শুক্রবার ,১২ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 316

আখক্ষেত থেকে নিখোঁজ ইজিবাইকচালকের লাশ উদ্ধার

নাটোরের বড়াইগ্রাম থেকে নিখোঁজের ১৮ ঘণ্টা পর লালপুরে ঘাটচিলান এলাকা থেকে খোরশেদ আলম মিলন (৩৫) নামে এক ইজিবাইকচালকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার সন্ধ্যা ৭টায় ওই গ্রামের একটি আখক্ষেতের ভেতরে থেকে তার কাদামাখা লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সোমবার একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।

নিহত মিলন বড়াইগ্রাম উপজেলা বনপাড়া পৌর শহরের মহিষভাঙা গ্রামের ফখরুল আলমের ছেলে।

খবর পেয়ে বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ আল রাজী, বড়াইগ্রাম থানার ওসি আবু সিদ্দিক ও বনপাড়া পৌর মেয়র কেএম জাকির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে মিলন ভাড়া মারার উদ্দেশ্যে ইজিবাইকটি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এর পর সারারাত তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। পরে সকালে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। রোববার চাঁদপুর-কদিমচিলান সড়কের ওপর তার ব্যবহৃত জুতা দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে আখক্ষেতের ভেতর তার লাশ পাওয়া যায়। পরে স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।

এ সময় বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ আল রাজী জানান, ইজিবাইকচালক শনিবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন, তার পরিবার এ ব্যাপারে বড়াইগ্রাম থানাকে অবহিত করলে আমরা রোববার থেকেই তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। কিন্তু সন্ধ্যায় তার লাশ পাওয়া গেছে। নিহতের লাশ মর্গে পাঠানোসহ মামলা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইজিবাইক ছিনতাই করতেই এ হত্যাকাণ্ড, আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।

যুক্তরাষ্ট্রের সেই বন্দুক হামলাকারীর হিট লিস্টে লন্ডনের মেয়র সাদিক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি সুপারমার্কেটে গুলি করে ১০ জনকে হত্যায় শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসীর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

যুক্তরাজ্যের মিরর পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রচণ্ড ধর্ম ও জাতিবিদ্বেষী ১৮ বছরের এই বর্ণবাদীর কাছ থেকে একটি হিট লিস্ট উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ তালিকার প্রথমেই আছে যুক্তরাজ্যের মেয়র সাদিক খানের নাম। পেটন গেনটন নামে ওই শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসীর হিট লিস্টে মেয়র সাদেক ছাড়াও আছেন বর্তমান মুসলিম বিশ্বের অন্যতম নেতা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানও।

এ ছাড়া তালিকায় আছে হাঙ্গেরি বংশোদ্ভূত মার্কিন বিলিয়নিয়ার জর্জ সুরুজের নাম। গত সপ্তাহে ৫ দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। পর্যটনকে প্রমোট করতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ওই সফরে যান।

পেটন গেনটন শনিবার বিকালে ব্যস্ত সুপারমার্কেটে রাইফেল হাতে প্রবেশ করে গুলি চালানোর আগে হামলা সরাসরি প্রচার করার জন্য একটি ক্যামেরা ব্যবহার করেন।

নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলাকারী সেই অস্ট্রেলীয় বর্ণবাদীর আদলে হামলা চালানো হয় সেখানে।

হামলার সময় ওই যুবক কালো হেলমেট পরিহিত ছিলেন। তিনি উচ্চক্ষমতার একটি রাইফেল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করতে থাকেন।

মৃত্যুর আগে দেওয়া অভিনেত্রীর ফেসবুক পোস্ট নিয়ে যত রহস্য

কলকাতার টিভি সিরিয়ালের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পল্লবী দের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের দানা আরও জমাট হচ্ছে।

রোববার পশ্চিমবঙ্গের গড়ফা নামক এলাকার নিজ ফ্ল্যাট থেকে এই অভিনেত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় প্রথম দেখতে পান প্রেমিক। পরে তিনি পুলিশে খবর দেন।

অভিনেত্রীর এমন মৃত্যুতে বিস্মিত কলকাতার বাসিন্দারা। কারণ মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও নেটমাধ্যমে সক্রিয় দেখা গেছে পল্লবীকে।

তবে কেন হঠাৎ আত্মহত্যা করতে যাবেন! তা ছাড়া পল্লবীর ঘর থেকে কোনো সুইসাইড নোটও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে সে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গড়ফা থানা পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে অভিনেত্রী সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো।

মৃত্যুর আগে অর্থাৎ সর্বশেষ কী পোস্ট দিয়েছিলেন পল্লবী? অভিনেত্রীর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ঢুকলে এখনো সেই পোস্ট দেখা যাচ্ছে।

মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে স্টোরিতে একটি ছবি ও দুটি শর্ট রিল শেয়ার করেছিলেন পল্লবী। ছবিতে দেখা যায়, রাস্তার ধারে মোমো খেতে গেছেন তিনি। আর রিল ভিডিওতে দেখা গেছে তার প্রেমিককে।

এদিকে শনিবার ইনস্টাগ্রামে সর্বশেষ পোস্ট দিয়েছিলেন পল্লবী। সেখানে তিনি একটি রিল ভিডিও পোস্ট দেন। শাড়ি আর গহনায় সেজে হাস্যোজ্জ্বল রূপে ভিডিওটি বানান তিনি। এ ছাড়া বন্ধু প্রত্যুষা পালের সঙ্গে দুই বছর আগের একটি মেমোরিও ইনস্টা স্টোরিতে শেয়ার করেন অভিনেত্রী।

চাল ডাল পেঁয়াজ রসুন কিনতে ক্রেতার ভোগান্তি

এতদিন ভোজ্যতেল কিনতে ক্রেতার হিমশিম অবস্থার সৃষ্টি হলেও সেই তালিকায় চাল-ডাল, আটা-ময়দা, পেঁয়াজ ও আদা-রসুন যোগ হয়েছে। এছাড়া ডিম ও সব ধরনের মাংসের দাম বেড়েছে। দেশজুড়ে অভিযানের পরও বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট কাটেনি। বরং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে বাজারে ক্রেতার রীতিমতো নাজেহাল অবস্থা।

কনজুমার ফোরামের তথ্য-জানুয়ারির তুলনায় মার্চে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে। এ প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। জানুয়ারির তুলনায় মার্চে প্রতিকেজি চালের দাম গড়ে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিকেজি মসুর ডালের দাম তিন মাসের ব্যবধানে ২০ দশমিক ৪১ শতাংশ বেড়েছে। সয়াবিন তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সরিষার তেলের দামও বেড়েছে। তিন মাসের ব্যবধানে এ পণ্যের দাম বেড়েছে ২২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এক কেজির প্যাকেট লবণ তিন মাসে ১৬ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া প্যাকেট মসলার দামও বেড়েছে। তিন মাসের ব্যবধানে নানা ধরনের মসলার প্যাকেটের দাম ১৩ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ, নুডলস ও স্যুপের দাম ২ দশমিক ১৫ শতাংশ, সাবান ও ডিটারজেন্টের দাম ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি শিশুখাদ্য গুঁড়াদুধের দামও হুহু করে বেড়েছে।

রাজধানীর খুচরা বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার প্রতিকেজি মসুর ডাল ১৩০-১৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা মাসখানেক আগে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতিকেজি খোলা আটা ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা এক মাস আগে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। খোলা ময়দা ৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা মাসখানেক আগে ৫৫ টাকা ছিল। এছাড়া খুচরা বাজারে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকায়। কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে দেশি রসুন ১০০ ও আমদানি করা রসুন ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে আমদানি করা আদা ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক মাস আগে এ পণ্যের দাম ছিল ১৬৫ টাকা। প্রতি হালি ফার্মের ডিম বিক্রি হয়েছে ৪২ টাকা। যা এক মাস আগে ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হয়েছে ৮২-৮৪ টাকা। যা আগে ৮০ টাকা ছিল।

এদিকে দেশজুড়ে অভিযানের পরও বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট কাটছে না। সরকার নির্ধারিত প্রতিলিটার বোতলজাত সয়াবিন ১৯৮ টাকায় বিক্রি করার কথা থাকলেও ২০০-২০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর খোলা সয়াবিনের দাম ২১০ টাকা লিটার। যা ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশুখাদ্যের দামও বাড়ছে। বোরবার প্রতি কেজি ডানো গুঁড়াদুধ ৬৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা এক মাস আগে ৬৫০ টাকা ছিল। আর গত বছর একই সময় ৬২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। একইভাবে মাসের ব্যবধানে ৩০ টাকা বেড়ে মার্কস গুঁড়াদুধ ৬৪০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হয়েছে। যা গত বছর একই সময় ৫৮০ টাকা ছিল।

কনজুমার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন মালেক বলেন, যেসব পণ্য দেশে উৎপাদন হয় সেগুলোর দামও আমদানি পণ্যের সঙ্গে বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব দেখার কি কেউ নেই? ব্যবসায়ীরা কাউকেই তোয়াক্কা করছে না। বড় থেকে শুরু করে ছোট ব্যবসায়ী সবাই কারসাজি করছে। এমনকি উৎপাদকরাও পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। তাই বাজার তদারকি আরও জোরদার করতে হবে। আইনে যা আছে তা যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে। কয়েকজনকে শুধু জরিমানা করে ছেড়ে দিলে অসাধু ব্যবসায়ীদের বাগে আনা যাবে না। কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

নিত্যপণ্যের সঙ্গে নিত্যব্যবহার্য সাবান, টুথপেস্ট, বিস্কুট, চানাচুর, পাউরুটি, ডিটারজেন্ট, নারিকেল তেল, সেভিং রেজার ইত্যাদির দামও বেড়েছে। ব্যয় সামলাতে না পেরে অনেকেই নিত্যব্যবহার্য পণ্যের তালিকা কাটছাঁট করছেন। রোববার রাজধানীর একাধিক ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিন মাস আগে লাইফবয় সাবান বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা। যা এখন ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিন মাসের ব্যবধানে প্রতিপিস লাক্স সাবানে দাম বেড়েছে ১৩ টাকা। আগে ৫২ টাকায় বিক্রি হলেও এখন দাম ৬৫ টাকা। এক কেজি হুইল পাউডারের দাম ছিল ৮৫ টাকা। এখন এ পণ্যের দাম ১০০ টাকা। এক কেজি রিন পাউডারের খুচরা মূল্য ছিল ১০৫ টাকা। এখন তা ১৪০ টাকা। ১০০ টাকার পেপসোডেন্ট টুথটেস্ট এখন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ছোট সাইজের অ্যানার্জি বিস্কুটের দাম ৩০ টাকা, যা আগে ২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাঝারি সাইজের প্যাকেটজাত চানাচুর বিক্রি হচ্ছে ৪৩ টাকা, যা আগে ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ওয়ানটাইম সেভিং রেজার বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা, যা আগে ১৫ টাকা ছিল। ২৫০ এমএলের প্যারাসুট বোতলজাত নারিকেল তেল ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ১৩৫ টাকা ছিল। ৪০০ এমএলের অ্যারোসল ৪৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ৪০০ টাকা ছিল। ২২০ টাকার এয়ার ফ্রেশনার এখন ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, বিভিন্ন যৌক্তিক কারণে দেশে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা একটু বাড়তি মুনাফার সুযোগ খোঁজে। তারা বিভিন্ন অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। দেখা যায় যৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম যা বাড়ার কথা কারসাজি করে তার চাইতে দুইগুণ বেশি মূল্যে বিক্রি করে। এতে ক্রেতারা নাজেহাল হন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে দেশে বেশকিছু আইন আছে, সেসব আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে।

জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার যুগান্তরকে বলেন, পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে সার্বিক তদারকি চলছে। অনিয়ম পেলে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ভোক্তা আইন বাস্তবায়নে সামনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ঝুঁকি এড়াতে বিদেশি ঋণে ঝোঁক কমছে

শ্রীলংকার অর্থনীতি দেউলিয়া হওয়ার পর বাংলাদেশের বাজেটে ঋণ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি ‘বিদেশি ঋণ’ ঝুঁকি সীমার নিচে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নির্দেশের পর বৈদেশিক ঋণের প্রতি ঝোঁক অনেকটা কমেছে। অর্থবছরের শুরুতে এ ঋণের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে সরে আসছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রাও কমিয়ে আনা হয়েছে। তবে ঋণ সংকট কাটাতে দেশের ব্যাংকব্যবস্থা থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি নেওয়া হচ্ছে।

সাধারণ বাজেটে ব্যয়ের আকার বেশি এবং আয়ের অঙ্ক কম। ফলে যে ঘাটতির সৃষ্টি হয় সেটি দেশ-বিদেশ থেকে ঋণ নিয়ে পূরণ করা হয়। চলতি অর্থবছরে (২০২১-২২) বাজেট ঘাটতি হলো দুই লাখ ১৪ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা। সেটি পূরণে বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ এক হাজার ২২৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয় এবং দেশের অভ্যন্তরীণ খাত থেকে এক লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা নেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ ও সুদ হিসাবে দুই হাজার ৪০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। একই সময়ে শ্রীলংকাকে আট হাজার ৬০০ কোটি টাকা এবং পাকিস্তানকে ১২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার হার জিডিপির তুলনায় ১১ দশমিক ৯ শতাংশ। পাশাপাশি শ্রীলংকায় এর হার ৪১ শতাংশ ও পাকিস্তানে ৩৯ শতাংশ।

সম্প্রতি গণভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সার্বিক বিষয় বিশ্লেষণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ এখনো ঝুঁকিসীমার অনেক নিচে রয়েছে। ভবিষ্যতে ঋণের বর্তমান এ অবস্থান ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেন। এ নির্দেশের পর বৈদেশিক ঋণের ব্যাপারে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ফলে চলতি বাজেটে বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা থেকে ২০ হাজার ১৬ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। বছরের শুরুতে এ ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ এক হাজার ২২৮ কোটি টাকা। কাটছাঁটের পর চূড়ান্ত বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ২১২ কোটি টাকা।

বৈদেশিক ঋণ কমানোয় দেশীয় ব্যাংক ঋণব্যবস্থার ওপর চাপ পড়েছে। ফলে বৈদেশিক ঋণের ঘাটতি মেটাতে দেশি ব্যাংকব্যবস্থা থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বেশি ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ বিভাগ। বছরের শুরুতে এ ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৮৭ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, ব্যাংক থেকে সুদ নেওয়ার আরেকটি কারণ হলো-এখানে সুদ হার কম। অপর দিকে সঞ্চয়পত্রে বেশি। গত কয়েক বছর ধরে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ঋণ নিয়েছে। সেই বর্ধিত ঋণের বিপরীতে সুদ বাবদ চলতি অর্থবছরে অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

বৈদেশিক ঋণের কাটছাঁটের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সাবেক সিনিয়র অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, পাইপ লাইনে এখনো অনেক বিদেশি ঋণ রয়েছে। কিন্তু ঋণছাড় করার যে শর্ত-পদ্ধতি সেগুলো নিষ্পত্তি করতে বিলম্ব অথবা নিষ্পত্তি না হওয়ায় হয়তো বিদেশি ঋণ পাওয়া যায়নি। কিংবা বিদেশিদের শর্ত পূরণ করে আমরা হয়তো ঋণ আনতে পারছি না। এ কারণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে সব সময় ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়া ঠিক নয়। এতে বেসরকারি উদ্যোক্তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।

এ বছর ঋণ পরিশোধে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে অর্থ বিভাগ। কারণ সঞ্চয়পত্র খাত থেকে গত কয়েক বছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার। ফলে ওই ঋণের সুদ পরিশোধের চাপ চলতি বাজেটে সৃষ্টি হয়েছে। সুদ পরিশোধ খাতে বরাদ্দের অতিরিক্ত দুই হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা বেশি ব্যয় হবে। বছরের শুরুতে সুদ পরিশোধ বাবদ বরাদ্দ রাখা ছিল ৬৮ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। এখন ৮০ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা গুণতে হবে।

অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের আয় কমেছিল। ওই সময় সাধারণ মানুষকে সুবিধা দিতে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে বেশি ঋণ নিয়েছে। সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার অর্থ সাধারণ মানুষ বেশি কিনতে পেরেছে। ফলে গত কয়েক বছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রিও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। লক্ষ্যমাত্রাও অতিক্রম করেছে।

জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০ হাজার কোটি টাকা। ওই বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে। একইভাবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ১৮ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে। বড় অঙ্কের বর্ধিত সুদ পরিশোধের কারণে এ বছর হিমশিম খাচ্ছে অর্থ বিভাগ।

ড. আব্দুল মঈন খান আইসিইউতে

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার বিকালে তাকে হাসপাতলে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে রয়েছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান যুগান্তরকে জানান, রোববার ড. মঈন খান তার নিজ এলাকা নরসিংদীর পলাশ উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের কিছু সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত জিন্দা পার্কে একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা করেন। এসময় তিনি দীর্ঘসময় বক্তব্য রাখেন।

পরে দুপুরে লাঞ্চ ব্রেকে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে আইসিইউতে রয়েছেন। তার সুস্থতার জন্য পরিবার দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

‘দেশকে সরকার বিদেশি ঋণে বন্দি করে ফেলেছে’

বাংলাদেশকে সরকার ‘বিদেশি ঋণে’ বন্দি করে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

রোববার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় দেশের অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবদুল মতীনের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন চাই’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা না গেলে, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা না গেলে আমাদের এই দেশ নিঃশেষ হয়ে যাবে, শেষ হয়ে যাবে। অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্ বলেছেন, সরকার বলে যে, আমাদের স্থানীয় ও বৈদেশিক ঋণ মিলে ঋণের পরিমাণ হলো একশ’ ৩১ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু সরকার যা বলে এটা সঠিক নয়। কমপক্ষে ২৫ বিলিয়ন ডলার আরও বেশি ঋণ আছে যেটা সরকার হিসেবে দেখায় না। তাহলে কত বড় একটা অপরাধ। এই ঋণ কার? রাষ্ট্র ও জনগণের। কালকে যখন ওরা (আওয়ামী লীগ সরকার) ক্ষমতায় থাকবে না তাদের এই ঋণ এসে পড়বে না আমাদের ওপর? এই ঋণ শোধ করতে হবে না আমাদের?

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমাদের এই বিশাল ঋণ শোধ করতে হবে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন যে, শুধু সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটে যে পরিমাণ ঋণ আমরা নিয়েছি সেই ঋণের শোধ দেওয়া শুরু হবে ২০২৫ সাল থেকে এবং তার পরিমাণ বিলিয়নস অব ডলার। তখন কোথায় যাবো আমরা?

‘‘আমাদের আমদানি বাড়ছে, রফতানি কমছে, রেমিট্যান্স কমছে। আর ঋণের বোঝা বাড়ছে, ঋণ শোধ দেওয়ার সময় আসছে। ’’ যোগ করেন নজরুল।

বিদেশি ঋণে মেগা প্রকল্পের নামে অর্থ পাঁচার হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিদেশি ঋণ নিয়ে সমস্ত মেগা প্রজেক্ট, সেখানে দুর্নীতি-অনাচার করে কানাডায় বেগমপাড়া, সুইস ব্যাংকে টাকা, সেকেন্ড হোম ইত্যাদি ইত্যাদি সমানে হচ্ছে। হাজার হাজার কোটি বিদেশে পাঁচার হচ্ছে।

বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই রকম অবস্থা থেকে দেশের মানুষকে বাঁচাতে হলে লড়াই করে বিজয়ী হওয়ার কোনো বিকল্প নাই। আর সেই লড়াই হতে হবে ঐক্যবদ্ধ। যারাই এই সরকারের পরিবর্তন চায়, যারাই জনগণের কাছে দায়বদ্ধ, জনগণকে জবাবদিহিতার মধ্যে এবং জনগণের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চান- তারা সবাই একসঙ্গে লড়াই করে এটা সম্ভব করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি আজ হোক, কাল হোক এটা হবে ইনশাল্লাহ।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব লায়ন ফারুক রহমানের পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম খান।

বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর মোবারক হোসাইন, গণঅধিকার পরিষদের ভিপি নুরুল হক নুর, এনডিপির কারী আবু তাহের, ইসলামী ঐক্যজোটের অধ্যাপক আবদুল করীম, মুসলিম লীগের কাজী আবুল খায়ের, মানবাধিকার সংরক্ষন সংস্থার অ্যাডভোকেট জহুরা খাতুন জুঁই, লেবার পার্টির মোসলেম উদ্দিন, আবদুর রহমান খোকন, হুমাউন কবীর, খোন্দকার মিরাজুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, ছাত্রমিশনের সৈয়দ মো. মিলন, শরিফুল ইসলাম, যুবমিশনের মো. শওকত চৌধুরী প্রমুখ।

দুই শিশুর বাবার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন জাপানি মায়ের

জাপানি দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনার বাবা বাংলাদেশি নাগরিক ইমরান শরীফের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনতে আবেদন করেছেন শিশু দুটির মা নাকানো এরিকো।

সোমবার প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে এ আবেদন করা হয়। আদালত আগামী ২৩ মে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন।

আদালত আজ শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

পরে এ বিষয়ে শিশির মনির গণমাধ্যমকে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশে বলা হয়েছে, দুই শিশু মায়ের সঙ্গে বারিধারায় থাকবেন। প্রতিদিন বাবা শিশুদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। এ নির্দেশনা অমান্য করে ইমরান শরীফ জোর করে মাঝে মাঝেই শিশুদের নিয়ে বাইরে যান। এ কারণে আমরা আদালত অবমাননার আবেদন করেছি। আগামী সোমবার (২৩ মে) পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেছেন আদালত।

এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পারিবারিক আদালতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা তাদের মা নাকানো এরিকোর কাছে থাকবে বলে রায় দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। পাশাপাশি এ বিষয়ে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বাতিল করা হয়। এবং বিচারিক আদালতে মামলা নিষ্পত্তির জন্যে বলা হয়।

রায়ে বলা হয়, এই সময়ে নাকানো এরিকো শিশুদের নিয়ে দেশত্যাগ করতে পারবেন না। তবে বাবা ইমরান শরীফ শিশুদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন।

‘ক্যাসিনো সম্রাটের’ জামিন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে দুদকের আবেদন

ঢাকায় ক্যাসিনোকাণ্ডের মূলহোতা হিসেবে পরিচিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের জামিন স্থগিত ও বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজহারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আবেদন করা হয়।

আগামীকাল এ আবেদনের ওপর শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান।

গত ১১ মে সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর মুক্তি পান ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট।

ওইদিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান তাকে জামিন দেন।

এর আগে ১৯৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে সম্রাটের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে একটি মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।

সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের উপপরিদর্শক রাশেদুর রহমান বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় এই মামলা (মামলা নম্বর ১৪) করেন। সম্রাট তার সহযোগী এনামুল হক আরমানের মাধ্যমে ১৯৫ কোটি টাকা সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় পাচার করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে। সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার জিসানুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, ২০১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত সম্রাট সিঙ্গাপুরে ৩৫ বার, মালয়েশিয়ায় তিনবার, দুবাইতে দুবার এবং হংকংয়ে একবার ভ্রমণ করেছেন। এছাড়া তার সহযোগী এনামুল হক আরমান ২০১১ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ১৮ মে পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে ২৩ বার ভ্রমণ করেছেন। সম্রাট ও আরমান অবৈধ অর্থ দিয়ে যৌথভাবে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।

৬ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামে আত্মগোপনে থাকা সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়। তার সঙ্গে আরমানকেও গ্রেফতার করা হয়। পরে ঢাকায় এনে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদও করে র‌্যাব।

৬ অক্টোবর দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্ব একটি দল কাকরাইলে ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে সম্রাটের কার্যালয়ে অভিযান শুরু করে। এদিন নিজ কার্যালয়ে পশুর চামড়া রাখার দায়ে তার ছয় মাসের জেল দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। এর পর সম্রাটকে কারাগারে পাঠানো হয়।

কুরআনের আলো ছড়াক মুমিনের জীবনে

একজন কুরআন গবেষক বড় আফসোস করে বলেছিলেন, পৃথিবীর সব ধর্মীয় গ্রন্থ বিকৃত হয়ে গেছে, একমাত্র কুরআনই অবিকৃত অবস্থায় দুনিয়ার বুকে আলোর মশাল হাতে হেদায়াতের নুর বিলাচ্ছে।

এ বিবেচনায় মুসলমানদের মতো সৌভাগ্যবান জাতি আর একটিও খুঁজে পাওয়া যাবে না। কথা ছিল কুরআনের আলোয় পথ চলে বিশ্বের নেতৃত্ব দেবে মুসলমান। পৃথিবীর নানা জাতি-গোষ্ঠী কুরআনের ছায়ায় স্বস্তির-শান্তির নিশ্বাস ফেলবে।

আফসোস! মুসলমান আজ কুরআন পড়ে না, কুরআন বোঝে না, কুরআন গবেষণা তো সেই কবেই বন্ধ হয়ে গেছে! তাই তো এক কালের বাদশাহ জাতি মুসলমান আজ গোলামির লাঞ্ছনা নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে জীবনযাপন করছে। মূলত জীবন থেকে যখন আল্লাহ হেদায়াতের নুর ছিনিয়ে নেন তখই বান্দার জীবনে লাঞ্ছনা-গঞ্জনার অন্ধকার নেমে আসে। সে অন্ধকার এতই কালো যে-আলো নিভে গেছে সেটিও বান্দা বুঝতে পারে না!

সূরা বাকারায় আল্লাহ বলেন-‘মাছালুহুম কামাছা লিল্লাজিসতাওকাদা নারা, ফালাম্মা আদাআত মা হাউলাহু জাহাবাল্লাহু বিনুরিহিম ওয়াতারাকাহুম ফি জুলুমাতিল্লা ইউবসিরুন।

অর্থ : ওদের উপমা হচ্ছে এমন ব্যক্তির, যে আগুন জ্বালাল। আগুনে চারপাশ আলোকিত হওয়ার পরই আল্লাহ সে আলো সরিয়ে নিলেন। সঙ্গে সঙ্গে ওরা ঘোর অন্ধকারে ডুবে গেল। অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখার থাকল না।’ (সূরা বাকারাহ, আয়াত ১৭।)

কুরআনহারা বান্দার জীবনে কীভাবে দুর্দিন নামে সে চিত্র একটি উদাহরণের মাধ্যমে এঁকেছেন আল্লাহতায়ালা। আয়াতে ‘ওদের উপমা’ বলতে কুরআনহারাদের কথা বলা হয়েছে। প্রিয় পাঠক! চোখ বন্ধ করে কল্পনা করুন আজ থেকে চৌদ্দশ বছর আগের মরু আরবের গভীর রাতের দৃশ্য।

চাঁদহীন আকাশ। একটি তারকাও দেখা যাচ্ছে না। এমন ঘুটঘুটে অন্ধকারে একদল মানুষ ভয়ে তটস্থ। যে কোনো মুহূর্তেই শত্রু আক্রমণ করতে পারে কাফেলা। কানে আসছে হিংস্র জন্তু-জানোয়ারের গর্জন। এমন ভয়ংকর অন্ধকারে এক ব্যক্তি আগুন জ্বালাল। চারপাশ আলোয় ভরে উঠল। সবাই খুশি।

যে যার মতো রাতের কাজে মন দিল। কেউ রান্না করছে। কেউ গোছগাছ করছে। হিসাব মিলাচ্ছে কেউ। কেউ বা আবার আড্ডা জমিয়েছে। হঠাৎ দপ করে আগুন নিভে গেল। যে যেখানে যে অবস্থায় আছে সে অবস্থায়ই ঘোর অন্ধকারে ডুবে গেল। অন্ধকার ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছে না। মুখে না বললেও সবাই বুঝতে পারছে ক্ষণিকের আলোটুকু তাদের প্রতি ছিল উপহাসের। কাজ শেষ হলো না, আলোও আসছে না-এক সীমাহীন যন্ত্রণায় তারা হাবুডুবু খাচ্ছে।

মোটা দাগে এ হলো আয়াতে বলা উপমার সারকথা। আসলে অন্ধকারে ডুবে থাকা ওই কাফেলা হলো তারা যারা আল্লাহর আয়াত তথা কুরআন বিশ্বাস করেনি, জীবনে বাস্তবায়নও করেনি। শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য আল্লাহ দিয়েছেন কুরআন, কিন্তু তারা কুরআন বাদ দিয়ে নিজেরাই জীবনের নিরাপত্তা ও শান্তির ভার গ্রহণ করেছে। এক ব্যক্তি আগুন জ্বালিয়েছে, আর তারা ওই আলোর প্রতি হুমড়ি খেয়ে পড়ল। কপাল যখন পোড়ে এভাবেই পোড়ে। ওদের জানাছিল না, আগুন যেই জ্বালাক না কেন, আগুনের মূল নিয়ন্ত্রণ আল্লাহর হাতে। আল্লাহ আলো নিয়ে গেলেন।

কুরআনের উপমা সৌন্দর্যটি উপভোগ করার মতো। তারা জ্বালিয়েছে ‘আগুন’, আল্লাহ নিয়ে গেলেন ‘আলো’। আরবি ‘নার’ অর্থ আগুন আর ‘নুর’ অর্থ আলো। গবেষকরা বলেন, নার তথা আগুনের ভেতর দুটি জিনিস থাকে-‘ইশরাক’ ও ‘ইহরাক’। ইশরাক মানে হলো নরম বা হালকা আলো। আর ইহরাক মানে হলো তাপ। অর্থাৎ আল্লাহতায়ালা তাদের আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে দিলেন না, বরং আগুনের আলো নিয়ে গিয়ে তাপ রেখে দিলেন। এমনিতেই মরুভূমি, তার ওপর যদি থাকে আগুনের তাপ তা হলে কী সীমাহীন দুর্ভোগ তা চোখ বন্ধ করেই অনুভব করা যায়।

আরবি ভাষায় আলো বোঝানোর জন্য আরেকটি শব্দ আছে ‘দুউন’। গবেষকরা প্রশ্ন করেছেন, আয়াতে দুউন ব্যবহার না করে নুর ব্যবহার করা হলো কেন। আগেই বলেছি, আয়াতে নুর বলতে ইশরাক তথা মৃদু আলো বোঝানো হয়েছে। সূর্যের প্রথম আলো কোমল থাকে তাই আরবি ভাষায় সূর্য উঠার পরের অল্প কিছুক্ষণকে ইশরাক বলে। সূর্যের নরম আলোয় যে সালাত পড়তে হয় শরিয়তে তার নাম সালাতুল ইশরাক। নরম আলো শেষে আসে উজ্জ্বল বা প্রখর আলো। উজ্জ্বল আলোকে বলা হয় দুউন। সালাতুল ইশরাকের ওয়াক্ত শেষ হলেই শুরু হয় সালাতুদ দোহার ওয়াক্ত।

আয়াতে আল্লাহতায়ালা যদি বলতেন ‘জাহাবাল্লাহু বিদুইহিম’ অর্থাৎ আল্লাহ তাদের উজ্জ্বল আলো নিয়ে গেছেন, তাহলে বোঝা যেত-এখনো ক্ষীণ বা কোমল আলোটুকু রয়ে গেছে। কিন্তু আল্লাহতায়ালার উদ্দেশ্য হলো, যারা কুরআনের নুর বাদ দিয়ে নিজের মনগড়ায় আলোয় পথ চলতে চায়, তাদের জন্য আগুনের উত্তাপ ও যন্ত্রণা ছাড়া আলোর ছিটেফোঁটাও অবশিষ্ট থাকবে না। ফলে নুর শব্দটিই এখানে যথার্থ দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছে।

ভাবনার বিষয়, একদল মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য আগুন জ্বালিয়ে পেল তাপ ও যন্ত্রণা, অন্যদিকে সাইয়েদেনা ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসের বিনিময়ে আগুনের ভেতর পেলেন ফুলের বাগান। এ দুটি ঘটনা পৃথিবাসীর সামনে একটি সহজ সত্য তুলে ধরে। দুনিয়ার মানুষ সুখ, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য উপকরণের ওপর নির্ভরশীল হয়, কিন্তু প্রকৃত সুখ শান্তি আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে।

আমরা মনে করি, অর্থ-বিত্ত-প্রাচুর্য সুখ-শান্তির চাবিচকাঠি। ভালো বেতন-ভালো চাকরি, দামি গাড়ি এসব থাকা সত্ত্বেও বান্দার জীবনে সুখ নামক পাখিটি অধরা থেকে যেতে পারে যদি তার ভেতর আল্লাহর নুর তথা আল্লাহ, আল্লাহর রাসূলের প্রেম না থাকে। আবার দিন আনে দিন খায় এমন গুরুত্বহীন মানুষটিও চরম সুখে চোখ বুজলেই ঘুমের দেশে হারিয়ে যেতে পারে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা না থাকা এ দিনমজুর আমাদের চোখে বোকা হলেও খোদায়ি আলোয় পথ চলে ঠিকই সে আখেরাতের সম্বল গুছিয়ে নিচ্ছে।

তাই তো ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, কুরআনের আলোহীন মানুষগুলোর দুনিয়া হয়তো কিছু সময়ের জন্য আলোকিত মনে হয়, মানুষের কাছে তারা মর্যাদা পায়, বাহ্যিক নিরাপত্তাও ভাগ্যে জোটে, কিন্তু মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তাদের কবর অন্ধকারে পূর্ণ হয়ে যায়।

সে অন্ধকার হলো কুফরের অন্ধকার, নিফাকের অন্ধকার, বদ আমলের অন্ধকার, অন্যের হক মেরে খাওয়ার অন্ধকার। এ জন্যই আল্লাহতায়ালা নুর বা আলোর ক্ষেত্রে একবচন ব্যবহার করলেও অন্ধকারের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন জুলুমাত বা বহুবচন। অর্থাৎ বান্দা যখন এক আল্লাহর এক আলো বাদ দিয়ে দেয়, তখন সে হাজার অন্ধকারে হন্যে হয়ে ঘুরতে থাকে। আল্লাহতায়ালা আমাদের বোঝার তাওফিক দিন। আমিন।

লেখক : শিক্ষার্থী, ডিপ্লোমা ইন অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়