বৃহস্পতিবার ,১১ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 295

খুবিতে হবে একাত্তরের টর্চারসেল জাদুঘর

মুক্তিযুদ্ধের সময়ে হানাদার বাহিনীর টর্চারসেল হিসেবে ব্যবহৃত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত টিনশেড ঘরটিকে ‘গল্লামারী বধ্যভূমি স্মৃতি জাদুঘর, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে সংরক্ষণ ও এর পারিপার্শ্বিক উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে খুলনার বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময়কালে উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত থেকে মতামত প্রদান করেন মুক্তিযুদ্ধকালীন বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলের মুজিব বাহিনীর প্রধান ও বাগেরহাট জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামরুজ্জামান টুকু, খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ হারুনুর রশীদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ খুলনা জেলা ইউনিটের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার মাহবুবার রহমান ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ খুলনা মহানগর ইউনিটের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আলমগীর কবীর।

এ সময় উপাচার্য বলেন, খুবিতে অবস্থিত রেডিও সেন্টারটির পাশেই অবস্থিত একটি টিনশেড ঘরে পাক সেনারা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী মানুষদের ধরে এনে নৃশংসভাবে নির্যাতনের পর হত্যা করত। স্মৃতিবাহী সেই টর্চারসেল টিনশেড ঘরটি এখনো ক্যাম্পাসে বিদ্যমান রয়েছে। তবে তা সংস্কারের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখনই এটা সংস্কার না করা হলে ভবিষ্যতে স্মৃতিচিহ্নটুকু থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিদর্শন হিসেবে রাখার উদ্দেশ্যে এই টর্চারসেলটিকে ‘গল্লামারী বধ্যভূমি স্মৃতি জাদুঘর, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাদক সেবনে অজ্ঞান শিক্ষার্থীকে শোকজ, পরিবারে চিঠি

মাত্রাতিরিক্ত মাদক সেবন করে অজ্ঞান হওয়ার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী আশিক কোরেশির পরিবারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

একই সঙ্গে তাকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তবে তার সঙ্গে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত আশিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত।

রোববার তার মা তাহমিন চৌধুরীর কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে সেই শিক্ষার্থীকে মাদক থেকে বিরত থাকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে।

আশিক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার জোকার্না গ্রামের মৃত সৈয়দ কায়েদুল হকের ছেলে।

চিঠিতে বলা হয়েছে- এ ঘটনায় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এ ঘটনা ছাত্র শৃঙ্খলা আচরণের পরিপন্থি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

জানা গেছে, গত ২৫ মে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট মাঠে মাত্রাতিরিক্ত মাদক গ্রহণের ফলে জ্ঞান হারান আশিক কোরেশি। পরে তার বন্ধুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে গেলে অবস্থা গুরুতর দেখে তাকে কুষ্টিয়া পাঠান কর্তব্যরত চিকিৎসক।

সূত্র জানিয়েছে, সেদিন রাতে আশিকুর রহমান কোরেশি ও তার বন্ধুরা কেন্দ্রীয় ক্রিকেট মাঠে ডেস্কপটেন প্লাস সিরাপ ও ডিসোপ্যান ট্যাবলেট একত্রে সেবন করেন। এ সময় অতিমাত্রায় সেবন করার ফলে আশিক অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

আশিকের সঙ্গে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সাইমুন, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ওমর ফারুক হৃদয়, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ইমরান ও চঞ্চল এবং ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের অঙ্গন ছিলেন। সবাই ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে আশিক কোরেশির লিগ্যাল অভিভাবকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। আশিককে আমরা একটি কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছি। ক্যাম্পাসে মাদকের আকার দিন দিন ভয়ংকর হয়ে যাচ্ছে। পরবর্তীতে অভিযোগ পেলে আমরা আমাদের মতো করে ব্যবস্থা নেব।

ঘুম না এলে গাঁজা সেবন করতেন আরিয়ান, স্বীকার করেন নিজেই!

২০১৮ সালে আমেরিকায় পড়তে গিয়েছিলেন বলিউড তারকা শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খান। সেখানে ছিল নতুন পরিবেশ। পরিবার, বন্ধুবান্ধব ছেড়ে রাতে ঘুম আসত না তার। তাই গাঁজা সেবন করতেন আরিয়ান।

স্থানীয় এক সরবরাহকারীর থেকে গাঁজা আনিয়ে দিতেন আরিয়ানের বন্ধু আচিত। তবে সরবরাহকারীকে নাকি চোখেই দেখেননি কোনো দিন তিনি। কেন্দ্রীয় মাদক নিয়ন্ত্রক সংস্থার (এনসিবি) চার্জশিটে এমনই বয়ান ছিল শাহরুখপুত্রের।

আরিয়ানের দাবি, ইন্টারনেট ঘেঁটে জেনেছিলেন ঘুম না এলে এই পন্থা নেওয়া যেতে পারে। তা নিয়ে অভিনেত্রী অনন্যা পাণ্ডের সঙ্গে আরিয়ানের হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনও প্রকাশ্যে এসেছিল। শাহরুখপুত্র নিজেও জেরার মুখে স্বীকার করেন— ঘুম আনার জন্য গাঁজা সেবনের বিষয়টি তিনি অনন্যাকে বলেছিলেন।

এদিকে এনসিবি-তদন্তের সময় অনন্যাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্পষ্টই তা এড়িয়ে যান। বলেন, ওটা তো মজা করছিলাম আমরা। আরিয়ান যদি বলে থাকে, মিথ্যা বলেছে। এ রকম কিছু ও আমায় বলেনি।

২০২১ সালের অক্টোবরে যে দিন মুম্বাইয়ের প্রমোদতরী থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল আরিয়ান ও তার সঙ্গীদের, গোটা ভারতে সমালোচনার ঝড় বইছিল কিং খান ও তার ছেলেকে নিয়ে। প্রায় এক মাস জেলে কাটিয়ে জামিনে ছাড়া পান আরিয়ান। তার সঙ্গী, বন্ধু আরবাজ মার্চেন্টের সরঞ্জাম তল্লাশি করে সামান্য গাঁজা পাওয়া যেতেই দুয়ে দুয়ে চার করা হয়েছিল।

যদিও পরে জানা গেছে, সেই গাঁজা পাচারের উদ্দেশ্যে তারা সঙ্গে নেননি। এমনকি আরিয়ান সেবন করবেন বলেই যে গাঁজা সঙ্গে রেখেছিলেন আরবাজ, এমনটিও প্রমাণিত হয়নি। এও জানা গেছে, দেশি বা বিদেশি কোনো পাচারচক্রের সঙ্গেই শাহরুখপুত্রের সংযোগ নেই।

তবু দীর্ঘদিন ধরে টানাপড়েন চলতেই থাকে। শেষমেশ বছর ঘুরতেই এনসিবি জানায়, নাম জড়ালেও মাদক পাচারকাণ্ডে হাত ছিল না শাহরুখপুত্রের। শুক্রবার এনসিবির পেশ করা চার্জশিটে তাকে বেকসুর খালাস ঘোষণা করার পরই নতুন করে শোরগোল পড়ে। আর তাতেই বেরিয়ে এসেছে আরিয়ানের এই অতীত-অভ্যাসের কথা। অনুরাগীদের প্রশ্ন— শাহরুখপুত্র নির্দোষ জেনেই কি নতুন করে জলঘোলা শুরু হলো?

শেষ চিঠি’র জন্য অনেক ভালোবাসা চাই: দীঘি

নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকাই সিনেমার শিশুশিল্পী হিসেবে তারকা খ্যাতি পাওয়া প্রার্থনা ফারদিন দীঘি।

২০২১ সালে মুক্তি পায় নায়িকা হিসেবে তার অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘তুমি আছো তুমি নেই’। এরপর ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়াভাই’ সিনেমায় দেখা গেছে তাকে।

প্রথম ছবি দিয়েই আলোচিত হন দীঘি। সমালোচিতও কম হননি। এক মন্তব্যের জেরে খোদ ছবির পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু ক্ষুব্ধ হন দীঘির উপর।

এসব আলোচনা-সমালোচনার অবসান ঘটিয়ে এবার নতুন প্ল্যাটফর্মে হাজির হতে যাচ্ছেন দীঘি।

আগামী ২ জুন ওয়েব প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেতে যাচ্ছে দীঘির প্রথম ওয়েব ফিল্ম ‘শেষ চিঠি’। শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে ওয়েব ফিল্মটির টিজার।

এই টিজারটি সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেছেন দীঘি। এর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘শেষ চিঠি। অনেক ভালোবাসা চাই আপনাদের। ’

ওয়েব ফিল্ম ‘শেষ চিঠি’ পরিচালনা করেছেন সুমন ধর। এতে দীঘি অভিনয় করেছেন তরুণ অভিনেতা ইয়াশ রোহানের বিপরীতে।

প্রথমবার এসেই আইপিএলের চ্যাম্পিয়ন গুজরাট

রাজস্থান রয়েলসকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) চলতি আসরে অংশ নিয়েই শিরোপার স্বাদ পেল গুজরাট টাইটান্স।

ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রাজস্থান রয়েলকে ১৩০ রানে থামিয়ে শিরোপা নিজেদের করে নেয় হার্দিক পান্ডিয়ার নেতৃত্বাধীন গুজরাট।

রোববার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ফাইনালের মতো উত্তেজনাকর ম্যাচে রাজস্থানের তারকা ব্যাটসম্যান জস বাটলার, সাঞ্জু স্যামসন, ডেবুট পাদ্দিকল ও সিমরন হিতমায়ারদের উইকেটে থিতু হতে দেননি হার্দিক পান্ডিয়া-রশিদ খান-মোহাম্মদ শামিরা।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনের কারণে বড় কোনো জুটি গড়তে পারেননি রাজস্থানের ব্যাটসম্যানরা। আসা-যাওয়ার মিছিলে অংশ নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৩০ রানেই শেষ হয়ে যায় রাজস্থানের ইনিংস।

দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন জস বাটলার। এছাড়া ২২ রান করেন ইয়েসভি জশওয়াল। গুজরাটের হয়ে ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন হার্দিক পান্ডিয়া।

১৩১ রানের মামুলি স্কোর তাড়া করতে নেমে ১১ বল হাতে রেখেই শিরোপা নিশ্চিত করে গুজরাট।

ক্রিকেটবিশ্বে সবচেয়ে বড় জার্সি

আইপিএলের ফাইনালে ম্যাচের আগে গিনেস ওয়ার্ল্ড বুক অব রেকর্ডে নাম লেখাল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট জার্সি উপস্থাপন করল বিসিসিআই।

আহমেদাবাদের মোতেরা স্টেডিয়ামে আইপিএলের ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই বিশাল জার্সি উপস্থাপন করা হয়।

জার্সিটি ৬৬ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৪২ মিটার প্রস্থের। ক্রিকেটবিশ্বে এর চেয়ে বড় জার্সি আর নেই। সাদা রঙের জার্সিটিতে ১০টি আইপিএল দলের লোগো অঙ্কিত ছিল।

জার্সিটিকে বিশ্বরেকর্ডের স্বীকৃতি দেয় গিনেস কর্তৃপক্ষ। সেই বিশ্বরেকর্ডের প্রসংশাপত্র বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি, বোর্ড সচিব জয় শাহ ও আইপিএল চেয়ারম্যান ব্রিজেশ প্যাটেলের হাতে তুলে দেয় গিনেস ওয়ার্ল্ড বুক কর্তৃপক্ষ।

ট্রাক্টর খাদে পড়ে চালকের ২ সহযোগী নিহত

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক্টর খাদে পড়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার হাটিপাড়া বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুজনেই ট্রাক্টর চালকের সহযোগী ছিলেন। তারা হলেন— টাঙ্গাইল জেলার রমিজ (৩২) ও সাইফুল (৩৫)।

মানিকগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা খানে আলম জানান, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার হাটিপাড়া এলাকার গঙ্গেরচক এলাকায় খুঁটিবোঝাই ট্রাক্টরটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে খুঁটির চাপায় ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। খবর পেয়ে আহতদের উদ্ধার করে হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনায় চালকসহ তিনজন আহত হয়েছেন।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি আব্দুর রউফ সরকার জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

অভিযানের খবর পেয়ে অপারেশন টেবিলে রোগী রেখে পালালেন চিকিৎসক

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভিযান হতে পারে এমন খবরে সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানের মাকে অস্ত্রোপচারের টেবিলে রেখে বাইরে তালা দিয়ে পালিয়ে গেছেন চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যরা।

রোববার বিকালে শিমরাইল এলাকায় পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল নামে একটি ক্লিনিকে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল শাখা) মাহমুদুর রহমান ও তার সহকর্মীরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওই প্রসূতিকে উদ্ধার করেন। তার পর তাকে মাতুয়াইলের শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে মা ও নবজাতক ভালো আছে।

অ্যানেস্থেসিয়ার চিকিৎসক মাহমুদুর রহমান সন্ধ্যা ৬টার দিকে জানান, অবৈধ ক্লিনিক ও হাসপাতাল বন্ধের চলমান অভিযানে তিনি শনিরআখড়ায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। তখন তার কাছে খবর আসে, পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল নামের ওই ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের টেবিলে মাকে রেখে বাইরে থেকে তালা দিয়ে চিকিৎসকসহ সবাই পালিয়েছেন। তার পর ক্লিনিকটি খুঁজে পেতে বেশ সময় লাগে। তারা যখন সেখানে পৌঁছান, তখন তালা খোলা পান। ভেতরে গিয়ে মাকে পান।

মাহমুদুর রহমান বলেন, আমরা চাচ্ছিলাম, মা ও সন্তানের যাতে ক্ষতি না হয়। আমি নিজে চিকিৎসক, তাই পৌঁছার পর মায়ের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করি। তখন তিনি ভালো ছিলেন। অস্ত্রোপচারের পর সেলাই দেওয়া হয়েছে। পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষে না পাঠিয়ে টেবিলে ফেলেই সবাই পালিয়ে গেছেন। তখন থেকে ভাবছি, চিকিৎসকেরা কীভাবে পারলেন এভাবে অস্ত্রোপচারের রোগীকে ফেলে চলে যেতে? আমি তো ঘটনাটা বিশ্বাসই করতে পারছি না। অস্ত্রোপচারপরবর্তী যে কোনো জটিলতায় মায়ের মৃত্যু হতে পারত।

পরে মা ও নবজাতককে মাতুয়াইলের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা।

ওই নারীর স্বজনরা বলেন, তারা জানেন না কোন চিকিৎসক অস্ত্রোপচার করেছেন। অস্ত্রোপচারের আগেই তারা ক্লিনিকে ১০ হাজার টাকা জমা করেছিলেন।

মা ও নবজাতককে উদ্ধার অভিযানে ছিলেন ঢাকার সিভিল সার্জন আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান। তিনি জানান, হাসপাতাল বন্ধ, সংস্কারের কাজ চলছে এমন কথা লেখা ছিল ক্লিনিকটির গেটে। এ লেখার মূল উদ্দেশ্য ছিল— অবৈধ ক্লিনিক বন্ধের অভিযানে যাওয়া কর্মকর্তাদের বোকা বানানো।

তিনি জানান, এটি নিবন্ধিত কোনো ক্লিনিক নয়। এমনকি তারা কখনো অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে, তারও প্রমাণ নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলেন, এই মা ও নবজাতক ছাড়াও এই ক্লিনিকে গতকাল অস্ত্রোপচার করা তিনজন মা ছিলেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ দিয়ে ওই ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহমুদুর রহমান জানান।

মঞ্চে গান গাইতে গাইতে মারা গেলেন জনপ্রিয় গায়ক

মঞ্চে গান করার সময় হঠাৎ লুটিয়ে পড়লেন গায়ক। জ্ঞান হারালেন। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা জানালেন, পথেই মারা গেছে তিনি।

ভারতের কেরালা রাজ্যের তিরুবনন্তপুরমে ঘটেছে শনিবার রাতে ঘটেছে এ দুঃখজনক ঘটনা। এ গায়কের নাম এদাভা বসির। মালায়ালম ভাষার জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী ছিলেন তিনি। এ তারকা সংগীতশিল্পীর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এদাভা বসির মারা গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন চিকিৎসকেরা।

ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর, ওই রাতে রাজ্যের আলাপুঝা জেলার ব্লু ডায়মন্ড অর্কেস্ট্রায় তাদের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এদাভা বসির। মঞ্চে উঠে গান ধরে শেষ করার আগেই জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।

তার মৃত্যুর খবরে ভারতের সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমেছে। মালায়ালম ভাষার একাধিক ছবির প্লে-ব্যাক সিঙ্গার ছিলেন তিনি। গান করেছেন কেরালার জনপ্রিয় অসংখ্য গণমেলায়ও।

সেই শিক্ষিকাকে হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা জানালেন মার্কিনিরা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সম্প্রতি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলার সময় নিজের বুক পেতে শিশুদের বাঁচাতে গিয়ে ঘাতকের বুলেটে ঝাঁজরা হয়ে প্রাণ দিয়েছেন ইরমা গার্সিয়া।

শিক্ষার্থীদের তিনি মায়ের মমতা আগলে রাখতেন। শিশুরাও তাকে প্রচণ্ড ভালোবাসতো। স্ত্রীর এ মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পেয়েই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান শিক্ষিকার স্বামী জো গার্সিয়া।

ফলে এতিম হয়ে যায় এ দম্পতির চার সন্তান। এ অবস্থায় তাদের ব্যয়ভার মেটাতে শিক্ষিকার চাচাতো বোন ডেবরা অস্টিন তহবিল গঠনের জন্য অনলাইনে #গো ফান্ড মি# শিরোনামে একটি প্রচারণা শুরু করেন।

তার লক্ষ্য ছিল শিক্ষিকার এতিম চার শিশুর জন্য ১০ হাজার ডলারের তহবিল গঠন করা। কিন্তু সবাইকে অবাক করে কয়েক দিনের ব্যবধানে এ তহবিলে জমা হয়েছে আড়াই মিলিয়নেরও বেশি ডলার।

যে শিক্ষিকা দেশের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন, তার সন্তানদের জন্য, তাই দেশবাসী তাদের ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছেন।

শিক্ষিকা ইরমা গার্সিয়ার প্রতিবেসীরা জানান, শুধু শিক্ষিকা হিসেবে নন, একজন ভালো প্রতিবেশী, স্নেহময়ী মা এবং পতিভক্ত স্ত্রী ছিলেন। বন্দুক হামলায় নিহত ওই শিক্ষিকা।

রোববার দুপুরেই তহবিলে জমা পড়ে ৪৬ হাজার ৪০০ ডলার। এ নিয়ে তহবিলে মোট জমা পড়ে ২৫ লাখ ৯৩ হাজার ৮৬০ মার্কিন ডলার।

অন্যদিকে ইরমা গার্সিয়ার ভাইপো জন মার্টিনেজও ৫ লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছেন।

ইরমা গার্সিয়া গত ২৩ বছর ধরে শিক্ষিকতা করে আসছিলেন। গম মঙ্গলবার স্কুলে ইরমা গার্সিয়া ও তার সহকর্মী ইভা মিরেলেসসহ আরও ১৯ শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা করে ১৮ বছরের এক বন্দুকধারী।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটা একটি জঘন্য ঘটনা, গত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্দুক হামলা এটি।