জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতি না করায় ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ওয়ালিদ নিহাদের ওপর হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে শুরু করা অনশন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের আশ্বাসে স্থগিত করলেন শিক্ষার্থীরা।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচে আমরণ অনশনে বসেন শিক্ষার্থীরা। এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও লোকপ্রশাসন সরকার বিভাগের শিক্ষকদের আশ্বাসে অনশন স্থগিত করেন তারা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তাই আমরা হামলাকারীর বিচার ও সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে আমরণ অনশনে বসেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমরা চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত সময়ে হামলাকারীর বিচার হোক।
তারা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর জালাল উদ্দিন স্যার ও বিভাগের শিক্ষকরা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন- হামলাকারীদের সঠিক বিচার হবে। তাই আমরণ অনশন রোববার পর্যন্ত স্থগিত করেছি। হামলাকারীর বিচার ও দাবি আদায় না হলে আবারো আন্দোলনে যাব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর উজ্জল কুমার প্রধান জানান, আমি তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব। তদন্ত রিপোর্ট প্রায় শেষের দিকে। তদন্ত রিপোর্ট প্রশাসনের কাছে পেশ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় ট্রেজারার ও ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর জালাল উদ্দিন বলেন, এ ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনোভাবেই কাম্য নয়। তদন্ত কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দাখিল করার কথা থাকলেও দুই কার্য দিবসেই শেষ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ছুটিতে আছেন। রোববার আসলে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন রোববার পর্যন্ত স্থগিত করেছে।
এর আগে ছাত্রলীগ না করায় লোকপ্রশাসন ও সরকার বিদ্যা বিভাগের ২০১৯-২০ বর্ষের ওয়ালিদ নিহাদ নামে এক ছাত্রকে রোববার হলের একটি কক্ষে ডেকে রাতভর নির্যাতন করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারসহ সাত দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন শুরু করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।


