মাদককাণ্ডে গ্রেফতার হয়ে তিন সপ্তাহ কারাগারে থেকে সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হন শাহরুখপুত্র আরিয়ান খান। কারামুক্ত হলেও ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) ডাকে তাকে সাড়া দিতে হবে মাঝেমধ্যে।
রোববার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরিয়ানকে সমন জারি করেছিল এনসিবি। কিন্ত এদিন তিনি এনসিবি কার্যালয়ে যাননি। কারণ হিসেবে জানা গেছে জ্বরে ভুগছেন এই তরুণ। খবর এনডিটিভির।
এনসিবির এন্ট্রি ড্রাগ এজেন্সি জাহাজে মাদককাণ্ডের ঘটনায় আরিয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এনসিবির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার সিং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শনিবার মুম্বাই পৌঁছান। এদিন আবরাজ মার্চেন্ট ও অচিত কুমারকেও ডাকা হয়েছিল। তারা দুজন হাজির হলেও আরিয়ানকে দেখা যায়নি।
আরিয়ানের জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা ছিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত। কিন্তু শাহরুখপুত্র হাজির হননি এনসিবি কার্যালয়ে। পরে এনসিবি কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, আরিয়ান জ্বরে ভুগছেন। এ কারণে তিনি এনসিবি কার্যালয়ে আসতে পারেননি।
এর আগে শুক্রবার ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) কার্যালয়ে হাজির হয়েছিলেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখপুত্র আরিয়ান খান।
মাদককাণ্ডে গ্রেফতার হয়ে ২২ দিন জেল খেটে ৩০ অক্টোবর ছাড়া পান আরিয়ান। এর আগে আর্থার রোডের কারাগারে তিন সপ্তাহ থাকেন ২৩ বছর বয়সি এ তরুণ।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়, মুম্বাইয়ের মাদকবিরোধী সংস্থা আরিয়ানের কাছ থেকে কোনো মাদক পায়নি। তবে তার হোয়াটসঅ্যাপ আলাপে মাদক কেনাবেচায় সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়ার দাবি করে এনসিবি।
নিম্ন আদালতে দুদফা জামিন আবেদন বাতিল হয়ে যায়। পরে ২৯ অক্টোবর মুম্বাই হাইকোর্ট ১৪ শর্তে আরিয়ানকে মুক্তি দেয়। সেই শর্ত মোতাবেক আরিয়ান পুলিশকে না জানিয়ে মুম্বাই ত্যাগ করতে পারবে না। প্রতি শুক্রবার এনসিবি কার্যালয়ে তাকে হাজিরা দিতে হবে। এসব শর্ত না মানলে আরিয়ানের জামিন বাতিল হয়ে যাবে।
এদিকে আরিয়ানকে ছাড়ানোর জন্য ঘুস দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাহরুখ খানের ম্যানেজার পূজা দাদলানির বিরুদ্ধে। অপরদিকে সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নবাব মালিক দাবি করেছেন, ক্রুজ পার্টি পুরোটাই সাজানো ছিল। আসলে আরিয়ানকে অপহরণ করে টাকা আদায়ের উদ্দেশ্য ছিল। নবাব এই অপহরণের সঙ্গে এনসিবি কর্মকর্তা সমীর ওয়াংখেড়ে যুক্ত ছিলেন বলেও দাবি করেছেন।


