন্টাল ফ্লস করা, প্রয়োজনে এলকোহলমুক্ত মাউথ ওয়াশ ব্যবহার, ওজুর সময় ভালোমতো কুলি করা ও মাড়ি ম্যাসেজ করা।

এ ছাড়া ইফতার ও সে হরির পর অন্তত দুই মিনিট করে নিয়ম অনুযায়ী দাঁত ও মুখ পরিষ্কার করা, সেহরির পর ডেন্টাল ফ্লস করা, প্রয়োজনে এলকোহলমুক্ত মাউথ ওয়াশ ব্যবহার, ওজুর সময় ভালোমতো কুলি করা ও মাড়ি ম্যাসেজ করা প্রয়োজন।

রোগ হওয়ার প্রবণতা

মুখের শুষ্কতা বা মুখ পরিষ্কারে অনীহার পাশাপাশি আমাদের খাদ্যতালিকাটিও মুখের স্বাস্থ্যবান্ধব হয় না। রুচির জন্য চিনির শরবত, জিলাপি, মিষ্টি ইত্যাদি বেশি খাই যা দাঁতের ক্ষতি করে। অন্যদিকে ভাজাপোড়া থেকে গ্যাস্ট্রিক এসিডিটির ফলে পেটের অ্যাসিড মুখে এসে দাঁত ক্ষয় করতে পারে।

করণীয় : খাবারের তালিকা স্বাস্থ্যবান্ধব হতে হবে। সেহরিতে পরিমিত ভাত সঙ্গে ছোট মাছ, সামদ্রিক মাছ বা মাংস, ডাল, সবজি, সালাদ, এক কাপ দুধ বা টক দই, মিষ্টি ফল। প্রচলিত মিনিকেট চাল না খেয়ে সিদ্ধ মোটা চাল বা লাল চালের ভাত খেতে পারেন। মজাদার ভাজাপোড়া খাবারমুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে, এমনকি ছোলার পরিবর্তে সেহরির সময় কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে ইফতারিতে আদা কুচি করে খাওয়া ভালো। খেজুরের উপকারিতা অনেক, সঙ্গে ১টি আপেল বা কলা খাওয়া যেতে পারে। শসা, ক্ষিরা, পেয়ারা এগুলো বেশি খেতে পারবেন। মুড়ি বা চিড়া খাওয়া যায়। সেহরিতে রুটি, খিঁচুড়ি, বাদাম, ভাজাপোড়া পিপাসা বাড়াতে পারে।

হেলমেট বাহিনী শনাক্তে ভিডিও পর্যালোচনা

নিউমার্কেট এলাকায় ছাত্র-ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষে ঢুকে সহিংসতায় অংশ নেওয়া হেলমেটধারীদের শনাক্ত করতে শতাধিক ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় এক নম্বর আসামি বিএনপির নিউমার্কেট থানার সাবেক সভাপতি মকবুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে ধানমন্ডির বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার।

মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মকবুল হোসেনকে নিউমার্কেট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ১২টার দিকে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ ম কাইয়ুম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মকবুলকে ডিবি রাতেই আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। শনিবার আদালতে তাকে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হবে।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার এ পর্যন্ত ৪টি মামলার মধ্যে নাহিদ ও মুরসালিন হত্যা মামলা ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি দুটি মামলা তদন্ত করবে পুলিশ। চার মামলায় মোট আসামির সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৮শ।

পুলিশের আইজি ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, নিউমার্কেটে সহিংসতায় কী ঘটেছে, তা সবার কাছে পরিষ্কার। সেদিনের ঘটনার ছবি আছে, ফুটেজ আছে। এগুলো দেখেই তদন্তকাজ এগোবে।

এখানে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা হচ্ছে না, আর হবেও না। তিনি বলেন, জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আইজিপি বলেন, যারা এ ধরনের আচরণ করেছেন, তারা যারাই হোন, ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ থেকে সতর্ক থাকবেন।

সংঘর্ষে দুর্ঘটনা ঘটেছে, আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, এসব বিষয়ে পুলিশের যেসব আইনগত ব্যবস্থা সেগুলো আমরা অবশ্যই দেখব।

পুলিশের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, নিউমার্কেটের সংঘর্ষে কিছু যুবক হেলমেট পরা ছিল। এরা সংঘর্ষের মাঝখানে ঢুকে সহিংসতা করেছে। এরা যেমন ছাত্রদের ওপর হামলা করেছে, তেমনি ব্যবসায়ীদের ওপরও হামলা চালিয়েছে।

ছাত্ররা মনে করছেন এরা ব্যবসায়ীদের লোক, আর ব্যবসায়ীরা মনে করছেন ওরা ছাত্র। মূলত এরাই তৃতীয় পক্ষ। ভিডিও ফুটেজ দেখে দেখে এদের চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

এ ব্যাপারে মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, ঘটনার তদন্তে আমাদের হাতে ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ চলে এসেছে। মনে করা হচ্ছে, সার্বিক ঘটনায় তৃতীয় কোনো পক্ষ জল ঘোলা করার জন্য আগুনে ঘি ঢেলেছে। তাদেরই খোঁজা হচ্ছে।

মুরসালিন হত্যায় মামলা : নিউমার্কেটে শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষে কুরিয়ার কর্মী নাহিদের পর মুরসালিন নামে এক দোকান কর্মচারীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। নিহতের ভাই নুর মোহাম্মদ বাদী হয়ে নিউমার্কেট থানায় মামলাটি করেন।

এই মামলায়ও আসামিরা অজ্ঞাত। শুক্রবার নিউমার্কেট থানার অফিসার ইনচার্জ শ ম কাইয়ুম বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে মুরসালিনের মৃত্যুর ঘটনায় তার ভাই নুর মোহাম্মদ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১৫০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। ওসি বলেন, তদন্ত চলমান রয়েছে।

দুই হত্যা মামলা ডিবিতে : নিউমার্কেট এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া দুই হত্যা মামলা ডিবি তদন্ত করবে। সংঘর্ষে নাহিদ মিয়া হত্যা মামলা নিউমার্কেট থানা থেকে এরইমধ্যে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিউমার্কেট থানার ওসি শ ম কাইয়ুম জানান, নিহত নাহিদের চাচা মো. সাইদ যে হত্যা মামলাটি করেছেন, তা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শুক্রবার ডকেটসহ সবকিছু গোয়েন্দা পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দোকান কর্মচারী মুরসালিন নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার ডকেটও ডিবিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

তবে বাকি দুই মামলা নিউ মার্কেট থানা পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন ওসি কাইয়ুম। পুলিশ সিসি ক্যামেরা ও অন্যান্য ভিডিও পর্যালোচনা করছে।

নিউমার্কেটের চার নম্বর ফটকের ভেতরের সিসি ক্যামেরা ভিডিওতে ঢাকা কলেজের তিন শিক্ষার্থী চিহ্নিত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, আমরা সব বিষয় নিয়ে কাজ করছি। হেলমেট পরা কারা ছিল আর বাইরে থেকে কে কে ওই এলাকায় গেছে, সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হত্যা মামলার বাইরে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে একটি মামলা করেছেন নিউমার্কেট থানার এসআই মেহেদী হাসান। একই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইয়াসিন কবির দাঙ্গা-হাঙ্গামা, জ্বালাও-পোড়াও, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আরেকটি মামলা করেছেন।

পরিদর্শক ইয়াসিন কবিরের মামলায় নিউমার্কেট থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেনসহ ২৪ জনের নাম রয়েছে।

আসামিরা হলেন-মকবুল হোসেন, আমির হোসেন, মিজান, মো. টিপু (বিদেশে), জাহাঙ্গীর হোসেন পাটোয়ারি, জাহাঙ্গীর মিঠু, হারুন হাওলাদার, শাহ আলম শন্টু, শহিদুল ইসলাম শহিদ, জাপানি ফারুক, মিজান বেপারী, আসিফ, রহমত, সুমন, জসিম, বিল্লাল, হারুন, তোহা, মনির, বাচ্চু, জুলহাস, মিঠু, মিন্টু ও বাবুল।

তারা সবাই নিউমার্কেট থানার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মী। নিউমার্কেট থানার ওসি বলেন, যাদের নাম এসেছে, তাদের উসকানিদাতা হিসাবে অভিযোগে আনা হয়েছে। তবে তারা কোনো রাজনৈতিক দলের কিনা তা মামলায় উল্লেখ নেই।

মকবুল যে কারণে আসামি : নিউমার্কেটের ওয়েলকাম ও ক্যাপিটাল ফাস্টফুড নামের যে দুই দোকানের কর্মচারীদের দ্বন্দ্ব থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত, সেই দোকান দুটি সিটি করপোরেশন থেকে পুলিশের মামলার এক নম্বর আসামি নিউমার্কেট থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মকবুল হোসেনের নামে বরাদ্দ হওয়া।

তবে কোনো দোকানই নিজে চালান না। রফিকুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম নামে দুজনকে ভাড়া দিয়ে রেখেছেন দোকান দুটি। রফিকুল ও শহিদুল আবার পরস্পরের আত্মীয়।

গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেছেন, দুটি দোকানের কর্মচারীদের মধ্যে শক্তি প্রদর্শনের জন্যই কি এই ঘটনা, নাকি এর পেছনে ইন্ধন আছে রাজনৈতিক কিছুর, তা নিয়েও তারা কাজ করছেন। মকবুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে এ বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

নাহিদ হত্যার ভিডিও ভাইরাল : নিউমার্কেটের সংঘর্ষের মাঝখানে পড়ে নিহত কুরিয়ারের ডেলিভারিম্যান নাহিদকে পিটিয়ে, কুপিয়ে গুরুতর আহত করে সেই হেলমেট বাহিনীর সদস্যরাই। কালো হেলমেট, পরনে কলাপাতা রঙের টি-শার্ট ও প্যান্ট পরা একজন নাহিদকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।

তার হাতে ছিল রামদা। এ ছাড়াও আরও ২০ থেকে ৩০ জন নানাভাবে হামলায় অংশ নেয়। নাহিদকে কীভাবে হামলা করা হয়েছে তার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কালো হেলমেট, কলাপাতা রঙের টি-শার্ট ও জিন্সের প্যান্ট পরিহিত এক যুবক হাতে রামদা নিয়ে সমানতালে তাকে কুপিয়ে যাচ্ছে।

এ সময় ছুটে গিয়ে হলুদ শার্ট পরিহিত এক যুবক তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছে। একই সময়ে লাল হেলমেট পরিহিত আরেক যুবকসহ তারা কালো হেলমেট পরিহিত হামলাকারী যুবককে টেনে নিয়ে আসে। এর কিছুক্ষণ পর শতাধিক হেলমেট বাহিনী এসে এ সংঘর্ষে হামলে পড়ে।

এই হেলমেটধারীদের পরিচয় শনাক্ত করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিও তারা সংগ্রহ করেছেন। সেই ভিডিওর সূত্র ধরে হেলমেট বাহিনীর সদস্যদের খোঁজা হচ্ছে।

জমতে শুরু করেছে নিউমার্কেট : এদিকে আবারও চিরচেনা রূপে জমতে শুরু করেছে নিউমার্কেট। সংঘর্ষের প্রায় তিন দিন পর শুক্রবার ঈদ উপলক্ষ্যে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে নিউমার্কেটে। তবে অন্য সময়ের তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা কম ছিল বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

তারা বলছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে মার্কেট জমতে আরও দু-একদিন সময় লাগবে। সবাই সহনশীল আচরণ করবেন, এমনটাই প্রত্যাশা করছেন এখানকার ক্রেতা-বিক্রেতারা।

আব্দুল আলীম নামের এক খুচরা কাপড় বিক্রেতা বলেন, করোনার কারণে গত দুই বছর মানুষ তেমন কোনো কিছু ঈদের জন্য কিনতে পারেননি। এবারে মানুষ একসঙ্গে অনেক কিছু কিনছেন।

সোমবার রাত ১২টার দিকে নিউমার্কেট ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়ান। পরদিন দিনভর সংঘর্ষ চলে ওই এলাকার ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে। ঘটনায় এখন পর্যন্ত নাহিদ হোসেন ও মোহাম্মদ মুরসালিন নামে দুই তরুণের মৃত্যু হয়েছে। আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ৪০ জন।

তিন যুগ পর আবার বাকৃবিতে থামবে ট্রেন

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) রেলওয়ে প্লাটফর্মে আবার ট্রেন থামবে। ১৯৮৭ সালে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় প্রায় তিন যুগ বন্ধ ছিল বাকৃবির রেলওয়ে স্টেশন। শনিবার পুনরায় নতুন করে প্লাটফর্ম নির্মাণ করে রেলওয়ে স্টেশন চালু করতে বাকৃবিতে পরিদর্শনে আসেন বাংলাদেশ রেলওয়ের (ইস্ট) জেনারেল ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

প্লাটফর্মের নকশা এবং বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত করার জন্য তিনি পরিদর্শনে আসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. একেএম জাকির হোসেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশ থেকে আসা প্রায় সাত হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা তিন হাজারের বেশি। এছাড়া ক্যাম্পাসের পাশেই রয়েছে কয়েকটি গ্রাম। যেখানে বসবাস করেন প্রায় ২০ হাজারের বেশি মানুষ। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টেশন থাকলেও ট্রেন না থামায় শিক্ষার্থীদের চাকরি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন কাজে ট্রেনে যাতায়ত করতে শহরের স্টেশনে যেতে হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. একেএম জাকির হোসেন বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত রেলস্টেশনের আধুনিকায়নের কাজ শীঘ্রই শুরু হতে যাচ্ছে। আজ বাংলাদেশ রেলের জেনারেল ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর হোসেনসহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা ক্যম্পাসে পরিদর্শনে এসেছেন। ডিজাইনসহ সব বিষয় চূড়ান্ত হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই আমাদের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীসহ সবাই এখান থেকেই আন্তঃনগর ট্রেনসহ সকল ট্রেনে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় যেতে পারবেন। একটি শাটল ট্রেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহর পর্যন্ত চলার বিষয়েও মন্ত্রী মহাদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করি সেটিও দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রেলস্টেশনটি চালু হলে সবার ভোগান্তি অনেকটা কমে যাবে। ময়মনসিংহ জেলার সঙ্গে আশপাশের জেলার সড়ক ব্যবস্থা বেহালের কারণে রেলপথই এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র নিরাপদ মাধ্যম। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারীসহ সবার পছন্দ রেলপথ।

উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালে তোফাজ্জল হোসেন নামে একজন টিকিট চেকার (টিটি) উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস ট্রেনের কেবিনের ভেতর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। ঘটনার একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের হাতে তিনি নিহত হন। এরপর ৩৬ ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকে সারা দেশে রেলস্টেশনগুলো। পরে বাকি সব রেলস্টেশন চালু হলেও বন্ধ থাকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত রেলস্টেশনটি।

ট্রেনের টিকিট কাটতে রাত জেগে ‘যুদ্ধ’

যারা প্রতিটি মুহূর্ত ‘যুদ্ধ’ করে, তারা বোধহয় পালাতে জানেন না। দীর্ঘ সময় ধরে লড়তে লড়তে মনে হয় লড়ে যাওয়াটাই তাদের সহজাত প্রবৃত্তি। শনিবার এমনটি মনে হয়েছে ঈদযাত্রায় ট্রেনের অগ্রিম টিকিট কাটার দৃশ্য দেখে। বিশেষ করে নারীদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

কমলাপুরসহ রাজধানীর আরও চারটি রেলওয়ে স্টেশনে কয়েকশ নারীর রাত জাগাও ছিল চ্যালেঞ্জের। মাত্র ১৩ হাজার ৩৩৬টি টিকিটের বিপরীতে প্রত্যাশী ছিলেন লক্ষাধিক। যারা ২৭ এপ্রিলের টিকিট পেয়েছেন, আনন্দের শেষ ছিল না তাদের। যারা টিকিট পাননি-দুঃখ ছিল তাদের। কিন্তু, লড়াইয়ে হেরে যাননি অনেকেই। ফের লাইনে দাঁড়িয়েছেন ২৮ এপ্রিলের অগ্রিম টিকিট কাটার জন্য।

পাঁচ দিনব্যাপী অগ্রিম টিকিট বিক্রির প্রথম দিন ছিল শনিবার। ২৬ হাজার ৬৭২টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। এরমধ্যে অর্ধেক বিক্রি হয় অনলাইনে, বাকি অর্ধেক কাউন্টারে। এদিন কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে সমগ্র পশ্চিমাঞ্চলগামী আন্তঃনগর এবং খুলনাগামী স্পেশাল ট্রেনের ২৭ এপ্রিলের জন্য টিকিট বিক্রি হয়। ১৩,৩৩৬টি টিকিটকে ৫ ভাগে ভাগ করলে একেকটি স্টেশনে মাত্র ২ হাজার ৬৬৭টি টিকিট বিক্রি হওয়ার কথা। এমন অবস্থায় শনিবার শুধু কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ১৫ থেকে ২০ হাজার লোক উপস্থিত হয়েছিলেন। এরসঙ্গে প্রতিদিনের লোকাল, মেইল ও কমিউটার ট্রেনের যাত্রীতো ছিলেনই। সব মিলিয়ে স্টেশন ঘিরে প্রায় ৩০ হাজার লোকের সমাগম হয়েছিল। এ সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়বে-এমন আভাস সংশ্লিষ্টদের। তাদের মতে, ২৯ ও ৩০ এপ্রিল এবং ১ মে স্টেশনে মানুষের ঢল নামবে। কিন্তু, টিকিট বাড়বে না। সীমিত টিকিট পেতে, দীর্ঘ লড়ায়ের যুদ্ধটাও বাড়বে।

শনিবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট বিক্রির কার্যক্রম পরিদর্শন করেন রেলওয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘বিশেষ টিম’। টিম প্রধান রেলওয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার সাহাদাত আলী যুগান্তরকে জানান, ৫টি স্টেশনে এক যুগে টিকিট দেওয়া হচ্ছে সীমিত সংখ্যক ট্রেনের নির্ধারিত টিকিট। যাত্রীদের জন্যই আমরা কাজ করি। ঈদ উপলক্ষ্যে অতিরিক্ত প্রায় শতাধিক কোচ (বগি) চলমান ট্রেনের সঙ্গে যুক্ত করেছি। অতিরিক্ত যাত্রীবহনে আমাদের চেষ্টার শেষ নেই। কোনো টিকিট ব্লক রাখা হয়নি, রাখার কোনো ব্যবস্থাও নেই। যারা টিকিট পাচ্ছেন না, তারা স্বাভাবিকভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে নানা কথা বলছেন, বিষয়টা আমরা বুঝি। কমলাপুর স্টেশনে যে সংখ্যক টিকিট বিক্রি হয়, তার বহুগুণ বেশি যাত্রী অবস্থান করেন। কাউন্টার থেকে সব টিকিট বিক্রি হচ্ছে।

শনিবার সরেজমিন ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ২৩টি কাউন্টার রয়েছে। তিনটি কাউন্টার থেকে নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের টিকিট প্রদান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজধানীর বিমানবন্দর, তেঁজগাও, ফুলবাড়িয়া, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন থেকে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অগ্রিম টিকিট বিক্রি হচ্ছে। কমলাপুর স্টেশন কাউন্টারে সেহরি খেয়েই উপস্থিত হয়েছিলেন জিন্নাত আরা মুন্নি নামের এক নারী। জানালেন, রাজধানীর রাজারবাগ এলাকায় থাকেন। ভোররাতে শত ভয় উপেক্ষা করেই স্টেশনে পৌঁছেন। সকাল পৌনে ১০টার দিকে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের ২টি শোভন চেয়ার টিকিট কাটতে পেরেছেন। এসি চেয়ার চেয়েছিলেন, পাননি। তার হাতে টিকিট দুটি আসার মুহূর্তেই মাইকে ঘোষণা আসে, সিল্কসিটি এক্সপ্রেসসহ পশ্চিমাঞ্চলে চলা প্রায় সবকটি আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি শেষ। এ সময় আনন্দে তিনি কাঁদতে থাকেন।

টিকিট পেয়ে মুন্নী হেসেছেন, আবার বহু নারী ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট না পেয়ে কষ্ট পেয়েছেন। যাত্রাবাড়ী থেকে আসা রহিমা খাতুন জানালেন, তিনি পরিচয়পত্র আনেননি। প্রায় ৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কাউন্টারে পৌঁছানোর পর তিনি জানতে পারেন এনআইডির ফটোকপি লাগবে। একপর্যায়ে তিনি টিকিট না নিয়েই স্টেশন থেকে চলে যান। এক নারী বুকিং সহকারী জানান, পরিচয়পত্রের ফটোকপি রেখেও টিকিট দেওয়া হচ্ছে। ফটোকপি দেখে কোনো যাত্রীকেই চিহ্নিত করা যায় না। গ্লাসের মধ্যে ছোট্ট একটা ছিদ্র রয়েছে, আমরা শুধু যাত্রীদের কথা শুনতে পারি, চেহারা দেখতে পাই না।

শনিবার ৩৬ জোড়া আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি হয়। আজও সমসংখ্যক ট্রেনের ১৩ হাজার ৩৩৬টি টিকিট বিক্রি হবে। সোমবার আরও দুটি স্পেশাল ট্রেন যুক্ত হচ্ছে, সেই দুটি স্পেশাল ট্রেনে প্রায় ১৭শ টিকিট যুক্ত হবে। এ ১৭শ টিকিট শুধু কাউন্টার থেকে বিক্রি হবে। স্পেশাল ট্রেনের কোনো টিকিট অনলাইনে বিক্রি হবে না। অর্থাৎ ২৯, ৩০ এপ্রিল ও ১ মে তিন দিন কাউন্টারে টিকিট বিক্রি হবে, ১৫ হাজার ৩৬টি। এ দিনগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড় হবে। এদিকে শনিবারও সার্ভার নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ ছিল। সার্ভার ত্রুটির কারণে যাত্রী দুর্ভোগ আরও চরমে উঠে।

এ বিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মাসুদ সরোয়ার জানান, ২৯ এপ্রিল থেকে তিন দিন পর্যন্ত সারা দেশে ৬ জোড়া স্পেশাল ট্রেনের টিকিটও বিক্রি হবে। সীমিত টিকিটের বিপরীতে হাজার হাজার মানুষ স্টেশনে আসছেন। কেউ টিকিট পাচ্ছেন, কেউ পাচ্ছেন না। আমরা শতভাগ টিকিট কাউন্টার থেকে বিক্রি করছি। কোনো হেরফের হচ্ছে না। কমলাপুরে সবচেয়ে বেশি ভিড় হচ্ছে। বাকি ৪টি স্টেশনেও সোমবার থেকে প্রচণ্ড ভিড় হবে।

পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন যুগান্তরকে জানান, সার্ভার ত্রুটির বিষয় আমরা মেনে নিচ্ছি না। প্রতিষ্ঠানটি নতুন এসেছে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক করেছি। কাউকেই আমরা ছাড় দেব না। তিনি বলেন, এবার যাত্রীদের চাপ বেশি। যাত্রীদেরও সহযোগিতা চান তিনি।

ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শফিকুল ইসলাম জানান, কমলাপুরসহ বাকি ৪টি স্টেশনে এক যুগে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। টিকিট সীমিত, যাত্রীদের চাপ অতিরিক্ত। আমরা কাউন্টার থেকে যথাযথ নিয়মে টিকিট বিক্রি করছি।

কার স্বার্থে এসব সেতু

সেতু আছে, সংযোগ সড়ক নেই। দেশের ১২ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ১৯টি এমন সেতু দেখা গেছে। যাতায়াতে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য কোটি টাকা ব্যয়ে এসব সেতু নির্মাণ করা হলেও তা স্থানীয় জনগণের কোনো উপকারেই আসছে না। কোথাও সেতুতে উঠতে মই, কোথাও কাঠের সিঁড়ি ব্যবহার করছেন তারা। কোনো কোনো সেতু নির্মাণের পর তাতে আর মানুষের পা পড়েনি। পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে বছরের পর বছর।

এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেতু এলাকার বাসিন্দারা। কেন এসব সড়কে সংযোগ সড়ক নেই জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, উপজেলা প্রকৌশলী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নানারকম তথ্য দিয়েছেন। কোথাও সেতুর সঙ্গে দুপাশের সংযোগ সড়কের বরাদ্দ ছিল না। কোথাও সংযোগ সড়ক তৈরি হলেও কিছুদিনের মধ্যেই তা ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়া সেতু তৈরি হয়ে গেলেও এর দুপাশের ভূমি নিয়ে জটিলতা থাকায় সড়ক তৈরি করা যাচ্ছে না। এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর বাইরেও দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু সেতু রয়েছে, যেগুলো কোনো উপকারে আসছে না। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

বান্দরবানের লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের পোপা খালের ওপর নির্মিত সেতুটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সেতুটি এখন ধানসহ বিভিন্ন ফসল শুকানোর মাঠ হিসাবে ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা। এ এলাকার বাসিন্দা নুরুজ্জামান ও কমলা বেগম বলেন, প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি আমাদের কোনো কাজেই আসছে না। সামনে বর্ষা এলে দুপারের মানুষের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নের ফাঁসিকাটা খালের ওপর প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হয়। সংযোগ সড়ক না থাকায় দেড় বছর ধরে একই অবস্থায় পড়ে আছে সেতুটি। ১ বছর আগে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে একই উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের দ্বীপাশা সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। কিন্তু পড়ে আছে সংযোগ সড়কের কাজ। এছাড়া দেড় বছর আগে নির্মিত কেশবপুর ইউনিয়নের উত্তর মমিনপুর এলাকার কালামিয়ার সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় হাজার হাজার বাসিন্দা।

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নে ২০১২ সালে ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে গ্রামের মানুষের চলাচলের জন্য কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। কিন্তু কালভার্টের ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, ৮-১০টি গ্রামের মানুষ হেঁটে যেতেই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সিলেটের ওসমানীনগরে প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু থাকলেও বাঁশের সাঁকোই হাজার হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা। নির্মাণের ২১ বছরেও ওই সেতুতে মানুষের পা পড়েনি। সেতুর কাজে অনিয়ম, এক পাশ দেবে যাওয়া এবং সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাট না করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভার শিবপুর গ্রামে বোয়ালিয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুতে উঠতে স্থানীয়রা ব্যবহার করছেন বাঁশের মই। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছেন ৬ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।

মৌলভীবাজারের বড়লেখার দক্ষিণ গাংকুল গ্রামে একটিমাত্র স্বার্থান্বেষী পরিবারের আপত্তিতে সরকারের প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু দেড় যুগ ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। নির্মিত সেতুর উভয় দিকের সংযোগ সড়কে মাটি ভরাট করতে না দেওয়ায় প্রায় ২৫০ পরিবার ১৮ বছর ধরে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

একই জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুও অকেজো। স্থানীয়রা বলছেন, সংশ্লিষ্টদের অপরিকল্পিত এ কাজে সরকার বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। পাশাপাশি সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় জনগণ।

প্রায় দুই বছর আগে মাদারীপুরের লক্ষ্মীগঞ্জের কুমার নদের ওপর পৌনে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় সেতু। কিন্তু তৈরি হয়নি দুপাশের সংযোগ সড়ক। সেতু দিয়ে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পার হলেও চলাচল করতে পারছে না যানবাহন। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে ৬টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ।

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার বাকেরগঞ্জ-বরগুনা সড়কের নিয়ামিত ইউনিয়নের রামনগর এলাকার ভাড়ানি খালের ওপর নির্মিত সেতু। সংযোগ সড়ক করতে না পারায় এ সেতুর এক অংশে সাত ধাপের একটি সিঁড়ি নির্মাণ করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে জনসাধারণ চলাচল করতে পারলেও যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।

নেত্রকোনার মদন উপজেলার ৫নং মাঘান ইউনিয়নে মাঘান গ্রামে মগড়া নদীর তীরবর্তী একটি খালে সেতু নির্মিত হয়েছে। কিন্তু নির্মাণের ৭ বছর অতিবাহিত হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় এ সেতুতে কেউ পা রাখতে পারেননি।

চড়কাণ্ডের পর হঠাৎ ভারতে উইল স্মিথ

সবাইকে চমকে দিয়ে হঠাৎ ভারতের মুম্বাই বিমানবন্দরে অস্কারজয়ী অভিনেতা উইল স্মিথ। শনিবার হঠাৎ এই হলিউড অভিনেতাকে বিমানবন্দর থেকে বেরোতে দেখে নিমেষে ছেঁকে ধরেন ভক্তরা। উইল স্মিথও সবার সাথে মিষ্টি হেসে কথা বলেন।খবর এনডিটিভির।

গত ২৮ মার্চ অস্কারের মঞ্চে সপাটে চড় মেরেছিলেন কৌতুকাভিনেতা ক্রিস রককে।ওই চড় মারার দায়ে তাকে ১০ বছরের জন্য অস্কার থেকে নিষিদ্ধ করা হয়।এছাড়া ওই ঘটনার পর অ্যাকাডেমির বাইরে দুটি বড় প্রযোজনা সংস্থা স্মিথের সঙ্গে তাদের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।

আর এরপরই হঠাৎ ভারতে হাজির হলেন এই অভিনেতা। তবে মুম্বাই বিমানবন্দরে দেখা দেওয়া উইল স্মিথকে বেশ হাসিখুশি আর ঝরঝরে দেখাচ্ছিল।

এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের মতে, স্মিথের পক্ষ থেকে এই সফর সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কিছু জানানো হয়নি। তবে আধ্যাত্মিক কাজে তার এই সফর হতে পারে। আধ্যাত্মিক নেতা ও ইশা ফাউন্ডেশনের সাধগুরুর সঙ্গে তার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

এরআগে ২০১৯ সালে ‘দ্য বাকেট লিস্ট’ ছবির শুটিংয়ে বলিউডের কয়েকজন তারকার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেনেএই মার্কিন অভিনেতা। ‘স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার-২’-এর একটা দৃশ্যেও শুট করে গিয়েছিলেন উইল। হরিদ্বার ঘুরে দেশে ফিরেছিলেন। তার পর আবার তাকে দেশের মাটিতে দেখে উচ্ছ্বসিত ভারতীয়রা।

মিমির গোপন তথ্যফাঁস করলেন তনুশ্রী

টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য মিমি চক্রবর্তী ছাত্রজীবনের গোপন তথ্য ফাঁস করলেন তারই বন্ধু তনুশ্রী। ‘দিদি নম্বর ১’-এর অনুষ্ঠানে এসে একেবারে হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়েছেন তিনি।

জি বাংলার রিয়ালিটি শো ‘দিদি নম্বর ১’-এ এসেছিলেন মিমি চক্রবর্তী, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, তনুশ্রী চক্রবর্তী, পার্নো মিত্র। আর সেখানেই ফাঁস হয় মিমির জীবনের এ গোপন কথা। যদিও পুরোটাই তনুশ্রীর দুষ্টুমি। মিমির পেছনে লাগার জন্যই বানিয়ে বানিয়ে বলেন, ‘তুই না একবার পরীক্ষায় ফেল করেছিলি?’

আর তাতে মিমির প্রতিবাদ, ‘শোন আমি ছোট থেকেই খুব ভালো স্টুডেন্ট ছিলাম।’

রচনাকে নিজের ছেলেবেলার কথা বলতে গিয়ে মিমি চক্রবর্তী জানান, তিনি নাকি খুব দুষ্টু ছিলেন সেই সময়। মারপিট করতে হলে সবার আগে ডাক পড়ত তারই। মিমিও সাতপাঁচ না ভেবেই পৌঁছে যেতেন বন্ধুদের রক্ষা করতে।

তবে ছোট থেকেই তার শখ ছিল অভিনয়ের। যখনই কেউ জানতে চাইত কী হতে চাস বড় হয়ে, ওর উত্তর হতো— ‘আমি হিরোইন হব’। কলেজ শেষ করেই শুরু করে দেন মডেলিং। এর পর ডাক আসে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের কাছ থেকে আইকনিক ধারাবাহিক ‘গানের ওপারের জন্য। তার পর তো প্রথম সিনেমা ‘বাপি বাড়ি যা’, এর পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

রচনা এর পর প্রশ্ন করে পরোপকার করার যে স্বভাব তার ছেলেবেলায় ছিল, সেটি থেকেই কি রাজনীতিতে আসা? তাতে মিমির জবাব, তিনি অভিনয় করার সময়েও লোককে সাহায্য করতেন। তবে রাজনীতির ময়দান তাকে একসঙ্গে অনেকের কাছে পৌঁছে যেতে সাহায্য করেছে। সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে যখন ভোটে দাঁড়ানোর প্রস্তাব আসে ফেলতে পারেননি।

মেসির জাদুতে লিগ চ্যাম্পিয়ন পিএসজি

ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের শিরোপা এক প্রকার নিশ্চিতই হয়েছিল প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর (পিএসজি)। বাকি থাকা পাঁচ ম্যাচে তাদের প্রয়োজন ছিল মাত্র একটি পয়েন্ট।

শনিবার রাতে সেই ঠিক এক পয়েন্টই পেল পিএসজি। আর সেটি এলো লিওনেল মেসির করা একমাত্র গোলে।

আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের গোলে ফেরার ম্যাচে লেন্সের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে তারকাখচিত পিএসজি। আর তাতেই গত মৌসুমে লিলের কাছে হারানো লিগ ওয়ানের শিরোপা পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি রেকর্ড দশমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা।

ফ্রান্সের এ শীর্ষ লিগে এতদিন ধরে ১০ বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে এককভাবে শীর্ষে ছিল সেইন্ট এতিয়েন। এ ছাড়া অপেশাদার যুগে একটিসহ সমান ১০টি শিরোপা রয়েছে পিএসজির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মার্শেইরও। এখন তাদের পাশে নাম লেখালেন মেসি, নেইমার ও এমবাপ্পেরা।

লিওনেল মেসির পেশাদার ক্যারিয়ারে এটি ৩৯তম শিরোপা। ক্যারিয়ারে এর আগে কখনও চার ম্যাচ হাতে রেখে লিগ শিরোপা জেতেননি তিনি। যার সুবাদে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার দানি আলভেজের সর্বোচ্চ (৪২) শিরোপার রেকর্ডের আরও কাছে পৌঁছে গেলেন মেসি।

তবে শুধু ক্লাব ক্যারিয়ারের হিসাব করলে এরই মধ্যে আলভেজের পাশে বসে গেছেন মেসি। ক্লাব ফুটবলে সর্বোচ্চ ৩৬ শিরোপা নিয়ে এককভাবে শীর্ষে ছিলেন আলভেজ। এবার সঙ্গী হিসেবে সাবেক সতীর্থকে পেলেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার।

শিরোপা নিশ্চিত করার ম্যাচে নিজেদের ঘরের মাঠে লেন্সের বিপক্ষে দাপট দেখিয়েই খেলেছে পিএসজি। কিন্তু দেখা মিলছিল না গোলের। পুরো ম্যাচে সাতটি শট লক্ষ্য বরাবর রেখেও গোলের দেখা পাননি নেইমার জুনিয়র, কাইলিয়ান এমবাপ্পেরা।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে ৬৮ মিনিটের মাথায় গিয়ে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। নেইমারের কাছ থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকেই বাঁকানো শটে লেন্সের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন সাতবারের ব্যালন ডিঅরজয়ী এ ফুটবলার। লিগে মেসির এটি চতুর্থ গোল।

এই গোলে জয় প্রায় নিশ্চিতই হয়ে গিয়েছিল পিএসজির। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের ২ মিনিট বাকি থাকতে বাঁধ সাধেন লেন্সের বদলি হিসেবে নামা স্ট্রাইকার কোরেন্টিন জিন। তার ৮৮ মিনিটের গোলে ড্র হয় ম্যাচ। তবে শিরোপা ঠিকই জিতে নেয় পিএসজি।

লিগের ৩৪ ম্যাচ শেষে ২৪ জয় ও ৬ ড্রয়ে ৭৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান চূড়ান্ত নিশ্চিত করে ফেলেছে পিএসজি। দুইয়ে থাকা মার্শেইর সংগ্রহ ৩৩ ম্যাচে ৬২ পয়েন্ট। তারা বাকি সব ম্যাচ জিতলেও ৭৭ পয়েন্টের বেশি পাবে না।

জার্মান লিগে ফের চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ

ইউরোপে শীর্ষ কীর্তি গড়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। টানা দশটি লিগ শিরোপা নিশ্চিত করেছে ক্লাবটি।

শনিবার রাতে জার্মান ক্লাসিকোতে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে লিগের টানা দশম শিরোপা নিশ্চিত করেছে বাভারিয়ান জায়ান্টরা। ঘরোয়া ফুটবল লিগে এটি বায়ার্নের ৩২তম শিরোপা। পাঁচবার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ও বরুশিয়া মুনশেনগ্লাডব্যাখ।

ঘরের মাঠ অ্যালিয়েঞ্জ অ্যারেনায় খেলার ৩৪ মিনিটের মধ্যে দুই গোল করে ফেলে বায়ার্ন মিউনিখ। সার্জি জিন্যাব্রি লিড এনে দেওয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রবার্ট লেভানডফস্কি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে এমরি ক্যানের পেনাল্টি গোলে ব্যবধান কমায় বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। তবে সমতায় ফেরার ইঙ্গিত দিয়েও পারেননি অতিথিরা।

উল্টো ৮৩ মিনিটে গোল করে স্বাগতিকদের জয়োৎসবে বাড়তি রঙ দেন জামাল মুসিয়ালা।

তাতেই লিগের তিন রাউন্ড বাকি থাকতেই শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুণ্ন রাখার সফল অভিযান শেষ করল বায়ার্ন। ৩১ ম্যাচে ৭৫ পয়েন্ট তাদের। বাভারিয়ানদের চেয়ে ১২ পয়েন্ট পিছিয়ে যথারীতি টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকল ডর্টমুন্ড। তিন নম্বরে থাকা বায়ার লেভারকুজেনের সংগ্রহ ৫৫ পয়েন্ট। এক পয়েন্ট পিছিয়ে চারে আছে লাইপজিগ।

বায়ার্ন মিউনিখের শিরোপা জয়ের উল্লাস অবশ্য বাঁধভাঙা হয়নি। সাদামাটা উদ্‌যাপন করেন লেভা-মুলাররা। জয়ের পর অ্যালিয়েঞ্জ অ্যারিনা প্রদক্ষিণ করেন স্বাগতিক ফুটবলাররা। উষ্ণ করতালিতে তাদের অভিনন্দন জানান ক্লাবের সমর্থকরা। এ মৌসুমে একটি মাত্র সাফল্য নিয়েই মৌসুম শেষ করতে যাচ্ছে বায়ার্ন।