বুধবার ,১০ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 286

চট্টগ্রামের বিস্ফোরণে ৪১ লাশ উদ্ধার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ৪১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৮ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী।

ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আনিসুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করছেন।

তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিসের ২৮ জন হতাহত হয়েছে। এর মধ্যে ৮জন মৃত্যুবরণ করেছেন। নিহতদের মধ্যে ৩ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া আহত ১৫ জনকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছে। বিস্ফোরণের ঘটনায় এখনও ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

শনিবার রাতের এই ঘটনায় চার শতাধিক দগ্ধ ও আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শ্রমিক, পুলিশ সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা রয়েছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অনেককে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ওই ডিপোতে ৫০ হাজারের বেশি কনটেইনার রয়েছে। কেমিক্যাল কনটেইনার থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন লাগার পর কনটেইনারগুলো একের পর এক বিস্ফোরিত হতে থাকে। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থল থেকে তিন-চার কিলোমিটার এলাকা কেঁপে ওঠে। আশপাশের বাড়ি-ঘরের জানালার কাচ ভেঙে পড়ে।

অগ্নিদগ্ধদের জরুরি চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের সব চিকিৎসকের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য। বেসরকারি হাসপাতালসহ সব হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শামীম আহসান বলেন, ছুটিতে থাকা সব চিকিৎসক-নার্সকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে আনা হয়েছে। এতসংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ওষুধেরও সংকট রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ, স্যালাইন, পেইন কিলার প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল মো. রেজাউল করিম, পিএসসিকে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. আনিসুর রহমানকে।

অন্যান্যরা হলেন – শামস আরমান (প্রশিক্ষক, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, টিসি, মিরপুর), জহিরুল ইসলাম (সিনিয়র স্টেশন অফিসার, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, ইপিজেড, সাভার), মো. ওমর ফারুক ভূঁইয়া, ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রাম)

বাইডেনের সৌদি আরব ও ইসরাইল সফর স্থগিত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ইহুদিবাদী ইসরাইল ও সৌদি আরব সফর স্থগিত করা হয়েছে।

জুনে দেশ দুটিতে বাইডেনের সফরের কথা থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগামী মাসে জুলাইয়ে মধ্যপ্রাচ্য সফরে যাবেন। খবর এনবিসির।

এ সফরে ইসরাইল ছাড়াও পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন।

পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের ওই বৈঠকে এ পরিষদের বাইরের যে তিন দেশ অংশগ্রহণ করবে সেগুলো হলো— ইরাক, জর্দান ও মিসর।

পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের মূল সদস্য দেশগুলো হলো- সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ওমান।

হোয়াইট হাউস গত শুক্রবার জানিয়েছিল, এই পরিষদের বৈঠক চলতি জুন মাসে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু শনিবার হঠাৎ করে এ সফর পিছিয়ে দেওয়া হয়।

সেভেরোদোনেৎস্কে চলছে তীব্র লড়াই, পিছু হটছে রুশ বাহিনী

ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল সেভেরোদোনেৎস্কে তীব্র লড়াই চলছে। লুহানস্কের গভর্নর দাবি করেছেন, ইউক্রেনকে সেভেরোদোনেৎস্কে সেনা সংখ্যা বৃদ্ধি ঠেকাতে সেতুগুলো উড়িয়ে দিচ্ছে রুশ বাহিনী। পিছু হটছে রুশ বাহিনী।

শনিবার আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আলজাজিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

রাশিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইউক্রেন কিছু সামরিক ইউনিট পূর্ব ইউক্রেনের প্রধান শহর সেভেরোদোনেৎস্ক থেকে প্রত্যাহার করছে।

এদিকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইউক্রেন সেনাবাহিনীর কিছু ইউনিট সেভেরোদোনেৎস্কে লড়াইয়ের সময় গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে লিসিচানস্কের দিকে গেছে।

তবে কিছু ইউক্রেনীয় যোদ্ধা শহরে রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

এর আগে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ এ দাবি করে, তীব্র পাল্টা হামলার কারণে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল থেকে রুশ বাহিনী পিছু হটছে।

বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ

একাদশ জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন (বাজেট অধিবেশন) আজ রোববার বিকাল ৫টায় শুরু হচ্ছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন বসবে। এর আগে ১৮ মে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ অধিবেশন আহ্বান করেন। এই অধিবেশনে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট পেশ ও পাশ করা হবে। আগামী ৯ জুন বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রস্তাব পেশ করবেন।

গত ২৮ মার্চ একাদশ জাতীয় সংসদের সপ্তদশ অধিবেশন শুরু হয়ে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৮ কার্যদিবস চলে। ওই অধিবেশনে ১০টি স্থায়ী কমিটির রিপোর্ট উপস্থাপিত হয়। এছাড়া কার্যপ্রণালিবিধির ১৪৭ বিধির আওতায় আনীত প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এবারের অধিবেশনও করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই অনুষ্ঠিত হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের এর আগের দুটি অর্থবছরের বাজেট বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ পরিস্থিতির মধ্যেই দেওয়া হয়। সংগত কারণেই ওই দুটি বাজেট অধিবেশন সংক্ষিপ্ত করা হয়েছিল (মাঝে মাঝে বিরতি দিয়ে অধিবেশনের কাজ চালানো হয়)। এবার কোভিড-১৯ পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক পর্যায়ে এলেও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হবে। কারণ এই ভাইরাসের সংক্রমণ এখনো শেষ হয়ে যায়নি বলে সংসদ সচিবালয় সংশ্লিষ্টরা জানান।

অর্থমন্ত্রী আগামী ৯ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর নিয়ম অনুযায়ী প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সংসদ-সদস্যরা আলোচনা করবেন। এরপর আগামী ৩০ জুন প্রস্তাবিত বাজেট পাশ হবে। বাজেট ছাড়াও এই অধিবেশনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল উপস্থাপন এবং এর আগে উপস্থাপিত কিছু বিল পাশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আগের দুটি বাজেট অধিবেশনে সংসদ-সদস্যরা পালা করে অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন। তবে এবার সংসদ-সদস্যরা চাইলে প্রতি কার্যদিবসে যোগ দিতে পারবেন। সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নিয়মিত স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। সাংবাদিকরাও সংসদ ভবনে গিয়ে অধিবেশনের সংবাদ সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে সংসদ-সদস্য, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংসদ ভবনে স্থাপিত করোনা পরীক্ষা বুথে নমুনা নেওয়া হয়েছে। যাদের করোনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসবে, কেবল তারাই সংসদে যেতে পারবেন।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-এ আলম চৌধুরী জানান, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সংসদ অধিবেশনে সংসদ-সদস্যদের উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলেও অধিবেশনে এসে যাতে কেউ সংক্রমিত না হন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় পার হলেই অধিবেশনে যোগদানের জন্য নমুনা পরীক্ষার করোনা নেগেটিভ সনদ নিতে হবে। ছুটির দিন ছাড়া অন্য দিনগুলোয় অধিবেশন থাকবে বলে তিনি জানান।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, এবার বাজেট অধিবেশন দীর্ঘ হবে। জাতীয় সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যসূচি চূড়ান্ত হবে। সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে আজ রোববার বিকাল ৪টায় কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। করোনাকালে অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক স্থগিত ছিল। এই বৈঠকে পদ্মা সেতু নির্মাণের সরকারের সফলতা নিয়ে সংসদে সাধারণ আলোচনার সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সংসদে বাজেট পেশের আগে ওইদিন বেলা ১২টায় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদনের পর অর্থবিলে স্বাক্ষর করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এ কারণে রাষ্ট্রপতি সেদিন তার সংসদ ভবন কার্যালয়ে অবস্থান করবেন। অধিবেশনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে সংসদ সচিবালয়। সংসদ ভবন, সদস্য ভবন এবং সংসদ এলাকার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সংসদ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ, পানি সরবরাহ, লিফট, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সচল ও সংসদ এলাকার সৌন্দর্য বাড়ানো হয়েছে।

চাল নিয়ে চালাকি : সংকট নিরসনে বসছে দুই বৈঠক

দেশব্যাপী অভিযান চালালেও চালের বাজারে সুখবর পাচ্ছেন না ক্রেতারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চালের বাজার ঠিক রাখতে খাদ্য মন্ত্রণালয় সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নেয়নি। হঠাৎ করে অভিযান চালালেও প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না।

অভিযানের কারণে বাজারে সাময়িক প্রভাব পড়লেও দীর্ঘমেয়াদে সুফল দেবে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে চাল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করলে চালের বাজার প্রত্যাশিত অবস্থানে যাবে বলে মনে করছেন মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ ও মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষকরা।

তারা বলছেন, করপোরেট ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা পরিকল্পিতভাবে চালের বাজার উত্তপ্ত করেছে। সেটা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

খাদ্য সচিব ড. নাজমানারা খানুম শনিবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, ‘চালের বাজার যে পর্যায়ে চলে গেছে সেখান থেকে আমাদের (অর্থাৎ সরকার) প্রত্যাশিত পর্যায়ে আনতে বেসরকারিভাবে চাল আমদানি প্রয়োজন বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি।’

তিনি বলেন, ‘চাল আমদানির বিষয়টা আমরা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এককভাবে নিতে পারি না। সোমবার ফুড প্ল্যানিং অ্যান্ড মনিটরিং কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলে চাল আমদানির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

খাদ্য সচিব যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক কৃষক তাদের ধান বিক্রি করে ফেলেছেন। এখন বড় কৃষকদের মধ্যে যাদের হাতে ধান আছে তারাও বিক্রি করে দিচ্ছেন। সরকার চাল আমদানি করার প্রক্রিয়া শুরু করতে করতে কৃষকের হাতে কোনো ধান থাকবে না। তাই তখন চাল আমদানিতে কোনো সমস্যা আছে বলে আমার মনে হয় না।’

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, যেভাবে হুট করে অভিযানে নামা হয়েছে তাতে ভালো ফল আসার সম্ভাবনা কম। একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, দেশের মিল মালিক, করপোরেট ব্যবসায়ী, মধ্যম মানের ব্যবসায়ী এবং কৃষকদের কার কাছে কত শতাংশ ধান-চাল মজুত আছে তার সঠিক পরিসংখ্যান সরকারের হাতে নেই।

অন্যদিকে করপোরেট ব্যবসায়ীরা চাল ব্যবসায় আসার পর থেকে অনেক মিল মালিক তাদের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে আলোচনা বা নীতিমালা করার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এখন অভিযান চালানোর মধ্যেই তাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে ভোক্তা অধিদপ্তর। জেলা পর্যায়ের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেছেন, অভিযান আর আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সাময়িক ফল পাওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদি ফল পেতে গেলে চাল আমদানির বিকল্প নেই।

তাদের মতে, অনেক করপোরেট ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা প্রতিযোগিতা করে ধান কিনেছেন। তারা সাময়িক চাপে অল্প দাম কমালেও কয়েকদিন পরই আবার আগের রূপে ফিরে যাবেন।

তাই এখন আন্তর্জাতিক বাজার ইতিবাচক আছে, কিছু আমদানির অনুমতি দিলেই চালের বাজার শান্ত হয়ে যেতে বাধ্য। উদাহরণ দিয়ে একজন কর্মকর্তা বলেন, সাধারণ কৃষকদের মধ্যে যারা ধান বিক্রি করার তারা করে ফেলেছেন।

তাই এখন চাল আমদানি করলেও কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। সংশ্লিষ্টরা আরও বলেছেন, ধানের আগামী মৌসুমের উৎপাদন প্রায় ৬ মাস সময় লাগবে। এর মাঝে চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমদানির পথেই হাঁটতে হবে সরকারকে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আবদুল লতিফ মণ্ডল যুগান্তরকে বলেন, ‘পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সরকারকে চাল আমদানি করতে হবে, এটা ঠিক। কিন্তু বোরোর ভরা মৌসুমে এমন সিদ্ধান্তের দিকে যাওয়া খুবই দুঃখজনক বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘মিল মালিকরা ধান কিনে প্রয়োজনীয় চাল উৎপাদন করছে না। যতটুকু চাল উৎপাদন হচ্ছে তাও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দিচ্ছে। ফলে বাজারে নতুন চাল না আসায় চালের দাম কমছে না।’

তিনি বলেন, ‘মিল মালিকরা যে বাজারে চাল ছাড়ছে না সেটা মন্ত্রী নিজেই বলেছেন। এই বিষয়টা মন্ত্রণালয় বাজার তদারকির মাধ্যমে কেন আগে বুঝতে পারল না। চালের দাম বৃদ্ধির পর সেটা বুঝলে তো হবে না।’

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার যুগান্তরকে বলেন, চালের মজুত পরিস্থিতি জানতে সব পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের ৬ জুন অধিদপ্তরে ডাকা হয়েছে।

সেখানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মজুত নিয়ে কারসাজি করা হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সেখানে করপোরেট প্রতিষ্ঠান, বড় মিল মালিক তারা মুখোমুখি বসে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবে। অধিদপ্তরের সংগৃহীত তথ্যের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সরবরাহ করা তথ্যে অসঙ্গতি পেলে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেবে।

ঢাকার বাদামতলী ও বাবুবাজার চাল আড়তদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজি মো. নিজামউদ্দিন ৪০ বছরের বেশি সময় চালের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তিনি যুগান্তরকে বলেন, বোরোর এমন সময় চালের দামের চিত্র খুবই বিস্ময়কর।

এটা কোনোভাবেই মানা যায় না। অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, ব্যবসায় এক টাকা-পঞ্চাশ পয়সা ব্যবসা হলেই আমরা অনেক খুশি হয়ে যেতাম।

কিন্তু এখন বড় বড় ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা শুধু চালটা প্যাকেটে ভরেই কয়েক টাকা দাম বাড়িয়ে দেন। এমন পরিস্থিতির সঙ্গে আমরা পরিচিত নই। এ অবস্থাটা সরকারকেই সামাল দিতে হবে।

রাজধানীর কাওরান বাজারের আল্লাহর দান রাইস এজেন্সির কর্ণধার সিদ্দিকুর রহমান শনিবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, অভিযান চললেও খুচরা বাজারে চালের দামে এখনো প্রভাব পড়েনি। তিনি বলেন, মোটা চাল আর চিকন চাল যাই বলেন, আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এএইচএম সফিকুজ্জামানের কাছে দেশে ধান-চালের বর্তমান মজুত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে কোনো পরিসংখ্যান জানাতে পারেননি। তিনি যুগান্তরকে বলেন, এটা সাধারণত খাদ্য মন্ত্রণালয় করে থাকে। আমরা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ডেকেছি। তাদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী করণীয় ঠিক করব।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ফুড প্ল্যানিং অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিট (এফপিএমইউ) সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর পৌনে ৪ কোটি টন চালের চাহিদা আছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩ কোটি ৭৬ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশে চাল উৎপাদন ও চাহিদার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। উল্লিখিত পরিসংখ্যান ধরে হিসাব করা হলেও প্রতিবছরই কিছু না কিছু চাল আমদানি হয়। এই বিষয় নিয়ে খোদ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে মতপার্থক্য আছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে চালের চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত আছে। অভিযোগ উঠেছে, মিল মালিক ও করপোরেট ব্যবসায়ীরা ধান মজুত রাখার কারণে বাজারে চালের দাম বেড়ে গেছে।

মূলত ধান নিয়ন্ত্রণকারী বড় বড় মিলার সিন্ডিকেটরা তাদের হাতে থাকা আগের চাল বেশি দামে বিক্রি করার জন্য এই কারসাজির আশ্রয় নিয়েছে। যে কারণে বোরোর ভরা মৌসুমে চালের দরে ঊর্ধ্বগতি।

এ অবস্থায় সরকার চাল আমদানির কথা চিন্তা করছে। খাদ্যমন্ত্রী সম্প্রতি বোরো সংগ্রহের তদারকিসংক্রান্ত মাঠপর্যায়ের একাধিক বৈঠকেও প্রয়োজনে চাল আমদানি করা হবে বলে জানিয়েছেন।

সীতাকুণ্ডের ঘটনায় যা বললেন মির্জা ফখরুল

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় হতাহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, বিস্ফোরণে এতগুলো মানুষের প্রাণ গেল, এতগুলো মানুষ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন; এর জন্য সরকার দায়ী। এ ঘটনায় আবারও প্রমাণ করে, এই সরকার কতটা ব্যর্থ। বর্তমান সরকার উন্নয়নের কথা মুখে বললেও তারা মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। তাই আওয়ামী লীগকে আর ক্ষমতায় রাখা যায় না। বিতাড়িত করতে না পারলে এই দেশের গণতন্ত্র বিপন্ন হবে, এই দেশও বিপন্ন হবে।

রোববার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার পৈতৃক বাসভবনে এসে স্থানীয় প্রেসক্লাবে একমত বিনিময়সভায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

এ সময় মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বিএনপি নির্বাচনে যেতে চায়, তবে সেই নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে।

বিএনপিকে কিছুতেই থামানো যাবে না, বিএনপি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঐক্য তৈরি করছে দেখে আওয়ামী লীগের গাত্রদাহ হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশে এখন সংবাদমাধ্যমেরও কোনো স্বাধীনতা নেই, সংবাদমাধ্যম মানুষের ভোটের অধিকার নিয়ে কোনো কথা বলে না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমিনসহ দলের অনেক নেতাকর্মী ।

সীতাকুণ্ডে আহতদের রক্ত দিতে ছাত্রদলের জরুরি নির্দেশনা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে আহতদের রক্ত দেওয়াসহ সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়াতে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এ নির্দেশনা দেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক স্ট্যাটাসে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক উল্লেখ করেন, ‘ভাটিয়ারি বিএম ডিপোতে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ। প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কেঁপে উঠেছে। একের পর এক বিস্ফোরিত হচ্ছে সামর্থ কনটেইনার। হাসপাতালে জায়গা সংকট। চট্টগ্রামের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সব ইউনিটকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে অবস্থান নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া গেল।

সীতাকুণ্ডের কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা অনেক, প্রচুর পরিমাণ রক্তের প্রয়োজন হচ্ছে। দয়া করে যে যেখানে আছেন সাধ্যের মধ্যে থাকলে এক্ষুণি ছুটে যান, আপনার এক ব্যাগ রক্ত হয়তো বাঁচিয়ে দিতে পারে একটি প্রাণ, আপনার পরিচিত রক্তযোদ্ধা বন্ধুদেরও আসার জন্য অনুরোধ করুন।’

এদিকে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর জেলা এবং দক্ষিণ জেলার নেতৃবৃন্দকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।’

বিশ্ব গণমাধ্যমে সীতাকুণ্ডের ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়িতে কাশেম জুটমিলসংলগ্ন বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে।

রয়টার্স, এপি, বিবিসি, আলজাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, ডেইলি মেইল এবং ভারতীয় প্রথম সারির গণমাধ্যমসহ প্রধান প্রধান আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমে এসেছে এ খবর।

দুর্ঘটনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ ঘটনার তাৎক্ষণিক খবরও প্রচার করা হয়।

অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা নিয়মিত আপডেট দিয়ে যাচ্ছে বিবিসি বাংলা।

তারা শিরোনাম করেছে— ‘কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণে দমকলকর্মীসহ অন্তত ৩৯ জন নিহত।’

এ ছাড়া বিসিবির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— সীতাকুণ্ড শহরের একটি কনটেইনার স্টোরেজে আগুন নেভানোর জন্য দমকলকর্মীদের ডাকার পর সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ডিপোর কিছু কনটেইনারে রাসায়নিক পদার্থ মজুত ছিল বলে জানানো হয়েছে। আর এর জেরেই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একটি কনটেইনার ডিপোতে বিশাল অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ১৬ জন নিহত এবং ১৭০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে ৪০ কিলোমিটার (২৫ মাইল) দূরে সীতাকুণ্ডে শনিবার রাতে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। আর এর জেরে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের একটি অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোতে একটি বিশাল অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ১৬ জন নিহত এবং ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন।

কলকাতার গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা শিরোনাম করেছে— ‘বাংলাদেশের চট্টগ্রামে রাসায়নিকের গুদামে পর পর বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে মৃত অন্তত ৩২, দগ্ধ শতাধিক।’

তারা লিখেছে, বাংলাদেশের চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঝলসে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৩২ জনের। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহত হয়েছেন দেড়শর বেশি। আহতদের মধ্যে ডিপোর কর্মী ছাড়াও রয়েছেন পুলিশ ও দমকলকর্মীরাও। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

হিন্দুস্তান টাইমের বাংলা সংস্করণ শিরোনাম করেছে— ‘বাংলাদেশ: বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ডে ৫ দমকলকর্মীসহ মৃত ৩২।’

প্রতিবেদনে তারা লিখেছে— যত সময় যাচ্ছে, তত ভয়াবহ আকার নিচ্ছে বাংলাদেশের সীতাকুণ্ডে আগুন লাগার ঘটনা। সকালে জানা গিয়েছিল ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এ ঘটনায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই সংখ্যা প্রথমে ১৬ এবং তার পরে ৩০ ছাড়িয়ে গেছে।

সংবাদমাধ্যমটি আরও লিখেছে, বাংলাদেশের কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বন্দর চট্টগ্রাম শহর থেকে সীতাকুণ্ডের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিমি। জানা গেছে, এ কনটেইনার ডিপোতে কম করে ৬০০ ব্যক্তি কাজ করেন। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একই ধরনের সংবাদ প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান, ডেইলি মেইল, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য হিন্দু, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস, গালফ নিউজ, ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স২৪, পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনালসহ আরও অনেক গণমাধ্যম।

এ ছাড়া ডিপোতে ভয়াবহ আগুন, বিস্ফোরণের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ফেসবুক এবং টুইটারেও ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, শনিবার রাত ১০টার দিকে সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়িতে কাশেম জুটমিলসংলগ্ন বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সেই আগুনে কেমিক্যাল কনটেইনারে বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে উঠে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা। ভেঙে পড়ে আশপাশের ঘরবাড়ির দেয়াল ও জানালা।

আগুন ১৪ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ফায়ার সার্ভিসের ২৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। শনিবার রাত থেকে জ্বলতে থাকা আগুন ও বিস্ফোরণে ফায়ার সার্ভিসের ৮ কর্মীসহ মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪১ জন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীসহ ৪শর বেশি দগ্ধ ও আহত হয়েছেন।

আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, সিএমএইচসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের চিকিৎসক ও নার্সদের ছুটি বাতিল করে কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে।

এ বছর জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা হবে না: শিক্ষামন্ত্রী

চলতি বছর এবং আগামী বছরে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে সভা কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, এ বছর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। পরীক্ষার পরিবর্তে স্কুলে ক্লাস মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করেই সনদ দেয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী বছর থেকে নতুন কারিকুলাম শুরু হবে। অষ্টম শ্রেণি পর্যায়ে শুরু হবে ২০২৪ সালে। ফলে আগামী বছরও পরীক্ষা নেওয়া হবে না।

এ সময় শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো, আবু বকর ছিদ্দিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

অভাবের শেষ নেই অসাধু ব্যবসায়ীর

সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা এবং মজুতদারি রোধে ইসলামের নির্দেশনা নিয়ে যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন দেশবরেণ্য ইসলামি চিন্তাবিদ ও কুরআন গবেষক মাওলানা শাইখ মুহাম্মাদ জামাল উদ্দীন। তিনি জামালী তালিমুল কুরআন সোসাইটির চেয়ারম্যান এবং রূপায়ণ টাউন সেন্ট্রাল মসজিদের খতিব। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নূর আহমাদ

বাজার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কী?

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়েও ইসলামের আছে সুন্দর দৃষ্টিভঙ্গি। প্রথম কথা হলো, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে ক্রেতা-বিক্রেতার জন্য কেনাবেচার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা। বিক্রেতা ভেজালমুক্ত পণ্য নায্যমূল্যে বিক্রি করবেন এবং ক্রেতা দেখেশুনে দরদাম করে সঠিক মূল্যে ক্রয় করবেন। এ দুটি বিষয় ব্যাঘাত হচ্ছে কিনা তা তদারকির দায়িত্বও রাষ্ট্রের। বুখারি ও মুসলিম শরিফের হাদিস থেকে জানতে পারি, রাসূল (সা.) যখন মদিনার রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন, তিনি প্রায়ই বাজারে গিয়ে নিজে মেজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করতেন। কখনো কখনো প্রতিনিধি পাঠিয়েও বাজার তদারকি করতেন। বাজার স্থিতিশীল রাখার ব্যাপারে হুজুরের (সা.) নীতি ছিল কঠোর। একবার তিনি একটি গম মতান্তরের খেজুরের বস্তায় হাত ঢুকিয়ে দিলেন। ভেতরে ভেজা পণ্য দেখে রাসূল (সা.) দোকানিকে জিজ্ঞেস করলেন, ওপরে ভালো শস্য ভেতরে কেন ভেজা? দোকানি বলল, মানুষ ভেজা শস্য নিতে চায় না, তাই এমনটি করেছি। রাসূল (সা.) বললেন, যে ব্যবসায়ী ক্রেতাকে ঠকায় সে আমার উম্মত নয়। এ হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, ঠকবাজ ব্যবসায়ী কতটা ঘৃণিত ছিল নবিজির চোখে। পাশাপাশি এটাও প্রমাণিত, নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

বাজার অস্থিতিশীলকারীদের সম্পর্কে কুরআন কী বলেছে?

পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহৎ মুসলিম দেশ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। কথা ছিল আমাদের আচার-আচরণ দেখে বিশ্বের মানুষ ইসলামের প্রতি মুগ্ধ হবে। কুরআন ও রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ বাস্তবায়নের দিক থেকে আমরা হব অগ্রগামী। আফসোস! কুরআন পড়তেই জানি না আমরা। সুন্নাহ কি তাও বুঝি না। আজান হলে দৌড়ে মসজিদে যাই, রমজান এলে সকাল থেকে সন্ধ্যা না খেয়ে কাটিয়ে দিই, পয়সা হলে কাবা ঘুরে আসি-এভাবেই আমরা হয়ে গেলাম লোক দেখানো মুসলমান। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘কিছু মানুষ দাবি করে, আমরা আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাসী। কিন্তু ওরা আদৌ বিশ্বাসী নয়। ওরা আল্লাহ ও বিশ্বাসীদের ঠকাতে চায়। আসলে ওরা নিজেদেরই ঠকাচ্ছে, যদিও ওরা তা বোঝে না।’ (সূরা বাকারা, আয়াত ৮-৯।) মুসলমান হতে হয় আচরণে, লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে। আফসোস! আমাদের একশ্রেণির ব্যবসায়ী এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন যে, মানুষের রক্ত চোষাই তাদের একমাত্র টার্গেট হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে দাম বাড়লে একটি কি দুটি পণ্যের দাম বাড়ত। এখন সব পণ্যের দাম হু হু করে বাড়িয়ে দিচ্ছে সিন্ডিকেট। পবিত্র কুরআনের বেশ কয়েকটি আয়াত থেকে জানা যায়, বাজার অস্থিতিশীল করার কারণে শোয়াইব নবির উম্মতকে আল্লাহতায়ালা চিরতরে ধ্বংস করে দেন। সূরা আরাফের ৮৫ থেকে ৯৩ আয়াত এবং সূরা হুদের ৮৪ থেকে ৯৬ নম্বর আয়াতে এ সম্পর্কে বিস্তারিত বলেছেন আল্লাহতায়ালা।

মজুতদারি রোধে রাসূল (সা.) কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?

মজুতদারি রোধে রাসূল (সা.) বাজার মনিটরিং করতেন। শুধু তাই নয়, সময়ে সময়ে ব্যবসায়ী সমাজের উদ্দেশ্যে উৎসাহবোধক এবং ঠকবাজ ব্যবসায়ীদের নিন্দা করে নসিহত করতেন। মেশকাত শরিফের এক হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘সত্যবাদী ব্যবসায়ীর হাশর হবে নবি ও সিদ্দিকদের সঙ্গে।’ একইভাবে মজুতদারি প্রতিরোধে রাসূল (সা.) থেকে বেশ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। ওইসব হাদিসে মজুতদারকে অভিশপ্ত ঘৃণিত পাপীষ্ঠ নরাধম বলা হয়েছে। মুসলিম শরিফের বর্ণনায় রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘কেবল ঘোরতর পাপী ব্যক্তিই মজুতদারি করে থাকে।’ অন্য বর্ণনায় রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মুসলমানদের ওপর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির নিয়তে মজুতদারি করবে, সে পাপীষ্ঠ।’ (মেশকাত।) হজরত মাকিল বিন ইয়াসার (রা.) বর্ণনা করেছেন, ‘আমি অসংখ্যবার রাসূল (সা.)কে বলতে শুনেছি, মুসলিম জনগণের জন্য পণ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে যদি কেউ কোনো ধরনের কারসাজি বা সিন্ডিকেট করে তাহলে কেয়ামতের দিন আল্লাহতায়ালা তাকে আগুনের চুল্লিতে বসিয়ে তার বিচার করবেন।’ (মেশকাত শরিফ।)

সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনায় আলেমদের ভূমিকা কী হওয়া উচিত বলে মনে করেন?

আলেমরা দুই ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে। প্রথমত তারা ব্যাপকভাবে সৎ ব্যবসায়ীর প্রশংসা এবং ঠকবাজ ব্যবসায়ীর নিন্দা সংক্রান্ত কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনাগুলো ব্যাপকভাবে প্রচার করবে। জুমার খুতবা থেকে শুরু করে ওয়াজের ময়দান সর্বত্রই ইসলামের বাজার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে মানুষকে জানাবে এবং সতর্ক করবে। এভাবে দাওয়াতের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি একদল আলেম নিজেরা ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবেন। দুর্ভাগ্যজনক সত্যি হলো, রাসূল (সা.), চার খলিফা, চার ইমামসহ সালফে সালেহিন প্রায় সবাই ব্যবসায়ী ছিলেন। কিন্তু আমাদের দেশের আলেমদের মধ্যে ব্যবসার প্রবণতা নেই বললেই চলে। দেশের টপ বিজনেস ম্যানদের মধ্যে আপনি কোনো আলেম পাবেন না। আজ যদি শীর্ষ দশ ব্যবসায়ীর মধ্যে আলেমরা সংখ্যাগুরু হতো, তাহলে মুনাফাখোররা রোজার মাসে বা প্রয়োজনের সময় কারসাজি করে মানুষকে কষ্ট দিতে পারত না। আলেমদের সততার কাছে ব্যবসার জাহেলি সিন্ডিকেট ভেসে যেত। আফসোস! আমরা তা করতে পারিনি। এ ব্যাপারে প্রবীণ আলেমরা ভাববেন এবং তরুণ আলেমরা ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়বেন বলে আমি আশাবাদী।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে আপনার নসিহত কী?

হে আমার মজুতদার ভাই! আল্লাহকে বেজার করে, আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দিয়ে, মানুষের অভিশাপ কামিয়ে যে সম্পদের পাহাড় আপনি গড়ে তুলছেন, একটু ভাবুন কবরে এ সম্পদ কী কাজে আসবে! যে স্বজন-প্রিয়জনদের জন্য ইমান আমল বিকিয়ে জাহান্নামের আগুনের বান্ডেল পকেটে পুড়ছেন তারা কি আপনার আজাবের ভাগিদার হবে? অন্যের জন্য নিজের আখেরাত শেষ করবেন না। মনে রাখবেন, কাফনের কিন্তু পকেট নেই। আল্লাহর কাছে তাওবা করুন, মানুষকে কষ্ট দেওয়া থেকে ফিরে আসুন। বাজার সচল রাখলে আল্লাহ আপনার জীবন সুখ-শান্তিতে ভরিয়ে দেবেন।

লেখক : শিক্ষার্থী, ডিপ্লোমা ইন অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।