ইতিহাসের চূড়ায় রোনাল্ডো

0
138

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো বুড়িয়ে গেছেন, আগের মতো খেলতে পারেন না, দলের জন্য বোঝা-কত কিছুই না বলা হয়েছে তাকে নিয়ে। মাঝে ১০ ম্যাচে মাত্র এক গোল করায় ৩৭ বছর বয়সি পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডের শেষ দেখে ফেলেছিলেন অনেকে।

কিন্তু ইতিহাস গড়া হ্যাটট্রিকে রোনাল্ডো আবারও দেখিয়ে দিলেন, সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতে তার মতো কিংবদন্তির একটি ম্যাচই যথেষ্ট। ১২ মিনিটে ম্যানইউকে এগিয়ে দেওয়া প্রথম গোলে রেকর্ড ছোঁয়া, ৩৮ মিনিটের দ্বিতীয় গোলে ইতিহাসের নতুন চূড়ায় পা রাখা। ৮১ মিনিটে হ্যাটট্রিক করে দলের জয় নিশ্চিত করা। সোনায় সোহাগা বুঝি একেই বলে!

প্রাপ্তিতে টইটম্বুর ম্যাচ যেন রোনাল্ডোর জন্য। শনিবার ঘরের মাঠে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে রোনাল্ডো-জাদুতে টটেনহামকে ৩-২ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের চারে উঠে এসেছে ম্যানইউ। ক্যারিয়ারের ৫৯তম হ্যাটট্রিকের পথে রোনাল্ডো গড়েছেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রেকর্ডটি। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন রোনাল্ডো।

পেশাদার ক্যারিয়ারে পর্তুগিজ মহাতারকার গোল সংখ্যা এখন ৮০৭। তিনি ভেঙেছেন অস্ট্রিয়া ও তৎকালীন চেকোস্লোভাকিয়ার সাবেক ফরোয়ার্ড জোসেফ বাইকানের ৮০৫ গোলের রেকর্ড। অফিসিয়াল পরিসংখ্যানবিদদের হিসাবে অনেক আগেই অবশ্য বাইকানকে ছাড়িয়ে গেছেন রোনাল্ডো। তবে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিয়ে বির্তক আছে। চেক ফুটবল ফেডারেশনের হিসাব অনুযায়ী যেমন বাইকানের গোল সংখ্যা ৮২১। ফলে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে তর্কের ঊর্ধ্বে গিয়ে বসতে আরও অন্তত ১৪টি গোল চাই রোনাল্ডোর।

তবে ফিফার হিসাব অনুযায়ী সর্বোচ্চ গোলের নতুন বিশ্বরেকর্ড গত পরশু রাতেই গড়েছেন রোনাল্ডো। পর্তুগিজ তারকা অবশ্য নিজের অর্জনের

চেয়ে দলের জয়েই বেশি উচ্ছ্বসিত, ‘ওল্ড ট্রাফোর্ডে ফেরার পর প্রথম হ্যাটট্রিক পেয়ে দারুণ খুশি আমি। মাঠে ফেরার পর দলকে জেতাতে পারার যে অনুভূতি, তার সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা চলে না। আমরা প্রমাণ করেছি, নিজেদের দিনে যেকোনো দলকে হারাতে পারি আমরা। ম্যানইউর মতো ক্লাবের কোনো সীমা নেই।’ সতীর্থ পল পগবা বলে দিলেন ভক্তদের মনের কথা, ‘দলে যদি ইতিহাসের সেরা স্ট্রাইকার থাকে,

তাতে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে না। আজ তিনি দেখিয়ে দিলেন, কেন তিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here