রবিবার ,৩ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 699

পরিচালকদের বেনামী ঋণ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বিভিন্ন ব্যাংক থেকে পরিচালকদের নিজ নামে ঋণের পরিমাণ পৌনে লাখ কোটি টাকার বেশি। বেনামী ঋণের পরিমাণও বিপুল।

এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো কোম্পানির পরিচালকরা যাতে বেনামে কোন ঋণ নিতে না পারেন সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

এ বিষয়ে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠাগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, এখন থেকে ঋণগ্রহীতা কোম্পানির পরিচালকদের তালিকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ তথ্য ভান্ডার বা ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) হালনাগাদ করে রাখতে হবে। একই সঙ্গে পরিচালকদের দায় দায়িত্বও সুনির্দষ্টিভাবে উল্লেখ করতে হবে। সাবেক পরিচালকদের নামে ঋণের বিপরীতে কর্পোরেট, ব্যক্তিগত বা দুই ধরনের গ্যারান্টি থাকলে তার কার্যকারিতা সম্পর্কেও সিআইবিকে জানাতে হবে।

এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে। এই নির্দেশনা ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ যে কোন ঋণ গ্রহীতা কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিআইবিতে সর্বনিম্ম ১ টাকা থকে সর্বোচ্চ যে কোন অংকের ঋণের তথ্য রয়েছে। একই সঙ্গে ঋণের বিপরীতে বন্ধকী জামানত এবং যে প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নেওয়া হয়েছে সেই কোম্পানির পরিচালকদের তথ্যও রয়েছে। এছাড়া ঋণের বিপরীতে পরিচালকদের নামে ব্যক্তিগত, কর্পোরেট বা দুই ধরনের গ্যারান্টি থাকলেও সেসব তথ্যও সিআইবিতে রয়েছে।

ঋণ নেওয়ার সময় এসব তথ্য সিআইবিতে দিতে হয়। কিন্তু ঋণ দেওয়ার পর বিভিন্ন সময় কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আসে। আগের পরিচালক বাদ পড়েন বা নতুন পরিচালক যুক্ত হন। এসব তথ্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সিআইবিতে আর যুক্ত করে না। এ কারণে কোন ঋণ খেলাপি হলে সংশ্লিষ্ট এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিচালকরাও খেলাপি হন। ফলে খেলাপিরা নতুন ঋণ নিতে পারেন না। কিন্তু কোম্পানির পর্ষদ থেকে অনেক পরিচালকদের চলে যাওয়া বা নতুন পরিচালকদের নাম সিআইবিতে হালনাগাদ না হাওয়ার কারণে অনেক ঋণ খেলাপি যেমন নতুন ঋণ পেয়ে যাচ্ছেন। তেমনি অনেকে ঋণ খেলাপি হয়েও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পদে বসে যাচ্ছেন। এছাড়া আগের পচিালকের স্বত্ব গোপন করে নতুন করে বেনামী ঋণ নিচ্ছেন। এসব ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আলোচ্য পদক্ষেপ নিয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, ঋণগ্রহীতা কোম্পানির পরিচালকদের পর্ষদে কোন পরিবর্তন আসলে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিআইবিতে জানাতে হবে। কোন পরিচালক পর্ষদ থেকে সরে গেলে বা নতুন পরিচালক যুক্ত হলে তা জানাতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ও সিলসহ নামের তালিকা সিআইবিতে পাঠাতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট পরিচালকদের দায়দায়িত্ব, শেয়ারের মালিকানা, ঋণের বিপরীতে ব্যক্তিগত, কর্পোরেট এবং এই দুই ধরনের গ্যারান্টি থাকলেও জানাতে হবে। পরিচালক পদ থেকে সরে গেলে ওইসব গ্যারান্টি বহাল থাকবে কিনা তা পর্ষদের রেজুলেশনসহ জানাতে হবে।

সূত্র জানায়, ঋণ নিতে গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের ব্যক্তিগত ও কর্পোরেট গ্যারান্টি দিতে হয়। কোন ঋণ খেলাপি হলে ওই গ্যারান্টির কারণে সংশি্লস্ট পরিচালকও খেলাপি হয়ে পড়েন। ফলে তিনি আর নতুন করে কোন ঋণের বিপরীতে গ্যারিান্টি দিতে পারেন না। বর্তমানে খ্যতিমান প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেবলমাত্র পরিচালকদের ব্যক্তিগত ও কর্পোরেট গ্যারান্টিতেও বিভিন্ন ধরনের ঋণ দেওয়া হয়।

এতে আরও বলা হয়েছে, ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের সিআইবি ডাটাবেইজ সংশোধনের লক্ষ্যে সিআইবিতে প্রতিবেদনে পাঠানোর আগে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতষ্টিানগুলোকে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে হালনাগাদ প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।

বর্তমান, সাবেকসহ সব ধরনের পরিচালকদের নামের তালিকা, তাদের দায়দায়িত্ব এবং ঋণের বিপরীতে ব্যক্তিগত বা কর্পোরেট গ্যারান্টি থাকলে তা সঙ্গে সঙ্গে বের করা সম্ভব। এতে ঋণ খেলাপিদের বিভিন্ন সুবিধা বন্ধ করা যাবে। ঠেকানো যাবে বেনামী ঋণ।

 

নগদ সহায়তা লোপাটে ১৭ ভাবে জালিয়াতি

কৃষিজাত পণ্য রপ্তানিকে উৎসাহিত করতে সরকারের দেওয়া নগদ সহায়তা ১৭ ধরনের জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন, কনটেইনারের আয়তনের তুলনায় বেশি পণ্য রপ্তানি, এক প্রতিষ্ঠানের পণ্য অন্যের নামে রপ্তানি দেখানোর মাধ্যমে এ কাজ করা হচ্ছে।

এছাড়া রপ্তানির অর্থ তৃতীয় দেশ থেকে প্রত্যাবাসন এবং একটি বিল অফ লেডিংয়ের (বি/এল) বিপরীতে একাধিক ব্যাংক থেকে নগদ সহায়তা তুলে নেয়া হয়েছে।

এসব জালিয়াতিতে সহায়তা করেছে বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) গুটি কয়েক অসাধু কর্মকর্তা। খোদ বাপা গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে।

জানা গেছে, ভুয়া রপ্তানি ও সার্টিফিকেট জালসহ নানা অনিয়ম রোধে বাপার ১০৬তম সভায় ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির চেয়ারম্যান করা হয় সংগঠনের সদস্য নূরুল মঈন মিনুকে। অপর দুই সদস্য হলেন- মে. জে. মোহাম্মদ রুহুল আমিন (অব.) ও গুলজার রহমান বিশ্বাস।

কমিটি ২০১৬-১৭ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছর পর্যন্ত ৩ অর্থবছরের নগদ সহায়তার তথ্য পর্যালোচনার পর গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী বোর্ডে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে নগদ সহায়তা লোপাটে ১৭ ধরনের জালিয়াতির তথ্য তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে এসব জালিয়াতি রোধে ৫ দফা সুপারিশ করা হয়।

এ বিষয়ে কমিটির চেয়ারম্যান নূরুল মঈন মিনু বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন সংগঠনের নির্বাহী বোর্ডে জমা দিয়েছি। বোর্ডে তা অনুমোদিত হয়। এরপর রিপোর্ট অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা জানা নেই।

তদন্ত কমিটির এক সদস্য বলেন, প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সংগঠনের নির্বাহী বোর্ড ও প্রভাবশালী সদস্যদের নজিরবিহীন রোষানলে পড়তে হয়েছে। জালিয়াতি বন্ধে কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন তো দূরের কথা, উলটো আমাদেরই নানাভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থে নগদ সহায়তায় যত ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেছে তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নগদ সহায়তায় অনিয়ম প্রতিরোধে বাপা পণ্য জাহাজে ওঠানো আগে পরিদর্শন (প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন) কার্যক্রম চালু করে। তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, পণ্য জাহাজীকরণের ক্রম অনুযায়ী পরিদর্শন প্রতিবেদন নেই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিদর্শন ছাড়াই মালামাল রপ্তানি হয়েছে এবং তার বিপরীতে নগদ সহায়তা সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে পরিদর্শন করা হলেও অফিস রেকর্ডে তা পাওয়া যায়নি। রেজিস্ট্রারেও রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। অনেক কোম্পানির ক্ষেত্রে পণ্য পরিদর্শনও করা হয়নি। বাস্তবে নির্বাহী সদস্যদের এ সিদ্ধান্ত অনিয়ম প্রতিরোধে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলেও অনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। ফলে এ প্রথা বাস্তবে কোনো অনিয়ম রোধ করতে পারেনি।

এতে আরও বলা হয়েছে, একই মালিক একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে রপ্তানি করেছে। যা সহায়তা সংক্রান্ত সার্কুলারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আবার কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক নিজেই ভিন্ন ভিন্ন দেশে নিজ কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে নিজ নামে আমদানি-রপ্তানি করেছেন। এ বিষয়টিও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এছাড়া কনটেইনারের আয়তনের তুলনায় বেশি রপ্তানি পণ্য দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনক্ষমতার তুলনায় বেশি পণ্য রপ্তানি করতেও দেখা গেছে। যা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বেশি নগদ সহায়তা নিতে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে রপ্তানি মূল্য দেখানো হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে পণ্য রপ্তানি মূল্য অন্য দেশের তুলনায় অনেক কম। ফলে ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে নগদ সহায়তা নেয়া হচ্ছে বলে মনে হয়। যেমন কনটেইনারের রপ্তানি মূল্য ৬০ থেকে ৭৫ হাজার ডলার দেখানো হয়েছে। যার ভলিউম কনটেইনারের ধারণক্ষমতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আবার চুক্তিভিত্তিক রপ্তানির বিপরীতেও বাপার সার্টিফিকেট দিয়ে নগদ সহায়তা নেয়া হয়েছে। এ ধরনের অনেক সন্দেহজনক রপ্তানির বিপরীতে সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে, যা বিধিসম্মত নয়। বাপার কতিপয় কর্মকর্তা এ কাজে জড়িত।

তদন্ত কমিটির ৮ সুপারিশ : তদন্ত প্রতিবেদনে প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে করানোসহ ৮ দফা সুপারিশ করা হয়। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-সন্দেহজনক রপ্তানি চালান শুল্ক গোয়েন্দার মাধ্যমে পরিদর্শন শেষে বাপার সনদ ইস্যু করা। জালিয়াতি রোধে সনদ ব্যাংকে সংশ্লিষ্ট শাখায় ই-মেইল করা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাচিত অডিটরদের কাছে সনদের তথ্য পাঠানো। বেশি রপ্তানি মূল্যে কনটেইনার সম্পর্কে ঢাকা ও চট্টগ্রাম কাস্টমসকে আগে অবহিত করা। রপ্তানিতে জড়িত প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনক্ষমতা নিরূপণের জন্য স্বীকৃত অথবা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পণ্য তালিকা ও উৎপাদন সক্ষমতা নির্ধারণ করা। হাউজ বি/এলের আওতায় বাপা সনদ ইস্যু না করা এবং একটি বি/এলের আওতায় একাধিকবার নগদ সহায়তা গ্রহণ বন্ধে সফটওয়্যারের মাধ্যমে সনদ ইস্যু করা।

এ বিষয়ে বাপা সভাপতি এএফএম ফখরুল ইসলাম মুন্সী বলেন, অনিয়ম রোধে তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বোর্ড থেকে বলা হয়েছিল। কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে তা সচিব বলতে পারবেন।

সচিব ঈদতাজুল হক বলেন, যে সুপারিশগুলো বাস্তবায়নযোগ্য ছিল সেগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

রপ্তানিকে উৎসাহিত করতে সরকার নগদ সহায়তা দিয়ে আসছে। বর্তমানে ৩৮টি পণ্য রপ্তানিতে ১ থেকে ২০ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে নগদ সহায়তার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৬২৫ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৭৩৫০ কোটি টাকা। এ অর্থ হাতিয়ে নিতে রপ্তানিকৃত কনটেইনারের অতিরিক্ত মূল্য দেখানো হয়। আবার অনেক সময় পণ্য রপ্তানি না করেই জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে নগদ সহায়তার টাকা তুলে নেয়ার ঘটনা ঘটছে।

সম্প্রতি বিএফআইইউর গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুল্ক গোয়েন্দা এমটি এগ্রো নামের এক প্রতিষ্ঠানের রপ্তানির তথ্য যাচাই করে। এতে দেখা যায়, ব্যাংকে যে রপ্তানি বিল (বিল অফ এক্সপোর্ট) জমা দিয়ে নগদ সহায়তা নেয়া হয়েছে, তা জালিয়াতির মাধ্যমে বানানো হয়েছে। রপ্তানি বিলে উল্লিখিত অফডক দিয়ে পণ্য রপ্তানিই হয়নি। আর যে শিপিং এজেন্টের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তার অস্তিত্বই নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এমটি এগ্রো ফুড প্রডাক্টের অংশীদার তাজুল ইসলাম টিপু বলেন, পণ্য রপ্তানি না করলে বিদেশ থেকে অর্থ প্রত্যাবাসিত হলো কীভাবে? রপ্তানির স্বপক্ষে সব কাগজপত্র জমা দেয়ার পরই ব্যাংক নগদ সহায়তা দিয়েছে। এখনো কোনো অনিয়ম হয়নি। তৃতীয় দেশ থেকে টাকা আসার বিষয়ে তিনি বলেন, রপ্তানি অর্ডারে এ বিষয়ে উল্লেখ ছিল।

এছাড়া গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম কাস্টমস আরেক কৃষিপণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি চালান আটক করে। নথিপত্রে এক লাখ তিন হাজার ডলারের কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানি করার কথা থাকলেও বাস্তবে কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া যায় মাত্র পাঁচ হাজার ডলারের পণ্য। জালিয়াতির বিষয়টি যাতে কেউ বুঝতে না পারে, সে জন্য কনটেইনারের দরজার মুখে রপ্তানি পণ্যের বাক্সগুলো সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। পেছনে পুরো কনটেইনারই ফাঁকা পাওয়া যায়

নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছার জবাবে যা বললেন জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের প্রতি ‘বিশ্বস্ত থাকার অঙ্গীকার’ করেছেন দলটির নবনিযুক্ত মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।

তিনি বলেন, ‘দলের ত্যাগী, মেধাবী, কর্মঠ ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে জাতীয় পার্টিকে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য উপযোগী শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে তৈরি করা হবে।’

রোববার ঢাকার বনানীতে জাপা চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের নবনিযুক্ত মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুকে শুভেচ্ছা জানায় জাতীয় পার্টির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন।

তিনি নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ দিয়ে সবার সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন। সভায় জিএম কাদের বলেন, ‘সমস্ত ষড়যন্ত্র, প্রতিবন্ধকতা ও উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার উপেক্ষা করে জনগণের ভালোবাসা, আবেগ ও উৎসাহে এগিয়ে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি। জনগণের কাছে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতে হবে। নেতাকে লোভের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। জনগণের কাছে নিন্দিত নয়, নন্দিত নেতা হওয়া চাই। দলের ভেতরে বিভেদ-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাপা প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, এটিইউ তাজ রহমান, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, লিয়াকত হোসেন খোকা, জহিরুল ইসলাম জহির। উপদষ্টোমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে কথা বলেছেন হেনা খান পন্নি, লিয়াকত আলী খান, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ওমর, শফিউল্লাহ শফি, এইচএম শাহরিয়ার আসিফ, যুগ্ম মহাসচিব মো. বেলাল হোসেন।

ইউপি নির্বাচনে ঢাকার ৮ জেলা ও সিলেটে নৌকার টিকিট পেলেন যারা

দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা বিভাগের বাকি আট জেলা এবং সিলেট বিভাগের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে রোববার দলের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের চতুর্থ দিনের সভায় এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভায় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে আমির হোসেন আমু, শেখ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, ওবায়দুল কাদের, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফর উল্লাহ, ড. মো. আবদুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, রশিদুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা বিভাগ:
জেলার ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নে মো. নুরুজ্জামান। টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ির উপজেলার বীরতারায় আহাম্মদ আল ফরিদ, বানিয়াজানে মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদার, যদুনাথপুরে মীর ফিরোজ আহমেদ, পাইস্কায় মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান, ধোপাখালীতে মো. আকবর হোসেন, মুশুদ্দিতে মো. আবুল কায়ছার, বলিভদ্রতে মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদার।সখিপুর উপজেলার যাবদপুরে একেএম আতিকুর রহমান, বহরিয়ায় গোলাম কিবরিয়া, বহেরাতৈল ইউনিয়নে মো. ওয়াদুদ হোসেন, কাকড়াজানে তারিকুল ইসলাম। দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নে মো. মাসুদুল হাসান তালুকদার, দেউলীতে দে. তাহমিনা, পাথরাইলে রামপ্রসাদ সরকার, লাউহাটিতে মো. হাবিবুর রহমান, দেলদুয়ারে মো. মাসুদ-উজ্জামান খান, ডুবাইলে মো. ইলিয়াছ মিয়া, এলাসিন ইউনিয়নে মো. বেলায়েত হোসেন ও ফাজিলহাটিতে মো. শওকত আলী।

মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার বাঘড়া ইউনিয়নে নূরুল ইসলাম, ভাগ্যকুলে কাজী মনোয়ার হোসেন রাড়িখালে মো. বারী (বারেক), বারৈই খালীতে মো. ফারুক হোসেন, কুকুটিয়াতে আক্তার হোসেন মিন্টু, তন্তর ইউনিয়নে মো. জাকির হোসেন, আটপাড়ায় মো. রকিবুল ইসলাম মাসুদ, পাটাভোগে মুন খান, বীরতারায় মো. আজিম খান, শ্যামসিন্ধিতে শফিকুল ইসলাম মামুন, ষোলঘর ইউনিয়নে মো. আজিজুল ইসলাম, হাঁসাড়ায় মো. আহসান হাবীব, ও শ্রীনগর ইউনিয়নে মো. মোখলেছুর রহমান।

নরসিংদী জেলার সদর উপজেলার আলোকবালি ইউনিয়নে মো. দেলোয়ার হোসেন সরকার, চরদিঘলীতে মো. দেলোয়ার হোসাইন। রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নে শাহানা বেগম, বাঁশগাড়ীতে মো. আশরাফুল হক, চরসুবুদ্ধি নাসির উদ্দিন, চরমধুয়ায় মো. নূর আলম ফকির, হাইরমারা ইউনিয়নে মো. কবির হোসেন, মির্জানগরে মো. হুমায়ুন কবির সরকার, মির্জারচরে মো. ফিরুজ মিয়া, নিলক্ষায় মো. তাজুল ইসলাম, পাড়াতলীতে মো. ফেরদৌস কামাল ও শ্রীনগর ইউনিয়নে মো. রিয়াজ মোর্শেদ খান।

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নে আমজাদ হোসেন, উজানচরে মো. গোলজার হোসেন মৃধা।

ফরিদপুর জেলা সালথা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নে মো. আশরাফ আলী, যদুনন্দী ইউনিয়নে আ. রব মোল্যা, গট্টিতে হাবিবুর রহমান লাবলু, ভাওয়ালে মো. ফারুকউজ্জামান, সোনাপুরে মো. খায়রুজ্জামান, আঠঘরে মো. শহীদুল হাসান খান, মাঝারদিয়ায় মো. আফছারউদ্দীন মাতুব্বর ও বল্লভদী ইউনিয়নে মো. নুরুল ইসলাম। নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নে মো. কামরুজ্জামান, পুরাপাড়ায় মো. বেলায়েত হোসেন মিয়া, কোদালিয়া শীহীদনগরে খোন্দকার জাকির হোসেন (নিলু), ফুলসুতীতে মো. আরিফ হোসেন, কাইচাইলে মো. মোস্তফা খাঁন, তালমায় রনজিৎ কুমার মণ্ডল, রামনগরে মো. মান্দার ফকির, ডাঙ্গীতে কাজী আবুল কালাম ও লস্করদিয়া ইউনিয়নে মো. এসকেন্দার মাতুব্বর।

গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নে মো. লুৎফর রহমান মিয়া, পারুলিয়া মকিমুল ইসলাম, মাহমুদপুরে মাসুদ রানা, সাজাইলে কাজী জাহাঙ্গীর আলম, কাশিয়ানী মশিউর রহমান খান, রাতইলে বিএম হারুন অর রশিদ পিনু ও রাজপট ইউনিয়নে মিল্টন মিয়া।

মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নে আবদুল্লাহ আল মামুন, লক্ষীপুর ইউনিয়নে মো. মজিবর রহমান মোল্যা, চর দৌলতখান ইউনিয়নে মো. চাঁন মিয়া সিকদার, শিকারমঙ্গল ইউনিয়নে মো. সিরাজুল আলম মৃধা, কয়ারিয়ায় মো. জাকির হোসেন, সাহেবরামপুরে মো. কামরুল আহ্সান সেলিম, রমজানপুর বিএম মিল্টন ইব্রাহীম, আলীনগরে সাহীদ পারভেজ, বালিগ্রামে ইসতিয়াক হোসেন খান, নবগ্রামে বিভূতি ভূষণ বাড়ৈ, কাজীবাকাই ইউনিয়নে সাইদুল ইসলাম, ডাসার ইউনিয়নে মো. রেজাউল করিম শিকদার ও গোপালপুর ইউনিয়নে মো. দেলোয়ার হোসেন।

শরীয়তপুর জেলার শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নে আব্দুস সালাম খান, চিতলিয়ায় হারুন-অর-রশিদ, আংগারিয়ায় আসমা আক্তার, ডোমসারে মিজান মোহাম্মদ খান, পালংয়ের আবুল হোসেন দেওয়ান, তুলাসার ইউনিয়নে জামাল হোসাইন, রুদ্রকর ইউনিয়নে সিরাজুল ইসলাম, বিনোদপুরে আব্দুল হামিদ সাকিদার, শৌলপাড়ায় মো. আলমগীর হোসেন খান ও মাহমুদপুর ইউনিয়নে শাহ আলম।

সিলেট বিভাগ:
হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার আজমিরীগঞ্জ ইউনিয়নে মো. মোবারুল হোসেন, বদলপুরে সুষেনজিৎ চৌধুরী, জলসুখায় মো. শাজাহান মিয়া, কাকাইলছেওতে মো. মিসবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া ও শিবপাশা ইউনিয়নে মো. তফছির মিয়া।

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নে মোহাম্মদ জায়েদ আনোয়ার চৌধুরী, পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়নে শ্রীকান্ত দাশ, পূর্বজুড়ীতে আব্দুল কাদির, গোয়ালবাড়ীতে শাহাব উদ্দিন আহমদ, সাগরনাল ইউনিয়নে মো. আব্দুল নূর।

সিলেট জেলার সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নে মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ ইছাহাক, হাটখোলায় মো. মুশাহিদ আলী, মোগলগাঁওতে মো. হিরন মিয়া ও কান্দিগাঁও ইউনিয়নে মো. নিজাম উদ্দিন। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর পূর্ব ইউনিয়নে মো. মুল্লুক হোসেন, তেলিখালে মো. নুর মিয়া (চেয়ারম্যান), ইছাকলসে এখলাসুর রহমান, উত্তর রণিখাইতে মো. ফয়জুর রহমান ও দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নে মো. ইকবাল হুসেন ইমাদ।
বালাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নে মো. শিহাব উদ্দিন, বোয়ালজুড় ইউনিয়নে আনহার মিয়া, দেওয়ানবাজারে ছহুল আব্দুল মুনিম, পশ্চিম গৌরিপুরে হাজী মো. আমিরুল ইসলাম (মধু), বালাগঞ্জে মো. জুনেদ মিয়া, পূর্ব গৌরিপুরে হিমাংশু রঞ্জন দাস।

সুনামগঞ্জ জেলা ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে মো. আব্দুল হেকিম, ছাতকে রঞ্জন কুমার দাস, কালারুকে মো. অদুদ আলম, খুরমা উত্তরে বিল্লাল আহমদ, চরমহল্লায় মো. কদর মিয়া, খুরমা দক্ষিণে আব্দুল মছব্বির, জাউয়াবাজার ইউনিয়নে নুরুল ইসলাম, দোলারবাজারে মো. সায়েস্তা মিয়া, গোবিন্দগঞ্জে সৈদেরগাও সুন্দর আলী, ছৈলা আফজালাবাদে গয়াছ আহমদ।দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাও ইউনিয়নে অসিত কুমার দাস, পান্ডার গাঁও ইউনিয়নে আব্দুল ওয়াহিদ, দোহালিয়ায় আনোয়ার মিয়া আনু, লক্ষীপুরে মো. আব্দুল কাদির, বোগলাবাজারে মোহাম্মদ মিলন খান, সুরমায় এমএ হালিম বীর প্রতীক, বাংলাবাজারে মো. মানিক মিয়া, নরসিংপুর ইউনিয়নে নুর উদ্দিন আহমদ ও দোয়ারাবাজার ইউনিয়নে মো. আব্দুল হামিদ।

এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা ইউনিয়নে মো. আনসারুল হককে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে বেশ সতর্কতা অবলম্বন করছেন মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা। প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের অতীত কর্মকাণ্ড এবং দলের জন্য ত্যাগ কতটা তা বিচার-বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ইমেজ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে বিগত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন কি না এবং অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে কি না- তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এজন্য এবার প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে বেশি সময় লাগছে। এছাড়া নারী নেতৃত্ব বাড়াতে অনেক ইউপিতে যোগ্য নারী প্রার্থী পেলে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

দ্বিতীয় ধাপের ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদে চার হাজার ৪৫৮ জন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। তাদের মধ্যে থেকেই যাচাই-বাছাই করে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করছে আওয়ামী লীগ।

এর আগে শুক্রবার ও শনিবার দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনের বৈঠকে খুলনা, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের ৫টি (ঢাকা, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ) জেলার দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সভার প্রথম দিন চূড়ান্ত হয় রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের দলীয় প্রার্থী তালিকা। টানা চার দিনের বৈঠকে সব মিলিয়ে ছয়টি বিভাগের প্রার্থী চূড়ান্ত হলো। সোমবার বিকাল চারটায় গণভবনে আবার বৈঠকে বসবেন দলের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা। সেখানে বাকি বিভাগগুলোর প্রার্থী বাছাই করা হবে।

পুলিশে চাকরি ১৯৯৭ সালে পদোন্নতি ১৯৯১-এ

জ্যেষ্ঠতার সাধারণ নীতিমালা না মেনে ৩৬ জন কর্মকর্তাকে (পুলিশ পরিদর্শক) পদোন্নতির প্রস্তাবে পুলিশ প্রশাসনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ১৯৯১ সালে এসআই হিসাবে নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় বাতিল হওয়ার ছয় বছর পর ১৯৯৭ সালে নির্বাহী আদেশে তারা (বর্তমানে পুলিশ পরিদর্শক) চাকরি পান। তাদেরসহ ১০০ জন পুলিশ পরিদর্শকের পদোন্নতির (এএসপি) বিষয়ে ৮ আগস্ট পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট ইউনিটপ্রধানদের কাছে ক্লিয়ারেন্স চাওয়া হয়। অথচ ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সালে বিভিন্ন ব্যাচের প্রায় ৭০০ কর্মকর্তার নাম ওই তালিকায় নেই। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে ক্লিয়ারেন্স (তালিকা) চাওয়ায় কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে এ পদোন্নতির প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) এক পুলিশ কর্মকর্তা ১৫ সেপ্টেম্বর আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের কাছে চিঠি দিয়েছেন। ১৯৯২ সালে সরাসরি এসআই পদে যোগদানকারী কর্মকর্তাদের পক্ষে তার লেখা চিঠিতে বলা হয়-‘পদোন্নতির তালিকায় ১৯৯৭ ব্যাচের ৩৬ জন কর্মকর্তার নাম রয়েছে। অথচ ওই তালিকায় ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সালে বিভিন্ন ব্যাচে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রায় ৭০০ কর্মকর্তার নাম নেই। কয়েক বছরের জুনিয়র যে কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে-তারা আমাদের অধীনে পিএসআই হিসাবে কর্মরত ছিলেন। তারা এখন এএসপি হলে তাদের জুনিয়র হয়ে আমাদের চাকরি করতে হবে। তখন আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হবে এবং হীনম্মন্যতায় ভোগা ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। নিজের পরিবারের কাছেও মনের দিক থেকে ছোট হয়ে থাকতে হবে। বিষয়টি আমাদের জন্য এ শেষ বয়সে অনেক পীড়াদায়ক। তাই তালিকা থেকে ১৯৯৭ ব্যাচের সদস্যদের বাদ দিয়ে নিয়ম অনুসারে পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হোক। অন্যথায় আমরা চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর নিতে বাধ্য হব।’ চিঠিটির একটি কপি যুগান্তরের হাতে এসেছে। এ চিঠির সূত্র ধরে অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে এসআই হিসাবে যোগদানকারী ১৭১ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে ২০০৯ সালের এক আদেশ অনুযায়ী তাদের ১৯৯১ সাল থেকে সিনিয়রিটি দেওয়া হয়েছে। অথচ তাদের আগে সিনিয়রিটি পাওয়ার কথা ছিল ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সরাসরি এসআই (বতর্মানে পরিদর্শক) হিসাবে যোগ দেওয়া এবং বিভাগীয় পদোন্নতিপ্রাপ্ত আড়াই হাজার কর্মকর্তার। কিন্তু তাদের সবাইকে বাদ দিয়ে কয়েক বছর পর যোগদানকারী কর্মকর্তাদের সিনিয়রিটি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এএসপি পদে পদোন্নতির জন্য ১০০ জনের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এ তালিকায় ১৯৯৭ সালের ব্যাচের ৩৬ জনের নাম রয়েছে। এ ক্ষেত্রেও বঞ্চনার শিকার দুই হাজারের বেশি কর্মকর্তা। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

আইজিপিকে দেওয়া চিঠিতে বঞ্চিতরা উল্লেখ করেছেন-পদোন্নতির জন্য বিবেচিত তালিকা থেকে জুনিয়রদের বাদ দেওয়া না হলে পুলিশ বিভাগে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব বাড়বে। ভেঙে পড়তে পারে চেইন অব কমান্ড। বেআইনি আদেশের কারণে বর্তমান সরকার ভবিষ্যতে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। প্রচলিত আইন ও বিধিভঙ্গের কলঙ্কময় নজির সৃষ্টি হবে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯০ সালে সরাসরি সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদে ২৮৭ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু অনিয়মের অভিযোগে ১৯৯১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ওই নিয়োগ বাতিল করে দেয়। এরপর ১৯৯৭ সালে এক নির্বাহী আদেশে তাদের মধ্য থেকে ১৭১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এক বছরের মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণসহ আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে ১৯৯৮ সালের নভেম্বরে তারা শিক্ষানবিশ এসআই হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। দুই বছর শিক্ষানবিশ এসআই হিসাবে বাস্তব প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর ২০০০ সালের শেষের দিকে এসআই হিসাবে তাদের চাকরি স্থায়ী হয়। নিয়ম অনুযায়ী ২০০০ সাল থেকে তাদের সিনিয়রিটি গণ্য হওয়ার কথা। কিন্তু ১৯৯১ সাল থেকে তাদের সিনিয়রিটি দেওয়ার জন্য ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন সংস্থাপন ও প্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এ ক্ষেত্রে পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা ও পুলিশ প্রবিধানের (পিআরবি) নিয়মনীতি অগ্রাহ্য করা হয়। ওই নির্বাহী আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগীয় নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ২০১২ সালে পরবর্তী পদোন্নতির জন্য তালিকায় তাদের নাম আগে দেওয়া হয়। এতে ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত ৭৫০ এসআই এবং বিভাগীয় পদোন্নতিপ্রাপ্তসহ প্রায় ১৫০০ পরিদর্শক বঞ্চিত হন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী চাকরি স্থায়ী হওয়ার পর থেকে সিনিয়রিটি গণ্য হয়। ১৭১ কর্মকর্তার সিনিয়রিটির বিষয়টি কীভাবে গণ্য করা হয়েছে তা আমার জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে রিক্রুটমেন্ট শাখার কর্মকর্তারা ভালো বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের রিক্রুটমেন্ট শাখার এআইজি মাহফুজুর রহমান আল মামুনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। হোয়াটস অ্যাপে তাকে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলে তিনি তা ‘সিন’ করেন। তবে কোনো মন্তব্য করেননি।

‘বঞ্চিত’ পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ১৮৬১ সালের পুলিশ আইন এবং বাংলাদেশ পুলিশ প্রবিধান (পিআরবি) অনুসারে পুলিশ বিভাগে পদোন্নতিসহ সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ১৭১ জনের পদোন্নতির নির্বাহী আদেশ পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থি। এটি অজ্ঞতাবশত, অবাস্তব ও বিভাগীয় নিয়মনীতির পরিপন্থি। তাই আদেশটি বাতিলযোগ্য এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও তেজগাঁও থানার ওসি অপূর্ব হাসান যুগান্তরকে বলেন, দুই পক্ষের বক্তব্যেরই যুক্তি আছে। ১৯৯৭ সালে যাদের চাকরি হয়েছে ১৯৯১ সালে তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই সময় প্রক্রিয়া বাতিল না হলে তারা তখনই চাকরিতে যোগ দিতেন। এ ক্ষেত্রে ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সালে যোগদানকারীদের চেয়ে তারা সিনিয়র থাকতেন। আবার পুলিশ প্রবিধান অনুযায়ী চাকরি স্থায়ী হওয়ার আগে কেউ সিনিয়রিটি পাওয়ার যোগ্য হতে পারে না। এ ক্ষেত্রে ২০০০ সাল থেকে তারা সিনিয়রিটি পাওয়ার যোগ্য। তিনি আরও বলেন, যে প্রক্রিয়ায় তাদের নিয়োগ বাতিল হয়েছিল আবার সে প্রক্রিয়াতেই তারা (১৯৯১-১৯৯৭ ব্যাচ) চাকরিতে পুনর্বহাল হয়েছেন। এখন যারা নিজেদের বঞ্চিত বলে মনে করছেন-তারা এ প্রক্রিয়ায় (রাজনৈতিক) সফল হতে পারলে হোক। তাদের চাকরি ছেড়ে দেওয়ারও অধিকার আছে।

দক্ষিণের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন

চলতি মাসেই উদ্বোধন হবে বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পায়রা সেতুর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতু উদ্বোধন করবেন। সংশ্লিষ্টরা উদ্বোধনী আয়োজন বেশ জোরেশোরে চালিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার শেষ নেই।

স্রোতস্বিনী পায়রার বুকে এখন আড়াআড়ি বুক ফুলে দাঁড়িয়েছে সেতুটি। দেশের দ্বিতীয় এক্সট্রা ডোজ ক্যাবলের এ সেতুর উদ্বোধন হলেই বরিশাল থেকে সড়কপথে কুয়াকাটা সৈকতে পৌঁছানো যাবে মাত্র দুই ঘণ্টায়। আর রাজধানী ঢাকা থেকে লাগবে বড়জোর ৭-৮ ঘণ্টা। সেতুটি চালু হলে সময়ের এ হিসাবটা এক ধাক্কায় কমে দাঁড়াবে ৫-৬ ঘণ্টায়। তাইতো পদ্মার পাশাপাশি পায়রা সেতুকে ঘিরে এখন আগ্রহের খই ফুটছে সবার মনে। কর্মকর্তারাও বলছেন, চলতি মাসেই উদ্বোধনের পর যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে এ সেতু।

একটা সময় ছিল বরিশাল থেকেই সড়কপথে কুয়াকাটা যেতে সময় লাগত ৯-১০ ঘণ্টা। তখন কীর্তনখোলা আর পায়রাসহ বরিশাল-পটুয়াখালীর ৬টি নদী পার হয়ে পৌঁছতে হতো কুয়াকাটায়। বরিশাল নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘তখন সূর্যোদয়ের সময় বরিশাল থেকে রওয়ানা হয়ে কুয়াকাটায় গিয়ে সূর্যাস্ত দেখা কঠিন হয়ে পড়ত।’ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে এই ৬টি নদীর মধ্যে ৫টিতেই ব্রিজ হয়েছে। বাকি থাকা পায়রা নদীর উপরও দাঁড়িয়েছে গর্বের সেতু। ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই নির্মাণ শুরু হওয়া এই সেতুটির এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা। সাড়ে ৯ বছর ধরে নির্মাণযজ্ঞ চলার পর যানবাহন চলাচলের জন্য এটি এখন প্রস্তুত।

জানা যায়, সেতুটি ১ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে। এর ৮২ ভাগের জোগান দিয়েছে কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এ্যাপেক্স ফান্ড। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী সেতুর মতো এটিও নির্মাণ করা হয়েছে এক্সট্রা ডোজ ক্যাবল পদ্ধতিতে। সেতুতে থাকা ১৬৭টি বক্স গার্ডার সেগমেন্টের কারণে দূর থেকে দেখলে মনে হবে এটি শূন্যে ভেসে আছে। ১ হাজার ৪৭০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণে বসানো হয়েছে ১৩০ মিটার দৈর্ঘ্যরে বেশ কিছু পাইল। এসব পাইল পদ্মা সেতুতে বসানো পাইলের চেয়েও বড়। ৩২টি স্প্যানের মূল সেতুটি বিভিন্ন মাপের ৫৫টি টেস্ট পাইলসহ ১০টি পিয়ার, পাইল ও পিয়ার ক্যাপের ওপর নির্মিত।

সেতু নির্মাণের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুল হালিম বলেন, ‘সর্বোচ্চ জোয়ারেও নদীর উপরিভাগ থেকে ১৮.৩০ মিটার উঁচুতে থাকবে এ সেতু। ৪ লেন বিশিষ্ট সেতুর উভয় পাশে নির্মিত হয়েছে ১ হাজার ২৬৮ মিটার দৈর্ঘ্যরে অ্যাপ্রোচ সড়ক। করা হয়েছে আলোকসজ্জা। রাতে শুধু সেতুই নয়, পুরো পায়রা নদী ঝলমল করে উজ্জ্বল আলোয়। এছাড়া বাংলাদেশে এই প্রথম পায়রা সেতুতে বসানো হয়েছে হেলথ মনিটরিং সিস্টেম। ভূমিকম্প, বজ পাত এবং ওভারলোডেড গাড়ির ক্ষেত্রে এই সিস্টেম দেবে আগাম সংকেত। ফলে বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা মুক্ত থাকবে সেতু।’ বর্তমানে দুই পাড়ে নদী শাসনের কিছু কাজ বাকি থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এজন্যে সেতু চালু করতে কোনো বাধা নেই।’

৩ দফা সময় বৃদ্ধি এবং নির্মাণে ৯ বছর সময় লাগার কারণ হিসাবে তিনি বলেন, ‘প্রথমত, অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ প্রশ্নে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে আমরা জটিলতায় পড়েছিলাম। নদী শাসনের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু সমস্যা দেখা দেয়। এখানে জয়েন্ট ভেঞ্চারে সেতু নির্মাণ প্রশ্নে লিডিং ঠিকাদার চীনের লো ঝিয়াং কোম্পানি। সেতুর অধিকাংশ মালামালও এসেছে চীন থেকে। করোনার কারণে কাজে পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি মালামাল আসায় জটিলতা না থাকলে আরও আগেই শেষ হতো সেতুর নির্মাণ।’

যানবাহন চলাচলের জন্য সেতু খুলে দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সব কাজ সম্পন্ন করেছি। আশা করছি প্রধানমন্ত্রী এটি উদ্বোধন করবেন। প্রস্তাবনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। চলতি মাসেই সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে বলে আশা করছি।’

তবে একটি বিষয় নিয়ে খানিকটা নাখোশ এই অঞ্চলের মানুষ। কারণ সেতুতে যানবাহন পারাপার প্রশ্নে যে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে তা বর্তমানে চালু থাকা ফেরির তুলনায় প্রায় ৭ গুণ বেশি। যেখানে ফেরিতে যাত্রীবাহী বাস পার হতে দিতে হয় ৫০ টাকা সেখানে ৩৪০ টাকা ধরা হয়েছে সেতুর টোল। অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রেও একই হারে বাড়ানো হয়েছে টাকার অঙ্ক। বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন বলেন, ‘২৫ আসনের একটি মিনিবাস বরিশাল থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরত্বে থাকা পটুয়াখালী যেতে ভাড়া নেওয়া হয় মাথাপিছু ৮০ টাকা। এই পথে আরও দুটি সেতু রয়েছে। ওই দুই সেতুতে ৫০ টাকা করে টোল দেই আমরা। সঙ্গে রয়েছে কর্মচারী বেতন এবং জ্বালানি ব্যয়। পায়রা সেতুতে ৩৪০ টাকা টোল দিতে হলে লোকসানের মুখে পড়বেন বাস মালিকরা। তাইে টোলের হার পুনর্নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছি।’

বরিশাল মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট এফবিসিসিআইর পরিচালক নিজামউদ্দিন বলেন, ‘পায়রা সেতু চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। বরিশাল থেকে মাত্র দুই-আড়াই ঘণ্টায় পৌঁছে যাওয়া যাবে পায়রাবন্দর ও সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায়। ফলে সেখানে পর্যটন শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটবে। পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারের ওপর নির্ভর করে পুরো একটি অঞ্চল অর্থনীতিতে শক্তিশালী। পায়রা সেতু চালু হলে কুয়াকাটার পাশাপাশি বরগুনা-পটুয়াখালী তথা পুরো বরিশাল অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রশ্নে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।’

পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, সেতু উদ্বোধন হলে পটুয়াখালী-বরগুনাসহ দক্ষিণের বিশাল একটি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। এই অঞ্চলের সঙ্গে বিভাগীয় শহর বরিশাল ও রাজধানী ঢাকার দূরত্বও কমে যাবে।

পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য মুহিব্বুর রহমান বলেন, এই সেতুসহ ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়ক ফেরি মুক্ত করায় জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। পায়রা ও পদ্মা সেতু চালু হলে যে কেউ ইচ্ছে করলে সকালে ঢাকা থেকে রওয়ানা হয়ে সমুদ্র দর্শন শেষে আবার রাতেই ঢাকায় ফিরতে পারবেন। এটা একটা বৈপ্লবিক উন্নয়ন। আর এটা সম্ভব হয়েছে শুধু জননেত্রী শেখ হাসিনার কারণে। আমরা দক্ষিণাঞ্চলবাসী এজন্যে তার কাছে কৃতজ্ঞ।

 

বিএমএ নর্থ-আমেরিকা নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

বিএমএ নর্থ-আমেরিকা নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সম্মেলন লাগার্ডিয়া ম্যারিয়ট হোটেলে ১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আলম।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউইয়র্ক মেডিকেল কলেজের ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ এস চৌধুরী।

সভাপতি মোহাম্মদ আলম বলেন, সবার প্রচেষ্টায় আমরা করোনা মহামারি জয় করতে চাই। গত কয়েক বছর সংগঠনটি নতুন ফিজিসিয়ানদের সহযোগিতায় প্রচুর কাজ করেছে। নতুন ফিজিসিয়ানদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য নিউইয়র্কে আমরা একটি সেন্টার স্থাপন করেছি।

অধ্যাপক মোহাম্মদ এস চৌধুরী বলেন, মহামারির সময়ে আমাদের নতুন চিকিৎসকদের সঙ্গে থাকতে হবে। তাদের সহযোগিতা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্টেটের চিকিৎসকরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদী, কনক চাঁপা, তপন চৌধুরী ও তনিমা হাদী।

বাচ্চা বিছানায় প্রস্রাব করলে করণীয়

ঘুমের মধ্যে বিছানায় বাচ্চার প্রস্রাব করা তথা বেডওয়েটিং নিরাময় যোগ্য একটি রোগ। সাত বছর বয়সের পর বাচ্চাদের এ ধরনের সমস্যা থাকে না; এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। এরপরও সাত বছরের পর বেড ওয়েটিং সমস্যার সমাধান না হলে চিকিৎসা রয়েছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ঢাকা শিশু হাসপাতালের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ডা. এএসএম নওশাদ উদ্দিন আহমেদ।

কোনো বাচ্চা যদি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন করে টানা তিন মাস তার অজান্তে রাতে বিছানায় প্রস্রাব করে, তাহলে এটাকে আমরা বেডওয়েটিং বলি। এটা একটা ইন ভলান্টারি মেথড। বাচ্চা তার নিজের অজান্তেই বিছানায় প্রস্রাব করে দেয়। এক্ষেত্রে বাচ্চার কোনো কন্ট্রোল থাকে না।

সাধারণত আমরা জানি, পাঁচ বছরের একটা বাচ্চা তার প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ করতে পারে রাতের বেলায়। পাঁচ থেকে সাত বছর বয়সের মধ্যে বাচ্চা যদি বিছানায় প্রস্রাব করে রাতের বেলায়, তখন সেটাকে আমরা বেডওয়েটিং বলি। সাত বছর বয়সের মধ্যে বেশিরভাগ বেডওয়েটিং বন্ধ হয়ে যায়।

কিন্তু কিছু বাচ্চার সাত বছরের পরেও এ ধরনের সমস্যা থেকে যায়। এক্ষেত্রে অব্যাহত বেডওয়েটিং হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য। আমাদের কাছে যখন কোনো রোগী আসে, আমরা তার হিস্ট্রি নিয়ে তার শারীরিক-পরীক্ষা এবং ল্যাবরেটরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে থাকি।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর যদি আমরা নিশ্চিত হই এটা প্রাইমারি লেভেল, তখন সেক্ষেত্রে আমরা অভিভাবক এবং বাচ্চাকে কাউন্সেলিং করতে পারি। আর যদি সাত বছর পার হয়ে যাওয়ার পরও বাচ্চার বেডওয়েটিং হচ্ছে এবং প্রস্রাবের সঙ্গে জ্বালাপোড়া রয়েছে, তাহলে সেক্ষেত্রে অবশ্যই শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

বাচ্চা যদি বারবার বেশি পরিমাণে প্রস্রাব করে এবং প্রস্রাবের রঙ যদি হলুদ বা লাল হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের কাছে আসতে হবে।

এক্ষেত্রে আমরা প্রথমে শিশুর ডিটেইলস হিস্ট্রি নিয়ে থাকি। তার ফ্যামিলিতে এ ধরনের হিস্ট্রি আছে কিনা সেটা জানার চেষ্টা করি। যদি বাচ্চার মা-বাবার বেডওয়েটিং হিস্ট্রি থাকে, তাহলে সে ক্ষেত্রে বাচ্চার ৪৪ থেকে ৭৭ শতাংশ পর্যন্ত বেডওয়েটিং হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আর যদি মা-বাবার এ ধরনের হিস্ট্রি না থাকে তাহলে সে ক্ষেত্রে বাচ্চার ১৫ পার্সেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তারপরে দেখি বাচ্চা পানি কেমন পরিমাণে খায়। বাচ্চা দিনের বেলায় বেশি প্রস্রাব করে না কি রাতের বেলায় বেডওয়েটিং করে। বাচ্চার শরীর ভেঙে যাচ্ছে কিনা। কারণ, ডায়াবেটিস থাকলে শরীর ভেঙে যেতে পারে। বাচ্চার প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া আছে কিনা- এ সকল বিষয় দেখার পরে আমরা বাচ্চার পরীক্ষা করি।

পরীক্ষায় আমরা দেখি তার কিডনি এবং মূত্রথলিতে কোনো সমস্যা আছে কিনা। অনেক সময় পিঠে মেরুদণ্ডের নিচে টিউমার জাতীয় কিছু থাকতে পারে, তো সেটা দেখে আমরা কিছুটা সন্দেহ করতে পারি। এছাড়া বাচ্চার কোষ্ঠকাঠিন্য আছে কিনা সেটাও জানার চেষ্টা করি। কারণ বাচ্চার কনস্টিপেশন বা পায়খানা কষা থাকার কারণেও বেডওয়েটিং হতে পারে।

এসব হিস্ট্রি নেওয়ার পর আমরা বাচ্চার কিছু ল্যাবরেটরি ইনভেস্টিগেশন করে দেখি যে, বাচ্চার কোনো প্রস্রাবে ইনফেকশন আছে কিনা। তার ব্লাড সুগার টেস্ট করে দেখি ডায়াবেটিস আছে কিনা। তার কিডনি, মূত্রথলির আলট্রাসনোগ্রাম বা ইমেজিং পরীক্ষা করে দেখি যে, প্রস্রাবের রাস্তায় কোনো সমস্যা আছে কিনা। এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা তার চিকিৎসা শুরু করে থাকি।

এছাড়া বেডওয়েটিং রোগের ক্ষেত্রে আমাদের অভিভাবকদের অবশ্যই সচেতন হতে হবে। যখন বাচ্চার মা-বাবা অন্য রোগের কারণে তাদেরকে আমাদের কাছে নিয়ে আসেন, তখন প্রসঙ্গক্রমে এটাও বলে যে বাচ্চা বিছানায় প্রস্রাব করে। বাচ্চাটা তখন সাইকোলজিক্যাল প্রবলেম সাফার করে, যখন তার মা-বাবা, ভাই-বোন বলে, সে বিছানায় প্রস্রাব করে। তখন বাচ্চাটা নিজেকে গুটিয়ে রাখে, সে স্ট্রেস ফিল করে। এবং এই স্ট্রেস ফিল করার কারণে বেডওয়েটিং প্রবলেম আরও বেড়ে যায়।

এছাড়া বেডওয়েটিংয়ের কারণে মা-বাবা হয়তো মাঝে-মাঝে বাচ্চাদের মারধরও করে। সেক্ষেত্রে বাচ্চাদের এ সমস্যা আরও বেড়ে যায়‌। কারণ এই বেডওয়েটিং বাচ্চারা নিজে থেকে করে না।

সুতরাং এই বেডওয়েটিং বন্ধ করার জন্য মা-বাবাদের কিছু সঠিক ব্যবহার এবং ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বাচ্চাকে সঠিক পরিচালনার মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে উত্তরণ করতে হবে।

কনটেন্ট ক্রেডিট: ডক্টর টিভি

ফেসবুক স্ট্যাটাসের ২২ দিন পর চিরঘুমে ঢাবির শিক্ষক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক মাহবুব আহসান খান গত ১৭ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সাহিত্যিক শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের একটি কবিতার লাইন লিখে পোস্ট দিয়েছিলেন, ‘…এইটুকু তো জীবন, অতো দৌড়ঝাঁপে আলাদা কী পাবে? জীবন ছাড়া, মৃত্যুকে পাবার জন্যে তাড়াহুড়োর কোনো অর্থ হয় না।’

স্ট্যাটাসের ২২ দিন পর নিজেই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করলেন তিনি। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় মারা গেলেন। ৫০ বছর বয়সী এই শিক্ষক শনিবার ভোর সাড়ে চারটার সময় নিজ বাড়িতে মারা যান।

একই ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক মো. মনিনুর রশিদ যুগান্তরকে বলেন, অধ্যাপক মাহবুব আহসানের হার্টের রিং পড়ান ছিল। এছাড়াও তার কোনো জটিল রোগ ছিল না বলেই জানি। ধারণা করা হচ্ছে, ভোর চারটার দিকে তিনি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। তার কর্মস্থল আইইআর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর পর তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

আইইআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. আবদুল হালিম যুগান্তরকে বলেন, অধ্যাপক মাহবুব আহসানের মৃত্যুতে আমরা আইইআর পরিবার শোকাহত। তার মতো মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষকের আকস্মিক মৃত্যুতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেছে।

সব শিক্ষার্থীর জন্য ঢাবির হল খুলছে আজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর জন্য আবাসিক হল খুলছে আজ। এর আগে শুধু স্নাতক শেষ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। যেসব শিক্ষার্থী অন্তত ‘কোভিড-১৯’-এর প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন তারা হলের বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে আজ সকাল ৮টা থেকে হলে প্রবেশ করতে পারবেন। এদিকে স্নাতক শেষ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের পর এবার অনার্স ১ম বর্ষ, ২য় বর্ষ ও ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে হল প্রশাসন।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের মার্চে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে শ্রেণি কার্যক্রম এবং আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য এ বছরের ১৩ মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খোলার সিদ্ধান্ত নেয় একাডেমিক কাউন্সিল। যদিও করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে পরে ওই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। ৫ অক্টোবর থেকে স্নাতক শেষ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হল খুলে দেওয়া হয়।

সব শিক্ষার্থীর জন্য আবাসিক হল খুলে দেওয়ায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শামসুন্নাহার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শাহিদা আক্তার যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন পর সবার জন্য ক্যাম্পাস খোলার সংবাদ সত্যিই অনেক আনন্দের। আবার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে, সেই ক্লাস রুমে ক্লাস করব, আমাদের আবাসিক হলে আবার ফিরে যাব-এসব ভাবতেই অনেক ভালো লাগছে। কিন্তু অনেকদিন বাড়িতে থাকায় বাবা-মা, ভাই-বোনের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোও অনেক মনে পড়বে।

রোকেয় হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইসমত আরা চৈতি বলেন, এতদিন পর হল খোলায় আনন্দিত। একই সঙ্গে আমার এবং আমাদের সবার যে প্রায় দুই বছরের শিক্ষার ক্ষতি হলো, এজন্য যত দ্রুত সম্ভব বাকি সেমিস্টারের রেজাল্ট দিয়ে দিলে বাঁচি।

হল খোলার বিষয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ঢাবির শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. ওয়াহিদুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, আমরা শিক্ষকরাও সবাই উন্মুখ হয়ে আছি কবে আবাসিক হল খুলে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হবে। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে ঢাবিসহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তাই আবাসিক হল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে আমি স্বাগত জানাই।

স্বাস্থ্যবিধি মানা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আজ একসঙ্গে তিনটি শিক্ষাবর্ষের জন্য আবাসিক হল খুলে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের একটা চাপ পড়বে হলগুলোতে। ফলে তাদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা একটু চ্যালেঞ্জিং হবে। একসঙ্গে সবার জন্য হল না খুলে পর্যায়ক্রমে খুলে দেওয়া হলে এই সমস্যাটা হতো না বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে করোনা-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা, আবাসিক হলের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি হাতে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে-ওয়াশ রুম, পানির লাইন, বিদ্যুতের লাইন ও ঝরাজীর্ণ দেওয়ালের সংস্কার এবং নতুন করে রংয়ের কাজ। ইতোমধ্যে এসব সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় হল প্রশাসন।

আবাসিক হলের প্রস্তুতি বিষয়ে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রভোস্ট ড. মু. জাবেদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আমরা আমাদের সাধ্যমতো হলের সব সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেছি। ৫ অক্টোবর স্নাতক শেষ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের যেভাবে বরণ করে নিয়েছি ঠিক একইভাবে অপর শিক্ষার্থীদেরও বরণ করা হবে।

‘চ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষের চারুকলা অনুষদভুক্ত ‘চ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাবি ছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি), বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি), বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলে পরীক্ষা। চারুকলা অনুষদভুক্ত এই ইউনিটে মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৪৯৬ জন। আর মোট আসন সংখ্যা ১৩৫টি। ফলে এ ইউনিটে প্রতি আসনের বিপরীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১৪ জন।

সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে পরীক্ষা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

আগামী ২২ অক্টোবর ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ (গ ইউনিট), ২৩ অক্টোবর সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের (ঘ ইউনিট) পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ হবে এবারের ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা।