রবিবার ,১৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 246

শুধু খেলোয়াড়দের দোষ দিলে হবে না: সাকিব

সেন্ট লুসিয়া টেস্ট ১০ উইকেটে হারের পর অধিনায়ক সাকিব খোলামেলা কথা বলেছেন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে। জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটে এখনও টেস্টের সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। আপাতত দেড় বছরের পরিকল্পনায় সবাইকে নিয়ে বসতে চান সাকিব। যেখানে ঘরের মাঠে জয়কে প্রাধান্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ভাবনা তার।

তার মতে, দেশের ক্রিকেট সিস্টেমেই টেস্ট ফরম্যাটটা অতটা আলোচিত নয়। যে কারণে টেস্টে বেশিরভাগ সময়ই ফাঁকা থাকে পুরো গ্যালারি।

সাকিব বলেন, ‘এখানে খেলোয়াড়দের খুব বেশি দোষ দেওয়া ঠিক হবে না। শুধু খেলোয়াড়দের দোষ দিলে হবে না। আমাদের দেশের সিস্টেমটাই এমন। আপনি কবে দেখছেন বাংলাদেশে ৩০ হাজার দর্শক টেস্ট ম্যাচ দেখছে বা ২৫ হাজার দর্শক মাঠে এসেছে টেস্ট দেখতে?’

সদ্য সমাপ্ত ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড টেস্ট সিরিজের প্রতিটি ম্যাচেই দেখা গেছে ভরা গ্যালারি। সেই উদাহরণ টেনে সাকিব আরও বলেন, ‘ইংল্যান্ডে তো প্রতি ম্যাচে (টেস্ট) এ রকম দর্শক থাকে। টেস্টের সংস্কৃতিটাই আমাদের দেশে ছিল না কখনো, এখনো নেই।’

এখন নেই দেখে যে কখনো হবে না তা বলছেন না সাকিব, ‘টেস্ট সংস্কৃতি নেই বলে যে হবে না, সেটি কিন্তু নয়। এই জিনিসটা পরিবর্তন করাই আমাদের বড় দায়িত্ব। সবাই মিলে যদি পরিকল্পনা করে আগানো যায়, হয়তো কিছু সম্ভব হবে। নইলে আসলে খুব বেশি দূর আগানো সম্ভব হবে না। কারণ আমাদের টেস্টের সংস্কৃতিই নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যে টেস্ট ক্রিকেটকে খুব বেশি মূল্যায়ন করি, তা নয়। হ্যাঁ, হতে পারে আমরা ফল ভালো করিনি, এ কারণে মূল্যায়নও হয়নি। তবে একটার সঙ্গে আরেকটার সম্পর্ক আছে। একটার সঙ্গে আরেকটাকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তা হলেই ভালো কিছু সম্ভব।’

মারধর করায় যুবকের দুই হাত কেটে দিল চাচি

নরসিংদীর পলাশে পারিবারিক কলহের জের ধরে চাচিকে মারধর করায় হাদিউল মিয়া (২৫) নামে এক যুবকের দুই হাতের কব্জি কেটে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে তার আপন চাচি আর ফুপা।

মঙ্গলবার দিবাগত ভোর ৪টার দিকে পলাশের নোয়াকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত হাদিউল নরসিংদী শিবপুর থানার মোর্শেদ মিয়ার ছেলে।

আহতের পরিবার ও জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কিছু দিন আগে হাদিউল ও তার চাচির মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হাদিউল তার চাচিকে মারধর করে। এতে করে তার চাচি বেশ কিছু দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। তা ছাড়া হাদিউল কিছু দিন ধরে চাকরির খোঁজ করছিলেন।

চাচির সঙ্গে ঝগড়ার আগে হাদিউল তার ফুপার কাছে চাকরির জন্য খোঁজ করছিলেন। সোমবার সন্ধ্যায় তার ফুপা তাকে চাকরির কথা বলে তার নিজ বাড়ি নোয়াকান্দা গ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে হাদিউল রাতযাপন করে। পরে ভোর ৪টার দিকে হাদিউলকে তার ফুপা পার্শ্ববর্তী একটা ঝোপে নিয়ে যায়।

সেখানে তাকে হাত-পা মুখ বেঁধে তার দুই হাতের কব্জি কেটে দেয়। পরে ভোরবেলায় হাদিউলের চিৎকার শুনে এলাকার লোকজন তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে।

পলাশ থানার ওসি মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, আহতকে উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় এখনো কেউ মামলা করেনি। থানায় মামলা হলে পরবর্তী সময় আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।

ফতুল্লায় ট্রেনে কাটা পড়ে তোলারাম কলেজের ছাত্র নিহত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ট্রেনে কাটা পড়ে নূর হোসেন নামে তোলারাম কলেজের এক ছাত্র নিহত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ফতুল্লার ইসদাইর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নূর হোসেন সরকারি তোলারাম কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ১ম বর্ষের ছাত্র ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নূর হোসেন ফতুল্লা স্টেশন থেকে কলেজে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শেখ রিজাউল হক দিপু বলেন, এ বিষয়ে রেলওয়ে পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। ছাত্রের পুরো পরিচয় এখনো পায়নি পুলিশ।

ইউক্রেনের শপিংমলে রুশ হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বললেন জি-৭ নেতারা

ইউক্রেনের জনাকীর্ণ একটি শপিংমলে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জি-৭ নেতারা।

সোমবার রাতে এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতারা এ নিন্দা জানিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিচার দাবি করেন। খবর আনাদোলুর।

ইউক্রেনের পোলটাভা অঞ্চলের ক্রেমেনচুকে ওই শপিংমলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন।

এছাড়া আরও অর্ধশতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ সময় শপিংমলটিতে এক হাজারেরও বেশি ক্রেতা ছিলেন।

সোমবার স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে অ্যামস্টোর নামে ওই শপিংমলে একটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।

হামলার পর শপিংমলে আগুন লেগে যায়। খবর পেয়ে দমকলবাহিনী আগুন নেভানোর চেষ্টা করে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মধ্যাঞ্চলীয় শহর ক্রেমেনচুকের জনাকীর্ণ ওই শপিংমলে হামলার সময় ভেতরে এক হাজারের বেশি মানুষ ছিল।

ঘটনাস্থলে থাকা গণমাধ্যমকর্মীদের ধারণা, এটি একটি গাইডেড মিসাইল বা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত করার মতো ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। শপিংমলে ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

আক্রান্ত শপিংমলটি রুশনিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে প্রায় ৮১ মাইল দূরে। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিচ বেসামরিক স্থাপনার ওপর এমন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

পোলটাভা অঞ্চলের প্রশাসনের প্রধান কর্মকর্তা দিমিত্রো লুনিন এ আক্রমণকে যুদ্ধাপরাধ বলে বর্ণনা করেছেন।

মধ্য ইউক্রেনে দনিপার নদীর তীরের শিল্পকারখানা সমৃদ্ধ এ শহরে প্রায় দুই লাখ ২০ হাজার লোক বাস করেন। এর আগেও শহরটির তেল শোধনাগার ও অন্যান্য স্থাপনার ওপর রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে।

রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধ এখনো অব্যাহত। এ মুহুর্তে দোনবাসে চলছে তুমুল লড়াই। এর মধ্যেই এমন খবর দেশটির জনগণের মধ্যে নতুন আশা সৃষ্টি করেছে।

অনেক দিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দূরপাল্লার অস্ত্র চেয়ে আসছিল ইউক্রেন। জানা যায়, ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দূরপাল্লার ৩০০টি রকেট সিস্টেম চেয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেনকে চারটি হিমারস রকেট লঞ্চার দেওয়ার কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র।

যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনের পাশে থাকার ঘোষণা জি-৭ নেতাদের

ইউক্রেনের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন জি-৭ নেতারা। জার্মানির ব্যাভারিয়ায় জি-৭ শীর্ষ বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে ইউক্রেন ইস্যুকে সব থেকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়।

সোমবার বৈঠক শেষে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে জি-৭ নেতারা ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন। খবর বিবিসির।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার বিরুদ্ধে কীভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা নিয়েও আলোচনা করেন জি-৭ নেতারা। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা যতদিন দরকার হয়, ততদিন পর্যন্ত ইউক্রেনকে আর্থিক, মানবিক, সামরিক এবং কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে যাব ও তাদের পাশে থাকব।

জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎজ বলছেন, ইউক্রেনকে সমর্থন দিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে জি-৭ নেতারা ঐক্যবদ্ধ আছেন। পাশাপাশি এ সংঘাত যেন আরও গুরুতর না হয় সে ব্যাপারেও সতর্ক আছেন।

জি-৭ নেতারা ইউক্রেনকে সহায়তা করার জন্য কঠিন সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তবে এমনভাবে তারা কাজ করছেন, যাতে রাশিয়া ও ন্যাটোর মধ্যে একটি বড় রকমের সংঘাত এড়ানো যায়।

এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ভিডিওকলের মাধ্যমে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, তিনি চান যেন সামনের শীতকাল আসার আগেই এ যুদ্ধ শেষ হয়।

তিনি রাশিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত রাখার জন্য জি-৭ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি ইউক্রেনকে যাতে ভারি অস্ত্র, বিমান বিধ্বংসী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইত্যাদি দেওয়া হয়, সেই আহ্বানও জানান তিনি।

পদ্মা সেতুর অস্তিত্বে কেএসআরএমের অংশীদারত্ব

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের গৌরবের প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক চেষ্টা ও যোগ্য নেতৃত্বে নিজ অর্থায়নে এ সেতু নির্মাণ করা হয়েছে; যা দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন। এতে বদলে যাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আর্থসামাজিক অবস্থা। শিল্পায়নের বিপ্লব ঘটবে। বাড়বে মানুষের জীবনযাত্রার মান। যোগাযোগব্যবস্থায় আসবে আমূল পরিবর্তন। দেশের অন্যতম দুই স্থলবন্দর ভোমরা ও বেনাপোলের কর্মকাণ্ড বেড়ে যাবে কয়েকগুণ।

ব্যবসাবাণিজ্যে আসবে গতি। এই স্বপ্নের সেতু খুলবে অর্থনীতির নতুন দ্বার। যার প্রভাব পড়বে জাতীয় অর্থনীতিতে। এতে দেশের দুই অঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে তৈরি হবে মেলবন্ধন। পদ্মা সেতু কী ধরনের মেলবন্ধন ঘটাতে যাচ্ছে এবং পদ্মা সেতুতে দেশীয় ইস্পাত কোম্পানির অংশগ্রহণ এবং সমসাময়িক বিষয় নিয়ে যুগান্তরের পক্ষ থেকে কথা হয় কেএসআরএমের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক-ডিএমডি শাহরিয়ার জাহান রাহাতের সঙ্গে। আলাপচারিতায় পদ্মা সেতুতে দেশীয় কোম্পানি হিসাবে কেএসআরএমের ইস্পাত ব্যবহারসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন। স্বপ্নের ‘পদ্মা সেতু’ জাতীয় অর্থনীতিতে ধারণার চেয়ে অনেক বেশি অবদান রাখবে বলেও মনে করেন এ ব্যবসায়ী। পদ্মা সেতুতে দেশীয় শুধু দুটি কোম্পানির রড ব্যবহার করা হয়েছে। সেই হিসাবে কেএসআরএম দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী। এছাড়া কেএসআরএম হচ্ছে সর্বপ্রথম রড সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের শর্তহীন রড সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও কেএসআরএম। সেই হিসাবে এটি নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য গৌরব আর অহংকারের। আর এসবের মূল কারণ হলো-মান নিয়ন্ত্রণে আমাদের আপসহীনতা।

কেএসআরএম যে কোনো প্রতিকূলতায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড রক্ষা করেই রড তৈরি করে। পদ্মা সেতুতে সর্বপ্রথম শর্তহীন রড সরবরাহের কার্যাদেশ আমাদের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ও বিশ্বাসকে আরও সুসংহত ও দৃঢ় করেছে। উদ্যোক্তা হিসাবে আমাদেরও আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। শাহরিয়ার জাহান রাহাত আরও বলেন, আমাদের জানামতে, দেশের আরও অনেক ইস্পাত নির্মাণ প্রতিষ্ঠান গৌরবের পদ্মা সেতুতে রড সরবরাহের আগ্রহ দেখিয়েছে। এমন অহংকারের অংশীদার কে না হতে চায়! কিন্তু পদ্মা সেতু নির্মাণ কর্তৃপক্ষের শর্ত ও মান রক্ষা করতে পারেনি অনেক প্রতিষ্ঠান। সেতু নির্মাণ কর্তৃপক্ষ মান রক্ষার ক্ষেত্রে ছিল আপসহীন ও অনমনীয়। তারা উৎপাদন থেকে সরবরাহ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করেছে। যাচাই-বাছাই করা হয়েছে রড উৎপাদনের কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ক্ষেত্রে। সরবরাহকারী হিসাবে এসব ধাপ অতিক্রম করতে হয়েছে কেএসআরএমকে। মান রক্ষার সব ধাপে উত্তীর্ণ হতে হয়েছে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই। এরপর পদ্মা সেতুতে রড সরবরাহে একমাত্র শর্তহীন অনুমোদন পেয়েছে কেএসআরএম।

রড সরবরাহের আগে কেএসআরএম কারখানায় উৎপাদনের প্রতিটি ধাপ সরেজমিন দেখেছেন বিশেষজ্ঞরা। কাঁচামালের মানও পরীক্ষা করেছে ওই বিশেষজ্ঞদল। সর্বশেষ তাদের শর্ত অনুযায়ী রড উৎপাদন হয়েছে কি না, তাও যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। সব ধাপেই কেএসআরএমের রডের মান রক্ষায় সমর্থ হয়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্পে রড সরবরাহ কেএসআরএমের জন্য অনেক বড় অর্জন। এ যেন পদ্মা সেতুর অস্তিত্বে কেএসআরএমের অংশীদারত্ব। প্রমত্তা পদ্মা জয়ের গর্বিত অংশীদার হতে পেরে আমরা কেএসআরএম পরিবার অনেক খুশি। পদ্মা সেতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি স্বপ্ন এবং চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক যখন তাদের জায়গা থেকে একটি মিথ্যা মনগড়া অপবাদ দিয়ে সরে যায়, তখন প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করে নিজস্ব অর্থ থেকে পদ্মা সেতু করার ঘোষণা দেন। তখন অনেকেই বিভিন্ন রকমের মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু আজ আমাদের মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী দেখিয়ে দিয়েছেন বিশ্ববাসীকে আমরাও জয় করতে পারি। এর মাঝে আবার বিশ্বব্যাংকসহ অনেক দেশ এগিয়ে এলেও তিনি তা বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশের আত্মসম্মান বজায় রেখে নিজের দেশকে বিশ্বদরবারে এক অনন্য অবস্থায় পৌঁছে দিয়েছেন।

ব্যয় না হওয়ায় ঋণ গ্রহণ কমেছে

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ধীরগতিসহ সার্বিকভাবে অর্থ ব্যয় সেভাবে না হওয়ায় সরকারের ঋণ গ্রহণ কমছে। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) বাজেটের ৫৬ শতাংশ (৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা) অর্থই ব্যয় হয়নি। ফলে সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক ও বৈদেশিক খাত থেকে এই সময়ে ঋণ নিতে হয়েছে প্রায় ৬৮ হাজার কোটি টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম। ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৪৯ হাজার কোটি টাকা। খরচ কম হওয়ায় ক্ষেত্রবিশেষ বকেয়া ঋণও পরিশোধ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বাস্তবায়নের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

কম ঋণ গ্রহণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাবেক সিনিয়র অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, প্রয়োজন না হলে ঋণ নেওয়া হবে না। তবে আমাদের একটি কালচার অর্থবছরের শেষ তিন মাসে টাকা খরচ বেড়ে যায়। আমার ধারণা শেষ তিন মাসে টাকা খরচ বাড়লে ঋণের অঙ্কও বাড়বে। তিনি বলেন, ব্যাংক থেকে প্রতিদিনই ঋণ নেওয়া হয়। আর বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হয় প্রকল্পের অনুকূলে। যেহেতু বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হার কম, সে জন্য বৈদেশিক ঋণের ব্যবহারও কমেছে।

প্রতিবছর বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নিয়ে থাকে সরকার। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা ও সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে সবচেয়ে বেশি ঋণ নেওয়া হয়। চলতি অর্থবছরে ব্যাংক থেকে এ পর্যন্ত (৯ মাসে) ঋণ নেওয়া হয়েছে ২৯ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা। এ খাতে বছরের শুরুতে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য স্থির করা হয় ৮৭ হাজার কোটি টাকা।

একই সময়ে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে ২৩ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা। এ খাতের ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা আছে ৩২ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে জুলাই-মার্চ পর্যন্ত নিট ঋণ নেওয়া হয় ১৪ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা। যদিও ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আছে ৭৭ হাজার ২০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কয়েকটি কারণে এ বছর টাকা ব্যয় কমছে। ফলে কমছে ঋণ গ্রহণের অঙ্কও। এছাড়া করোনার কারণে অনেক বিদেশি ঋণও পাওয়া গেছে। ফলে বাজেটের ঘাটতি পূরণে বিদেশি ঋণ নেওয়ার প্রবণতাও কম দেখা গেছে।

এ বছর মেগা প্রকল্পের বাইরে আপাতত তেমন কোনো উন্নয়ন কাজ হচ্ছে না। যে কারণে অর্থবছরের ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়নের হার ৫৫ শতাংশ হয়েছে। এ বছর অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার। ফলে ব্যয়ের যে লক্ষ্য ধরা হয়েছিল তার অর্ধেকও হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে, ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বাজেটের মধ্যে জুলাই-মার্চ পর্যন্ত ব্যয় করা গেছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা। এটি মোট বাজেটের ৪৪ শতাংশ। ওই হিসাবে বাজেটের টাকা খরচের বাকি আরও ৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা। যা ৩ মাসে ব্যয় করতে হবে। ফলে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় অর্থ খরচ সম্ভব হয়নি। যে কারণে ঋণের প্রয়োজনীয়তা কমছে।

টাকা খরচের মধ্যে সরকারের পরিচালনা ব্যয় খাতে গেছে, ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১০ কোটি টাকা। যদিও এক্ষেত্রে খরচের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬২৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে এ খাতে অবশিষ্ট আছে ১ লাখ ২৭ হাজার ১১৭ কোটি টাকা। যা ৩ মাসের মধ্যে ব্যয় করতে হবে। তবে পরিচালনা ব্যয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছে ঋণের সুদ পরিশোধে। সেখানে ব্যয় হয়েছে ৪৯ হাজার ২০৪ কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মতে, সুদ পরিশোধের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গেছে সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়া ঋণের ক্ষেত্রে। বিগত সময়ে অনেক ঋণ নেওয়া হয়েছে এ খাত থেকে। সেসব সুদও পরিশোধ করতে গিয়ে এ খাতে ব্যয় বেড়েছে।

সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার কাছ থেকে পর্যাপ্ত ঋণ পাওয়া গেছে। যা দিয়ে প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর পরও বেশ কিছু অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকছে। ঋণের বোঝা লাঘব করতে সেই অর্থ দিয়ে সরকার আগের ঋণ শোধ করছে।

অন্যদিকে রাজস্ব আদায় খুব বেশি ভালো না হলেও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। মার্চ পর্যন্ত মোট আয় হয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। এরমধ্যে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭ শতাংশ বেশি।

এসব কারণে ঋণ কম নেওয়ার পাশাপাশি বকেয়া ঋণ পরিশোধের সুযোগ নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে বিদেশি ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে ১০ হাজার ৭২ কোটি টাকা। এছাড়া ব্যাংক ঋণ ২ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

বিএনপিকে বিরোধীদল বলা বক্তব্য এক্সপাঞ্জ চাইলেন রাঙ্গা

বিএনপিকে বিরোধী দল আখ্যায়িত করে দেওয়া সংসদ সদস্যের বক্তব্য একপাঞ্জ করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা।

সোমবার অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।

এসময় মসিউর রহমান বলেন, এই সংসদে আমরাই বৃহত্তর বিরোধী দল। এখানে কোনো ভুল নেই। সংসদে অনেক এমপি বিএনপির সমালোচনা করতে গিয়ে দলটিকে বিরোধী দল বলেন। সংসদে আমরাই বৃহত্তর বিরোধী দল। আমরা বিরোধী দল এখানে কোনো ভুল নেই। সংসদ সদস্যরা বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বিরোধী দল বলেছেন তা একপাঞ্জ করার অনুরোধ করছি।

পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক চেষ্টা করে, কষ্ট করে আজকে এই সেতুটি দাঁড় করিয়েছেন। আমার মনে হয় সেতুটি যদি তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সম্পন্ন করতে না পারতেন, তাহলে নিজের ক্ষতি নিজেই করে বসতেন।

স্পিকার আমি আপনার মাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এরকম একটি সম্ভাবনা ওনার মধ্যে আমি দেখেছিলাম যে, এনি হাউ, কষ্ট করে এটা করতে হবে। তিনি এটা করেছেন। পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে সমালোচনাকারীরা বলেছেন এটা করতে পারবেন না। আসলে এগুলো দেখার সময় ওনার (প্রধানমন্ত্রীর) নেই। তিনি যেভাবে দেশটার উন্নতি করছেন, আরো করবেন, আমরা তা বিশ্বাস করি।

মসিউর রহমান রাঙ্গা শিল্পী সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের একটি গানের কলি উল্লেখ করে বলেন, বুকটা ফাইট্টা যায়। গানের মতো ওদের বুকটা ফাইট্টা যায়। সে কারণে একবার বলে ভেঙ্গে পড়বে। একবার বলে এই হবে। একবার বলে ওই হবে। কালকে (গতকাল) আমাদের সংসদ সদস্য শাজাহান খান বলেছেন, না হয় নৌকায় যাবেন। নৌকায় আবার কেমনে যায়। এটা তো আরেকটি বিপদ। তাহলে কিসে যাবে।

তিনি বলেন, আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি এ দেশটি আমাদের। এ দেশটা রক্ষার দায়িত্ব আমাদের। এনি হাউ দেশটাকে রক্ষা আমাদের করতে হবে। এজন্য যা করতে হয় আমাদের করতে হবে।

দুর্নীতিবাজদের প্রশ্নে রাঙ্গা বলেন, দুর্নীতিবাজরা আমলা হোক বা রাজনীতিবিদ হোক বা অন্য কেউ হোক, তারা নিজেরাও জানে না তাদের কত টাকা আছে। তাদের সন্তানেরা উশৃঙ্খলে চলে গেছে। খোঁজ নিয়ে দেখেন। সব এমপিদের খোঁজ নিয়ে দেখেন, যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের একটি সন্তানও মানুষ হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু করা দরকার। আমার সংসদে আসতে একটা কোট দরকার, একটা টাই দরকার-এটুকু। আমি যদি এখন বিদেশ থেকে বানিয়ে নিয়ে আসি, বিদেশ থেকে আয়রন করে আনি, বিদেশ থেকে জুতা কালি করে আনি- এগুলো মানুষ পছন্দ করে না।

মেগা দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরবে বিএনপি

মাঠের বিরোধী দল বিএনপি-শিবিরে হঠাৎ করেই জাতীয় নির্বাচনের জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শুধু তাই নয়, নির্বাচনি ইশতাহার কী হবে, তা নিয়েও কাজ এগিয়েছে অনেকদূর। দলটির নীতিনির্ধারকরা আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারেও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অধীনেও নির্বাচন না করার ব্যাপারে তারা অনড়। যুগান্তরকে এমনটি নিশ্চিত করেছে দায়িত্বশীল সূত্র। কিন্তু এমন সাংঘর্ষিক অবস্থান নিয়ে বিএনপি কীভাবে তাদের প্রত্যাশিত নির্বাচনি মাঠের দেখা পাবে-এমন প্রশ্নের জবাবে অনেক কৌশলী উত্তর দিয়েছেন কয়েকজন সিনিয়র নেতা। তারা যুগান্তরকে বলেন, ‘পরীক্ষার আগে যদি সব প্রশ্নের উত্তর আগাম দিয়ে দিই তাহলে তো পরীক্ষা থাকে না। অপেক্ষা করেন। সময় হলেই সব জানতে পারবেন। জনগণ তার ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে এই সরকারকে সময়মতো বাধ্য করবেই। এবার আর আগের মতো জোর করে ক্ষমতায় থাকা যাবে না।’

বিএনপির দুজন নীতিনির্ধারক নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচনে ভোটারদের কাছে টানার প্রস্তুতি অনেকটা ফাইনাল পরীক্ষার আগে প্রি-টেস্টের মতো। জনগণের সামনে আমরা সরকারের নানা অনিময় তুলে ধরব। তারা কোন বিষয়গুলো গ্রহণ করল বা কোনটা রিজেক্ট করল, তা পর্যালোচনা করা হবে। এরপর সংশোধন করা হবে প্রাথমিক পরিকল্পনা। এভাবে ফাইনালের আগে আমরা প্রি-টেস্ট ও টেস্ট পরীক্ষা দিতে চাই। জনগণ যেসব প্রতিশ্রুতিগুলো গ্রহণ করবে, সেগুলো স্থান পাবে আমাদের নির্বাচনি ইশতাহারে।’ তারা জানান, বিএনপি জনগণের সামনে সরকারের এমন কিছু প্রমাণিত ব্যর্থতা এবং অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য সামনে আনবে, যা জানার পর যে কোনো নাগরিক বিএনপিকে সাহসের সঙ্গে স্যালুট জানাবে। আমরা শুধু রাজনৈতিক কারণে সরকারের বিরোধিতা করছি না, করবও না। আমরা এই সরকারের অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্যগুলো জনগণের সামনে আনার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কীভাবে তারা উন্নয়ন করার নামে ভয়াবহ দুর্নীতি করেছে, সেটি তুলে ধরা হবে। এছাড়া যেসব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো একেবারে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে, সেগুলোর বেহাল অবস্থা জাতিকে জানানো হবে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রথমত আমরা আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনে যাচ্ছি না। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি প্রতিষ্ঠা করেই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে। সেই নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ধানের শীষের প্রতি এমনিতেই মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হলে ভোটাররা ধানের শীষকেই বেছে নেবে। তারপরও ভোটারদের কাছে টানতে আমাদের নানা পরিকল্পনা রয়েছে। সেগুলো আমরা তৈরি করছি। এই মুহূর্তে তা জানাতে চাই না। সময় হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতির সামনে সেগুলো তুলে ধরব।’

খসরু বলেন, ‘মূলত সরকারের নানা দুর্নীতি, লুটপাট ও গুরুতর অনিয়মের বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। তবে এ থেকে কীভাবে উত্তরণ সম্ভব, সেদিকেই আমরা বেশি গুরুত্ব দেব। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না। সব সেক্টরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।’ তিনি মনে করেন, জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হলে অনিয়ম, লুটপাট এমনিতেই কমে যাবে।

দলটির নীতিনির্ধারকরা জানান, আগামী নির্বাচন বিএনপির জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ। শুধু বিএনপি নয়, দেশের মানুষও ওই নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। উৎসবমুখর পরিবেশে তারা ভোট দিতে চায়। বিএনপির এই মুহূর্তে মূল দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। গুরুত্বপূর্ণ এ কাজটি করতে পারলে বিএনপির প্রতি সাধারণ ভোটারদের একটা আস্থা তৈরি হবে। সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের পাশাপাশি ক্ষমতায় গেলে বিএনপি কী করতে চায়, এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট একটি পরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। এ লক্ষ্যে দলের নীতিনির্ধারকরা কাজ করছেন। প্রতিটি সেক্টরভিত্তিক সরকারের নানা ব্যর্থতা তুলে ধরার পাশাপাশি এর সমাধানে বিএনপি কী করতে চায়, এ বিষয়ে রোডম্যাপও থাকবে ওই পরিকল্পনায়। তারা আরও জানান, বিএনপির প্রতি সাধারণ মানুষ যাতে আস্থা আনতে পারে, সেজন্য দেশের বিভিন্ন পেশার গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের কাজে লাগানোর চিন্তাও করা হচ্ছে। ক্ষমতায় গেলে প্রতিহিংসার রাজনীতি করবে না। এছাড়া সবার মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করাসহ সব জায়গায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থায়ীভাবে দলীয়করণের হাত থেকে রক্ষাসহ জাতীয় কয়েকটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকবে ওই রোডম্যাপে।

দলটির নেতারা মনে করেন, সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম, নির্যাতন, রাষ্ট্র পরিচালনায় নানা ব্যর্থতায় মানুষ বিএনপিকে ঘিরে স্বপ্ন দেখছে। ভোটাররা মনে করছে, বিএনপিই একমাত্র বিকল্প। তাই সারা দেশের মানুষ তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। এখন প্রয়োজন ভোটারদের আস্থায় আনা। বিএনপি ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে কী করতে চায়, সে বিষয়ে একটি ইতিবাচক বার্তাও জনগণের মধ্যে পৌঁছে দিতে হবে। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে শুধু সরকারের নয়, দলটি আত্মসমালোচনা করতেও দ্বিধা করবে না। অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় বড় দাগে তারা কী কী ভুল করেছিল, তা তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ থেকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি থাকবে। জানতে চাইলে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপির অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষ এখনো দ্বিধায় রয়েছে। আগামী দিনে বিএনপি কী করতে চায়, তা এখনই স্পষ্ট করতে হবে। ভোটাররা কেন তাদের প্রতি আস্থা রাখবে, তা পরিষ্কার করতে হবে। তিনি মনে করেন, ভোটারদের কাছে টানতে জাতির সামনে কিছু প্রতিশ্রুতি দিতে হবে বিএনপিকে। ক্ষমতায় গেলে তারা প্রতিহিংসার রাজনীতি করবে না-সবার আগে দিতে হবে এ প্রতিশ্রুতি।

মানুষ যাতে সেটা বিশ্বাস করে, সেই আস্থার জায়গা তৈরি করতে হবে।’

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু যুগান্তরকে বলেন, ‘এ সরকারের অধীনে আমরা আগামী নির্বাচনে যাব না। নির্বাচনকালীন সরকার প্রতিষ্ঠা করেই তাদের অধীনে নির্বাচনে যাবে বিএনপি। ওই নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা নানা কারণেই বিএনপিকে সমর্থন জানাবে। শুধু দুর্নীতি আর লুটপাট নয়, জনগণ দেখতে পাচ্ছে তাদের ভোটাধিকার নেই। স্বাধীনতা নেই বিচার বিভাগ, গণমাধ্যমসহ সাধারণ মানুষের কথা বলার। এমনকি সাধারণ মৃত্যুর গ্যারান্টিও নেই। যোগ্যতা থাকার পরও অনেকে চাকরি পাচ্ছে না। কারণ সব জায়গায় চলছে দলীয়করণ।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে চায়। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের জন্য এমন কিছু দিতে চাই যাতে তারা বিএনপির প্রতি আস্থা রাখতে পারে। সবমিলে আগামী দিনে ক্ষমতায় গেলে দেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনাই হবে বিএনপির অন্যতম কাজ।

একনেকে ২২১৬ কোটির টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন

মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণসহ ১০ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২১৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

এরমধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১ হাজার ৮৭৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৩৪১ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সচিব মামুন-আল-রশীদ এবং আইএমইডির সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান।

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিন্দন ও ফুলের শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে অর্থ সচিব গর্ভনর হওয়ায় তাকে ও অভিনন্দন জানানো হয়। তিনি আরও বলেন, এখন আর নতুন প্রকল্প নেওয়া হবে না। তবে পুরনো প্রকল্পগুলোকে সংস্কার এবং প্রয়োজনে রাস্তার ঘার ভেঙ্গে সোজা করতে হবে।

তিনি বলেন, মসলার অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর বাজার মূল্যও অন্যান্য ফসলের তুলনায় বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশে মসলার বাজার প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার। এদেশে প্রায় ৫০ ধরনের মসলা ব্যবহার হলেও মাত্র ৭ ধরনের মসলা জাতীয় ফসল দেশে উৎপাদিত হয়। ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার সিংহভাগই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। এক্ষেত্রে আমদানি নির্ভরতা কমাতে স্থায়ীভাবে মসলার উৎপাদন বাড়ানোর আবশ্যকতা রয়েছে। বাংলাদেশ মসলা গবেষণা কেন্দ্র এখন পর্যন্ত ২২টি মসলা জাতীয় ফসলের ৪৭টি জাত উদ্ভাবন করেছে।

এছাড়া উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য মৃত্তিকা ও পানি ব্যবস্থাপনা, পোকামাকড় ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনা, পোস্ট হারভেস্ট প্রযুক্তিসহ ৬৬টি উন্নত প্রযুক্তিও উদ্ভাবিত হয়েছে। এসব জাত ও প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণ সম্ভব হলে দেশে মসলার উৎপাদন ও কৃষকের আয় বৃদ্ধি পাবে। সেই সঙ্গে আমদানি নির্ভরতা কমানো যাবে। দেশের ৪০টি জেলার ২৫টি হর্টিকালচার সেন্টারে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে— যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্প। মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প। কুষ্টিয়া (ত্রিমোহনী)-মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ আঞ্চলিক মহাসড়কের ৮১তম কিলোমিটারে রেলবাজার রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্প। চরখালী-তুষখালী-মঠবাড়ীয়া-পাথরঘাটা মহাসড়কের পিরোজপুর অংশের জরাজীর্ণ, অপ্রশস্ত বেইলী সেতুর স্থলে পিসি গার্ডার সেতু ও আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প। কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প। জামালপুর শহরের গেইটপাড় এলাকায় রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্প। বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা সদরে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ প্রকল্প। ঢাকা সেনানিবাসে এমইএসের ভৌত অবকাঠামো সুবিধাদি সম্প্রসারণ প্রকল্প। কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন কার্যক্রম জরুরি সহায়তা প্রকল্প। কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক প্রকল্প।