শনিবার ,১৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 235

যুক্তরাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা

নতুন অর্থমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে বরিস জনসনের চিফ অব স্টাফ স্টিভ বার্কলের। আর অর্থমন্ত্রী হচ্ছেন নাদিম জাহাবী।

মঙ্গলবার পদত্যাগপত্র জমা দেন দেশটির অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ।

প্রভাবশালী এই দুই মন্ত্রীর পদত্যাগের পরই এই সিদ্ধান্ত নেয় বরিস জনসন সরকার। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এর আগে করোনাভাইরাসের বিধি লঙ্ঘন করে একাধিক পার্টি আয়োজন করে সমালোচিত হয়েছিলেন। এজন্য পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে ক্ষমাও চেয়েছিলেন তিনি। তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি পদত্যাগের চাপে ছিলেন। যদিও সে যাত্রায় পার্লামেন্টে তার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে উতরে যান জনসন।

কিন্তু চাপ শেষ হয়নি। সরকার পরিচালনায় জনসনের সক্ষমতা নিয়ে নিজ দল ও দলের বাইরে ব্যাপক সমালোচিত তিনি। সম্প্রতি নতুন করে কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছেন জনসন। কনজারভেটিভ দলের এমপি ক্রিস পিঞ্চারের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে আগে থেকেই জানতেন বরিস জনসন। তার পরও তাকে সরকারের ডেপুটি চিফ হুইপ করেন প্রধানমন্ত্রী জনসন।

এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই আবারও ক্ষমা চান বরিস জনসন। এরপরই এবার নিজ দল থেকেই তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। এটা নিয়ে ভীষণ চাপে রয়েছেন তিনি। এর মধ্যেই সরকারের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রীর পদত্যাগে তার প্রধানমন্ত্রীর পদ রক্ষার চাপ আরও বাড়িয়ে দিল।

সূত্র: বিবিসি, দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউকে।

বিনিয়োগ ২২ হাজার কোটি টাকা

রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ উৎপাদন খাতে দেশি ও বিদেশি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকঋণ।

দেশে রেফ্রিজারেটর উৎপাদনের মৌলিক কোম্পানি রয়েছে ১২টি। এছাড়া বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করে দেশে ফ্রিজ উৎপাদন করে আরও কয়েকটি কোম্পানি। বিদেশি কোম্পানি রয়েছে ১৯টি।

এর মধ্যে তিনটি কোম্পানি দেশে ফ্রিজ উৎপাদনের কারখানা স্থাপন করেছে। বাকি কোম্পানিগুলো আমদানি করে বাজারজাত করে। এসব খাতে আরও বিনিয়োগ রয়েছে। সবমিলিয়ে রেফ্রিজারেটর শিল্পে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

দেশের অর্থনীতির আকার বাড়ায় উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ ঘটেছে। এই শ্রেণির পুরো অংশই ইলেকট্রনিক সামগ্রীর বড় ক্রেতা। এর মধ্যে এই শ্রেণির কাছে ফ্রিজ হয়ে উঠেছে নিত্যব্যবহার্য একটি পণ্য।

কোনো কোনো পরিবারে একাধিক ফ্রিজ ব্যবহারের নজিরও রয়েছে। শহরের গণ্ডি ছাড়িয়ে গ্রামেও এই শ্রেণির বিকাশ ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ দরিদ্র পরিবারেও ফ্রিজের ব্যবহার হচ্ছে।

ফলে ফ্রিজের চাহিদাও বাড়ছে। এটি একটি ভারী শিল্প হওয়ায় এতে একদিকে যেমন বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন, লাগে বড় অঙ্কের ঋণও। এর বিকাশে সরকার থেকেও নীতিসহায়তা দেওয়া হয়েছে। সব মিলে এ শিল্পের বিকাশ ঘটছে দ্রুত।

মার্কেটিং ওয়াচ বাংলাদেশের এক জরিপে বলা হয়, দেশি-বিদেশি মিলে মোট চাহিদার ৯৫ শতাংশই দেশে উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে দেশীয় কোম্পানিগুলো উৎপাদন করে ৭৭ শতাংশ। বাকি ১৮ শতাংশ বিদেশি কোম্পানিগুলো। এর বাইরে বিদেশ থেকে সরাসরি আমদানি হয় ৫ শতাংশ।

উদ্যোক্তারা জানান, দেশের চাহিদা মেটানোর পুরো সক্ষমতাই দেশীয় কোম্পানিগুলোর রয়েছে। মুক্তবাজার অর্থনীতি বলে আমদানিও হচ্ছে। এতে দেশীয় ফ্রিজ বিদেশি ফ্রিজের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।

দেশ থেকে ফ্রিজ রপ্তানিও হচ্ছে। ফলে একদিকে ফ্রিজ আমদানি বাবদ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে। অন্যদিকে ফ্রিজ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের ভারী শিল্পের ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ বড় ব্র্যান্ডিং হচ্ছে বিদেশে।

ফ্রিজের বড় ভোক্তা উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ ঘটায় পণ্যটির বাজারও বড় হচ্ছে। ফলে এ খাতে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯২ সালে দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৯ শতাংশ ছিল মধ্যবিত্ত শ্রেণির।

এখন তা বেড়ে ২২ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৪ কোটি মানুষ মধ্যবিত্ত। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হবে ২৫ শতাংশে। ২০৩০ সালে তা আরও বেড়ে ৩৩ শতাংশের বেশি হবে। ওই সময়ে ৫ কোটি ২৪ লাখ লোক মধ্যবিত্ত হবে। এ শ্রেণির সাড়ে ৪৮ শতাংশ চাকরিজীবী।

বাকিরা ব্যবসায়ী বা অন্য পেশায় জড়িত রয়েছেন। এর বাইরে ৫ শতাংশ আছে উচ্চবিত্ত। অর্থাৎ প্রায় ১ কোটি উচ্চবিত্ত। অর্থাৎ বর্তমানে কমপক্ষে ৫ কোটি মানুষ ফ্রিজ কিনে। একটি ফ্রিজের মেয়াদ ১০ থেকে ১৫ বছর। দারিদ্র্য থেকে মানুষ ক্রমেই ওপরে উঠে আসছে।

আর ফ্রিজের চাহিদাও বাড়ছে। উচ্চ ও মধ্যবিত্ত পরিবারে একাধিক ফ্রিজের ব্যবহার রয়েছে। এর বাইরে হোটেল-রেস্টুরেন্ট, সুপারশপ, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল, অফিসসহ প্রায় সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একাধিক ফ্রিজ ব্যবহৃত হচ্ছে।

কোম্পানিগুলোর সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে ফ্রিজের বাজার বড় হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিবছর গড়ে ৩০ থেকে ৩২ লাখ ফ্রিজ বিক্রি হচ্ছে। প্রতিবছর ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে বিক্রি বাড়ছে। এ হিসাবে প্রতিবছর গড়ে ৪ থেকে ৫ লাখ করে ফ্রিজের চাহিদা বাড়ছে।

এ হিসাবে আগামী ৫ বছরের মধ্যে ফ্রিজের চাহিদা বেড়ে ৫০ লাখে দাঁড়াবে। বর্তমানে ফ্রিজের বাজার রয়েছে ৮ হাজার ২০০ কোটি টাকার। প্রতিবছর এ বাজার বাড়ছে ১৫ শতাংশ হারে। এ হিসাবে ২০২৫ সালে ফ্রিজের বাজার সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

এর বাইরে রপ্তানির বাজার তো আছেই। মেইড ইন বাংলাদেশ ব্র্যান্ড জনপ্রিয় হলে ফ্রিজের রপ্তানি আরও বাড়বে। কেননা এখন দেশে আন্তর্জাতিক মানের ফ্রিজ উৎপাদন হচ্ছে। দামও কম।

আকার ও মানভেদে দেশি ফ্রিজ ১৩ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বিদেশি ফ্রিজ ৩০ হাজার থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম কম ও মানে ভালো হওয়ায় দেশি ফ্রিজই এখন বেশি বিক্রি হচ্ছে।

২০১০ সালের আগে ফ্রিজ শিল্প পুরোটাই আমদানিনির্ভর ছিল। ২০০৮ সালে প্রথমবার দেশে ফ্রিজের কারখানা স্থাপন কাজ শুরু হয়। ২০১০ সালে দেশে উৎপাদিত ফ্রিজ বাজারে আসে। এরপর থেকে এ শিল্পের শুধু সামনে এগিয়ে চলা। আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

দেশে এখন ১১টি কোম্পানি ফ্রিজ উৎপাদন করছে। আরও একটি কোম্পানি অচিরেই আসছে। চাহিদার কারণে সরকার থেকেও এ শিল্পের বিকাশে নীতিসহায়তা দেওয়া হয়েছে। ২০১০ সালে ফ্রিজ উৎপাদনের ওপর থেকে সব ধরনের ভ্যাট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

কিন্তু চলতি অর্থবছরে এ খাতে উৎপাদন পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে এ ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

কেননা আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বেশি, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহণ ব্যয় বেড়েছে এবং ডলারের দাম বাড়ায় সার্বিকভাবে উৎপাদন ব্যয় ৫ থেকে ২০ শতাংশ বেড়ে গেছে। ফলে এর সঙ্গে ভ্যাট যোগ হলে দাম আরও বাড়বে। এতে দেশীয় বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

একটি ফ্রিজ উৎপাদনের কারখানা করতে ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার প্রয়োজন হয়। দেশে বর্তমানে ১১টি কারখানা উৎপাদন করছে। এর মধ্যে যমুনা গ্রুপের যমুনা ফ্রিজ, ওয়ালটন গ্রুপের ওয়ালটন ফ্রিজ, মিনিস্টার গ্রুপের মিনিস্টার ফ্রিজ, ট্রান্সকম গ্রুপের ট্রান্সটেক ফ্রিজ, প্রাণ গ্রুপের ভিশন ফ্রিজ। এছাড়াও আছে ভিসতা ও ওরিয়ন গ্রুপ।

বিদেশি ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে স্যামসাং, এলজি, তোশিবা, শার্প, ইলেকট্রা, কেলভিমনটন, হেইজ অ্যান্ড হায়ার, হিটাচি, ওয়ার্লপুল, প্যানাসনিক, কনকা, সিঙ্গার, গ্রি, র‌্যাংগস, হাইকো।

ফ্রিজ আমদানি নিরুৎসাহিত করতে সরকার সম্প্রতি এর ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করেছে। সব মিলে প্রায় ১০৮ শতাংশ কর দিতে হয়। এছাড়া ফ্রিজসহ বিলাসী পণ্য আমদানিতে ৭৫ শতাংশ এলসি মার্জিন আরোপ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগে মার্জিন দিতে হতো ৫ থেকে ২০ শতাংশ। ফলে দেশীয় শিল্পের বিকাশ হবে বলে মনে করেন উদ্যোক্তারা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যে দেখা যায়, ফ্রিজের চাহিদা ও উৎপাদন বাড়ায় শিল্প খাতে এর গুরুত্ব বাড়ছে। ১০ বছর আগে ইলেকট্রনিক শিল্পে মোট ভার দেওয়া ছিল শূন্য দশমিক ২ শতাংশের কম। বর্তমানে তা বেড়ে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে।

যেভাবে এ শিল্পের বিকাশ হচ্ছে তাতে এর অবদান ১ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে ২০২৫ সালের মধ্যেই। ফলে এ খাতে বিনিয়োগ যেমন বাড়বে, তেমনই বাড়বে কর্মসংস্থানও। একই সঙ্গে বাড়বে মোট দেশজ উৎপাদনে এর অবদান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, বর্তমানে ৩৬টি দেশ থেকে ফ্রিজ ও এর উপকরণ আমদানি হয়। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা ৭২৯ কোটি টাকার ফ্রিজ ও এর উপকরণ আমদানি হয়েছে।

গত অর্থবছরে তা কমে ৭ কোটি ৩৫ লাখ ডলার বা ৬২৩ কোটি টাকার আমদানি হয়েছে। ওই এক বছরের ব্যবধানে এর আমদানি কমেছে প্রায় ১৫ শতাংশ। এভাবে প্রতিবছরই আমদানি কমছে। উৎপাদন বাড়ছে দেশে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে চীন থেকে ৪ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের। থাইল্যান্ড থেকে ১ কোটি ১১ লাখ ডলারের এবং ভারত থেকে ৫৬ লাখ ডলারের।

বিদেশি কোম্পানিগুলোর ওইসব দেশে স্থাপিত কারখানায় উৎপাদিত ফ্রিজ আমদানি হয়েছে। তবে এগুলো চীন ছাড়া থাইল্যান্ড ও ভারতের নিজস্ব ব্র্যান্ড আমদানিতে নেই।

এছাড়া বেলজিয়াম, জার্মানি, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, যুক্তরাজ্য থেকে আমদানি হয়েছে।

আমদানির বিপরীতে দেশে উৎপাদিত ফ্রিজ বিদেশে রপ্তানিও হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় সবই দেশীয় কোম্পানিগুলো করছে। প্রতিবছরই রপ্তানি বাড়ছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২২টি দেশে রপ্তানি হয়েছিল ১২ লাখ ১৬ হাজার ডলার বা ১০ কোটি ৩২ লাখ টাকার ফ্রিজ ও এর উপকরণ।

গত অর্থবছরে রপ্তানি বেড়ে ৬৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা ৫৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা হয়েছে। ওই এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি বেড়েছে সাড়ে ৫ গুণ। আগামী দিনে এ খাতে রপ্তানি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।

কারণ, দেশি কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি বিদেশি কোম্পানিগুলোও বাংলাদেশে কারখানা করে এখন থেকে বিদেশে রপ্তানি করার কথা ভাবছে। এ কারণে এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগও বাড়ছে।

২০১১ সালে ইলেকট্রনিক খাতে বিদেশি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ ছিল ১৪ কোটি ডলার। ওই সময়ে তারা শুধু ট্রেডিং খাতেই বিনিয়োগ করত। ২০২১ সালে তা বেড়ে ১০৫ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

১১ বছরে বিনিয়োগ বেড়েছে সাড়ে ৭ গুণ। ইলেকট্রনিক খাতের অন্যতম একটি উপখাত হচ্ছে ফ্রিজ। এ কারখানায় টিভি, ভিসিভি, সিসি ক্যামেরাসহ অন্যান্য পণ্যও উৎপাদন করা যায়।

বাংলাদেশ থেকে ফ্রিজ এবং এর উপকরণ রপ্তানি হচ্ছে পূর্ব তিমুর, গ্রিস, ইরাক, মালদ্বীপ, নেপাল, লেবানন, নাইজেরিয়া, সৌদি আরব, ইয়েমেন প্রভৃতি দেশে।

মূল্য বেঁধে দেওয়া হলো ট্যানারি মালিকদের

একদিনের মৌসুমি ব্যবসায়ীদের জন্য কুরবানির চামড়ার মূল্য বেঁধে দেওয়া হয়নি। দেওয়া হয়েছে লবণযুক্ত চামড়ার মূল্য। সাধারণত লবণযুক্ত চামড়ার ক্রেতা একমাত্র ট্যানারি মালিক ও আড়তদাররা।

ফলে মূল্য বেঁধে দেওয়ার মধ্যে অস্বচ্ছতার কারণে আবারও চামড়ার বাজারে মূল্য নিয়ে শঙ্কা থেকেই গেল। অনেকটা অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছেন একদিনের মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

এ বছর লবণযুক্ত ঢাকার গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৭-৫২ টাকা, গ্রামে ৪০-৪৪ টাকা। এছাড়া খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৮-২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১২-১৪ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি ঈদের দিন থেকে পরবর্র্তী সাত দিন ঢাকা অভিমুখে এবং আন্তঃজেলা কোনো চামড়াবাহী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে উল্লিখিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিংয়ে সংবাদিকদের এসব সিদ্ধান্তের বিষয়টি তুলে ধরেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তবে শক্ত হাতে হ্যান্ডেল করে রপ্তানি পণ্য নষ্ট করা থেকে এবার রক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, চামড়া ক্রয় নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যাংক প্রয়োজনীয় টাকা ঋণ মঞ্জুর করেছে। দেশে প্রয়োজনীয় লবণ মজুত রয়েছে, লবণের সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রয়েছে। মাঠপর্যায়ে সব ধরনের সহযোগিতার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এবার কুরবানির চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত মূল্যে ক্রয়-বিক্রয়ে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না এবং নষ্ট হবে না। তিনি আরও বলেন, চামড়া রপ্তানি বেড়েছে, আরও বাড়বে। সরকার প্রয়াজনের অতিরিক্ত ওয়েট ব্লু চামড়া কেস টু কেস ভিত্তিতে রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে।

গতবছর প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার মূল্য ছিল ৪০-৪৫ টাকা এবং গ্রামের চামড়া ৩৩-৩৭ টাকা। এছাড়া খাসির চামড়া ১৫-১৭ টাকা এবং বকরি ১২ থেকে ১৪ টাকা। এ বিষয়ে এ বছর কুরবানির চামড়া প্রতি বর্গফুট গরু ৭ টাকা ও খাসিতে ৩ টাকা বেড়েছে। এ মূল্য মেনে নিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা। বাণিজ্যমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে এটি নিশ্চিত করেছেন ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ। তিনি বলেন, আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম ঢাকার গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুটের মূল্য হবে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং গ্রামের গরুর চামড়া ৩৮ থেকে ৪২ টাকা। তবে মন্ত্রণালয় প্রতি স্কয়ার ফুট যে মূল্য নির্ধারণ করেছে সেটি আমরা মেনে নিয়েছি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ সভা পরিচালনা করেন। ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে সভায় বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আকতার হোসেন, শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মো. মকবুল হোসেন, বাংলাদেশ ফিনিশ লেদার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েমনের প্রেসিডেন্ট মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন, হাইড অ্যান্ড স্কিন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আফতাব খান।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রতিবছরই লবণযুক্ত চামড়ার মূল্য বেঁধে দেয়। এতে একদিনের মৌসুমি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে যে মূল্যে চামড়া কেনা হবে সেটি বেঁধে দেওয়া হয়নি। ফলে মূল্য বেঁধে দেওয়ার মধ্যে এক ধরনের অস্বচ্ছতা রয়েছে। এটি কাজে লাগিয়ে ফায়দা লুটবেন আড়ত ও ট্যানারি মালিকরা। যা বিগত কয়েক বছর ধরে ঘটে আসছে।

এদিকে সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। যাতে চামড়া নষ্ট হওয়া ঠেকানো এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে জেলা-উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তদারকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে সব ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ বছর কুরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৯৭ লাখ। এক কোটি ২১ লাখ পশু কুরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়া লবণের কোনো ঘাটতি নেই। কুরবানির ঈদে ৮২ হাজার টন লবণ প্রয়োজন হয়। এরই মধ্যে কুরবানির পশুর জন্য প্রয়োজনীয় লবণ ব্যবসায়ীরা মজুত করেছেন। শিল্প মন্ত্রণালয়কে এরই মধ্যে আরও দেড় লাখ টন লবণ আমদানি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বছরে বাংলাদেশ থেকে মোটামুটি ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪.৮৩ শতাংশ গরুর চামড়া, ৩১.৮২ শতাংশ ছাগলের, ২.২৫ শতাংশ মহিষের এবং ১.২ শতাংশ ভেড়ার চামড়া।

এদিকে ঈদুল আজহায় চামড়ার ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন সংশ্লিষ্টরা। এর একটি কারণ হচ্ছে, চামড়ার বাজারে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। বেড়েছে লবণের দামও। পাশাপাশি, চামড়া প্রক্রিয়াজাতে ব্যবহৃত রাসায়নিকের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে ৬০ কেজি বস্তার যে লবণের দাম ৩ মাস আগেও ছিল ৫৫০ টাকা এখন তা ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেমিক্যালের দাম দ্বিগুণ বেড়েছে। পরিবহণ খরচ গত ৬-৭ মাসে ৬০ শতাংশ বেড়েছে।

‘দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে এসবের বিচার করা হবে’

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক বলেছেন, গুম-অপহরণ সবচেয়ে ঘৃণ্য অপরাধ। আর এই মানবতাবিরোধী অপকর্ম করছে আওয়ামী লীগ সরকার। ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে গণতন্ত্রকামী বিরোধী নেতাকর্মীসহ ভিন্ন মতাবলম্বীদের গুম করা হচ্ছে। কিন্তু এই দিনই শেষ নয়; দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে একদিন এসব গুম-খুনের বিচার করা হবে। সেদিন আর বেশিদূরে নয়।

মঙ্গলবার রাজধানীর পল্লবী এলাকায় বিভিন্ন গুম পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে বিগত দিনে পল্লবী এলাকায় গুমের শিকার থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুর আলম এবং ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলামের পরিবারের পাশে দাঁড়ান জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক।

এ সময় তিনি বলেন, গুমের শিকার প্রত্যেকটি পরিবার এখনো অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। তারা তাদের স্বজনদের ফিরে পেতে চোখের পানি ফেলছেন। কবে তাদের বাবা, ভাই, ছেলে কিংবা স্বামীকে কাছে পাবেন, সেই আর্তনাদ নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু এই জালিম সরকার সেদিকে খেয়াল না করে আরও গুম করছে, খুন করছে এবং নির্যাতন করছে।

আমিনুল বলেন, বিএনপিসহ সব বিরোধী দল দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলন করছে। এই ফ্যাসিবাদ সরকারকে হটিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করার সংগ্রাম করছে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এই রাতের ভোটের সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য মাহাবুব আলম মন্টু, ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম নজু, সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের, ৫নং বিএনপির সভাপতি বাদসা মিয়া, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসালাম চান, ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আশ্রাফ গাজী, ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মোস্তফা মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর মামুন, ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. আহসান পল্লবী থানা এনপির নেতা মোতালেব হোসেন, মো. আনিসুর রহমান, মো. কামাল হোসেন, গোলাম কিবরিয়া, বাবুল মিয়া, রূপনগর থানা বিএনপির নেতা এএম আশ্রাফুল ইসলাম, রূপনগর থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি. মো. মজিবুল হকসহ পল্লবী ও রূপনগর থানা বিএনপি এবং সব অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

হাজারটা পদ্মা সেতু করলেও সরকার জনগণের আস্থা পাবে না: ফখরুল

‘গণতন্ত্র অবরুদ্ধ’ রেখে হাজারটা পদ্মা সেতু করলেও বর্তমান সরকার জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

‘দেশের জনগণ আমাদের পাশে থেকে বার বার ভোট দিচ্ছে। আমাদের ওপর জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস আছে’- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচন দিয়ে দেখুক না উনাদের প্রতি কতটুকু আস্থা আছে? হাজারটা পদ্মা সেতু করেও কোনো লাভ হবে না। আইয়ুব খান যে উন্নয়ন করেছিল পাকিস্তান আমলে… কিন্তু জনগণের রাজনৈতিক মুক্তি যদি না হয়, জনগণ যদি গণতন্ত্রকে না পায়, গণতন্ত্র যদি না থাকে, তার অধিকার যদি না থাকে, তার ভোটাধিকার না থাকে সেখানে কিন্তু কোনো লাভ হয় না।’

‘আর ভোট দিচ্ছে কোথায়? মানুষ ভোট দিতে পারছে কোথায় যে, জনগণের আস্থাটা গ্রহণ করছেন তিনি কীভাবে? তিনি তো কাগজে-কলমে সিল মেরে আগের রাত্রে ভোট দিচ্ছেন, ইউনিয়ন পরিষদের ভোটের মতো আর কি।’

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘নির্বাচনের বিষয়ে আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, এটা নির্ভর করবে নির্বাচনকালীন সরকার নিরপেক্ষ হবে কি না তার ওপর। যদি নির্বাচনকালীন সরকার নিরপেক্ষ হয়, তাহলে আমাদের অংশগ্রহণ অবশ্যই দৃশ্যমান হবে।আর যদি না হয় হবে না।আমরা খুব স্পষ্ট করে বলেছি, বাংলাদেশে যদি একটা সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন করতে হয় এখানে অবশ্যই একটা নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকার থাকতে হবে। তা না হলে এখানে কোনোমতেই আপনার যদি একেবারে স্বর্গ থেকে নির্বাচন কমিশনার নিয়ে আসেন তাহলেও সেটাকে সুষ্ঠু করতে পারবেন না- ইমপোসিবল।’

গত ২৫ জুন করোনায় আক্রান্ত হয়ে টানা ৮দিনে উত্তরার বাসায় আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নেন মির্জা ফখরুল। রোববার করোনামুক্ত হওয়ার পর মঙ্গলবার গুলশানের কার্যালয় এসে বিএনপি মহাসচিব প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আসেন।এতে সোমবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

দেশব্যাপী বিদ্যুৎ-সংকট, যা বললেন প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ

হঠাৎ করে দেশব্যাপী বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। সরকারি হিসাবে লোডশিডেং সাড়ে ১২শ মেগাওয়াট বলা হলেও বাস্তবে এটি আড়াই হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে বলে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো সূত্রে জানা গেছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩৫০০ মেগাওয়াট কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানা ও আবাসিকে লোডশেডিংয়ে নাভিশ্বাস।

এমতাবস্থায় দেশের বিদ্যুৎ সংকট ও এর থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

তিনি বলেছেন, ‘গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ এর প্রভাব সব জায়গায় পড়েছে। কোভিডের ধাক্কা যখন সবাই কাটিয়ে উঠছিল তখনই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি সারা বিশ্বকেই গভীর এক সংকটে ফেলেছে। এই সংকট শুধু উন্নয়নশীল দেশেই না অনেক উন্নত দেশেও এর আঁচ লেগেছে। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি মার্কেট চরম অস্থিতিশীল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক খাদ্য পণ্যের বাজারও বেসামাল। বৈশ্বিক এই সংকট আমাদেরকেও বিপদে ফেলে দিয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশ ৫২ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানীর অনন্য মাইলফলক অর্জন করেছে। অর্থাৎ গত একযুগে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে আমাদের শিল্পায়ন অতীতের সকল সময়কে ছাড়িয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে ‘দিন বদলের ইশতেহারে’ উনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সবার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবেন। সেই রূপকল্প আমরা বাস্তবায়ন করেছি। মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস বিদ্যুতের কোন বিকল্প নাই। আমরা সে লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু যুদ্ধের কারণে হঠাৎ করেই কিছুটা ছন্দ পতন সব জায়গাতেই।’

জ্বালানী ও বিদ্যুৎ সংকট বিশ্বের অনেক দেশেই চলছে জানাতে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘জাপানের মত উন্নত ও অর্থনৈতিভাবে সমৃদ্ধ দেশও তাদের সাড়ে তিন কোটির বেশি মানুষকে নিয়মিত বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে পারছে না। একই অবস্থা আরেক উন্নত দেশ অস্ট্রেলিয়ারও। ভারত-পাকিস্তানের কথা না হয় নাইবা বললাম। অর্থাৎ সবাইকেই এই সংকটকালীন সময়ে রেশনিং করতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সংকটের বিষয়ে নসরুল হামিদ বলেছেন, ‘আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ১৬০০-১৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। সেখানে আমরা দিতে পারছি মাত্র ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এর বেশি গ্যাস আমরা দিতে পারছি না। কারণ আমাদের অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে কৃষি ও শিল্পখাতকে। কৃষির জন্য সার অপরিহার্য। সার উৎপাদনেও আমাদেরকে অনেক পরিমাণ গ্যাস দিতে হচ্ছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের উৎপাদন ২৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। চাহিদার বাকি বৃহৎ অংশ এলএনজি আমদানি করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার সময়ও গ্যাসের উৎপাদন ছিল মাত্র দৈনিক ১৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট। সেখান থেকে আমরা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়েছিলাম দৈনিক ২৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত। ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমরা এ সক্ষমতায় গ্যাস উৎপাদন করেছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন কমতে শুরু করেছে, আমাদের খনিগুলোর রির্জাভ কমে যাওয়ার কারণে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এলএনজি আমদানির জন্য কাতার ও ওমানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় আমরা এলএনজি পাচ্ছি। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি আমদানি করতাম। কোভিড-১৯ এর আগে আমরা এক ইউনিট এলএনজি ৪ ডলারেও আমদানি করেছি কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা ৪১ ডলারও ছাড়িয়ে গেছে। এত উচ্চমূল্যে আমদানি করলে আমাদের অর্থনীতির উপর বিশাল চাপ তৈরি হবে। শুধু গ্যাসের দামই না। বেড়েছে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম। ২০২১ সালের জুলাইয়ে ডিজেল ব্যারেল প্রতি ৭৭ ডলার ছিল সেটা এ বছরের জুনে ১৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

তিনি যোগ করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার নিজস্ব জ্বালানির অনুসন্ধান, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান কূপগুলোতে আরো গভীরে খনন করে গ্যাসের অনুসন্ধান কাজ চালাচ্ছে। এরই মধ্যে আগামী ৩ বছরের একটা আপগ্রেডেশন, ওয়ার্কওভারের স্বল্প মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েছি যাতে করে ৪৬টি কূপ থেকে দৈনিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস নতুন করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।’

প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, ‘এই পরিস্থিতি খুব বেশিদিন থাকবে না আশা করি। এবছরের মধ্যেই পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ভারত থেকে ১৬০০ মেগাওয়াট আমদানিকৃত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। আপনাদের নিশ্চয় সবার মনে আছে ২০০৮ সালের আগে সারাদেশে দিনে ১৬-১৮ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকতো না। সেই কঠিন সময়ে আপনারা শেখ হাসিনার উপর বিশ্বাস রেখেছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেই স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিদ্যুৎ খাতের ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। এই সংকটকালীন সময়েও আপনাদেরকে শেখ হাসিনার প্রতি বিশ্বাস রখাতে বলবো। এই সংকট আমরা সবাই মিলেই পার করব।এই পরিস্থিতিতে সবার কাছে একটাই অনুরোধ আসুন আমরা সবাই গ্যাস-বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যায়ী হই।’

সারাদিন ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস

আজ ঢাকাসহ সারা দেশে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। বৃষ্টিপাতের প্রবণতা পাঁচদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানা গেছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

এরই মধ্যে সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বেশ কিছু এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে মৌসুমি বায়ুর অক্ষ রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর বাড়তি অংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৬১ শতাংশ।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ও সতর্কতা

বর্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণা, ব্যবহার এবং এ খাতে বিনিয়োগের গুরুত্ব বাড়ছে। কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি অনন্য শাখা হচ্ছে এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যাতে মানুষের চিন্তাশক্তি ও বুদ্ধিমত্তাকে কম্পিউটার সফটওয়্যার দ্বারা অনুকরণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তাশক্তিকে কৃত্রিম উপায়ে প্রযুক্তিনির্ভর করে যন্ত্রের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) হলো মেশিন দ্বারা প্রদর্শিত বুদ্ধি। আন্দ্রেয়ার কাপলান এবং মাইকেল হেনলিন আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে বলেন, ‘এটি একটি সিস্টেমের বহির্ভূত তথ্য সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারার ক্ষমতা, এমন তথ্য থেকে শিক্ষাগ্রহণ এবং ওই শিক্ষা ব্যবহার করে নমনীয় অভিযোজনের মাধ্যমে বিশেষ লক্ষ্য করা।’ ধারণা করা হয়, কৃত্রিম মানবযন্ত্র আবিষ্কারের চিন্তার সূত্রপাত হয় সম্ভবত রামন লোল’র মাধ্যমে ১৩০০ খ্রিষ্টাব্দে। ১৯২০ সালের দিকে ‘রুশম’স ইউনিভার্সেল রোবটস’ নামে একটি সায়েন্স ফিকশন থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

জন ম্যাকার্থি সর্বপ্রথম আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নামক টার্মটি ব্যবহার করেন ১৯৫৫ সালে। ১৯৫৬ সালে ডার্টমাউথ কলেজের এক কর্মশালায় প্রথম এআই গবেষণা ক্ষেত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও গণিতবিদ অ্যালান টুরিংকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কর্তা বলা হলেও জন ম্যাকার্থিই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্যতম জনক। টুরিং-এর গবেষণার ‘চার্চ-টুরিং থিসিস’ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গোড়াপত্তন। ১৯৬০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় এআই গবেষণার জন্য ব্যাপকভাবে তহবিল প্রদান এবং বিশ্বব্যাপী এর গবেষণা গুরুত্ব পায়। ১৯৮০’র দশকের শুরুতে এআই গবেষণা বিশেষজ্ঞ সিস্টেমের বাণিজ্যিক সাফল্য দ্বারা পুনরুজ্জীবিত হয়। ১৯৮৫ সাল নাগাদ এআইয়ের বাজার এক বিলিয়ন ডলারের বেশি পৌঁছেছিল। একই সময়ে, জাপানের পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার প্রকল্প আমেরিকা এবং ব্রিটিশ সরকারকে একাডেমিক গবেষণার জন্য অর্থায়নে ফিরিয়ে আনতে অনুপ্রাণিত করেছিল। ২০১০-এর মাঝামাঝি পর্যন্ত, সারা পৃথিবীতে মেশিন লার্নিং অ্যাপ্লিকেশনগুলো ব্যবহার করা হতো। জ্যাক ক্লার্কের মতে, ২০১৫ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য একটি মাইলফলকের বছর ছিল, গুগলের মধ্যে এআই ব্যবহার করার জন্য সফটওয়্যার প্রকল্পগুলোর সংখ্যা ২০১২ সালে ২৭০০-এরও বেশি প্রকল্পে ‘স্পোরাইডিক ব্যবহার’ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৯৭ সালে আইবিএম’র তৈরিকৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘ডিপ-ব্লু’ দাবা খেলায় খ্যাতিমান গ্যারি কাসপারভকে হারিয়ে দেয়। ২০১০ সালে গুগলের আলফাগো গো খেলায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে পাঁচবারের মধ্যে চারবার হারিয়ে দেয়।

বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অনেক নামকরা প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মী নিয়োগ করে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পত্রিকা ফরচুনের তথ্যমতে, প্রায় পাঁচশ নামকরা প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। প্রথাগত পরিবহণ ব্যবস্থাকে হটিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমতার বদৌলতে স্বয়ংক্রিয় পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোল সম্ভব। সাইবর্গ টেকনোলজি যান্ত্রিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যা মস্তিষ্ক দ্বারা চালিত হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবট বিপজ্জনক বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ সম্পাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যার সমাধানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। কৃত্রিম বুদ্ধিসম্পন্ন রোবট হবে বন্ধুভাবাপন্ন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বয়োবৃদ্ধদের উন্নত পরিচর্যায় ব্যবহৃত হবে।

জানা যায়, জাপানে ইতোমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সংবাদমাধ্যম কোম্পানি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানীর অভিমত, আগামী ১২০ বছরের মধ্যে মানুষ তাদের সব কাজ বুদ্ধিমান মেশিনের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে পারবে। স্টাম্পফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকদের দাবি, তাদের তৈরি করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহজেই শরীরের বিভিন্ন পরীক্ষা করে মানুষের মৃত্যু কবে হবে, সেটা গণনা করে বলে দেবে। ৫০টিরও বেশি দেশ যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য রোবট তৈরি করছে-যেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ করবে এবং শত্রুকে মোকাবিলা বা হত্যা করার মতো কাজগুলো করবে। বর্তমানে এ ধরনের রোবট এবং ড্রোনের গবেষণায় প্রচুর অর্থও ব্যয় করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, রোবট ২০৫০ সালের মধ্যে সব মানবিক কাজ সম্পাদন করতে সক্ষম হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে ১০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করতে পারবে রোবট। শেয়ারবাজার থেকে শুরু করে নানা ব্যবসায়িক কাজে এর ব্যবহার বাড়ছে। এর বাইরে বেশি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হচ্ছে প্রতিরক্ষা। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মতে, নতুন প্রযুক্তির কারণে বিশ্বে ১৩ কোটিরও বেশি কাজের ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে। ডাটা অ্যানালিস্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপার, সোশ্যাল মিডিয়া স্পেশালিস্ট এ ধরনের কাজের ক্ষেত্র তৈরি হবে। এ ছাড়া শিক্ষক বা কাস্টমার সার্ভিস কর্মীর মতো কাজ, যাতে কিনা অনেক সুস্পষ্ট মানবিক গুণাবলির দরকার, সেরকম অনেক কাজও করতে সক্ষম হবে যন্ত্র।

যুক্তরাষ্ট্রের এনভিডিয়া তৈরি করছে উন্নত চিপসেট। দ্রুত বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজার। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউবিএস জানাচ্ছে, ২০২৫ সালের মধ্যে এআই খাতের রাজস্ব ২০ শতাংশ বেড়ে ৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়াবে। ইতোমধ্যে অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট এ বাজারের সুবিধা পেতে শুরু করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে সন বলেন, ‘আমি মনে করি, আজ থেকে ৩০ বছর পরে বিশ্বে স্মার্ট রোবটের সংখ্যা হবে ১০ বিলিয়ন। এ রোবটরা ব্যাপকভাবে মানুষের চাকরি নিয়ে নেবে। যতগুলো শিল্প মানুষ গড়ে তুলেছে, সবগুলোই নতুন করে পুনর্বিন্যস্ত হবে।’

প্রযুক্তির উৎকর্ষের মাইলফলক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচকতার পাশাপাশি নেতিবাচকতাও রয়েছে। ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’ জানিয়েছে, ২০২২ সালের মধ্যে রোবটের কারণে বিশ্বজুড়ে সাড়ে ৭ কোটি মানুষ চাকরি হারাবে। ইলন মাস্ক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নকে ‘দৈত্যকে ডেকে আনার শামিল’ আখ্যায়িত করে এটাকে মানবজাতির জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর হুমকি হিসাবে অভিহিত করেছেন।’ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং বলেছেন, ‘এরা এক সময়ে আমাদের অতিক্রম করে যাবে। এর ফলে মানবজাতির বিলুপ্তি ঘটতে পারে।’ গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার রুখতে নির্দিষ্ট নীতিমালা মেনে চলা। আর কীভাবে প্রযুক্তির অপব্যবহার হতে পারে, তা নিয়ে আগেই ভাবা উচিত। শুধু নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উন্নয়ন করলেই চলবে না, সে প্রযুক্তির ব্যবহার যেন মানবসভ্যতার বিপক্ষে না যায়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহারের পর যখন অকেজো হয়ে পড়বে সেসব বর্জ্যে পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ হিসাবে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণমূলক তদারকি জোরদার করতে হবে। মোটকথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নেতিবাচক ব্যবহার কঠোরভাবে রোধ করে এর ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

অমল বড়ুয়া : প্রাবন্ধিক

২০ টাকার কম রিচার্জ করা যাবে না গ্রামীণফোনে

দেশের বৃহৎ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন রিচার্জের সর্বনিম্ন সীমা বাড়িয়েছে। এখন থেকে অপারেটরটির গ্রাহকদের সর্বনিম্ন ২০ টাকা রিচার্জ করতে হবে।

এর আগে সর্বনিম্ন ১০ টাকা রিচার্জ করা যেত। গ্রামীণফোন গ্রাহকদেরকে এসএমএস দিয়ে বিষয়টি জানিয়ে দিচ্ছে।

এ বিষয়ে গ্রামীণফোনের হেড অব এক্সটার্নাল কমিউনিকেশন মুহাম্মদ হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের বিভিন্ন প্রোডাক্টের সুবিধা সরলীকরণ করার অংশ হিসেবে ফ্লেক্সিলোডের সর্বনিম্ন রিচার্জ ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ২০ টাকার কমে সুলভ মূল্যে ১৪ ও ১৬ টাকার মিনিট প্যাকগুলো এবং সব রিচার্জ কার্ডগুলো আগের মতোই চালু থাকবে।
২১ এবং ২৯ টাকা রিচার্জে দুদিন এবং তিন দিন মেয়াদে যেকোনো লোকাল নম্বরে গ্রাহকেরা বিশেষ কলরেট সুবিধা পাবেন বলেও জানান হাসান।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) হিসাবে, দেশে এখন ১৮ কোটি ৪২ লাখ সক্রিয় সিম রয়েছে। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের সিম সংখ্যা ৮ কোটি ৪৯ লাখ ৫০ হাজার। গ্রাহক সংখ্যা, রাজস্ব ও মুনাফার দিক দিয়ে গ্রামীণফোন বাংলাদেশের শীর্ষ অপারেটর। গত সপ্তাহে বিটিআরসি সেবার মান সন্তোষজনক নয় উল্লেখ করে গ্রামীণফোনের নতুন সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

এ বিষয়ে সংস্থাটির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র বলেছিলেন, সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন থাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য গ্রামীণফোনের সিম বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন সিম বিক্রি করতে পারবে না গ্রামীণফোন।

তবে বিটিআরসির সিদ্ধান্ত নিয়ে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, গ্রামীণফোন বিটিআরসি ও আন্তর্জাতিক সংস্থা আইটিইউর সেবার মানদণ্ড অনুসরণ করার পাশাপাশি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মানদণ্ড থেকেও এগিয়ে আছে। ধারাবাহিকভাবে নেটওয়ার্ক ও সেবার মানোন্নয়নে তারা বিটিআরসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং নেটওয়ার্ক আধুনিকীকরণে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।

আজও মনে পড়ে

বাবা আমার বলতেন প্রায় দেশে থাকিতে
রাস্তাঘাটে চলাফেরায় বিপদ যদি আসে
রিপোর্ট করবে সাথে সাথে পুলিশের কাছে।

বহু বছর পরে
হঠাৎ একদিন পড়েছিলাম সত্যি বিপদে।
কি করি? কাকে বলি? ভাবছি আমি বসে,
পড়ল মনে হঠাৎ তখন বাবার কথা শেষে।

সরাসরি চলে গেলাম ওসি বাবুর কাছে,
বলতে কথা ধরে মোরে ঢুকালো হাজতে।
অপরাধটি কী আমার জানতে যখন চাই?
পঞ্চাশ হাজার না দিলে কোন কথা নাই।

টাকা আমি কোথায় পাবো?
থাকিনে এই দেশে।
বলে বেটা ডলার পাউন্ড দেন যা কিছু আছে।
বুঝলে কেমনে আমার কাছে ডলার পাউন্ড আছে?
এত কথা বলার সময় নেই আমার কাছে,
আজান দিছে মসজিদে নামাজে ডাকতিছে।

বেশ কিছুক্ষণ এমন করে চলিতে লাগিল।
পুলিশের এক কর্মকর্তা আসিয়া বলিল,
বড় স্যারে কল করিছে আসেন আমার সাথে।

সন্ধ্যা এখন রাত হয়েছে, পেটে বড় খিদে,
থাকতে হবে জেলে আজ পড়েছি বিপদে।

এসপি সাহেব ক্ষমা চেয়ে বসিতে বলিল,
সঙ্গে সঙ্গে ওসিকেও তলব করিল।
মাথায় আমার প্রশ্ন তখন ঘুরপাক করিল,
ঘটনার আগাগোড়া কি করে জানিল?
আমাকেই বা কী করে সকলে চিনিলো?

ওসি সাহেব এসেই তখন হাতজোড় করিল।
এরই মাঝে হোটেলের ম্যানেজার আসিল,
যত্ন সহকারে তার হোটেলে নিয়ে গেল।
যা কিছু দরকার তার ব্যবস্থাও করিল।

হতভম্ব হয়ে গেলাম সবকিছু দেখিয়া,
বুঝিতে পারিলাম শেষে ঘটনা জানিয়া।

দেশ থেকে ফিরে আমি সুইডেনে এসে
বলেছিলাম ঘটনাটি বাবার পাশে বসে।

প্রথমে রেগে ছিলেন বাবা ঘটনা শুনিয়া,
ধীরে ধীরে শান্ত হলেন সব কিছু জানিয়া।
চোখ ভরা জলে বাবা আবেগের মাঝে
কেঁদেছিলেন কিছুক্ষণ আপ্লুত হয়ে।

গভীর ভালোবাসা দেশের প্রতি,
বেড়েছিল আরো বেশি দেখে সেই স্মৃতি।
সেদিনের সেই কথা আজও মনে জাগে,
ঘটেছিল ঘটনাটি বহু বছর আগে।

পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করিয়া,
ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ করিতে গিয়া,
বেঁচে থাকতে চাই আমরা জীবন ভরিয়া,
জীবনটি যদি আরও সুন্দর হতো
পুরনো স্মৃতিগুলোও মধুর লাগিত।