শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. এরশেদের (২৭) জন্মের পর থেকে দুইটি হাত নেই। প্রতিবন্ধী হলেও তিনি একজন মোবাইল মেকানিক।
চট্টগ্রামের হাটহাাজরী উপজেলারী মির্জাপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ওবাইদুল্লাহ নগর এলাকার তার বসতঘরের পাশে এরশাদের ‘মায়ের আশা’ নামে একটি মোবাইল সাভিসিংয়ের দোকান রয়েছে। পাশাপাশি তিনি প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের একজন নির্বাচিত ছাগল পালনকারী।
এরশাদের উপার্জনে বাধ সাধে এলাকার স্থানীয় কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা। সম্প্রতি তারা এরশাদের কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে।
চাঁদা দেওয়ার সামর্থ না থাকায় কিশোর গ্যাং থেকে রক্ষা পেতে স্ত্রীর আলঙ্কার, দোকানের টাকা, নিজের মোবাইল দিয়েও কিশোর গ্যাংয়ে হাত থেকে নিস্তার পাননি প্রতিবন্ধী মো. এরশাদ।
তিনি জানান, গত ১৯ জুন দুপুরে তারর (এরশাদ) অনুপস্থিতে মির্জাপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডেও ইউপি সদস্য নুরুল ইসলামের ছেলে হামিদুল ইসলামের (৩২) নেতৃত্বে কিশোর গ্যাংয়ের ৫/৬ জন সদস্য প্রতিবন্ধী কোটায় প্রাণিসম্পদ থেকে পাওয়া ২টি ছাগল নিয়ে যেতে চায়।
এ সময় তার বড় ভাই নূর মোহাম্মদ বাধা দিলে তাকে মারধর করে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসরা।
এরপর গত ২৩ জুন রাত ৮টার দিকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এসে তার মোবাইল ও দোকানের মোবাইল সাভিসিংয়ের সরঞ্জাম নিয়ে যায়।
এ সময় তারা (কিশোর গ্যাং) এ ঘটনা নিয়ে কোনো অভিযোগ বা কাউকে জানালে তাকে দোকান বন্ধ করে এলাকা ছাড়তে হবে বলে হুমকি দেয়।
এছাড়া এরশাদের মোবাইলে থাকা তার (এরশাদ) স্ত্রী ও বোনের ছবি এডিট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং তাকে জানে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়ে গেছে।
এদিকে, এরশাদ প্রাণ বাঁচাতে গত বুধবার হাটহাজারী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এতে এলাকার বখাটে কিশোর গ্যাংয়ের ৮ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত করা হয়। এরা হলেন- হামিুদল ইসলাম (৩২),হৃদয় (২৫), ফারুক (৩০), সাকিব (২২), নাঈম (২৬), খাইরুল আমিন (২৫), নাজিম (২৫) ও সাদ্দাম (২৫)।
অভিযুক্ত সবাই মির্জাপুর ইউনিয়নের ওবাইদুল্লাহ নগর ও কালা বাদশা পাড়ার বাসিন্দা। এদিকে, থানার অভিযোগ দায়ের বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে।
এ ব্যাপারে হাটহাজারী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব শর্মা বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইননানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


