স্কুটি চালিয়ে ক্যাম্পাসে যাওয়া হলো না মিমের

0
175

স্কুটি চালিয়ে উত্তরার বাসা থেকে ক্যাম্পাসে যাচ্ছিলেন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মাইশা মমতাজ মিম (২১)। শুক্রবার সকাল ৭টায় কুড়িল ফ্লাইওভারে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

পাশেই পড়ে ছিল তার স্কুটিটি। পুলিশের ধারণা, কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় সকালে কোনো এক সময় মারা যান তিনি। মিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মিমের অকাল মৃত্যুর খবর সইতে না পেরে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন গাজীপুরের একটি কলেজের অধ্যক্ষ বাবা নুর মোহাম্মদ মামুন। পরে মামুনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

খিলক্ষেত থানার ওসি মুন্সি সাব্বির আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ফ্লাইওভার থেকে ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। স্কুটিতে চড়ে ক্যাম্পাসে যাচ্ছিলেন তিনি।

ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, একটি কাভার্ড ভ্যান মিমের কাছ ঘেঁষে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় মিম ছিটকে পড়েন।

এদিকে শুক্রবার রাত ১১টায় পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, চট্টগ্রাম থেকে কাভার্ড ভ্যানচালক সাইফুল ইসলাম এবং গাড়িতে থাকা মশিউর রহমান নামে আরেকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের ঢাকায় আনা হচ্ছে।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল মর্গের ভেতরে দুপুরে চলছিল মিমের লাশের ময়নাতদন্ত। মর্গের বাইরে দাঁড়িয়ে নানা স্মৃতিচারণ করছিলেন মিমের মামা, মামি, মামাতো ভাইসহ স্বজনরা।

সবার চোখেমুখে ছিল বিষাদের ছাপ। মিমের মামাতো ভাই অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন যুগান্তরকে বলেন, মিমের বাবা নুর মোহাম্মদ মামুন গাজীপুরের মৌচাক আইডিয়াল পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ।

তার দুই মেয়ের মধ্যে মিম বড়। তাদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায়। গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার মৌচাকে তাদের নিজেদের বাড়ি রয়েছে। মেয়েদের লেখাপড়ার কারণে তিন বছর ধরে উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরে একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে থাকেন।

মিমের ছোট বোন রৌদোসী মমতাজ মৌ এবার রাজউক থেকে এইচএসসি পাশ করেছেন। শুক্রবার তার মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা ছিল। মৌকে নিয়ে সরকারি বাংলা কলেজ সেন্টারে যান তার বাবা।

আর মিম নিজের স্কুটি চালিয়ে সকালে রওয়ানা হয় ক্যাম্পাসের উদ্দেশে। তিনি বলেন, খবর পেয়ে আমরা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে যাই। ছোট বোন মৌ পরীক্ষা দিয়ে বাবাকে নিয়ে হাসপাতালে আসে।

মেয়ের এমন মৃত্যুর খবর সহ্য করতে পারছেন না বাবা। তিনি বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। তিনি জানান, লাশ দাফনের জন্য কালিয়াকৈরে নিজেদের বাড়িতেই নেওয়া হচ্ছে।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিমের মাথার হাড় ভাঙা ছিল এবং বুকে আঘাতের চিহ্ন ছিল। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

খিলক্ষেত থানার এসআই মিজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, মিম স্কুটি চালিয়ে উত্তরার দিক থেকে এসে কুড়িল ফ্লাইওভারে ওঠার পর ৩০০ ফিট নামার পথে মাঝামাঝি জায়গায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় না অন্য কোনোভাবে তার মৃত্যু হয়েছে সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি বলেন, সড়কে পড়েছিলেন মিম।

তার পাশেই পড়েছিল স্কুটি। ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে মিমকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মিমের মামা হাবিবুর রহমান চুন্নু যুগান্তরকে বলেন, ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্যই সকালে বাসা থেকে বের হয়েছিল মেয়েটা। কীভাবে দুর্ঘটনায় পড়ল, আমরা এখনো জানতে পারিনি।

মিমের আরেক মামা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেসুর রহমান বাদল যুগান্তরকে বলেন, পাঁচ মাস হলো মিম স্কুটি চালাতে শুরু করেছিল। মাথায় হেলমেট পরত। দুর্ঘটনার সময়ও মাথায় হেলমেট ছিল। তবে মূল আঘাতটা মাথায়ই লেগেছে।

নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক শর্মী হোসাইন জানান, মিম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল ২০২০ সালে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এখন ভাষা প্রতিযোগিতা চলছে ক্যাম্পাসে।

মিম সেখানে স্বেচ্ছাসেবীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। শুক্রবার চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই ক্যাম্পাসে যাচ্ছিলেন মিম। মাইশা মমতাজ মিম কালিয়াকৈরে মৌচাক আইডিয়াল পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করে ভর্তি হন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

মিমের স্কুলশিক্ষক আবুল কালাম বলেন, সে অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় জানাজা শেষে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মৌচাকে গ্রামের বাড়ির পারিবারিক গোরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

যাত্রাবাড়ীতে সড়কে শিশু নিহত : এদিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় সোহাগ (১২) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সোহাগের বাড়ি জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায়। বর্তমানে ধলপুর ১৪ নম্বর আউটফল এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকত সে। স্থানীয় একটি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত সোহাগ।

শিশুটির বাবা জহিরুল ইসলাম জানান, ভোরে বাসা থেকে বের হয় সোহাগ। ধারণা করা হচ্ছে, অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে বের হয়েছিল।

পরে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারেন, যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে সোহাগ। পুলিশ সদস্যরা তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here