শুক্রবার ,১ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 731

বাগান বাড়িতে জাহিদ হাসান ও নাদিয়া

শহর ছেড়ে একটু দূরে মনোরম পরিবেশে একটি রিসোর্ট তৈরি করেছেন জাহিদ হাসান। যার নাম ‘বাগান বাড়ি’। এখানে অবকাশযাপনের জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষজন আসেন। অনেকেই এখানে এসে অনৈতিক কাজেও লিপ্ত হন।

এর মালিক হিসেবে জাহিদ হাসান তাই চড়ামূল্য নেন আগত দর্শনার্থীদের কাছ থেকে। এতে সামাজিকভাবে বেশ সমালোচিত হন জাহিদ হাসান। কিন্তু নানা সমালোচনা সত্ত্বেও তিনি এ রিসোর্টে চালিয়ে যেতে থাকেন অপকর্ম।

এক সময় সাংবাদিকদের গোচরে আসে এ রিসোর্টের কর্মকাণ্ড। সালহা খানম নাদিয়া খবর পেয়ে সেখান যান। জাহিদ হাসানকে অনুরোধ করেন এখানে অপকর্ম বন্ধ করতে। কিন্তু জাহিদ হাসান কোনোভাবেই ওই সাংবাদিকের কথায় কর্ণপাত করেন না। তবে প্রতিবাদী সাংবাদিক অনড় তার দাবিতে।

এভাবেই শুরু হয় একটি জটিলতা। এভাবেই নানা ঘটনায় এগিয়ে যেতে থাকে তাদের কর্মকাণ্ড। পাঠক, ঘটনাটি বাস্তবে ঘটেনি। নাটকে অভিনয়ের প্রয়োজনে এমন গল্প তৈরি করা হয়েছে। ধারাবাহিক এ নাটকটির নাম ‘বাগান বাড়ি’।

টিপু আলম মিলনের গল্পে এটির চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন জাকির হোসেন উজ্জ্বল। পরিচালনা করেছেন হানিফ খান ও রোহান রুবেল।

এটি ঈদের দিন থেকে সপ্তম দিন পর্যন্ত রাত ৯টা ২০ মিনিটে বৈশাখী টিভিতে প্রচার হবে।

এতে অভিনয় প্রসঙ্গে জাহিদ হাসান বলেন, ‘গতানুগতিক কোনো গল্প এটি। সমাজে চলমান একটি ঘটনাকে এ নাটকের মাধ্যমে তুলে আনা হয়েছে। আশা করছি নাটকটি দর্শকের ভালো লাগবে।’

ঈদে তারকাবহুল তিন নাটক

আগামী ঈদে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ক্লাব ইলেভেন’ থেকে প্রকাশ পাচ্ছে এ সময়ের আলোচিত দুই নির্মাতার জনপ্রিয় তারকা শিল্পীদের অভিনীত তিনটি নাটক।

এ তিন নাটকের মধ্যে কাজল আরেফিন অমি নির্মাণ করেছেন- ‘আপন’ এবং ‘অদ্ভুত’ শিরোনামের দুটি নাটক। নাটক দুটি রচনাও করছেন তিনি। মাবরুর রশীদ বান্নাহ নির্মাণ করেছেন ‘মায়ের ডাক’ শিরোনামের একটি নাটক। এই নাটকের গল্প লিখেছেন আকবর হায়দার মুন্না।

পারিবারিক গল্পে নির্মিত ‘আপন’ নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন- তারিক আনাম খান, আরফান নিশো, মুনিরা মিঠু, শামীমা নাজনীন, তাসনিয়া ফারিন, জিয়াউল হক পলাশ, সুমন পাটোয়ারীসহ অনেকে।

ভৌতিক-কমেডি গল্পে ‘অদ্ভুত’ নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন- সাবিলা নূর, জিয়াউল হক পলাশ, চাষী আলম, শরাফ আহমেদ জীবন, সুমন পাটোয়ারী, পাভেল, আব্দুল্লাহ রানাসহ অনেকে।

পারিবারিক বন্ধনে, মায়ার বাঁধনে বেঁধে রাখার গল্পে নির্মিত ‘মায়ের ডাক’ নাটকে পরিচালক বান্নাহ বসিয়েছেন তারার হাট। যেখানে অভিনয় করেছেন দিলারা জামান, তাহসান খান, মম, তৌসিফ, জোভান, ফারিন, কেয়া পায়েল ও শাহেদ আলীসহ একঝাঁক তারকা।

মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া প্রেম-বিরহ, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, মায়া-মমতা, দায়িত্ব এবং দায়বদ্ধতার মিশেলে নির্মিত হয়েছে এ নাটকগুলো- এমনটাই জানান ক্লাব ইলেভেনের কর্ণধার আকবর হায়দার মুন্না। তিনি আশা করছেন নাটকগুলো দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে।

মোশনরক এন্টারটেইনমেন্টের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে নির্মিত এ নাটক তিনটি ক্লাব ইলেভেনের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ হবে।

গরমে তৈলাক্ত ত্বকের ঘরোয়া প্রতিকার

গরমে তেলতেলে ত্বকের সমস্যা অনেকেরই দেখা দেয়। এমন ত্বক বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠে। তবে তৈলাক্ত ত্বক মুখের বলিরেখা ও মুখের রঙের পরিবর্তন হওয়া থেকে সুরক্ষা দিয়ে থাকে।

ত্বক তেলতেলে থাকলে তাতে সহজে ধুলোবালি আটকে যায়। যার ফলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়ে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই এমন হলে নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখার বিকল্প নেই।

বাড়িতে খুব সাধারণভাবেই নেওয়া যেতে পারে তেলতেলে ত্বকের যত্ন। নিয়মিত শসার রস দিয়ে মুখ পরিষ্কার করলে ত্বকের তৈলাক্তভাব দূর হয়ে যায়। শসার রস করে তাতে চালের গুঁড়া মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে ব্যবহার করলেও ভালো ফল পাওয়া যায়।

গোলাপ জল ও লেবুর রস আধা ঘণ্টা মুখে লাগিয়ে রেখে আলতোভাবে তুলা দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। এতে ত্বক পরিষ্কারসহ ব্রণ এবং ফুসকুড়ির দাগ থাকলে সেটিও চলে যাবে।

এক চামচ বেসনের সঙ্গে অল্প হলুদের গুঁড়ো ও টকদই একসঙ্গে মিশিয়ে তা কিছুক্ষণ মুখে লাগিয়ে রাখতে হবে। এতে মুখের তৈলাক্তভাব দূর হবে।

শসার রসে বেশন বা আটা মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে মুখে ও গলায় ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে।

ডিমের সাদা অংশ মুখে লাগিয়ে এর ওপর টিস্যু পেপার দিয়ে ১০ মিনিট রাখতে হবে। শুকানো হয়ে গেলে ত্বক পরিষ্কার করে নিলেই ত্বকের লোমকূপ বড় দেখানোর সমস্যা দূর হবে।

নিয়মিত অ্যালোভেরা জেল দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করলে তা তেলতেলেভাব দূর করতে অনেক কার্যকরী।

রসুনে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিক থাকে। অনেকের কাছেই অজানা যে, ত্বকের তেলতেলে ভাব দূর করতে রসুনের পেস্ট ব্যবহারে অনেক সুফল পাওয়া যায়।

চন্দনের গুণাবলি রয়েছে অনেক। ত্বকের তেলতেল ভাব দূর করতে চন্দনের গুঁড়োর সঙ্গে মুলতানি মাটি ও এতে পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে ১০-১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখতে হবে। তা শুকিয়ে যাওয়ার পর ধুয়ে ফেললেই মিলবে তেলহীন মসৃণ ত্বক।

এ ছাড়া শুধু মুলতানি মাটির সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট করে একই পদ্ধতিতে ব্যবহার করলেও দূর হবে তৈলাক্তভাব।

আপেলের রস ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে ১৫ মিনিট মুখে লাগিয়ে রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললেই মিলবে সুফল।

বারবার মুখ শুকিয়ে যায়? হতে পারে মারাত্মক বিপদ

অনেকেই বলে থাকেন মুখ শুকিয়ে যায়। পর্যাপ্ত পানি পানের পরও এই সমস্যা অনেকের দেখা দেয়। অনেকে এটি ডায়াবেটিসের লক্ষণ বলে ধরে নেন। ডায়াবেটিসের চেয়েও বড় সমস্যার কারণে এমনটি হতে পারে। তাই মুখ শুষ্ক হয়ে গেলে বিষয়টি গুরুত্ব না দেওয়ার কোনো কারণ নেই। এই সমস্যা দীর্ঘদিন জিইয়ে রাখতে মারাত্মক বিপদও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমোনের তারতম্যের কারণে মুখে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। থাইরয়েড হরমোন বেশি হওয়ার কারণে বার্নিং মাউথ সিনড্রোম অর্থাৎ মুখে জ্বালাপোড়া হতে পারে। যাদের থাইরয়েড হরমোনের পরিমাণ কম থাকে তাদের ক্ষত বা আলসার দেরিতে শুকায়।

হাইপোথাইরয়ডিজমে রোগীরা জিহ্বার মেটালিক স্বাদ পেতে পারে। মাঝে মাঝে হাইপোথাইরয়ডিজমে জগ্রেন্স সিনড্রোম দেখা দিয়ে থাকে, যার কারণে শুষ্ক মুখের সৃষ্টি হয়ে থাকে।

মুখ শুকিয়ে থাকার কারণ ও প্রতিকার নিয়ে যুগান্তরকে পরামর্শ দিয়েছেন মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. ফারুক হোসেন।

শুষ্ক মুখের প্রভাবে দন্তক্ষয়ের পরিমাণ বেড়ে যায়। হাইপোথাইরয়ডিজমে প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে ম্যাক্রোগ্লসিয়া বা জিহ্বা বড় হতে পারে। ঠোঁট বড় হয়ে যেতে পারে। এটি হতে পারে পানি এবং প্রোটিন জমা হওয়ার কারণে। ম্যান্ডিবল আন্ডার ডেভেলপড্ বা সঠিকভাবে গঠন হয় না অথবা পুরোপুরি গঠন হয় না। তাছাড়া পেরিওডন্টাল রোগের ঝুঁকি থাকে।

থাইরয়েড হরমোন কম বা বেশি হলে পেরিওডন্টাল রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। হাইপারথাইরয়ডিজমে পেরিওডন্টাল রোগ, ম্যাক্সিলারি বা ম্যান্ডিবুলার অস্টিওপরোসিস এবং দাঁত তাড়াতাড়ি ওঠে।

হাইপোথাইরয়ডিজমের রোগীদের ঘা বা ক্ষত যেহেতু দেরিতে শুকায় সে কারণে অস্ত্রোপচারের পর সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই দাঁত তোলা অথবা সার্জারির সময় সতর্ক থাকতে হবে। বয়ঃসন্ধিকালে ইস্ট্রোজেন এবং প্রজেসটেরন হরমোন বেশি নিঃসরণ হওয়ার কারণে মাড়ি রোগ দেখা দিতে পারে। দাঁতে পাথর থাকলে স্কেলিং করিয়ে নিতে হবে। জিনজাইভাল হাইপারপ্লাসিয়া হতে পারে। মনে রাখতে হবে কিছু ওষুধের কারণেও জিনজাইভাল হাইপারপ্লাসিয়া হতে পারে। মাসিকের সময় প্রজেসটেরন হরমোন বেশি হওয়ার কারণে মাড়িতে আলসারসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রে তেমন কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন নাই।

গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাস ইস্ট্রোজেন লেভেল দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এতে বমি বমি ভাব হতে পারে। এ সময় গর্ভবতীর মুখের অধিকতর যত্ন নিতে হবে। শুধু ইস্ট্রোজেন নয় বরং প্রজেসটেরন লেভেলও বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। দুটি হরমোন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মাড়িতে রক্ত সঞ্চালনও বেশি হয়। সে কারণে মাড়ি অধিকতর সংবেদনশীল হয়ে থাকে। মাড়ি ফুলে যেতে পারে। এ সময় জেল জাতীয় টুথপেস্ট ব্যবহার করবেন না।

গর্ভাবস্থায় তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে মুখ ও দাঁতের চিকিৎসা করে নিতে হবে। জরুরি চিকিৎসা যে কোনো সময় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী করবেন। মেনোপজ অর্থাৎ মাসিক যখন বন্ধ হয়ে যায় তখন হরমোনের তারতম্যের কারণে বার্নিং মাউথ সিনড্রোম বা মুখের জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে।

হরমোনের তারতম্যের কারণে অনেক সময় মেয়েদের মেজাজ খিটখিটে থাকে। তাই মুখের কোনো সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই মুখের ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। মেনোপজের সময় বা মেনোপজ পরবর্তীকালে বিষণ্নতায় আক্রান্ত হলে মুখে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। তাই এসব বিষয়ে অবশ্যই সচেতন হতে হবে।
মেনোপজ পরবর্তীকালে নারীর মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। মেনোপজের সময় হরমোনের তারতম্যের কারণে শুষ্ক মুখ হতে পারে। শুষ্ক মুখের কারণে মুখে তেতো স্বাদ হতে পারে। জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন করলে শুষ্ক মুখ হতে পারে। মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হতে পারে।

মনে রাখতে হবে অন্যান্য অনেক কারণে একই ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। ইস্ট্রোজেন এবং প্রজেসটেরন হরমোন মাড়িতে রক্তের প্রবাহ বৃদ্ধি করে। মাড়ি ফুলে যেতে পারে। মাড়ি থেকে রক্তপাত হতে পারে। মাড়ি রোগসহ মাড়ি এবং দাঁত অধিক সংবেদনশীল হতে পারে। এ বিষয়গুলো অবশ্যই চিকিৎসার সময় গুরুত্ব দিতে হবে। মেয়েদের মধ্যে যারা নিয়মিত জন্ম নিরোধক ওষুধ বা পিল সেবন করেন তাদের ক্ষেত্রে মাড়ি রোগ দেখা দিতে পারে।

দাঁত তোলার পর ড্রাই সকেট বা অ্যালভিওলার অস্টাইটিস দেখা দিতে পারে। যারা নিয়মিত জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন করেন তাদের ক্ষেত্রে মাসিকের শেষ সপ্তাহে ২৩-২৮ দিনের মধ্যে দাঁত তোলা ভালো। কারণ এ সময় ইস্ট্রোজেন লেভেল কম থাকে, অথবা কার্যকর থাকে না। ইস্ট্রোজেন প্রণোদনা দেয় ফিব্রিনোলাইসিসের ক্ষেত্রে। ফলে রক্ত জমাট বাঁধা প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া ইস্ট্রোজেন ক্ষতস্থান শুকানোর প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। শরীরে স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য গ্রোথ হরমোন আবশ্যক। কিন্তু যখন কোনো কারণে মাত্রাতিরিক্ত গ্রোথ হরমোন নিঃসরিত হয় তখন মানবদেহের নিচের চোয়াল বা ম্যান্ডিবল বড় হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দাঁত ফাঁকা হয়ে যায়।

উপরের দাঁত এবং নিচের দাঁতের স্বাভাবিক রিলেশন নষ্ট হয়ে যায় বলে এ অবস্থায় দাঁতের চিকিৎসা করতে হলে আগে চোয়াল ঠিক করতে হবে। অর্থাৎ অর্থোগন্যাথিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। অতএব বুঝতেই পারছেন একটি হরমোন বেশি নিঃসরণ হওয়ার কারণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

ক্রমাগত দুশ্চিন্তা করলে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল নিঃসরিত হয়ে থাকে। এ ধরনের রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীর ওষুধের ইতিহাসসহ পূর্ণ ইতিহাস গ্রহণ করতে হবে। সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করার পরেই রোগীর মুখের চিকিৎসা প্রয়োজন হলে করতে হবে। অক্সিটোসিন হরমোন বা লাভ হরমোন মুখের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে থাকে। অতিরিক্ত মানসিক চাপে দাঁত কামড়ানো, ক্যানকার সোর বা ক্ষত, মাড়ি রোগ এবং টেম্পেরোম্যান্ডিবুলার জয়েন্টের অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে।

এডরেনালিন হার্ট রেট বৃদ্ধি করে, রক্তচাপ বৃদ্ধি করে। দাঁতের চিকিৎসার সময় রোগী অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করলে চিকিৎসা শুরু করার আধা ঘণ্টা আগে ট্রাংকুলাইজার জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে রোগীর আগের ইতিহাস অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। হরমোন শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।

আবার হরমোনের কম-বেশি হওয়ার কারণে আমাদের শরীরে এবং মুখে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়ে থাকে। তাই হরমোন সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

 

ধুলার অ্যালার্জিতে বিরক্ত? প্রতিত্রাণের ৭ উপায়

আমাদের কাছে অতিপরিচিত একটি সমস্যা হচ্ছে অ্যালার্জি। ধুলোবালি থেকেও অনেকে অ্যালার্জিতে ভোগেন। এই সমস্যায় ভোগেন এমন অনেকেই আছেন, যারা জানেন না কীভাবে করতে হবে মোকাবিলা। কিন্তু সহজ কিছু উপায়ে আপনিও পেতে পারেন এ সমস্যা থেকে মুক্তির স্থায়ী সমাধান।

অ্যালার্জির সমস্যার মূল কারণ হিসেবে কাজ করে বিভিন্ন ধরনের মাইট বা মাকড়। আবার বাসার ধুলার মধ্যে থাকা মাইট পোকার মলের কারণেও মানুষের অ্যালার্জি হয়ে থাকে৷আমাদের বাসায় থাকা ধুলার মধ্যে এই মাকড়গুলো লুকিয়ে থাকে। তাতে খালি চোখে তাদের দেখা যায় না। আর ধুলায় থাকার পাশাপাশি অদৃশ্য এই মাকড়টি আমাদের বিছানাতেও থাকে অনেক বেশি।

অ্যালার্জির কারণে অনেকের হাঁচি-কাশি, কারও ক্ষেত্রে চোখ দিয়ে পানি পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া অনেকের শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও দেখা দেয়। এমন সমস্যার শিকার হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে ঘরোয়াভাবেও মিলতে পারে এ সমস্যার সমাধান।

জানুন কীভাবে ঘরোয়াভাবে পাবেন ধুলার অ্যালার্জি থেকে মুক্তি—

১. বিছানা পরিষ্কার রাখা

অ্যালার্জির কারণে মাঝে মাঝে অনেকের নাক বন্ধ হয়ে থাকে অথবা ঠাণ্ডা লেগে থাকে। আবার এ সমস্যায় অনেকের ওষুধ খেয়েও লাভ হয় না খুব একটা। তবে এ থেকে অনেকটাই মুক্তি পেতে পারেন আপনার বিছানাকে পরিষ্কার রেখে। বিছানায় নানান মাকড়, ধুলোবালি, ছারপোকা ইত্যাদি থাকে, যা সাধারণ চোখে দেখা যায় না। আর অ্যালার্জি হওয়ার পেছনে এরাই দায়ী। তাই এগুলো থেকে মুক্তি পেতে বিছানা রাখতে হবে পরিষ্কার।

২. ঘরের পর্দা পরিষ্কার রাখা

অ্যালার্জি থেকে মুক্ত থাকতে হলে নিয়মিত ঘরের দরজা, জানালার পর্দা পরিষ্কার রাখতে হবে। এ ছাড়া পর্দার কাপড় এমন নির্বাচন করতে হবে যাতে ধুলাবালি আটকাবে কম।

৩.কাপড়ের খেলনা ঘরে না রাখা
আমরা অনেকেই কাপড়ের টেডি বা খেলনা রাখি ঘরে। আর এ ধরনের খেলনাগুলোতে ধুলা জমে অনেক বেশি। এ সমস্যা সমাধান করতে পারেন খুব সহজেই। মাঝে মাঝে আপনার প্রিয় কাপড়ের টেডি বা খেলনাকে ডিপফ্রিজে রেখে দিন কিছুক্ষণ। এতে করে এর মাঝে থাকা মাকড় বা ছারপোকাগুলো মরে যাবে।

৪. সোফা পরিষ্কার রাখা
বেশিরভাগ সোফার কাপড়েই অনেক বেশি পরিমাণে ধুলা আটকে থাকে৷ তাই অ্যালার্জি সমস্যা থেকে দূরে থাকতে সোফার কাপড় পরিষ্কার করতে হবে নিয়মিত। আর সম্ভব হলে কাপড়ের পরিবর্তে চামড়ার তৈরি সোফাসেট বাছাই করুন। কারণ এতে ধুলা জমে কম।

৫. চাদর, বালিশ, লেপ, কম্বল নিয়মিত পরিষ্কার করা
অ্যালার্জির সমস্যা থেকে রেহাই পেতে নিয়মিত ঘরের বিছানা, চাদর, বালিশ, লেপ, কম্বল ইত্যাদি পরিষ্কার করতে হবে। মাঝে মাঝে সেগুলোকে রোদে রাখতে পারেন। এতে মাকড় ও ছারপোকা অনেকটাই দূর হবে।

৬. কার্পেট বা পাপস পরিষ্কার করা
ঘরে কার্পেট বা পাপস রাখা থাকলে সেগুলোতে অনেক পরিমাণে ধুলা জমে। এটি অন্যতম কারণ হতে পারে আপনার অ্যালার্জি হওয়ার। তাই এর সমাধানে কিছু দিন পর পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আর আমাদের দেশে গরমের সময়ে ঘরে কার্পেট না রাখাই ভালো।

৭. বাইরের ধুলাবালি
আমাদের সবাইকে নিয়মিত বাইরে যেতেই হয়। আর বাইরে বের হওয়া মানেই বাইরের ধুলাবালি শরীরে বহন করা। তাই বাইরে থেকে ঘরে এসে প্রথমেই বাইরের জামা পরিবর্তন করুন এবং গোসল সেরে ফেলুন। এতে আপনার চুল, নাক, মুখ, চোখ, হাতে লেগে যাওয়া বাইরের ধুলাবালি আপনার অ্যালার্জি হওয়ার কারণ হতে পারবে না।

যে কারণে লিটনের বদলে কিপিং করলেন সোহান!

আট ম্যাচ পর দুর্দান্ত এক ইনিংস খেললেন লিটন দাস। ১১০ বলে হাঁকালেন ম্যাচ উইনিং সেঞ্চুরি। দ্রুত ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ দল যখন ধুকছিল তখন ত্রাতা হয়ে ক্রিজে দাঁড়িয়ে থাকেন লিটন।

খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে নিয়ে ২৭৬ রানের বড় লক্ষ্য এনে দেন।

বাবা-মা করোনায় আক্রান্তের কারণে মুশফিক দেশে ফেরায় উইকেট সামলানোর দায়িত্বটাও লিটনের ওপরই পরেছিল।

কিন্তু জিম্বাবুয়ে ইনিংসে লিটনকে আর দেখা যায়নি তার দায়িত্বে। সেখানে তার বদলে পুরো সময়টায় নুরুল হাসান সোহানকে কিপিং করতে দেখা গেছে।

বিষয়টি নিয়ে শঙ্কায় পড়ে দেশের ক্রিকেটভক্তরা। কী কারণে ফিল্ডিংয়ে নামেনই নি লিটন দাস! ম্যাচ শেষে জানা গেল সেই কারণ।

জিম্বাবুয়েকে ১৫৫ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কারটি নিতে এসে লিটন জানালেন, ইনজুরির কারণে কিপিং করেননি তিনি।

অবশ্য এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই বলেও আশ্বাস করেছেন তিনি। দ্বিতীয় ওয়ানডের আগেই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবেন বলে জানালেন।

বললেন, ‘ইনজুরি আসলে ওইরকম কিছু না। কব্জির ইনজুরি আগেও ছিল। যে কারণে আমি আগে খেলতে পারিনি। সে জায়গাটাতেই আবার হালকা ব্যথা লেগেছে। এছাড়া গ্রোয়িনে একটু চোট লেগেছে। আশা করি, বিশ্রাম নিলে এটা ঠিক হয়ে যাবে।’

আগামী ১৮ জুলাই সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে রইল বাংলাদেশ।

স্ত্রীর সমর্থনে সেঞ্চুরি পেলেন লিটন!

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলেন লিটন দাস। এক কথায় জিম্বাবুয়ের বোলারদের ত্রাস তিনি। এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই তিন ওয়ানডের মধ্যে দুটিতেই করেছিলেন সেঞ্চুরি। এর মধ্যে আবার একটি ইনিংস বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসেরই সেরা ১৭৬ রান।

আর সেই লিটনই হারিয়ে গেলেন শুক্রবারের ম্যাচের আগের আটটি। সেই আট ম্যাচের লিটনের সর্বোচ্চ রান ২৫ মাত্র।

কিন্তু হঠাৎ করেই মিরপুর গ্রাউন্ডের সেই লিটনকে খুঁজে পেল বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১১৪ বলে ১০২ রানে থামল তার ব্যাট।

হঠাৎ এমন দুর্দান্ত হয়ে যাওয়ার পেছনে সহধর্মিণীর সর্মথন কাজ করেছে বলে জানান লিটন।

ম্যাচসেরার পুরস্কারটি নিতে এসে লিটন বলেন, ‘আমার চাওয়া তো সবসময়ই রান করা। প্রতিটা ব্যাটসম্যানই চাইবে রানে থাকতে। কোভিডের আগে আমি একটা ভালো ধারাবাহিকতা পেয়েছিলাম। কিন্তু কোভিডের পর আন্তর্জাতিকে ফেরাটা একটু কঠিন হয়ে যায়। এভাবে দেখতে দেখতে আটটা ইনিংস গেছে আমার। চেষ্টা করেছি যত ইনিংসই খেলিনা কেন, যেন ভাল করতে পারি, দলকে কিছু দিতে পারি। পাশাপাশি বড়রা সমর্থন দিয়ে গেছেন, পরিবার বিশেষ করে স্ত্রীর কাছ থেকে সমর্থন এসেছে।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢাবি ছাত্রীকে হেনস্তা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের এক ছাত্রীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি তদন্তে গঠন করা হয়েছে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি।

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মেসেঞ্জারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্রীকে অশালীন ভাষা ব্যবহার করে হেনস্তার অভিযোগ ওঠে ওই বিভাগের শিক্ষার্থী শিপন মিয়ার বিরুদ্ধে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থী। পরে বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসাইন ভুঁইয়া বরাবর অভিযোগ দিলে ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

সিন্ডিকেট সদস্য ও বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা সুরাইয়া আক্তার, ড. মো. সাইফুল্লাহ, বিভাগের শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রহিম ও মাহমুদুর রহমান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রহিম যুগান্তরকে বলেন, আমাদেরকে অতিশিগ্রই তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এর জন্য উভয়ের সঙ্গেই আমাদের সরাসরি কথা বলতে হবে। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা যদি সম্ভব না হয় তাহলে ভার্চুয়ালি তাদের সঙ্গে কথা বলে তদন্তের কাজ এগিয়ে নিতে হবে।

র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে কেন ঢাবি, যা বললেন আরেফিন সিদ্দিক

সারাবিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিংয়ের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও প্রভাবশালী তিনটি র‌্যাংকিং হলো— কুয়াককুয়ারলি সিমন্ডস বা কিউএস, টাইমস হায়ার এডুকেশন এবং সাংহাই র‌্যাংকিং কনসালট্যান্সি, যেটি একাডেমিক র‌্যাংকিং অব ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিজ নামেও পরিচিত। কিউএস একটি লন্ডনভিত্তিক র‌্যাংকিং প্রতিষ্ঠান, যেটিকে বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিংয়ের মানদণ্ড হিসাবে ব্যাপকভাবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

কিউএস ২০০৪ সালে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং প্রকাশ শুরু করে। এর পর তারা ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো এশিয়ান ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং প্রকাশ করে। এ ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২৫ নভেম্বর এশিয়ান ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং ২০২০-২১ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বছরের ওই তালিকায় এশিয়ার ৬৫০ বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে।

এতে এশিয়ার সেরা একশর মধ্যে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা করে নিতে পারেনি। ১৩৪ ও ১৯৯ নম্বর অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েট।

চলতি বছরের ৯ জুন কিউএস বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিং প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে— গত বছরের মতো এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানের কোনো উন্নতি হয়নি। বৈশ্বিক এ র‌্যাংকিংয়ে ৮০০-এর মধ্যে নেই দেশসেরা এ দুই বিদ্যাপিঠ। উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৮০১-১০০০-এর স্তরে।

অথচ ২০১২ সালেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৬০১-এর স্তরে ছিল, যেখান থেকে ২০১৪ সালে এর অবনমন ঘটে ৭০১-এর স্তরে, ২০১৯-এ আরও অবনমন ঘটে। বর্তমানে বিশ্বসেরা ৮০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেও নাম নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের।

এর কারণ নিয়ে সুলোক সন্ধানে জানা গেছে, কিউএস র‌্যাংকিংয়ে ছয়টি সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক মান নিরূপণ করা হয়। এগুলো হলো— প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম, চাকরির বাজারে সুনাম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, শিক্ষকপ্রতি গবেষণা-উদ্ধৃতি (সাইটেশনস পার ফ্যাকাল্টি), আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাত (ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাকাল্টি রেশিও) ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অনুপাত (ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট রেশিও)।

ছয়টি সূচকের মোট স্কোর ১০০। এর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সুনামে ৪০, চাকরির বাজারে সুনামে ১০, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে ২০, শিক্ষকদের গবেষণার উদ্ধৃতিতে ২০ এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাত ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অনুপাতের প্রতিটিতে ৫ করে স্কোর থাকে।

তবে তালিকায় ৫০০-এর পর থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেনি কিউএস। স্বভাবতই তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৮০০-এরও পরে; তাই স্কোর জানা যায়নি।

শুধু যে কিউএসের র‌্যাংকিংকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে এমনটি ভাবার কারণ নেই। লন্ডনভিত্তিক শিক্ষাবিষয়ক সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন প্রতি বছর বিশ্বের বিশ্ব্যবিদ্যালয়গুলোর যে র‌্যাংকিং প্রকাশ করে, তাতে দেশের প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান এক হাজারেরও পরে।

অথচ গত শতাব্দীর বিশ ও ত্রিশের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ বলা হতো। যারা এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেই ব্রিটিশ শাসকরাই একে ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ বলতেন। কেননা কলকাতা, মাদ্রাজ ও বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একদম স্বতন্ত্রভাবে গড়ে তোলা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে। লন্ডনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে আবাসিক ও টিউটোরিয়াল পদ্ধতিসহ পূর্ববঙ্গের ঢাকায় এ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

বাজেটের স্বল্পতা, গবেষণায় পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাব, শিক্ষক নিয়োগের স্বজনপ্রীতি-দুর্নীতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধের অভাব এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন ও উচ্চতর জ্ঞান সৃষ্টির প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যা যা প্রয়োজন তা উপলব্ধিতে নীতিনির্ধারকদের উপলব্ধির ঘাটতি হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈন্যদশার মূল কারণ।

র‌্যাংকিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছিয়ে পড়ার কারণ নিয়ে এমনটিই জানালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

যুগান্তরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি কীভাবে র‌্যাংকিংয়ে এগোনো যাবে সে বিষয়েও সুচিন্তিত মত দিয়েছেন। সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো—

প্রশ্ন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষ পার করল। দীর্ঘ এই সময়েও বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ের তলানিতে দেশসেরা এ বিদ্যাপীঠ। একজন সাবেক ভিসি ও শিক্ষাবিদ হিসেবে আপনার কাছে এর কারণ জানতে চাই?

আরেফিন সিদ্দিক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অনেক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় জড়িয়ে আছে। এটি এই অঞ্চলের শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা না হলে এই উপমহাদেশে শিক্ষার এতটা বিস্তার হতো না।

এটি আমাদের জন্য খুবই আনন্দের যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একশ বছর পার করেছে। এই প্রতিষ্ঠানটির বহু অর্জনের পরও একে ঘিরে অতৃপ্তিও কম নয়। সেই অতৃপ্তির একটি হচ্ছে র‌্যাংকিং। এটি অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে, আমরা বৈশ্বিক র‌্যাংকিংয়ে পেছনে পড়ে আছি। একটা সময় তো বিশ্বের সেরা ৪০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। এখন আমরা সেখান থেকে পিছিয়ে পড়েছি। বেশ কিছু সূচক বিবেচনায় নিয়ে র‌্যাংকিং করা হয়। সেই সূচকগুলোতে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালগুলোর তুলনায় আমরা পিছিয়ে আছি।

এ ছাড়া শিক্ষায় নৈতিক মূল্যবোধ, বাজেটের অপ্রতুলতা, শিক্ষায় বিনিয়োগের অভাব, গ্রন্থাগার ফেসিলিটিজের সীমাবদ্ধতা এবং গবেষণায় উন্নতি করতে না পারাও র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকার কারণ।

 

প্রশ্ন: কোন কোন সূচকে আমরা পিছিয়ে আছি বলে আপনি মনে করেন?

আরেফিন সিদ্দিক: প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম, চাকরির বাজারে সুনাম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, শিক্ষকপ্রতি গবেষণা-উদ্ধৃতি, আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাত ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অনুপাত-মোটাদাগে এই সূচকগুলোই দেখা হয় র‌্যাংকিং করার সময়।

এর মধ্যে আমরা সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে আছি গবেষণায়। গবেষণায় আমাদের বাজেট অপ্রতুল। বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় বড় বাজেট দেয়। গবেষকদের প্রণোদনা দেয়। আমাদের দেশের উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সেভাবে গবেষণা হয় না।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশের শিক্ষার্থীর তুলনামূলক কম। শিক্ষার্থীর অনুপাতে শিক্ষকের সংখ্যাও কম। শিক্ষা কারিকুলামেও পরিবর্তন আনা দরকার।

প্রশ্ন: শিক্ষা-গবেষণায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিন দিন পেছাচ্ছে না এগোচ্ছে?

আরেফিন সিদ্দিক: আমার দৃষ্টিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিন দিন ভালো করছে। এখানে শুধু র‌্যাংকিং দেখলে হবে না। শিক্ষার মান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কৃতিত্ব এসব দিক থেকে আমরা বহু এগিয়েছি।

আমাদের শিক্ষার্থীরা অক্সফোর্ড-হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে প্রতিযোগিতা করে সফল হচ্ছে। মেধার জোরেই এটা হচ্ছে। তাদের সেই মেধা বিকাশের সুযোগ করে দিতে হবে।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত। এটি আমাদের জন্য গর্বের। এটি ভবিষ্যতে আমাদের র‌্যাংকিংয়ে এগোতে সহায়তা করবে বলে আমার বিশ্বাস।

প্রশ্ন: শিক্ষকদের সততা ও মূল্যবোধ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোনো শিক্ষকের গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির ঘটনাও ঘটছে…

আরেফিন সিদ্দিক: শিক্ষকতা মহান পেশা। শিক্ষকরা পড়াবেন, এটিই তার দায়িত্ব নন। একজন শিক্ষককে শিক্ষার্থীরা অনুস্মরণ করে থাকেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে গবেষণা চুরির অভিযোগ মোটেও ভালো নজির নয়। পরীক্ষার ফল দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাবে না। তার মনুষত্ববোধ, দায়িত্ববোধও দেখতে হবে। শিক্ষকই যদি সৎ না হন তিনি সততার কী শিক্ষা দেবেন। ব্যক্তিস্বার্থ, দলীয় স্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ দেখে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাবে না।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈতিক শিক্ষার অভাবও লক্ষণীয়। আমরা নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন শিক্ষা দিতে পারছি না বলেই তো উচ্চশিক্ষিতরা দুর্নীতিতে জড়াচ্ছে। মৌলিক শিক্ষায় নৈতিকতা দিতে পারছি না বলেই তো প্রতিদিন গণমাধ্যমে দুর্নীতির খবর পাই। এগুলো যারা করছে তাদের বেশিরভাগই তো উচ্চশিক্ষিত। এতে বোঝা যায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নৈতিকতা ও মূল্যবোধের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বড় প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা নিয়েও অনেকে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে।

প্রশ্ন: বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে এগোতে হলে কী করতে হবে?

আরেফিন সিদ্দিক: মোটা দাগে বলতে গেলে আমাদের শিক্ষার কারিকুলাম যুগোপযোগী করতে হবে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মিল রেখে সিলেবাস প্রণয়ন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট আপডেট রাখতে হবে যেন বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে ওয়েবসাইটে ঢুকলে আমাদের অর্জনগুলো সম্পর্কে জানতে পারে।

এ ছাড়া সূচকগুলোর দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। যেসব সূচকে আমরা পিছিয়ে সেগুলোতে উন্নতি করতে হবে।

একটি বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হলে এবং র‌্যাংকিংয়ে এগোতে হলে এখানকার সব সীমাবদ্ধতা দূর করতে হবে। শিক্ষা-গবেষণায় বাজেট স্বল্পতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সীমাবদ্ধতা। এটি দূর করতে হবে। আমাদের পর স্বাধীন হয়েছে, এমন দেশ আজ উচ্চশিক্ষায় যে পরিমাণ বরাদ্দ দিচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ সেই তুলনায়ও অনেক কম।

শিক্ষকদের মূল্যবোধ, মেধা, সততা বাড়াতে হবে। যেটি শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দেবে। ভালো মানের শিক্ষক বাড়াতে হবে। গবেষণায় আরও জোর দিতে হবে, এ জায়গায় আমরা পিছিয়ে। এছাড়া বিদেশি শিক্ষার্থী বাড়াতে হবে। তাদের থাকা খাওয়া গবেষণার সুবিধা বাড়াতে হবে।

৪০ বছর ধরে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আমার পর্যবেক্ষণ, মেধাবীরাই এখানে পড়তে আসে। তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বগুণ, সততা, ন্যায়নিষ্ঠা, মূল্যবোধের বিস্তার ঘটাতে হবে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা-গবেষণায় বিচরণের জায়গা বিস্তৃত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পূর্ণ মনুষত্ববোধ জাগ্রত করতে হবে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটা কথা বলেছেন— ‘মনুষত্বের বিকাশই শিক্ষার একমাত্র লক্ষ্য’। এটি নিশ্চিত করতে পারলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যুগ যুগ স্বমহিমায় টিকে থাকবে।

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের পলাতক তিন বন্দির সন্ধান মেলেনি

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ভাংচুর ও বিক্ষোভের রাতে পালিয়ে যাওয়া তিন বন্দির সন্ধান মেলেনি এক সপ্তাহেও। তবে কেন্দ্র ভাংচুরের ঘটনায় ১১ বন্দির নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ৩০ জনের নামে মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে কোতোয়ালি থানায় মামলা রেকর্ড হয়েছে। মামলার বাদী কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন।

এজাহারে তিনি দাবি করেছেন, ভাংচুরের ঘটনায় কেন্দ্রে ৩৫ লাখ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এর আগে তিনি ভাংচুরের রাতে পালিয়ে যাওয়া তিন বন্দির বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

১০ জুলাই রাতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ব্যাপক ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ বন্দিরা। পরে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। ওই রাতে তিন বন্দি পালিয়ে যায়।

ভাংচুর মামলার আসামিরা হলেন- ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের খেঁজুরবাগ এলাকার কমল মজুমদারের ছেলে রাধা মজুমদার, খুলনার চানমারি বাজার এলাকার আব্দুস সালাম হাওলাদারের ছেলে আব্দুল আহাদ, ফরিদপুরের মধ্য আলীপুর গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে রাকিব হোসেন, শেনকাইল গ্রামের সাদেক শেখের ছেলে তানজীদ শেখ, রংপুরের কাউনিয়া পূর্ব চানঘাট এলাকার ইদ্রিস আলী ওরফে মাজেদুলের ছেলে সাগর মিয়া, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর গ্রামের ইকতার আলী বিশ্বাসের ছেলে সাকিব হোসেন, রাজশাহীর বোয়ালিয়ার বালিয়াপুকুর বড় বটতলা এলাকার বাবুলের ছেলে সাব্বির হোসেন, খুলনার সোনাডাঙ্গার জামাল হাওলাদারের ছেলে আবু সাঈদ ওরফে আসিফ ওরফে হাসিব, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর পুইশুর এলাকার বাদশা শিকদারের ছেলে শাহ আলম শিকদার, মেহেরপুরের গাংনীর নওদাপাড়া গ্রামের বায়েছ উদ্দীনের ছেলে সজীব আহম্মেদ এবং কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ছাত্রা গ্রামের মোবার ছেলে উজ্জ্বল।

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, ওই রাতে (১০ জুলাই) বন্দিরা কেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা, বৈদ্যুতিক বাল্ব, টেলিভিশন, আসবাবপত্র, দরজা, জানালা, কলাপসিবল গেট ভাংচুর করেছে। এতে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার কোতোয়ালি থানায় এজাহার দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, তিন বন্দি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নিয়মানুযায়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এখনো তাদের সন্ধান মেলেনি। পরিবারে খোঁজখবর নিয়েছি, তারা বাড়িতে যায়নি।

কোতোয়ালি থানার ওসি তাজুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রের সহকারী পরিচালকের দেয়া এজাহার বৃহস্পতিবার রাতে মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।