মঙ্গলবার ,১২ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 198

জেল হত্যা ইতিহাসের আরেক বর্বরোচিত ঘটনা

বাঙালি জাতির ইতিহাসে আরেকটি কলঙ্কিত অধ্যায়ের নাম জেল হত্যাকাণ্ড। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ স্থান কারাগারের অভ্যন্তরে বিনাবিচারে ও বর্বরোচিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়।

বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) সেই কলঙ্কিত দিন, জেল হত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা বিরোধী দেশি-বিদেশি চক্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের সঙ্গে হত্যা করে। এর কিছুদিন পরই ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ইতিহাসের আরেকটি বর্বর হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। বাংলাদেশকে নেতৃত্ব শূন্য করতে হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোদ্ধা জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন মুনসুর আলী ও এ. এইচ এম কামারুজ্জামানকে।

বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে যারা মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন, সেই জাতীয় চার নেতাকে কারাঅভ্যন্তরে গুলি করে ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে থেকে এই জাতীয় চার নেতা ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণার পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। ওই সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী ক্যাপ্টেন মুনসুর আলী, খাদ্য ও ত্রাণমন্ত্রী এ এইচ এম কামারুজ্জামান। সেই সরকারের নেতৃত্বে দীর্ঘ ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জিত হয়।

শুধু মুক্তিযুদ্ধ নয়, সব আন্দোলন-সংগ্রামে এই চার নেতা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকেছেন। বিভিন্ন সময় বঙ্গবন্ধু যখন কারাগারের বন্দি ছিলেন, তখন আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়ে এই চার নেতা আন্দলন-সংগ্রামকে এগিয়ে নেন।

ঘাতক চক্রের লক্ষ্য ছিল বাঙালিকে নেতৃতৃ¦ শূন্য করে বাংলাদেশকে পুনরায় পাকিস্তানের পদানত করে মুক্তিযুদ্ধের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়া। এর কারণে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানে আটক করে রাখার পর যে চার নেতা তার হয়ে যোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনেন, তাদেরও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

মানবতাবোধের চরম নির্মমতা ও নিষ্ঠুরতার সাক্ষী হচ্ছে ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস। দেশের আপামর জনতা যাদের নেতৃত্বে ও নির্দেশে এদেশের মুক্তির সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে মাত্র নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে স্বাধীন করেছিল, যারা মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিব নগর সরকারের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করে এদেশের জনগণকে একত্রিত করে ও দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে বেগবান করে বিজয়ের পতাকা উচিয়ে ধরেছিল, সেই জাতীয় চার নেতাকে চরম নির্মমভাবে কারা অভ্যন্তরে রাতের অন্ধকারে হত্যা করা হয়।

 

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পাকিস্তান দলে বড় দুঃসংবাদ

এমনিতেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ঝুলছে সুতোয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারলেই বিদায়ঘণ্টা বেজে যাবে পাকিস্তানের। এই সময়ই কিনা এলো বড় দুঃসংবাদ! হাঁটুর চোটে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে পাকিস্তানের টপ অর্ডার ব্যাটার ফখর জামানের।

বৃহস্পতিবার ৩ নভেম্বর গ্রুপ পর্বের চতুর্থ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামবে পাকিস্তান। সিডনির এই ম্যাচ হারলেই সেমিফাইনালের আশা শেষ বাবর আজমদের। তার আগেই এসেছে খারাপ খবর। অবশ্য ফখর চোট নিয়েই এসেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপে। তারপরও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আগের ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন। সেখানেই ঘটে বিপত্তি! হাঁটুর পুরনো চোট আরও জেঁকে বসেছে। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ তো বটেই, বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ ম্যাচেও খেলা হচ্ছে না ফখরের।

এই চোটের কারণেই শুরুতে পাকিস্তানের ১৫ জনের চূড়ান্ত দলে ছিলেন না বাঁহাতি ব্যাটার। পরবর্তীতে লেগ স্পিনার উসমান কাদিরের জায়গায় যোগ দেন তিনি। কিন্তু স্কোয়াডে থাকলেও ভারত ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দুটিতে খেলতে পারেননি। মাঠে ফেরেন নেদারল্যান্ডস ম্যাচ দিয়ে। পাকিস্তানের জয়ে ফেরা ম্যাচটিতে ১৬ বলে ২০ রান করেছিলেন ফখর।

কিন্তু হাঁটুর সমস্যাটা বেড়ে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এক ম্যাচেই শেষ ফখরের পথচলা। তার জায়গায় বদলি খেলোয়াড়ের নামও চূড়ান্ত করেছে পাকিস্তান। আইসিসির টেকনিক্যাল কমিটির কাছ থেকে অনুমোদন নিয়ে শেষ দুই ম্যাচের জন্য তারা স্কোয়াডে যোগ করেছে ব্যাটার মোহাম্মদ হারিসকে।

 

বাসাইলে ৩ বছরেও শেষ হয়নি ভবন নির্মাণের কাজ

টাঙ্গাইলের বাসাইলে একটি বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। ফলে চরম অস্বস্তিতে দোকানঘরে চলছে পাঠদান। দোকান ঘেঁষে মানুষের আনাঘোনা ও শব্দে পড়াশোনায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে শিক্ষার্থীদের দাবি।
জানা যায়, ২০১৯ সালের শেষের দিকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় জেলার বাসাইল উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের ডুমনিবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি ভবন নির্মাণের জন্য প্রায় ৬৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। ট্রেন্ডারের মাধ্যমে একতলা বিশিষ্ট ভবনটির নির্মাণের কাজ পায় কাজী ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ৩০০ দিনের মধ্য এই কাজটি শেষ করার কথা থাকলেও প্রায় তিন বছর অতিবাহিত হলেও এখনও কাজটি শেষ হয়নি। এই তিন বছরে শুধু মাত্র করা হয়েছে বেজ ঢালাই। বর্তমানে কাজটি বন্ধ রেখেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

এদিকে, ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার আগে সেখানে থাকা পুরোনো টিনের ঘরটি ভেঙে ফেলা হয়। এজন্য এই দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের পাশে একটি ও বাজারের পাশে অপর আরেকটি দোকানঘর ভাড়া নিয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে। ছোট দুইটি টিন সেটের রুমে গা ঘেঁষে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা করানো হচ্ছে। একটির পাশের রুমে সিমেন্টের দোকান ও অপর আরেকটির পাশে দোকান ও বাজার। মানুষের আনাঘোনা ও বাজারের বিভিন্ন মেশিনের শব্দের কারণে পড়াশোনা করতে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। তারা দ্রুত ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।

৭ম শ্রেণির ছাত্রী রুমি আক্তার জানায়, নতুন ভবন করার জন্য আমাদের আগের টিনের ঘরটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এরপর থেকে দোকানঘরে পাঠদান চলছে। পাশেই সিমেন্টের দোকান রয়েছে। পাশের দোকান থেকে সিমেন্ট বের করার সময় অনেক ময়লা আসে। দোকানের সার্টার খুলতেই অনেক শব্দ হয়। আর এখানে অনেক গরম। একটি রুমে ৪২জন ছাত্র-ছাত্রী গাদাগাদি করে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। ক্লাসে অনেক শব্দ হয়। এসে করে আমাদের পড়াশোনায় অনেক বেঘাত ঘটছে। তিন বছরেও ভবন নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। কবে যে আমরা নতুন ভবনে বসে ক্লাস করতে পারবো, জানি না।’

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তার সেতু জানায়, ‘রাস্তা ও বাজার ঘেঁষে রুমটি রয়েছে। এখানে প্রচ- গরম ও শব্দ। মানুষ ও বিভিন্ন মেশিনের শব্দে আমাদের লেখাপড়ায় অনেক সমস্যা হয়। এখানে মন দিয়ে ভালোভাবে পড়তে পারি না। এটা একটি ক্লাস রুমের পরিবেশ হয়নি। এখান দিয়ে অনেক মানুষ যাতায়াত করে এজন্য সমস্যা হচ্ছে। আমাদের মন অন্য দিকে চলে যায়।’

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আলেয়া আক্তার বলেন, ‘বিদ্যালয়ের নতুন ভবন তৈরির জন্য আমাদের আগের টিনের ঘরটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর থেকে দোকানঘর ভাড়া নিয়ে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

বিদ্যালয়ের সহকারী আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘শুনেছি আগে যিনি ঠিকাদার ছিলেন, তিনি কাজটি অন্যজনকে দিয়েছেন। ভবনটির শুধু মাত্র বেজ ঢালাই করা হয়েছে। এরপর থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে। কাজ শুরুর সময় সেখানে থাকা টিনের ঘরটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর আমরা ক্লাস সংকটে পড়ি। এজন্য দুইটি রুম ভাড়া নিয়ে ক্লাস নিচ্ছি।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৯ সালে কাজটির ট্রেন্ডার হয়। এরপর ভবনটির কাজ শুরু হওয়ার কিছুদিন পর বন্ধ হয়ে যায়। এখনও কাজ বন্ধ রয়েছে। টিনের ঘরটি ভেঙে ফেলার পর থেকে দুইটি রুম ভাড়া নিয়ে ক্লাস চলছে। শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত ভবনটি নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’

ভবনটির ঠিকাদার কাজী সুমন বলেন, ‘আমরা যারা ঠিকাদার তারা দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছি। এখন সব নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের রেডে কাজ করা কঠিন। একটি বেজ তৈরি করলেও ১৫-২০ লাখ টাকা খরচ হয়। বেজ ঢালাইয়ের পর বিল পেয়েছে মাত্র দেড় লাখ টাকা। অফিস থেকে তো ১০ লাখ টাকা দিতে পারতেন, কিন্তু তারা বললো- ফান্ডে টাকা নেই।’

টাঙ্গাইলের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের এসিস্ট্যান্ট প্রকৌশলী শাহরিয়ার বলেন, ‘দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর আমরা তাদের পেমেন্ট বন্ধ করে দিয়েছি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকায় রাখা হয়েছে। কাজটি ৩০০ দিনের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। দ্রুতই কাজটি শুরু করা হবে।’

 

চিরকুমার-কুমারি ভাইবোনের রহস্যঘেরা জীবন!

চারিদিকে প্রকৃতির সমারোহ। গণপ্রকৃতির মাঝে পাখিদের কিচির মিচির কোলাহল। আশপাশেও যেন শুনশান নীরবতা। মানুষের আনাগোনা না থাকায় পাখিগুলো যেন উন্মাদনায় ব্যস্ত। প্রকৃতিও যেন আপন রূপে রুপান্তিত হয়েছে। গণপ্রকৃতি যেন কিছুটা ঘন জঙ্গলের মতো। প্রকৃতির উন্মাদনায় মধ্যে খানিকটা ভীতিও ছড়াবে। ঝোপ-জঙ্গলে দেখা মেলে অচেনা কিছু পাখিদের, কুকুর-শিয়াল-সাপ সবকিছুরই দেখা মিলবে সেখানে, জমজমাট আসর বসায় অতিথি পাখিরাও।

পরিবেশটা যেন অনেকটা আশ্চর্য ও ভূতুরে ব্যাপার। এমন পরিবেশ দেখে গা ছমছম করলেও এর মাঝেই বাস আকাশ কলি দাস ও তার বোন ঝর্ণা দাসের। চারিদিকে ঘন জঙ্গলে ঘেরা আর তার মাঝখানেই ভাই-বোনের মাথাগোঁজার ঠাঁই। সাড়ে ৬ বিঘার জায়গাতে চার চালা ঘরটিও দুই শত বছরের পূরণো। আরেকটি ছোট দুইচালা ঘরে চলে ভাই-বোনের রান্নাসহ আনুসঙ্গিক কাজ। পাশে দুইটি গোয়াল ঘরও রয়েছে। বাড়ি-ঘরে ইট-পাথরে কোনও ছোয়া নেই।

পাবনার বেড়া উপজেলার কৈটোলা গ্রামে ভাই-বোনের এমন জীবনযাপন নানা রহস্যে ঘেরা। দুইজনই বিয়ে করেননি। ভাই আকাশ কলি দাসের বয়স ৮৬ বছর, আর বোন ঝর্ণা দাসের বয়স ৬১ বছর। ৫ ভাইবোনদের মধ্যে তারা দুইজন ছাড়া আত্মীয়-স্বজন সবাই ভারতে। কেউ সিলিগুড়ি কেউবা মুর্শিদাবাদ থাকেন। এখানে নিকট আত্মীয় বলতে তাদের কেউ নেই। ভাই আকাশের দেখা মিললেও সহজেই বোনের দেখা পান প্রতিবেশিরাও। দেখেই বোঝা যায়- বয়সের ভারের সঙ্গে পারকিনসন্সেও আক্রান্ত আকাশ কলি দাস। অনবরত চলে হাত-পা কাঁপুনি।

বাবা চন্দ্র কুমার দাস পাবনার নগরবাড়ির শ্রী নিবাস দিয়ার জমিদার বাড়ির নায়েব ছিলেন। ১৬-১৭ বছর বয়সে বাবার মৃত্যু হলে সংসারের হাল ধরেন। তিন ভাই-তিন বোনের সংসারে তিনিই অভিভাবক ছিলেন। ছোট বেলাতেই এক ভাইয়ের মৃত্যু হয়। বাকি একভাই ও দুইবোনকে স্বাধীনতার আগেই ভারতে বিয়ে দেন। বিয়ের পর তাদের মধ্যে আজও পর্যন্ত দেখা হয়নি।

সাদা-মাটা জীবন
চাহিদা, ইচ্ছা, খাবার, ভ্রমণসহ সব কিছুতেই তাদের জীবন রহস্য ঘেরা। বসতভিটায় সাড়ে ৬ বিঘার সম্পত্তির পাশাপাশি মাঠেও রয়েছে অর্ধ শতাধিক বিঘা জমি। এমন অঘেল সম্পদের মালিক হলেও দুইজনের দিনযাপন একেবারেও সাদা-মাটা। বাড়িতে তারা দুইজন একাই থাকেন। সম্পত্তি নিয়ে তার কোনও চিন্তা নেই। তাদের চিন্তা- তারা এসেছেন একা- যাবেন একা। তারা সম্পত্তি নিয়ে আসেন, তাই সম্পত্তি নিয়েও যাবেন না। তাদের মৃত্যুর পর যার কপালে সম্পত্তি রয়েছে, তিনিই পাবেন। গরু ও মাঠের কাজে জন্য রাখাল ও শ্রমিকদের রাখলেও তারা দিনের আলোতেই বাড়ি ফিরে যায়। ঝড়-বৃষ্টির মাঝেও দুই ভাই-বোনের চিন্তাহীন জীবন। অসুখ-বিসুখও তাদের তেমন একটা হয় না বললেই চলে।

আদর্শ লালন করেন তাই জনপ্রকাশ্যে আসুক এমন কিছু বলতে ও করতে নারাজ। সম্প্রতি তার দুই একটা সাক্ষাৎকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় অনুশোচনা হয় তার। নতুন করে তাকে কেউ চিনুন এমনটা তিনি চান না। তাই সরাসরি সাক্ষাৎকার না দিলেও খোঁশকল্পে জানা গেল রহস্যঘেরা জীবনের খুব সামান্য অংশই।

বিয়ে রহস্য
আকাশ কলি দাসের দাবি- ঠিক কি কারণে তিনি বিয়ে করেননি তা তিনি জানেন না। আর বোন কি কারণে বিয়ে করেননি তাও জানে না! তবে সংসার জীবন পছন্দ হলেও ভাই-বোনদের বিয়ে ও দায়িত্ব নেয়ার কারণে বিয়ে করা হয়নি -এমনটা দাবি করলেও কথার মাঝে রহস্য লুকিয়ে রয়েছে। তবে বোনকে প্রথমে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলেও পরে রাজি না হওয়ায় তাকেও আর বিয়ে দেননি। নিরিবিলি জীবন কাটাতে তিনি বেশি সাচ্ছন্নবোধ করেন। এভাবে দুই ভাইবোনের চির কুমার-কুমারি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া।

একাকিত্বই তাদের ভালো লাগে। বোন ঝর্ণা দাস বেশির ভাগ সময় বই পড়ে সময় কাটান। ভাই আকাশ কলি দাস বইয়ের পাশাপাশি পশু-পাখি ও প্রকৃতির মাঝে সময় কাটান। তার একাকিত্বের কিছু সময় লাঘব করেন এই পশু-পাখি ও প্রকৃতি। লক্ষ্যবিহীন জীবন কাণ্ডারিবিহীন নৌকার মতো জীবন কাটিয়েই পার করতে চান।

পশুপাখি ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা
ভাই-বোনের পশুপাখি ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসাও সবাইকে মুগ্ধ করেছে। সাড়ে ৬ বিঘার বসতভিটার পুরোটাই পাখিদের জন্য তিনি মুক্ত করে দিয়েছেন। ফলে জায়গাটি সরকারের পক্ষ থেকে পাখির অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। ইট-পাথরের নগরায়ণের ফলে পাখিরা যখন আপন নিবাস হারাচ্ছেন ঠিক তখন আশ্রয় নেয়া পাখিদের নিরাপদে থাকার জন্য নিজের বসত ভিটাই মুক্ত করে দিয়েছেন তিনি। কেউ সেখানে পাখি শিকারের চেষ্টা করলেও শক্তভাবে প্রতিরোধ করেন তিনি।

তার দাবি- পাখি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। ফসল উৎপাদনেও অবদান রাখে। কিন্তু মানুষ এই পাখিগুলোকে নির্বিচারে হত্যা করছে। শিক্ষিত ও ধনীরা পাখিগুলোর উচ্চ মূল্যে কিনে খান বলেই অনেকে পাখি শিকার করতে উৎসাহী হোন। আমাদের দেশে যত পাখি আসে সব পাখি ফিরে যায় না। তাদেরকে হত্যা করা না হলে আমাদের দেশেও সারা বছরই এমন পাখিদের বসবাস থাকতো।

আকাশ কলি আগলে রেখেছেন শত বছরের পুরণো একটা লতা গাছ। তার দাবি- গাছটির নাম কেউ জানেন না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানের প্রফেসর মনিরুল ইসলাম খান এসেছিলেন এই গাছ দেখতে তিনি সেই গাছের নাম দিতে পারেননি। এছাড়াও জার্মানি ও লন্ডনসহ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিকরা এসেছিলেন তারাও এই গাছটির নাম জানাতে পারেননি।

দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা
ভাইবোন ভারতে পারি দিলেও দেশের প্রতি ও দেশের মানুষের প্রতি ভালোয় এক সেকেন্ডের জন্যও তিনি বাংলাদেশ ছাড়েননি। ভাইবোনদের অনুরোধেও কখনও ভারতে যাওয়া হয়নি। ফলে ভাইবোনদের মধ্যে ৫০-৬০ বছর ধরে কোনও দেখা হয়নি। আশপাশের মানুষের বিপদের কথা শুনলেও ছুটে যান। টাকা-পয়সা দিয়ে সাহায্যের চেষ্টা করেন। অসহায় কেউ তার কাছে গেলে খালি হাতে ফেরান না। একারণে অর্ধশতাধিক বিঘার সম্পত্তির মালিক হয়েও ঋণের বোঝা রয়েছে।

সামাজিকতা ও রাজনীতি
কথাবার্তায় শালীনতা-শুদ্ধ ভাষা, তবে নিজেকে দাবি করেন স্বল্পশিক্ষিত। একসময় গ্রামের স্কুলে শিক্ষকতা করলেও অভিমানে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন অনেক আগেই। সামাজিকতায় সম্পৃক্ত থাকলেও এখন আর সেভাবে যান না। স্বাধীনতা ও স্বাধীনতার পর আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর সঙ্গে রাজনীতি করলেও সেখানেও একগুচ্ছ অভিমান। পাবনা ও দেশের রাজনীতির অনেক চড়াই-উতরাইয়ের স্বাক্ষীও তিনি। সেগুলোও তিনি কাউকে বলতে চান না।

এবিষয়ে কৈটোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন উদ্দিন পিপল বলেন, ‘তিনি অত্যন্ত দানশীল মানুষ, আদর্শিক মানুষ। উনার দানে অনেক ছেলে-মেয়ে শিক্ষিত হয়েছেন। উনাকে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হয় এবং ভবিষ্যতেও দেয়া হবে। উনি আমাদের সঙ্গে আপনজনের মতোই থাকে। আমাদের এলাকার অনেক কিছুতেই তার অবদান রয়েছে।’

বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহা. সবুর আলী বলেন, ‘আমি তার বিষয়ে কিছু জানি না। আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। আমি অবশ্যই তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিবো। তারপর আমি বিষয়টি সম্পর্কে ও আমাদের করণীয় নিয়ে আপনাকে বলতে পারবো।’

ব্যাংকের লেনদেনে নতুন সময়সূচি

ব্যাংকের লেনদেনের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ১৫ নভেম্বর থেকে ব্যাংকে লেনদেন সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত হবে। বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফসাইট সুপারভিশন থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংকের অফিসিয়াল সময়সূচি হলো সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। এছাড়া, সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে শুক্রবার ও শনিবার।

সাধারণত ব্যাংকে সকাল ১০টা থেকে ৪টা পর্যন্ত লেনদেন ও ৬টা পর্যন্ত অফিস সময় থাকে। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে ব্যাংকে বর্তমানে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস এবং ৩টা পর্যন্ত লেনদেন চলছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ সালের ৪৫ ধারার ক্ষমতা বলে এ নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ডাচদের বিপক্ষে ১১৭ রানেই থামলো জিম্বাবুয়ে

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে জয়ের বিকল্প ছিলো না জিম্বাবুয়ের সামনে। তবে নেদারল্যান্ডের বিরুদ্ধে আগে ব্যাটিং করে মাত্র ১১৭ রানেই থেকে গেলো জিম্বাবুয়ের ইনিংস।

অ্যাডিলেড ওভালে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন। ব্যাটিংয়ে নেমে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা। ডাচ বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চার বল বাকি থাকতেই ১১৭ রানে অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে।

ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার ওয়েসলি মাধভিরেকে হারিয়ে প্রথম ধাক্কা খায় জিম্বাবুয়ে। ৫ বলে ১ রান করেই ডাচ পেসার অল ভ্যান মেকেরেনের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন জিম্বাবুইয়ান ওপেনার। চতুর্থ ওভারে এসে ফিরে যান অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন।

পাওয়ার প্লে’র শেষ বলে জিম্বাবুয়েকে আরও বিপদে ফেলে প্যাভিলিয়নে ফেরেন রেজিস চাকাভা। জিম্বাবুয়ের রান তখন মাত্র ২০। পাওয়ার প্লে’তেই ৩ উইকেট হারিয়ে ততক্ষণে ধুঁকছে জিম্বাবুয়ে।

সেখা থেকে দলকে টেনে তলার চেষ্টা করেছেন শন উইলিয়ামস আর সিকান্দার রাজা। দুজন মিলে পরতের ৩৫ বলে গড়েছেন ৪৮ রানের জুটি। ১২তম ওভারে এসে ২৩ বলে ২৫ রান করা উইলিয়ামসকে ফেরান পল ভ্যান মেকেরেন। পরের ওভারে মাত্র ২ রান করেই ফিরে যান মিল্টন শুম্বা।

সঙ্গী হারালেও ডাচ বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরানো অব্যাহতই রেখেছিলেন রাজা। ব্রায়ন্ডন গ্লোভারের ১৪তম ওভার থেকে ১ ছক্কা ১ চারে নেন ১৪ রান। তবে জিম্বাবুয়ে সবচেয়ে ভবড় ধাক্কাটা খেয়চ্ছে ১৫তম ওভারে রাজা আউট হয়ে গেলে। বাস ডি লিডের বলে লং অনে ফ্রেড ক্লাসেন নিয়েছেন ৩ চার আর ৩ ছক্কায় ২৪ বলে ৪০ রান করা রাজার ক্যাচ। জিম্বাবুয়ের রান তখন ৬ উইকেটে ৯২।

এরপর ২৫ রান তুলতেই নিয়মিত বিরতিতে বাকি ৪ উইকেট হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের চার বল বাকি থাকতেই ১১৭ রানে অলআউট হয়েছে জিম্বাবুয়ে।

নেদারল্যান্ডের হয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন পল ভ্যান মেকেরেন। আর লোগান ভ্যান বিক, ব্র্যান্ডন গ্লোভার ও বাস ডি লিড সবাই নিয়েছে ২ উইকেট করে।

 

চন্দনাইশে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে শুচিয়া রাম কৃষ্ণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক টিকলু দাশগুপ্ত’র অনৈতিক,ঔদ্যত্বপূর্ণ,অশিক্ষকসুলভ আচরণ এবং বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দলিল-দস্তাবেজের পাচার ও অপব্যবহারের বিরুদ্ধে মানবন্ধন করেছেন স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক,স্থানীয় শিক্ষানুরাগী,প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী ও এলাকাবাসী।

১ নভেম্বর (মঙ্গলবার) সকালে স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র তৃষিত চৌধুরী এফসিএ-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাবেক দাতা কিশোর চৌধুরী,সুবাস দাশ,পলাশ দাশ, প্রাক্তন ছাত্র বিকাশ বিশ্বাস,মাস্টার ধর্জুটি প্রসাদ চোধুরী,নিখিল চৌধুরী,দুলাল শীল, মাস্টার মধু শীল,মৃদুল বৈদ‍্য,সঞ্জয় ভট্টাচার্য্য, বিপ্লব চৌধুরী,সুবল দেব,শ্রীকান্ত বৈদ্য,লিটন হোড়,রঞ্জন চৌধুরী,মাস্টার মিলন দাশ, নির্মল বিশ্বাস,রূপক চৌধুরী,তীলক চক্রবর্তী, পুষ্পেন বড়ুয়া,বাসু তালুকদার,নন্দন চক্রবর্ত্তী,দুলাল বিশ্বাস,রূপক বিশ্বাস, প্রিয়ব্রত গোস্বামী তনু বরমা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মধুসূদন দত্ত,বরকল ইউনিয়নের মেম্বার ঝর্ণা দাশ, সাবেক মেম্বার রূপন বিশ্বাস,অনিল বিশ্বাস,অনিল দাশ, সপ্নিল,বাবুল দাশ সাধু,ঝুলন দত্ত প্রমুখসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা বলেন,ঐতিহ্যবাহী শুচিয়া রামকৃষ্ণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক টিকলু দাশগুপ্ত’র অনৈতিক,ঔদ্যত্বপূর্ণ, অশিক্ষকসুলভ আচরণ এবং বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দলিল-দস্তাবেজের পাচারও অপব্যবহারের বিরুদ্ধে এবং শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ফি ও ইউনিক আইডি বাবদ মোটা অংকের টাকা নিয়েছেন। উপবৃত্তির জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিকট থেকে রশিদ ছাড়া টাকা আদায় করেছেন। অভিভাবকদের না জানিয়ে গোপনে নিজস্ব লোকজন দিয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করেছেন। এ বিষয়ে কয়েকজন অভিভাবক টিকলু দাশ গুপ্তের নিকট জানতে চাইলে তিনি অভিভাবকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নানা কাজের অজুহাতে বিদ্যালয়ের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। বক্তারা অবিলম্বে বিদ্যালয়ের দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষকের শাস্তি দাবি করে প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক টিকলু দাশ উনার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবী করেন।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, আমি মানববন্ধনস্থলে পৌঁছে এলাকার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত জানাতে বলেছি,সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

 

চেক দিয়েই মিলবে শেয়ার কেনার সুযোগ

ব্রোকারেজ হাউজে চেক জমা দিয়েই শেয়ার কেনার সুযোগ পাবেন শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা। চেকের পাশাপাশি ব্যাংকের ডিমান্ড ড্রাফট (ডিডি) বা পে-অর্ডারের বিপরীতেও শেয়ার কেনা যাবে।

মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বিএসইসির নির্দেশনা জানানো হয়েছে, গ্রাহক কোনো চেক, পে-অর্ডার বা ডিমান্ড ড্রাফটের বিপরীতে শেয়ার কিনলে ওই দিনই অথবা তার পরবর্তী দিনে তা ব্যাংকে তা উপস্থাপন করতে হবে। যদি কোনো ব্রোকার বা মার্চেন্ট ব্যাংক তা না করে বা করতে ব্যর্থ হয় তাহলে পরবর্তী এক বছরের জন্য ওই প্রতিষ্ঠান আইপিও/আরপিও ও রাইট শেয়ারের কোটা থেকে বঞ্চিত হবে।

যদি গ্রাহকের হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা বা অন্য কোনো কারণে ওই চেক পাশ না হয়, তাহলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্রোকার বা মার্চেন্ট ব্যাংকের ওপর বর্তাবে। ওই ব্রোকার বা মার্চেন্ট ব্যাংকারকে নিজস্ব ব্যাংক হিসাব থেকে সমপরিমাণ অর্থ প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত গ্রাহক অ্যাকাউন্টে জমা করতে হবে। যদি ব্রোকার বা মার্চেন্ট ব্যাংক তা না করে বা করতে ব্যর্থ হয় তাহলে পরবর্তী এক বছরের জন্য ওই প্রতিষ্ঠান আইপিও/আরপিও ও রাইট শেয়ারের কোটা থেকে বঞ্চিত হবে। এর বাইরেও আইন অনুসারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কমিশন।

যদি কোনো গ্রাহক বা বিনিয়োগকারীর চেক, পে-অর্ডার বা ডিডি পাশ না হয় বা প্রত্যাখান হয় তাহলে পরবর্তী এক বছর ওই গ্রাহক বা বিনিয়োগকারীকে ওই ধরনের কোনো ইনস্ট্রুমেন্টের বিপরীতে শেয়ার কেনার সুযোগ দিতে পারবে না সংশ্লিষ্ট ব্রোকারহাউজ বা মার্চেন্ট ব্যাংক। একই সঙ্গে তিনি আইপিও/আরপিও ও রাইট শেয়ারে আবেদন করতে পারবে না।

চেক, পেমেন্ট অর্ডার বা ডিমান্ড ড্রাফ্ট প্রত্যাখান করার ক্ষেত্রে, স্টক ব্রোকার বা মার্চেন্ট ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের চেক প্রত্যাখান হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য লেনদেন করতে পারবে না।

প্রত্যেক স্টক ব্রোকার এবং মার্চেন্ট ব্যাংককে তাদের তালিকা গ্রাহকের প্রত্যাখান হওয়া বা বাতিল হওয়া চেক বা পেমেন্ট অর্ডার বা ডিমান্ড ড্রাফ্টের বিস্তারিত বিবরণ প্রতি মাস শেষ হওয়ার ১০ দিনের মধ্যে কমিশনের কাছে জমা দিতে হবে।

স্টক ব্রোকার এবং মার্চেন্ট ব্যাংকাররা গ্রাহকদের আরটিজিএস, ইএফটিএন বা বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত বা স্বীকৃত ব্যাংকিং চ্যানেল বা সিস্টেমের মাধ্যমে অর্থ জমা করার জন্য উৎসাহিত করতে হবে।

কমিশনের আলোচ্য সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড, সমস্ত স্টক ব্রোকার এবং মার্চেন্ট ব্যাংকাররা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

 

ইভিএমে ভোট চলছে রৌমারী ও চিলমারীতে

কুড়িগ্রামের রৌমারী ও চিলমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। বুধবার ২ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।

রৌমারী উপজেলার ৬ ইউনিয়নে ৬৯টি কেন্দ্রের ৪৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ চলছে। এই উপজেলায় প্রার্থী সংখ্যা ৭ জন। ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৫৭ হাজার ১৫০ জন। অন্যদিকে, চিলমারী উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ৪৫টি কেন্দ্রে ২৯২টি বুথে ভোট গ্রহণ চলছে। প্রার্থী সংখ্যা ৫ জন। ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৩৮৩ জন।

চলতি বছর রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল্যাহ এবং চিলমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীর বিক্রম মৃত্যুবরণ করেন। এতে এই দুই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হয়।

এবার শোকজ বিদিশাকে

 

ট্রাস্ট বিধি লঙ্ঘন করায় বিদিশা সিদ্দিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ট্রাস্ট। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে জবাব চেয়ে তার (বিদিশা সিদ্দিক) পত্রযোগ ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুন।

বিজ্ঞপ্তিতে এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশীদ বলেছেন, ট্রাস্ট বিধি মোতাবেক সুবিধাভোগী সদস্য কখনও নতুন কোনো সদস্য নিয়োগ দেয়ার অধিকার রাখে না। এমনকি ট্রাস্ট পরিচালনায় এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে বা দিতে পারে না। আর ট্রাস্ট আইনমতে কেউ সদস্য না হয়ে সরাসরি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হতে পারেন না। সুতরাং এরশাদ ট্রাস্টের বৈধ পরিচালনা পর্ষদ থাকতে সেই বোর্ডের অনুমোদন ব্যতিত কাউকে নিয়োগ দেয়ার প্রসঙ্গটিই অবান্তর।
গতকাল সোমবার রাজধানীর বারিধারায় অনুষ্ঠিত এরশাদ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডের জরুরি সভা শেষে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান এরশাদ ট্রাস্ট চেয়ারম্যান কাজী মামুন।

কাজী মামুন আরও বলেন, এ সময়ে বৈঠকে ট্রাস্টি বোর্ডের বৈধ চারজন সদস্যই উপস্থিত ছিলেন। শুধু সুবিধাভোগী সদস্য শাহাতা জারাব এরশাদ এরিক বিদেশ ভ্রমণে থাকায় উপস্থিত থাকতে পারেননি।

গেল ২৯ অক্টোবর নোটিশকৃত এরশাদ ট্রাস্টের জরুরি বৈঠকের সিদ্ধান্তমতে, ট্রাস্ট বিধি লঙ্ঘন করে বিদিশা সিদ্দিক সুবিধাভোগী (শাহাতা জারাব এরশাদ এরিক) সদস্যকে দিয়ে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রচার কেনো চালিয়েছেন, তা জানতে চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কারণ দর্শানোরও নোটিশ দিয়েছে এরশাদ ট্রাস্ট। আগামী সাত (৭) কর্মদিবসের মধ্যে জবাব চেয়ে তার (বিদিশা সিদ্দিক) পত্রযোগ ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সদস্য বা চেয়ারম্যান নিয়োগে ট্রাস্ট বিধি লঙ্ঘন করে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে চেয়ারম্যান হিসেবে একজনের নাম প্রকাশ করা হলেও, পরবর্তীতে আরো দুজনের নাম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত দেখানো হয়।এটাও ট্রাস্ট বিধি-বিধানের মধ্যে পড়ে না। শুধু তাই নয়, সুবিধাভোগীর নিরাপত্তাজনিত কারণে বিদেশ ভ্রমণে ট্রাস্টের দেয়া নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওয়ানার পর কি করে ওই দুইজনের নাম সদস্য হিসেবে লিখিতপত্রে স্বাক্ষর দেখানো হয়, তাও রহস্যজনক?

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা ছেড়ে যাবার দীর্ঘ সময় পর কি করে এরিক তাদের নিয়োগপত্রে স্বাক্ষর করলেন, তারও জবাব চাওয়া হয়েছে উক্ত নোটিশে। পাশাপাশি ভিডিও বার্তা ও চিঠি মারফত যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তারা তিনজনই বিদিশার স্বঘোষিত জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

অন্যদিকে, সুবিধাভোগী শাহাতা জারাব এরশাদ এরিক স্বাক্ষরিত চিঠিতে ট্রাস্টের মেয়াদ শেষ হয়েছে বলে দাবি প্রসঙ্গে এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান বলেন, আগামী ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এরশাদ ট্রাস্টি বোর্ডের বৈধ মেয়াদ রয়েছে। সুতরাং সুবিধাভোগীর চিঠিতে উল্লেখিত তথ্যটি সম্পূর্ণরূপে ভুল। মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যের ভিত্তিতে নতুন সদস্য বা চেয়ারম্যান নিয়োগের কথা বলা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

কাজী মামুন আরও জানিয়েছেন, ট্রাস্ট সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে সুক্ষ্ম ভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হিসাব নিরূপণে ট্রাস্টের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অর্থ উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। যা পরবর্তী বোর্ডের সিদ্ধান্ত না দেয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এছাড়া ট্রাস্টের স্থাবর-অস্থাবর সব ধরনের বার্ষিক আয় ও ব্যয়ের হিসাব নিরক্ষণের সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে।

এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আরো জানান, প্রেসিডেন্টে পার্ক ও সুবিধাভোগির নিরাপত্তা বিবেচনায় প্রেসিডেন্টপার্কের সব কর্মচারি ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হবে। পাশাপাশি সুবিধাভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রেসিডেন্টপার্কে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ ও ট্রাস্ট কর্তৃক নিযুক্ত তত্ত্বাবধায়কের অনুমতি ছাড়া বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কাজী মামুন বলেন, গত ২৭ অক্টোবর স্যোশাল মিডিয়ায় সুবিধাভোগীর (শাহাতা জারাব এরশাদ এরিক) ভিত্তিহীন ভিডিওবার্তা ছড়ানোর নেপথ্যে কোনো ষড়যন্ত্র হয়েছি কি না, তা আইনানুগভাবে খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাস্টি বোর্ড।এছাড়া ট্রাস্টের তফসিলে বর্ণিত সম্পত্তি (ফ্লাট/ দোকান/ গাড়ি) সমূহের মাসিক ভাড়া ট্রাস্টের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক লিমিটেডে জমার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় আরো অংশ নেন সদস্য ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর, মো. শামসুজ্জামান মুকুল ও অ্যাডভোকেট কাজী রুবায়েত হাসান।