ওমিক্রন শঙ্কায় অর্থনীতিতে ফের অনিশ্চয়তা

0
140

মহামারি থেকে শিগ্গিরই মুক্তি মিলবে এমনটাই আশা করছিল বিশ্ববাসী। কিন্তু ২০২১ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন আবিষ্কার হওয়া সে আশায় গুড়েবালি দেখা দেয়। বিশ্বের বহু দেশে তীব্র গতিবেগে ছড়িয়ে পড়তে থাকে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট। ডেলটার চেয়ে এর সংক্রমণ সক্ষমতা অনেক বেশি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওমিক্রনকে ‘ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন’ বা উদ্বেগজনক ধরন হিসেবে ঘোষণা করেছে। মহামারি বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে জোরেসোরে আলোচনা হচ্ছে। চীনসহ বিশ্বের বড় অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের গতিপথই-বা কেমন হবে এবং বিশ্বব্যাপী মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা কি আরো নিম্নমুখী হবে, মূল্যস্ফীতি কি আকাশ ছুঁবে— আপাতত এসব প্রশ্ন নিয়েই ঘুরপাক খাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, গত দুই বছর মহামারির দাপট ম্রিয়মাণ থাকার পর ২০২২ সালে বিশ্ব অর্থনীতি মাথা তুলে দাঁড়াবে কি না।

সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্ট প্রতিবেদন বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। বিশ্বব্যাংক উল্লেখ করেছে, করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া, বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা, ঋণ ও আয়ের বৈষম্য বেড়ে যাওয়ায় উদীয়মান ও উন্নয়নশীল বিশ্বে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে অর্থনীতির অনিশ্চয়তা আরো তীব্র হয়েছে।

করোনা মহামারির দুই বছর ধরে বিশ্ব অর্থনীতি বিপর্যস্ত রয়েছে। অর্থনীতির প্রতিটি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরই মধ্যে গত জুলাই থেকে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করায় করোনার প্রকোপ কমেছিল। এতে বিশ্ব অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করা হচ্ছিল। অর্থনীতিবিদরাও প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির বার্তা দিচ্ছিলেন। এমন সময়ে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া করোনার ধরন ওমিক্রন বিশ্ব জুড়ে উদ্বেগ-আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। নতুন এই ধরনের ভয়াবহতা ও প্রভাব সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। তারপরও মহামারিতে বিপর্যস্ত অর্থনীতির নতুন শঙ্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে ওমিক্রন।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্রেগরি ডাকো বলেছেন, ওমিক্রনের প্রভাব যদি তুলনামূলকভাবে কম হয় এবং এর বিরুদ্ধে টিকা কার্যকর হয়—তারপরও অর্থনীতিতে এর প্রভাব মধ্যম মানের হবে, অর্থাৎ ২০২২ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি দশমিক ২৫ বাড়তে পারে। তবে যদি ওমিক্রন খুবই বিপজ্জনক হয় এবং বিশ্বব্যাপী লকডাউন দীর্ঘমেয়াদি দেওয়া হয়, তাহলে প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৩ ভাগ হ্রাস পেতে পারে। গোল্ডম্যান স্যাক্সের বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী বছরে বিশ্ব অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা ছিল। চাহিদাও বেড়েছে। বর্তমানে নীতিনির্ধারকরা মূল্যবৃদ্ধিতে রাশ টানার চেষ্টা করছেন। তবে ওমিক্রনের প্রকোপ বাড়লে সেই সুযোগ মিলবে কি না, সন্দেহ রয়েছে।

বাংলাদেশেও নতুন করে করোনা বিস্তার লাভ করার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, ভারত এবং পাশের পশ্চিমবঙ্গে ওমিক্রন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় এই আশঙ্কা বেড়ে গেছে। আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাংলাদেশেও। আবার কি বন্ধ হয়ে যাবে সবকিছু? আমদানি-রপ্তানিতে যে গতি ফিরে এসেছিল, তা কি থমকে দাঁড়াবে।

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর দীর্ঘদিন লকডাউন কার্যকর থাকায় তার একটা বড় প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতে বড় ধাক্কা খেয়েছিল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, যদি ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোতে করোনা অধিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করে, তাহলে অবশ্যই এর প্রভাব বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিখাতের ওপর পড়বে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে সঠিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের লাগাম টেনে ধরতে হবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here