প্রেম না হয় যদি, হবে পাগলামি

0
254

প্রেম না হয় যদি, হবে পাগলামি
আর আমার পাগলামিতেই হবে তোমার খ্যাতি

ছিন্ন কোরো না সব সম্পর্ক আমার সনে
আর কিছু না থাক, থাকুক অন্তত দুশমনি

আমার মিলনে যদি হয় তোমার বদনাম
জনসমাগমে দেখা না হয়ে হোক অভিসার

আমি তো দুশমন নই আমার নিজের
অন্যকে না হয় তুমি ভালোবাসলেই

যেভাবেই সম্পর্ক হোক আমার সাথে
খবরদারি না থাকুক, উদাসীনতাই সই

জীবনের প্রতিটি ক্ষণ যেন বিজলি শিখা
হৃদয়ের রক্ত ঝরানোর এ সুযোগখানিই সই

হই যদি বিশ্বাসরক্ষার পথে বিচ্যুত
প্রেম নয়, বিপদসংকুল পথই শিরোধার্য

কিছু তো দাও, ওহে বেইনসাফ নিয়তি
অন্তত দাও আক্ষেপ ও ফরিয়াদের অবসর

আমিও মেনে নেওয়ার অভ্যাস গড়ে নেব
উদাসীনতা তোমার স্বভাব হলে তা-ই সই

প্রিয়ের সাথে খুনসুটি করে যাও আসাদ
মিলন যদি না ঘটে, মিলনের বাসনাই সই

কবি পরিচিতি: উর্দু ভাষার সবচেয়ে প্রভাবশালী তিন কবির একজন এই ‘মির্জা আসাদুল্লাহ খাঁ গালিব’। জন্ম ২৭ ডিসেম্বর ১৭৯৭ সালে, হিজরি সন হিসাবে ১২১২ সালের রজব মাসের ৮ তারিখ রাত্রে। তার পূর্বপুরুষরা আইবাক জাতীয় তুর্কি ছিলেন, এবং তাদের আদি নিবাস ছিল সমরকন্দ।

মির্জা গালিব এবং তার ছোট ভাই সাবালক হওয়া পর্যন্ত আগ্রাতেই ছিলেন। আগ্রার বিখ্যাত বিদ্বান শেখ মুয়াজ্জামের কাছে শিক্ষালাভ করেন। মোল্লা আবদুস সামাদ নামে এক পারসিক দুই বছর আগ্রায়, পরে দিল্লিতে মির্জা গালিবের সঙ্গে ছিলেন।

গালিব তার কাছ থেকে ফারসি ভাষার তালিম নেন। এছাড়া তিনি মির আজম আলি পরিচালিত একটি মাদরাসাতেও পড়েছেন। তিনি যুক্তিবিদ্যা জ্যোতির্বিদ্যা চিকিৎসাশাস্ত্র ও অধিবিদ্যা ছাড়াও অন্যান্য বিষয়ে পড়াশোনা করেন। কিন্তু তার ঝোঁক ছিল ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি।

১৮১০ সালে ১৩ বছর বয়সে গালিব বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। বিয়ের পর তিনি আগ্রা থেকে দিল্লিতে চলে আসেন। তিনি দিল্লিতে প্রায় ৫০ বছর ছিলেন, এই পুরো সময়ে তিনি কোনো বাড়ি নিজের জন্য কেনেননি, চিরদিন ভাড়াবাড়িতে কাটিয়েছেন। জীবনভর সৃষ্টিধর্মী কাজে কাটালেও কখনো বই কেনেননি।

বই ভাড়া করে পড়ে ফেরত দিতেন। আজীবন দারিদ্র্যের মধ্যে কেটেছে। ঋণের ওপর ঋণ করেছেন। কিন্তু কখনো কোনো পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেননি।

তার সময়েই মোগল সাম্রাজ্য ঔজ্জ্বল্য হারায়, এবং দিল্লি ব্রিটিশরা দখল করে নেয়। তাই তাকে বলা হয় শেষ মোগল সভাকবি। তার গজল ও কবিতা শুধু ভারত, পাকিস্তান বা বাংলাদেশেই নয়, সারা পৃথিবীতেই জনপ্রিয়।

১৮৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এই মহান কবি ইন্তেকাল করেন।

মন্তব্য: এই গজলটি দিওয়ান-ই-গালিবের ‘ইশক মুঝকো নাহীঁ ওয়াহশাত হী সাহী’ থেকে অনূদিত।

গজলটি আধ্যাত্মিক ভাব প্রকাশক, শব্দের ব্যবহার কেবল আল্লাহর দিকে ইঙ্গিত করে। তবে সাধারণ প্রেমের ক্ষেত্রেও গজলটির ব্যবহার দেখা যায়, আদতে যা মির্জা গালিবকে সামগ্রিকভাবে গ্রহণ করারই প্রমাণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here