আড়াই মাস পর প্রবাসী জহিরকে দেশের মাটিতে দাফন

0
169

রোগাক্রান্ত হয়ে মৃত্যু, মালয়েশিয়ার হসপিটালের মর্গে পড়ে থাকা প্রবাসী গাইবান্ধার মো. জহিরুল ইসলাম জবুর (৫৫) মরদেহ আড়াই মাস পর গত ৩১ ডিসেম্বর রাত ৯টার একটি ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। লাশটি গ্রহণ করেন জহিরুল ইসলামের ভাতিজি মোছা. রোমানা আক্তার।

এর পরের দিন পহেলা জানুয়ারি জহিরের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামে দাফন সম্পন্ন করা হয়। জহিরুল ইসলাম জবু গাইবান্ধা সদর বিষ্ণুপুর গ্রামের কবিরপাড়ার মৃত হোসেন আলী মুন্সির পুত্র। জহির ২৭ বছর আগে চাকরি নিয়ে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন। দেশে বিয়েশাদি না করায় তার কোনো স্ত্রী-সন্তান ছিল না। পিতা মাতা আগেই মারা গেছেন।

গত বছরের ১৬ অক্টোবর জন্ডিশ ও লিভারের রোগে আক্রান্ত্র হয়ে মালয়েশিয়ার ইপুহ এলাকার রাজা হসপিটালে মারা যান তিনি। তার লাশ দেশে নেয়ার মতো পরিবারের সামর্থ্য না থাকায় হাসপাতালের মর্গে পড়েছিল ১৭ দিন। এ সময় “টাকার অভাবে হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে প্রবাসীর মরদেহ”- এই শিরোনামে দৈনিক যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল ২ নভেম্বর। মরদেহ দেশে ফেরত পাঠাতে মালয়েশিয়ার কোনো কমিউনিটি বা সংগঠন এগিয়ে না আসায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মালয়েশিয়ায় দাফন করার জন্য সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিল।

সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর মুহূর্তে মানবিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, লন্ডনের ভয়েস ফর গ্লোবাল বাংলাদেশি সংগঠন এবং জনহিতৈষী প্রবাসীরা। জহিরের মরদেহ দেশে পাঠাতে অর্থের জোগানসহ অন্যন্যা সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন মালয়েশিয়া বাংলাদেশ চেম্বারস অ্যান্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুব আলম শাহ। জহিরের তথ্য ও উপাত্তসহ বাংলাদেশের মন্ত্রণালয় থেকে ক্লিয়ারেন্স সংগ্রহ করেন কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে লন্ডনের ভয়েস ফর গ্লোবাল বাংলাদেশি সংগঠন জহিরের পরিবারকে অর্থিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি সংগঠনের নেতারা ভার্চুয়ালি আলোচনাও করেছন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here