সোমবার ,৮ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 294

‘রাশিয়ার উচিত ব্রিটেনে আক্রমণ করে স্টোনহেঞ্জের দখল নেওয়া’

ইউক্রেনে সামরিক অভিযান নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে মস্কো। এই পরিস্থিতিতে সামনে এসেছে নতুন বিতর্ক।

আর সেই বিতর্ক উসকে দিয়েছেন রাশিয়ার একজন টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ভ্লাদিমির সলোভিভ। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, ইউক্রেনের পর রাশিয়ার উচিত যুক্তরাজ্যে আক্রমণ চালানো। এমনকি দেশটিতে হামলার পর মস্কোকে ঐতিহাসিক স্টোনহেঞ্জ দখলে নিতেও দেখতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার আলোচিত ওই টেলিভিশন ব্যক্তিত্বর নাম ভ্লাদিমির সলোভিভ। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি ‘পুতিনের কণ্ঠ’ নামে পরিচিত। তিনি বলেন, রাশিয়া ব্রিটেন আক্রমণ করতে পারে এবং ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাসকে টার্গেট করতে পারে।

ইভনিং উইথ ভ্লাদিমির সলোভিভ নামে রাশিয়া-১ অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় উপস্থাপক দাবি করেন, রাশিয়ার আক্রমণ ইংল্যান্ডের উইল্টশায়ারের স্যালিসবারিতে অবস্থিত ঐতিহাসিক ল্যান্ডমার্ক স্টোনহেঞ্জ পর্যন্ত প্রসারিত হতে পারে।

রাশিয়া থামার আগে কতদূর যেতে ইচ্ছুক; ইউক্রেনের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ভাসিল ভাকারভের এমন প্রশ্নের জবাবে সলোভিভ জানান, আচ্ছা, যখন আমাদের এগোতে হবে, তখন (যতটা প্রয়োজন) আমরা যাব।

সলোভিভের উদ্ধৃতি দিয়ে দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট বলছে, আমরা কোথায় থামব? যেমনটি আমি আজ বলছিলাম, হয়তো স্টোনহেঞ্জ। কারণ লিজ ট্রাস বলেছেন- তিনি এই যুদ্ধ লড়ছেন। এমনকি সলোভিভ এটিও দাবি করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে যে, ক্রেমলিনের নেতার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ আক্রমণ করা উচিত।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাজ্যের উইল্টশায়ার কাউন্টিতে বিশাল সমতল ভূমিতে খাড়া পাথরের তৈরি এক বিস্ময়কর স্থাপনা ‘স্টোনহেঞ্জ’ নামে পরিচিত। বিশাল এই পাথরখণ্ডগুলো প্রায় ১৩ ফুট উচ্চতার এবং ধূসর বর্ণের এসব পাথর জ্যামিতিক বৈশিষ্ট্যে বিন্যস্ত করা।

জিডিপি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা

বৈশ্বিক সংকট বাংলাদেশসহ বিশ্ব অর্থনীতিকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন সংস্থাগুলো বলছে, শুধু যুদ্ধের কারণে বিশ্বের প্রবৃদ্ধি অন্তত এক শতাংশ কমবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এরই মধ্যে নেওয়া হচ্ছে নানা পদক্ষেপ। বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। অর্থনীতির সুরক্ষায় কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু এমন সংকটের মধ্যেও আগামী অর্থবছরের জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) চলতি বাজার মূল্যে ৪৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে অর্থ বিভাগ। এটি চলতি জিডিপির চেয়ে ১৪ লাখ কোটি টাকারও বেশি। স্থিরমূল্যে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

অর্থ মন্ত্রণালয় মনে করছে, আগামী বছরগুলোয় প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার পেছনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, যোগাযোগ ও পরিবহণ খাতের উন্নয়ন সম্পৃক্ত হবে। এসব খাতের উন্নয়নের প্রভাব শিল্পসহ অন্যান্য খাতের প্রবৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া প্রবৃদ্ধি অর্জনে কৃষি খাতকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এজন্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত ও ভর্তুকি অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়। বিভিন্ন খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়ন হলে প্রবৃদ্ধি অর্জন জোরদার হবে বলে হিসাব করা হচ্ছে।

সূত্র আরও জানায়, আগামী অর্থবছরে বড় তিনটি মেগা প্রকল্প চালু হবে। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের জুনেই খুলে দেওয়া হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এর ফলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের দুয়ার নতুন করে খুলবে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে। পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এই সেতু চালুর পর জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি যোগ হবে প্রায় ১ দশমিক ৫০ শতাংশ। এর পরপরই রাজধানীর উত্তর থেকে দক্ষিণে ছুটবে মেট্রোরেল। বন্দরনগরী চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশের সুড়ঙ্গপথও চালু হয়ে যাবে ততদিনে। এই তিনটি প্রকল্প চালু হলে জিডিপিতে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে প্রায় ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যোগ হবে। জিডিপির আকার বৃদ্ধির পেছনে এসব দিক থেকে প্রত্যাশা করছে সরকার।

জানতে চাইলে সাবেক সিনিয়র অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ যুগান্তরকে জানান, স্বাভাবিক অবস্থায় প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার মূল নিয়ামক। প্রবৃদ্ধি না হলে অর্থনীতিতে স্থবিরতা নেমে আসবে। শুরু হবে জনদুর্ভোগ। তবে এটাও মনে রাখতে হবে, উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির মূল সুবিধা পায় ধনী ব্যক্তিরা। গরিব জনগণ ‘চুইয়ে পরা’ (trickle down effect)-এর মাধ্যমে কিছুটা সুবিধা পায়। ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে প্রবৃদ্ধির সুবিধা নিুআয়ের মানুষ কম পেয়েছে। এতে বৈষম্য বাড়ছে। এখন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে এ বৈষম্য ও দরিদ্রতা কমিয়ে আনতে হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে চলতি অর্থবছরে (২০২১-২২) বাজার মূল্যে জিডিপি অর্জন হবে ৩০ লাখ ৩৯ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। এর চেয়ে ১৪ লাখ ১০ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা বেশি ধরে আগামী অর্থবছরের জন্য বাজার মূল্যে জিডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এর আগের অর্থবছরে (২০২০-২১) ছিল ২৮ লাখ ৩৩ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে খাদ্যপণ্য, জ্বালানি ও সারের মূল্য সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। কিন্তু সরকার সারে ভর্তুকি দিচ্ছে। ফলে বেশি দামে সার কিনলেও কৃষককে কম দামে দেওয়া হচ্ছে। আগামী বছর একইভাবে ভর্তুকি দেওয়া হবে। যে কারণে আগামী অর্থবছরে কৃষিতে ১২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এতে কৃষি খাতে কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটবে না। আবহাওয়া ঠিক থাকলে আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরে কৃষি উৎপাদন ভালো হবে। এতে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। এছাড়া করোনার অতিমারিতেও কৃষি খাতে ঋণাত্মক প্রভাব পড়েনি। ফলে আগামী বছরে কৃষি খাতের অবদান যোগ হবে জিডিপিতে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়, আগামী বছরে সব শিল্পের উৎপাদন সূচকের প্রবৃদ্ধি হবে। কারণ নতুন বাজেটে প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখা হবে। ফলে উদ্যোক্তারা এ প্যাকেজের সুবিধা নিয়ে শিল্পে ব্যবহার করতে পারবেন। এটি যোগ হবে খাতভিত্তিকভাবে জিডিপিতে। যেহেতু যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিবর্তন আসছে আগামী বছর। বড় তিনটি প্রকল্প চালু হলে এর অবদানও যোগাযোগ খাতে এসে পড়বে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু, ঢাকায় মেট্রোরেল পুরোদমে চললে, কর্ণফুলী টানেল খুলে দিলে বাংলাদেশে উন্নয়নের নতুন ছোঁয়া লাগবে। শুধু টানেল কক্সবাজারের সঙ্গে চট্টগ্রামের দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার কমিয়ে দেবে। ফলে ২০২৩ সালে অবকাঠামো সামর্থ্যে ভিন্ন এক বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতির দিগন্ত বদলে যাবে। এর সুস্পষ্ট প্রভাব পড়বে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে। সবচেয়ে বেশি যোগ হবে পরিবহণ, সংরক্ষণ ও যোগাযোগ খাতে।

সংযত ও দরিদ্রবান্ধব বাজেট জরুরি

আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটটি বিশেষ পরিস্থিতিতে হচ্ছে। তাই এবার অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় আলাদা এবং ব্যতিক্রমী চিন্তা করতে হবে। গতানুগতিকতার বাইরে অবশ্যই বের হতে হবে। সেই সঙ্গে বাজেট প্রণয়নে বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হামিদ-উজ-জামান।

যুগান্তর : আগামী বাজেট কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

ড. জাহিদ হোসেন : করোনা মহামারির ধাক্কা থেকে পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। পাশাপাশি চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। দেশে রাজস্ব আদায় কম। সেই সঙ্গে বিভিন্ন খাতে আছে ভর্তুকির চাপ। ডলার সংকট চলছে। এ রকম নানা প্রেক্ষাপটে এবারের বাজেটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যুগান্তর : আসন্ন বাজেটের চ্যালেঞ্জগুলো কী?

ড. জাহিদ হোসেন : এবার যে চ্যালেঞ্জগুলো দেখা যাচ্ছে, সেগুলো চলতি অর্থবছর বা এর আগের বাজেটগুলোয় ছিল না। বর্তমানে মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। এটি আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা আছে। এছাড়া বহির্বাণিজ্যের ঘাটতি রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার অভাব, মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম বাড়ছে-এ দুটি একই সূত্রে গাঁথা। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য কিনতে ডলারে মূল্য দিতে হয়। সেই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বেড়েছে। করোনার পর মানুষের মুভমেন্ট (চলাফেরা) বেড়েছে। করোনার প্রকোপ কমে যাওয়ায় মানুষের ভীতিও কমেছে। ফলে মানুষ ব্যাপক কেনাকাটা করছে। এই পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোটা অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

যুগান্তর : বাজেটে কী ধরনের উদ্যোগ থাকা দরকার?

ড. জাহিদ হোসেন : আন্তর্জাতিক বাজারে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো এই বাজেট দিয়ে তো সমাধান কিছু করা যাবে না। তবে অভ্যন্তরীণ চাহিদার চাপ কমিয়ে আনার উদ্যোগ থাকতে হবে আগামী অর্থবছরের বাজেটে। বর্তমানে প্রকৃত ভোগব্যয় বেড়েছে। সেই উত্তাপ কমিয়ে আনতে বাজেটে যেসব করণীয় আছে, সেগুলো করতে হবে। দেশে মূল্যস্ফীতি হচ্ছে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির তুলনায় এটি খুব বেশি নয়, মাঝামাঝি অবস্থায় বলা যায়। এখনো ডাবল ডিজিটে (দুই অঙ্কে) যায়নি। বিশ্বের অনেক বড় বড় দেশ যেগুলোয় সর্বনিু মূল্যস্ফীতি সব সময়ই কম থাকে, সেগুলোয় এখন অনেক বেশি। কিন্তু প্রশ্ন হলো-বাংলাদেশে এখনো তুলনামূলক মূল্যস্ফীতি কম হওয়ার কারণ কী? এখানে দেখা যাচ্ছে, যেসব পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পেলে ছোঁয়াচে হয়ে যায়; যেমন: গ্যাস, বিদ্যুৎ, সার প্রভৃতি পণ্যের দাম বাড়লে অন্য অনেক পণ্যের দামই বেড়ে যায়। এসব পণ্যের দাম নির্ধারণ করে সরকার। সম্প্রতি এসব পণ্যের দাম অ্যাডজাস্টমেন্ট (বাড়ানো) হয়নি। ফলে ভর্তুকি বেড়েছে। এ কারণেই দেশে মূল্যস্ফীতি এখনো কম আছে। তবে বহির্বিশ্বের মূল্যবৃদ্ধির চাপ যাতে দেশের মূল্যস্ফীতিতে না পড়ে, সেজন্য কতটা ভর্তুকি দেবে বা দাম বাড়াবে সরকার, সেটি আগামী বাজেটে নির্ধারণ করতে হবে। এছাড়া বাজেট ঘাটতি সংযত রাখতে হবে। সুদ না ধরে যে ঘাটতি, সেটি যাতে বৃদ্ধি না পায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

যুগান্তর : বাজেট ঘাটতি পূরণে কী করা যেতে পারে?

ড. জাহিদ হোসেন : বাজেট ঘাটতি পূরণে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর সুযোগ কম। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ট্যাক্স হলিডে বাড়ানো হতে পারে। ফলে রাজস্ব আরও কমবে। কিন্তু সরকার করনেট (করের আওতা বিস্তৃত করা) বাড়িয়ে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর কথা বলছে। এক্ষেত্রে কতটা সফল হবে, সেটি প্রশ্নসাপেক্ষ। তাই বলা যায়, রাজস্ব আদায় বাড়িয়ে হয়তো বাজেট ঘাটতি পূরণ হবে না। সেক্ষেত্রে ব্যয় কমাতে হবে। ইতোমধ্যেই সরকার বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে। যেমন: সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর স্থগিত করা। যেসব প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবহার রয়েছে, সেগুলো ধীরে বাস্তবায়ন করা। এসব উদ্যোগ ভালো। ডলারের ব্যবহার কমাতে এসব উদ্যাগ কার্যকর হবে। ভর্তুকির চাপ কমানোর ক্ষেত্রে সারের দাম বাড়ালে ঝুঁকিপূর্ণ হবে। সেখানে ইউরিয়ার দাম না বাড়িয়ে ভর্তুকি (কৃষি) বাড়াতে হবে। কিন্তু বিদ্যুৎ-জ্বালানির ক্ষেত্রে উভয় সংকট আছে। দাম না বাড়ালে ভর্তুকি বাড়বে। আবার দাম বাড়ালে কোভিডের মতো ছোঁয়াচে প্রভাব পড়বে দ্রব্যমূল্যের ক্ষেত্রে। অর্থাৎ সব পণ্যের দাম বাড়বে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে। তবে ধনী বা উচ্চবিত্তের জন্য ৭/৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতির প্রভাব তেমন পড়বে না। তাদের জন্য এটা সহনীয়। কিন্তু নিু ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য জীবিকার সংকট তৈরি করবে। তখন তারা শুধু খাদ্য জোগাবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমিয়ে দেবে। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন আছে। কিন্তু একবারে না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে আগে থেকে ঘোষণা দিতে হবে। যাতে শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা প্ল্যানিং করতে পারবে। তারা নিজেদের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারবে।

যুগান্তর : ভর্তুকির ক্ষেত্রে কীভাবে অর্থসাশ্রয় করা যাবে?

ড. জাহিদ হোসেন : ভর্তুকির ক্ষেত্রে তিন জায়গায় সাশ্রয়ের সুযোগ আছে। রপ্তানিতে ১ শতাংশ সাবসিডি বাতিল করা যেতে পারে। কেননা এটির কোনো মানে নেই। এছাড়া রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে আড়াই শতাংশ প্রণোদনার দরকার কী? ডলারের দাম তো সেখানেও বেড়েছে। যারা রেমিট্যান্স পাঠাবে, তারাও তো বেশি দামই পাচ্ছেন। সেই সঙ্গে লক্ষ করলে দেখবেন-ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কটেজ শিল্প সব জায়গায়ই ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধি হয়েছে। পরপর দুই বছর শিল্প খাতে ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধির পরও প্রণোদনার দরকার কী? সেখানে সরকার তো ভর্তুকি দিচ্ছে। এটা বাতিল করা যেতে পারে।

যুগান্তর : আগামী বাজেট কেমন হওয়া দরকার?

ড. জাহিদ হোসেন : বাজেটে বাস্তবভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা দরকার। সুপরিকল্পনার অন্যতম বিষয় হলো এটা লক্ষ্য ও কৌশলের মধ্যে মিল রাখতে হয়। যদি লক্ষ্য এমন হয় যে তা পূরণে কোনো কৌশলই নেই, তাহলে সেটির বাস্তবায়ন কীভাবে সম্ভব হবে। বাজেট হতে হবে অর্থনৈতিক। রাজনৈতিক বাজেট দেওয়া ঠিক নয়। কেননা ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হয় বলেই বছরের পর বছর আমাদের দেশের বাজেট বাস্তবায়ন অযোগ্যই থাকছে। তবে আগামী অর্থবছরের বাজেট হতে হবে সংযত ও দরিদ্রবান্ধব।

যুগান্তর : আপনাকে ধন্যবাদ।

ড. জাহিদ হোসেন: যুগান্তরকেও ধন্যবাদ।

গণসংহতির নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বিএনপি

নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের অংশ হিসেবে গণসংহতি আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বসেছে বিএনপি।

মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টায় হাতিরপুলে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তার সঙ্গে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন।

গণসংহতি আন্দোলনের নেতৃত্বে দিচ্ছেন দলটির প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। তার সঙ্গে রয়েছেন নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আখতার, হাসান মারুফ রুমি, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ইমরাদ জুলকারনাঈন, বাচ্চু ভূঁইয়া, জুলহাসনাঈন বাবু, দীপক রায়, শ্যামলী শীল, কেন্দ্রীয় সদস্য মিজানুর রহমান।

২৪ মে থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করে বিএনপি। প্রথমদিন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নাগরিক ঐক্যের কার্যালয়ে গিয়ে বৈঠক করেন।

এরপর ২৭ মে লেবার পার্টির সঙ্গে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল।

গণসংহতির নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বিএনপি

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রাজপথ কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। মির্জা ফখরুল, বলে দিচ্ছি আগুন নিয়ে খেলবেন না। আওয়ামী লীগ আছে। আপনারা শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দেবেন আর আমরা ছেড়ে দেব? এটা হবে না। সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোনো আপোষ নেই।

মঙ্গলবার সকালে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এবং সব সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যৌথ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি মনে করেছে ছাত্রদলকে দিয়ে ক্যাম্পাসে অরাজকতা করবে। তারা ’৭৫-র হাতিয়ার গর্জে ওঠো আরেকবার স্লোগান দেবে? নেত্রীকে হত্যার হুমকি দেবে আর আমরা যারা আওয়ামী লীগ করি, তারা কি বসে আঙ্গুল চুষবো? যারা ছাত্র রাজনীতি করে তারা কি বসে থাকবে? তাদের রক্ত গরম হবে না? মির্জা ফখরুল আগুন নিয়ে খেলবেন না। আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকব না।

এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা সন্ত্রাস করবে, নাশকতা করবে আর আমরা বসে আঙ্গুল চুষব? রাজপথ ইজারা দেব? সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করবো না?

৪-১০ জুন সারাদেশে বুস্টার ডোজ সপ্তাহ

কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঠেকাতে আগামী ৪ থেকে ১০ জুন দেশব্যাপী করোনা টিকার বুস্টার ডোজ সপ্তাহ উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ সময়ে নিকটবর্তী টিকাকেন্দ্রে গিয়ে ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সি সবাই বুস্টার ডোজ নিতে পারবেন।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) শাখার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ১৮ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সি সবাই দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের চার মাস পার হলে বুস্টার ডোজ নিতে পারবেন।

সব টিকাকেন্দ্রে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হবে। ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য টিকা কার্ড অবশ্যই সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, আগামী ৪ থেকে ১০ জুন দেশব্যাপী কোভিড ভ্যাকসিন বুস্টার ডোজ সপ্তাহ উদযাপন হবে। এই সাতদিনের যে কোনো দিন নিকটবর্তী টিকাকেন্দ্রে গিয়ে কোভিড ভ্যাকসিনের তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ নেওয়া যাবে। টিকাকেন্দ্রে আসার সময় সবাইকে অবশ্যই মাস্ক পরে আসতে হবে।

বুস্টার ডোজের পাশাপাশি কোভিড ভ্যাকসিন (প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ) দেওয়ার স্বাভাবিক কার্যক্রমও চলমান থাকবে।

ইয়াবা-হেরোইনসহ ৫৫ জনকে গ্রেফতার

বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বড়ি, হেরোইন এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্যসহ অন্তত ৫৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক সেবন ও কেনাবেচায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাদেরকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

সোমবার ভোর ৬টা থেকে মঙ্গলবার একই সময় পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ২১২৩৮ পিস ইয়াবা বড়ি, ২২৩ গ্রাম হেরোইন, ৫ কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজা ও ২৪ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪২টি মামলা করা হয়েছে।

মিডিয়া স্বাধীনভাবে কাজ করবে: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ইসমাইল সাবরি ইয়াকোব বলেছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অন্য পক্ষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই মিডিয়াকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে। ২৯ মে রোববার মেলাকা বান্দার হিলিতে জাতীয় সাংবাদিক দিবস (হাওয়ানা) ২০২২ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার কখনো গণমাধ্যমকে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশে বাধা দেয়নি। সরকার সবসময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতি নজর রাখে এবং নির্ভুল, খাঁটি তথ্য প্রচারে সরকার মিডিয়াকে সহযোগিতা করে। কেলুয়ার্গা মালয়েশিয়া এবং দেশের উন্নয়নের স্বার্থে, আমি আশ্বাস দিতে পারি যে তথ্য প্রচারে সরকারের লুকানোর কিছু নেই। অনুষ্ঠানে যোগাযোগ ও মাল্টিমিডিয়া মন্ত্রী আনুয়ার মুসা ও মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন ।

মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়ান সাংবাদিক সমিতির (ইসোয়ামি) সভাপতি মোখতার হুসেন বলছেন, মিডিয়া অনুশীলনকারীদের সুরক্ষা ও প্রতিনিধিত্ব করার জন্য একটি বিশেষ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা দরকার।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে আলোচনা চললেও তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। মালয়েশিয়ায় অনেক (মিডিয়া-সম্পর্কিত) অ্যাসোসিয়েশন আছে কিন্তু কোনোটিই কাজ করে না।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জসবন্ত সিং, মালয়েশিয়াকিনির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রেমেশ চন্দ্রন, মিডিয়া মুলিয়া গ্রুপের সম্পাদক আজলান জাফর, জাতীয় সাংবাদিক জোহান জাফফার, ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রধান সম্পাদক জুলহায়াতি জুলকিফলি, সাংবাদিকতা শিক্ষক সমিতির সভাপতি আহমদ মুরাদ মেরিকান।

ভার্জিনিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘স্বেচ্ছাসেবক সেবা’ সম্মাননা পেলেন ১২ বাংলাদেশি

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের উদীয়ন ফাউন্ডেশনের আয়োজনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘স্বেচ্ছাসেবক সেবা’ সম্মাননা পেলেন ১২ জন বাংলাদেশি। সাম্প্রতি ভার্জিনিয়ার আর্লিংটন সেন্ট্রাল লাইব্রেরির অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকার সামাজিক সংগঠন উদীয়ন ফাউন্ডেশনের আয়োজনে প্রেসিডেন্টস ভলান্টিয়ার সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান।

এ অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্রেটার ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকার নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মীদের এবং জাতীয় পর্যায়ে গণমাধ্যমে অবদান রক্ষাকারী ব্যক্তিত্বদের তাদের অসামান্য অবদানের জন্য সম্মানিত করা। উদীয়নের পক্ষ থেকে এটি ছিল একটি মহতী উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই আগত অতিথিদের স্বাগতম জানিয়ে সবাইকে উদীয়নের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান এন্থনি পিউস গোমেজ। এরপর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত মূলধারার নেতৃবৃন্দকে মঞ্চে আহবান জানান অনিকা রহমান।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টির চেয়ার জেফ্রি ম্যাকে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি স্কুল বোর্ডের ভাইস-চেয়ার রচনা সিজমোর হেইজার এবং ডেমোক্রেটিক এশিয়ান আমেরিকানস অব ভার্জিনিয়ার সাবেক চেয়ার ডুয়িটা সোহারজোনো। এরপর উদীয়ন এবং উদীয়নের সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের ওপর বিস্তারিত আলোকপাত করেন উদীয়নের প্রতিষ্ঠাতা রেদোয়ান চৌধুরী।

উদীয়ন যাদের সম্মানিত করেছেন তারা হলেন- ভয়েস আমেরিকার ইকবাল বাহার চৌধুরী, মাসুমা খাতুন, সরকার কবিরুদ্দিন, রোকেয়া হায়দার এবং আনিস আহমেদ। এছাড়াও সামাজিক ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য সম্মাননা দেওয়া হয়েছে ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকার সবার পরিচিত ওয়াহেদ হোসেইনী, শারমিন আহমদ, শামীম চৌধুরী, এন্থনি পিউস গোমেজ, রোজমেরী মিতু রিবেরু, শম্পা বণিক এবং অনিকা রহমানকে। আরও যারা সম্মাননার জন্য মনোনীত হয়েছিলেন কিন্তু দেশের বা শহরের বাইরে থাকায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি তারা হলেন- আবু সোলাইমান, ড. মরিয়ম পারভীন, সুভি মেহ্দী, প্রয়াত মুকিত হোসেইনের পরিবার, ড. আজিজুল কাদের, শফিক চৌধুরী, জহিরুল কাদের এবং মৈত্রেয়ী নায়েক।

যারা এই সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তারা সবাই সমাজের সম্মানিত বিশিষ্ট ব্যাক্তিত্ব। সমাজের জন্য, দেশের জন্য তাদের অবদান অপরিসীম এবং উদীয়নের পক্ষ থেকে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের এই সম্মাননা প্রদান ছিল উদীয়নের একটি ব্যতিক্রমধর্মী মহতী উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও এমনি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য উদীয়নের পক্ষ থেকে প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। সমাজের উন্নয়নের জন্য সবাইকে যার যার ক্ষেত্রে থেকে স্বীয় ভূমিকা পালন করার জন্য উদীয়নের পক্ষ থেকে উদাত্ত আহবান জানানো হয়। অতঃপর সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয়। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন এন্থনি পিউস গোমেজ এবং অনিকা রহমান।

ব্যথায় গরম পানির সেঁক দেওয়া কি ঠিক?

ব্যথা পেলে আমরা উপশপ পেতে নানান উপায় খুঁজি। অনেকে নেন ঠাণ্ডা পানি কিংবা বরফের প্রলেপ। আর কেউ কেউ গরম পানির সেঁক নিয়ে থাকি।

ব্যথায় গরম পানির সেঁক নেওয়া ঠিক না সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ভিশন ফিজিওথেরাপি সেন্টারের কনসালট্যান্ট ফিজিওথেরাপিস্ট ডা. সাইফুল ইসলাম।

ব্যথা পেলেই আমরা গরম পানির সেঁক বা হট প্যাক দেই। এটা অনেক বড় একটা ভুল। আঘাতজনিত ব্যথায় প্রথম দিকে গরম সেঁক দিলে ব্যথা এবং ফোলা দুটোই বেড়ে যাবে।

কারণ গরম দিলে রক্তনালিগুলো প্রসারিত হয়ে আরও বেশি রক্ত এসে আঘাতপ্রাপ্ত অংশটি অনেক বেশি ফুলে যায়, ফলে ইনফ্লামেশন আরও বেড়ে যায়। অর্থাৎ নিজের সর্বনাশ নিজেই করলেন।

ব্যথা পেলে কী করবেন

ব্যথা পাওয়ার সঙ্গে বরফ দেওয়া উচিত। বরফকে অবশ্যই কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে দিতে হবে। অথবা আইস জেল প্যাক ব্যবহার করতে হবে। ২০-৩০ মিনিট বরফ দিতে পারেন। প্রতিদিন ৪ বার করে, প্রথম ৩ দিন।

পরে অবস্থা বুঝে গরম পানির সেঁক দিতে পারেন, যদি ফোলা না থাকে। জয়েন্ট বা টিস্যু ফোলা থাকলে অবশ্যই বরফ দেবেন।

গরম দিলে ফোলা আরও বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া আর্থ্রাইটিসজনিত হাঁটু ব্যথায় অনেকে হাঁটুতে গরম পানির সেঁক দেন, এমন কী হাঁটু ফোলা থাকলেও।

এতে সাময়িক আরাম পেলেও ফোলা এবং ব্যথা উভয় বেড়ে যায়। তাই হাঁটু ফোলা এবং ব্যথাজনিত সমস্যায় বরফ দেবেন।

আঘাতজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে তীব্র ব্যথা এবং ফোলা বেশি থাকলে চিকিৎসকের কাছে দ্রুত যাওয়া উচিত। কারণ হাড় ভেঙে যাওয়ার সমস্যাও হতে পারে।