
সচিবালয়ে প্রবেশের ফি নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। সম্প্রতি এ প্রস্তাব দিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সচিবালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার প্রাধিকারভুক্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রে প্রবেশ ফি নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, এক বছরের জন্য ফি নির্ধারণ করা হবে। ফির বিনিময়ে এক বছরের জন্য একটি প্রবেশ কার্ড দেওয়া হবে।বেসরকারি ব্যক্তিদের প্রবেশ ফি বছরে পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে জননিরাপত্তা বিভাগ। এছাড়া প্রস্তাব অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার প্রাধিকারভুক্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সচিবালয়ে প্রবেশে বছরে তিন হাজার টাকা এবং জেলা-উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রদের প্রবেশ ফি বছরে হবে দুই হাজার ৫০০ টাকা।
সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে কারও কার্ড হারিয়ে গেলে, নষ্ট হলে বা অন্য কোনো কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়লে আবার তা নিতে দুই হাজার টাকা ফি দিতে হবে। বেসরকারি ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ ফি পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে জননিরাপত্তা বিভাগ।
এছাড়া প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, সচিবালয়ে বেসরকারি গাড়ি প্রবেশের ক্ষেত্রে বছরে সর্বোচ্চ ফি হবে ১০ হাজার টাকা।সচিবালয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনাগত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি স্থাপনের ব্যয় তুলে আনার পাশাপাশি পরিচালনা-রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ফি নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে চিঠিতে জানিয়েছে জননিরাপত্তা বিভাগ।
অর্থ মন্ত্রণালয় জননিরাপত্তা বিভাগের এ প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অনেকেই ভালোভাবে নিচ্ছেন না। এ প্রস্তাব বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা দেখছেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্মসচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব- সচিবালয় নিরাপত্তা শাখা) মো. ফিরোজ উদ্দিন খলিফা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এর আগে জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব/সচিবদেরর কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সচিবালয় দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কেন্দ্র এবং একটি উচ্চ সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। মাত্র ১৭ দশমিক ৫৩ একর জমিতে ১১টি বড় ছোট ভবন ও ৬টি ক্যান্টিন রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, কর্মকর্তা/কর্মচারী, বিভিন্ন সভায় আগত সদস্য ও দর্শণার্থীসহ প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ প্রতিদিন সচিবালয়ে গমনাগমন এবং ৪ থেকে ৬ হাজার যানবাহন সচিবালয়ে প্রবেশ করে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসার কথা ছিল । তবে তার সফরটি বাতিল করেছে মস্কো। রোববার (২০ নভেম্বর) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর বাতিলের কথা গতকাল (শনিবার) তারা নিশ্চিত করেছেন।
শেষ মুহূর্তে সফর বাতিলের কারণ জানতে চাইলে এ কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করেননি।
স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশের পর কোনো রাশিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফর করেননি। দ্বিপাক্ষিক না হলেও ল্যাভরভের সফর সামনে রেখে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার প্রস্তুতি চলছিল। আলোচনায় দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ের পাশাপাশি রোহিঙ্গা ইস্যু তুলতে চেয়েছিল ঢাকা। অন্যদিকে মস্কো ইউক্রেন ইস্যু, বিশেষ করে জাতিসংঘে ভোটাভুটিতে সামনের দিনগুলোতে ঢাকার সমর্থন চাইত বলে ইঙ্গিত ছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপী বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে মস্কো। এ ইস্যুতে পশ্চিমাদের থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দেশটি। আর জাতিসংঘে একের পর এক রাশিয়ার বিরুদ্ধে রেজুলেশন গৃহীত হচ্ছে। পৃথিবীর অন্য অঞ্চলের বন্ধুদের যেন হারাতে না হয়, সেজন্য হয়ত বন্ধুত্ব ঝালাই করতেই রাশিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফর করতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশকে পাশে চাওয়ার পাশাপাশি জোটের অন্যদের (আইওআরএ) সঙ্গেও কথা বলার সুযোগও হয়ত কাজে লাগাতে চাইত মস্কো।
নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরাধা ব্যক্তিত্ব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রদূত জননী সাহসিকা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার। এ উপলক্ষে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।
১৯৯৯ সালের (২০ নভেম্বর) শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে। তখন বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং ছোটবেলা থেকেই কবিতাচর্চা শুরু করেন। সুললিত ভাষায় ও ব্যঞ্জনাময় ছন্দে তার কবিতায় ফুটে উঠত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজের সার্বিক চিত্র।
তিনি নারীসমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
আবদুল হামিদ বলেন, কবি সুফিয়া কামাল পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান তিনি। ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে ছাত্রী হল নির্মাণ করেছে।
কবি বেগম সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তাঁর সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।
১৯১১ সালের ২০ জুন বেলা ৩টায় বরিশালের শায়েস্তাবাদস্থ রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন সুফিয়া কামাল। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।
পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।
১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কার্ফু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন।
সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরী তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।
সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমী পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।
সুফিয়া কামালের পাঁচ সন্তান। তারা হলেন—আমেনা আক্তার, সুলতানা কামাল, সাঈদা কামাল, শাহেদ কামাল ও সাজেদ কামাল।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব
নতুন বছরে ঢাকা সফরে আসছেন সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। তার এই সফর উভয় দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সৌদি যুবরাজের সফরে বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।
শনিবার (১৯ নভেম্বর) গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ইসা ইউসেফ ইসা আল দুহাইলান। এসময় রাষ্ট্রদূত সৌদি যুবরাজের আমন্ত্রণ গ্রহণের একটি স্বীকৃতিপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
সৌদি রাষ্ট্রদূত বলেন, ১৯৮৫ সালের পর সৌদি যুবরাজ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজের ঢাকা সফরের পর এটিই হবে কোনো সৌদি যুবরাজের প্রথম বাংলাদেশ সফর। সুতরাং এই সফর উভয় দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সফরের তারিখ এবং সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।
সৌদি যুবরাজ সফরের সময় বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে, যা দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে উল্লেখযোগ্যভাবে দৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে তিনি মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
শেখ হাসিনা সৌদি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানান। এসময় অ্যাম্বাসেডর এ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস উপস্থিত ছিলেন।
বিজনেস বাংলাদেশ / bh
সোনালী শিরোপায় চোখ রেখে কাতারে পৌঁছেছে ৩২ দল। উন্মাদনা-উত্তেজনা, আবেগ-আক্ষেপ, শক্তি-সামর্থ্য ছাপিয়ে বিশ্ব মেতে উঠতে চলেছে ফুটবলের জাদুতে। শুরু হতে যাওয়া ফুটবলের মহাযজ্ঞ আয়োজনে কমতি রাখেনি কাতার। কাড়িকাড়ি অর্থ ঢেলে বর্ণিল সব আয়োজনে সাজানো হয়েছে ২২তম আসর।
চ্যাম্পিয়ন খোঁজার লড়াইয়ে কাতারের আটটি স্টেডিয়ামে সামিল হবে। শিরোপার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে নামবে রোনালদো-মেসি-নেইমাররা। মাসব্যাপী আসরের উদ্বোধনী দিন রাত দশটায় ইকুয়েডরের মোকাবেলা করবে স্বাগতিক কাতার। এরআগে বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় হবে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ৬০ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার আল বায়াত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠান চলবে টানা ৪৫ মিনিট।
তেলনির্ভর কাতারের পাঁচটি শহরে ২০ নভেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত লড়বে ৩২টি দল। আসরে নক আউট, কোয়ার্টার, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল মিলিয়ে আয়োজিত হবে ৬৪টি ম্যাচ। আটটি গ্রুপে ভাগ হয়ে একটি শিরোপার লক্ষ্যে লড়বে ৩২ দেশ। ১১ হাজার ৫৮১ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের দেশটিতে হয়ে যাবে ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক।
বিশ্বকাপের মূলপর্বে এবারই প্রথম খেলছে কাতার। কাতার ফুটবলে বিনিয়োগ করছে অনেক বড় উচ্চাভিলাষ নিয়ে। এটা শুধু একটা-দুটো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার জন্য নয়। শুধু ফুটবল কেনো বিশ্বকাপ আয়োজনে কাতার মুগ্ধতার ডানা ছড়িয়ে দিয়েছে স্বপ্নের আকাশে। বিশাল, বিশাল রাস্তা, ফ্লাইওভার, অট্টালিকা, ছিমছাম পরিবেশ এবং অগ্রগতিতে দেশের মানুষের পাশাপাশি বিদেশী দক্ষ-অভিজ্ঞদের নিয়োগ দিয়ে কাতার এগিয়ে যাচ্ছে দূর্বার গতিতে।
কাড়ি কাড়ি ডলার খরচ করা কাতার নেমেছে হিসেব কষেই। আট স্টেডিয়ামে ফুটবল তারকাদের পায়ের জাদুতে বুঁদ হয়ে থাকবেন সমর্থকরা। ফিফা জানিয়েছে, মোট তিন মিলিয়ন টিকিট বিক্রি করেছে। শুধু টিকিট বিক্রি থেকেই ফিফা রেকর্ড রেভেনিউ পেতে পারে। রাশিয়া বিশ্বকাপে টিকিট বিক্রি থেকে ফিফার আয় ছিল ৫.৪ বিলিয়ন ডলার। এবার সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলেই রিপোর্টে এসেছে। এর পেছনে কারণ, ম্যাচ টিকিটের দাম বৃদ্ধি। ধারণা করা হচ্ছে, এবারের বিশ্বকাপে চোখ রাখবে বিশ্বের প্রায় ৫০০ কোটি মানুষ।
এতশত আয়োজন আর অভিবাসী শ্রমিক, সমকামী ও মদ পানের নানা বিতর্কিত ইস্যু ছাপিয়ে কাতার দেখিয়েছে তারা বিশ্বকাপ আয়োজন সুষ্ঠুভাবেই করেছে। তবুও নানা বিতর্ক আর চাপ নিয়ে আজ মাঠে গড়াচ্ছে ফুটবলের মহাযজ্ঞ। চারবছর পরের এ মিলনমেলা চলবে এক মাস। নতুন কেউ নাকি পুরোনো, মেসি নাকি রোনালদো, কাদের বা কার হাতে উঠতে যাচ্ছে সোনালী ট্রফি? প্রশ্নটা সময়ের কাছেই তোলা থাক।
বিজনেস বাংলাদেশ / bh
শোবিজকে বিদায় জানিয়ে পুরোদস্তুর সংসারী অভিনেত্রী প্রসূন আজাদ। ২০২১ সালের ৩০ জুলাই প্রেমিক ফারহানের সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন তিনি।
এবার ব্যক্তিগত জীবনের নতুন এক সুখবর জানালেন এই অভিনেত্রী। প্রথমবারের মতো পুত্রসন্তানের মা হয়েছেন প্রসূন আজাদ। বিষয়টি প্রসূন নিজেই জানালেন।
সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে ছেলের একটি ছবি দিয়ে চার লাইনের একটি কবিতা জুড়ে দেন। ক্যাপশনে ছেলের জন্মের তারিখও উল্লেখ করেন তিনি।
সেখান থেকে জানা যায়, শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) মা হয়েছেন এই অভিনেত্রী। খবরটি শেয়ার করার সঙ্গে সঙ্গে অভিনন্দন ও ভালোবাসায় সিক্ত হয় নবজাতক ও তার মা।
ছবিতে প্রসূনের ক্যাপশন সবার মন কেড়েছে। যেখানে তিনি লেখেন, জীবনের পথে পথে চলিতে, যত আশা গিয়েছিলো ফুরায়ে, গজমতি হার যেন ধূলিতে, ভিখারীনি পেলো আজ কুড়ায়ে।
প্রসূনের স্বামী ফারহান জানান, শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে জন্ম হয় তাদের প্রথম সন্তানের। মা ও ছেলে দুজনই সুস্থ আছে। ছেলের নাম এখনও ঠিক করা হয়নি। আপাতত হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে আছে তারা। দুই-একদিনের মধ্যেই বাসায় নেওয়া হবে।
২০১২ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টারের প্রথম রানারআপ হয়ে শোবিজে নাম লেখান প্রসূন আজাদ। ‘অচেনা হৃদয়’, ‘সর্বনাশা ইয়াবা’ ও ‘মৃত্যুপুরী’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেছেন। তার সবশেষ মুক্তি প্রাপ্ত সিনেমা ‘পদ্মপুরাণ’। এছাড়াও অসংখ্য টিভি নাটকেও অভিনয় করেছেন তিনি।
বিজনেস বাংলাদেশ / bh