শনিবার ,১৩ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 325

শ্রীলংকায় মন্ত্রী-এমপিদের পেটাচ্ছে, যা বললেন সাঙ্গাকারা- জয়াবর্ধনে

মাহিন্দা রাজাপাকসে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন সোমবার বিকালে। এর পরপরই শুরু হয় লঙ্কাকাণ্ড। মন্ত্রী-এমপিদের ধরে ধরে পেটাচ্ছেন লংকানরা। মন্ত্রী, সংসদ সদস্যদের বাড়ি, গাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে জনতা।

সোমবার রাত থেকে শুরু করে মঙ্গলবারও এ দৃশ্য চোখে পড়েছে শ্রীলংকার আনাচে-কানাচে।

মাহিন্দা সমর্থকদের সঙ্গে রীতিমতো গৃহযুদ্ধে চলছে সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীদের। এ ঘটনায় একজন সংসদ সদস্যের মৃত্যুও ঘটেছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। দেশব্যাপী আরোপ করা হয়েছে কারফিউ।

নিজ দেশের এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মুখ খুললেন দেশটির ক্রিকেটর কিংবদন্তি দুই তারকা কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়াবর্ধনে।

দেশের এমন পরিস্থিতির জন্য সরকারকেই দায়ী করেছেন তারা। এ সহিংসতা রাজাপাকসের দলের পরিকল্পিত বলে মন্তব্য সাঙ্গাকারার।

এ বিষয়ে এক টুইটে সাঙ্গাকারা লিখেছেন, ‘প্রতিবাদকারী জনতা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের মৌলিক অধিকারের দাবি তুলেছেন। কিন্তু তাদের ওপর সরকার সমর্থক গুন্ডা বাহিনী হামলা চালিয়েছে। এটা সরকারের মদদে পরিকল্পিত সহিংসতা।’

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার বাড়িতে প্রেমিকের অনশন

ছয় বছরের সম্পর্ক, বিয়ের প্রস্তাবে রাজি নয় প্রেমিকার পরিবার। প্রেমিকার বিয়ে অন্যত্র ঠিক করে ফেলার অভিযোগ তুলে প্রেমিকাকে বিয়ের দাবি জানিয়ে তার বাড়ির সামনে অনশনে বসেছেন এক যুবক।

সোমবার তুমুল বৃষ্টির মধ্যেও প্রেমিকা এবং তার ছবি নিয়ে বাড়ির পাশে বসে ছিলেন ওই যুবক।

ভারতের ধূপগুড়ি পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ঠান্ডু রায়ের বাড়ির সামনে অনশনে বসেছেন সঞ্জিত রায় নামে এক যুবক। হাতে রয়েছে ঠান্ডুর মেয়ে লক্ষ্মীর সঙ্গে তার একটি ছবি।

অনশনরত যুবক সঞ্জিতের দাবি, প্রায় ছয় বছর ধরে লক্ষ্মীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক। এখনও নিয়মিত কথাবার্তা হয় তাদের। তবে লক্ষ্মীর অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে তার পরিবার। এর পরেই লক্ষ্মী তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যেতে বলেন। পাত্রের পরিবারের তরফে লক্ষ্মীর সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয় বলেও দাবি। এর পরেই লক্ষ্মীদের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছেন সঞ্জিত।

লক্ষ্মীদের পাশের গ্রাম বারোঘরিয়া পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা সঞ্জিত সোমবার দুপুর থেকেই অনশনে বসেছেন। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও অনড়। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করেই বিয়ের দাবিতে নাছোড় সঞ্জিত। সমস্যা সমাধানের জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং সঞ্জিতের গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্যকেও নিয়ে শুরু হয়েছে বৈঠক।

এদিকে লক্ষ্মীর বাবা ঠান্ডুর দাবি, আমার বাড়ির সামনে আচমকাই অনশনে বসেছে এক যুবক। মেয়ের ওই যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে, সে বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আমার বড় ছেলে ওই যুবককে চলে যেতে বললেও সে যায়নি। যদি লক্ষ্মীকে বিয়ে করতে চায়, আমার কোনো আপত্তি নেই। তবে তার সঙ্গে পরিবারের কোনো সম্পর্ক থাকবে না।

সূত্র: আনন্দবাজার

অনুমতি ছাড়াই ১০ হাজার ডলার বহন করতে পারবেন প্রবাসীরা

বিদেশ থেকে আসার সময় কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার দেশে আনা যাবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বলা হয়, এর চেয়ে বেশি পরিমাণ অর্থ আনলে আনলে ঘোষণা দিতে হবে, গুনতে হবে শুল্ক।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ব্যবস্থায় বিদেশে বসবাসরত প্রবাসী এদেশে প্রাইভেট ফরেন কারেন্সি হিসাব কিংবা নন-রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট হিসাব পরিচালনা করতে পারেন। অর্থাৎ প্রবাসীরা সহজেই দেশের যেকোনো ব্যাংকে বিদেশি মুদ্রার হিসাব খুলতে পারেন। বিদেশ থেকে পাঠানো ফরেন কারেন্সি (বিদেশি মুদ্রা) কিংবা বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আগমনকালে সঙ্গে নিয়ে আসা বিদেশি মুদ্রা এসব হিসাবে জমা রাখা যায়। বিদেশ থেকে আগত যাত্রী যে কোনো পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা বাংলাদেশে আনতে পারেন। সঙ্গে নিয়ে আসা বিদেশি মুদ্রার পরিমাণ অনধিক ১০ হাজার মার্কিন ডলার বা সমতুল্য অন্য কারেন্সি হলে শুল্ক কর্তৃপক্ষের নিকট ঘোষণা প্রদানের প্রয়োজন নেই।

স্থানীয়ভাবে পরিচালিত এসব বিদেশি মুদ্রা হিসাবের স্থিতি অবাধে টাকায় নগদায়ন করা যায়। বিদেশ থেকে আগত প্রবাসী ব্যক্তি বাংলাদেশ ত্যাগকালে তার হিসাবের স্থিতি হতে অনধিক পাঁচ হাজার ইউএস ডলার নোট আকারে এবং হিসাবের স্থিতি থাকা সাপেক্ষে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য ফরেন কারেন্সি সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন।

প্রবাসী/অনিবাসী ব্যক্তির নামে পরিচালিত এসব বিদেশি মুদ্রা হিসাবের স্থিতি সুদসহ অবাধে বিদেশে পাঠানো যায়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনোরূপ অনুমোদনের প্রয়োজন নেই বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদিনে কেজিতে বাড়ল ২০ টাকা

ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধে ফের পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করেছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে দুদিনে কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। যদিও পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে।

জানা যায়, আমদানির অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ রয়েছে। দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বন্দর দিয়ে সর্বশেষ ৩০ এপ্রিল ৬৮ ট্রাকে এক হাজার ৯০২ টন পেঁয়াজ এসেছে। এরপর ঈদের ছুটি শেষে ৭ মে বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি শুরু হলেও এখন পর্যন্ত কোনো পেঁয়াজ আসেনি। ঈদের আগে বন্দরে পেঁয়াজ ১৪-১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২০-২২ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

মঙ্গেলাবার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০-৫০ টাকা বিক্রি হয়েছে, যা দুদিন আগে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়। পাশাপাশি প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৪০ টাকা, যা দুদিন আগে ৩০-৩৫ টাকা বিক্রি হয়। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ২০ দশমিক ৬৯ ও আমদানি করা পেঁয়াজ ১৬ দমমিক ৬৭ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর কাওরান বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা মো. সিদ্দিক বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ হলেই দেশের বাজারে দাম বেড়ে যায়। এবারও বন্ধ হওয়ায় দাম বেড়েছে। কিন্তু পাইকারি বাজারে সরবরাহ ঠিক আছে। খুচরা বাজারেও কোনো সংকট নেই। পাইকারি বিক্রেতারা বেশি দরে বিক্রি করায় বেশি দরে খুচরা বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে।

একই বাজারে পাইকারি বিক্রেতা আব্দুর রহিম বলেন, বন্দরে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। যে কারণে সেখান থেকে বেশি দরে পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে আসছে। আর আমদানি করা পেঁয়াজে টান পড়ায় দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করেছে। হিলি বন্দরের আমদানিকারক শাহরিয়ার আলম জানান, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য পাওয়া ইমপোর্ট পারমিটের (আইপি) মেয়াদ ছিল চলতি মাসের ৫ মে পর্যন্ত। কিন্তু পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ১ মে থেকে ৬ মে পর্যন্ত ছয় দিন হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল। একইভাবে দেশের অন্য বন্দর দিয়েও এ সময় পেঁয়াজ আসেনি। এ কারণে ওই সময়ের মধ্যে বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানির ইচ্ছা থাকলেও তা সম্ভব হয়ে ?ওঠেনি। সরকার নতুন করে আমদানির অনুমোদন না দেওয়ায় বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আসছে না। আমরা ইতোমধ্যে পেঁয়াজ আমদানির জন্য অনুমতি চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছি। ঈদুল আজহায় পেঁয়াজের চাহিদা মাথায় রেখে দ্রুত আমদানির অনুমতি দিলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে।

হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেন, হিলি দিয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ভারত থেকে পেঁয়াজ এসেছে। এরপর কোনো পেঁয়াজ আমদানি হয়নি। গত ২৯ মার্চ পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয়। সে সময় রমজানে দেশে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সময় বাড়িয়ে ৫ মে পর্যন্ত নির্ধারণ করেছিল কর্তৃপক্ষ। নতুন আমদানির অনুমোদন না মেলায় আমদানি বন্ধ রয়েছে। কবে নাগাদ আবার তা চালু হবে সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে চট্টগ্রামে বাড়তে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটির দাম। সোমবার খুচরা পর্যায়ে কেজিপ্রতি ভারতীয় ভালোমানের পেঁয়াজের দাম ছিল ৩০ টাকা থেকে ৩২ টাকা। মঙ্গলবার সকালে ওই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলেন, সরকার থেকে নতুন করে আমদানি অনুমতি (আইপি) না মেলায় সরবরাহ সংকটে বাড়তে শুরু করেছে পণ্যটির দাম। দেশের অন্যতম প্রধান পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে বস্তাপ্রতি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে আড়াইশ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ছয় টাকার বেশি। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এ অবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে।

চট্টগ্রামে পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতের হিলি সীমান্তে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য পেঁয়াজ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে শত শত ট্রাক। নতুন করে আমদানি অনুমতি (আইপি) না মেলায় এসব পেঁয়াজ আনতে পারছেন না আমদানিকারকরা। আগের যে আমদানি অনুমতি ছিল তার মেয়াদ গত মাসের ৫ তারিখে শেষ হয়ে যায়। নতুন করে আমদানি অনুমতি না পাওয়ায় আমদানিকারকরা সীমান্তে অপেক্ষায় থাকা পেঁয়াজ ভর্তি ট্রাক দেশে প্রবেশ করাতে পারছেন না।

সোমবার খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে ভালোমানের ২৭ টাকায় বিক্রি করা ভারতীয় পেঁয়াজ এখন ৩৩ থেকে ৩৪ টাকা বিক্রি হয়েছে। সে সঙ্গে বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের দামও। এক সপ্তাহ আগেও দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ২৩ থেকে ২৪ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ২৮ থেকে ২৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সে হিসাবে পাইকারিতে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ৩শ টাকা ও দেশি পেঁয়াজের দাম বস্তায় বেড়েছে ২৫০ টাকা থেকে ২৮০ টাকা পর্যন্ত।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আইপি অনুমোদন নিয়ে উদাসীনতা দেখাচ্ছেন। যে কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সঠিক সময়ে আমদানির অনুমতি দিলেও এ পরিস্থিতি এড়ানো যেত। আমদানি অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এখন ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। এ কারণেই গত দুই দিনে খাতুনগঞ্জে বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। দ্রুত আমদানির অনুমতি না পেলে সামনে পেঁয়াজের দাম আরও বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

তবে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের প্রায় প্রতিটি আড়তে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুত দেখা গেছে। যদিও ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ না থাকলে দুদিনেই এই পেঁয়াজ শেষ হয়ে যাবে। তখন আবার বর্তমান দামের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হবে ক্রেতাদের। একইভাবে কয়েক মাস থেকে মিয়ানমার ও তুরস্ক থেকেও পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। ভারত থেকেও পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে।

খাতুনগঞ্জের নিউ শাহ আমানত ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী কামরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘এখন সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। মিয়ানমারের পেঁয়াজ আমদানিও বন্ধ রয়েছে। এখন ভারতীয় পেঁয়াজ দিয়েই বাজারের চাহিদা পূরণ হচ্ছে। আমদানির অনুমতি (আইপি) প্রদান বন্ধ থাকলে বাজারে পেঁয়াজের সংকট তৈরি হবে। বাজারে এখন যে পরিমাণ পেঁয়াজ মজুত আছে কয়েকদিনের মধ্যে সেই মজুত শেষ হয়ে যাবে। সরকারের উচিত দ্রুত আমদানি অনুমতি (আইপি) দিয়ে দেওয়া।

হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গত ৩ দিন ধরে পেঁয়াজ আমদানি হয়নি। এ কারণে বন্দরের মোকামে দাম কেজিতে বেড়েছে ৫-৬ টাকা। আরও দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

শেষ বেলাতেও সময় চান শীর্ষ নেতারা

বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ ও যুব মহিলা লীগ এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ বিষয়ে তিন সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের দ্রুত প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কাছ থেকে সময় নিয়ে সম্মেলনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। তাদের আওয়ামী লীগের দপ্তরেও যোগাযোগ করতে বলা হয়। তবে সম্মেলন আয়োজনে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি।

এ সুযোগে সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে সম্মেলন আয়োজনে আরও অন্তত চার-পাঁচ মাস সময় নিতে চাইছেন। তারা বলছেন-জুন-জুলাই বৃষ্টির মৌসুম। এছাড়া আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও কুরবানির ঈদ রয়েছে। এরপর আছে জাতীয় শোকের মাস আগস্ট। তাই সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের আগে তারা সম্মেলন আয়োজন করতে চাইছেন না।

মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে সহযোগী সংগঠনগুলোর বৈঠকে ছাত্রলীগ, যুব মহিলা লীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের সিদ্ধান্ত হয়। ওই বৈঠকেই আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এই তিন সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের দ্রুত সম্মেলন আয়োজন করার নির্দেশ দেন। তাদের আওয়ামী লীগের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিডিউল নিতে বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি অনুযায়ী সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম যুগান্তরকে বলেন, বৈঠকে ১৭ মে নেত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস জাঁকজমকভাবে পালন করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ ও ছাত্রলীগকে সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা সব সময় প্রস্তুত। সম্মেলন আয়োজনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। সামনে জাতীয় শোকের মাস আগস্ট আছে, ঈদ আছে, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আছে। এছাড়া আমাদেরও কিছু কাজও আছে। তাই আমরা চিন্তা করছি, আগস্টের পরে নেত্রীর (আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) সঙ্গে আলোচনা করে তিনি তারিখ দিলে আমরা সম্মেলন করে ফেলব।

যুব মহিলা লীগ সভাপতি নাজমা আক্তার যুগান্তরকে বলেন, আমরা এখন কাউন্সিলর-ডেলিগেটসদের তালিকা প্রস্তুত করাসহ সম্মেলনকেন্দ্রিক অন্যান্য কাজ শুরু করব। সম্মেলন আয়োজনে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করতে বলা হয়েছে। আমাদের নেত্রী (আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) যখন সময় দেবেন, তখন সম্মেলন করে ফেলব। জুন-জুলাইয়ে অনেক বৃষ্টি হয়। এছাড়া সামনে ঈদ আছে। এরপর আগস্ট মাস আছে। তাই আমরা চিন্তা করছি সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে সম্মেলন করব।

একই বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পদক লেখক ভট্টাচার্য যুগান্তরকে বলেন, আজকের বৈঠকে মেয়াদোত্তীর্ণ সংগঠনগুলোকে সম্মেলন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা সম্মেলন আয়োজনে প্রস্তুত আছি। নেত্রী সময় দিলেই আমরা সম্মেলন করে ফেলব। কত দিনের মধ্যে ছাত্রলীগের সম্মেলন আয়োজন করা হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। আমরা আমাদের অভিভাবক ও নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে তার শিডিউল নেব।

ছাত্রলীগের সর্বশেষ ২৯তম জাতীয় সম্মেলন হয়েছিল ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন ছাড়াই শেষ হয় সম্মেলন। তার আড়াই মাস পর ৩১ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি এবং গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি চূড়ান্ত হয়। পরে চাঁদাবাজির অভিযোগে সমালোচনার মুখে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সময়ে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রথম সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। পরে ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তাদের সভাপতি ও সাধারাণ সম্পাদক করা হয়।

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুব মহিলা লীগের প্রথম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৪ সালের ৫ মার্চ। তখন নাজমা আক্তারকে সভাপতি ও অপু উকিলকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ২০১৭ সালের ১৭ মার্চে সংগঠনটির দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলনে সভাপতি পদে নাজমা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক হিসাবে অপু উকিল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনঃনির্বাচিত হন। আর ২০১৭ সালের ৪ মার্চ সম্মেলনের মাধ্যমে মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন সাফিয়া খাতুন, সাধারণ সম্পাদক হন মাহমুদা বেগম। তার আগের সম্মেলন হয়েছিল ২০০৩ সালের ১২ জুলাই। ওই সম্মেলনে আশরাফুন্নেসা মোশাররফ সভাপতি ও ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা সাধারণ সম্পাদক হন। পরে পিনু খান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন।

এছাড়া সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় আওয়ামী লীগের সম্মেলন সামনে রেখে গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র সংশোধনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদকে। ২৩ জুন দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদকে। এছাড়া দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের তথ্য হালনাগাদ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে মহানগর উত্তর-দক্ষিণের মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিটের সম্মেলন শেষ করতে নির্দেশনা দেন ওবায়দুল কাদের। একই সঙ্গে ১৭ মে আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসটি যেন জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে পালন করা হয় এজন্য মহানগরের নেতাদের নির্দেশনা দেন তিনি। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো সাজানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমকে।

বিএনপি নির্বাচনে আসবেই: খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন তাই এখন থেকেই নেতাকর্মীদের মাঠে কাজ করতে হবে। বিএনপির নেতারা মুখে যতই বলুক না কেন তারা নির্বাচনে আসবেই। তারা ভিতরে ভিতরে মাঠ গোছাচ্ছে। তারা যদি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদেরকে প্রতিহত করার আহবান জানান তিনি।

মঙ্গলবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে শ্রমিক লীগের নওগাঁ জেলা শাখার কমিটি পরিচিতি সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগ, ছাত্রলীগসহ আমরা যে দলই করি না কেন আমাদেরকে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আদর্শ বুকে ধারণ করে দল করতে হবে। দল ক্ষমতায় থাক বা না থাক সবাইকে সংগঠিত থাকতে হবে।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, দলের কোন সদস্যের কারণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ না হয় সেদিকেও সবাইকে নজর রাখার আহবান জানান মন্ত্রী।

জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি ডিএম আব্দুল মজিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক, রফিকুল ইসলাম রফিক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাভেদ জাহাঙ্গীর সোহেল, বিভাষ মজুমদার গোপাল, সাংগঠনিক সম্পাদক তাজুল ইসলাম তোতা, ইলিয়াস তুহিন রেজা, জেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ প্রামাণিক।

সভায় শ্রমিকলীগ, জেলা আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আট মেগা প্রকল্পে গড় অগ্রগতি ৬৯ শতাংশ

সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত) মেগা ৮ প্রকল্পে চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গড় ভৌত অগ্রগতি হয়েছে প্রায় ৬৯ (৬৮ দশমিক ৬১) শতাংশ। আর্থিক অগ্রগতি ৬১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ২ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা।

এখন পর্যন্ত (ফেব্রুয়ারি) খরচ হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট বরাদ্দের ৫০ শতাংশের বেশি খরচ হয়েছে। সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেল প্রকল্প। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

অগ্রাধিকার পাওয়া প্রকল্পগুলো হচ্ছে-পদ্মা সেতু, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর এবং দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু-মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প।

আরও জানা যায়, ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৭টিতে (রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প ছাড়া) চলতি অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দ ছিল প্রায় ৩৮ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সংশোধিত এডিপিতে এই বরাদ্দ কমিয়ে ধরা হয় ৩৫ হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা। এদিকে চলতি অর্থবছরের ৮ মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) এসব প্রকল্পের আওতায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৭ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম যুগান্তরকে বলেন, মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যেই কোনোটির বাস্তবায়ন প্রায় শেষ পর্যায়ে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হবে।

শ্রীলংকার মতো অবিবেচনাপূর্ণভাবে এসব প্রকল্প নেওয়া হয়নি। প্রত্যেকটি প্রকল্পই জনগণের এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে যেগুলো পিছিয়ে আছে সেগুলোর বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো খুবই প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন পর্যায় থেকে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শ্রীলংকা প্রকল্প নেওয়ার আগে ঠিকমতো সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করেনি। ফলে তাদের গভীর সমুদ্রবন্দর কার্যকর হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে চীনের কাছে ৯৯ বছরের জন্য লিজ দিতে হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ এমন কোনো মেগা প্রকল্প নেয়নি যেগুলো কার্যকর হবে না।

পদ্মা সেতু প্রকল্প : ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে পদ্মা বহুমুখী সেতু। এ প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

এখন আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত করা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২৬ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৮৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। তবে পুরো প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৯১ শতাংশ।

আগামী জুনে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া যাবে বলে আশা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম এর আগে যুগান্তরকে বলেন, আমরা আশা করছি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেই খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।

পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্প : ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পটি। এটির বাস্তবায়ন মেয়াদ শুরু হয় ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে। শেষ হবে ২০২৪ সালের জুনে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ২১ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা। প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৫৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৫৪ শতাংশ।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প : ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি। এটির বাস্তবায়ন শুরু হয় ২০১৬ সালের জুলাইয়ে। মেয়াদ রয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পটিতে খরচ হয়েছে ৪৯ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা। আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৪৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

মেট্রোরেল প্রকল্প : ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এগিয়ে চলছে মেট্রোরেলের কাজ। ২০১২ সালের জুলাই থেকে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ শুরু হয়। শেষ হওয়ার কথা ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে। শুরু থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে ১৭ হাজার ৩৮২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৭১ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং সার্বিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ০৪ শতাংশে। তবে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত অংশ পরবর্তী সময়ে যুক্ত হওয়ায় এ অংশ নির্মাণে প্রকল্পটি সংশোধন করার কারণে ব্যয় বাড়ছে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন সিদ্দিকী যুগান্তরকে বলেন, পুরোদমে কাজ এগিয়ে চলছে। আগের ঘোষণা অনুযায়ী এ বছরের ডিসেম্বরেই প্রথম অংশ খুলে দেওয়া হবে।

এজন্য প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। অন্যান্য অংশের কাজও সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী মতিঝিল থেকে কমলাপুর অংশ পরবর্তী সময়ে প্রকল্পে যুক্ত হওয়ায় এ অংশটি শেষ করতে কিছুটা সময় লাগবে।

মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প : ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে মাতারবাড়ী ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি। ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৫৫ দশমিক ২০ শতাংশ।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প : ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট (রামপাল) বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি। ২০০৯ সালের জুলাই থেকে এটির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার ৫১২ কোটি টাকা। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৭৮ দশমিক ২০ শতাংশ। এছাড়া ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প : ৪ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুবিধাদির উন্নয়ন প্রকল্প। ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ১৬০ কোটি টাকা। সে হিসাবে প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৭২ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৮৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার ও রামু-মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প : ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে এ প্রকল্পটি। এটির মেয়াদ শুরু হয় ২০১০ সালের জুলাই থেকে।

২০২২ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৬ হাজার ৩৬২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৩৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। এছাড়া ভৌত অগ্রগতির পরিমাণ অনেক বেশি-প্রায় ৬৮ শতাংশ।

ঘূর্ণিঝড় ‌‘অশনি’: সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে যা বলছে আবহাওয়া অফিস

শক্তি হারাচ্ছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় অশনি। তীব্রতা হারিয়ে ভারি বৃষ্টিপাতের পরিণত হয়েছে। ধীরে ধীরে আরও শক্তিক্ষয় হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে অশনি।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বুধবার সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে বাংলাদেশসহ ভারতেরের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে। নদীতে জোয়ারের পানি বেড়েছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের বেশ কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বৃদ্ধি পাচ্ছে। সারা দেশেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি থেকে হচ্ছে ভারি বৃষ্টিও।

ভারতের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এ মুহূর্তে অশনি অন্ধ্রপ্রদেশের মাছিলিপতনম থেকে ৬০ কিমি দূরে রয়েছে অশনি। অন্ধ্রের কাঁকিনাড়া থেকে দূরত্ব ১৮০ কিমি। বিশাখাপত্তনম থেকে ৩১০ কিমি দূরে রয়েছে সাইক্লোন। পুরি থেকে অশনির দূরত্ব ৬৬০ কিমি। বাংলায় সেভাবে ঝড়ের কোনো আভাস দেখা যাবে না। তবে অশনির প্রভাবে কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আজও বৃষ্টি হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিন্দা উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং বর্তমানে ওড়িশা উপকূলের খুব কাছে রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়া বিভাগ আরও জানিয়েছে, কাকিন্দা উপকূলে জারি করা হয়েছে ১০ নম্বর সতর্কতা। কয়েকটি অঞ্চলে জারি রয়েছে ‘রেড এলার্ট’। ঝড়ের প্রভাবে এসব অঞ্চল বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকবে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

ভারতের আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আবারও গতিপথ পরিবর্তন করে বঙ্গোপসারে অবস্থান করা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় অশনি কাকিন্দা উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে এটি আবারও গতিপথ পাল্টে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপটনম উপকূলে আঘাত হানবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। খবর এনডিটিভির।

প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অঞ্চলগুলোতে। অশনির প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা না থাকলেও বেশ কিছু অঞ্চলে জারি করা হয়েছে সতর্কতা।

এদিকে বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে। চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলে অবস্থানরত সব লাইটার জাহাজকে সদরঘাট ও শাহ আমানত ব্রিজ এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৈরি আবহাওয়ায় মোংলা বন্দরে পণ্য বোঝাই ও খালাস কার্যক্রম ব্যাহত। সুন্দরবন সংলগ্ন সাগর-নদীতে মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকা এরইমধ্যে তীরে ফিরে এসেছে।

সুইজারল্যান্ডে বিদেশিদের জন্য সামাজিক কল্যাণ সেবা কমছে

সুইজারল্যান্ডে বিদেশিদের সঙ্গে সম্পর্কিত নিয়মগুলির সংশোধনের অংশ হিসেবে ফেডারেল সরকার বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণ পরিষেবা সংকুচিত করার বিষয়ে আলোচনা শেষ করেছে।

পরিকল্পনার লক্ষ্য হল বসবাসের প্রথম তিন বছরে প্রদত্ত কল্যাণের পরিমাণ হ্রাস করা হবে। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের এবং ইউরোপীয় অবাধ চলাচলের নিয়মের আওতায় থাকা অন্যদের প্রভাবিত করবে না।

সামাজিক কল্যাণ তত্ত্বাবধানকারী ফেডারেল বিভাগ দ্বারা একত্রিত করা, পরিকল্পনাটি কার্যত একটি দ্বি-স্তরীয় কল্যাণ ব্যবস্থা তৈরি করবে যেখানে সম্প্রতি আগত বিদেশি নাগরিকরা অন্য সবার চেয়ে কম সুযোগ সুবিধা পাবে ।

২০১৯ সালের জানুয়ারী থেকে, যখন আইনের একটি নতুন প্যাকেজ কার্যকর হয়েছে, কল্যাণ অর্থ প্রদানের সাথে যুক্ত ঝুঁকিও বেড়েছে। কল্যাণ প্রাপ্তি স্বাভাবিকীকরণের পথে দাঁড়াতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে বসবাসের অধিকার হারাতে পারে। কিছু ক্যান্টনে এমনকি সুইজারল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী এবং বেড়ে ওঠা বিদেশী নাগরিকরাও যদি কল্যাণ সংগ্রহ করেন তবে তারা সুইজারল্যান্ডে থাকার অধিকার হারাতে পারে। এর অর্থ প্রায়ই সুইজারল্যান্ডের বিদেশীরা আর্থিক সহায়তা চাইতে নারাজ।সুইস ওয়ার্কার্স এইড অর্গানাইজেশন (ওএসইও), সুইজারল্যান্ড একটি অলাভজনক সংস্থা যা সামাজিক , কর্মসংস্থান এবং পেশাদার একীকরণে সহায়তা করার জন্য সামাজিক এবং আইনি পরামর্শ প্রশিক্ষণ প্রদান করে, তাদের মতে সুইজারল্যান্ডে প্রায় ৬০,০০০ বিদেশী রয়েছে যারা এই কারণে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় সামাজিক কল্যাণ বা আর্থিক সহায়তা নিতে চান না। সংস্থার একজন প্রতিনিধি বলেছেন, সরকারের পরিকল্পনা ঘটনাটিকে আরও খারাপ করবে এবং কর্মসংস্থান এবং পেশাদার একীকরণকে ব্যাহত করবে।

সুইজারল্যান্ডে কল্যাণ ব্যবস্হা একটি বিভক্ত রাজনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে কারণ এতে ব্যয়ের পরিমাণ বেড়েছে।২০১০ এবং ২০১৯ এর মধ্যে, সুইজারল্যান্ডে সামাজিক কল্যাণের ব্যয় 0.9 বিলিয়ন থেকে বেড়ে ২.৮ বিলিয়ন সুইস ফ্র্যান্ক হয়েছে (+৪৭% ) হয়েছে, যা কিছু ক্যান্টন এবং পৌরসভার অর্থায়নে চাপ সৃষ্টি করেছে।সুইস ফেডারেল কাউন্সিল এই বৃদ্ধি রোধ করার জন্য একটি প্রস্তাব পেশ করেছে।ফেডারেল কাউন্সিলের প্রস্তাবটি সুইস, ইইউ এবং ইএফটিএ নাগরিকদের তুলনায় তৃতীয় দেশের নাগরিকদের কল্যাণের অর্থ প্রদানকে বিস্তৃতভাবে কমিয়ে ২০% কম করবে, যদিও ক্যান্টনগুলো অর্থের পরিমাণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। সুইজারল্যান্ডে বসবাসের প্রথম তিন বছরের সময় এই হ্রাস প্রযোজ্য হবে। স্বল্প পরিমানে অর্থ প্রদান সুইস, ইইউ বা ইএফটিএ নাগরিকত্ব ছাড়া পরিবারের সদস্যদের জন্যও প্রযোজ্য হবে এবং সেইজন্য পারিবারিক পুনর্মিলন ব্যবস্থার অধীনে আগতদের প্রভাবিত করবে কিন্তু যারা সরকারীভাবে শরণার্থী হিসাবে স্বীকৃত নয়। সুইজারল্যান্ডের বর্তমান জনসংখ্যা ৮,৭৭৭,৭৭৩। ইউরোপিয়ান দেশভুক্ত জনসংখ্যার বাইরে ৮.৮% বিদশী ৩ গুণ বেশী সমাজকল্যান ফান্ডের উপর নির্ভরশীল যেখানে সুইস ২.৩% এবং ইউরোপিয়ান দেশভুক্ত ২.৮% জনসাধারণ। এটি সুস্পষ্ট যে, এর লাগাম টেনে ধরতে সুইস ফেডারেল সরকার বদ্ধপরিকর।

সুইজারল্যান্ডে, করের উপর উচ্চতর কল্যাণ ব্যয়ের প্রভাব প্রায়ই দেখা যায়। ছোট মিউনিসিপ্যালিটিগুলিতে, সমাজকল্যান ফান্ডের উপর নির্ভর কল্যাণে লোকেদের সংখ্যার একটি ছোট বৃদ্ধি পৌর কর হারকে বাড়িয়ে দেয়, যা বার্ষিক বাজেটে সংশোধিত হয়। এটি বিদ্যমান বাসিন্দাদের বিরক্তির বিষয় হয়ে উঠছে এবং মিউনিসিপ্যালিটি এবং ক্যান্টনগুলির মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব তৈরি করছে।

একই সময়ে এটি একটি সুইস সংসদীয় উদ্যোগের লক্ষ্য তাদের অধিকার সুরক্ষিত করা যারা সুইজারল্যান্ডে ১০ বছর ধরে বৈধভাবে বসবাস করছেন। প্রস্তাবের অধীনে ১০ বছরের অবিচ্ছিন্ন বসবাসের সাথে কেউ সমাজকল্যান ফান্ডের সাহায্য পাওয়ার পরে বসবাসের অধিকার হারানোর ঝুঁকি নেবে না। সংসদীয় কমিশন এই পদক্ষেপকে সমর্থন করলেও, সুইজারল্যান্ডের উচ্চকক্ষ কাউন্সিল অফ স্টেটের কমিশন তা সমর্থন করে না৷

ঘূর্ণিঝড়ে বিশ্বনবীর আমল

ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’র প্রভাবে উত্তাল সাগর। ফলে পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী রোববার রাত থেকে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

এটি আগামী পাঁচদিন অব্যাহত থাকবে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সব ট্রলার ও নৌকাকে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া বইলে রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদে যেতেন এবং নামাজে মশগুল হতেন। (মিশকাত)
সাহাবিদের জীবনে আমরা দেখি, বিপদে-মুসিবতে তারা নামাজে দাঁড়াতেন ও ধৈর্য ধারণ করতেন। (মিশকাতুল মাসাবিহ)

ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় রাসুল (সা.) তার উম্মতকে বিচলিত না হয়ে দোয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।

ঘূর্ণিঝড় ও বিপদাপদ থেকে নিরাপদ থাকতে পবিত্র কোরআনের বিশেষ দোয়া- ‘রাব্বানাকশিফ আন্নাল আজাবা ইন্না মুমিনুন।’

অর্থ : ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের উপর থেকে আপনার শাস্তি প্রত্যাহার করুন, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করছি।’ (সুরা দুখান : আয়াত ১২)

প্রবল ঘূর্ণিঝড়-বৃষ্টিতে যদি মানুষের জন জীবনের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে কিংবা ফসলাদি নষ্ট হয় বা চলাচলের রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে যায়, তবে সে অবস্থায় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দোয়া পড়তেন-

‘আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাদের থেকে (ঘূর্ণিঝড়, বৃষ্টি) ফিরিয়ে নাও, আমাদের ওপর দিয়ো না।’ (বোখারি)

জোরে বাতাশ প্রবাহিত হলে তিনি (সা.) যে দোয়া পড়তেন- ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহা’

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট এর কল্যাণটাই কামনা করি। এবং আপনার নিকট এর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)।

ঝড় বা বাতাশ থেকে বাঁচতে মহানবী (সা.) যে দোয়া পড়তেন- ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন খাইরি হাজিহির রিহি ওয়া খাইরা মা ফিহা ওয়া খাইরা মা উরসিলাত বিহি, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহা, ওয়া শাররি মা ফিহা ওয়া শাররি মা উরসিলাত বিহি।’

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করি এর কল্যাণ, এর মধ্যকার কল্যাণ এবং যা এর সাথে প্রেরিত হয়েছে তার কল্যাণ। আর আমি আপনার আশ্রয় চাই এর অনিষ্ট থেকে, এর ভেতরে নিহিত অনিষ্ট থেকে এবং যা এর সঙ্গে প্রেরিত হয়েছে তার অনিষ্ট থেকে (বোখারি)।

আসুন, আমরা আমাদের পাপ সমূহের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চাই আর অধিকহারে দোয়ায় রত হই। আল্লাহতায়ালা আমাদের সকলকে ঘূর্ণিঝড় সহ প্রাকৃতিক সব বিপদাপদ থেকে রক্ষা করুন, আমিন।

লেখক: ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট
masumon83@yahoo.com