সোমবার ,১৮ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 263

সাক্কুর সহযোগিতা চাইবেন রিফাত

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন আরফানুল হক রিফাত। নগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক রিফাত সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নেওয়ার পর সবাইকে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।

সাবেক দুই বারের মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর পরামর্শও চাইবেন তিনি। বৃহস্পতিবার যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এমনটিই জানিয়েছেন এই নেতা।

রিফাত বলেন, অবশ্যই সাক্কুর সহযোগিতা চাইব। তার যেসব ভালো কাজ এখনো শেষ হয়নি, আমি সেগুলো শেষ করব। কারণ আমি চাই, নগরের ও নগরবাসীর উন্নয়ন। তাদের ভালোর জন্য যে কোনো কাজ আমি করব। এটাতে সবার সহযোগিতা চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার ওপর আস্থা রেখেছিলেন। স্বাধীনতার প্রতীক বঙ্গবন্ধুর নৌকা আমাকে দিয়েছিলেন। আমি কুমিল্লার মানুষের কাছে তাদের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। তারা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করেছেন। আমিও তাদের সেই আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে চাই ইনশাআল্লাহ।

প্রসঙ্গত, বুধবার অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় রিফাত ও সাক্কুর মধ্যে। মাত্র ৩২৩ ভোটে সাক্কুকে হারান রিফাত।

ইউক্রেনের যে প্রস্তাবে সমর্থন করেছেন ইইউর ৪ নেতা

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের জন্য ইউক্রেনের প্রস্তাবকে সমর্থন করেছেন ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও রোমানিয়ার নেতারা। ইউক্রেনকে ‘অবিলম্বে’ ইইউ প্রার্থীর মর্যাদা দেওয়া উচিত বলেও জানান তারা।

বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস বলেন, ‘ইউক্রেন ইউরোপীয় পরিবারের অন্তর্গত।’

তবে জার্মান চ্যান্সেলর জানান, ইউক্রেনকে এখন সম্পূর্ণরূপে যোগদানের মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। খবর বিবিসির।

এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জোর দিয়ে বলেছেন, ২৭ সদস্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার বিরুদ্ধে জয় না হওয়া পর্যন্ত ইউক্রেনের পাশে থাকবে।

এর আগে এলিসি প্রাসাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস, ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি ও রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট ক্লাউস ইয়োহানিস কিয়েভ সফরে গেছেন। পরে তারা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইউক্রেনকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র সহায়তা দেওয়ার ঘোষণার একদিন পর তারা এ সফর করলেন।

আইসিসিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকারী রুশ গুপ্তচর আটক

নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) অনুপ্রবেশের চেষ্টায় এক রুশ গুপ্তচরকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার নেদারল্যান্ডসের গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে— ওই রুশ ব্যক্তি ব্রাজিলের নাগরিক বলে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে আইসিসিতে ইন্টার্নশিপ পাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন।

আটক রুশ ব্যক্তির নাম সেরগেই ভ্লাদিমিরোভিচ চেরকারসভ (৩৬)। তিনি রুশ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউয়ের এজেন্ট বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

যুদ্ধাপরাধ আদালতের ভেতরের খবর পেতে এপ্রিলে তিনি নেদারল্যান্ডস আসেন। তিনি মনে করেছিলেন, আইসিসিতে অনুপ্রবেশ করতে পেরেছেন সফলভাবে। এ ক্ষেত্রে তিনি ভিক্টর মুলার ফেরেইরা (৩৩) নামের ব্রাজিলের নাগরিক হিসেবে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করেন। তবে তার বিষয়ে পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আগেই সতর্ক হয়ে যান। ইন্টার্নশিপের জন্য আসার পর তাকে ডাচ অভিবাসন কর্মকর্তারা আটক করেন এবং ব্রাজিল ফেরত পাঠান। এতে তার কয়েক বছরের প্রস্তুতি ব্যর্থ হয়।

চেরকাসভকে এমন সময়ে আটক করা হয়েছে, যখন আইসিসি ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তদন্ত করতে শুরু করেছে। চেরকাসভ অনুপ্রবেশে সফল হলে আদালতের ইমেইল ব্যবস্থায় প্রবেশ এবং বিভিন্ন নথি প্রতিলিপি, কারসাজি বা ধ্বংস করার সুযোগ পেতে পারতেন।

ডাচ গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালক এরকি আকেরবুম বলেন, এটি স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, রুশরা কী করতে চাইছে। তারা অবৈধভাবে আইসিসির ভেতর থেকে তথ্য পেতে চাইছে। আমরা এটিকে উচ্চপর্যায়ের হুমকি হিসেবে দেখছি।

ডাচ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চেরকাসভকে এখন ব্রাজিলের আদালতের প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারে। এ বিষয়ে ব্রাজিল কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক মন্তব্য জানা যায়নি।

পণ্যের অগ্নিমূল্যে জ্বলছে মধ্য ও নিম্নবিত্ত

নিত্যপণ্যের অগ্নিমূল্যে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। বছরের ব্যবধানে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, আটা-ময়দা, মাছ-মাংস, মসলাজাতীয় পণ্য প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির অজুহাত এবং অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে বাজার লাগামহীন হয়ে পড়েছে।

এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে জীবনযাত্রার অন্যান্য সেবায়। যেমন: শিক্ষা, যাতায়াত ও চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে গেছে। কিন্তু আয় না বাড়ায় সংকটে পড়েছেন মধ্যবিত্ত।

বাজারের চাপে পিষ্ট হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, বছরের ব্যবধানে রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চালের দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ।

প্রতি কেজি আটা ৩৯.৭১ শতাংশ ও ময়দা ৬৪.৭৯ শতাংশ দাম বেড়েছে। প্রতি লিটার সয়াবিন তেল সর্বোচ্চ ৪৬.৬৭, পাম তেল ৫১.৫০, প্রতি কেজি মসুর ডাল ৩৮.৭১, আলু ৯.৩০, পেঁয়াজ ২৩.৫৩, রসুন ১২, মরিচ ৩৪.৬২, হলুদ ৩৫.২৯, গরুর মাংস ১৬.৬৭, খাসির মাংস ৫.৮৮, ব্রয়লার মুরগি ১৭.৩১, শিশুখাদ্যের মধ্যে গুঁড়া দুধ ২১.৮২, চিনি ১৮.৮৪, লবণ ১.৫৮ এবং প্রতি হালি ফার্মের ডিম ১৯.৭২ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্যের দাম বাড়লেও গত এক বছরের ব্যবধানে আয় বাড়েনি। উলটা অনেকের আয় কমেছে।

ফলে ভোক্তাদের জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে আপস করে খাদ্য ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হচ্ছে। খাদ্য বাজেটে কাটছাঁট করায় পুষ্টি গ্রহণের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপেও পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে অপুষ্টিতে ভোগার তথ্য উঠে এসেছে।

কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, পণ্যের বেসামাল দামে মধ্যবিত্ত অসহায়। এর চেয়ে বেশি অসহায় হয়ে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। সব মিলে এ দুই শ্রেণির মানুষ আয়ের সঙ্গে পরিবারের ব্যয় সামলাতে পারছেন না। অনেকেই ব্যয় সামলাতে খাবার কেনার বাজেট কাটছাঁট করছেন। এতে পুষ্টির অভাব হচ্ছে।

এ পরিস্থিতি থেকে মানুষকে বের করে আনতে হবে। পণ্যের দাম কমাতে কঠোর বাজার তদারকি করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বেশি করে পণ্য ভর্তুকি মূল্যে খোলাবাজারে ছাড়তে হবে।

ব্যবসায়ীদের একটি নিয়মের মধ্যে আসতে হবে। এছাড়া জীবনমান ভালো রাখতে জ্বালানি, পানি ও গ্যাসের দাম কমাতে হবে। রাজধানীর কাওরান বাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজার ও নয়াবাজার ঘুরে এবং খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চাল বিক্রি হয়েছে ৫২ টাকা, যা গত বছর একই সময় ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

প্রতি কেজি ভালোমানের মিনিকেট বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা, যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয়েছে ৬২ টাকা। প্রতি কেজি প্যাকেট আটা বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা, যা এক বছর আগে ৩৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

প্রতি কেজি প্যাকেট ময়দা ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয়েছে ৪৫ টাকা। প্রতি লিটার খোলা ও বোতল সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ১৯৫ ও ২০৫ টাকা, যা এক বছর আগে দাম ছিল ১৩০ ও ১৬০ টাকা।

প্রতি কেজি ছোট দানার মসুর ডাল ১৩০-১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা আগে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত বছর প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজ ৪০ টাকা বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা। আমদানি করা রসুন ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা আগে ১৩০ টাকা ছিল।

বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা যায়, বছরের ব্যবধানে প্রতি কেজি ২৮০ টাকা আমদানি করা মরিচ এখন বিক্রি হয়েছে ৩৮০ টাকা। কেজিপ্রতি ১৮০ টাকার হলুদ ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৬৮০-৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা এক বছর আগে ৫৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে ৯৫০ টাকা, যা আগে ৮৫০-৯০০ টাকা ছিল।

বছরের ব্যবধানে প্রতি কেজি ১৩০ টাকা ব্রয়লার মুরগি ১৬০-১৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। শিশুখাদ্যের মধ্যে গুঁড়া দুধ প্রতি কেজি ৭০০-৭৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা গত বছর একই সময় দাম ছিল ৫৬০-৬৫০ টাকা। প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হয়েছে ৮৪-৮৫ টাকা। যা আগে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ৩৬ টাকায় বিক্রি হওয়া প্রতি হালি ফার্মের ডিম ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

রাজধানীর নয়াবাজারে কথা হয় একটি বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা মো. রকিবুল হাসানের সঙ্গে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দুই মেয়ে, স্ত্রী ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে আমার পরিবার। বংশাল এলাকায় থাকি। চাকরি করে বেতন পাই ৪০ হাজার টাকা।

এই বেতন দিয়ে গত দুই বছর আগেও পরিবার নিয়ে বেশ ভালো ছিলাম। কিন্তু এখন ভালো নেই। সংসারের চাহিদা মেটাতে পারছি না। অভাব কাটছে না। প্রতিমাসেই ধারদেনা করে চলতে হচ্ছে। তিনি জানান, চাল থেকে শুরু করে ডাল, এমনকি চিনি-লবণ পর্যন্ত বাড়তি দরে কিনতে হয়। পেঁয়াজ ও তেলের দাম আকাশচুম্বী। মাংস তো কেনাই যায় না। সবজির দামও অনেক।

কাওরান বাজারে মালামাল বহন করেন শ্রমিক মো. খলিল। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ঘরে মা-বাবা, স্ত্রী ও দুই সন্তান আছে। আমি দিন আনি দিন খাই। নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, এখন আমার আয় দিয়ে খাবার জোগানো প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। তাদের খাবার ছাড়াও অন্যান্য খরচ আমারই বহন করতে হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম শফিকুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বেশকিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। এছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধকে হাতিয়ার করে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।

মনে হচ্ছে, গত রমজান থেকে অসাধু বিক্রেতারা পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এতে দাম বাড়ছে, নাভিশ্বাস উঠছে ক্রেতার।

তবে ভোক্তার স্বস্তি ফেরাতে আমরা বসে নেই। বিশেষ তদারকি টিম করে বড়-ছোট সব স্থানে অভিযান পরিচালনা করছি। যেখানে অনিয়ম, সেখানেই গিয়ে আইনের আওতায় আনছি। আশা করি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

বন্ধুদের ফাঁসিয়ে ৩০০ কোটি টাকা লোপাট

দেশের আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারির নায়ক প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদারের আরও ৩০০ কোটি টাকা লোপাটের নতুন তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুকক)।

বন্ধুদের ফাঁসিয়ে এই টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। রিলায়েন্স ফিন্যান্স থেকে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে কৌশলে এই টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

বিস্ময়কর হলেও সত্য, কোনোরকম আবেদন ও দরকারি কাগজপত্র ছাড়াই বিপুল অঙ্কের টাকা সরিয়ে নেওয়ার পর জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয় কাগজপত্র।

আর ভয়ংকর এই জালিয়াতির কাজে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ন্যাম করপোরেশনের মালিক আব্দুল আলীম চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজনকে ব্যবহার করেন পিকে হালদার। এ ঘটনায় শিগগিরই আরেকটি মামলা করতে যাচ্ছে দুদক।

এদিকে দীর্ঘ তদন্তের পর পিকে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। এর মধ্যে কানাডায় ১০০ কোটি, ভারতে ২০০ কোটি ও দুবাইয়ে ২০০ কোটি টাকা পাচার করেছেন তিনি। অর্থ পাচারের একটি মামলার তদন্ত শেষে সংস্থাটির তদন্ত দল ২৩ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট চূড়ান্ত করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ১০৯ ধারা; ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২), (৩) ধারায় চার্জশিট দাখিলের সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। দুদক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান যুগান্তরকে বলেন, এরই মধ্যে পিকে হালদারের বিভিন্ন উপায়ে বিদেশে অর্থ পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। কানাডা, দুবাই ও ভারতে তিনি বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচার করেছেন। ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) তথ্য যাচাই-বাছাই করতে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। পিকে হালদারের মামলাগুলোর তদন্ত কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে একটি মামলার চার্জশিট কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, একাধিক মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পিকে সিন্ডিকেটের আরও ৩০০ কোটি টাকা লোপাটের নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। পিকে হালদার রিলায়েন্স ফিন্যান্স লিমিটেডের এমডি থাকাকালে তার বন্ধু ও ন্যাম করপোরেশনের মালিক আব্দুল আলীম চৌধুরীর সঙ্গে যোগসাজশে এই টাকা আত্মসাৎ করেন। আব্দুল আলিম চৌধুরী কাগজে-কলমে ন্যাম করপোরেশনের মালিক হলেও বাস্তবে এই প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই। তারপরও রিলায়েন্স ফিন্যান্সের এমডির ক্ষমতাবলে পিকে হালদার তার বন্ধু ও জে কে ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে আবেদন ছাড়াই ২০ কোটি টাকার ঋণ দেন। রেকর্ডপত্র থেকে দুদক জানতে পেরেছে, ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল ঋণ অনুমোদন করা হয়। আর ঋণ আবেদন তৈরি করা হয় একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর। ঋণ দেওয়ার পর জালজালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করা হয়। এভাবে পিকে হালদার তার বন্ধু আব্দুল আলীম চৌধুরীকে দিয়ে বিভিন্ন কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করেন। শিগগিরই এ সংক্রান্ত মামলা দায়ের করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন দুদক কর্মকর্তা গুলশান আনোয়ার প্রধান।

চার্জশিট চূড়ান্ত : কমিশনে জমা দেওয়া দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০টি চেকের মাধ্যমে ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের স্টেশন রোড শাখা থেকে প্রায় ২৩ কোটি টাকা তুলে আত্মসাৎ করে পিকে হালদার ও তার সহযোগীরা। জে কে ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক ইরফান আহমেদ খানের নামে এই টাকা তোলা হয়। ২০১৭ সালে ৭ কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া হয় মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালক একেএম শহীদ রেজার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ফ্যাশন প্লাস ও পদ্মা ওয়েভিং লিমিটেডের নামে। ২০১৭ সালে আইএফআইসি ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখা থেকে ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ করা হয়।

এই টাকা তোলা হয় সুব্রত দাস ও শুভ্রা রানী ঘোষের মালিকানাধীন অ্যান্ড বি ট্রেডিংয়ের নামে। একই প্রক্রিয়ায় আনান কেমিক্যালের ব্যবসা সম্প্রসারণের নামে ৭০ কোটি ৮২ লাখ টাকা ঋণ নিলেও একটি টাকাও ব্যবসার কাজে ব্যবহার করা হয়নি।

কৌশলে পুরো টাকা বিভিন্ন নামের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে লোপাট করা হয়। ২০১৬ সালের জুনে দুটি চেকের মাধ্যমে ঋণের ৫ কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। ওয়াকাহামা লিমিটেডের নামে আইএফআইসি ও ব্র্যাক ব্যাংক থেকে সরানো হয় এই টাকা। একই বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের চেক ব্যবহার করে ৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা হাল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের হিসাবে স্থানান্তরের পর পিকে হালদারের ব্যক্তিগত হিসাবে সরিয়ে নেওয়া হয়। এভাবে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।

অভিযুক্ত যারা : কমিশনে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন-প্রশান্ত কুমার হালদার, অমিতাভ অধিকারী, প্রিতিশ কুমার হালদার, উজ্জ্বল কুমার নন্দী, পূর্ণিমা রানী হালদার, রাজিব সোম, রতন কুমার বিশ্বাস, ওমর শরীফ, মো. নুরুল আলম, নাসিম আনোয়ার, মো. নুরুজ্জামান, এমএ হাশেম, মোহাম্মদ আবুল হাসেম, জহিরুল আলম, মো. নওশেরুল ইসলাম, বাসুদেব ব্যানার্জি, রাশেদুল হক, সৈয়দ আবেদ হাসান, নাহিদা রুনাই, আল মামুন সোহাগ, রাফসান রিয়াদ চৌধুরী ও রফিকুল ইসলাম খান। তারা সবাই পিকে সিন্ডিকেটের বিভিন্ন নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। কমিশনের অনুমোদনের পরই চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

ফিরে দেখা : এ পর্যন্ত পিকে হালদার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ৪০টি মামলা করেছে দুদক। এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের অর্থ আত্মসাতে ২২টি ও এফএএস লিজিংয়ের অর্থ আত্মসাতে ১৩টি মামলা করা হয়। অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ২০২১ সালের নভেম্বরে দেওয়া হয়েছে চার্জশিট। তাতে ৪২৬ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৬ হাজার ৮০ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগে পিকে হালদারসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

চলতি বছরের ১৪ মে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশপরগনা জেলার অশোকনগরের একটি বাড়ি থেকে পি কে হালদার ও তার পাঁচ সহযোগীকে গ্রেফতার করে।

এর আগে ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি পিকে হালদারকে গ্রেফতার করে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে প্রথম ইন্টারপোলে চিঠি পাঠিয়েছিল দুদক। গত বছরের ১০ জানুয়ারি ইন্টারপোল পিকে হালদারের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছিল।

‘অর্থমন্ত্রীর কথা সত্যি হলে রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, আমিও কালোটাকার মালিক’

জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সংসদ-সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, একটা প্লট থাকার জন্য যদি কালোটাকার মালিক হয়, তাহলে অর্থমন্ত্রীর নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী মাননীয় স্পিকার আপনি, রাষ্ট্রপতি ও আমি কালোটাকার মালিক।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করা নিয়ে নতুন করে ভাবনার কথাও তুলে ধরেন মুজিবুল হক চুন্নু।

তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ঢাকায় যার ফ্ল্যাট-প্লট আছে সে কালোটাকার মালিক। আমি পাঁচবার এমপি ও তিনবার মন্ত্রী হয়েছি। আমার ঢাকায় কোনো বাড়ি নেই। ২০১১ সালে আমি পূর্বাচলে প্লট পেয়েছিলাম। তার মানে, অর্থমন্ত্রীর নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী আমি কালোটাকার মালিক হয়ে গেছি। মাননীয় স্পিকার, আমরা ঢাকায় যারা আছি আপনি, রাষ্ট্রপতি, আমি- সবাই কালোটাকার মালিক। তবে আমি আইন লঙ্ঘন করে কালোটাকার মালিক হয়েছি কি না, সংসদে এর ব্যাখ্যা চাই।

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, অর্থমন্ত্রী বাজেট দিয়েছেন। মনের মাধুরী মিশিয়ে কথার ফুলছড়ি দিয়ে এই বাজেট প্রণয়ন করেছেন, যার পাঠোদ্ধার করা কঠিন। সামাজিক সুরক্ষা খাতে ১ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা ছিল চলতি বাজেটে। এবারের বাজেটে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি করা হয়েছে। ১ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা যখন ছিল, তখন ছিল জিডিপির ৩ দশমিক ১১ শতাংশ। এবার একটু নিচে নেমে গেছে। এবার জিডিপির ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হবে, সেটা বাজেটে উল্লেখ করেননি।

পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে অর্থমন্ত্রীর বাজেট প্রস্তাবনার কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন ৭ শতাংশ ট্যাক্স দিলে পাচারকৃত অর্থ বৈধ হয়ে যাবে। ৪০ বছর ধরে সব সরকার (আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি) সরকার কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু কালোটাকা সাদা হয়েছে কম। আমি যখন ব্যবসা করি, ২৫ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হয়। তাহলে বিদেশে টাকা পাঠিয়ে ৭ শতাংশ ট্যাক্স দিয়ে হালাল করব। এটা মানি লন্ডারিং আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আইন সংশোধন করা না হলে এটা বাস্তবায়নের কোনো সুযোগ নেই।

জাতীয় পার্টি মহাসচিব প্রশ্ন রেখে বলেন, কীভাবে বিদেশ থেকে পাচার করা টাকা আনবেন। আইন সংশোধন না হলে তা বাস্তবায়ন হবে না। এই সুযোগ দেওয়া সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, বেআইনি, অনৈতিক।

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের এক এমপি বিএনপির কথা বলতে গিয়ে এরশাদ সাহেবকে স্বৈরাচার বলেছেন। যার লাইগা চুরি করলাম, সে বলে চোর, তাহলে কোথায় যাই। আওয়ামী লীগের সঙ্গে এত খাতির করলাম। নির্বাচন করলাম, ক্ষমতায় আনলাম, আসলাম। আর সেই আওয়ামী লীগের ভাইয়েরা যদি জিয়াউর রহমানকে গালি দিতে গিয়ে এরশাদ সাহেবকে গালি দেন, তাহলে আর যাই কোথায়? তাহলে তো নতুন করে ভাবতে হবে। কী করব, কোথায় যাব। এ সময় আওয়ামী লীগের এক সংসদ-সদস্যের উদ্দেশে বলেন, কী ভালো লাগে না? লাগবে। সময় আসতাছে চিন্তা কইরেন না।

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, রাষ্ট্রপতি অবসরে গেলে সরকারি কোনো বাড়ি পায় না। ভারতে রাষ্ট্রপতি অবসরের পর বাড়ি দেওয়া হয়, পাকিস্তানেও দেওয়া হয়। আমাদের দেশের রাষ্ট্রপতিদের এর কোনো সুযোগ নেই। যিনি দুই/তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, তার যদি কোনো বাড়ি না থাকে, রাষ্ট্রপতির যদি কোনো বাড়ি না থাকে, তাহলে তারা কোথায় থাকবেন? আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলছি বিষয়গুলো ভাবার দরকার।

এদিকে বৃহস্পতিবার জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ের মিলনায়তনে জাতীয় হকার্স পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেন, ‘দুই দলের লুটপাট, চাঁদাবাজি, দলীয়তন্ত্র, দুর্নীতির বিপরীতে একমাত্র জাতীয় পার্টি জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করেছে। ক্রমাগত বেকার সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে। দেশে এখন পাঁচ কোটি বেকার। বিগত দুই দলের সরকারই বেকারদের নিয়ে কোনো পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেনি। ক্ষমতায় গেলে জাতীয় পার্টি এই পাঁচ কোটি বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে।’

জাতীয় হকার্স পার্টির সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনুর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মনিরুল ইসলাম মিলন, যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল আহসান শাহজাদা, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এমএ রাজ্জাক খান, জহিরুল ইসলাম মিন্টু, গোলাম মোস্তফা, যুগ্ম সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সমরেশ মন্ডল মানিক, দ্বীন ইসলাম শেখ প্রমুখ।

অভাব মানুষকে দিশেহারা করে ফেলেছে: চুন্নু

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেছেন, ‘দুই দলের লুটপাট, চাঁদাবাজি, দলীয়তন্ত্র, দুর্নীতির বিপরীতে একমাত্র জাতীয় পার্টি জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করেছে।’

‘ক্রমাগত বেকার সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে। দেশে এখন পাঁচ কোটি বেকার। বিগত দুই দলের সরকারই বেকারদের নিয়ে কোনো পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেনি। ক্ষমতায় গেলে জাতীয় পার্টি এই পাঁচ কোটি বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে।’

বৃহস্পতিবার জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ের মিলনায়তনে জাতীয় হকার্স পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় হকার্স পার্টির সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনুর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মনিরুল ইসলাম মিলন, যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল আহসান শাহজাদা, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এমএ রাজ্জাক খান, জহিরুল ইসলাম মিন্টু, গোলাম মোস্তফা, যুগ্ম সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সমরেশ মন্ডল মানিক, দ্বীন ইসলাম শেখ প্রমুখ।

সরকারি চাকরিতে প্রায় ৪ লাখ পদ খালি

সরকারি চাকরিতে প্রায় ৪ লাখ পদ খালি রয়েছে বলে জানা গেছে। জাতীয় সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, ‘সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও বিভাগে ৩ লাখ ৯২ হাজার ১১৭টি পদ শূন্য আছে।’

জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার সরকারি দলের সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য আলী আজমের এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বিসিএসের মাধ্যমে ৪১ হাজার ৫৬৬ জনকে ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। এই সময়ে প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডার পদে ৫ হাজার ১৪৩ জন, দ্বিতীয় শ্রেণির (১০-১২তম গ্রেড) ৭ হাজার ১৬১ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে কর্ম কমিশন নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেড ৪ হাজার ৬৫৮ জন এবং দ্বিতীয় শ্রেণির নন-ক্যাডার পদে ৪২ হাজার ৪০ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করেছে বলেও জানান ফরহাদ হোসেন।

সকাল থেকে ২৪ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ যেসব এলাকায়

দেশের কিছু কিছু এলাকায় শুক্রবার সকাল ৯টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকছে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না এসব এলাকায়। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।

এতে বলা হয়েছে, গ্যাস পাইপ লাইনের জরুরি কাজের জন্য শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত মোট ২৪ ঘণ্টা গাজীপুরের টিবিএস ধনুয়া থেকে রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। আশপাশের এলাকাতেও গ্যাসের স্বল্প চাপ বিরাজ করতে পারে।

গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস

শেকৃবি ছাত্রলীগের সম্মেলন ২৯ জুন

প্রায় ৫ বছর পর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) শাখা ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলন আগামী ২৯ জুন হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

শেকৃবি ছাত্রলীগকে যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে নির্ধারিত তারিখে সম্মেলনের আয়োজন করতে বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কেন্দ্রীয় কমিটির দফতর সম্পাদক ইন্দ্রনীল দেব শর্মা রনি বলেন, সম্মেলন সফল করতে ওই ইউনিটের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতিথি কে কে থাকবেন তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম উপস্থিত থাকবেন।

দীর্ঘদিনে ধরে পদ প্রত্যাশীদের চাওয়া ছিল নতুন সম্মেলন ও নতুন নেতৃত্ব। সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হওয়ায় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৮ নভেম্বর এসএম মাসুদুর রহমান মিঠুকে সভাপতি এবং মিজানুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরের জন্য শেকৃবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়।