দীর্ঘ ১০ মাস ১৫ দিন পর শীর্ষ তিন পদে পূর্ণতা এসেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি)। গত বছরের ২০ আগস্ট একইসঙ্গে আগের উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ মেয়াদ শেষ করলে ২১ আগস্ট থেকে শীর্ষ তিন পদের দুটিতে শূন্যতা শুরু হয়।
পরে গত ২২ ফেব্রুয়ারি মেয়াদ শেষ করেন উপ-উপাচার্যও। পদ তিনটিতে পৃথক সময়ে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত ৩০ জুন নতুন উপ-উপাচার্য নিয়োগের মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পায় প্রশাসনিক শীর্ষ পদগুলো।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ আগস্ট প্রথমবারের মতো উপাচার্য পদে মেয়াদ শেষ করেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী। একইসঙ্গে কোষাধ্যক্ষ পদে মেয়াদ পূর্ণ করেন আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা। ফলে ২১ আগস্ট থেকে পদ দুটি শূন্য হয়ে পড়ে।
এর এক মাস আট দিন পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালামকে উপচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে উপাচার্য পদ পূরণ হলেও শূন্য থেকে যায় কোষাধ্যক্ষ পদ।
এরপর গত ২২ ফেব্রুয়ারি উপ-উপাচার্য পদে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়াদ শেষ করেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান। এর ফলে আবারো শীর্ষ তিন পদের দুটিতে শূন্যতা ফিরে আসে।
এ দিকে শূন্য হওয়ার ৯ মাস ১৫ দিন পর গত ৫ মে কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পান অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া। এতে করে উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ পদ পূর্ণ হলেও উপ-উপাচার্য পদে শূন্যতা থেকে যায়।
সর্বশেষ গত ৩০ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমানকে উপ-উপাচার্য পদে নিয়োগের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১০ মাস ১৫ দিন তথা ৩১৮ দিন পর শীর্ষ তিন পদে পুনরায় পূর্ণতা ফিরে আসে।
এদিকে, উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ পদ শূন্য হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও মেগা প্রকল্পের অধীন উন্নয়ন কাজে স্থবিরতা নেমে আসে। পরবর্তী সময়ে উপাচার্য নিয়োগের মধ্য দিয়ে এ সমস্যা কিছুটা কাটলেও কোষাধ্যক্ষ ও উপ-উপাচার্য না থাকায় উপাচার্যের একার পক্ষে সব সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে কাজের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রশাসনিক শীর্ষ পদগুলোর শূন্যতা কাটায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। লকডাউন পরবর্তী সময়ে নতুন প্রশাসনের নেতৃত্বে সবাই আবারো কর্মতৎপর হয়ে উঠবে এমনটাই প্রত্যাশা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের।


