২৭ বছর শিরোপা খরায় ভুগেছিল ব্রাজিল

0
231

বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব থেকেই দুর্দান্ত খেলে যাচ্ছিল ব্রাজিল। যার ধারাবাহিকতা কোপা আমেরিকায়ও দেখা গেছে। গ্রুপপর্বে শীর্ষস্থান দখল করে নকআউটে উঠে সেলেকাওরা।

কিন্তু ফাইনালে এসে ধরাশায়ী হয়েছে আর্জেন্টিনার কাছে।

ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম মারকানায় ফের এক ট্রাজেডি লেখা হলো ব্রাজিলের।

গত ১১ জুলাই কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপার স্বাদ নিল আর্জেন্টিনা।

লিওনেল মেসির হাত ধরে ২৮ বছর পর বড় কোনো টুর্নামেন্টের ট্রফি ঘরে তুলল আলবিসেলেস্তেরা।

যে কারণে শিরোপা জয়ের উল্লাসটা একটু বেশিই করেছে টিম আর্জেন্টিনা। প্রশ্ন উঠতেই পারে, বিশ্বফুটবলের পরাশক্তি আর্জেন্টিনা একটি শিরোপার জন্য অপেক্ষা করেছে ২৮টি বছর!

যদিও বিষয়টি মোটেই আশ্চর্যের কিছু নয়, কারণ দীর্ঘবছর শিরোপার খরায় ভোগার ইতিহাস আছে ব্রাজিলেরও।

এক, দুই বছর নয়, গুণে গুণে ২৭টি বছর বৈশ্বিক কোনো শিরোপা ঘরে তুলতে পারেনি লাতিন আমেরিকার এই দেশ।

যদিও ব্রাজিলের হিসাবটি অনেক পুরনো। তবে তা ভেবে ইতিহাস তো মুছে দেওয়া যাবে না।

ইতিহাস বলছে, ১৯২২ সালের পর থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত কোনো ট্রফি জিততে পারেনি ব্রাজিল। ঘরের মাঠে ১৯২২ সালে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোপার শিরোপা জেতে দলটি। এরপর ১৯৪৯ সালে সেই ঘরের মাঠেই ট্রফি জেতে শিরোপ খরা কাটায় সেলেকাওরা।

মাঝের ওই ২৭ বছরে ১৪ বার কোপা আমেরিকা অনুষ্ঠিত হয়, বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় তিনবার। একটি শিরোপারও স্বাদ নিতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নরা।

ওই সময়ের মধ্যে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় -১৯৩০, ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে। ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিল গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ে যায়, শিরোপার লড়াই তো ভাবনার বাইরে। সেবার চ্যাম্পিয়ন হয় উরুগুয়ে আর রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা।

১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে উঠতে সক্ষম হয় ব্রাজিল। সেবার চ্যাম্পিয়ন হয় ইতালি আর রানার্সআপ হয় চেকস্লাভাকিয়া। আর ১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ব্রাজিল। সেবারও চ্যাম্পিয়ন হয় ইতালি আর রানার্সআপ হয় হাঙ্গেরি।

আর ১৯২২ সালের পর ১৪টি কোপা আমেরিকায় ৮ বার চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা, ৫ বার চ্যাম্পিয়ন হয় উরুগুয়ে। একবার শিরোপা ঘরে নেয় পেরু।

এরপর ১৯৪৯ সালে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোপা চ্যাম্পিয়ন হয়ে ২৭ বছর পর শিরোপার খরা মেটায় ব্রাজিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here