আন্দোলনের মধ্যেই সড়কে আরেক শিক্ষার্থী নিহত

0
267

শিক্ষার্থীদের ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন চলছে। এর মধ্যেই শুক্রবার গভীর রাতে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে কাভার্ডভ্যান চাপায় গ্রিন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাহাদি হাসান লিমন (২১) নিহত হয়েছেন। এছাড়া একই রাতে মোহাম্মদপুরে ট্রাকচাপায় দৈনিক সংবাদের সম্পাদনা সহকারী এমদাদ হোসেনের (৬০) মৃত্যু হয়েছে। গ্রিন ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থবর্ষের শিক্ষার্থী লিমন ঢাকার উত্তরায় বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। কথা ছিল জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থেকে মা শনিবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছলে তাকে নিয়ে তিনি নতুন বাসায় উঠবেন। কিন্তু মমতাময়ী মায়ের মুখ দেখা আর লিমনের হলো না। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে বিমানবন্দর এলাকায় গাড়িচাপায় তার প্রাণ যায়। লিমনের খালা মিতা যুগান্তরকে বলেন, আমাদের ধানমন্ডির বাসা থেকে লিমন এতদিন পড়াশোনা করত। সম্প্রতি মাকে নিয়ে থাকবে বলে উত্তরায় সে বাসা ভাড়া নেয়। লিমনদের গ্রামের বাড়ি জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থানার দমদমা পশ্চিম গ্রামে। তার বাবা মোফাজ্জল হোসেন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে লিমন সবার ছোট। মিতা আরও জানান, লিমনের বাবা বর্তমানে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। লিমন চেয়েছিলেন পড়াশোনা শেষ করে পরিবারের হাল ধরতে। লিমনের খালু ইমাম হাসান বলেন, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কের পদ্মা তেল পাম্পের সামনে কনটেইনারবাহী কাভার্ডভ্যানের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী লিমনের মৃত্যু হয়। মোটরসাইকেল আরোহী লিমনকে একটি দ্রুতগামী কাভার্ডভ্যান ধাক্কা দিলে তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়েন। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লিমনের লাশ মর্গে রাখা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার দুপুরে লিমনের লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান শেখ জানান, লিমনকে চাপা দেওয়া কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করা হলেও এর চালক পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় লিমনের বাবা বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেছেন।

মায়ের সঙ্গে দেখা হলো না লিমনের : পাঁচবিবি পৌর শহরের দমদমা এলাকার লিমন ঢাকার শেওড়াপাড়ার গ্রিন ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বড় বোন মৌফিয়া আক্তার লিজা যুগান্তরকে বলেন, আমার মা পাঁচবিবি গ্রামের বাড়ি থেকে বাসে ঢাকায় যান। উত্তরা থেকে মাকে রিসিভ করার জন্য ধানমন্ডির জিগাতলা আত্মীয়ের বাসা থেকে ছোট ভাই লিমন মোটরসাইকেলে রওয়ানা দেয়। লিমনের সঙ্গে মামি রুবাইয়া আক্তার রিতা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরা জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় লিমন নিহত হয়েছেন। তার লাশ ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। মায়ের সঙ্গে আর লিমনের দেখা হলো না।

লিমনের ভগ্নিপতি জাকারিয়া আহসান জয় জানান, ঢামেক হাসপাতাল মর্গ থেকে লিমনের লাশ নিয়ে তারা বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছেন। রোববার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হবে।

এদিকে, শনিবার রাত আড়াইটার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারের সামনে ট্রাকচাপায় সংবাদকর্মী এমদাদ হোসেন নিহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুতগতির একটি ট্রাক একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় মোহাম্মদপুর থানায় খবর দিলে পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এমদাদের ভাই সেলিম জানান, দৈনিক সংবাদ-এ রাতের পালার কাজ শেষে মোটরসাইকেলে তিনি (এমদাদ) বাসায় ফিরছিলেন। মোহাম্মদপুরে মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারের সামনে একটি ট্রাক পেছন থেকে তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। ট্রাকটি শনাক্ত বা জব্দ হয়নি। এজন্য আমরা কোনো মামলা করছি না। টাঙ্গাইলের নাগরপুরে গ্রামের বাড়িতে তার লাশ দাফন করা হবে।

মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল লতিফ জানান, সংবাদকর্মী এমদাদকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া ট্রাকটি শনাক্তের জন্য আমরা ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here