শুক্রবার ,১২ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 314

ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ফল প্রকাশ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২০ সালের ডিগ্রি পাশ ও সার্টিফিকেট কোর্স প্রথম বর্ষ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।

সোমবার রাত ৮টা থেকে পরীক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন ও কলেজওয়ারি ফলাফল www.nu.ac.bd/results- ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে।

এ পরীক্ষায় এক লাখ ৭১ হাজার ১৯৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। উত্তীর্ণ হয়েছেন এক লাখ ৪৯ হাজার ৬০৭ জন। গড় পাশের হার ৮৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

ফলাফল সম্পর্কে কোনো পরীক্ষার্থী বা সংশ্লিষ্ট কারো আপত্তি/অভিযোগ থাকলে ফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

এরপর আর কোনো আপত্তি/অভিযোগ গ্রহণযোগ্য হবে না বলে জানিয়েছেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মো. আতাউর রহমান।

আমিরাতের নতুন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের নতুন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ বিন জায়েদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ান।

সাক্ষাৎ শেষে সোমবার এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেছেন, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে উষ্ণ সম্পর্ক বিরাজ করলে এ অঞ্চলের শত্রুরা হতাশ হবে। খবর ইরনার।

এর আাগে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদের শোকানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

আব্দুল্লাহিয়ান নিজের অফিসিয়াল টুইটার পেজে দেয়া এক পোস্টে বলেন, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্কে নয়া দিগন্তের সূচনা হয়েছে। আমরা প্রতিবেশীদেরকে উষ্ণতার বন্ধনে আবদ্ধ করতে চাই। আমাদের মধ্যকার উষ্ণ সম্পর্ক এ অঞ্চলের শত্রুদের হতাশ করবে।

শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে আবুধাবি সফররত আব্দুল্লাহিয়ান সোমবার বিকেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নতুন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ বিন জায়েদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাতে তারা দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বিষয়াদি নিয়ে কথা বলেন। এ সময় আরব আমিরাত প্রবাসী ইরানি নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ (৭৩) গত শুক্রবার মৃত্যুবরণ করার পর গত শনিবার মোহাম্মাদ বিন জায়েদকে দেশটির নয়া প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত করা হয়।

ইউক্রেনের সেই স্টিল মিল থেকে ২৬৪ সেনা উদ্ধার

ইউক্রেনের বন্দরনগরী মারিউপোলের আজভস্টালে স্টিল মিলে আটকেপড়া ২৬৪ ইউক্রেনীয় সেনাসদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এদের মধ্য ৫৩ জনকে গুরুতর আহতাবস্থায় নোভোয়াজভোস্ক শহরের একটি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। খবর আনাদোলুর।

ইউক্রেনের সেনাপ্রধান মঙ্গলবার ভোরে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, উদ্ধার করা বাকি ২১১ জনকে ওলেনিভকা শহরের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এক টেলিগ্রাম পোস্টে বলেন, আমরা আমাদের জতীয় বীরদের জীবিত দেখতে চাই। মাবিউপোলের স্টিল মিল থেকে আমাদের সেনাদের উদ্ধারের মাধ্যমে আমরা আমাদের নীতি সম্পর্কে সবাই ধারণা পেয়েছেন।

উল্লেখ্য, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, মারিউপোলের আজভস্টালে আটকে থাকা আহত যোদ্ধাদের বের করে নিতে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করেছে ইউক্রেন।

এ চুক্তিতে সম্মত হওয়ার মাধ্যমে আহত যোদ্ধাদের বের হওয়ার সুযোগ দিল রাশিয়া।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত যোদ্ধাদের রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত নোভোয়াজোভস্কের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে।

এ ব্যাপারে বিবৃতিতে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, মারিউপোলের আজভস্টালের আহত সেনাদের উদ্ধার করতে ইউক্রেনের সেনা প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া। তাদের উদ্ধার করার সময় সব ধরনের হামলা বন্ধ রাখা হবে।

এদিকে মারিউপোলের আজভস্টালে প্রায় এক হাজার ইউক্রেনীয় সেনা ও আজভ ব্রিগেডের সদস্য আটকে আছেন।

তাদের আত্মসমর্পণ করতে অনুরোধ জানিয়েছিল রাশিয়া। কিন্তু রাশিয়ার এ ডাকে সাড়া দেননি যোদ্ধারা।

তবে এরপর ইউক্রেনের পক্ষ থেকে জানানো হয় আজভস্টালে অসংখ্য আহত সেনা পড়ে আছেন। তাদের জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা প্রয়োজন।

আর এসব আহত যোদ্ধাদের উদ্ধার করে নেওয়ার জন্য আবেদন জানাতে থাকেন সেখানে আটকে থাকা অন্য যোদ্ধারা।

ডলারের তীব্র সংকট, চাহিদা তুঙ্গে

এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডলারের বিপরীতে টাকার রেকর্ড অবমূল্যায়ন হয়েছে। আন্তঃব্যাংক লেনদেনে সোমবার ডলারের দাম বেড়েছে ৮০ পয়সা। এ নিয়ে চলতি বছরের সাড়ে চার মাসে চার দফা বাড়ল। বিশ্লেষকরা ডলারের এই ঊর্ধ্বগতি আরও সামনে এগোবে বলে আশঙ্কা করছেন। এ ধারা অব্যাহত থাকলে টাকার মান আরও কমবে এবং সংগতকারণে অর্থনীতিতে বিরূপ পড়াব পড়বে। একধরনের অস্থিরতার ঘেরাটোপ থেকে সহজে বের হওয়া যাবে না। ইতোমধ্যে এক বছরের ব্যবধানে আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম বাড়ল ২ টাকা ৭০ পয়সা।

এদিকে সোমবার আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা দরে। তবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় প্রতি ডলার বিক্রি হয় ৮৮ থেকে ৯৫ টাকা। স্মরণকালের মধ্যে কখনো এত বেশি হারে টাকার অবমূল্যায়ন বা ডলারের দাম বাড়েনি। আমদানি দেনা এবং বকেয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ বাড়ায় বাজারে ডলারের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। কিন্তু সে তুলনায় সরবরাহ নেই। এ কারণে বাজারে এর সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। উপরন্তু চাহিদা বেড়েই যাচ্ছে।

যদিও করোনার পর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ায় চাহিদা বেড়েছে। একই সঙ্গে আমদানি পণ্যের দামও বেড়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে পণ্যের দাম আরও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম ২৫ থেকে শতভাগের বেশি বেড়ে গেছে। এছাড়া করোনার সময়ে যেসব আমদানির দেনা ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ স্থগিত করা হয়েছিল, সেগুলোও এখন পরিশোধ করতে হচ্ছে। সবমিলে বাজারে ডলারের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। কিন্তু আমদানির তুলনায় রপ্তানি আয় সে হারে বাড়েনি। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমছে। এসব মিলে বাজারে ডলারের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

সূত্র জানায়, ডলারের দাম বাড়িয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন আমদানি নিয়ন্ত্রণের কৌশল নিয়েছে। এর বিপরীতে প্রবাসী ও রপ্তানিকারকদের মুদ্রাবিনিময় হারের বাড়তি সুবিধা দেওয়া হবে। ফলে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বাড়তি খরচের কারণে আমদানি কমে যাবে। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধপরিস্থিতি স্তিমিত হলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

সূত্র জানায়, আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে সোমবার সকালেই ডলারের দাম ৮০ পয়সা বাড়ানো হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অলিখিত সম্মতি নিয়েই দাম বাড়ানো হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার প্রতি ডলার আন্তঃব্যাংকে বিক্রি হয়েছিল ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা দরে। সোমবার বিক্রি হয়েছে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা দরে। এর আগে ৯ মে ডলারের দাম ২৫ পয়সা বাড়ানো হয়। ২৭ এপ্রিল বাড়ানো হয় আরও ২৫ পয়সা। ২৩ মার্চে ২০ পয়সা। এক বছর আগে অর্থাৎ গত বছরের মে মাসে প্রতি ডলার আন্তঃব্যাংকে বিক্রি হয়েছিল ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা দরে। এক বছর ব্যবধানে আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম বাড়ল ২ টাকা ৭০ পয়সা।

এদিকে আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকগুলোও এর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আমদানির জন্য প্রতি ডলার বিক্রি করছে ৮৮ থেকে ৯৫ টাকায়। নগদ ডলার বিক্রি করছে ৯০ থেকে ৯৪ টাকায়। আগাম ডলার বিক্রির ক্ষেত্রে দাম আরও বেশি। প্রতি ডলার ৯৪ থেকে ৯৬ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে ব্যাংকগুলো ডলার কিনছে ৮৭ থেকে ৮৮ টাকা দরে। ডলারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রার দামও বাড়ানো হয়েছে। বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে জোগান দেওয়া হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের সাড়ে ১০ মাসে ৫১৫ কোটি ডলারের জোগান দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেমে টাকার মান ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু চাহিদা বেশি বাড়লেই দাম বাড়াতে হচ্ছে।

রেমিট্যান্স কমা এবং আমদানি ব্যয় বাড়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমছে। সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রিজার্ভ ছিল ৪ হাজার ১৮২ কোটি ডলার, যা দিয়ে ৫ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ মাসের বেশি আমদানি ব্যয়ের সমান রিজার্ভ রাখার, অর্থাৎ রিজার্ভ ৫ হাজার ২০০ কোটি ডলার রাখার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এটি সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৪৪ শতাংশ, এলসি খোলা বেড়েছে ৫২ শতাংশ। এর বিপরীতে রপ্তানি আয় এপ্রিল পর্যন্ত বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। রেমিট্যান্স কমেছে ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ার চেয়ে ব্যয় হচ্ছে বেশি।

ফলে সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার চলতি হিসাবে ঘাটতি বেড়েই চলেছে। গত অর্থবছরের জুলাই-মার্চে এ হিসাবে ঘাটতি ছিল ৫৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ঘাটতি বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৪০৭ কোটি ডলার। অব্যাহতভাবে বৈদেশিক মুদ্রার আয় কমায় ঘাটতি বেড়ে গেছে। এ ঘাটতি বাড়তে থাকলে এবং দীর্ঘ সময় চলতে থাকলে টাকার মান ধরে রাখা কঠিন হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির হারও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে।

268
Shares
facebook sharing buttonmessenger sharing button

১৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে চাপে অর্থনীতি

গত ১৩-১৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে চাপে রয়েছে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি। রাজস্ব আয়ে ঘাটতির পাশাপাশি নতুন করে যোগ হয়েছে বিশ্ব সংকট। বিশেষ করে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি এবং রেমিট্যান্স আয়ে ঘাটতির কারণে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে। টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের দাম বৃদ্ধিসহ নানা কারণে অসহনীয় হয়ে উঠছে জিনিসপত্রের দাম। মনে হচ্ছে, আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও বেসামাল হয়ে উঠবে।

এ অবস্থায় ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরম আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংগঠনের আহ্বায়ক ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সিপিডির আরেকজন বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, ওয়ার্ল্ড ভিশনের পরিচালক টনি মাইকেল গোমেজ এবং কর্ডএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ শাকিব নবী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ক্রমেই দেশের জাতীয় সঞ্চয় কমছে। এ অবস্থায় বাজারমুখী দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে হবে। এছাড়াও করমুক্ত আয়সীমা ৫০ হাজার টাকা বাড়িয়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকা করার সুপারিশ করা হয়।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, প্রতিটি বাজেটের একটি প্রেক্ষিত থাকে। সেক্ষেত্রে এ বছরের বাজেটের তিনটি প্রেক্ষিত রয়েছে। প্রথমত, করোনার আগে সর্বশেষ অর্থবছর ছিল ২০১৮-১৯। বর্তমানে করোনা উত্তরণের কথা বলা হলেও অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকগুলো এখনো আগের অবস্থায় ফিরে যায়নি। এই ঘাটতি নিয়েই আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় বিষয় হলো-আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের সংকট চলছে। এক্ষেত্রে জ্বালানি তেল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক ধরনের অস্থিতিশীল ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তৃতীয়ত, ২০০৮-০৯ সালে বিশ্ব অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতে বড় সংকটের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। এরপর ১৩-১৪ বছরে এবারই সবচেয়ে চাপে বা টানাপোড়েনে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি। অর্থাৎ এখনো করোনা-উত্তর পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এর মধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে সংকট আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতিকে বড় ধরনের চাপে ফেলেছে। তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোয় দেশের আর্থিক দায়-দেনা পরিস্থিতির কাঠামোটি সর্বদাই দুর্বল ছিল। এটি এখনো অব্যাহত রয়েছে। আর দুর্বলতার লক্ষণ হলো কর-জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) অনুপাত ১০-এর ওপরে ওঠেনি। অর্থাৎ জিডিপির আকার ১০০ টাকা হলে বর্তমানে কর আদায় মাত্র ৯ টাকা ৪০ পয়সা। দক্ষিণ এশিয়ায় যা সবচেয়ে কম। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে উন্নয়ন কর্মসূচির চেয়ে পরিচালন ব্যয় অনেক বেশি।

তিনি বলেন, দেশে বাজেট ঘাটতিও বাড়ছে না। এর মূল কারণ হলো দুটি। প্রথমত, সম্পদের অভাব এবং দ্বিতীয়ত, সম্পদ থাকলেও এর গুণগতমান সম্পূর্ণ ব্যয় করতে না পারা। আর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এটি একটি কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বা ব্যর্থতা। অর্থাৎ কর আদায় কম, ব্যয়ও কম এবং নিয়ন্ত্রিত বাজেট ঘাটতি। এটি কোনো অবস্থাতেই অর্থনীতির শক্তির লক্ষণ নয়।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, এবারের পরিস্থিতি আরও ভিন্ন। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শক্তির জায়গা ছিল বৈদেশিক খাত। রপ্তানি, রেমিট্যান্স, বৈদেশিক সাহায্য এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগ শক্তিশালী ছিল। এতে বৈদেশিক আয়-ব্যয় বা চলতি হিসাবের ভারসাম্য শক্ত অবস্থানে ছিল। এই অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। গত বছরের মার্চ পর্যন্ত চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ৫৫ কোটি ডলার ঘাটতি ছিল। এ বছরে মার্চে ওই ঘাটতি ১ হাজার ৪০৭ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এই সংকট আরও বেশি পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে। অনেকে লেখেন বা বলে থাকেন, বাংলাদেশের রপ্তানি আয় এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। কিন্তু আমি বলব, এখানে অর্থনীতি বোঝার ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। কারণ রপ্তানির যে উল্লম্ফন, এটি আমদানীকৃত উপকরণের দাম বৃদ্ধির কারণে হয়েছে। ফলে এত রপ্তানি বৃদ্ধির পরও দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। আর গত বছর এই ঘাটতি ছিল এর অর্ধেকের কাছাকাছি।

অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে আমরা এত আত্মতুষ্টিতে ভুগছি; কিন্তু এটি ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে রিজার্ভ কমতে শুরু করে। এখনো এই কমা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে যে রিজার্ভ আছে (৪১ বিলিয়ন ডলার), তা নিয়ে ৪-৫ মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে না। একটি উদাহরণ থেকে এটি পরিষ্কার বোঝা যায়। বর্তমানে টাকার মান ধরে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ডলার ছাড়ার সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এতে ডলারের বিপরীতে টাকার মান ৭-৮ টাকা কমে গেছে। এরপর বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়তে থাকলে রিজার্ভে বড় ধরনের টান পড়বে। ফলে টাকার মান আরও কমতে থাকবে। এক্ষেত্রে প্রতি মার্কিন ডলার ১০০ টাকার কাছাকাছি চলে যাওয়া অনেকের কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হতে পারে। অর্থাৎ এ বছরে অর্থনীতির নতুন বিষয় হলো রাজস্ব খাতের সঙ্গে বৈদেশিক খাতের দুর্বলতা বাড়ছে।

সিপিডির এই বিশেষ ফেলো বলেন, আরেকটি বড় বিষয় হলো মূল্যস্ফীতি। এক্ষেত্রে ৬ দশমিক ২২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির কথা বলছে। কিন্তু এটি বাস্তবতার সঙ্গে আদৌ সংগতিপূর্ণ নয়। এক্ষেত্রে সরকারের তথ্যে আরও কৌতূহলের বিষয় হলো শহরের চেয়ে গ্রামে মূল্যস্ফীতি বেশি। গ্রামে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। মোট মূল্যস্ফীতির চেয়ে বেশি। একই সঙ্গে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের চেয়ে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেশি। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির তথ্য যে বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই, এর একটি উদাহরণ হলো সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবির তথ্য। ওই তথ্যে দেখা যাচ্ছে এক বছরে পাম অয়েলের দাম ৬১ শতাংশ বেড়েছে। আটা-ময়দার দাম বেড়েছে ৫৮ শতাংশ, সয়াবিন তেল ৫৬ শতাংশ, মসুর ডালের দাম ৪৭ শতাংশ, অ্যাঙ্কর ৩১ শতাংশ এবং ডিমের দাম বেড়েছে ২৯ শতাংশ। টিসিবির এই তথ্যই বলে দিচ্ছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বা বিবিএস প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির তথ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

ড. দেবপ্রিয়র মতে, অনেকেই বলেন বাংলাদেশের আমদানীকৃত পণ্যের দাম প্রতিবেশী দেশের তুলনায় কম। কিন্তু এই তথ্যও সঠিক নয়। কারণ বর্তমানে দেশে প্রতি কেজি পাম অয়েলের দাম ১৮৩ টাকা। ভারতের সঙ্গে তুলনা করে দেখা যায়, সেখানে দাম ১৭৩ টাকা। অর্থাৎ দেশটির চেয়ে বাংলাদেশে দাম কেজিতে ১০ টাকা বেশি। এছাড়াও আটা-ময়দায় ভারতের সঙ্গে পার্থক্য ৯ টাকা এবং মশুর ডালে ১০ টাকা। তবে বাংলাদেশের চেয়ে ভারতে জ্বালানি তেল ও ডিজেলের দাম বেশি।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে বিবিএস ২০০৫-০৬ ভিত্তিবছর ধরে। অর্থাৎ ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ভোক্তারা যে পণ্য ও সেবা ব্যবহার করতেন, একে ভিত্তি ধরে মূল্যস্ফীতির হিসাব করছে। কিন্তু গত ১৭ বছরে মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ও খাদ্যাভ্যাসের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ফলে ৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতির যে কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবে এটি ১২ শতাংশ হওয়া অসম্ভব কিছু না। আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম যে হারে বেড়েছে, সেই উচ্চমূল্যের পণ্য এখনো বাংলাদেশে আসেনি। এছাড়াও মুদ্রার বিনিময় হার আরও বাড়লে তা পণ্যমূল্যে প্রভাব পড়বে। তাই সবকিছু মিলে পরিষ্কারভাবে বলছি, বিবিএস প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির হিসাব বাস্তব ও বিজ্ঞানসম্মত নয়।

ড. দেবপ্রিয় আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকার জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়াতে চাচ্ছে। আর সরকার এই মুহূর্তে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে তা বাস্তবসম্মত হবে না। এক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ হলো-সরকার যেসব খাতে ভতুর্কি দিচ্ছে, সেই ভতুর্কি না দিয়ে অর্থ সমন্বয় করা হলে জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না।

তিনি বলেন, একটি দেশের অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা কতটা সুসংহত, তা বোঝার জন্য তিনটি সূচক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো মূল্যস্ফীতি হার, মুদ্রার বিনিময় হার এবং ঋণের সুদের হার। এই তিনটি সূচকের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় যে বিষয়টি জোর দিয়ে বলতে চাচ্ছি, তা হলো মূল্যস্ফীতির সঙ্গে টাকার মূল্যমান কমে যাচ্ছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে সুদের হার আটকে রাখা হচ্ছে। এক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, সুদের হার কম থাকলে বিনিয়োগ বাড়বে। কিন্তু ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ এবং আমানতের সুদের হার ৬ শতাংশ করা হয়েছিল। এতে গত কয়েক বছরে বিনিয়োগ বেড়েছে-এমন তথ্য আমরা পাইনি। কারণ সুদ ছাড়াও বাংলাদেশে বিনিয়োগে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এগুলো দূর করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের গড় সুদ ৪ দশমিক ০১ শতাংশ। কিন্তু মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ২২ শতাংশ। এর মানে হলো ব্যাংকে টাকা রাখলে অর্থের প্রকৃত মূল্য প্রতিবছর ২ শতাংশ হারে কমে যাচ্ছে। এটিকে আমরা বড় ধরনের সঞ্চয়বিরোধী নীতি বলছি।

ড. দেবপ্রিয়র মতে, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য আমরা মূল্যস্ফীতিকে কেন্দ্রীয় সূচক হিসাবে বিবেচনার সুপারিশ করছি। অন্য সূচকগুলোকে সহযোগী হিসাবে বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নষ্ট হলে নিু আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর পরের বিষয় হলো বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। গত কয়েক বছরে দেখা যাচ্ছে, বিনিয়োগ কোনোভাবেই ৩৩ শতাংশের বেশি বাড়ানো যাচ্ছে না। এর মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগের হার হলো ২৩-২৪ শতাংশ। কিন্তু করোনার আগে ২০১৯ অর্থবছরে বিনিয়োগ ছিল জিডিপির ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ এখনো আমরা আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারিনি। এরপরও জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। এখানেও আমরা বলছি জিডিপি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। অন্যদিকে সরকার বলছে, বৃহৎ শিল্পে জিডিপির ১২ দশমিক ৮৭ শতাংশ বিনিয়োগ হয়েছে। এক্ষেত্রে ছোট ও মাঝারি শিল্পে ১১ দশমিক ৭১ এবং কুটিরশিল্পে ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এখানেও দেখা যাচ্ছে বড় শিল্প বেশি সুবিধা পাচ্ছে। কিন্তু সাধারণ নিয়মে ছোট শিল্পে বিনিয়োগ হলে কর্মসংস্থান বাড়ে। এখানেও বৈষম্য হচ্ছে। ফলে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এবারের বাজেটে দেশীয় বাজারমুখী শিল্পকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, আরেকটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ-আমাদের সঞ্চয় কমে যাচ্ছে। করোনার মধ্যেও ২০২০ সালে আমাদের সঞ্চয়ের হার জিডিপির ৩১ দশমিক ৪২ শতাংশ, ২০২১ সালে তা কমে ৩০ দশমিক ৭৯ শতাংশে নেমে আসে। সর্বশেষ চলতি বছর তা আরও কমে ২৫ দশমিক ৪৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এ সময়ে অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় ২৭ দশমিক ০৮ শতাংশ থেকে কমে ২১ দশমিক ৫৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এর মানে হলো-মানুষ আর্থিক কষ্টের কারণে সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে। এটি অর্থনৈতিক দুর্বলতার অন্যতম লক্ষণ। তিনি বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে (এডিপি) আমরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টিকে পর্যালোচনা করেছি। এখানে আমরা দেখেছি, মোট এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৪১ দশমিক ২২ শতাংশ। কিন্তু এই তিন খাতে বাস্তবায়ন ৩৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। আগের অর্থবছরও যা ছিল ৩৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ কমছে। তিনি বলেন, বর্তমানে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ টাকা। কিন্তু সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তা সাড়ে ৩ লাখ টাকা করা উচিত। পাশাপাশি দুস্থ মানুষের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে হবে। সামগ্রিকভাবে বাজেট হবে মানুষের আয় বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানমুখী।

হত্যা-সন্ত্রাসী রাজনীতি ছেড়ে গণতন্ত্রের পথে আসুন: বিএনপিকে কৃষিমন্ত্রী

বিএনপিকে মানুষ হত্যা এবং সন্ত্রাসী রাজনীতি ছেড়ে গণতন্ত্রের পথে আসার আহবান জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি সোমবার পলাশ থানা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পলাশ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, বিএনপি বিগত ৫ বছরে সারা দেশের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যে সহিংসতা, সন্ত্রাস করেছে সারা জাতি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। সারা দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যেভাবে অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছিল তা এখনো বিশ্বাস করা যায় না।

তিনি বলেন, বিগত দিনে বাঁশখালীতে বিএনপির সন্ত্রাসীরা বৌদ্ধ ও চাকমাদের এক বাড়িতে আক্রমণ করে ৬ দিনের একটা বাচ্চাসহ ৭ জনকে পুড়িয়ে দগ্ধ করে হত্যা করে। পাবনায় পূর্ণিমা নামে এক মেয়েকে বিএনপির যুবদল ও ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা সেদিন ধর্ষণ করে। বিএনপির পুরো ৫ বছর তারা মিরপুরে পালিয়ে ছিল। ২০০৯ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পূর্ণিমা ও তার পরিবারকে পাবনায় পুনর্বাসন করে। আগামী নির্বাচন হবে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং তা হবে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে।

মন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। তাই মন্ত্রী বিএনপিকে মানুষ হত্যা এবং সন্ত্রাসী রাজনীতি ছেড়ে গণতন্ত্রের পথে এসে নির্বাচন করার আহবান জানান।

পলাশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপের সভাপতিত্বে এ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- শিল্পমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি এমপি।

আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, কার্যনির্বাহী সদস্য এবিএম রিয়াজুল কবির কাউছার, লে. কর্নেল (অব.) নজরুল ইসলাম হিরু এমপি, তামান্না নূসরাত বুবলী এমপি ও পলাশের সাবেক সংসদ সদস্য কামরুল আশরাফ খান পোটন, পলাশ উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ জাবেদ হোসেন ও ঘোড়াশাল পৌর মেয়র আল মুজাহিদ হোসেন তুষার প্রমুখ।

ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জিএম তালেব হোসেন।

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সফল ও সার্থক করার লক্ষ্যে সকাল থেকেই বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে নেতাকর্মীরা ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে মিছিল সহকারে সম্মেলনে যোগদান করেন।

সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সব কাউন্সিলরদের সর্বসম্মতিক্রমে পলাশের এমপি ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপ তৃতীয়বারের মতো সভাপতি ও কামরুল ইসলাম গাজী পলাশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

যুক্তরাষ্ট্র সফরে আ.লীগের চার সংসদ সদস্য

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চার সংসদ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। সোমবার সন্ধ্যা ৭টার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খানের নেতৃত্বে চার সদস্যের এই প্রতিনিধি দলে আরো রয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ, নাহিম রাজ্জাক ও কাজী নাবিল আহমেদ।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ের বেশ কয়েকটি কমিটির সঙ্গে বৈঠক করবেন আওয়ামী লীগের সংসদীয় এই দল। পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন তারা। সফরে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ৬-৭ দিন সেখানে অবস্থান করবেন।

দেশে অকালমৃত্যুর বড় কারণ উচ্চ রক্তচাপ

দেশে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক ও কিডনি বিকলসহ বিভিন্ন ধরনের অসংক্রামক রোগে মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে। এসব মৃত্যুর সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং এটিই অকালমৃত্যুর অন্যতম কারণ। বিশেষজ্ঞরা জানান, উচ্চ রক্তচাপসহ অন্য সব রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে অকাল মৃত্যু দ্রুত কমানো সম্ভব। অথচ অর্ধেক মানুষ এ সম্পর্কে জানেই না। অসচেতনতার কারণেই উচ্চ রক্তচাপে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে রোগটি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সারা বিশ্বের মতো আজ বাংলাদেশে বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘মেজার ইয়োর ব্লাড প্রেশার অ্যাকিউরেটলি, কন্ট্রোল ইট, লিভ লঙ্গার। অর্থাৎ উচ্চ রক্তচাপ : সঠিকভাবে পরিমাপ করুন, নিয়ন্ত্রণে রাখুন, দীর্ঘদিন বাঁচুন।’

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, দেশের কত শতাংশ সাধারণ মানুষের উচ্চ রক্তচাপ আছে এবং কতজন চিকিৎসা নিচ্ছেন তা জানতে জরিপ করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় ‘বাংলাদেশ এনসিডি স্টেপস সার্ভে-২০১৮’ শীর্ষক জরিপটি পরিচালনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও নিপসপ। টেকনিক্যাল কমিটিতে ছিল ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন।

অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা জানান, জরিপ অনুযায়ী ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে জনগোষ্ঠীর ২১ শতাংশ (নারী ২৪ দশমিক ১ শতাংশ, পুরুষ ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ) উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। তাদের মধ্যে ওষুধ গ্রহণের মাধ্যমে রোগটি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন মাত্র ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি সাতজনে একজনেরও কম।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রতি চারজনে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। ৫০ শতাংশই জানেন না তাদের রোগটি রয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে ৪৩ শতাংশের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নেই। মোট রোগীর মধ্যে মাত্র ১৫ শতাংশের তা নিয়ন্ত্রণে আছে। অথচ দেশে দুই কোটি মানুষ এ রোগে ভুগছেন। এর মধ্যে ৩০ লাখ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছেন। দেশে বর্তমানে ২২ শতাংশ মানুষের অকাল মৃত্যু হচ্ছে। যার অন্যতম কারণ উচ্চ রক্তচাপজনিত নানা শারীরিক সমস্যা।

‘বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে ২০১৭-১৮’ অনুযায়ী- ২০১১ থেকে ২০১৭-১৮ সাল পর্যন্ত ৩৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের প্রকোপ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এটি পুরুষের মধ্যে ২০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৪ শতাংশ এবং নারীর ক্ষেত্রে ৩২ শতাংশ থেকে ৪৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জরিপে উঠে এসেছে-অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা রয়েছে এমন নারী ও পুরুষের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার হার যথাক্রমে ৪৯ শতাংশ ও ৪২ শতাংশ।

সেখানে স্বাভাবিক ওজনের নারী ও পুরুষের মধ্যে এ হার যথাক্রমে ২৫ শতাংশ এবং ২৪ শতাংশ। তবে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত অর্ধেক নারী (৫১ শতাংশ) এবং দুই-তৃতীয়াংশ পুরুষ (৬৭ শতাংশ) জানে না যে তাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় উচ্চ, রক্তচাপে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীই (৬৪ শতাংশ) ওষুধ সেবন করেন না। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যুগান্তরকে বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০১০ থেকে ২০৩০ সালে ২০ বছরে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৩ শতাংশ নামিয়ে আনার আন্তর্জাতিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। ২০৩০ সাল আসতে আরও আট বছর বাকি।

কিন্তু আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা যে গতিতে বাড়ছে, তাতে এ হার কমার সম্ভাবনা নেই। বরং উচ্চ রক্তচাপ আক্রান্তের হার আরও অনেক বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা বলেন, উচ্চ রক্তচাপের কারণে হৃদরোগ এবং হৃদরোগজনিত মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। স্ট্রোক এবং কিডনির ক্ষতি হয়। তবে সরকার অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ২০২৫ সালের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলকভাবে ২৫ শতাংশ কমানোর (রিলেটিভ রিডাকশন) জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে-রক্তচাপের ওষুধ সারাজীবন সেবন করতে হয়। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের পক্ষে তা সম্ভব হয় না। অনেকে রক্তচাপ স্বাভাবিক হওয়ার পর সেবন ছেড়ে দেন। এতে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। মূলত ওষুধের দাম বৃদ্ধির কারণে ক্রয়ক্ষমতা না থাকা এবং সুস্থ মনে করে মাঝপথে সেবন ছেড়ে দেওয়ায় অকাল মৃত্যু বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল (এনসিডি) প্রোগ্রামের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, সরকারের ট্রিটমেন্ট প্রটোকল অনুযায়ী ৮০টি উপজেলার এনসিডি কর্নারে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। এ বছরে ২০০টি এবং ২০২৪ সালের মধ্যে ৪০০ উপজেলায় ওষুধ সরবারহ নিশ্চিত করা হবে। এ বছর এনসিডি থেকে ১০০ কোটি টাকা শুধু ওষুধের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মোট বাজেটের প্রায় ৫০ শতাংশ বাজেট শুধু ওষুধের জন্য। এর উদ্দেশ্য দেশের মানুষকে বিনাপয়সায় ওষুধ দেওয়া।

দিবসটি উপলক্ষ্যে সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল (এনসিডি) কর্মসূচি তেজগাঁওয়ে একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আজ ন্যাশনাল হার্ট ফউন্ডেশন ছাড়াও বিভাগীয় ও জেলা হাসপাতালে র‌্যালি ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

সড়কে লাশ রেখে বিক্ষোভ

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে মো. নজরুল ইসলাম (৩০) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধীকে ভুট্টা চুরির অভিযোগে মারধর করা হয়েছে। মারধরের ফলে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় বলে দাবি করেছেন পরিবারের লোকজন।

তার হত্যার বিচার চেয়ে সড়কে লাশ রেখে বিক্ষোভ করেছেন স্বজনরা। সংবাদ পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।

মো. নজরুল ইসলাম উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের প্রসাদপাড়া গ্রামের মৃত মো. রফিকুল ইসলাম খাঁর ছেলে।

সোমবার সকাল ৭টায় দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

এ ব্যাপারে মৃত মো. নজরুল ইসলামের মামা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক কালু জানান, বৃহস্পতিবার বেরা ১১টায় একই এলাকার রাঙ্গালীপাড়া গ্রামের মো. আবু হানিফার ছেলে মো. ইয়াসিন আলীর (৪৫) ভুট্টা ক্ষেতে গিয়ে পরিত্যক্ত ভুট্টা সংগ্রহ করে মানসিক প্রতিবন্ধী মো. নজরুল ইসলাম। এতে ভুট্টা ক্ষেতের মালিক ইয়াসিন আলী ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে কয়েক দফা মারধর করে। মারধরের ফলে অসুস্থ হয়ে পড়ে নজরুল ইসলাম। তাকে শনিবার গুরুত্বর অসুস্থ অবস্থায় দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল ৭টায় মারা যায়।

তিনি বলেন, মারধরের ফলে তার মৃত্যু হয়েছে তাই এটি একটি হত্যাকাণ্ড। আমরা এই হত্যার দাবিতে লাশ ঝাড়বাড়ী বাজারের সড়কে রেখে প্রতিবাদ জানাই। পরে পুলিশের আশ্বাসে থানায় এসে মো. ইয়াসিন আলী ও তার ছোটভাই মো. মনজুরুল ইসলামকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভুট্টা ক্ষেতের মালিক মো. ইয়াসিন আলীর ছোটভাই মো. মনজুরুল ইসলাম জানান, কয়েকদিন পূর্বে নিহতের আত্মীয় মো. জবুর শেখের ছেলে মো. আবু তালেবের সঙ্গে আমার ঝগড়া হয়। সেটি সামাজিকভাবে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে মীমাংসা করা হয়েছে। মো. নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগছেন। তিনি কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। অথচ তার সেই মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে প্রচারণা চালিয়ে আমারদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি।

বীরগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সংবাদ পাওয়া মাত্রই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মৃতের বড়ভাই মো. নুর ইসলাম বাদী হয়ে দুজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

স্বামীর বিষে স্ত্রীর মৃত্যু

সিলেটে বিয়ের মাত্র এক মাসের মাথায় স্বামীর খাওয়ানো বিষে প্রাণ গেল এক নববধূর। তার নাম লনি বেগম (২৪)। সোমবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।

মৃত্যুর আগে লনি বেগম স্বামী তাকে বিষ খাওয়ানোর অভিযোগ করে গেছেন পরিবার, স্বজন ও পুলিশের কাছে। পুলিশও রেকর্ড করেছে ওই জবানবন্দি। এ ব্যাপারে থানায় মামলাও হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ঘাতক স্বামীকেও।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট এয়ারপোর্ট থানার ওসি খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, সোমবার সকালে ওসমানী হাসপাতালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন নববধূ লনি। তিনি সিলেট এয়ারপোর্ট থানার সাহেবের বাজার এলাকার বাজারতল গ্রামের মৃত আফতাব খানের মেয়ে। ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার বিকাল ৪টার দিকে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নববধূ লনির অভিযুক্ত স্বামী জামাল উদ্দিন সিলেট এয়ারপোর্ট থানার খাদিমনগর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মহালদিক গ্রামের মৃত টিকই মিয়ার ছেলে।

লনির ভাই অ্যাডভোকেট ইমাম উদ্দিন খান জানান, গত রমজানের আগের দিন জামাল উদ্দিনের সঙ্গে পরিবারিকভাবে লনির বিয়ে হয়। মধ্য রমজানে নগদ ৩ লাখ টাকা বাবার বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য লনিকে চাপ দিতে থাকেন জামাল। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে একটু মনোমালিন্য হয়। ২৭ রমজান রাতে ফের চাপ দিতে থাকেন জামাল। এতে লনি অসম্মতি জানালে স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করেন তিনি।

একপর্যায়ে লনি গুরুতর আহত হয়ে পড়লে তাকে ওষুধ খাওয়ানোর কথা বলে বিষ খাইয়ে দেন স্বামী জামাল উদ্দিন। সেই থেকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নববধূ লনি। ওই দিনই লনিকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করেন তারা। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে এবং লনিকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। লাইফ সাপোর্টে দুই দিন থাকার পর সোমবার সকালে লনি মারা যান।

এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করলে শুক্রবার রাতে জামালকে গ্রেফতার করে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। পরদিন তাকে জেলহাজতে পাঠান আদালত।