গুরুতর অভিযোগ নিয়ে ঢাকায় ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী

0
177

নোয়াখালির সোনাইমুড়ী উপজেলার বারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ফলাফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন চশমা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইয়েদ আহমদ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল, ভোট পুণঃগণনা করতে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

শনিবার দুপুরে আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে সাইয়েদ আহমদ যুগান্তরকে বলেন, ৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপের অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ফলাফলের কাগজ অনুযায়ী তিনি ২৮৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতীক ছিল চশমা। তার মোট প্রাপ্ত ভোট ৪ হাজার ৮৭১ ভোট। আর প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার প্রার্থী মো.সামছুল আলম পান ৪ হাজার ৫৮২ ভোট। পরে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব করেন। একপর্যায়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর করা ফলাফল পরিবর্তন করে ঘষা মাজা করে এক কেন্দ্রের দুটি ফলাফল পত্র তৈরি আমাকে ১১ ভোটে পরাজিত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, আমি স্থানীয়ভাবে ঘোষিত ফলাফলে ২৮৯ ভোটে বেশি পেয়ে নির্বাচিত হই। এই ফলাফলের কাগজে ১০টি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে। আমি আমার পোলিং এজেন্টদের মাধ্যমে রাত আটটার সময় এই ফলাফল হাতে পাই। রাত সাড়ে আটটার সময় রিটানিং কর্মকর্তার কাছে ওই ফলাফল সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বেআইনিভাবে প্রভাবশালীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আম্বরনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক এ বি এম নোমান ও রিটার্নিং কর্মকর্তা সোনাইমুড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. বরকত উল্যাহ এর যোগসাজশে কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের সকল প্রার্থীর ভোটকে ঘষামাজা করে পরিবর্তন করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. সামছুল আলমের নৌকা প্রতীককে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, ফলাফল পাল্টে দেওয়ার বিষয়ে রিটানিং কর্মকর্তার কাছে তাৎক্ষণিক অভিযোগ করে কোন সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি। উল্টো রিটানিং কর্মকর্তা নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণায় দৃঢ়তা দেখিয়ে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। ভুক্তভোগী প্রার্থী রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষিত ফলাফল বাতিলের দাবি জানান এবং আইনি প্রক্রিয়ায় সেটা মোকাবিলা করবেন বলেও মন্তব্য করেন।

আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে সাইয়েদ আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, এমন প্রকাশ্য কারচুপির ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমি আমার কর্মী ভোটারদের শান্ত থাকতে আহ্বান জানিয়েছি। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সব জায়গায় প্রমাণসহ অভিযোগ করেছি। জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলছে।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা বরকত উল্লাহ মোবাইলে যুগান্তরকে বলেন, কেন্দ্র থেকে প্রিজাইডিং অফিসার যে রেজাল্ট শিট দিয়েছেন সেটা দেখেই ফলাফল ঘোষণা করেছি। রেজাল্ট শিটে কাটাকাটি বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, সেখানে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার অনুস্বাক্ষর ছিল। মূলত প্রিজাইডিং অফিসার আমাকে যে রেজাল্ট শিট দিয়েছেন আমি সেটাই ঘোষণা করেছি।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার এ বি এম নোমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here