শুক্রবার ,১৫ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 211

‘ইসরাইলি কোনো লক্ষ্যবস্তুই হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের বাইরে নয়’

ইসরাইলি কোনো লক্ষ্যবস্তুই হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের বাইরে নয় বলে দাবি করেছেন লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ।

সোমবার রাতে আল-মায়াদিন টিভি চ্যানেলকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে লেবাননসহ আঞ্চলিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন।

তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ৩৩ দিনের যুদ্ধের পর থেকে এখন পর্যন্ত ইহুদিবাদী শত্রুরা এ কথা উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, লেবাননের বিরুদ্ধে যে কোনো পদক্ষেপ নিলে তার পাল্টা জবাব দেওয়া হয়।

সাইয়্যেদ নাসরুল্লাহ বলেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হয় ১৯৮৫ সালে। ওই সময় ইসরাইলি শত্রুরা লেবাননের দখলকৃত বহু এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়।

তিনি আরও বলেন, ২০০৬ সালের পর থেকে ইসরাইল প্রকাশ্যে লেবাননের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসন চালানোর সাহস দেখায়নি যদিও চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়েছে।

ভূমধ্যসাগরে লেবাননের পানিসীমায় অবস্থিত কারিশ গ্যাসক্ষেত্র থেকে ইসরাইলের গ্যাস উত্তোলনের প্রতি ইঙ্গিত করে সাইয়্যেদ নাসরুল্লাহ বলেন, লেবানন সরকার এ দেশের তেল ও গ্যাস সম্পদ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে; কাজেই এ ব্যাপারে হিজবুল্লাহকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

হিজবুল্লাহ মহাসচিব বলেন, লেবাননকে চলমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে মুক্তি দিতে তেল ও গ্যাস উত্তোলন করতেই হবে।

তিনি বলেন, হিজবুল্লাহ বহুবার হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, লেবাননের পানিসীমা থেকে যেন ইসরাইল তেল ও গ্যাস উত্তোলন না করে। কারণ সে ক্ষেত্রে হিজবুল্লাহ তার কঠিন জবাব দেবে।

হিজুবল্লাহর সামরিক শক্তি বিশেষ করে ড্রোন শক্তির প্রতি ইঙ্গত করে সাইয়্যেদ নাসরুল্লাহ বলেন, বিগত বছরগুলোতে আমাদের অনেক ড্রোন প্রায়ই ইসরাইলের অভ্যন্তরে প্রবেশ করত কিন্তু শত্রু তা টের পায়নি।

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল, আল-মানার

বিদেশে থাকা সাড়ে ১০ বিলিয়ন ডলার দ্রুত নিয়ে আসার নির্দেশ

ডলার সংকটের কারণে এই মুহূর্তে দেশ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। বর্তমানে দেড় বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স বিদেশে আটকে আছে। যেটা এখনো আনা হয়নি।

এছাড়া ব্যাংকগুলোর নস্ট্রো অ্যাকাউন্টে (বিদেশে থাকা দেশীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রায় অ্যাকাউন্ট) প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার এক্সপোর্ট প্রসিডস রিকনসিলিয়েশন হিসাবে আটকে আছে। সবমিলিয়ে ব্যাংকগুলোকে সাড়ে ১০ বিলিয়ন ডলার দ্রুত আনার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার।

এই মুহূর্তে ব্যাংকগুলো যদি বিপুল অঙ্কের এ ডলার বিদেশ থেকে না নিয়ে আসে তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংক আর ডলার সাপোর্ট দেবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম। কারণ এখন পর্যন্ত মার্কেট স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোর সাপোর্টের ওপর ভিত্তি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সোমবার বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংকে ব্যাংকার্স সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সভাপতিত্বে ডেপুটি গভর্নর, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন, বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের এমডি আতাউর রহমান প্রধানসহ ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান সিরাজুল ইসলাম।

তিনি আরও বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেশের আয়নার মতো। ব্যাংকগুলোকে ডলার দিয়ে রিজার্ভকে একেবারে তলানিতে নামিয়ে আনা সম্ভব নয়। রেমিট্যান্স আনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো যেভাবে সহযোগিতা করবে ঠিক একইভাবে রপ্তানির টাকাও ফেরত আনতে হবে। নিয়মের মধ্যে থাকলে যেকোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়ার জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ ব্যাংক। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে কোনো দায় নেবে না বাংলাদেশ ব্যাংক।

ঋণ পুনঃতফসিলের সার্কুলার সম্পর্কে মুখপাত্র বলেন, কোন গ্রাহককে পুনঃতফসিল সুবিধা দেওয়া হবে এবং কাকে দেওয়া হবে না এটার পুরোপুরি দায়িত্ব এখন ব্যাংকের ওপর। এ ধরনের কোনো দায়িত্ব এখন আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিতে চাচ্ছে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে যদি কোনো অনিয়ম ধরা পড়ে তাহলে কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। কারণ পুনঃতফসিলের অনিয়মে জিরো টলারেন্সে থাকবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই সার্কুলারের ফলে এখন থেকে ঋণ বিতরণের সবাই সতর্ক থাকবে। কারণ আগে শুধু ব্যাংককে দায়ী করা হতো। এখন ব্যক্তিকেও দায়ী করা হবে।

প্রভাব নেই দেশের বাজারে

বিশ্ববাজারে কোনো পণ্যের দাম বাড়লেই তা দেশে তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ানো হয়। যদিও বাড়তি দরের পণ্য আমদানি করে বাজারে আসতে দুই থেকে তিন মাস সময় লেগে যায়। কিন্তু দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা অপেক্ষা করেন না। দাম বাড়ার আগে কম দামে কেনা পণ্য বাড়তি দামে বিক্রি করে মুনাফা লুটে নেয়। এ যেন ব্যবস্থাপনায় অলিখিত ‘স্থায়ী সংস্কৃতিতে’ পরিণত হয়েছে। যা চলছে বছরের পর বছর। অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সরকারের তদারকি বাড়লে বাজার থেকে কৃত্রিমভাবে পণ্য উধাও করে দেওয়ারও নজির রয়েছে। ফলে ভোক্তা বাড়তি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হয়।

এভাবে ক্রেতাকে জিম্মি করে একশ্রেণির ব্যবসায়ী প্রায় প্রতিবছরই লুটে নিচ্ছে হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বিশ্ববাজারে দাম কমলে সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারে এর প্রভাব নেই। বাড়তি দামেই বিক্রি হয়। কম দামে কেনা পণ্য বাজারে আসার পরই দাম কমে ধীরে ধীরে। এই মুহূর্তেও পণ্যের দাম নিয়ে ব্যবসায়ীরা আগের কৌশলই অনুসরণ করে চলেছে। বিশ্ববাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম কমলেও দেশের বাজারে সেই অনুপাতে কমছে না। এ ব্যাপারে যেন কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। একরকম নির্বিকার কর্তৃপক্ষ-এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

সম্প্রতি প্রতি লিটারে সয়াবিন তেলের দাম ১৪ টাকা কমানোর ঘোষণা দেয় সরকার। কিন্তু খুচরা বাজারে কমেছে প্রায় এক সপ্তাহ পর। আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের দাম যেভাবে কমেছে তাতে প্রতি লিটারের দাম বাজারে ২০ টাকা কমার কথা। কিন্তু কমেনি। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর দাম স্থানীয় বাজারে বেড়ে ছিল। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বাড়তি দামে ভোজ্যতেল এনে সেগুলো রিফাইন করে বাজারে ছাড়তে কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ মাস সময় লাগার লাগার কথা। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সেই সময়টুকু অপেক্ষা না করেই তাৎক্ষণিকভাবেই দাম বাড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে চিনি, ডাল, দুধসহ আরও বেশ কিছু পণ্যের দাম কমেছে। খাদ্যপণ্য রপ্তানিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চুক্তির পর একদিন গমের দাম কমলেও পরের দিন রাশিয়া ওডেসা বন্দরে হামলা চালালে এর দাম আবার বেড়ে যায়। তারপরও আন্তর্জাতিক গমের বাজার এখন কমতির দিকে। গত ২ থেকে ৩ দিনের গমের দাম ৩ শতাংশ দাম কমেছে। গত এক মাসের হিসাবে কমেছে ১৪ শতাংশ। কিন্তু দেশের বাজারে আটার দাম ওই ভাবে কমেনি। অথচ আন্তর্জাতিক বাজার অজুহাতে দেশেও সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছিল।

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে-মে থেকে জুন মাসের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে প্রতি টন পাম অয়েলের দাম কমেছে ২১৬ ডলার। এ সময় প্রতি টন সয়াবিন তেল দাম ২১১ ডলার, চালের দাম ২০ ডলার, গমের দাম ৬৩ ডলার কমেছে। মে মাসে বিশ্ববাজারে প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হয়েছিল ৪৩ সেন্ট। যা জুনে বিক্রি হয়েছে ৪২ সেন্ট।

এদিকে বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমার ফলে দেশের বাজারেও সমন্বয় করা হয়েছে। তবে যে হারে কমেছে সে হারে সমন্বয় করা হয়নি। প্রতিলিটার সয়াবিন তেল সরকার থেকে ১৮৫ টাকা করে বিক্রির নির্দেশ দিলেও বাজারে বোতলজাত সয়াবিন এখন লিটারপ্রতি ১৯৫ টাকা।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কমোডিটি এক্সচেঞ্জ শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে হয়েছিল টনপ্রতি ১৯৫০ ডলার। গত বৃহস্পতিবার এ দর নেমে আসে টনপ্রতি ১৩১৮ ডলারে। অর্থাৎ দেশের ডলার রেট বিবেচনায় লিটারপ্রতি দাম ১২৪ টাকা। দুই মাসে দরপতন হয়েছে ৬৩২ ডলার বা ৩২ শতাংশ। যা ভোজ্যতেলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দরপতন। তারপরও দেশে বাজারে সে অনুপাতে তেলের দাম কমানো হয়নি। বিশ্ববাজারে চিনির দাম কমছে। কিন্তু দেশের বাজারে মাসের ব্যবধানে কেজিপ্রতি চিনির দাম বাড়ানো হয়েছে ২-৩ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হয়েছে ৮২-৮৫ টাকা। যা আগে ৮০-৮২ টাকা ছিল।

পাশাপাশি বিশ্ববাজারে আটার দাম কমলেও সে অনুপাতে দেশের বাজারে কমানো হয়নি। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ২ টাকা কমিয়ে প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হয়েছে ৫২ টাকা। একই অবস্থা ময়দার বাজারে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২ টাকা কমিয়ে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামও কমেছে। আগে যেখানে প্রতি ব্যারেল ১১৫ ডলার ছিল। এখন তা ৯৭ ডলারে নেমে এসেছে। এতে পণ্য পরিবহণ ব্যয়সহ জাহাজ ভাড়া কমেছে। সার্বিকভাবে আমদানিনির্ভর পণ্যের দামও কমার কথা। কিন্তু এখনো কমেনি।

এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ছয় মাস আগে ৮৬ টাকা দিয়ে ডলার কিনে এলসি খুলতে হয়েছে। এখন খুলতে হচ্ছে ১০২ টাকা দিয়ে কিনে (আমদানির আগাম ডলার বিক্রি হচ্ছে ১০২ টাকা দরে)। ৯৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে তারা ডলার পাচ্ছেন না। এছাড়া অনেক পণ্যে এলসির পুরো টাকা নগদ জমা দিতে হচ্ছে। আগে কিছু টাকা দিয়ে এলসি খোলা হতো। বাকিটা ঋণ হিসাবে দিত ব্যাংক। আমদানি করা পণ্য বিক্রি করে ব্যাংকের টাকা শোধ করা হতো। এখন সে সুযোগ নেই। ফলে আমদানির খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। যুক্তরাজ্যের ভোক্তা অধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনে পণ্যের উৎপাদন কমে গেছে। এখন যুদ্ধ থামলেও পণ্যের জোগান স্বাভাবিক আসবে না। কেননা এজন্য নতুন উৎপাদন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এ অবস্থায় অন্যান্য দেশও পণ্যে সহজে মজুত থেকে ছাড়বে না। কেননা বিশ্ব পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। গত জুনে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশে ওঠে। যা গত ৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুনে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ হয়েছে। মে মাসে ছিল ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টিই সাধারণ মানুষের বেশি ভোগান্তি হচ্ছে। রাজধানীর নয়াবাজারের মুদি বিক্রেতা মো. তুহিন বলেন, বিশ্ববাজারে দাম কমলে কী হবে, কোম্পানি বলছে এই কম দামে পণ্য আমদানি হয়ে দেশে এলে কম দামে বিক্রি করবে। যে কারণে আমরা বেশি দাম দিয়ে এনে বেশি দরেই বিক্রি করতে হচ্ছে। বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে দাম বাড়ালে এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দাম বাড়লে তো সব জায়গায় বাড়ে। এতে আমরা কী করব।

জানতে চাইলে ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, বিশ্বে বাড়লে মুহূর্তেই স্থানীয়ভাবে বেড়ে যায় দাম, কমলে এর খবর রাখে না কেউ, বিক্রি হয় বাড়তি দামেই। বিক্রেতারা সব সময় সুযোগ খোঁজে। যে কোনো অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে লাভ করতে চায়। বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেই এই সুযোগ হাতছাড়া করে না। সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়িয়ে বাজার অস্থিতিশীল করে ফেলে। কিন্তু দেখা যায় যে পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে তা আগে কম দামে আমদানি করা। কারণ বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়লে সেই পণ্য আমদানি হয়ে দেশে আসতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগে। আর এই তিন মাসে কম দামের পণ্য বেশি দামে বিক্রি করে হাজার কোটি টাকা মুনাফা করে নেয়। তবে দাম কমলে তারা সঙ্গে সঙ্গে সমন্বয় করে না। এই পরিস্থিতি থেকে ক্রেতাকে স্বস্তি দিতে হবে। দেশে একাধিক বাজার তদারকি সংস্থা আছে তাদের এই বিষয়ে কঠোরভাবে নজরদারি করতে হবে। প্রয়োজনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তাহলে কেউ এমন অপরাধ করতে সাহস পাবে না।

এদিকে গত শুক্রবার রাশিয়া-ইউক্রেন কৃষ্ণসাগর দিয়ে খাদ্যশস্য পরিবহণে রাজি হয়েছে। ফলে বিশ্বব্যাপী গমের সরবরাহ বাড়া এবং দাম কমার সম্ভাবনা দেখা দেয়। কিন্তু একদিন না যেতেই রাশিয়া ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় ও সচল বন্দর ওডেসায় হামলা করেছে। এতে পণ্যের আবার অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে মে মাসে বিভিন্ন শস্যের প্রতি টনের গড় দাম ছিল ১৬৯ ডলার। যা জুনে ১৫৭ ডলারে নেমেছে। এছাড়া খাদ্য প্রতি টনের দাম ছিল ১৪১ ডলার যা জুনে ১৪০ ডলারে নেমেছে।

রাজধানীর নয়াবাজারে পণ্য কিনতে আসা মো. জাকির বলেন, বিশ্ববাজারের দোহাই দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে দেশে পণ্যের দাম বাড়ানো হয়। বিশেষ করে ভোজ্যতেল নিয়ে কয়েকদিন আগেই কি একটা অবস্থা গেল। বিক্রেতারা বেশি দামে বিক্রির জন্য দোকান থেকে তেল উধাও করে ফেলে সংকট তৈরি করল। ক্রেতাকে জিম্মি করে বেশি দামে বিক্রি করল। পাশাপাশি প্রতিবছর পেঁয়াজ নিয়েও একই অবস্থার তৈরি হয়। কিন্তু দেখা যায় বিশ্ববাজারে দাম কমলে দেশের বাজারে দাম কমানো হয় না। উল্টো নানা ধরনের অজুহাত দেখিয়ে বেশি দরেই বিক্রি করে। দেখার যেন কেউ নেই।

জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার যুগান্তরকে বলেন, তদারকিকালে আমরাও দেখেছি বিক্রেতারা অসাধু পন্থা অবলম্বন করে। বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়ার অজুহাতে দেশে বাড়িয়ে বিক্রি শুরু করে। তখন আমরা পণ্যের কেনা দাম যাচাই করি। সেখানে অসংগতি দেখলেই আইনের আওতায় আনি। জরিমানার সঙ্গে প্রতিষ্ঠান সিলগালা করেছি। তবে এবার আমরা অসাধুদের জেলে পাঠাব। কারণ আমাদের জনবল সংকটের কারণে অসাধুরা সব সময় পার পেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সব সময় আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে ভোক্তার স্বার্থে কাজ করছি।

চায়ের দাওয়াত দিচ্ছেন, এসব স্বাভাবিক বিষয় না: রিজভী

হঠাৎ করে বিএনপিকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরম সুরে কথা বলছেন, চায়ের দাওয়াত দিচ্ছেন, এসব স্বাভাবিক বিষয় না। এর ভেতর নতুন ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

‘কার্যালয় ঘেরাও করতে এলে বিএনপিকে চা খাওয়াব’ প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, আপনার চায়ের দাওয়াত, সেই চায়ের মধ্যে কি থাকবে এটা জনগণের মধ্যে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শেখ হাসিনার সেই চায়ের দাওয়াতের মধ্যে মানুষের প্রশ্ন। যে বিরোধী দলকে ডেকে উনি কি খাওয়াবে? এর মধ্যে কি দিবে? ধুতরার ফুল থাকবে নাকি হ্যামলোকের রস থাকবে। এটা মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে।

তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ঘেরাও কর্মসূচি করলে চায়ের দাওয়াত দেব হঠাৎ আপনার গলার সুর এত নরম হলো কেন? এটাতো অদ্ভুত ব্যাপার। আপনার গলার সুর যখন ক্ষীণ হয় তখন বুঝতে হয় বিরোধীদলের উপর মনে হয় আরো কিছু ভয়ংকর নির্যাতন নেমে আসছে।

রিজভী বলেন, আপনি এর আগেও বলেছেন বিএনপিকে আপনারা মামলার কাগজগুলো পাঠান। তখন আমরা দেখেছি আরো ব্যাপকভাবে মামলা দিয়েছেন। বিএনপির যেই নেতা মারা গেছেন সেই লাশের নামে, যিনি হজ করতে গেছেন তার নামে, জেনে হাসপাতালে চিকিৎসারত আছেন তাদের নামেও মামলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, আপনি লুটপাট করছেন। আপনার রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি জনগণের টাকা। আপনার কোন মায়া-মমতা নেই। আপনার সাধারণ সম্পাদককে দিয়ে বলাচ্ছেন যে দেশে কোন সংকট নেই।

রিজভী বলেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার কি এটা জানার জন্য দেশের জনগণের কোন ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রী নেওয়ার দরকার নেই, কোন ইউনিট ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার দরকার নেই। ওবায়দুল কাদের শেখ হাসিনারা যে দৃষ্টান্ত দিয়েছেন এই দৃষ্টান্তই হচ্ছে বিরাট শিক্ষা।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনি বলে দেন। ‘৯৫-‘৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের জন্য আমরা আওয়ামী লীগ যা করেছি। এ দৃষ্টান্তের আমরা আগুন লাগাবো না মানুষ মারবো না কিন্তু আন্দোলন করে কিভাবে দাবি আদায় করতে হয় গণতন্ত্রের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে জনগণের স্বাধীনতার পক্ষে সেটা আমরা প্রতিষ্ঠা করব।

রিজভী বলেন, কাদের সাহেবরা প্রায়ই বলে থাকেন এটা সংবিধানে নেই। ‘৯৫-৯৬ সালে এটা সংবিধানের আসলো কি করে। এটার দৃষ্টান্ত তো আপনারাই দেখিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীকে আমি বলব, উনি বলছেন সংকট নেই। কিন্তু সংকট হলে এর যে পরিণতি হবে; প্রধানমন্ত্রী আপনাকে বলি আপনার সাধারণ সম্পাদকরা তখন কিন্তু আপনার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিবে। সেই শিক্ষাটাও এর আগে আমরা পেয়েছি। আপনি কোথা থেকে চাঁদা নিয়েছেন সেটা ওবায়দুল কাদের সাহেব, শেখ সেলিম সাহেব সব বলে দিয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, এমপি মন্ত্রীরা বলছেন এটা সংবিধানে নেই দেওয়া যাবে না। কি করে দেওয়া যাবে সেটা আপনাদের কাছ থেকে আমরা শিখেছি। প্রধানমন্ত্রী আপনি সাবধান থাকবেন। এই সংকটের পরিণতিতে আপনার আশেপাশের লোকেরা, আপনার যে চামচারা তারাই আপনার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিবে। কারা মেগা প্রজেক্ট এর টাকা বিদেশে পাঁচার করেছে, কারা ব্যাংকের টাকা লোপাট করেছে, উচ্চ মূল্য সুদে ঋণ নিয়ে যে পদ্মা সেতু তৈরি করেছেন। এটা করতে গিয়ে জনগণের যে টাকা হরিলুট হয়েছে এটা জনগণ জানতে চাইবেই।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম, তাঁতি দল নেতা কাজী মনিরুজ্জামান ও নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

ভিআইপি প্রথা বাতিল করতে হবে: আ স ম রব

স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, শুধুমাত্র রাষ্ট্র ব্যবস্থার অনিবার্য প্রয়োজনে ‘রাষ্ট্রপতি’ এবং ‘প্রধানমন্ত্রী’ ছাড়া সকল ভিআইপি প্রথা বাতিল করতে হবে। কথায় কথায় ভিআইপি প্রোটোকল, রাস্তাঘাটে ভিআইপি নামে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভিআইপি প্রটোকলের নামে নাগরিকদের হেনস্তা, রাজকীয় ভাবসাব এবং বাড়াবাড়ি বাংলাদেশে চিরতরে বন্ধ হওয়া উচিত। ভিআইপির যাঁতাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যতিব্যস্ত রাখা এবং অর্থ ও সময় অপচয়ের সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা উচিত।

উল্লেখ্য, ভিআইপি প্রটোকল দেওয়ার নামে একজন যুগ্ম সচিবের অপেক্ষায় প্রায় তিন ঘণ্টা ফেরি না ছাড়ায়, অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যু হয়। ভিআইপি প্রটোকলের কারণে মুমূর্ষু রোগীসহ অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখার মতো অসংখ্য অমানবিক ঘটনা ঘটছে প্রতিদিন।

একদল সুবিধাভোগী মানুষ তথাকথিত বিত্ত এবং আভিজাত্যের আড়ালে সমাজে ভয়ংকর বিভেদের দেয়াল গড়ে তুলছে যা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের সাথে কোনোক্রমেই সংগতিপূর্ণ নয়।

সোমবার প্রবাসীদের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে আলোচনা চলাকালে আ স ম আবদুর রব উপরোক্ত কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের ভোটের অধিকার দিতে হবে। পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে তাদের প্রতিনিধি থাকবে। দেশে আসার পর তারা হবে ‘সরকারি মেহমান’। সে লক্ষ্যে তাদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। যাদের প্রেরিত রেমিটেন্সের কারণে আমাদের শান শওকত ও জৌলুস নিশ্চিত হচ্ছে, তাদের প্রতি অবহেলা এবং অসম্মান কোনক্রমেই গ্রহণীয় হতে পারে না।

আ স ম রব এর উত্তরাস্থ বাসভবনে আলোচনায় অংশ নেন জার্মান প্রবাসী হারুন অর রশিদ, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মোহাম্মদ সরোয়ার ও সামছুদ্দীন আহমেদ শামীম প্রমুখ।

জয়পুরহাটের সাবেক এমপি আব্বাস আলী মণ্ডলের প্রয়াণ

জয়পুরহাট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্বাস আলী মণ্ডল ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি … রাজিউন)।

মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

তিনি ৭৫ উত্তরকালে দীর্ঘদিন জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০০ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে মাত্র ৬৩ ভোটে পরাজিত হন, ২০০১ সালেও নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করেন।

তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। তিনি দুই ছেলে, তিন মেয়ে রেখে গেছেন।

মঙ্গলবার বাদ আসর জয়পুরহাট কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে তার প্রথম জানাজা এবং বাদ মাগরিব নিজ গ্রাম বিল্লাতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

আব্বাস আলীর কনিষ্ঠ ছেলে আরিফুর রহমান রকেট বর্তমানে জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। তার জামাতা শহীদুজ্জামান সরকার জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ছিলেন। বর্তমানে তিনি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি।

হুইপ স্বপনের শোক

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন জয়পুরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলী মণ্ডলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

শোকবার্তায় তিনি বলেন, আব্বাস আলী মণ্ডল জয়পুরহাটের দলমত নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক নেতাকর্মীর কাছে অভিভাবকতুল্য ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি ছিলেন। আজন্ম নীতিবান এই অজাতশত্রু রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুতে জয়পুরহাটে এক চরম শূন্যতার সৃষ্টি হবে।

বিবৃতিতে তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যবর্গ, সহকর্মী, আত্মীয়স্বজন ও অগণিত শুভানুধ্যায়ীর প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

বিমানের ময়লার ট্রলিতে মিলল ১০ সোনার বার

বিমানের আবর্জনার ট্রলিতে মিলল ১০টি সোনার বার। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মঙ্গলবার সকাল ৮টায় এই সোনা উদ্ধার করা হয়। কাতারের দোহা ফেরত বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটের আবর্জনার ট্রলি স্ক্যান করে কোটি টাকার এসব বার উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার সোনার বাজার মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা বলে জানায় কাস্টমস।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা নাজাসি পারভেজ। তিনি বলেন, ‘উদ্ধার সোনার ওজন এক কেজি ১৬০ গ্রাম। এ সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।’

রাজস্ব কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে গোপন তথ্য ছিলে ফ্লাইটে করে সোনা আসছে। সেজন্য আগে থেকেই সর্তক ছিলাম। বিমান অবতরণের পরই যাত্রীদের তল্লাশি করি, কিন্তু সোনা পাইনি। যাত্রীরা বেরিয়ে যাওয়ার পর বিমানের ময়লার ঝুড়ি স্ক্যান করে দশটি সোনার বার উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বেপরোয়া অপরাধীচক্র

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপরাধীচক্র গড়ে উঠেছে। এই চক্র নারী নির্যাতন, চুরি, ছিনতাই চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িত। চক্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের পাশাপাশি বহিরাগতরাও রয়েছে।

কেবল ক্যাম্পাসে নয়; বিভিন্ন হোস্টেলেও তারা আস্তানা গড়ে তুলেছে। এমন একটি অপরাধীচক্রের নেতৃত্বে দিচ্ছেন চবি ছাত্র মো. আজিম। তার নেতৃত্বে চবিতে সর্বশেষ ছাত্রী হেনস্তা ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয়। এতে অংশ নেন আজিমসহ ৬ জন। যাদের মধ্যে ৫ জন র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়ে এখন কারাগারে।

এদিকে এই ছয়জনের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে এবং প্রশাসনের বিভিন্ন লোকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রেফতার ছাত্ররা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের অনুসারী। আর রুবেল শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসাবে পরিচিত।

অভিযোগ আছে, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকায় তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনও অনেক সময় ব্যবস্থা নিতে পারে না।

আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তি নিজেদের অবস্থান ঠিক রাখতে, অপকর্ম আড়াল করতে এই চক্রকে আর্থিকসহ নানা সুবিধা দিয়ে থাকে। যে কারণে দিনদিন অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এর খেসারত দিচ্ছেন সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

ছাত্রী হেনস্তা ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের নেপথ্যে : ১৭ জুলাই রাতে চবিতে ছাত্রী হেনস্তার ঘটনার নেপথ্যে কিছু কারণ জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চবি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যে ছাত্রীটি হেনস্তার শিকার হয়েছেন, তাকে প্রেমের প্রস্তাবসহ নানা কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন চবি ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেল।

কিন্তু তার প্রস্তাবে সাড়া দেননি ওই ছাত্রী। মূলত এ কারণে ছাত্রীর ওপর অসন্তুষ্ট ও ক্ষিপ্ত ছিলেন রুবেল। ওই ছাত্রীর সঙ্গে চীনের জিয়াংঝু বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি এক ছাত্রের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে।

ওই ছাত্র দেশে আসার পর চবি ক্যাম্পাসে আসেন প্রেমিকার (ছাত্রী) সঙ্গে দেখা করার জন্য। বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হন রুবেল। তার (রুবেলের) অনুসারীরা ক্যাম্পাসের বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকায় ছাত্রীর পথরোধ করে তার প্রেমিককে মারধর করে।

শুধু তাই নয়, ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে তারা। এমন ন্যক্কারজনক ও লজ্জানক ঘটনায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েন ছাত্রী। পরদিন ওই ছাত্রী বিষয়টি চবি প্রশাসনকে জানাতে গেলে রুবেল পথরোধ করে হুমকিধমকি দেন।

ঘটনার চার দিন পর ছাত্রী অজ্ঞাতনামা ৫ জনের বিরুদ্ধে হাটহাজারী থানায় নারী নির্যাতন আইনে মামলা করেন। যদিও র‌্যাব বলছে, ৫ জনের নামে মামলা দায়ের করা হলেও তাদের তদন্তে ৬ জনের নাম এসেছে। এর মধ্যে ৫ জনকেই তারা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন। ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত নয়। তাৎক্ষণিক।

অপরাধী চক্রের ৬ জনের কার কী পরিচয় : আজিমের নেতৃত্বাধীন অপরাধী চক্রের যে ৫ সদস্য গ্রেফতার হয়েছে তাদের বিষয়ে র‌্যাব বলছে, ছাত্রী হেনস্তার ঘটনার আগেও এদের কেউ কেউ ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময় নানা অপকর্ম করেছে। তাদের সবাই নিজেদের ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত বলেও দাবি করেছে।

একাধিক শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চবিতে ছাত্রী হেনস্তায় জড়িত আজিম এই চক্রের মূল হোতা হলেও এ ঘটনার ‘মাস্টারমাইন্ড’ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও বগিভিত্তিক সিএফসি সংগঠনের নেতা রেজাউল হক রুবেল।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে নিয়ে আপস-মীমাংসার নানা চেষ্টা করেছিলেন তিনি। চবি ছাত্রলীগ সভাপতির ক্ষমতার এমন অপব্যবহারের বিষয়টি জানাজানি হলে কেন্দ্র থেকে ‘শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ’ এনে তাকে শোকজ করা হয়। এরপর ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ জমা দেন। থানায় মামলা করেন।

এদিকে চুরি, ছিনতাই, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা এবং বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে আজিমের বিরুদ্ধে। তার বাবার নাম মো. আমির হোসেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী।

আজিম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগেই ২০২০ সালে ছিনতাই ও বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে জেলও খাটেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন বা পুকুরপাড় এলাকায় ছাত্রীরা বসলেই অশ্লীল মন্তব্য করতেন আজিম।

তার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গড়ে ওঠে অপরাধীচক্র। বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগ ২য় বর্ষের ছাত্র আজিম বগিভিত্তিক সংগঠন সিএফসির অন্যতম সদস্য। শনিবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে বোর্ড অব হেলথ, রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি কমিটির বিশেষ সভায় আজিমকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

আজীবনের জন্য বহিষ্কার হওয়া দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে অপরজন হলেন নুরুল আবছার বাবু। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। বাবা বেলায়েত হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরে চাকরি করেন। গ্রামের বাড়ি ফেনীর পরশুরাম বেড়াবাড়ি এলাকায়।

ছাত্রী হেনস্তায় অভিযুক্ত অপর তিনজন হলেন হাটহাজারীর ফতেপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জাবেদ হোসেনের ছেলে নুর হোসেন শাওন, ঝালকাঠির আশিয়ার এলাকার আবদুল মান্নানের ছেলে মাসুদ রানা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখায় কর্মরত শামসুল গাজীর ছেলে সাইফুল ইসলাম।

সাইফুলের বাড়ি চাঁদপুর জেলায়। সে হাটহাজারী কলেজের সাবেক ছাত্র। তারা স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে আজিমের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অপরাধজগতে পা বাড়ায়। ছাত্রী হেনস্তার ঘটনায় এই পাঁচজন ছাড়াও আরও একজন রয়েছেন বলে র‌্যাব জানিয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের প্রভোস্ট নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনেক সময় হলে বহিরাগতরা আস্তানা গড়ে তোলে। মাদকসেবন থেকে শুরু করে নানা অপকর্ম করে। টেন্ডারবাজি চাঁদাবাজির সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ে কেউ কেউ।

তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হলেও দেখা যায় হলে অভিযান চালানোর অনুমতি দেয় না কর্তৃপক্ষ। মূলত এ কারণে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

ওই প্রভোস্ট আরও জানান, ক্ষেত্রবিশেষে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা অপরাধীদের অনৈতিক সুবিধা দেয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অসাধু ব্যক্তিরা।

যার খেসারত দিতে হচ্ছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের। ছাত্রী হেনস্তার ঘটনায় চবি ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সব ধরনের অভিযোগই তিনি উড়িয়ে দেন।

রোববার তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘চবিতে যৌন হেনস্তার শিকার শিক্ষার্থীকে অভিযোগ দিতে বাধা দেওয়া নয়; চবি ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিতে দেরি করায় কেন্দ্র থেকে শোকজ করা হয়। কমিটি জমা দিতে নির্ধারিত কোনো সময় দেওয়া না হলেও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু জমা দেওয়ায় আমাকে শোকজ করা হয়।’

গ্রেফতার হওয়া আজিম ছাত্রলীগের কোনো কর্মী নয় দাবি করে রুবেল বলেন, ‘সে বিশ্ববিদ্যালয়ের বগিভিত্তিক সংগঠন সিএফসির সদস্য। এসব বগিভিত্তিক সংগঠন কেন্দ্র থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এরপরও এ বিষয়ে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের প্রবেশ এবং তার গ্রুপের ছত্রছায়ায় থেকে অপকর্ম করার অভিযোগ সম্পর্কে ছাত্রলীগের সভাপতি বলেন, ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ ঠেকানো আমার একার পক্ষে সম্ভব না।

৭ দিনের রিমান্ড আবেদন পুলিশের : পাঁচ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে রোববার আদালতে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে হাটহাজারী থানা পুলিশ। আদালত মঙ্গলবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাটহাজারী থানার ওসি রুহুল আমিন।

যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদে শাবিতে মানববন্ধন : শাবি প্রতিনিধি জানান, চবি ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় তারা বলেন, বহিষ্কারই চূড়ান্ত সমাধান নয়। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

বিদেশে পিএইচডি গবেষণায় বড় বিনিয়োগে ইউজিসি

উচ্চতর শিক্ষায় বড় বিনিয়োগে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষক বিদেশে পিএইচডি ডিগ্রি করতে যেতে চান, তাদের পেছনে এই বিনিয়োগ করা হবে। ইউরোপ, আমেরিকা, ওশেনিয়া মহাদেশ-এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতে উল্লিখিত ডিগ্রি করতে গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক এই আর্থিক সহায়তা পাবেন। এটি ‘বৃত্তি’ হিসাবে দেওয়া হবে। অনেকটা বিনা শর্তেই অর্থায়ন করা হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ। বৃহস্পতিবার আলাপকালে তিনি যুগান্তরকে বলেন, একজন ভালো গবেষক তৈরির পূর্বশর্ত হচ্ছে তাকে পিএইচডির মতো উচ্চতর শিক্ষায় শিক্ষিত করা। মূলত পিএইচডির মাধ্যমে একজন ব্যক্তির গবেষণায় হাতেখড়ি হয়। তাই মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয়ে ও বিশ্বখ্যাত গবেষকের অধীনে নামকরা ল্যাবে কাজ করে কেউ দেশে ফিরে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজে মনোনিবেশ করলে তার মাধ্যমে আরও ভালো গবেষক তৈরি ও জ্ঞানের নতুন দিক উন্মোচন হওয়া সম্ভব। এ লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পিএইচডি ডিগ্রির জন্য বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দামি বৃত্তিটি বাংলাদেশে দেওয়া হয়ে থাকে। এর নাম প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ। এর অধীনে একজন গবেষক প্রায় ২ কোটি টাকা পেয়ে থাকেন। আমরা ধারণা করছি, ওই ফেলোশিপের পরই দ্বিতীয় মূল্যমানের বৃত্তি হবে এটি। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য ইউজিসির বৈদেশিক পিএইচডি বৃত্তি (স্কলারশিপ)’। চলতি বছর থেকেই এই বৃত্তি প্রদানের লক্ষ্য আছে সংস্থাটির। এ খাতে প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে।

ইতোমধ্যে ইউজিসি প্রস্তাবিত বৃত্তির নীতিমালা তৈরি করেছে। এ সংক্রান্ত নীতিমালা বৃহস্পতিবারই চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ীভাবে শিক্ষকরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। অর্থাৎ, যোগদানের পর চাকরি স্থায়ী হওয়া বা ২ বছর পার করতে হবে। স্কলারশিপ দেওয়া হবে তিন বছরের জন্য। কিন্তু চার বছরের মধ্যে ডিগ্রি শেষ করতে হবে।

গবেষকের বয়স হতে হবে ৪০ বছরের মধ্যে। সেই হিসাবে কেবল প্রভাষক থেকে সহযোগী অধ্যাপকরা আবেদন করতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে। নীতিমালা অনুযায়ী, যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েই ভর্তি হলে এই বৃত্তি পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে ৩০০-এর মধ্যে থাকতে হবে। ডিগ্রি শেষ করার পর দেশে ফিরে আসতে হবে। কেউ যদি কোনো কারণে চাকরি করতে না চান, তাহলে তিনি দেশে ফিরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে চার বছর চাকরি করে অন্যত্র যেতে পারবেন। নতুবা গৃহীত সমুদয় অর্থ (বৃত্তি এবং নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতনভাতা) ১০ শতাংশ লাভসহ ফেরত দিতে হবে। কোর্স চলাকালীন দেশে এসে ১৫ দিনের বেশি থাকলে ইউজিসিকে জানাতে হবে।

বর্তমানে সবচেয়ে দামি যে ‘প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ’ দেওয়া হয়, সেটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট থেকে পরিচালিত হচ্ছে। তবে এর জন্য গবেষক নির্বাচনসহ সাচিবিক কাজটি করে থাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এর অধীনে পিএইচডি ও মাস্টার্সে পড়তে অনলাইনে আবেদন নিয়ে বৃত্তি দেওয়া হয়। আবেদনকারীকে ‘দ্য টাইম হায়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি ওভারঅল র‌্যাংকিং’ অনুযায়ী মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য ১ থেকে ২০০ এবং পিএইচডির জন্য ১ থেকে ১০০-এর মধ্যে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অফার লেটার থাকতে হবে। আইইএলটিএসে ৬.৫ কিংবা টোয়েফলে ৮০ পেতে হয়। সোশ্যাল প্রটেকশন, এডুকেশন, উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট, পাবলিক হেলথ, ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইকোনমিকস, পাবলিক সেক্টর ম্যানেজমেন্ট, লিগ্যাল অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি, ডিপ্লোম্যাসি, অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড সিকিউরিটি, অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেস-এসব বিষয়ে অর্থায়ন করা হয়। এই ফেলোশিপ থেকে সম্পূর্ণ টিউশন ফি, জীবনভাতা (নির্ধারিত হারে মাস্টার্সের জন্য সর্বোচ্চ ১৮ মাস এবং পিএইচডির জন্য সর্বোচ্চ ৪৮ মাস), স্বাস্থ্যবিমা ভাতা, এককালীন সংস্থাপন ভাতা, এককালীন শিক্ষা উপকরণ ভাতা, তৃতীয় দেশে একটি সেমিনারে অংশগ্রহণ ব্যয় দেওয়া হয়।

ড. বিশ্বজিৎ চন্দ্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপে যেসব খাতে গবেষককে অর্থায়ন করা হয়, ইউজিসিও সেসব খাতে অর্থ দেবে। তবে দেশ অনুযায়ী জীবনযাত্রার ব্যয় একই রকম হয় না। এ কারণে কত টাকা দেওয়া হবে, সেটা নির্ধারিত হয়। আর এ কারণে বরাদ্দকৃত ১০ কোটি টাকায় কতটি বৃত্তি দেওয়া হবে-তাও বলা যাচ্ছে না। প্রাপ্ত আবেদন থেকে নির্বাচিতদের ব্যয়মাত্রা হিসাব করে বৃত্তি সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে এ খাতে বরাদ্দ আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।

সাপোজিটোরি ব্যবহারের নিয়ম

যখন কারও জ্বর বা ব্যথা দ্রুত কমাতে চাই বা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে চাই, তখন আমরা সাধারণত সাপোজিটোরি ব্যবহার করে থাকি। পায়খানার রাস্তার আশপাশে রক্তনালি বেশি থাকে। ফলে সাপোজিটোরি দ্রত রক্তে মিশে কাজ করতে পারে এবং জ্বর বা ব্যথা দ্রুত কমাতে পারে।

* জ্বর সাধারণত ১০২ ডিগ্রির ওপরে না গেলে সাপোজিটোরি দেবেন না।

* প্রথমেই সাপোজিটোরি না দিয়ে মুখে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিন। ১ ঘণ্টা পর যদি জ্বর না কমে বরং ১০২ ডিগ্রির বেশি হয়ে যায়, তখন সাপোজিটোরি ব্যবহার করুন।

* দিনে তিনটির বেশি সাপোজিটোরি ব্যবহার করা উচিত নয়।

জ্বর হলেই ইচ্ছামতো অ্যান্টিবায়োটিক না খেয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।