শুক্রবার ,১২ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 320

বৈষম্য কমানোই বড় চ্যালেঞ্জ

দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়ছে। সরকারি হিসাবে এখন মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮২৫ মার্কিন ডলার। এটি উচ্চ মধ্যম আয়ের কাছাকাছি। গত ৫ বছরে মাথাপিছু আয় বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তবে এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বৈষম্য। আয় বেড়েছে কিছু মানুষের। আয়, সম্পদ ও ভোগ ৩টিতেই বৈষম্য রয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন তুলে অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, বৈষম্য কমানোর বিকল্প নেই। তারা বলছেন, সরকার মাথাপিছু আয় ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) যে তথ্য প্রকাশ করছে, তার সঙ্গে অর্থনীতির সূচকের মিল নেই। এছাড়াও বৈষম্য কমিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) গত সপ্তাহে মাথাপিছু আয় ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির তথ্য প্রকাশ করেছে। সেখানে ২০২১-২২ অর্থবছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮২৫ ডলার ধরা হয়েছে। আগের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৫৯১ ডলার। করোনার মধ্যে যেখানে অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থবির ছিল, সেখানে আয় কীভাবে বাড়ল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শীর্ষ স্থানীয় অর্থনীতিবিদরা।

জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য যুগান্তরকে বলেন, ‘মাথাপিছু আয় ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে প্রাক্কলন করা হয়েছে, তা প্রাসঙ্গিক তথ্য দিয়ে সমর্থিত নয়।’ এ প্রাসঙ্গিক তথ্য বেসরকারি বিনিয়োগ, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, ঋণের প্রবৃদ্ধি এবং কাঁচামাল আমদানি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে মারাত্মক ত্রুটি আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তারমতে দেশের আয়বৈষম্য যে বেড়েছে, সেটি খুব ভালোভাবেই সরকারের মাথাপিছু আয়ের তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে। আর এ জন্যই মানুষ মাথাপিছু আয়ের তথ্যের সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পাচ্ছেন না।’

জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, অন্যদিকে অর্থনীতির ৯টি সূচকের মধ্যে রপ্তানি ছাড়া কোনোটিতে উল্লেখযোগ্য হয়নি। তিনি বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগ আগের বছরের চেয়ে কমেছে। রপ্তানিতে কিছুটা প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এটি ইতিবাচক। অন্য সূচকগুলোর ভালো অবস্থায় নেই। রেমিট্যান্স কমেছে। এছাড়া বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়লেও তা খুবই সামান্য।

তিনি বলেন, অর্থনীতিতে বড় সমস্যা হলো বৈষম্য। আয়ের অনুপাতে করদাতা বাড়ছে না। এখনও বাংলাদেশে কর জিডিপি রেশিও যা আছে, তা দ্বিগুণ বাড়তে পারে। আয় বাড়লে করদাতা বাড়বে।

তিনি বলেন, আয়বৈষম্য থাকলেও মাথাপিছু আয় যেভাবে আছে, তা অস্বীকার করা যাবে না। তবে এই পরিমাণ আয় বাড়লে নতুন করে কিছু লোক করযোগ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, করদাতার চিহ্নিতের ক্ষেত্রে এনবিআরের দুর্বলতা রয়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান মঙ্গলবার একনেক বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘মানুষের কেনাকাটা অনেক বেড়েছে। গ্রামে গেলেই দেখা যায়, মানুষ কেনাকাটা করছে। তার মানে মানুষের আয় বেড়েছে। হতে পারে কারও কম বেড়েছে কিংবা কারও বেশি। তবে আয় বেড়েছে।’

অর্থনীতিবিদ এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে বৈষম্যের কারণে এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ায় মাথাপিছু আয় বাড়লেও দেশের মানুষের প্রকৃত আয় কতটা বেড়েছে তা প্রশ্নবিদ্ধ।

জানা গেছে, মাথাপিছু আয়ের ৪টি খাত। কৃষি, শিল্প, সেবা এবং প্রবাসীদের আয় (রেমিট্যান্স)। অর্থাৎ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সঙ্গে রেমিট্যান্স যোগ করলে জাতীয় আয় পাওয়া যায়। আর জাতীয় আয়কে মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে মাথাপিছু আয় পাওয়া যায়। সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুসারে দেশের প্রতি মানুষের মাথা পিছু আয় ২ হাজার ৮২৫ ডলার। প্রতি ডলার ৯০ টাকা হিসাবে স্থানীয় মুদ্রায় যা ২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এ হিসাবে গড়ে একজন নাগরিক প্রতিমাসে ২১ হাজার ১০০ টাকার উপরে আয় করেন। আজ যে শিশুটি জন্ম নিয়েছে তারও এই পরিমাণ আয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং মাথাপিছু আয়ের যে তথ্যের কথা বলা হচ্ছে, দেশের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন সেভাবে হয়নি। কারণ কর্মসংস্থান হয়েছে কম। বিনিয়োগ প্রত্যাশিত নয়। বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধিও সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হার খুব কম। কৃষিতেও আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি কমেছে। এসব কারণেই সরকারের অর্জনের তথ্য মাত্রাতিরিক্ত মনে হচ্ছে।

কোনো দেশের সম্পদ ও আয়ের অসমতা বোঝাতে গিনি গিনি কো ইফিশিয়েন্ট সূচক ব্যবহার করা হয়। এই সূচক যত বাড়বে, ওই দেশে বৈষম্য তত বেশি। বিবিএসে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে দেশের গিনি কো-ইফিশিয়েন্ট ছিল শূন্য দশমিক ৪৮২, যা ২০১০ সালে ছিল শূন্য দশমিক ৪৫৮।

ওই তথ্য অনুসারে ২০১৬ সালে দেশের ধনী শ্রেণির ৫ শতাংশ মানুষের আয় ছিল মোট আয়ের ২৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আর ২০১০ সালে যা ছিল ২৪ দশমিক ৬১ শতাংশ। কিন্তু ২০১৬ সালে গরিব ৫ শতাংশ মানুষের আয় মোট আয়ের দশমিক ২৩ শতাংশ। কিন্তু ২০১০ সালে ৫ শতাংশ গরিবের আয় ছিল ৭৮ শতাংশ। এর অর্থ হলো, ধনীদের আয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। বিপরীতে কমছে গরিবের আয়। সম্পদ বৈষম্য আরও বেড়েছে।

২০১৬ সালে দেশের ধনী শ্রেণির ৫ শতাংশ মানুষের আয় ছিল, মোট আয়ের ২৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে দেশের মোট সম্পদের ৫১ দশমিক ৩২ ভাগ ছিল সর্বোচ্চ ধনী পাঁচ শতাংশের কাছে। আর ০.০৪ ভাগ ছিল সবচেয়ে দরিদ্র পাঁচ ভাগের কাছে।

বিবিএসের হিসাব আরও বলছে, বর্তমানে দেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর হার মোট জনসংখ্যার ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। এরমধ্যে অতি দরিদ্র ৭ শতাংশ। এদিকে আয় বাড়লেও কর আদায় বাড়েনি। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ১৭ কোটি মানুষের দেশে টিআইএন রয়েছে ৭৩ লাখ। মাত্র ২৩ লাখ মানুষ আয়কর দেন। বর্তমানে কর আদায় জিডিপির ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ায় যা সবচেয়ে কম।

২০১০ সালে জিডিপিতে বড় ও মাঝারি শিল্পের অংশগ্রহণ ছিল ১৩ দশমিক ১২ শতাংশ। ২০১৮ সালে তা ১৮ দশমিক ৩১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু ২০১০ সালে জিডিপিতে ক্ষুদ্র শিল্পের অংশগ্রহণ ছিল ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। আর ২০১৮ সালে তা মাত্র ৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ হয়েছে। এর অর্থ হলো, শিল্প খাত বড় ব্যবসায়ীদের দখলে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে বাংলাদেশ এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ। সংস্থাটির তথ্য অনুসারে কোনো দেশের তিন বছর গড় মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৬ ডলার ছাড়ালেই তা নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পড়ে। এ হিসাবে বাংলাদেশ এই সীমা অনেক আগেই পার করেছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুসারে, মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৬ ডলার থেকে শুরু করে যেসব দেশের মাথাপিছু জাতীয় আয় ১২ হাজার ৭৩৬ ডলার, তারা মধ্যম আয়ের দেশ। এর মধ্যে আবার আয় ১ হাজার ৪৬ ডলার থেকে ৪ হাজার ১২৫ পর্যন্ত হলে তা হবে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ এবং আয় ৪ হাজার ১২৬ ডলার থেকে শুরু করে ১২ হাজার ৭৩৬ ডলার হলে দেশগুলোকে বলা হয় উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ। এর চেয়ে বেশি মাথাপিছু আয় হলে সেই দেশগুলোকে বলা হয় উচ্চ আয়ের দেশ। আর সংজ্ঞা অনুসারে বাংলাদেশ উচ্চ মধ্যম আয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

অন্যদিকে জিডিপির অনুপাতে বাংলাদেশে কর আদায় মাত্র ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। ভারতে তা ১৮ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ১৬ শতাংশ, চীনে ২৯ শতাংশ, মালদ্বীপ ২১ শতাংশ, পাকিস্তান ১৭ শতাংশ, নেপাল ১১.৫ শতাংশ, ১২ শতাংশ এবং সিঙ্গাপুর ১৫ শতাংশ।

শ্রীলংকার মতো পরিস্থিতির দিকে বাংলাদেশ: মেজর হাফিজ

বরিশালে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ (বীরবিক্রম) বলেছেন, রাতের আঁধারে নির্বাচিত অযোগ্য সরকার গণতন্ত্র বিদায় করে দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। বর্তমানে দেশ শ্রীলংকার মতো পরিস্থিতির দিকে এগুচ্ছে। এখন নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হলে অবিলম্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। তা না হলে শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী-নেতাদের মতো পরিণতি অপেক্ষা করছে।

দেশব্যাপী সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে নগরীর দলীয় কার্যালয়ের সামনে শনিবার বেলা ১১টায় জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

মেজর হাফিজ বলেন, আওয়ামী লীগ নতুন করে ইভিএম ভোটের ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আমরা এভিএমে বিশ্বাসী নই। এই সরকার যা আয় করে তার চেয়ে বেশি ব্যয় করে। সরকার মনে করে দেশ জাহান্নামে যাক আমরা ক্ষমতায় থাকবোই। সরকারি দলের নেতারা দেশের উন্নয়ন দেখিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশ পাচার করার পরও বিচার হয় না। অথচ বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর জেলজুলুম চালানো হচ্ছে।

বরিশাল মহানগর বিএনপি আহবায়ক মো. মনিরুজ্জামান খান ফারুকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ ফরহাদ, সাবেক এমপি আবুল হোসেন খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মাদ রহমাতউল্লাহ, আলহাজ্ব এবায়েদুল হক চাঁন, জেলা বিএনপি আহবায়ক অ্যাড মজিবর রহমান নান্টু, উত্তর জেলা বিএনপি আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান মো. শহিদুল্লাহ. সদস্য সচিব মিজানুর রহমান মুকুল প্রমুখ।

সভা সঞ্চালনা করেন যৌথভাবে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ ও জেলা বিএনপির (দক্ষিণ) সদস্য সচিব আকতার হোসেন মেবুল প্রমুখ।

নানামুখী ষড়যন্ত্র হচ্ছে, সতর্ক থাকতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নানামুখী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, দেশের পরিস্থিতি ভালো থাকার পরেও একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে দেশকে নিয়ে হায়-হুতাশ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। এদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকতে হবে।

একই সঙ্গে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে যেন খাদ্যে প্রভাব ফেলতে না পারে সেজন্য শস্য উৎপাদনের জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, খাদ্য উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে। একটু জায়গাও ফাঁকা রাখা যাবে না।

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

সূত্র জানায় বৈঠকে শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় উপস্থিত নেতারা বলেন, একটি গোষ্ঠী বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনা করছেন। তারা দিবাস্বপ্নে বিভোর হয়েছেন। এরা ষড়যন্ত্রকারী। দেশ যখন এগিয়ে যায়, এদের ভাল লাগে না। তাই তারা সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। এটা নতুন কিছু নয়। তবে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে সচল ও সবল রাখার জন্য তার সরকারের সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, অর্থনীতির সব সূচকে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। ভালো অবস্থানে থেকেই বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে। তবে সরকারি ব্যয় সংকোচনের জন্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা কাটছাঁট করছি। সতর্কতা অবলম্বন করছি।

এ সময় ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে তেল, সারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পায় আলোচনায়। আগামী ৬ মাস খুব ক্রিটিক্যাল সময় বলেও মনে করেন নেতৃবৃন্দ। এই সময়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এবং চোখ কান খোলা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। কৃষি উৎপাদনে জোর দেওয়া হয়। এক ইঞ্চি জমিও যেন পতিত না থাকে, খাদ্য শস্য এবং তেল জাতীয় শস্য উৎপাদনের তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং দলের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বিকাল সাড়ে ৪টায় এ সভা শুরু হয়। মাগরিবের নামাজের বিরতি দিয়ে সভা চলে রাত ৯টা পর্যন্ত।

সভায় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, ওবায়দুল কাদের, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, ড. আব্দুর রাজ্জাক, কাজী জাফর উল্লাহ, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, রাশিদুল আলম, রমেশ চন্দ্র, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সভায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, ৩টি উপজেলা, ৬টি পৌরসভা এবং এবং অষ্টম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের নামের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে আরফানুল হক রিফাত। দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে সফিউল আযম চৌধুরী, সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় মঞ্জুর কাদির শাফি, খাগড়াছড়ির গুঁইমারা উপজেলা মেমং মারমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

ছয় পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা হলেন- মেহেরপুর সদর মাহফুজুর রহমান (রিটন), ঝিনাইদহ সদরে, আব্দুল খালেক, গোপালগঞ্জ সদর (উন্মুক্ত), গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর আতিকুর রহমান মিয়া, সিলেটের বিয়ানীবাজার আব্দুস শুকুর, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি জমির হোসেন।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন-২০২২: দিনাজপুরের বিরল উপজেলার বিজোড়ায় আমজাদ হোসেন, পলাশবাড়ীতে খায়রুল ইসলাম, নীলফামারীর নীলফামারী সদর উপজেলার খোকশাবাড়ীতে প্রশান্ত রায়, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউরায় রাবিউল হক, কুড়িগ্রামের চিলমারীর নয়ারহাটে আসাদুজ্জামান, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর নুরুজ্জামান মণ্ডল, বনগ্রাম মোখলেছুর রহমান, কামারপাড়া সুবল চন্দ্র সরকার, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর মঞ্জুরুল হক। বগুড়া কাহালু উপজেলার দুর্গাপুরে বদরুজ্জামান খান, নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইলে মোফাজ্জল হোসেন মণ্ডল, সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ী তাজুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট বেনাউল ইসলাম, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর জহুরুল হাসান, শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী লুৎফর রহমান, রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার চারঘাট ইউপিতে মতিউর রহমান।

মেহেরপুরের মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি বোরহান উদ্দীন আহাম্মেদ, পিরোজপুর আব্দুস সামাদ বাবলু বিশ্বাস, শ্যামপুর বীর মুক্তিযোদ্ধা রব বিশ্বাস, বারাদি মোমিনুল ইসলাম। ঝিনাইদহের ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সুরাট কবির হোসেন জোয়ার্দ্দার, পাগলাকানাই আসাদুজ্জামান। বরগুনার তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া আ. রাজ্জাক, ছোটবগী মো. তৌফিক উজ্জামান, কড়ইবাড়িয়া মো. ইব্রাহীম, বড়বগী আলমগীর মিঞা, নিশানবাড়িয়া বাচ্চু মিয়া, সোনাকাটা সুলতান ফরাজী। বেতাগী উপজেলার কাজিরাবাদ সালাউদ্দিন মাহমুদ।

পটুয়াখালীর পটুয়াখালী সদর উপজেলার জৈনকাঠী সৈয়দ মোহাম্মদ মোহসিন, কালিকাপুর সালমা জাহান, ইটবাড়িয়া মোজাম্মেল হক, মৌকরণ বশির আহম্মেদ, লাউকাঠী আশিষ কুমার চক্রবর্ত্তী। কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী আনছার উদ্দিন মোল্লা, ধুলাসার মোদাচ্ছের হাওলাদার। দশমিনা উপজেলার চরবোরহান নাজির সরদার। ভোলার দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুর সহি ছরওয়ার (ভুট্টু তালুকদার), হাজিপুর হামিদুর রহমান, মনপুরা উপজেলার মনপুরা আজমত উল্যা, লালমোহন উপজেলার কালমা আকতার হোসেন, রমাগঞ্জ গোলাম মোস্তফা।

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর নজরুল ইসলাম, হিজলা উপজেলার হিজলা-গৌরব্দী নজরুল ইসলাম মিলন, ধুলখোলা একেএম, জসীম উদ্দিন, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বিদ্যানন্দপুর জব্বার খান, চরএক্করিয়া আবুদুল মকিম তালুকদার, গোবিন্দপুর আমিরুল ইসলাম বেলাল, আন্দারমানিক আলাউদ্দিন কবিরাজ, জয়নগর সেকান্দার আলী জাফর, লতা মিজানুর রহমান।

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার দেউলাবাড়ি দোবড়া ওয়ালী উল্লাহ, কলারদোয়ানিয়া কবির হোসেন। ঝালকাঠির ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা শেখ সাবের আহম্মেদ।

টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার গজারিয় আনোয়ার হোসেন, দাড়িয়াপুর মুহাম্মদ আনছার আলী। মধুপুর উপজেলার কুড়ালিয়া আ. মান্নান, মহিষমারা কাজী আবদুল মোতালেব, বেরীবাইদ জুলহাস উদ্দিন, কুড়াগাছা ফজলুল হক সরকার, আউশনারা গোলাম মোস্তফা, অরনখোলা আ. রহিম, ফুলবাগচালা রেজাউল করিম, শোলকুড়ী ইয়াকুব আলী। মির্জাপুর উপজেলার ভাওড়া আমজাদ হোসেন, বহুরিয়া আবু সাইদ মিয়া, লতিফপুর জাকির হোসেন, ফতেপুর আ. রউফ মিয়া, আজগান আব্দুল কাদের, তরফপুর নাজিম মোল্লা। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ছিলিমপুর মোহাম্মদ হানিফ মিঞা, নাগরপুর উপজেলার ভারড়া রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার, বাসাইল উপজেলার কাশিল মির্জা রাজিক, বাসাইল সদর সোহেল মিয়া, গোপালপুর উপজেলার হেমনগর আনিছুর রহমান তালুকদার, ঝাওয়াইল আয়শা আকতার, দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া কৃষ্ণ কান্ত দে সরকার।

মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার তেউটিয়া রফিকুল ইসলাম। ঢাকার ধামরাই উপজেলার সুতিপাড়া রেজাউল করিম। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক লোকমান হোসেন। নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর রমিজ উদ্দিন, চরমান্দালিয়া আবদুল কাদির, কৃষ্ণপুর এমদাদুল হক আকন্দ।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া সোহাগ রনি। ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামালদিয়া হাবিবুল বাশার। মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার এনায়েতনগর মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, পূর্ব এনায়েতনগর মাহাবুব আলম। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিকাজানী আশরাফুল ইসলাম। ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি সেলিনা আলম, বেলগাছা আ. মালেক, সাপধরী শাহ আলম মণ্ডল, নোয়ারপাড়া রোমান হাসান, পাথর্শী ইফতেখার আলম, চিনাডুলী আব্দুস ছালাম।

জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর খন্দকার মোহাম্মদ ফজলুল হক। হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বানিয়াচং দক্ষিণ পশ্চিম রেখাছ মিয়া। সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার জামালগঞ্জ সদর জামিল আহমেদ জুয়েল, জামালগঞ্জ উত্তর এম নবী হোসেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ুবপুর নজরুল ইসলাম, দড়িয়াদৌলত মাহবুবুর রহমান, নাটাই (দক্ষিণ) মো. নাজমুল হক।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা গোলাম ফারুক, মুরাদনগর উপজেলার মুরাদনগরে কাজী মো. তুফরীজ, দেবিদ্বার উপজেলার ভানী তাহমিনা আক্তার। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার হরনী আখতার হোসেন, চানন্দী আজহার উদ্দিন। বেগমগঞ্জ উপজেলার মির ওয়ারিশপুর শাহাজাহান, সেনবাগ উপজেলার কেশারপাড় বেলাল ভূঁঞা, অর্জুনতলা আবদুল ওহাব, মোহাম্মদপুর ফিরোজ আলম ভূঁঞা। নোয়াখালী সদর উপজেলার বিনোদপুর তোফাজ্জল হোসেন। লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার আকবর হোসেন।

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার দীর্ঘাপাড় আবুল কাসেম। ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর মোহাম্মদ ইব্রাহিম তালুকদার। হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ শওকত আলম শওকত। কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা আলাউদ্দিন। সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া মোহাম্মদ আবু ছালেহ। পটিয়া উপজেলার ছনহরা মুহাম্মদ মামুনুর রশীদ। আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া আজিজুল হক চৌধুরী, বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া বোরহান উদ্দীন মাহমুদ নওয়াজ, সাধনপুর মোহাম্মদ মহিউদ্দীন চৌধুরী খোকা, খানখানাবাদ জসিম উদ্দিন হায়দার, বাহরছড়া তাজুল ইসলাম, কালিপুর শাহাদাত আলম, বৈলছড়ি মোহাম্মদ কফিল উদ্দিন, কাথরিয়া ইবনে আমিন, সরল রশিদ আহমদ চৌধুরী, শীলকূপ কায়েশ সরওয়ার, গন্ডামারা জাহিদুল হক চৌধুরী, চাম্বল মুজিবুল হক চৌধুরী, পুঁইছড়ি জাকের হোসেন চৌধুরী, শেখেরখীল মোহাম্মদ ইয়াছিন, ছনুয়া মুজিবুর রহমান। কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী মোস্তফা আনোয়ার, কালারমারছড়া তারেক বিন ওসমান শরীফ। রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনায় আক্তার হোসেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।

গঠন হচ্ছে ডিজিটাল বাণিজ্য কর্তৃপক্ষ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে ‘ডিজিটাল বাণিজ্য কর্তৃপক্ষ’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্স’ বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধের লক্ষ্যে গঠন করা হচ্ছে এ কর্তৃপক্ষ।

ওই বৈঠকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সেবাগুলো অনলাইনের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৈঠকের কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের চেয়ারপারসন হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ৭ এপ্রিল গণভবনে তার সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এটি ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের তৃতীয় বৈঠক। এর আগে ২০১৫ সালের ৬ আগস্ট দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর পর টাস্কফোর্সের তৃতীয় সভা অনুষ্ঠিত হলো।

সূত্র মতে, ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে দুর্নীতি হ্রাস ও স্বচ্ছতা বেড়েছে। কাজের গতি বেড়েছে ও জনসাধারণের হয়রানি দূর হয়েছে। সর্বোপরি সরকারের অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। তিনি বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে গ্রাম ও শহরের মধ্যে যাতে কোনো ডিজিটাল বৈষম্য সৃষ্টি না হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

বৈঠকে তিনি আরও বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে বর্তমান বাংলাদেশকে ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তর করতে পারব এবং শিক্ষা, শিল্প-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিকসহ সব দিক থেকে এগোতে পারব।

বৈঠকে জ্যেষ্ঠ বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, সব ধরনের লেনদেন এখন অনলাইনে করা হচ্ছে। তিনি ডিজিটাল কর্তৃপক্ষ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের পরামর্শ দেন। বাণিজ্য সচিবের এই প্রস্তাবের পর এটি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের মধ্যে ডিজিটাল বাণিজ্য কর্তৃপক্ষ গঠন প্রসঙ্গে বলা হয়, এটি গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে। ওই নির্দেশনার পর ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে দ্রুত ই-কমার্স ব্যবসার সম্প্রসারণ হচ্ছে। আগামী ২০২৩ সালে এ বাণিজ্য ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়াবে। ই-কমার্স সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রতারণাও বাড়ছে। যদিও প্রতারণা বন্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কিছুটা উদ্যোগ নিয়েছে। তবে ডিজিটাল বাণিজ্য কর্তৃপক্ষ গঠনের পর ই-কমার্স সেলও এটির অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

আগামীতে ই-কমার্স বাণিজ্য করতে হলে এই কর্তৃপক্ষ থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। এটির অন্যান্য কাজের মধ্যে থাকবে দেশে ও বিদেশের ব্যবসা নিয়ে গবেষণা, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

এছাড়া করপোরেট সেবা, ব্যবসার পর্যবেক্ষণ বিভাগ ও ব্যবসার গুণগত মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ থাকবে এখানে। পৃথক একটি আইনের মাধ্যমে ডিজিটাল বাণিজ্য কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করা হবে। থাকবে এ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব আইনে পরিচালিত আদালত ব্যবস্থা। এছাড়া আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য, স্থানীয় বাজার তদারকি করবে এটি।

সূত্র আরও জানায়, ই-কমার্স বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য ১৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই কমিটির প্রধান হলেন, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান। কমিটি ইতোমধ্যেই একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে মন্ত্রিসভা কমিটিতে।

ওই প্রতিবেদনে দুটি বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়। প্রথমটি হচ্ছে ডিজিটাল বাণিজ্য কর্তৃপক্ষ গঠন, দ্বিতীয়টি ভোক্তাসংশ্লিষ্ট সবগুলো আইনের সংশোধনী আনা। বর্তমান ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, প্রতিযোগিতা কমিশন আইন, কমিউনিটি অ্যাক্টসহ বিভিন্ন আইন রয়েছে। এগুলোকে যুগোপযোগী করার সুপারিশ করা হয়েছে।

জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান যুগান্তরকে জানান, সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে ডিজিটাল বাণিজ্য কর্তৃপক্ষ গঠন হলে। ই-কর্মাস, এফ-কমার্স (ফিজিক্যাল বাণিজ্য)-সহ সব ধরনের বাণিজ্য এখান থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এটি প্রথমে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছিল। সেখান থেকে স্থানান্তর করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত করা হয়। এ নিয়ে কাজ চলছে।

জানা গেছে, চীনে এ ধরনের একটি বাণিজ্য কর্তৃপক্ষ রয়েছে। এটির নাম অ্যারিজোনা কমার্স অথরিটি (এসিএ)। এ কর্তৃপক্ষ চীনের অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে ফোকাস করছে। দেশটির কোম্পানিগুলোকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনীতির উন্নতি করছে। সরকারি সংস্থা হলেও এটি বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে নিয়ে বেশি কাজ করছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যকে একটি শৃঙ্খলায় আনতে ডিজিটাল বাণিজ্য কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রয়োজনীয়তা আছে। আইনগুলো যুগোপযোগী না থাকায় এখন স্থানীয় বাজারগুলোতে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে।

১০৫ আন্তঃনগর ট্রেন: দিনে আয় বঞ্চিত ৭০ লাখ টাকা

লোকাল, মেইল ও আন্তঃনগর ট্রেনের প্রায় ৫০ শতাংশ ‘যাত্রী’ টিকিট কাটছেন না। এভাবে বিনা টিকিটে ট্রেন চড়ায় শুধু আন্তঃনগর ১০৫টি ট্রেনে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা আয় বঞ্চিত হচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ২৫৫টি মেইল ও লোকাল ট্রেনেও নির্ধারিত আসনের এক-চতুর্থাংশ যাত্রী টিকিট কাটেন না।

এসব নির্ধারিত আসনের ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি যাত্রী রেলে ভ্রমণ করেন। লোকাল, মেইল ও আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট না কাটায় প্রতিদিন গড়ে ২ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয় রেলকে। রেল সূত্র জানায়, গত ২ বছর ধরে লোকসানের পাল্লা ভারি হয়েছে। দুই বছর ধরে আসনবিহীন (স্ট্যান্ডিং টিকিট) টিকিটও বিক্রি হচ্ছে না।

সূত্র জানায়, প্রতিদিন সোয়া দুই লাখ যাত্রী বহন করে রেলওয়ে। এর সঙ্গে বিনা টিকিটের যাত্রী হিসাব করলে সংখ্যাটি তিনগুণ হবে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদের আগে-পরে প্রতিটি ট্রেনে বিনা টিকিটের যাত্রীর সংখ্যা বেশি দেখা গেছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ এবং যাত্রীদের অনুরোধে আসনবিহীন টিকিট বিক্রি বন্ধ থাকায় বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণ বেড়েছে।

জানা গেছে, বর্তমানে রেলের টিকিট পরীক্ষকের (টিটিই) সংখ্যা নামেমাত্র। আন্তঃনগর ট্রেনে মাত্র ২৫ শতাংশ টিটিই কাজ করছেন। ১০৫টি ট্রেনের মধ্যে ৪০টিতেও তারা যথাযথভাবে অবস্থান করতে পারছেন না। একেকটি ট্রেনে ন্যূনতম ১০ থেকে ১২ জন টিটিই থাকার কথা থাকলেও মাত্র ১-২ জন দায়িত্ব পালন করছেন। বিনা টিকিটের যাত্রী রোধে চলতি মাসে ছয়টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ১ থেকে ২ ঘণ্টা স্থায়ী অভিযানে গড়ে ৩ লাখ টাকা করে আদায় হয়েছে।

সম্প্রতি বিনা টিকিটের যাত্রীর কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা নিয়ে আলোচিত টিটিই শফিকুল ইসলাম একেকটি ট্রেন থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করছেন।

রেলওয়ে অপারেশন ও পরিবহণ দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, রেলে ১ টাকা আয় করতে প্রায় ৬ টাকা খরচ হচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো- স্টেশনগুলো যথাযথভাবে তৈরি করা হয়নি। কোনো স্টেশনেরই শতভাগ নিরাপত্তা নেই। এ কারণে মানুষ খুব সহজেই প্রবেশ ও বের হতে পারেন। ফলে তারা খুব সহজেই ট্রেনে উঠতে পারেন। দেশের প্রধান দুটি রেলস্টেশন কমলাপুর ও বিমানবন্দর স্টেশন থেকে যে কেউ খুব সহজেই বিনা টিকিটে ট্রেনে উঠতে পারেন।

রেলওয়ে পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চল সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্র জানায়, বিনা টিকিটে ট্রেন চড়ায় একেকটি অভিযানে ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ যাত্রীকে আটক করা হয়। প্রায় ৮০ শতাংশ যাত্রীই উন্মুক্ত স্টেশন দিয়ে অথবা আউটারে নেমে পালিয়ে যান। গত বছর ৫৩টি রেলওয়ে স্টেশন সংস্কারের প্রকল্প নেয় রেল। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় অর্ধেকের বেশি সংস্কার করা হয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিটি স্টেশনের সংস্কার কাজ তদারকি করতে মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে ১০টি কমিটি করা হয়েছে। তবে এসব কমিটির সদস্যরা যথাযথভাবে সংস্কার কাজ তদারকি করতে পারছেন না। তিনি বলেন, বিভিন্ন স্টেশনে নামেমাত্র কাজ হচ্ছে।

আরেক কর্মকর্তা জানান, রেলে উন্নয়নের নামে হরিলুট চলছে। কিন্তু একটি প্রকল্পের সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে দেশের সবকটি স্টেশনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

অভিযোগ করে তিনি বলেন, অধিকাংশ উন্নয়ন কাজে রেলওয়ে অপারেশন ও পরিবহণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করা হয়নি। বিষয়টি রেলওয়ে বিভাগ ও মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

রেলওয়ের বাণিজ্যিক বিভাগ সূত্র জানায়, ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা না থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও ঠিকমতো পরিচালনা করা যায় না। বিনা টিকিটের যাত্রীসহ স্থানীয় লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযানে প্রায়ই সমস্যার সৃষ্টি হয়। প্রায় ১৫ বছর ধরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো যাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হলে বিনা টিকিটে ভ্রমণ রোধ করা সম্ভব হতো। সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা সৃষ্টি হতো। স্টেশনগুলোতে প্রতিনিয়ত চেকিং অথবা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলে দ্বিগুণের বেশি টাকা আয় হতো।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ও গণপরিবহণ বিশেষজ্ঞ ড. এম শামসুল হক জানান, ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চলমান ট্রেনগুলোর সঙ্গে অতিরিক্ত কোচ লাগিয়েও আয় বাড়ানো যেতে পারে। বিনা টিকিটে যাত্রী ভ্রমণ রোধ এবং নির্ধারিত মোট টিকিটের সঙ্গে ২০-২৫ শতাংশ আসনবিহীন টিকিট বিক্রি করা হলে আয় আরও বাড়ত।

কয়েক দিনের মধ্যে স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি শুরু হতে পারে : করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দুই বছর বন্ধ রাখার পর আবার আন্তঃনগর ট্রেনে আসনের অতিরিক্ত ‘স্ট্যান্ডিং টিকিট’ বিক্রির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার রেলভবনে এক বৈঠকে শোভন শ্রেণির টিকিটের বিপরীতে ২০ শতাংশ আসনবিহীন টিকিট বিক্রি নিয়ে আলোচনা হয়।

পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার যুগান্তরকে জানান, এখন স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি বন্ধ থাকায় বিনা টিকিটি যাত্রী বাড়ছে। তাদের কিছুতেই রোধ করা যাচ্ছে না। রোববার অথবা সোমবার স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি শুরু হতে পারে।

দিল্লিতে ভবনে অগ্নিকাণ্ড, এখনও খোঁজ নেই ৩০ জনের

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বাণিজ্যিক ভবনে অগ্ণিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৭ জনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে ৪তলা ভবনটিতে আগুন লাগার সময় প্রায় ২০০ জন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। যার মধ্যে ২৭ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

দিল্লির মুন্ডকা মেট্রো স্টেশনের কাছে ভস্মীভূত ভবনটির এখনও উদ্ধার হচ্ছে দগ্ধ দেহাংশ। এর ফলে মৃতের সংখ্যা ২৭ থেকে আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও ২৫ জন নারী এবং ৫ জন পুরুষ নিখোঁজ বলে উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন।

ভবনটির দুই মালিক বরুণ গয়াল এবং সতীশ গয়াল দিল্লি পুলিশের হাতে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন।

মৃত্যু সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন উদ্ধারকর্মীরা।

ভবনটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না রাখায় এবং বিশাল এ বাণিজ্যিক ভবনটিতে একটি মাত্র সিঁড়ি রাখায় বাণিজ্যিক ভবনটির দুই মালিক হরিশ গোয়েল ও বরুণ গোয়েলকে এ প্রাণহানির জন্য দায়ী করা হয়েছে।

এছাড়া ভবনটি নির্মাণে দমকল বাহিনীর সার্টিফিকেটও নেওয়া হয়নি। শুক্রবার বিকালে ভবনটির দ্বিতীয় তলায় একটি মটিভেশনাল স্পিচের অনুষ্ঠান চলছিল। সেখান থেকেই মূলত আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানায় পুলিশ।

এ সময় দ্রুত গোটা ভবনটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একটি মাত্র সিঁড়ি থাকায় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে অনেকে পড়ে যায়। এ অবস্থায় দগ্ধ হয়ে মারা যান।

দমকল বাহিনীর ২৪টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। শুক্রবার গভীররাত পর্যন্ত উদ্ধার ৫০ জন উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১২ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দিল্লির সঞ্জয় গান্ধী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পোড়া ভবন থেকে শুক্রবার গভীররাত থেকে একে একে বের করে আনা হচ্ছে মৃতদেহ। পোড়ার ক্ষত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অন্তত ৫০ জন।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবার পিছু ২ লাখ ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অবসর নেওয়া প্রসঙ্গে যা বললেন মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘‌আমাকে বিরোধী দলের এক নেতা বলেছেন, আপনি দু’বার প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনীত হয়েছেন, এরপর আর কী চান? আসলে ওই বিরোধী নেতার মনোভাব হল, দু’বার প্রধানমন্ত্রী হলেই সব চাহিদার সমাপ্তি ঘটে যায়। কিন্তু আমি সেই প্রকৃতির মানুষ নই। সমস্ত জনস্বার্থবাহী প্রকল্প যতক্ষণ না ১০০ শতাংশ বাস্তবায়িত হচ্ছে, ততক্ষণ বিশ্রাম নেব না।’‌

শনিবার গুজরাটের ‘উৎকর্ষ সমারোহ’ অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

খবরে বলা হয়, ওই মন্তব্যের পরই তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকতে চান তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, আগামী ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর বয়স হবে ৭৩ বছর। আর দেখা যাচ্ছে, কেন্দ্র–রাজ্য বিভিন্ন সিনিয়র, প্রবীণ বিজেপি নেতাকে প্রত্যক্ষ রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস দেওয়া হয়েছে। কেউ চলে গিয়েছেন বানপ্রস্থে। কেউ রাজ্যপাল হয়েছেন। সেখানে নরেন্দ্র মোদী নিজেই বার্তা দিলেন, ২০২৪ সালে বিজেপি জয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী হবেন তিনিই। অর্থাৎ ২০২৯ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকবেন। তখন তার বয়স হবে ৭৮ বছর! স্বাধীন ভারতে তিনবার টানা প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন একমাত্র জওহরললাল নেহরু।

বজ্রপাত আল্লাহর সতর্কবার্তা

বজ্রপাতের প্রচণ্ড গর্জন এবং আলোর ঝলকানি মহান আল্লাহতায়ালার মহাশক্তির বহিঃপ্রকাশ। বজ্রপাতের গর্জন ও আলোর ঝলকানি মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ সতর্কবাণী।

বজ্রপাত আল্লাহতায়ালা তাঁর প্রিয় বান্দাদের সাবধান করার জন্য বর্ষণ করে থাকেন। তিনি চাইলে এ বজ্রপাতের মাধ্যমে তাঁর অবাধ্য সীমালঙ্ঘনকারী বান্দাদের শাস্তি প্রদান করতে পারেন, যদিও আল্লাহতায়ালা সব সময় তাঁর বান্দার প্রতি শাস্তিদানের মতো কঠোর আচরণ করেন না।

কেননা আল্লাহতায়ালা বান্দার জন্য রাহমান, রাহিম; গাফুর ও গাফ্ফার। মহান আল্লাহতায়ালা বজ্রপাত প্রসঙ্গে কুরআনে ইরশাদ করেন, ‘মেঘের গর্জন তার সপ্রশংস মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং ফেরেশতাগণও তা-ই করে তার ভয়ে। আর তিনি গর্জনকারী বজ্র পাঠান, অতঃপর যাকে ইচ্ছা তা দ্বারা আঘাত করেন এবং তারা আল্লাহ সম্বন্ধে বিতণ্ডা করে, আর তিনি শক্তিতে প্রবল শাস্তিতে কঠোর। (সূরা রা’দ : আয়াত ১৩)।

হাদিসে এসেছে, ‘হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন, আমার বান্দারা যদি আমার বিধান যথাযথ মেনে চলত, তবে আমি তাদের রাতেরবেলায় বৃষ্টি দিতাম আর সকাল বেলায় সূর্য (আলো) দিতাম এবং কখনো তাদের বজ্রপাতের আওয়াজ শুনাতাম না।’ (মুসনাদে আহমদ।)

কুরআনের আলোকে বজ্রপাতের কারণ

বজ্রপাতের নামে নাজিলকৃত সূরার নাম ‘সূরা-রাদ।’ ১৩ নম্বর পারা, ১৩নং সূরা। বজ্রপাতের কারণ হিসাবে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, ‘দেশে জুলুম-অত্যাচার অতিমাত্রায় বেড়ে গেলে বজ্রপাত হয়।’ সূরা নিসা, আয়াত-১৫৩। বজ্রপাত আল্লার গজবের প্রমাণ। সূরা আনকাবুত, আয়াত-৪০।

আল্লার বিধান অমান্য করার কারণেই বজ্রপাত হয়। জুলুম-অত্যাচার ও গুনাহের কাজ যত বাড়বে, বজ্রপাত তত বাড়বে। সূরা যারিয়াত, আয়াত-৪৪। বজ্রপাত আল্লাহ গজবের স্পষ্ট প্রমাণ। সূরা তুর, আয়াত ৪৫। অতএব, বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমরা আল্লাহপাকের নির্দেশ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

বজ্রপাত থেকে বাঁচার দোয়া

বজ্রপাতসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে আত্মরক্ষায় প্রিয়নবি (সা.) তাঁর উম্মতদের বিভিন্ন দোয়া ও তাসবিহ শিখিয়েছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) তার বাবা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন বজ্রের শব্দ শুনতেন তখন বলতেন-‘আল্লাহুমা লা তাকতুলনা বিগজাবিকা ওয়ালা তুহলিকনা বিআজাবিকা ওয়া আফিয়া ক্ববলা জালিকা।’ (তিরমিজি)।

অন্য বর্ণনায় এসেছে-হজরত ইবনে আবি জাকারিয়া (রা.) বলেন, বর্ণিত আছে যে ব্যক্তি বজ্রের আওয়াজ শুনে এ দোয়া পড়বে-‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ সে বজ্রপাতের আঘাতপ্রাপ্ত হবে না।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা)।

অন্য রেওয়ায়েতে এসেছে-হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর (রা.) থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন মেঘের গর্জন শুনতেন তখন কথাবার্তা ছেড়ে দিতেন এবং এ আয়াত পাঠ করতেন-‘সুবহানাল্লাজি ইউসাব্বিহুর রাদু বিহামদিহি ওয়াল মালা-ইকাতু মিন খিফাতিহি’।

অর্থ : আমি সেই সত্তার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, যার পবিত্র ঘোষণা করছে মেঘের গর্জন তাঁর প্রশংসার সঙ্গে। আর ফেরেশতাকুল প্রশংসা করে ভয়ের সঙ্গে। (মুয়াত্তা মালেক, মিশকাত)।

কুরআনের আলো ছড়াক মুমিনের জীবনে

একজন কুরআন গবেষক বড় আফসোস করে বলেছিলেন, পৃথিবীর সব ধর্মীয় গ্রন্থ বিকৃত হয়ে গেছে, একমাত্র কুরআনই অবিকৃত অবস্থায় দুনিয়ার বুকে আলোর মশাল হাতে হেদায়াতের নুর বিলাচ্ছে।

এ বিবেচনায় মুসলমানদের মতো সৌভাগ্যবান জাতি আর একটিও খুঁজে পাওয়া যাবে না। কথা ছিল কুরআনের আলোয় পথ চলে বিশ্বের নেতৃত্ব দেবে মুসলমান। পৃথিবীর নানা জাতি-গোষ্ঠী কুরআনের ছায়ায় স্বস্তির-শান্তির নিশ্বাস ফেলবে।

আফসোস! মুসলমান আজ কুরআন পড়ে না, কুরআন বোঝে না, কুরআন গবেষণা তো সেই কবেই বন্ধ হয়ে গেছে! তাই তো এক কালের বাদশাহ জাতি মুসলমান আজ গোলামির লাঞ্ছনা নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে জীবনযাপন করছে। মূলত জীবন থেকে যখন আল্লাহ হেদায়াতের নুর ছিনিয়ে নেন তখই বান্দার জীবনে লাঞ্ছনা-গঞ্জনার অন্ধকার নেমে আসে। সে অন্ধকার এতই কালো যে-আলো নিভে গেছে সেটিও বান্দা বুঝতে পারে না!

সূরা বাকারায় আল্লাহ বলেন-‘মাছালুহুম কামাছা লিল্লাজিসতাওকাদা নারা, ফালাম্মা আদাআত মা হাউলাহু জাহাবাল্লাহু বিনুরিহিম ওয়াতারাকাহুম ফি জুলুমাতিল্লা ইউবসিরুন।

অর্থ : ওদের উপমা হচ্ছে এমন ব্যক্তির, যে আগুন জ্বালাল। আগুনে চারপাশ আলোকিত হওয়ার পরই আল্লাহ সে আলো সরিয়ে নিলেন। সঙ্গে সঙ্গে ওরা ঘোর অন্ধকারে ডুবে গেল। অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখার থাকল না।’ (সূরা বাকারাহ, আয়াত ১৭।)

কুরআনহারা বান্দার জীবনে কীভাবে দুর্দিন নামে সে চিত্র একটি উদাহরণের মাধ্যমে এঁকেছেন আল্লাহতায়ালা। আয়াতে ‘ওদের উপমা’ বলতে কুরআনহারাদের কথা বলা হয়েছে। প্রিয় পাঠক! চোখ বন্ধ করে কল্পনা করুন আজ থেকে চৌদ্দশ বছর আগের মরু আরবের গভীর রাতের দৃশ্য।

চাঁদহীন আকাশ। একটি তারকাও দেখা যাচ্ছে না। এমন ঘুটঘুটে অন্ধকারে একদল মানুষ ভয়ে তটস্থ। যে কোনো মুহূর্তেই শত্রু আক্রমণ করতে পারে কাফেলা। কানে আসছে হিংস্র জন্তু-জানোয়ারের গর্জন। এমন ভয়ংকর অন্ধকারে এক ব্যক্তি আগুন জ্বালাল। চারপাশ আলোয় ভরে উঠল। সবাই খুশি।

যে যার মতো রাতের কাজে মন দিল। কেউ রান্না করছে। কেউ গোছগাছ করছে। হিসাব মিলাচ্ছে কেউ। কেউ বা আবার আড্ডা জমিয়েছে। হঠাৎ দপ করে আগুন নিভে গেল। যে যেখানে যে অবস্থায় আছে সে অবস্থায়ই ঘোর অন্ধকারে ডুবে গেল। অন্ধকার ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছে না। মুখে না বললেও সবাই বুঝতে পারছে ক্ষণিকের আলোটুকু তাদের প্রতি ছিল উপহাসের। কাজ শেষ হলো না, আলোও আসছে না-এক সীমাহীন যন্ত্রণায় তারা হাবুডুবু খাচ্ছে।

মোটা দাগে এ হলো আয়াতে বলা উপমার সারকথা। আসলে অন্ধকারে ডুবে থাকা ওই কাফেলা হলো তারা যারা আল্লাহর আয়াত তথা কুরআন বিশ্বাস করেনি, জীবনে বাস্তবায়নও করেনি। শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য আল্লাহ দিয়েছেন কুরআন, কিন্তু তারা কুরআন বাদ দিয়ে নিজেরাই জীবনের নিরাপত্তা ও শান্তির ভার গ্রহণ করেছে। এক ব্যক্তি আগুন জ্বালিয়েছে, আর তারা ওই আলোর প্রতি হুমড়ি খেয়ে পড়ল। কপাল যখন পোড়ে এভাবেই পোড়ে। ওদের জানাছিল না, আগুন যেই জ্বালাক না কেন, আগুনের মূল নিয়ন্ত্রণ আল্লাহর হাতে। আল্লাহ আলো নিয়ে গেলেন।

কুরআনের উপমা সৌন্দর্যটি উপভোগ করার মতো। তারা জ্বালিয়েছে ‘আগুন’, আল্লাহ নিয়ে গেলেন ‘আলো’। আরবি ‘নার’ অর্থ আগুন আর ‘নুর’ অর্থ আলো। গবেষকরা বলেন, নার তথা আগুনের ভেতর দুটি জিনিস থাকে-‘ইশরাক’ ও ‘ইহরাক’। ইশরাক মানে হলো নরম বা হালকা আলো। আর ইহরাক মানে হলো তাপ। অর্থাৎ আল্লাহতায়ালা তাদের আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে দিলেন না, বরং আগুনের আলো নিয়ে গিয়ে তাপ রেখে দিলেন। এমনিতেই মরুভূমি, তার ওপর যদি থাকে আগুনের তাপ তা হলে কী সীমাহীন দুর্ভোগ তা চোখ বন্ধ করেই অনুভব করা যায়।

আরবি ভাষায় আলো বোঝানোর জন্য আরেকটি শব্দ আছে ‘দুউন’। গবেষকরা প্রশ্ন করেছেন, আয়াতে দুউন ব্যবহার না করে নুর ব্যবহার করা হলো কেন। আগেই বলেছি, আয়াতে নুর বলতে ইশরাক তথা মৃদু আলো বোঝানো হয়েছে। সূর্যের প্রথম আলো কোমল থাকে তাই আরবি ভাষায় সূর্য উঠার পরের অল্প কিছুক্ষণকে ইশরাক বলে। সূর্যের নরম আলোয় যে সালাত পড়তে হয় শরিয়তে তার নাম সালাতুল ইশরাক। নরম আলো শেষে আসে উজ্জ্বল বা প্রখর আলো। উজ্জ্বল আলোকে বলা হয় দুউন। সালাতুল ইশরাকের ওয়াক্ত শেষ হলেই শুরু হয় সালাতুদ দোহার ওয়াক্ত।

আয়াতে আল্লাহতায়ালা যদি বলতেন ‘জাহাবাল্লাহু বিদুইহিম’ অর্থাৎ আল্লাহ তাদের উজ্জ্বল আলো নিয়ে গেছেন, তাহলে বোঝা যেত-এখনো ক্ষীণ বা কোমল আলোটুকু রয়ে গেছে। কিন্তু আল্লাহতায়ালার উদ্দেশ্য হলো, যারা কুরআনের নুর বাদ দিয়ে নিজের মনগড়ায় আলোয় পথ চলতে চায়, তাদের জন্য আগুনের উত্তাপ ও যন্ত্রণা ছাড়া আলোর ছিটেফোঁটাও অবশিষ্ট থাকবে না। ফলে নুর শব্দটিই এখানে যথার্থ দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছে।

ভাবনার বিষয়, একদল মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য আগুন জ্বালিয়ে পেল তাপ ও যন্ত্রণা, অন্যদিকে সাইয়েদেনা ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসের বিনিময়ে আগুনের ভেতর পেলেন ফুলের বাগান। এ দুটি ঘটনা পৃথিবাসীর সামনে একটি সহজ সত্য তুলে ধরে। দুনিয়ার মানুষ সুখ, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য উপকরণের ওপর নির্ভরশীল হয়, কিন্তু প্রকৃত সুখ শান্তি আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে।

আমরা মনে করি, অর্থ-বিত্ত-প্রাচুর্য সুখ-শান্তির চাবিচকাঠি। ভালো বেতন-ভালো চাকরি, দামি গাড়ি এসব থাকা সত্ত্বেও বান্দার জীবনে সুখ নামক পাখিটি অধরা থেকে যেতে পারে যদি তার ভেতর আল্লাহর নুর তথা আল্লাহ, আল্লাহর রাসূলের প্রেম না থাকে। আবার দিন আনে দিন খায় এমন গুরুত্বহীন মানুষটিও চরম সুখে চোখ বুজলেই ঘুমের দেশে হারিয়ে যেতে পারে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা না থাকা এ দিনমজুর আমাদের চোখে বোকা হলেও খোদায়ি আলোয় পথ চলে ঠিকই সে আখেরাতের সম্বল গুছিয়ে নিচ্ছে।

তাই তো ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, কুরআনের আলোহীন মানুষগুলোর দুনিয়া হয়তো কিছু সময়ের জন্য আলোকিত মনে হয়, মানুষের কাছে তারা মর্যাদা পায়, বাহ্যিক নিরাপত্তাও ভাগ্যে জোটে, কিন্তু মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তাদের কবর অন্ধকারে পূর্ণ হয়ে যায়।

সে অন্ধকার হলো কুফরের অন্ধকার, নিফাকের অন্ধকার, বদ আমলের অন্ধকার, অন্যের হক মেরে খাওয়ার অন্ধকার। এ জন্যই আল্লাহতায়ালা নুর বা আলোর ক্ষেত্রে একবচন ব্যবহার করলেও অন্ধকারের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন জুলুমাত বা বহুবচন। অর্থাৎ বান্দা যখন এক আল্লাহর এক আলো বাদ দিয়ে দেয়, তখন সে হাজার অন্ধকারে হন্যে হয়ে ঘুরতে থাকে। আল্লাহতায়ালা আমাদের বোঝার তাওফিক দিন। আমিন।

লেখক : শিক্ষার্থী, ডিপ্লোমা ইন অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Email : noorahmadbangladesh@gmail.com

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল পরিদর্শনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি। স্থানীয় সময় বুধবার (১১ মে) কনস্যুলেট জেনারেল পরিদর্শনকালে কনসাল জেনারেল ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামসহ কনস্যুলেটের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাকে স্বাগত জানান।

কনস্যুলেটের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের সৃষ্টিতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ ভূমিকা ও অবদানের কথা তুলে ধরেন। স্বাধীন বাংলাদেশের সাথে বিশ্বের অন্যান্য দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে বঙ্গবন্ধুর প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার কথা ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতির অদম্য অগ্রযাত্রার কথা উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী সবাইকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার আহবান জানান। যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে বাংলাদেশ সম্পর্কে সঠিক ও স্বচ্ছ ধারণা প্রদানে অত্র অফিসের চলমান প্রচেষ্টা প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেন এবং ভবিষ্যতে এ দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিকশিত করতে এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পরামর্শ প্রদান করেন।

কনসাল জেনারেল ড. ইসলাম মন্ত্রীকে কনস্যুলেটের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেন। পরে মন্ত্রী কনস্যুলেটের বিভিন্ন ধরনের কনস্যুলার সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং কনস্যুলেটে আগত সেবাপ্রার্থীদের সাথে মত বিনিময় করেন। এ সময় মন্ত্রী কনস্যুলেটের সার্বিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধারা অব্যাহত রাখার জন্য কনস্যুলেটে কর্মরত সবাইকে আহবান জনান। কনসাল জেনারেল ড. ইসলাম কনস্যুলেট সফরের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।