সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম এমনকি অন্য যেসব মাধ্যম রয়েছে সেগুলোর প্রতি ব্যবহারকারীদের আসক্তি মোকাবিলায় নতুন বিল উত্থাপন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই সিনেটর।
ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর এমি ক্লবুশার এবং রিপাবলিকান পার্টির সিনেটর সিনথিয়া লুমিসে এ বিল উত্থাপন করেন। ওই দ্বিদলীয় প্রস্তাবের অধীনে গবেষণায় নামবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন’ এবং ‘ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস’।
সিনেটর ক্লবুশারের দপ্তর থেকে পাওয়া এক বিবৃতির বরাতে জানা যায়, সামাজিকমাধ্যম আসক্তি মোকাবিলায় ফেসবুকের মতো অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য করণীয় নিয়ে গবেষণা করবে সংস্থা দুটি।
গেল বছর প্রযুক্তিসেবার বাজারে আলোড়ন তুলেছিলেন ফেসবুকের অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁসকারী সাবেক কর্মী ফ্রান্সেস হাউগেন। হাউগেনের ফাঁস করা নথিপত্র থেকে উঠে আসে কিশোর বয়সিদের ওপর ইনস্টাগ্রামের বিরূপ প্রভাবের বিষয়ে জানা থাকলেও মুনাফার লোভে বিষয়টি চেপে গেছে সম্প্রতি মেটা নাম ধারণ করা ফেসবুক।
পরবর্তীতে সিনেট শুনানিতে হাজির হয়ে হাউগেন সাক্ষ্য দেন-করোনাভাইরাস এবং এর টিকা সম্পর্কে বিপজ্জনক ভুয়া তথ্য প্রচারের সুযোগ দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের প্ল্যাটফরমটি। এ ছাড়াও নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তিনি।
‘ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন’ এবং ‘ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস’-এর গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নতুন নীতিমালা তৈরি করবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি)’। নীতিমালা না মানলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে সামাজিক যোগাযোগের প্ল্যাটফরমগুলোর বিরুদ্ধে।
‘দীর্ঘ সময় ধরে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের বলে এসেছে, ‘আমাদের বিশ্বাস করো। আমরা পারব। কিন্তু এখন আমরা জানি, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফরমগুলো বারবার মানুষের চেয়ে মুনাফাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। এদের অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীদের ধরে রাখতে বিপজ্জনক কনটেন্ট দেখায় এবং ভুয়া তথ্য ছড়ায়। এ বিলটি ওই সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করবে।’-বিবৃতিতে বলেছেন সিনেটর ক্লবুশার।


