ভারত থেকে আবারও ৬ হাজার ৭০০ টন নিম্নমানের চাল আমদানির অভিযোগ উঠেছে। যদিও দেশটি থেকে আগে আনা ১৯ হাজার টনের বেশি নিম্নমানের চালের বিষয়ে এখনো সুরাহা হয়নি। নতুন আমদানি করা চালগুলোর রং ধূসর হয়ে গেছে, ৫-৬ মাস গুদামে থাকলে খাবার অনুপযোগী হয়ে পড়বে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে জাহাজ থেকে ৬০০ টনের মতো চাল খালাস করে তা দেশের বিভিন্ন স্থানে সেন্ট্রাল স্টোরেজ ডিপো-সিএসডি, লোকাল স্টোরেজ ডিপো-এলএসডিতে পাঠানো হয়েছে। তবে নিম্নমানের প্রমাণ পাওয়ার পর খাদ্য বিভাগের পরিবহণ ঠিকাদাররা চাল খালাস বন্ধ করে দিয়েছেন। খাদ্য বিভাগ চালগুলো ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের আগস্টে ‘এমভি ড্রাগন’ নামে আরেকটি জাহাজে করে ১৯ হাজার ২০০ টন চাল আমদানি করা হয়েছিল। খালাস করতে গিয়ে দেখা যায় এসব চাল নিম্নমানের। পরিবহণ ঠিকাদারদের বাধার মুখে এসব চাল খালাস বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় খাদ্য বিভাগ। চালভর্তি ওই জাহাজটি প্রায় সাড়ে চার মাস ধরে বন্দরের বহির্নোঙরে রয়েছে। চালগুলো ফেরত পাঠাতে চলছে চিঠি চালাচালি। এ অবস্থায় নতুন করে নিম্নমানের চাল আমদানি নিয়ে তোলপাড় চলছে।
চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গত সপ্তাহে ভারত থেকে ৭ হাজার ৬০০ টন আতপ চাল নিয়ে ‘বিএমসি আলফা’ নামে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। জিটুজির আওতায় সরকারিভাবে আমদানিকৃত চালের চালানটি ভারতের নেকফ ইন্ডিয়া নামের একটি প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করে। এর শিপিং এজেন্ট ছিল ‘ইউনি শিপ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’। চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ভেড়ার পর খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা চাল খালাসের নানা আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। খাদ্য অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমদানি করা চালের নমুনা সংগ্রহ করেন। তা ল্যাবে পরীক্ষাও করা হয়। পরীক্ষা করে চালের গুণগত মান ভালো ও খাওয়ার উপযোগী বলে প্রতিবেদন দেওয়ার পর ১৫ ডিসেম্বর থেকে খালাস প্রক্রিয়া শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জাহাজটি থেকে ৫৬৫ টন চাল খালাস করা হয়। খালাস করা এসব চালের মধ্যে দেওয়ান হাট সিএসডিতে ৭৫ টন, হালিশহর সিএসডিতে ১৫ টন, সিলেট সিএসডিতে ৯০ টন, কুমিল্লার চকবাজার গুদামে ৬০ টন, চাঁদপুরের মতলবে ৪৫ টন, বরইছড়িতে ১৫ টন, জয়দেবপুরে ৪৫ টন, নারায়ণগঞ্জে ৩০ টন এবং তেজগাঁও সিএসডিতে ১৯০ টন সরবরাহ দেওয়া হয়।
জেটিতে খাদ্য অফিসের কর্মকর্তা ও পরিবহণ ঠিকাদাররা দেখতে পান ওপরের চালগুলো অপেক্ষাকৃত ভালো হলেও নিচের স্তরে থাকা চালগুলো নিম্নমানের। তাই তারা খালাস বন্ধ করে দেন। তারা বেশ কিছু চালের বস্তা পর্যবেক্ষণ করে দেখেন-‘এসব চাল সরকারের বিধি মোতাবেক নয়।’ এই সময় খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা চাল গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে জাহাজ থেকে খালাস বন্ধ করে দেন। সরবরাহকারীর পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।
একাধিক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরে ভারত থেকে আসা ৭ হাজার টন চালের পরিবহণ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। কারণ এসব চাল নিম্নমানের। যা পরিবহণ করে এলএসডি বা সিএসডিতে নিলে কর্মকর্তারা গ্রহণ করবেন না। পরে দায়ভার পরিবহণ ঠিকাদারদেরই নিতে হবে। এর চেয়ে চাল পরিবহণ না করাই ভালো।’
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুল কাদের যুগান্তরকে বলেন, ‘সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘সরকারের বিধি মোতাবেক চাল’ সরবরাহ না করায় খালাস বন্ধ করে দিয়েছি। চালের মানের ক্ষেত্রে খাদ্য বিভাগের অবস্থান জিরো টলারেন্স। চালগুলো পচা বা বেশি খারাপ বা খুদ নয়। তবে চালের রং ও আর্দ্রতা সরকারি বিধি মোতাবেক নয়। মহাপরিচালককে বিষয়টি লিখিত আকারে জানানো হয়েছে। ‘বিএমসি আলফা’ নামের জাহাজটিকে চট্টগ্রাম বন্দরের ৩ নম্বর বার্থিং থেকে বহির্নোঙরে চলে যেতে বলা হয়েছে।’


