‘উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি’ এই প্রতিপাদ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১তম প্রজাপতি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় জহির রায়হান অডিটরিয়ামের সামনে এ মেলার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক রাশেদা আখতার। এরপর দিনব্যাপী চলে এ মেলার কার্যক্রম। মেলা উপলক্ষ্যে দূর-দূরান্তের দর্শনার্থীরা ভিড় জমায় সবুজের এ আঙিনায়। মেলায় ঘুরতে এসে শিশু কিশোর এবং তাদের সঙ্গে আসা অভিভাবকরা ছিলেন উচ্ছ্বসিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের কীটতত্ত্ব শাখার আয়োজনে প্রতিবছর এ প্রজাপতি মেলার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রজাপতি সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের জন্য সিরাজগঞ্জের কলেজ শিক্ষক হাসমত আলীকে ‘বাটারফ্লাই অ্যাওয়ার্ড ২০২১’ দেওয়া হয়। বাটারফ্লাই ইয়াং ইনথুসিয়াস্ট অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান সমী। দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত মেলায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কুইজ, বক্তৃতা, প্রজাপতি বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা, প্রজাপতির ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. রাশেদা আখতার বলেন, কীটপতঙ্গ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য প্রকৃতি, মানুষ এবং সামাজিক পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে। এজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করে উন্নয়ন চিন্তা করতে হবে। এ সময় জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল জব্বার হাওলাদার, চ্যানেল আই-এর পরিচালক এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, বার্ড ক্লাবের সভাপতি ইনাম আল হক, মৌসুমী টয়লেট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাতলুব আখতার প্রমুখ পরিবেশ রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তব্য রাখেন। মেলার আহ্বায়ক প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনোয়ার হোসেন বলেন, প্রজাপতিকে রক্ষা করার জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশকে বাঁচাতে হবে। পরিবেশ-প্রকৃতি সুরক্ষিত না হলে প্রজাপতি বাঁচবে না। আগে বাংলাদেশে সাড়ে তিনশ’ থেকে চারশ’ প্রজাতির প্রজাপতি লক্ষ করা যেত। সেই সংখ্যা এখন কমে এসেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে লক্ষ করা যেত একশ’ বিশ প্রজাতির প্রজাপতি। এখন এই সংখ্যা নেমে এসেছে ষাটে। মানুষ প্রকৃতিমনস্ক হলে প্রকৃতি সুরক্ষিত থাকবে। প্রকৃতি সুরক্ষার জন্য বনাঞ্চল ও সবুজ বনভূমি রক্ষা করতে হবে।’


