শুক্রবার ,১২ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 315

সরকারি অর্থের ‘হরিলুট’

দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি অর্থ ‘হরিলুট’ চলছে। ড্রাইভারকে দেওয়া হচ্ছে পঞ্চম গ্রেড বা উপসচিবের সমান বেতন। বয়স পার করার পরও ‘সেশন বেনিফিটের’ নামে পরের জুন পর্যন্ত রাখা হয় চাকরিতে। শুধু তাই নয়, বাংলোতে বসবাসের পরও উপাচার্য নেন বাড়ি ভাড়া। এভাবে অন্তত ২০টি খাতের আড়ালে উপাচার্য থেকে শুরু করে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিধিবহির্ভূতভাবে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

দেশে বর্তমানে ৫০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আছে। কয়েকটি বাদে প্রায় সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটছে। এক্ষেত্রে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ও পিছিয়ে নেই। আর্থিক প্রশাসনে শৃঙ্খলা আনতে দু-একদিনের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানকে ৪১ দফা সংবলিত সতর্কপত্র পাঠানো হচ্ছে। সোমবার ইউজিসির পূর্ণ কমিশনের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে ইউজিসির সদস্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর যুগান্তরকে জানান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সিন্ডিকেট বা রিজেন্ট বোর্ডে নিজেদের প্রয়োজনমতো নিয়ম পাশ করে নিতে পারে। এই স্বাধীনতার অপব্যবহার করে কিছু ক্ষেত্রে অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণের নিয়ম পাশ করে নিয়েছেন কেউ কেউ। ইউজিসির হিসাব ও নিরীক্ষা বিভাগের দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তদন্তে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এ নিয়ে কমিশনের বৈঠকে সুনির্দিষ্ট আলোচনার পর সতর্ক করার লক্ষ্যে পরিপত্র জারির সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে ২০ খাতে বিধিবহির্ভূত আর্থিক সুবিধা নেওয়া হচ্ছে, সেগুলো হচ্ছে-উচ্চতর স্কেলে বেতন প্রদান; বিধিবহির্ভূতভাবে পঞ্চম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তাকে তৃতীয় গ্রেড প্রদান; ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি ও স্কেল প্রদান, যোগদানের তারিখ থেকে পদোন্নতি; অননুমোদিত পদে নিয়োগ, আপগ্রেডেশন ও বেতন প্রদান; অনর্জিত ইনক্রিমেন্ট প্রদান; বেতনের বাইরে নানান নামে উপাচার্য হিসেবে অতিরিক্ত অর্থগ্রহণ; বাংলোতে বসবাস সত্ত্বেও বাড়ি ভাড়া গ্রহণ; পূর্ণ বাড়ি দেওয়ার পরও কম নেওয়ার উদ্দেশ্যে বর্গফুটের হিসাবে ভাড়াগ্রহণ। এছাড়া আছে-মফস্বলের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-জনবলকে সিটি করপোরেশনের হিসাবে বাড়িভাড়া প্রদান; এর বাইরেও সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া প্রদান; সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে সেশন বেনিফিট প্রদান; পিআরএলের পরিবর্তে এলপিআর প্রদান; বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল ভর্তুকি দেওয়া; গবেষণা-মোবাইল-টেলিফোন-ইন্টারনেট ভাতা প্রদান, নিয়মের বাইরে বইভাতা দেওয়া; ড্রাইভারদের নবম থেকে পঞ্চম গ্রেডে বেতন দেওয়া; চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে সরকারের আর্থিক নীতিমালা লঙ্ঘন এবং যৌথ বিমা বা কল্যাণ তহবিলে (অর্থ) স্থানান্তর।

জানা গেছে, ড্রাইভারদের ‘টেকনিক্যাল অফিসার’ দেখিয়ে উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তার সমান বেতন-ভাতা দেওয়া হয় ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কৃষি, মওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুয়েটে। ইসলামী, খুলনা, শেরেবাংলা কৃষি, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি, খুলনা কৃষি, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুয়েটের উপাচার্যরা কেউ বিশেষ ভাতা, কেউ বা দায়িত্ব ভাতার নামে বেতনের অতিরিক্ত ২০ শতাংশ হারে অর্থ নিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে ছয় ধরনের নাম দেখা যায়। বাংলো থাকার পরও উপাচার্যকে বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয় চট্টগ্রাম, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

নিয়োগের দিন থেকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নয়ন বা উচ্চতর স্কেল নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে বুয়েট এবং রুয়েটে। সহকারী রেজিস্ট্রারের নবম গ্রেডে বেতন পাওয়ার কথা। কিন্তু নিচ্ছেন ৫ম বা ষষ্ঠ গ্রেডে। আর উপরেজিস্ট্রারের ৭ম গ্রেডে নেওয়ার কথা। নিচ্ছেন চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডে। এই ঘটনা ঘটে চলেছে ঢাকা ও রাজশাহীসহ ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে। নানান কারণ দেখিয়ে অনর্জিত ইনক্রিমেট হিসাবে সর্বোচ্চ ৬টি পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে। শিক্ষক-কর্মচারীদের পূর্ণ বাড়ি দেওয়ার পর বর্গফুটে কম ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে। এর মধ্যে ঢাকা, বাকৃবি, জাহাঙ্গীরনগর, ইসলামী এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আছে। আছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নতুন প্রতিষ্ঠান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইউজিসির উল্লিখিত অনুসন্ধানে কেবল অর্থ ব্যয় সংক্রান্ত অনিয়ম ও দুর্নীতি বেরিয়ে এসেছে। এর বাইরে নিয়োগ, নির্মাণ, সংস্কারসহ আরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম আছে। অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন আয় বাজেটে দেখানো হয় না। এক খাতের টাকা অন্য খাতে ব্যয় এবং টেন্ডার ছাড়া কেনাকাটা এবং পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুৎপাদনশীল ব্যয়ের বড় একটি খাত হচ্ছে ঢাকায় রেস্ট হাউজ বা লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন। উপাচার্যরা ঢাকার বাইরে না যাওয়ার লক্ষ্যে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে এগুলো স্থাপন করে থাকেন। আবার ঢাকায় অবস্থানের সুবিধার্থে শিক্ষক-জনবলের জন্য রেস্ট হাউজ রাখা হয়েছে। সবমিলে অনেকটা বেপরোয়াভাবেই শিক্ষক-কর্মচারীদের অবৈধ উপায়ে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতির ক্ষেত্রে একশ্রেণির ভিসি প্রধান ক্রীড়নকের ভূমিকা পালন করে থাকেন। তারা এতটাই বেপরোয়া যে, তাদের সরকার স্পর্শ করতে পারবে না এমন কথাও প্রকাশ্যে বলে থাকেন।

৪১ দফা সতর্কতা : সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উল্লিখিত সব অনিয়ম বন্ধে দু-একদিনের মধ্যে যে সতর্কপত্র পাঠানো হচ্ছে, তাতে ৪১টি দফা আছে। মূলত জুন মাসে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক বছরের বাজেট তৈরি হয়। এটিকে সামনে রেখেই এই পরিপত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয় কমিশনের বৈঠকে। এতে ইউজিসির সদস্যসহ তিনটি মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ডিনরা যোগ দেন। বৈঠকে দেশের ৫১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। এ খাতে আসন্ন বছরে ১০ হাজার ৫১৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয় হবে। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১০ হাজার ৪৪৪ কোটি ৪ লাখ টাকা, আর ইউজিসির জন্য ৭১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। গত বছরের তুলনায় আগামী অর্থবছরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বরাদ্দ বেড়েছে ৯৩৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

উল্লিখিত পরিপত্রে আগামী ১০ জুনের মধ্যে ৫০ বিশ্ববিদ্যালয়কে তাদের চলতি অর্থবছরের সংশোধিত ও নতুন বছরের প্রাথমিক বাজেট পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরিপত্রে উল্লেখযোগ্য নির্দেশনার মধ্যে আছে-প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার আয়ের সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। বাকি ৪০ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে জমা করতে হবে। আর এই আয় নিজস্ব আয়ের মধ্যে অবশ্যই দেখাতে হবে। এছাড়া ভর্তি, টিউশন, পরীক্ষা, ল্যাব টেস্ট, বিশেষ কোর্স, বেতন থেকে কর্তনাদি, সম্পত্তি থেকে লব্ধ অর্থ ইত্যাদি অবশ্য নিজস্ব আয় হিসাবে বাজেটে দেখাতে হবে। বিভিন্ন প্রকার ব্যয়ে প্রযোজ্য হারে ভ্যাট ও কর আদায় করতে হবে। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্বভাতা বেতনের ১০ শতাংশ বা দেড় হাজার টাকার মধ্যে যেটি কম সেটি দেওয়া যাবে। অগ্রিম দেওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। আরও আছে, এক খাতের অর্থ অন্য খাতে কিংবা মূল খাতের অর্থ অভ্যন্তরীণ কোনো খাতেই সমন্বয় করা যাবে না। কমিশনের অনুমতি ছাড়া কোনো খাতে বরাদ্দের অতিরিক্ত ব্যয় করা যাবে না। কোনো খাতে বাড়তি অর্থের দরকার হলে ইউজিসিকে অবহিত করতে হবে। অনুমোদিত জনবলের বাইরে কোনো প্রকার নিয়োগ করা যাবে না। বিধিবহির্ভূত নিয়োগে ব্যয়ের অর্থের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়নি। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তরা অবসরপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান থেকেই উৎসব ও নববর্ষভাতা গ্রহণ করবেন। চুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রহণ করতে হলে তাকে অঙ্গীকারনামা দিতে হবে যে, তিনি অবসরপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান থেকে এসব ভাতা নেন না। এ ধরনের জনবলকে চুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে কনসোলিডেট পেমেন্ট ফিক্সেশনের সময়ে কোনোভাবেই উল্লিখিত দুই ভাতা অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। ইউজিসির অনুমোদন ছাড়া এডহক, দৈনিকভিত্তিক বা আউটসোর্সিং করা যাবে না। আর শূন্যপদে অনুমোদনের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ অনুমোদন সাপেক্ষে নিয়োগ করা যাবে।

পরিপত্রে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টার বা ডরমেটরিতে বসবাসরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ইত্যাদি ক্ষেত্রে সরকারের প্রচলিত নিয়মে আদায় করতে হবে। সুবিধাভোগীর কাছ থেকে অন্যান্য (পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস) প্রকৃত বিল আদায় করতে হবে। কোনো রূপ ভর্তুকি দেওয়া যাবে না। পুরাতন যানবাহন পুনঃস্থাপন, জমি/ফ্ল্যাট ক্রয় কিংবা বাড়ি ভাড়া, পেনশন-বিধি ও আর্থিক বিষয়ে প্রণীত নীতিমালাসহ অন্যান্য অর্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো অনুমোদনের জন্য ইউজিসিতে পাঠাতে হবে।

পিকে হালদারকে দেশে ফেরাতে রুল শুনানি আজ

বাংলাদেশ থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার পাচারে অভিযুক্ত এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার) ভারতে গ্রেফতার হয়েছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সংক্রান্ত রুলের শুনানির উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। মঙ্গলবার রুল শুনানির জন্য কার্যতালিকায় থাকবে।

সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করেন। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

একপর্যায়ে আদালত বলেন, আমাদের মেসেজ ক্লিয়ার। দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, সে যে–ই হোক। আমরা এ ব্যাপারে সিরিয়াস।

আমিন উদ্দিন বলেন, আদালত আরও বলেন যে যতবড় রাঘব বোয়াল হোক না কেন, ছাড় দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে এ ঘটনায় (গ্রেফতার) সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে আদালত।”

পিকে হালদারকে গ্রেফতার ও দেশে ফিরিয়ে আনার প্রশ্নে দেড় বছর আগে স্বতঃপ্রণোদিত রুল দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এ রুলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। এর মধ্যেই গত শনিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার হয়েছেন পিকে হালদার। বাংলাদেশে আর্থিক খাতে আলোচিত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করার অভিযোগ রয়েছে।

গত শনিবার ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) পশ্চিমবঙ্গ থেকে পলাতক পিকে হালদারকে গ্রেফতার করে। ইডির বরাত দিয়ে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানায়, পিকে হালদার রেশন কার্ড, ভারতের জাতীয় পরিচয়পত্র, আয়কর দফতরের পরিচয়পত্র পি এ এন (প্যান) ও আধার কার্ডের মতো ভারতীয় বিভিন্ন সরকারি পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার অশোকনগরে অবস্থান করছিলেন। সেখানে তিনি শিব শংকর হালদার নাম নিয়েছিলেন। যদিও সরকার জানিয়েছে, পিকে হালদারের গ্রেফতারের বিষয়টি ভারত এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

‘এটাই আমার অনেক আনন্দের বিষয়’

প্রবাস মানে ব্যস্ততা। কমন এ ব্যাপারটি সবার জানা। এই ব্যস্ততার ফাঁকে জীবনকে এগিয়ে নিতে হয়। কামরুন নাহার তুলি এর বাইরের কেউ নয়। একজন গুণী নারী বলা যায়। বর্তমানে সময়ে নারীরা দেশ-বিদেশে সফলতার দৃষ্টান্ত বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করে যাচ্ছেন নিজ মেধা, শ্রমের মাধ্যমে।

একজন নারী স্বামী-সংসার সামলিয়ে প্রবাসে শিশুদের বাংলা শিক্ষায় শিক্ষিত করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন। এটা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় কাজ। একই সঙ্গে দেশের জন্য অনন্য গর্ব বলাই যেতে পারে। জলকন্যা খ্যাত ভেনিসের খুব কাছেই ত্রেভিজো সেখানেই স্বামী,দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন তুলি এবং ভালো আছেন।

২০০৭ সালে একজন গৃহিণী হিসেবে ইতালি পাড়ি জমান কালের পরিবর্তনে সংসারের পাশাপাশি নিজের মেধাকে আরও গতিশীল রাখতে প্রবাসে শিক্ষক পেশা বেছে নেয়। খুব সম্মান আর সফলতার সাথে ত্রেভিজো বাংলা স্কুলে প্রবাসে উঠতি বয়সের ছেলে/মেয়েদের বাংলা শিক্ষা প্রদান করছেন তিনি। ২০১৮ সালে এপ্রিল মাস থেকে স্কুলটি চালু করা হয়। এখনো পর্যন্ত বেশ সুনামের সাথে স্কুলের কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে ভবিষ্যতে এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা তার সেজন্য দেশ-বিদেশের সবার দোয়া প্রত্যাশা করেছেন। স্বামী কামরুল হাসান রাসেল স্কুলটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংসারে জীবনে সুখে আছেন তারা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন যুগান্তর ইতালি প্রতিনিধি জমির হোসেন—

পরবাস যুগান্তর : কেমন আছেন?
কামরুন নাহার তুলি : আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে ভালো আছি।

পরবাস যুগান্তর : শিক্ষকতা পেশায় কিভাবে এলেন?
কামরুন নাহার তুলি : ইতালি ত্রেভিজো শহরে আগে কোনো বাংলা স্কুল ছিলোনা। এখানকার বাচ্চারা ইতালিয়ান ভাষায় পড়ালেখা করে। বাংলা লিখতে ও পড়তে পারতোনা। তারা বাবা মায়ের সাথেও বাসায় ইতালিয়ান ভাষায় কথা বলতো বেশি। কারন বাংলা সেখানোর কোনো স্কুল ছিলোনা। এতে আমাদের মাথায় চিন্তা এলো যে একটা সময় গিয়ে হয়তো এখানকার বাচ্চাগুলো বাংলা লিখতে ও পড়তে পারবেনা। বাংলা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা। এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাংলা শিক্ষা বাচ্চাদের দেয়ার উদ্দেশ্যে ত্রেভিজো বাংলা স্কুল আমরা কয়েকজন মিলে নিজ উদ্যোগে গঠন করে শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শুরু করি। এভাবেই আমার শিক্ষকতায় আসা।

পরবাস যুগান্তর : শিক্ষক হিসেবে প্রথম দিন কেমন কেটেছে?
কামরুন নাহার তুলি : শিক্ষক হিসেবে আমার প্রথম দিনটিতে অসম্ভব সুন্দর একটা অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি। এখানকার বাচ্চারা ইতালিয়ান স্কুলে পড়ে বিধায় তারা কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে বাংলায় ঠিকমতো গুছিয়ে বলতে পারছিলোনা। বাংলা লিখতে ও পড়তে পারেনা। তখন আসলেই নিজেকে সেই মুহূর্তে গর্বিত মনে হয়েছিলো যে ইতালিতে একটা বাংলা স্কুল গঠন করতে পেরেছি বলেই আজ বাচ্চারা এই স্কুলে এসে আজ বাংলা শিখতে পারছে। তখন তাদের বাংলা শিখাতে পেরেও খুব আনন্দ লাগছিলো। কারণ বাংলা মায়ের ভাষা। এই বাংলা ভাষা বাচ্চাদের শিখাতে পারছি। সত্যিই একটি ভালো কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পেরেছি।

যুগান্তর পরবাস: আপনার ছাত্রজীবন সম্পর্কে কিছু বলুন।
কামরুন নাহার তুলি : আমার ছাত্রীজীবন অনেকটাই আনন্দময় কেটেছে। ছাত্রী হিসেবে মেধাবী ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ। এসএসসি মুসলিম মডার্ন একেডেমী থেকে এইচএসসি আদমজী ক্যান্টনম্যান্ট কলেজ থেকে এবং সমাজ বিজ্ঞানে অনার্স তিতুমীর কলেজ থেকে। বিয়ের পড় স্বামীর পাঠানো ভিসায় ইতালি চলে আসার কারনে পড়ালেখা কম্পলিট করতে পারিনি। ছাত্রীজীবনে আমার অনেক মনে রাখার মতো অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার মধ্যে একটি বলছি,আমি যখন এইচ,এস,সি টেষ্ট পরীক্ষা দেই আদমজী ক্যান্টনম্যান্ট কলেজে আর্স থেকে। রেজাল্ট এর আগে প্রধান শিক্ষিক ও ইসলাম এর ইতিহাস বিষয়ের শিক্ষক আমার আব্বাকে ফোন দিয়ে দেখা করতে বলেন। এটা শুনে আমাতো ভয়ে শেষ। কেনো দেখা করতে বললো? আমিকি তাহলে রেজাল্ট খারাপ করেছি? অনেক ভয়ে ছিলাম না জানি আব্বাকে কি বলবে? পরে দেখা করতে গেলাম বাবা সহো। আমার বাবাকে আমার ইসলাম এর ইতিহাস পরীক্ষার খাতা বেড় করে দেখালেন। বললেন আমার শিক্ষকতা জিবনে এমন ছাত্রী দেখেনি যে কিনা এতো পৃষ্ঠা নিয়েছে এবং এতো ভালো লিখেছে। ও অল্প সময়ে এতো লেখা লিখেছে যা কখনো দেখিনি। আপনার মেয়ে ভবিষ্যৎ এ অনেক ভালো করবেন এমন মেয়ে আপনার ঘরে জন্মেছে। শিক্ষকের কাছ থেকে এমন কথা শুনে আমার বাবা আমাকে নিয়ে অনেক গর্ব করেছে। সেই দিনের কথা আমি কখনো ভুলবো না।

যুগান্তর পরবাস : আপনাদের সময়ের শিক্ষাব্যবস্থা ও বর্তমান সময়ের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে কী পার্থক্য লক্ষ্য করেন?
কামরুন নাহার তুলি : আমাদের সময়ের শিক্ষা ব্যবস্থা ও বর্তমান সময়ের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে কিছুটা পার্থক্যতো আছেই। যেমন আমাদের সময়ের অনেক বানান আর এখনকার বানানে মিল নেই। অনেক বানান পরবর্তন হয়েছে। অনেক উচ্চারণ পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের সময়ে এতো সুযোগ সুবিধা আমরা পাইনি কিন্তু এখন ছাত্র ছাত্রীরা চারিদিক থেকে সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে।

যুগান্তর পরবাস : আপনি শিক্ষামন্ত্রী হলে বিশেষ যে তিনটি কাজ করতেন?
কামরুন নাহার তুলি : আমি শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পেলে যে ৩টি কাজ করতাম তা হলো- প্রথমতো আমি প্রবাসে বেড়ে উঠা বাংলাদেশি বাচ্চাদের জন্য একটা বাংলা স্কুল গঠনের ব্যবস্থা করে দিতাম। । দ্বিতীয়ত সেই স্কুলে তাদের বিনা বেতনে পড়ার ব্যবস্থা করে দিতাম এবং তৃতীয়ত সেই স্কুলে প্রতি বছর বই বিতরণ ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা, শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগের ব্যবস্থা করতাম। যেন বিদেশের মাটিতে বড় হয়েও বাচ্চারা বাংলা পড়তে বলতে ও লিখতে পারে।

যুগান্তর পরবাস: শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
কামরুন নাহার তুলি: শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। পড়ালেখার পাশাপাশি তাদের কিছুটা সময় খেলার সুযোগ দিলে শারীরিক মানসিক বিকাশ ঘটে। তাদের মন প্রফুল্ল থাকে।

যুগান্তর পরবাস : আপনার বিদ্যানিকেতনটি সম্পর্কে কিছু বলুন।
কামরুন নাহার তুলি : আমার স্কুলে বাচ্চাদের পড়াতে অনেক ভালো লাগে। নিজের কিছু জ্ঞান তাদের মধ্যে বিলিয়ে দিতে পেরে অনেক আনন্দিত। তাদের কিছু শিখাতে পারছি এর থেকে ভালো কাজ আর কি হতে পারে। স্কুলের বাচ্চারা আমাকে শিক্ষিকা হিসেবে মান্য করে সন্মান করে এটা অনেক বড় পাওয়া।

যুগান্তর পরবাস: আপনার প্রিয় ছাত্র কারা? কেন প্রিয়?
কামরুন নাহার তুলি : স্কুলের প্রতিটি ছাত্রছাত্রী আমার প্রিয়। আমার সন্তানের মতোই আমি আদর করি। তারাও আমাকে সন্মান করে স্রদ্ধা করে। যখন ক্লাসে ঢুকে সালাম দেয় খুব ভালো লাগে। আর ছাত্রছাত্রীরা যখন আমি শিক্ষিকা বলে সব কথা মান্য করে এতে করে সবাইকে খুব ভালো লাগে।

যুগান্তর পরবাস : শিক্ষকতা জীবনের একটি আনন্দের ঘটনা বলুন।
কামরুন নাহার তুলি : শিক্ষকতা জীবনের অনেক আনন্দের ঘটনা আছে। সব বলে তো শেষ করা যাবে না। তবে একটি বলতে চাই সেটা হচ্ছে- শিক্ষিকা হিসেবে ইতালির মাটিতে বাচ্চাদের বাংলা শিক্ষা দেওয়ার জন্য এবং বিনা পারিশ্রমিকে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করার জন্য শিক্ষিক সন্মাননা দুবার পেয়েছি। এটাই আমার অনেক আনন্দের বিষয়। এছাড়া স্কুলে বিশেষ দিনগুলোতে আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠান করি। যেমন অংকন প্রতিযোগিতা ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ শে মার্চ। সবাই মিলে পিকনিকে যাই সব শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীরা কবিতা,গান, গল্প, কৌতুক বলে, আমরা অনেক আনন্দ, মজা করি। খুবই আনন্দে কাটে আমাদের স্কুলের প্রতিটি মুহূর্ত।

আমি সেই মানুষ হতে চাই

আমি যখন সূর্যের মতো অন্ধকারে ডুবে যাই,
তখন লোভে হয়ে পড়ি পথভ্রুষ্ট,
হয়ে পড়ি দুর্নীতিগ্রস্ত।

আমি বিবেকের মুখামুখি হয়ে
নিজেকে প্রশ্ন করি,
আমি দেখতে মানুষের মতো
তারপরও কেন দানবের মতো আচরণ আমার?

আমি বারবার ব্যর্থ হই
কিন্তু থেমে যাইনি
তাই সলকে ফিরে আসি।

আমিও ভুল করি,
কিন্তু শিখার আগ্রহ কমেনি।

আমিও নিখুঁত নই
তবু প্রতিকূলতায় লড়াই করে চলছি।

আমিও রেগে যাই
কিন্তু শুধরিয়ে নিতে শিখেছি।

আমারও মন খারাপ হয়
কিন্তু করিনে অভিনয়।

আমিও অন্যায় করি
তবে তার জন্য অনুতপ্ত হই।
আমিও ভালোবাসতে চাই
এবং ভালোবাসা পেতে চাই।

আমার চাওয়াই আমার জীবনের বাধা
আর আমার পাওয়াই আমার জীবনের স্বার্থকতা।

আমার বিশ্বাসই আমার শক্তি,
আমার শক্তিই আমার স্রষ্টা,
আমি তাঁরই সৃষ্টি মানুষ।

অস্বস্তিকর পেটের পীড়া কেন হয়, কী করবেন?

পেটের সমস্যায় আমরা অনেকেই ভুগে থাকি। কোনো কোনো সময় পেটের পীড়া অস্বস্তিকর হয়ে উঠে। এটিকে আইবিএস বলা হয়। এর অর্থ হচ্ছে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম। ইংরেজিতে সিনড্রোম শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে একটি রোগের বিভিন্ন উপসর্গ বা লক্ষণের সমষ্টি।

তাই আইবিএসকে পেটের কয়েকটি উপসর্গ বা লক্ষণের সমন্বয়ে সংজ্ঞা হিসেবে ধরা হয়। এ রোগে পেট অধিকতর স্পর্শকাতর হয় বলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ক্রিয়াশীল হয়ে থাকে।

পশ্চিমা দেশগুলোতে প্রতি ১০ জনে অন্তত একজন মানুষ এ রোগে তার জীবদ্দশায় আক্রান্ত হয়ে থাকে। নাটোরের একটি গ্রামে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, প্রতি ১০০ জন পুরুষে ২০ দশমিক ৬ জন এবং ১০০ জন নারীর মধ্যে ২৭ দশমিক ৭ জন এ রোগে আক্রান্ত হন।

অস্বস্তিকর পেটের পীড়ার কারণ ও প্রতিকার নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের অধ্যাপক সুসেন কুমার সাহা।

কেন হয়

আজ পর্যন্ত এ রোগের প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। অনেক কারণে এ রোগ হয় বলে চিকিৎসার অন্তর্নিহিত কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। এখন পর্যন্ত কেবল উপসর্গের চিকিৎসা দিয়ে রোগীকে ভালো রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন কারণের মধ্যে খাদ্যনালির অতি সংবেদনশীলতা, পরিপাকতন্ত্রের নাড়াচাড়ার অস্বাভাবিকতা বা অন্ত্র থেকে মস্তিষ্কে পাঠানো বার্তায় ত্র“টির কারণে আইবিএসের লক্ষণগুলো দেখা দেয়। এছাড়া স্নায়ুর চাপ এবং দুশ্চিন্তা, খাদ্যাভ্যাস, অন্ত্রের প্রদাহ এবং সংক্রমণ, হরমোন (নারীদের মাসিকচক্রের সঙ্গে), মাদক গ্রহণ, বংশগত কারণ, পেটের যে কোনো অপারেশন ও দীর্ঘকাল ধরে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের কারণে আইবিএসের সমস্যা বেড়ে যায়।

উপসর্গ

পেটব্যথা, পেটফাঁপা, পায়খানার সঙ্গে আম যাওয়া, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমন্বয় ইত্যাদি। কোনো রোগীকে আইবিএস হিসেবে শনাক্ত করতে হলে এ লক্ষণগুলোতে অন্তত দুটি লক্ষণ তিন মাস পর্যন্ত উপস্থিত থাকতে হবে। এছাড়া অন্য যেসব লক্ষণ থাকতে পারে, সেগুলো হল- পেটে অত্যধিক গ্যাস, পেটে অত্যধিক শব্দ, বুক জ্বালা, বদহজম, পায়খানা সম্পূর্ণ না হওয়া, পেটে ব্যথা হলে টয়লেটে যাওয়ার খুব তাড়া, পেটব্যথা হলে পাতলা পায়খানা হওয়া, শারীরিক অবসাদ ও দুর্বলতা, মাথাব্যথা, পিঠে ব্যথা, কোমরে ব্যথা, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক চলাকালীন কিংবা মিলনের সময় ব্যথা। কিন্তু যদি পায়খানার সঙ্গে রক্ত পড়ে, শরীরের ওজন কমে যায় এবং হঠাৎ পায়খানার ঘনত্বের পরিমাণ কমে যায়, এগুলো অন্য কোনো রোগের এমনকি কোলোরেকটাল ক্যান্সারের উপসর্গও নির্দেশ করে। এ অবস্থায় অতিসত্বর কোনো গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের শরণাপন্ন হতে হবে।

রোগ নির্ণয়

এ রোগ সাধারণত উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে নির্ণয় করা হয়। রোগীর বয়স ও সুনির্দিষ্ট লক্ষণের ওপর নির্ভর করে এক বা একাধিক পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। ৪০ বছরের কম বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে লক্ষণের ওপর নির্ভর করে রোগ শনাক্ত করা যায়। বয়স ৪০ বছরের ওপরে হলে কিছু পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। তবে আইবিএস রোগীর ক্ষেত্রে এসব পরীক্ষার ফলাফল স্বাভাবিক থাকবে। পরীক্ষাগুলো হল-

* রক্ত পরীক্ষা

* মল পরীক্ষা

* পেটের এক্স-রে

* বেরিয়াম এনেমা

* প্রক্টোসিগময়ডোস্কপি/ কোলোনোস্কপি

চিকিৎসা

আইবিএস ঝুঁকিপূর্ণ রোগ নয়, সংক্রামক রোগও নয়, এমনকি বংশগত রোগও নয়। এ রোগ অন্ত্রের ক্যান্সার কিংবা অন্য কোনো ক্যান্সারের কারণ নয়, এ কথাগুলো রোগীর চিকিৎসা শুরুর আগে রোগীকে ভালো করে বুঝতে হবে। প্রথমেই রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে একটা সম্পর্ক গড়ে নিতে হবে। তাহলেই এ রোগের চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া যাবে। রোগীর উপসর্গ কমে না বলে রোগী ঘন ঘন চিকিৎসক পরিবর্তন করেন। ঘন ঘন চিকিৎসক পরিবর্তন করলেই ভালো ফল লাভ করা যাবে না, এ কথা রোগীকে বুঝাতে হবে। বিদেশী সমীক্ষায় দেখা গেছে, আইবিএস রোগীদের মধ্যে ১০ শতাংশ চিকিৎসকের কাছে যান। অধিকাংশ রোগী সামান্য ব্যবস্থায়ই উপশম লাভ করেন। কিন্তু তাদের ২৫ শতাংশ রোগীর উপসর্গের কোনো পরিবর্তন হয় না। এমনকি তাদের অবস্থা আগের চেয়েও খারাপ হতে পারে।

চিকিৎসা

বর্তমানে আইবিএসের চিকিৎসা উপসর্গভিত্তিক। ডায়রিয়াপ্রবণ আইবিএস (ওইঝ-উ), কোষ্ঠকাঠিন্যপ্রবণ আইবিএস (ওইঝ-ঈ) ও উভয় লক্ষণ থাকলে (ওইঝ-গ) সে অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া হয়। আইবিএস চিকিৎসায় কোনো একক ওষুধ সম্পূর্ণরূপে কার্যকরী নয়।

* প্রথমত, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। দুধ ও দুধজাতীয় খাবার রোগীর উপসর্গ বাড়িয়ে দেয়। তাই এগুলো পরিহার করতে হবে। খাবার খাওয়ার সময় লক্ষ্য করুন কোন খাবারগুলো আপনার উপসর্গ বাড়িয়ে দেয়, সেগুলো পরিহার করুন।

* মানসিক চাপ কমাতে হবে। এমনকি মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে হবে। ব্যায়াম করতে পারেন অথবা মনকে আনন্দ আর প্রশান্তি দিতে পারে এমন কিছু করতে পারেন। রিলাক্সেশনথেরাপির মাধ্যমে মানসিক চাপ কমানো যেতে পারে।

* আইবিএসডির ক্ষেত্রে লোপেরামাইড, ডাইফেনোঅক্সালেট, অক্সিফেনোনিয়াম প্রভৃতি ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এ ওষুধগুলো অন্ত্রের নাড়াচাড়া কমানোর মাধ্যমে কাজ করে।

* আইবিএসসির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের লেক্সোটিভ-জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয়। ইসবগুলের ভুসি ও অন্য আঁশ এ ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

* যেসব রোগীর ক্ষেত্রে পেটে ব্যথা, আইবিএসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উপসর্গ সে ক্ষেত্রে অ্যান্টিস্পাসমোডিক্স-জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এগুলো অন্ত্রের সংকোচন কমানোর মাধ্যমে কাজ করে।

ঢাবি ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোড শুরু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য আজ সোমবার থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড শুরু হচ্ছে। আজ থেকে প্রতি ইউনিটের পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগপর্যন্ত প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যাবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করেছেন প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার ৩৪৮ শিক্ষার্থী। আবেদন ফি ছিল ১ হাজার টাকা।

এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসনসংখ্যা ৬ হাজার ৩৫টি। অর্থাৎ প্রতি আসনের জন্য এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৮ জন। ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ৩ জুন থেকে।

গত ২০ এপ্রিল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রার্থীদের ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ও ফি জমা নেওয়া শুরু হয়। পাঁচটি ইউনিটেই এবার আবেদনের যোগ্যতার শর্ত কিছুটা শিথিল ছিল।

গত মঙ্গলবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদনের সুযোগ ছিল।

এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ক, খ, গ, ঘ ও চ ইউনিটগুলোতে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৩ জুন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ‘গ’ ইউনিটের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবারের ভর্তি পরীক্ষা। এরপর ৪ জুন কলা অনুষদভুক্ত ‘খ’ ইউনিট, ১০ জুন বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিট, ১১ জুন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিট আর ১৭ জুন চারুকলা অনুষদভুক্ত ‘চ’ ইউনিটের সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ক, খ, গ ও ঘ ইউনিটের পরীক্ষা হবে বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত (দেড় ঘণ্টা)। তবে চারুকলার সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষাটি হবে বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত (৩০ মিনিট)।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক, খ, গ ও ঘ ইউনিটে এবার মোট ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে ৬০ নম্বরের বহুনির্বাচনী ও ৪০ নম্বরের লিখিত অংশ থাকবে। দুই অংশের উত্তর দেওয়ার জন্য ৪৫ মিনিট করে মোট ৯০ মিনিট সময় থাকবে। চ ইউনিটে সাধারণ জ্ঞান অংশে ৪০ নম্বরের বহুনির্বাচনী পরীক্ষা হবে। এর উত্তর দেওয়ার জন্য সময় থাকবে ৩০ মিনিট। এ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরে মেধাক্রম অনুযায়ী ১ হাজার ৫০০ জন ৬০ নম্বরের অঙ্কন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ওই পরীক্ষার জন্য বরাদ্দ থাকবে ৪৫ মিনিট সময়। পাঁচটি ইউনিটেই প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএর ওপর ১০ করে মোট ২০ নম্বর যোগ করে মেধাতালিকা প্রস্তুত করা হবে।

ভারতে একসঙ্গে দুটি পুরস্কার পেলেন শাকিব খান

একটি নয়; সেরা অভিনেতার দুটি পুরস্কার পেয়েছেন ঢাকাই সিনেমার সুপারস্টার শাকিব খান।

শনিবার সন্ধ্যায় কলকাতার রবীন্দ্র সরোবরে নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ১৯তম টেলিসিনে অ্যাওয়ার্ড। এতে ‘পাসওয়ার্ড’ ও ‘বীর’ সিনেমার জন্য সেরা অভিনেতার দুটি পুরস্কার পেয়েছেন শাকিব খান।

রোববার বিকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানিয়েছেন শাকিব নিজেই।

টেলিসিনে অ্যাওয়ার্ড দুটির ছবি পোস্ট করে শাকিব লেখেন— ‘পাসওয়ার্ড (২০১৯) এবং বীরের (২০২০) জন্য সেরা অভিনেতা হিসাবে দুটি পুরস্কার দিয়ে আমাকে সম্মানিত করায় টেলিসিনেকে ধন্যবাদ। যেটা আমাকে বেশি খুশি করেছে সেটি হলো— দুটো সিনেমায় এসকে ফিল্মসের প্রযোজনায়।’

সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে শাকিব লেখেন— ‘আমার দর্শক এবং পাসওয়ার্ড ও বীরের পুরো টিমকে ধন্যবাদ।’

করোনা মহামারির কারণে পরপর দুবার ‘টেলিসিনে অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠিত হয়নি। যে কারণে এবার একসঙ্গে ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ এই তিন সালের সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

তাসকিনের সঙ্গে শুটিং করতে গিয়ে আহত তানজিন তিশা

সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা তানজিন তিশা শুটিং করতে গিয়ে আহত হয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি আপাতত নিজ বাসায় বিশ্রামে আছেন। বিজ্ঞাপনটিতে তানজিন তিশার সহশিল্পী ছিলেন ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ।

রোববার সন্ধ্যায় বিরুলিয়ার একটি রিসোর্টে বিজ্ঞাপনের ফাইটিংয়ের দৃশ্যের শুটিং চলাকালে ডান হাতে মারাত্মকভাবে আঘাত পান তিশা।

এ বিষয়ে তিনি ব‌লেন, রোববার বিকাল থেকেই শুটিং করছিলাম। সন্ধ্যার পর ফাইটিংয়ের দৃশ্য করতে গিয়ে ডান হাতে মারাত্মক আঘাত পাই। হাত ফুলে গেছে।

প্রসঙ্গত আগা না‌হিয়ানের পরিচালনায় একটি মুঠোফোন কোম্পা‌নির বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন নাটকের প্রিয়মুখ তিশা ও ক্রিকেটার তাসকিন। সেই শুটিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এক ওভারেই ২ উইকেট শিকার নাঈমের

স্কোরবোর্ডে ২৫৮ রান জমা, ব্যাট হাতে অপরাজিত সেঞ্চুরিয়ান অ্যাঞ্জেলা ম্যাথিউস। এক কথায় অনেকটা স্বস্তিতেই দ্বিতীয় দিন মাঠে নেমেছিল শ্রীলংকা।

গতকাল কুসল মেন্ডিস জানিয়েছিলেন, প্রথম ইনিংসে ৫০০ রানের বেশি টার্গেট দেওয়ার লক্ষ্য তাদের।

সেই লক্ষ্য পূরণে প্রথম ঘণ্টা সফল সফরকারীরা। দারুণ ব্যাটিং করে কোনো বিপদ না ঘটিয়েই স্কোর ৩০০ ছাড়িয়ে নেন দুই অপরাজিত ব্যাটার ম্যাথিউস ও দিনেশ চান্দিমাল। হাফসেঞ্চুরি করেন চান্দিমাল।

প্রথম ঘণ্টায় একটাই সুযোগ এসেছিল তাদের বিচ্ছিন্ন করার। কিন্তু ম‍্যাথিউসের ব‍্যাটে বলের স্পর্শ কেউ বুঝতেই পারেননি। তিনি বেঁচে যান কট বিহাইন্ডের হাত থেকে, হাতছাড়া হয়ে যায় বাংলাদেশের সুযোগ।

তবে হতাশায় ডুবতে থাকা বাংলাদেশি সমর্থকদের হৃদয়ে আশার আলো ছড়িয়ে দিলেন সেই নাঈম। মিরাজের ইনজুরিতে ১৫ মাস পরে দলে সুযোগ পাওয়া অফস্পিনার।

লংকান শিবিরে জোড়া আঘাত হানলেন তিনি। এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে শিকার করলেন ৬৬ রানে ব্যাট করতে থাকা চান্দিমালকে।

১৩৬ রানের এই জুটিটা ভাঙলেন নাঈম। ইনিংসের ১১৪তম ওভারের প্রথম বলে চান্দিমালকে আউট করার পর পঞ্চম বলে দারুণ এক ডেলিভারিতে নিরোশান ডিকভেলাকে (৩) বোল্ড করেছেন নাইম।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১১৬ ওভার শেষে শ্রীলংকার সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩২৭ রান। ম্যাথিউজ ১৪৭ রানে অপরাজিত আছেন।

মহাসড়কজুড়ে ট্রাকের লম্বা সারি, সেবা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তি

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার অন্যতম প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট। এ নৌরুটের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের উপজেলা কোর্টচত্বর মাঠে স্থাপিত ট্রাকের ওজন মাপার স্কেল থাকায় গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের মহাসড়কজুড়ে ট্রাকের লম্বা সারি আটকে থাকায় হাসপাতালে সেবা নিতে আসা মুমূর্ষু রোগীদের ঢুকতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এ ছাড়া পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান আটকে থাকায় প্রচণ্ড তাবদাহের মধ্যে ট্রাকের চালক ও সহকারীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সোমবার সকালে সরেজমিন ঘুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দুই কিলোমিটার দূরে জমিদার ব্রিজ এলাকা পর্যন্ত ট্রাকের এসব লম্বা সারি আটকে থাকতে দেখা যায়।

বেনাপোল থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকচালক নুর আলম বলেন, সারা বছর উপজেলার কোর্টচত্বর এলাকায় ওজন মাপার স্কেল থাকায় মহাসড়কে চরম ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করতে হয়।

ট্রাকের ওজন মাপার স্কেলটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

গোয়ালন্দ হাসপাতালের সিনিয়র ওয়ার্ডবয় লুৎফর রহমান বলেন, সকালে আমার ডিউটি শেষ করে বাড়ি যাবে, কিন্তু ট্রাকের কারণে দীর্ঘক্ষণ রাস্তা পারাপারের জন্য আটকে আছি। আমাদের হাসপতালসহ পাশের আরেকটি পশুহাসপাতাল থাকায় মহাসড়ক পার হতে মুমূর্ষু রোগীসহ মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে জানান।

হাসপাতালের নার্স সুমি খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভাই এসব বাদ দেন। বলে আর কি হবে? এত তো বললাম কিছু উন্নতি হয়েছে। ট্রাকের ওজন মাপার স্কেলটি কি আজ পর্যন্ত সরানো গেছে? ওজন মাপার স্কেলটিই মানুষের চলাচলে ভোগান্তির একমাত্র কারণ। মূলকথা হলো— ওজন মাপার যন্ত্রটি অন্য সরাতে হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়াঘাট শাখার ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. শিহাব উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, ওজন মাপার যন্ত্রটি অন্যত্র সরিয়ে নিতে উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় বার আলোচনা চলছে। সেটি স্থান নির্ধারনণ কাজ করছে।

নির্ধারিত স্থানটির খোঁজ পেলে ওজন মাপার স্কেলটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে আর কারও ভোগান্তি পোহাতে হবে না বলে জানান তিনি।