শুক্রবার ,১২ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 318

মেগা প্রকল্পের নামে দেশে হরিরলুট চলছে: বরকতউল্লা

দেশে বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের নামে এক টাকার খরচে শত টাকা দেখিয়ে রাষ্ট্রের ঋণের টাকা হরিলুট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা।

শনিবার বিকালে ফেনী শহরের ইসলামপুর রোডে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব আলাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন- বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক জালাল আহম্মদ মজুমদার ও হারুনুর রশিদ।

এ ছাড়া সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির যুগ্মআহ্বায়ক এমএ খালেক, এয়াকুব নবী, আলাউদ্দিন, আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, সদর উপজেলার আহ্বায়ক ফজলুর রহমান, সদস্যসচিব আমান উদ্দিন, পৌর আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন, সদস্যসচিব মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা প্রমুখ।

বরকতউল্লা বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতে উন্নয়ন প্রকল্পে ৩০ কোটি টাকা খরচ করা হলে বাংলাদেশে খরচ করা হয় ১৪০ কোটি টাকা। দেশের টাকা পাচার করে কানাডায় বেগমপাড়া গড়ে তোলা হচ্ছে। দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে বিদেশে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, আগামী দিনে শেখ হাসিনার অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না। সবাইকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের কোনো বিকল্প নেই। দেশ থেকে নির্বাচনী ব্যবস্থা উঠেই গেছে। এক দলের পক্ষে সেটি পূর্ণগঠন করা সম্ভব নয়।

বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, তারা শহরের ট্রাংক রোডে ফেনী প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাদের সেখানে সমাবেশ করতে দেয়নি।

এর আগেও বিভিন্ন সময় বিএনপিকে সমাবেশ বা মিছিল করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তারা এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানান।

দোকানিকে না, গুদামে মিলল ১৭শ লিটার সয়াবিন তেল

ভোলার বোরহানউদ্দিনে দীর্ঘদিন ধরে দোকানিদের সয়াবিন তেল নাই বললেও ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে গুদামে মিলল ১৭০০ লিটার সয়াবিন তেল।

শনিবার রাত ৯টার দিকে বোরহান‌দদ্দিন ইউএনও মো. সাইফুর রহমান ভোজ্য তেলের পরিবেশক মেসার্স মাকসুদুর রহমান এন্টারপ্রাইজের গুদামে অভিযান পরিচালনা করেন। ওই সময় তিনি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে গুদাম থেকে ১৭০০ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেন।

ইউএনও মো. সাইফুর রহমান জানান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ১৭০০ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। জব্দকৃত তেল শনিবার রাতে পৌর শহরে লিটার প্রতি ১৬০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়।

এদিকে পৌর শহরের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, তারা খুচরা বিক্রির জন্য পাইকারি দামে তেল কিনতে গেলে সরবরাহ নেই বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

রুশ সেনাদের লাশ সংগ্রহ করছে ইউক্রেন

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ গড়িয়েছে তৃতীয় মাসে। এখন অনেক জায়গায় চলছে রুশ ও ইউক্রেন সেনাদের লড়াই। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বেসামরিক লোক হতাহতের পাশাপাশি অনেক ইউক্রেন ও রাশিয়ার সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এবার যুদ্ধে নিহত রুশ সেনাদের মরদেহ সংগ্রহ করা শুরু করেছে ইউক্রেন। খবর রয়টার্সের।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে নিহত রাশিয়ান সেনাদের লাশ কিয়েভের বাইরে একটি রেল ইয়ার্ডে আনা হচ্ছে এবং একটি রেফ্রিজারেটেড ট্রেনে রাখা হচ্ছে। রুশ সেনাদের লাশ নিজ দেশে তাদের স্বজনদের কাছে ফেরত পাঠাবে ইউক্রেন সরকার।

ইউক্রেনের প্রধান বেসামরিক ও সামরিক যোগাযোগবিষয়ক কর্মকর্তা ভলোদিমির লিয়ামজিন বলেন, রুশ সেনাদের বেশিরভাগ লাশ পাওয়া গেছে কিয়েভ অঞ্চলে। এ ছাড়া চেরনিহিভসহ আরও কয়েকটি অঞ্চলেও পাওয়া গেছে তাদের লাশ।

তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনজুড়ে অন্যান্য অঞ্চলে অবস্থান করা রেফ্রিজারেটেড ট্রেনগুলো একই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

যদিও ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ক্ষতির পরিমাণ সঠিকভাবে জানা যায়নি, তবে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি হামলা চালানোর পর থেকে অধিক সংখ্যক রুশ সেনার মৃত্যু প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে একটি অস্বস্তিকর ব্যাপার হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানা এক মাস ধরে উত্তেজনা চলার পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আগ্রাসন চালায় রাশিয়া। বহু মানুষ হতাহতের খবর পাওয়া গেছে দেশটিতে। এর মাঝে কয়েকটি অঞ্চলে গণকবরের সন্ধান পাওয়ার দাবিও করেছে ইউক্রেন। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে প্রায় ৬০ লাখ ইউক্রেনীয়। যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিলেও যুদ্ধ থামায়নি পুতিন সরকার।

অন্যদিকে হার মানতে রাজি নন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও।

যুক্তরাষ্ট্রে সুপারমার্কেটে বন্দুক হামলায় নিহত ১০

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি সুপারমার্কেটে বন্দুক হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

স্থানীয় সময় শনিবার বিকালে নিউইয়র্কের বাফেলো এলাকায় এ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। খবর এপি ও আরব নিউজের।

পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় তারা ১৮ বছর বয়সি শ্বেতাঙ্গ হামলাকারীকে আটক করেছে। ঘটনাটিকে তদন্ত করা হচ্ছে।

বাফেলোর পুলিশ কমিশনার জোসেফ গ্রামাগলিয়া বলেন, গুলিবিদ্ধ ১৩ জনের মধ্যে ১১ জনই কৃষ্ণাঙ্গ।

ঘটনাটিকে জঘন্যতম বলে আখ্যায়িত করেছেন এরি কাউন্টি শেরিফ জন গার্সিয়া। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্প্রদায়ের বাইরের কারও কাছ থেকে জাতিগতভাবে ঘৃণা বিদ্বেষে উদ্বুদ্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’

পুলিশ জানায়, সন্দেহভাজন ওই যুবক শনিবার বিকালে ব্যস্ত সুপারমার্কেটে রাইফেল হাতে প্রবেশ করে গুলি চালানোর আগে হামলা সরাসরি প্রচার করার জন্য একটি ক্যামেরা ব্যবহার করে।

অনলাইনে হামলার বিষয়ে কোনো বার্তা প্রচার করেছে কিনা তাও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। হামলার সময় ওই যুবক কালো হেলমেট পরিহিত ছিলেন। তিনি উচ্চ ক্ষমতার একটি রাইফেল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করতে থাকেন।

শহরটির মেয়র বাইরন ব্রাউন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতি গভীর শোক এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন তিনি।

দ্বিতীয় মেয়াদের ১০ মাসে প্রণোদনা ঋণে ধীরগতি

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত বড় শিল্প ও সেবা খাতে প্রথম মেয়াদে প্রণোদনা ঋণ ৮১.৭৬ শতাংশ বিতরণ করা হলেও দ্বিতীয় মেয়াদের ১০ মাসে এই ঋণ বিতরণ হয়েছে মাত্র ৩৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। একইভাবে প্রথম মেয়াদে ছোট শিল্পে ঋণ বিতরণের হার ছিল ৭৬.৯৩ শতাংশ। দ্বিতীয় মেয়াদের ১০ মাসে তা হয়েছে মাত্র ৪৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। জুলাই থেকে শুরু হওয়া এ ঋণ বিতরণ কার্যক্রমে ধীরগতিতে হতাশ ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। চলতি বাজেটে এটি শতভাগ বাস্তবায়নের কথা থাকলেও বছর শেষে হিসাব-নিকাশে ধীরগতির তথ্য পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত বড় শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসাবে প্রথম মেয়াদে ৪০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছিল, যার বাস্তবায়নের হার ছিল ৮১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে দ্বিতীয় মেয়াদের ৩৩ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ বাস্তবায়ন শুরুর পর ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত এ খাতে বিতরণ হয়েছে মাত্র ১১ হাজার ৩২২ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যা মোট প্যাকেজের ৩৪ দশমিক ৩০ শতাংশ।

অপরদিকে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পে (সিএমএসএমই) ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসাবে প্রথম মেয়াদে ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়। সে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৭৬.৯৩ শতাংশ। একই খাতে দ্বিতীয় মেয়াদে আরও ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দ্বিতীয় পর্যায়ে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে ৯ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ৪৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ দ্বিতীয় ধাপের প্যাকেজ বাস্তবায়নে বৃহৎ ও ক্ষুদ্র শিল্পে ঋণ বিতরণের হার খুবই কম।

ঋণ বিতরণের দিক থেকে নাজুক অবস্থায় আছে বেশ কয়েকটি ব্যাংক। এরমধ্যে ১৯টি ব্যাংক এক টাকাও বিতরণ করেনি। অপরদিকে ৪টি ব্যাংকের ঋণ বিতরণের হার ১ শতাংশেরও কম। ২টি ব্যাংক ঋণ বিতরণ করেছে ২ শতাংশেরও কম।

১৪টি ব্যাংক ৫০ শতাংশের বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। সবচেয়ে এগিয়ে আছে চতুর্থ প্রজন্মের বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক। ব্যাংকটির লক্ষ্য ছিল মাত্র ৫০ কোটি টাকা। তাদের লক্ষ্যের শতভাগ ঋণ বিতরণ করেছে। এরপরের অবস্থানে আছে বিদেশি হাবিব ব্যাংক। এ ব্যাংকটি বিতরণ করেছে ৯৫ শতাংশ। যদিও ব্যাংকটির লক্ষ্য ছিল মাত্র ১০ কোটি টাকা।

এরপর বেশি ঋণ বিতরণ করেছে বেসরকারি খাতের দ্য সিটি ব্যাংক। ব্যাংকটি টার্গেটের ৮৮ শতাংশ প্রণোদনা ঋণ বিতরণ করেছে। সিটি ব্যাংকের লক্ষ্য ছিল ৯৫৭ কোটি টাকা। ব্যাংকটি বিতরণ করেছে ৮৪১ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

বেশিরভাগ ব্যাংক যেখানে ঋণ বিতরণে পিছিয়ে সেখানে সিটি ব্যাংক এত ঋণ বিতরণ করল কিভাবে জানতে চাইলে ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘গ্রাহককে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছি। গ্রাহকদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো। যে গ্রাহক কখনো খেলাপি হননি, সে যখন কোভিডের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাকে সাহায্য করেছি এবং গ্রাহক প্রণোদনার ঋণ নিয়ে সময়মতো ফেরত দিয়েছেন।’

প্রথম ধাপের ঋণের অর্থ কতটা ফেরত আসছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সব গ্রাহকই টাকা ফেরত দিচ্ছেন। কেউ খেলাপি হননি। তাই দ্বিতীয় ধাপেও গ্রাহক ও ব্যাংকের সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণ বিতরণ করেছি। আমরা কোনো খারাপ গ্রাহককে ঋণ বিতরণ করিনি।’

সামগ্রিকভাবে দ্বিতীয় ধাপের ঋণ বিতরণের হার হতাশার বলে মন্তব্য করেছেন একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বলেন, ‘প্রথম ধাপের ঋণ বিতরণের টাকা সময়মতো ফেরত আসেনি। তখন এক টাকা ফেরত না দিলেও খেলাপি করা যায়নি। এরপর কিস্তির ২৫ শতাংশ ফেরত দিলেই খেলাপি না করতে বলা হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে। এসব কারণে দ্বিতীয় ধাপে ঋণ বিতরণ করতে পারিনি। প্রথম ধাপের ঋণ বিতরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক যে টাকা দিয়েছিল তা আবার ফেরত নিয়েছে এক বছর পরেই। কিন্তু গ্রাহকের কাছ থেকে সে টাকা ফেরত পাইনি।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, প্রথম পর্যায়ে শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ঘোষিত ৪০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে ৩২ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়। এ ঋণ পেয়েছে ৩ হাজার ৩০৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। দ্বিতীয় মেয়াদে এ তহবিল থেকে বিতরণ করা হয়েছে ১১ হাজার ৩২২ কোটি টাকা। ঋণ পেয়েছে ১ হাজার ১৬২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এই তহবিলের ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ হলেও গ্রাহকদের দিতে হচ্ছে সাড়ে ৪ শতাংশ। বাকি সাড়ে ৪ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার।

বৃহৎ শিল্প ছাড়া কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় দ্বিতীয় মেয়াদে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৯ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা। ২০ হাজার কোটি টাকার এই তহবিল থেকে ঋণ পেয়েছে ৫৬ হাজার ৪৭টি প্রতিষ্ঠান। প্রথম দফায় এ তহবিল থেকে ১৫ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়, ঋণ পেয়েছিলেন ৯৭ হাজার ৮১৪ জন গ্রাহক। এ ঋণের সুদ ৯ শতাংশ, তবে এর মধ্যে সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে ৫ শতাংশ। গ্রাহকের দিতে হচ্ছে ৪ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে প্রথম দফায় ঋণ নিতে যত আগ্রহ ছিল, দ্বিতীয় দফায় তত আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। কারণ, যারা ঋণ নিয়েছেন, তাদের ঋণ পরিশোধের সময় এসেছে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত ১০টি প্রণোদনা তহবিল থেকে দুদফায় সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ২১৮ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে শিল্প ও সেবা খাতের ৪৪ হাজার ২৬ কোটি টাকা, কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ২৫ হাজার ২১৫ কোটি টাকা, প্রি-শিপমেন্ট খাতে পুনঃঅর্থায়নে ঋণ গেছে ৬৫২ কোটি টাকা, নিম্ন আয়ের পেশাজীবী কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে ২ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ হয়েছে।

এ ছাড়া রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল থেকে ২৭ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা, এসএমই খাতের ঋণ নিশ্চয়তা স্কিম থেকে ৮৯ কোটি টাকা, রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা, গ্রাহকের সুদ ভর্তুকি বাবদ ১ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা ও কৃষি খাতের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ৫ হাজার ৯০২ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। তবে পর্যটন খাতের হোটেল, মোটেল ও থিম পার্কের কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ১ হাজার কোটি টাকা তহবিল গঠন হলেও কোনো ঋণ বিতরণ হয়নি।

মহামারি কোভিড ১৯-এর কারণে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য সরকারের নির্দেশনায় মোট ২৮টি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। এসব প্যাকেজে অর্থের অঙ্ক দাঁড়ায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা। পরে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) মাধ্যমে প্যাকেজটিতে যুক্ত হয় আরও ১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রণোদনা প্যাকেজের অঙ্ক ২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার ১০টি প্যাকেজ বাস্তবায়ন হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে।

গম রপ্তানি বন্ধ করল ভারত, বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার আশঙ্কা

তীব্র দাবদাহের কারণে ভারতে এবার গমের উৎপাদন কম হয়েছে। যে কারণে স্থানীয় বাজারেও গমের দাম রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এমন পরিস্থিতিতে গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারত। আজ শনিবার থেকে তাৎক্ষণিক এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

শুক্রবার রাতে ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) এক বিবৃতিতে বলেছে, গমের রপ্তানি অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে বিজ্ঞপ্তির তারিখে বা তার আগে একটি অপরিবর্তনীয় ক্রেডিট চিঠি জারি করা হয়ে থাকলে তাদের রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, পেঁয়াজ বীজের রপ্তানির বিষয়টিও সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।

ভারতের এই সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্ববাজারে গমের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম কমানোর লক্ষ্যে শনিবার থেকেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে ভারতের সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

তবে এ ক্ষেত্রে কিছু নমনীয়তা দেখানো হবে। ভারতীয় সরকার জানিয়েছে, ইতিমধ্যে রপ্তানির জন্য ইস্যু হওয়া লেটার অব ক্রেডিটের (এলসি) বিপরীতে রপ্তানির সুযোগ থাকছে। এ ছাড়া ‘নিজেদের খাদ্য নিরাপত্তার চাহিদা পূরণের’ চেষ্টা করছে, এমন প্রতিবেশী দেশগুলোর অনুরোধ বিবেচনায় থাকবে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর কৃষ্ণসাগর অঞ্চল থেকে গম রপ্তানিতে ধস নামে। ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গম উৎপাদনকারী ভারতের ওপর রপ্তানি চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে থাকে।

চলতি বছর এক কোটি মেট্রিক টন গম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল দেশটি। কিন্তু নতুন এই নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তে সে লক্ষ্যমাত্রায় আর পৌঁছানো যাচ্ছে না।

ভারত গত এপ্রিলে রেকর্ড ১৪ লাখ টন গম রপ্তানি করেছে এবং মে মাসে আরও ১৫ কোটি টন রপ্তানির জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে।

দেশটির নতুন সিদ্ধান্তে হতাশ গম রপ্তানিতে জড়িত মুম্বাইয়ের একজন ডিলার। তিনি বলেন, ‘রপ্তানি–নিষেধাজ্ঞা খুবই হতাশার। আমরা আশা করছিলাম, দুই থেকে তিন মাস পর রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আসবে। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির অঙ্ক বেড়ে যাওয়ার কারণে সরকারের মনোভাবে পরিবর্তন আসে।’

আরেক ডিলার বলেন, ভারতের গম রপ্তানির এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়বে। কারণ এই মুহূর্তে বাজারে আর বড় সরবরাহকারী নেই।

উল্লেখ্য, ভারতে এ মুহূর্তে গমের দাম রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। দেশটিতে এখন প্রতি টন গমের দাম ২৫ হাজার রুপি (প্রায় ৩২২ ডলার)। বিপরীতে সরকার ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ২০ হাজার ১৫০ রুপি ঠিক করে দিয়েছিল।

প্রসঙ্গত, বিশ্বে গম রপ্তানিতে ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়। শীর্ষ দেশগুলোর দুটি ইউক্রেন ও রাশিয়া। তারা এখন যুদ্ধে লিপ্ত। বিশ্ববাজারে এক-তৃতীয়াংশ গমের জোগান দেয় ইউক্রেন ও রাশিয়া। তাই এ মুহূর্তে গমের জোগান ভারত থেকেই বেশি আসার কথা ছিল।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, রয়টার্স

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নানা অভিযোগ

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, তিন উপজেলা, ছয় পৌরসভা এবং অষ্টম ধাপে ১৪০ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। শুক্রবার বিকালে দলের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এ প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। কয়েকটি স্থানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। কেউ গেল নির্বচানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ-বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে এসেছেন। এছাড়া একজনের বিরুদ্ধে অর্থ অত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

নাজিরপুর (পিরোজপুর) : উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে গত ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি মো. কবির হোসেন বাহাদুরকে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা যুবলীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও নৌকার মনোনয়নপ্রত্যাশী মো. নাজমুল হুদা স্বপনসহ একাধিক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) : উপজেলার ৩নং ফতেপুর ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ। বিরোধীরা বলছেন, তিনি বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে এসেছেন। আব্দুর রউফ ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন এবং তিনি বিএনপির আন্দোলনে জ্বালাও-পোড়াও মামলার আসামি। এ ব্যাপারে ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা।

ঝিনাইদহ : জালিয়াতির মাধ্যমে ৯ লাখ টাকার বিপরীতে ৮৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান চাঁনের বিরুদ্ধে। গত বছরের জুনে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিলেন তৎকালীন মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু। স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্তে চাঁনের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতাও মিলেছে। কিন্তু সেই আসাদুজ্জামান চাঁনকেই ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাগলাকানাই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে আসাদুজ্জামান চাঁন বলেন, পৌরসভার যে কোনো চেকে সই করেন মেয়র ও সচিব। আমি তো চেক ডিল করি না। আমার কাছে চেক এলে সই থাকবে চেকের পেছনে। কে কত টাকা, কোথা থেকে কবে তুলল, সে বিষয়ে তো আমি কিছু বলতে পারব না।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের নামের তালিকা নিচে দেওয়া হলো : কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে আরফানুল হক রিফাত। দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় সফিউল আযম চৌধুরী, সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় মঞ্জুর কাদির শাফি, খাগড়াছড়ির গুঁইমারা উপজেলা মেমং মারমা। ছয় পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা হলেন-মেহেরপুর সদর মাহফুজুর রহমান (রিটন), ঝিনাইদহ সদরে, আব্দুল খালেক, গোপালগঞ্জ সদর (উন্মুক্ত), গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর আতিকুর রহমান মিয়া, সিলেটের বিয়ানীবাজারে আব্দুস শুকুর, রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে জমির হোসেন।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন-২০২২ : দিনাজপুরের বিরল উপজেলার বিজোড়ায় আমজাদ হোসেন, পলাশবাড়ীতে খায়রুল ইসলাম, নীলফামারীর নীলফামারী সদর উপজেলার খোকশাবাড়ীতে প্রশান্ত রায়, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউরায় রাবিউল হক, কুড়িগ্রামের চিলমারীর নয়ারহাটে আসাদুজ্জামান, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুরে নুরুজ্জামান মন্ডল, বনগ্রাম মোখলেছুর রহমান, কামারপাড়ায় সুবল চন্দ্র সরকার, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুরে মঞ্জুরুল হক। বগুড়ার কাহালু উপজেলার দুর্গাপুরে বদরুজ্জামান খান, নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইলে মোফাজ্জল হোসেন মন্ডল, সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ীতে তাজুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটে বেনাউল ইসলাম, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হরে জহুরুল হাসান, শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনীতে লুৎফর রহমান, রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার চারঘাট ইউপিতে মতিউর রহমান।

মেহেরপুরের মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপিতে বোরহান উদ্দীন আহাম্মেদ, পিরোজপুরে আব্দুস সামাদ বাবলু বিশ্বাস, শ্যামপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা রব বিশ্বাস, বারাদিতে মোমিনুল ইসলাম। ঝিনাইদহের ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সুরাটে কবির হোসেন জোয়ার্দ্দার, পাগলাকানাইয়ে আসাদুজ্জামান। বরগুনার তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়ায় আ. রাজ্জাক, ছোটবগীতে মো. তৌফিক উজ্জামান, কড়ইবাড়িয়ায় মো. ইব্রাহীম, বড়বগীতে আলমগীর মিঞা, নিশানবাড়িয়ায় বাচ্চু মিয়া, সোনাকাটায় সুলতান ফরাজী। বেতাগী উপজেলার কাজিরাবাদে সালাউদ্দিন মাহমুদ।

পটুয়াখালীর পটুয়াখালী সদর উপজেলার জৈনকাঠিতে সৈয়দ মোহাম্মদ মোহসিন, কালিকাপুরে সালমা জাহান, ইটবাড়িয়ায় মোজাম্মেল হক, মৌকরণে বশির আহম্মেদ, লাউকাঠিতে আশিষ কুমার চক্রবর্ত্তী। কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলীতে আনছার উদ্দিন মোল্লা, ধুলাসারে মোদাচ্ছের হাওলাদার। দশমিনা উপজেলার চরবোরহানে নাজির সরদার। ভোলার দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুরে সহি ছরওয়ার (ভুট্টু তালুকদার), হাজিপুরে হামিদুর রহমান, মনপুরা উপজেলার মনপুরায় আজমত উল্যা, লালমোহন উপজেলার কালমায় আকতার হোসেন, রমাগঞ্জে গোলাম মোস্তফা।

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শিকারপুরে নজরুল ইসলাম, হিজলা উপজেলার হিজলা-গৌরব্দীতে নজরুল ইসলাম মিলন, ধুলখোলায় একেএম জসীম উদ্দিন, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বিদ্যানন্দপুরে জব্বার খান, চরএক্করিয়ায় আবুদুল মকিম তালুকদার, গোবিন্দপুরে আমিরুল ইসলাম বেলাল, আন্দারমানিকে আলাউদ্দিন কবিরাজ, জয়নগরে সেকান্দার আলী জাফর, লতায় মিজানুর রহমান। পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার দেউলাবাড়িতে দোবড়া ওয়ালী উল্লাহ, কলারদোয়ানিয়া কবির হোসেন। ঝালকাঠির ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা শেখ সাবের আহম্মেদ টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার গজারিয়ায় আনোয়ার হোসেন, দাড়িয়াপুর মুহাম্মদ আনছার আলী। মধুপুর উপজেলার কুড়ালিয়া আ. মান্নান, মহিষমারা কাজী আবদুল মোতালেব, বেরীবাইদ জুলহাস উদ্দিন, কুড়াগাছা ফজলুল হক সরকার, আউশনারা গোলাম মোস্তফা, অরনখোলা আ. রহিম, ফুলবাগচালা রেজাউল করিম, শোলকুড়ী ইয়াকুব আলী। মির্জাপুর উপজেলার ভাওড়ায় আমজাদ হোসেন, বহুরিয়ায় আবু সাইদ মিয়া, লতিফপুরে জাকির হোসেন, ফতেপুরে আ. রউফ মিয়া, আজগানে আব্দুল কাদের, তরফপুরে নাজিম মোল্লা। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ছিলিমপুরে মোহাম্মদ হানিফ মিঞা, নাগরপুর উপজেলার ভারড়ায় রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার, বাসাইল উপজেলার কাশিলে মির্জা রাজিক, বাসাইল সদরে সোহেল মিয়া, গোপালপুর উপজেলার হেমনগরে আনিছুর রহমান তালুকদার, ঝাওয়াইলে আয়শা আকতার, দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়ায় কৃষ্ণ কান্ত দে সরকার।

মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার তেউটিয়ায় রফিকুল ইসলাম। ঢাকার ধামরাই উপজেলার সুতিপাড়ায় রেজাউল করিম। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাকে লোকমান হোসেন। নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুরে রমিজ উদ্দিন, চরমান্দালিয়ায় আবদুল কাদির, কৃষ্ণপুরে এমদাদুল হক আকন্দ। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়ায় সোহাগ রনি। ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামালদিয়ায় হাবিবুল বাশার। মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার এনায়েতনগরে মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, পূর্ব এনায়েতনগরে মাহাবুব আলম। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিকাজানীতে আশরাফুল ইসলাম। ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দিতে সেলিনা আলম, বেলগাছায় আ. মালেক, সাপধরীতে শাহ আলম মন্ডল, নোয়ারপাড়ায় রোমান হাসান, পাথর্শীতে ইফতেখার আলম, চিনাডুলীতে আব্দুস ছালাম। জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুরে খন্দকার মোহাম্মদ ফজলুল হক। হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বানিয়াচং দক্ষিণ পশ্চিমে রেখাছ মিয়া। সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার জামালগঞ্জ সদরে জামিল আহমেদ জুয়েল, জামালগঞ্জ উত্তরে এম নবী হোসেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ুবপুরে নজরুল ইসলাম, দড়িয়াদৌলতে মাহবুবুর রহমান, নাটাইয়ে (দক্ষিণ) মো. নাজমুল হক। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরায় গোলাম ফারুক, মুরাদনগর উপজেলার মুরাদনগরে কাজী মো. তুফরীজ, দেবিদ্বার উপজেলার ভানীতে তাহমিনা আক্তার। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার হরনীতে আখতার হোসেন, চানন্দীতে আজহার উদ্দিন। বেগমগঞ্জ উপজেলার মীর ওয়ারিশপুরে শাহাজাহান, সেনবাগ উপজেলার কেশারপাড়ে বেলাল ভূঞা, অর্জুনতলায় আবদুল ওহাব, মোহাম্মদপুরে ফিরোজ আলম ভূঞা। নোয়াখালী সদর উপজেলার বিনোদপুরে তোফাজ্জল হোসেন। লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডারে আকবর হোসেন। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার দীর্ঘাপাড়ে আবুল কাসেম। ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুরে মোহাম্মদ ইব্রাহিম তালুকদার। হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদে শওকত আলম শওকত। কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটায় আলাউদ্দিন। সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়ায় মোহাম্মদ আবু ছালেহ। পটিয়া উপজেলার ছনহরায় মুহাম্মদ মামুনুর রশীদ।

আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়ায় আজিজুল হক চৌধুরী, বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়ায় বোরহান উদ্দীন মাহ্মুদ নওয়াজ, সাধনপুরে মোহাম্মদ মহিউদ্দীন চৌধুরী খোকা, খানখানাবাদে জসিম উদ্দিন হায়দার, বাহরছড়ায় তাজুল ইসলাম, কালিপুরে শাহাদাত আলম, বৈলছড়িতে মোহাম্মদ কফিল উদ্দিন, কাথরিয়ায় ইবনে আমিন, সরলে রশিদ আহমদ চৌধুরী, শীলকূপে কায়েশ সরওয়ার, গন্ডামারায় জাহিদুল হক চৌধুরী, চাম্বল মুজিবুল হক চৌধুরী, পুঁইছড়িতে জাকের হোসেন চৌধুরী, শেখেরখীলে মোহাম্মদ ইয়াছিন, ছনুয়ায় মুজিবুর রহমান। কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালীতে মোস্তফা আনোয়ার, কালারমারছড়ায় তারেক বিন ওসমান শরীফ। রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনায় আক্তার হোসেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।

বিএনপির ঐক্যের ডাক জনগণের সঙ্গে তামাশা: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির নিজেদের দলেই কোনো ঐক্য নেই। তারা আবার ঐক্যজোট করবে। বিগত নির্বাচনের সময়ে তাদের ঐক্য দেখেছি। তারা একেবারে লেজেগোবরে অবস্থা করে ফেলে। তাই বিএনপির নতুন এই ঐক্যের ডাক জনগণের সঙ্গে তামাশা বলেই আমরা মনে করছি। তারা ঐক্যজোটের কথা বলছেন; কিন্তু তার নেতৃত্ব কি টেমস নদীর ওপার থেকে কেউ দিচ্ছে, নাকি দেশের কেউ। মন্ত্রী শনিবার দুপুরে মাগুরা শহরের নোমানী ময়দানে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধনকালে ভার্চুয়ালি এ বক্তব্য দেন।

সম্মেলন শেষে মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আ ফ ম আবদুল ফাত্তাহকে সভাপতি এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কুমারকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়।

বাংলাদেশ শ্রীলংকা হয়ে যাবে-বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী বলেন, ফখরুল ইসলাম পলিটিক্যাল হেলুসিনেশনে ভুগছেন। তিনি বাংলাদেশকে শ্রীলংকার সঙ্গে তুলনা করছেন। তাদের নেতাদের লজ্জা পাওয়া উচিত। তারা জানে না, বাংলাদেশ কখনো শ্রীলংকা হতে পারে না। কেননা বাংলাদেশ শ্রীলংকার মতো ঋণগ্রস্ত দেশ নয়। বাংলাদেশ শ্রীলংকার কাছ থেকে ঋণ নেয়নি। বরং শ্রীলংকাকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে বাংলাদেশ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি। অচিরেই প্রধানমন্ত্রী সেটির উদ্বোধন করবেন। আর এসব দেখে তাদের (বিএনপি) মাথা খারাপ হয়ে গেছে।

মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আ ফ ম আবদুল ফাত্তাহর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কুমার কুন্ডুর সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন এমপি, অ্যাডভোকেট গ্লোরিয়া ঝর্ণা, পারভীন জামান কল্পনা, মাগুরা-১ আসনের সংসদ-সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর, মাগুরা-২ আসনের সংসদ-সদস্য ড. বিরেন শিকদার প্রমুখ। সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক।

এক যুগে ব্যয় ৫৫০ কোটি টাকা

সরকারের কোন খাতে কতজন বিশেষায়িত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও উচ্চশিক্ষিত জনবল দরকার, এর নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। পদ পরিকল্পনাও নেই। প্রশিক্ষণ শেষে কোথায় পদায়ন করা হবে, সেবিষয়েও নেই কোনো বাধ্যবাধকতা। এসব ছাড়াই শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে ক্যাডার কর্মকর্তাদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ কার্যক্রম চালাচ্ছে সরকার। ফলে এগুলো তেমন কাজে আসছে না। তবে এতে কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন। অনেকেই লিয়েনে বিদেশে চাকরির সুযোগ বাগিয়ে নিচ্ছেন।

এক যুগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ৫ হাজার ১২৪ জন ক্যাডার কর্মকর্তা বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এজন্য ‘বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারকে শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে। এর অধীনেই চলছে অপরিকল্পিত এ কর্মকাণ্ড। এতে প্রশাসনের প্রত্যাশিত মান অর্জন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রকল্পটির দ্বিতীয় পর্যায় চলমান। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫৩ কোটি টাকা।

জানা যায়, পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং দেশের সুশাসন নিশ্চিত করতে বিদেশে প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত একটি প্রকল্প এক যুগের বেশি সময় ধরে চলছে। ‘বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারকে শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পটির প্রথম ধাপ ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত শেষ হয়েছে। ২০১৮-২০২২-এর দ্বিতীয় পর্যায় চলছে। প্রকল্পটির পৃথক ধাপ দুটি থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম আট বছরে আড়াই হাজার অফিসারের উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণে ২৫০ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে। দ্বিতীয়টির চার বছর মেয়াদে চার হাজার জনের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। যদিও করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রত্যাশিত বিদেশ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়নি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই প্রকল্প ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে বিদেশে পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেন কর্মকর্তারা।

প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে (২০০৯-২০১৭) মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়েছেন ৫১৭ জন, ডিপ্ল্নোমা ১৪৯, সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ ১ হাজার ৪৭১ এবং রিফ্রেশার্স কোর্স করেছেন ১৯ জন। এতে মোট ২ হাজার ১৫৬ জন অফিসারের জন্য খরচ হয়েছে ২৬২ কোটি টাকা। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণের জন্য ৪ হাজারের বেশি কর্মকর্তাকে টার্গেট করা হলেও প্রশিক্ষণ নিতে পেরেছেন ২ হাজার ৯৬৮ কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে মাস্টার্স ৭৫০ জন, ডিপ্ল্নোমা ১৬৮, সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ ২০০৬, রিফ্রেশার্স কোর্স ৩৭ এবং ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়েছেন ৭ জন কর্মকর্তা। করোনার কারণে অন্যরা প্রত্যাশিত প্রশিক্ষণ নিতে পারেননি।

প্রশিক্ষণসংক্রান্ত উদ্যোগে নানাবিধ ত্রুটির বিষয়টি অনুভব করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ও। জনপ্রশাসন সচিব কেএম আলী আজম যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর জন্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে ক্লাস্টারভিত্তিক ভাগ করার একটা প্রক্রিয়া চলছে। এই কাজটি হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শেষে নিজ নিজ ক্ষেত্রে কাজে লাগানো যাবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত কাজ করছে। আশা করি, ভালো একটি পদ্ধতি হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কর্মজীবন পরিকল্পনার (ক্যারিয়ার প্ল্যানিং) অংশ হিসাবে মন্ত্রণালয়ের ক্লাস্টার হবে, এতে যারা যেই ক্ষেত্রে বিশেষ জ্ঞান অর্জন করবেন, তারা সংশ্লিষ্ট খাতে কাজ করবেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ক্যারিয়ার প্ল্যানিং, ক্লাস্টার পদ্ধতি চালুর বিষয়টি নিয়ে প্রায় দুই যুগ ধরে কাজ চলছে। কিন্তু এসব কাজের শেষ দেখা যায় না। এক কর্মকর্তার পর আরেক কর্মকর্তা দায়িত্বে আসেন, কমিটির পর কমিটিতে এসব আলোচনা হয়; কিন্তু কাজ আর শেষ হয় না। মন্ত্রণালয়ের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ক্যারিয়ার প্ল্যানিং অনেক বড় একটি উদ্যোগ। এটি বাস্তবায়ন করতে গেলে কিছু আইন ও বিধির সংশোধন আনতে হবে। তাই এ বিষয়ে উদ্যোগ থাকলেও সার্বিকভাবে কাজটি শেষ করার তেমন কোনো লক্ষণ নেই।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, করোনার কারণে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে বৈদেশিক সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণে মনোনীত যুগ্মসচিব ও উপসচিবরা বিদেশ যেতে পারেননি। গত অর্থবছরে অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব ও উপসচিবদের বিদেশ প্রশিক্ষণ বাবদ বরাদ্দ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এখন করোনা মহামারি স্বাভাবিক হওয়ায় ফের বিদেশ প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

‘বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারকে শক্তিশালীকরণ (২য় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের পরিচালকের (পিডি) দায়িত্বে আছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. শহীদুউল্যাহ। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণ ও ডিগ্রি নেন, তাদের সংশ্লিষ্ট খাতে পদায়নের জন্য আমারা সুপারিশ করি। যাতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অর্জিত জ্ঞান দেশের স্বার্থে সর্বোচ্চ কাজে লাগানো যায়।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের সুপারিশ সব ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন হয় না, এটা ঠিক। কারণ আমাদের এখানে দপ্তর-সংস্থাগুলো সেভাবে ভাগ করা নেই। তাছাড়া যেখানে জরুরি ভিত্তিতে জনবলের প্রয়োজন, সেখানে তখন অফিসার নিয়োগের পদক্ষেপ নিতে হয়। এ সমস্যাগুলো কাটাতে হলে প্রশাসনের সার্বিক পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি কিছু প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি করে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বর্তমানে থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এআইটি) সিনিয়র সহকারী সচিব পর্যায়ের ৫০ জনের একটি দল প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এই দলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করতে থাইল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। প্রতিমন্ত্রী যুগান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে নতুন মাত্রায় নিতে গেলে আমাদের বৈশ্বিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ ও প্রশিক্ষিত জনবল প্রয়োজন। তাই এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সঠিক জায়গায় সঠিক ব্যক্তির পদায়ন আমাদের অগ্রাধিকার। এই চেষ্টা চালাচ্ছি। সেই সঙ্গে ক্যারিয়ার প্ল্যানিং চূড়ান্ত হলে এ কাজটা আরও সহজ হবে।

বিদেশ প্রশিক্ষণ বা উচ্চশিক্ষার মতো প্রকল্পের ক্ষেত্রে চারটি বিষয় বিবেচনা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম। তিনি যুগান্তরকে বলেন, প্রশিক্ষণ বা উচ্চশিক্ষার প্রয়োজন আছে। কিন্তু সেই উদ্যোগ কেন নেওয়া হচ্ছে, এর প্রাক-মূল্যায়ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যদি একটি পর্ব সমাপ্ত হয়ে থাকে, তাহলে দেখতে হবে সেটার মূল্যায়ন হয়েছে কি না। মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে আরও কার্যকর পরিকল্পনা করা যায়। তৃতীয়ত, যাদের বিদেশে পাঠানো হচ্ছে, তাদের ক্যাটাগরি টার্গেট করে পাঠানো হচ্ছে কি না। চতুর্থত, যারা উচ্চশিক্ষা বা প্রশিক্ষণ নিয়ে আসছেন, তারা দেশে এসে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগাতে পারছেন কি না। তিনি বলেন, আমাদের দেশে অনেক ক্ষেত্রে এসব বিষয় বিবেচনায় না নিয়েই উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে জনগণের করের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয় না।

উল্লেখ্য, বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারকে শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের তৃতীয়বারের মতো সময় বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চলছে। এর মেয়াদ ২০২৫ পর্যন্ত বাড়াতে নতুন প্রস্তাব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সুযোগের অপব্যবহার : পরিকল্পনাহীন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জনস্বার্থে তেমন কাজে আসছে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ আছে, অনেকে বিদেশে যাওয়ার সুযোগকে ব্যক্তিগত স্বার্থে অপব্যবহার করছেন। বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তারা বিদেশে মাস্টার্স বা পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে সেখানেই লিয়েনে চাকরির ব্যবস্থা করছেন। আনুষ্ঠানিকতা সারতে দেশে এসে অনুমতি নিয়ে আবার চলে যাচ্ছেন। এমন অনেক নজির আছে। এক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনতে উচ্চশিক্ষা শেষে অন্তত পাঁচ বছর দেশে কাজ করার শর্ত দিচ্ছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে যারা যে ক্ষেত্রে শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ নিয়ে আসছেন তাদেরকে সেই খাতে পদায়ন করা হচ্ছে না। উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ওপর মাস্টার্স করে দেশে ফেরা এক কর্মকর্তাকে প্রথমে স্থানীয় সরকার বিভাগে পদায়ন করা হয়। বর্তমানে আছেন অন্য একটি বিভাগে। কিন্তু দেশে পিপিপির পৃথক কর্তৃপক্ষ আছে। সেখানে তার মতো দক্ষ অফিসারের কাজ দেওয়া প্রয়োজন হলেও তা পাননি। এমন অনেক কর্মকর্তাই তাদের অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগাতে পারছেন না। ক্যারিয়ার প্ল্যানিং না থাকায় তদবিরনির্ভর বদলি পদায়নই এজন্য দায়ী বলে মনে করেন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

আত্মসাৎ ৫৫০০ কোটি টাকা পাচার ৩৫০০ কোটি

দেশের একটি বাণিজ্যক ব্যাংক ও পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রশান্ত কুমার হালদার বা পিকে হালদার প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন ব্যাংকে জব্দ করা হিসাবে আছে ১৪০০ কোটি টাকা। এছাড়া সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি পাচার করেছেন। বাকি টাকা স্থানান্তর করেছেন বিভিন্ন ব্যক্তির হিসাবে।

এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (আইএলএফএসএল) থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস থেকে ৫০০ কোটি টাকা। এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড থেকে ১ হাজার ১১৮ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) থেকে ৫১০ কোটি টাকা। রিলায়েন্স ফাইন্যান্স থেকে ৪০০ কোটি এবং নতুন প্রজন্মের একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

আলোচ্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (বিএফআইইউ) পরিচালিত আলাদা তদন্ত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, পিকে হালদারের আত্মসাৎ করা অর্থের মধ্যে তার সহযোগীদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা জমার সন্ধান পাওয়া গেছে। এর বাইরে আরও কিছু অর্থের সন্ধান পাওয়া গেছে যা প্রভাবশালীরা ভাগ-ভাটোয়ারা করে নিয়েছেন। এর মধ্যে বেশকিছু টাকা বিদেশে পাচারের সন্ধান পাওয়া গেছে। বাকি টাকার কোনো সন্ধান মিলছে না।

ধারণা করা হচ্ছে, এসব টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার হয়েছে। এই বেআইনি কাজে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সাবেক ডেপুটি গভর্নর, এক নির্বাহী পরিচালকসহ কয়েক কর্মকর্তা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে।

পিকে হালদার প্রথমে ছিলেন রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। পরে তিনি নতুন প্রজন্মের ব্যাংক এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডি হন। ব্যাংকের এমডি থাকা অবস্থায়ই তিনি আর্থিক খাতে জালিয়াতি শুরু করেন। আর্থিক খাত থেকে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পিকে হালদার দেশ থেকে পালিয়ে যান। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর শনিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পরই পিকে হালদার নামে-বেনামে প্রতিষ্ঠা করেন ভুয়া কোম্পানি। এগুলোর নামে শেয়ার কিনে একে একে ৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন। এসব প্রতিষ্ঠানের পর্ষদে ও গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেন নিজের আত্মীয়-স্বজন বা অনুগত ব্যক্তিদের।

এই প্রক্রিয়ায় প্রথমে তিনি নিয়ন্ত্রণ নেন ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের (আইএলএফএসএল) বেশিরভাগ শেয়ার। এরপর কাগুজে কিছু প্রতিষ্ঠান তৈরি করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেন। এ প্রতিষ্ঠানটি এখন আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না।

একই প্রক্রিয়ায় তিনি এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখান থেকে প্রায় ১১১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ প্রতিষ্ঠানটিও এখন আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না।

পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডও তিনি একই প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণে নেন। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১১৩১ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পিকে হালদারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামেই নেওয়া হয়েছে ৫০০ কোটি টাকার বেশি।

বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি থেকে ৫১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ অর্থও পরিচালকরা হাতিয়ে নিয়েছেন। এর মধ্যে পিকে হালদারের মালিকানাও রয়েছে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

এদিকে রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের এমডি থাকার সময়ে পিকে হালদার নামে-বেনামে ঋণ দিয়েছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে। এর মধ্যে নিজ প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন ব্রোকারেজ হাউজকে দিয়েছেন ৪০০ কোটি টাকা। এসব টাকায় তিনি নামে-বেনামে শেয়ার কিনে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পদে নিজেদের লোকদের বসিয়েছেন।

এর মধ্যে শুধু ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (আইএলএফএসএল) থেকে নামে-বেনামে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ওই অর্থের মধ্যেই শুধু ১১০০ কোটি টাকা এফডিআর হিসাবে দেশে রয়েছে। বাকি প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা পাচার ও বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। তবে এসব অর্থের বড় অংশেরই সুবিধাভোগী পিকে হালদার ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ভুয়া প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় ছিলেন পিকে হালদারের মা লীলাবতী হালদার, ভাই প্রিতিশ কুমার হালদার ও স্ত্রী সুস্মিতা সাহা, খালাতো ভাই অমিতাভ অধিকারী, অভিজিৎ অধিকারীসহ বিভিন্ন আত্মীয়স্বজন।

পিকে হালদার ও তার ভাই প্রিতিশ কুমার হালদার ভারতে হাল ট্রিপ টেকনোলজি নামে একটি কোম্পানি খোলেন ২০১৮ সালে। যার অন্যতম পরিচালক পিকে হালদারের ভাই প্রিতিশ কুমার হালদার। কলকাতার মহাজাতি সদনে তাদের কার্যালয়। এটি একটি তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কোম্পানি।

কানাডায় পিঅ্যান্ডএল হাল হোল্ডিং ইনক নামে কোম্পানি খোলা হয় ২০১৪ সালে। এর মালিকানায় রয়েছেন পিকে হালদার, প্রিতিশ কুমার হালদার ও স্ত্রী সুস্মিতা সাহা। এটি একটি হাউজিং কোম্পানি। সে দেশে কোম্পানিটি হাউজিং ব্যবসা করছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। কানাডায় তাদের একটি বাড়িরও সন্ধান পাওয়া গেছে।

পিকে হালদারের মা লীলাবতীর তিনটি ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাব থেকে টাকা স্থানান্তরের তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু পরে ওই হিসাব থেকে টাকা কোথায় গেছে সে তথ্য মিলছে না। ফলে তার হিসাব থেকে ১৫০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশ থেকে পাচার করা টাকায় পিকে হালদার ও তার সহযোগীরা বিদেশে ব্যবসা করছেন। এর মধ্যে ভারত ও কানাডায় তাদের নামে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার তথ্য পাওয়া গেছে। ওইসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলেও জানা গেছে।

প্রচলিত আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডি থাকার সময় দেশে বা বিদেশে নিজ নামে কোনো কোম্পানি প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। এ ধরনের কোম্পানি গঠন করলে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হবে। একই সঙ্গে অনুমোদন নিতে হবে। পিকে হালদার তার কোনোটিই করেননি।