কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি শাহ সেলিম প্রধান নিজ দলের নেতাকর্মীদের হামলা-মামলা দিয়ে হয়রানি ও নির্যাতন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মাইজখার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে জয়লাভের পর থেকেই চেয়ারম্যান শাহ সেলিম নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের পদে পদে নাজেহাল করছেন। তার বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে শ শ নেতাকর্মী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সম্প্রতি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন নেতাকর্মীরা।
দলীয় সূত্র জানায়, মাইজখার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু তার নেতৃত্ব মেনে নিতে পারছেন না আলোচিত ও প্রভাবশালী ইউপি চেয়ারম্যান শাহ সেলিম। এ কারণেই তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নানাভাবে নির্যাতন ও হামলা করে আসছেন। তার বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতন এবং মামলা-হামলার শিকার হয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগের ত্যাগী শ শ নেতাকর্মী। নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নাম। তার নির্যাতনের হাত থেকে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও রেহাই পাচ্ছেন না। এ নিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন। অভিযোগ, বিএনপি-জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী সেলিম চেয়ারম্যানের ক্যাডারদের মামলা-হামলা ও হয়রানির শিকার না হলেও নিজ দলের নেতাকর্মীরা পদে পদে নাজেহাল হচ্ছেন। চান্দিনার এমপি অধ্যাপক আলী আশরাফের মৃত্যুর পর সেলিম চেয়ারম্যানের নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়েছে বলে দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ।
মাইজখার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী সেলিম চেয়ারম্যান বিএনপি পরিবারের সদস্য। তার বাহিনীর লোকজন এলাকায় ব্যাপক চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। সেলিম চেয়ারম্যান ও তার বাহিনীর অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। আমাকে অপমান ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রবীণ সদস্য রেহান উদ্দিন প্রধান বলেন, আমি ৫০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমাকেও নানাভাবে অপমান ও নির্যাতন করেছে সেলিম চেয়ারম্যান। কিছুদিন আগে বাড়ি থেকে আমাকে তুলে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছিল। আমি তার বিচার চাই।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাধব সাহা বলেন, আমার অপরাধ একটাই-আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। সেলিম চেয়ারম্যান ও তার বাহিনীর হাতে আমি একাধিকবার মারধরের শিকার হয়েছি। এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছি। সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী মনির বলেন, সেলিম চেয়ারম্যান ও তার বাহিনীর অত্যাচার-অবিচারের হাত থেকে আমরা রেহাই পেতে চাই। যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান প্রধান বলেন, সেলিম চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে তার বাহিনীর লোকজন আমাদের ১১টি পরিবারের ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। এ বাহিনীর অত্যাচারে এলাকা ছেড়ে আমরা পাশের উপজেলায় বসবাস করছি। এছাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক খোকন ভৌমিক, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল হাশেম, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল নোমান, যুবলীগ সদস্য শাহাদাৎ হোসেন স্বপন, ছাত্রলীগ নেতা আরিফ আহমেদসহ শ শ নেতাকর্মী চেয়ারম্যানের হাতে নির্যাতিত ও লাঞ্ছিত হয়েছেন। এসব নেতাকর্মীর অভিযোগ থানা-পুলিশ গ্রহণ করেনি বলেও ভুক্তভোগীরা জানান। এর প্রতিকার চেয়ে নির্যাতিতরা কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান শাহ সেলিম প্রধান বলেন, আমি দলের কোনো নেতাকর্মীকে হয়রানি বা নির্যাতন করিনি। এটা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ও চক্রান্ত। বরং পাঁচ বছর ধরে আমিই দলের নেতাকর্মীদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছি। এ বিষয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ম. রুহুল আমীন বলেন, মাইজখার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের চেয়ারম্যান শাহ সেলিম প্রধান ও তাঁর লোকজন অত্যাচার করছে বলে অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।


