যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি ফর দ্য ক্রিয়েটিভ আর্টস (ইউসিএ) কখনো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে কালো তালিকাভুক্ত করে নাই; বরং অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (৩১ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এমদাদুল হক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের কমিউনিটিভিত্তিক কিছু গণমাধ্যমে ইউসিএ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এমন সংবাদ প্রচার করে। বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন ইউসিএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউসিএ কর্তৃপক্ষ জানায়, ইউসিএ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে কালো তালিকাভুক্ত করে নাই। বরং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইউসিএতে ভর্তি হতে ইচ্ছুক হলে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করে থাকে।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর থেকে আমি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি, চেষ্টা করেছি, অনবরত যোগাযোগ করেছি ইউসিএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। আমি ফোন করেছি, মেইল করেছি, সর্বশেষ মঙ্গলবার মেইল এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে- তারা কখনই আমাদের সাসপেন্ড করে নাই। এখান থেকে বুঝাই যায় যে, সংবাদটি ফেক। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান নষ্ট করতে চেয়েছে তারা ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসম্মান নষ্ট করতে যে দুষ্টচক্র কাজ করছিল তারা পারেনি। আমরা আমাদের মানটি ফিরে পেলাম। মানটি অক্ষুন্ন থাকল।
তিনি আরও বলেন, দেশের যে সংবাদমাধ্যমটি সংবাদ প্রচার করেছে সেটি যে মিথ্যা তা তো প্রমাণিত হয়েছে। আমরা এতদিন এ ব্যাপারে সব ডকুমেন্টস না থাকায় ব্যবস্থা নিতে পারেনি। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলব এবং ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।
উল্লেখ্য, ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি ফর দ্য ক্রিয়েটিভ আর্টস (ইউসিএ) নামের একটা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘কালো তালিকাভুক্ত করেছে’ এমন সংবাদ প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যের কমিউনিটিভিত্তিক একটি গণমাধ্যম। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের একটি বেসরকারি গণমাধ্যমও সংবাদ প্রচার করে। সেখানে দেশের ২৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামও রয়েছে এমন দাবি করা হয়। তবে ইংরেজি নামে ঢাকার একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সঙ্গে মিল থাকায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেন এবং বিষয়টি স্পষ্ট করার দাবি জানান।


