বুধবার ,৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 666

ফ্রান্স না যুক্তরাজ্য- কার পক্ষে এরদোগান?

এরদোগান-বাইডেন বৈঠক ইতালিতে হবে নাকি স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় হবে এ নিয়ে একটা ধোঁয়াশা ছিল। তুরস্কের পক্ষ থেকে এই দুই নেতার মিটিং করানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। এবার বাইডেনের সাথে দেখা না হলে লিরার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে তাই এই বৈঠক হতেই হবে।

ইতালিতে জি২০ সম্মেলনে হলেই ভালো, না হলে সেই গ্লাসগো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। শেষ পর্যন্ত ইতালিতেই তাদের বৈঠক হয়। যদিও বৈঠকে দু দেশের মধ্যের অমীমাংসিত কোনো বিষয়েই সমঝোতা হয়নি। তবে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন দুই নেতা। যদিও এগুলো লোক দেখানো। তবুও তুরস্কের জন্য কম কিসের!

বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক তো হয়েছে! এখন এটাকে ইতিবাচকভাবে দেখাবে সরকারি পক্ষ।

ইতালি এবং ফ্রান্সের সরকার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকের পর এরদোগান ঘোষণা দেন। ইতালি, ফ্রান্স এবং তুরস্ক যৌথভাবে সামরিক শিল্পের উন্নয়নে কাজ করবে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রো ব্রিটেনের সাথে চলমান বিবাদ নিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্য যদি সমুদ্রে মাছ ধরা নিয়ে ফ্রান্সের সাথে সমঝোতায় না আসে তাহলে ফ্রান্স ব্রিটেনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপে যাবে।

এরদোগানের ইতালিতে সংগঠিত জি২০ সম্মেলন থেকে সরাসরি স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় কোপ-২৬ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের কথা থাকলেও তিনি দেশে ফিরে এসেছেন। কারণ, ব্রিটিশ সরকার এরদোগানের সফর সঙ্গীদের সংখ্যা এবং তাদের ব্যবহৃত গাড়ির সংখ্যাও কমিয়ে আনতে চাপ দেয়। অর্থাৎ এরদোগানের সিকিউরিটি প্রোটকল সাধারণ একজন রাষ্ট্রপ্রধানের পর্যায়ে নামিয়ে আনে। যেটা তিনি মেনে নিতে পারেননি।

শেষ পর্যন্ত এই নিরাপত্তা প্রটোকলের কারণে এরদোগান কোপ-২৬ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান বাতিল করেন। যদিও পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকার এরদোগানকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সমমানের প্রটোকল দেয়ার প্রস্তাব দেয় কিন্তু তাতে এরদোগানের মন গলাতে পারেনি।

জলবায়ু নিয়ে ট্রাম্পের ভুল নীতির জন্য ক্ষমা চাইলেন বাইডেন

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্যারিস জলবায়ু চুক্তি ভেঙে বেরিয়ে আসার জন্য ক্ষমা চাইলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

তিনি সোমবার গ্লাসগোয় জলবায়ু সম্মেলনে বলেন, আগের প্রশাসনের এই পদক্ষেপের জন্য আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি খুবই লজ্জিত। খবর সিএনএনের।

রোমে বিশ্বের প্রথম সারির ২০ দেশের ‘জি-২০’ অধিবেশন ছিল সপ্তাহান্তে। আর তার পরেই সোমবার গ্লাসগোয় শুরু হলো জলবায়ু সম্মেলন। এতে যোগ দিচ্ছেন ১২০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রনেতা, শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনকারীরা।

সেই যুক্তিতে জলবায়ু নিয়ে যাবতীয় কর্থাবার্তা ‘কপ২৬’-এর ওপরেই ছেড়ে দিল জি-২০। ভাসা ভাসা কিছু আলোচনা হলো বটে। তবে বিশ্বে বিপজ্জনক মাত্রায় কার্বন নির্গমনের ৮০ শতাংশ দায়ভার যাদের, জলবায়ু সমস্যা সমাধানের সব দায়িত্ব তারা ভাগ করে নেওয়ার কথা জানাল ছোট-বড় সব দেশের সঙ্গে।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য— জি-২০ সম্মলনে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে যা কথা দেওয়া-নেওয়া হলো, তাতে নতুন কিছু নেই। এই গোষ্ঠীর সদস্য সব দেশই জানিয়েছে, আসন্ন বিপর্যয় রুখতে তারা গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে বেঁধে রাখার চেষ্টা করবে। ২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতেও অবশ্য এ কথা দিয়েছিলেন রাষ্ট্রনেতারা। যদিও বাস্তবে এর প্রতিফলন ঘটেনি।

‘জি-২০’-তে রয়েছে ব্রাজিল, চীন, ভারত, জার্মানি ও আমেরিকার মতো দেশ। বিশ্বের জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের বাস এই ২০ দেশে। ‘বিষাক্ত’ গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনের ৮০ শতাংশ এই দেশগুলোর।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে, ভয়াবহ মূল্য দিতে হবে গোটা বিশ্বকে। ইতোমধ্যে তা টের পাওয়া যাচ্ছে। একদিকে খরা তো অন্যদিকে বন্যা। ইউরোপে দাবানল তো কানাডা পুড়ছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস গরমে। এ বছরের মতো বৃষ্টি, বন্যা ও ধস দেখেনি ভারত।

জাতিসংঘের সতর্কবার্তা, পানির স্তর যেভাবে বাড়ছে, সবার আগে নিচু দেশগুলো সমুদ্রে ডুবে যাবে। এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এই শতকের মাঝামাঝির মধ্যে কার্বন নির্গমন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপ্রধানরা।

চীন সর্ববৃহৎ কার্বন নির্গমনকারী দেশ। তারা ২০৬০ সালের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ভারত ও রাশিয়ার লক্ষ্য ২০৫০ সাল।

শুরুতেই সিওপি২৬-এর তাল কেটেছে চীন ও রাশিয়া যোগ না দেওয়ায়। গ্লাসগোর সম্মেলনে উপস্থিত হবেন ব্রিটিশ যুবরাজ চার্লস, ৯৫ বছর বয়সি প্রবীণ ব্রিটিশ সাংবাদিক স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরো, সুইডিশ পরিবেশ আন্দোলনকারী গ্রেটা থানবার্গ।

আরিয়ানের জামিন নিয়ে যা বলল আদালত

শুধু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের ওপর ভিত্তি করে কখনই প্রমাণ হয় না আরিয়ান খান ও আরবাজ মার্চেন্টকে নিয়মিত মাদক সরবরাহ করতেন এই মামলায় আর এক অভিযুক্ত অর্চিত কুমার।

শাহরুখপুত্রের বিরুদ্ধে মাদক মামলায় অর্চিতের জামিন মঞ্জুর করে এমনটিই জানিয়েছে মুম্বাইয়ের মাদকবিরোধী বিশেষ আদালত। খবর এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার।

আদালতের এই রায়ের একটি কপি সোমবার প্রকাশিত হয়েছে। মাদক মামলায় আটক আরিয়ান খান ও আরবাজ মার্চেন্টকে জেরা করে উঠে এসেছিল কলেজ পড়ুয়া বছর বাইশের এই অর্চিত কুমারের নাম।

নার্কোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোর (এনসিবি) দাবি, অর্চিতকে গ্রেফতার করে তার কাছ থেকে নিষিদ্ধ মাদক পেয়েছিল।

এনসিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্চিত মাদক ব্যবসায় যুক্ত। তিনিই আরিয়ানদের মাদক সরবরাহ করতেন। যে দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিশেষ আদালত বলেছেন, অর্চিত ও আরিয়ানদের মধ্যে হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের ভিত্তিতে কখনই প্রমাণ হয় না তিনি অভিযুক্তদের মাদক দিতেন।

শনিবার ২২ বছরের অর্চিতকে জামিনের রায় দিতে গিয়ে বিশেষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, এনসিবি এমন কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি, যা থেকে বোঝা যায় অভিযুক্ত নিষিদ্ধ মাদক সরবরাহে যুক্ত।

শুধু আরিয়ান খানের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে তার চ্যাট প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছে এনসিবি। কিন্তু একমাত্র সেই চ্যাটের ওপরে নির্ভর করে এটি কখনই প্রমাণ হয় না তিনি অন্য অভিযুক্তদের মাদক সরবরাহ করতেন।

আদালত বলেছেন, যেহেতু আরিয়ান ও আরবাজ হাইকোর্টে জামিন পেয়ে গেছেন, সেদিক বিচার করে অর্চিতকেও জামিন দেওয়া যেতে পারে।

এদিকে মাদক মামলা ঘিরে এবার নবাব মালিকের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চরমে উঠল বিজেপি নেতা ও মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিসের।

সোমবার সকালে মাদক পাচারে জেলবন্দি জয়দীপ রানা নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে ফডনবিস ও তার স্ত্রীর একটি ছবি পোস্ট করেন এনসিপি নেতা নবাব মালিক।

তার পর ক্ষুব্ধ ফডনবিসও পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন, মালিকের সঙ্গে ‘অন্ধকার জগতের’ যোগাযোগ রয়েছে। তিনি হুশিয়ারি দেন, নবাব মালিক পটকার সলতেতে আগুন দিয়েছেন। অন্যায়ভাবে মাদক-যোগে তাকে ও তার স্ত্রীর নাম জড়িয়েছেন। দীপাবলির পর তিনি বোমাটা ফাটাবেন বলে জানান।

সোমবার সকালে এক সংবাদ সম্মলনে নবাব মালিক বলেন, মাদক পাচারের ঘটনায় আটক জয়দীপ রানার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে ফডনবিসের। ফডনবিসের স্ত্রীর গাওয়া একটি গানের ভিডিওতে টাকা ঢেলেছিল ওই ব্যক্তি। ফডনবিসের জমানায় অবাধে রাজ্যে মাদক ব্যবসা চলেছে।

এডিপি কাটছাঁটের প্রক্রিয়া শুরু

সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিরাজ করছে ধীরগতি। কাঙ্ক্ষিত বাস্তবায়ন না হওয়ায় সার্বিকভাবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। ফলে চলতি অর্থবছরের চার মাসের মাথায় এসে এডিপি কাটছাঁটের প্রক্রিয়া শুরু করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। বৈদেশিক অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে সংশোধিত এডিপি তৈরির জন্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। এরপরই আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজ বৈঠক। সেখানে আলাপ-আলোচনা করে নতুন বরাদ্দ নির্ধারণ করা হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানতে চাইলে পরিকল্পনা সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী রোববার যুগান্তরকে বলেন, এ অংশটি ইআরডি থেকে নির্ধারণ করে আমাদের কাছে পাঠাবে। এরপরই পরবর্তী প্রক্রিয়া করবে পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগ। তবে এডিপির শুরুতেই ইআরডি মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে বরাদ্দ নির্ধারণ করে। কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে পরবর্তীকালে সেই বরাদ্দ সংশোধন করতে হয়। তবে এবার করোনা মহামারির কারণে প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে অনেক প্রকল্পের পরামর্শক চলে গেছেন। এখনো তারা ফিরে আসেননি। অথবা এলেও কেবল কাজ শুরু করেছেন। এছাড়া যন্ত্রপাতি ক্রয়সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোতে টেস্টিং ও কমিশনিংয়ের বিষয়গুলো আটকে ছিল। এমন নানা কারণে বৈদেশিক অর্থ ব্যবহার কম হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এডিপি থেকে সংশোধিত এডিপিতে প্রতিবছরই বৈদেশিক বরাদ্দ কমাতে হয়। এটা যাতে না হয় সেদিকে সবার সচেতন থাকা দরকার।

ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তাফা কে. মুজেরী যুগান্তরকে বলেন, মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষমতা ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে। প্রকল্প তৈরি, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন সব পর্যায়ে এই দুর্বলতা প্রকট। ফলে বরাদ্দ দেওয়া অর্থ পুরোপুরি ব্যয় করতে পারে না। এছাড়া দেশীয় অর্থ ব্যবহার করা যতটা সহজ, বৈদেশিক অর্থ ব্যয় করা অতটা সহজ নয়। এখানে যারা ঋণ বা সহায়তা দেয় তাদের নানারকম শর্ত থাকে। কঠোর তদারকি থাকে। নয়ছয় করার সুযোগ কম থাকে। ফলে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো দেশীয় অর্থ ব্যবহারে যতটা আগ্রহী থাকে বৈদেশিক অর্থের ক্ষেত্রে সেটি থাকে না।

সূত্র জানায়, ১১ অক্টোবর বৈদেশিক অর্থায়নের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এমন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব এবং সিনিয়র সচিবদের কাছে পাঠানো চিঠিতে প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপি তৈরির জন্য সব চলমান এবং অনুমোদিত নতুন প্রকল্পের বৈদেশিক সহায়তা অংশের প্রাক্কলন নির্ধারণ করা হবে। এক্ষেত্রে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ব্যয় বা বাস্তবায়ন অগ্রগতির ওপর নির্ভর করা হবে। আগামী ১১ নভেম্বরের মধ্যেই তথ্যগুলো চাওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ইআরডির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, কেবল কিছু কিছু প্রকল্পের হিসাব পাওয়া শুরু হয়েছে। তবে আশা করা যাচ্ছে সবগুলো তথ্য পেলে আগামী ডিসেম্বর মাসে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করা হবে। সেখানে আলাপ-আলোচনা করে সবকিছু নির্ধারণ করে প্রস্তাব আকারে পাঠানো হবে পরিকল্পনা কমিশনে। সেখানেই পুরো এডিপি সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

এদিকে চলতি অর্থবছরের ৩ মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এডিপির আওতায় বৈদেশিক সহায়তা ব্যয়ের ক্ষেত্রে ধীরগতি বিরাজ করছে। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সর্বশেষ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় টাকার অঙ্কে ব্যয় বাড়লেও মোট বরাদ্দের তুলনায় কমেছে।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছর মোট এডিপির আকার হচ্ছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩০০ কোটি, বৈদেশিক সহায়তা অংশে ৮৮ হাজার ২৪ কোটি টাকা এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ১১ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকা। কিন্তু গত তিন মাসে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো খরচ করতে পেরেছে ১৯ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা বা মোট বরাদ্দের ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। বৈদেশিক সহায়তা অংশে ব্যয় করা হয়েছে মাত্র ৬ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৭ দশমিক ২১ শতাংশ। এদিকে গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় হয়েছিল মোট বরাদ্দের ৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এছাড়া ২০১৯-২০ অর্থবছরের তিন মাসে ব্যয় হয়েছিল ৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ১২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এদিকে অর্থবছরের ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ১ শতাংশের নিচে বৈদেশিক অর্থ খরচ করেছে ৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এর মধ্যে এক টাকাও খরচ করেনি চারটি। এগুলো হলো-পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, আইন ও বিচার বিভাগ, ভূমি মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ব্যয় করেছে শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ বৈদেশিক সহায়তা বরাদ্দ খরচ করতে পেরেছে।

প্রবাসী আয় কমল ২০ শতাংশ

সদ্যবিদায়ী অক্টোবর মাসে দেশে ১৬৫ কোটি ডলারেরও কম রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত ১৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এটি আগের মাস সেপ্টেম্বরের তুলনায় সাড়ে ৪ শতাংশ এবং গত অর্থববছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় সাড়ে ২১ শতাংশ কম। সবমিলে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) রেমিট্যান্স কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ায় ফের হুন্ডি প্রবণতা বেড়েছে। এতে ব্যাংকিং চ্যানেলে কমে গেছে প্রবাসী আয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, করোনার সময়ে দেওয়া লকডাউনে বিমান যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ ছিল। মানুষের যাতায়াতের সুযোগ না থাকায় ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক ভ্রমণও স্থগিত হয়ে যায়। ফলে হুন্ডিও বন্ধ থাকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আকাশ পরিবহণ শুরু হওয়ায় হুন্ডি বেড়ে গেছে। আর হুন্ডি বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকিং বা বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স কমছে।

২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠালে ২ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। চলতি অর্থবছরেও এই সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়ার পর থেকে প্রতি মাসেই প্রবাসীরা পরিবার-পরিজনের কাছে বেশি অর্থ পাঠাতে শুরু করেন।

এমনকি করোনার সংক্রমণের মধ্যেও তাদের এই অর্থ প্রেরণ অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু এখন করোনা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলেও রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের অক্টোবর মাসে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন মাত্র ১৬৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরের মে মাসে ১৫০ কোটি ৪৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স আসে।

এরপর থেকে আর কোনো মাসে এর চেয়ে কম রেমিট্যান্স আসেনি। প্রতিবেদনে দেখা যায়, আগের মাস সেপ্টেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স আসে ১৭২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। আর গত অর্থবছরের অক্টোবর মাসে এসেছিল ২১০ কোটি ২১ লাখ ডলার। সবমিলে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) রেমিট্যান্স এসেছে ৭০৫ কোটি ৫১ লাখ ডলার। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ কম।

গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ৮৮১ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। প্রতিবেদনে পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরের ১১তম মাস মে’তেও প্রবাসীরা রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠান। ওই মাসে দেশে রেমিট্যান্স আসে ২১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার।

তবে এর পরই রেমিট্যান্স কমতে শুরু করে। যা চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রেমিট্যান্স আসে ১৯৪ কোটি ডলার। এছাড়া চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতে ১৮৭ কোটি ১৪ লাখ ডলার ও আগস্টে ১৮১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স আসে।

করোনার মধ্যেই সদ্যসমাপ্ত ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে বড় রেকর্ড হয়। গেল অর্থবছরে প্রায় পৌনে ২৫ বিলিয়ন ডলার বা ২ হাজার ৪৭৮ কোটি ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা কোনো এক অর্থবছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে এযাবৎকালে সর্বোচ্চ। এটি ২০১৯-২০ অর্থবছরের চেয়ে প্রায় সাড়ে ৬ বিলিয়ন বা ৩৬ শতাংশ বেশি।

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতে রেকর্ড ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স আসে, যা একক মাস হিসাবে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। এছাড়া আগস্টে ১৯৬ কোটি ৩৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২১৫ কোটি ১০ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২১০ কোটি ২১ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২০৭ কোটি ৮৭ লাখ ডলার, ডিসেম্বরে ২০৫ কোটি ৬ লাখ ডলার, জানুয়ারিতে ১৯৬ কোটি ১৯ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ১৭৮ কোটি ডলার ও মার্চে ১৯১ কোটি ৯৫ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স আসে।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা গান শেয়ার করে পদ হারালেন বিএনপি নেতা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা একটি গান শেয়ার করায় পদ হারিয়েছেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম ওরফে জহুর। তিনি উত্তর জেলা বিএনপির সদস্যও।

দলের কেন্দ্রীয় কমিটি পদ স্থগিত করে সোমবার তার কাছে একটি চিঠি পাঠায়। ওই চিঠিতে সই করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমানকে ওই চিঠির একটি অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমল কদর জহুরের পদ স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, কারণ দর্শানোর চিঠির জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় জহুরুল আলমকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তার উত্তর জেলা বিএনপির সদস্যপদ ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ স্থগিত থাকবে।

এ ব্যাপারে বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, গত ১৫ আগস্ট জহুরুল আলমের ফেসবুক আইডি থেকে এস এম নুর উদ্দীন নামে এক ব্যক্তির বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পোস্ট করা গান ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই’ শেয়ার করা হয়।

পাশাপাশি স্থানীয় সাংসদ দিদারুল আলমের বক্তব্য দেওয়া একটি ছবির সঙ্গে ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত’ এমন ক্যাপশনের আরও একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়। এ দুটি পোস্ট শেয়ার করার পর দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়।

সীতাকুণ্ড পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ইউছুপ নিজামী জানান, তিনি একটি পোস্টের বিষয়ে জানেন। ওই পোস্টটি দেওয়ার পর ১০ দিন আগে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তার (জহুরুল) কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। নোটিশের জবাবও দেন জহুরুল আলম। কিন্তু নোটিশের জবাব দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে যথাযথ মনে হয়নি। তাই তার পদ স্থগিত করা হয়।

আড়াই বছর পর দায়িত্ব পেলেন নেতারা

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের দুই বছরের মেয়াদ শেষ। এখন সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করার কথা। কিন্তু সেদিকে না গিয়ে আড়াই বছরের মাথায় নেতাদের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হলো। ৩০ অক্টোবর এ দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সাংগঠনিক দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে ছাত্রলীগ নেতারা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের একাংশ দায়িত্ব বণ্টনকে স্বাগত জানালেও আরেক অংশ মনে করছেন ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলন বিলম্বিত করার জন্যই মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনের পর ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতিসহ নানা অভিযোগে পূর্ণাঙ্গ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের আগেই ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তারা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তাদের অব্যাহতির পর সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান যথাক্রমে আল নাহিয়ান জয় ও লেখক ভট্টাচার্য। তিন মাস ভারপ্রাপ্ত থাকার পর ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তাদের ভারমুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শোভন ও রাব্বানী দায়িত্ব পাওয়ার এক বছর পর ২০১৯ সালের ১৩ মে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সময়কাল ২ বছর। আর সে হিসাবে ২০২১ সালের মে মাসের ১৩ তারিখ শেষ হয়েছে এই কমিটির মেয়াদ। আর এই দুই বছরের সময়কালের মধ্যে চার নেতা সাংগঠনিক দায়িত্ব বণ্টন করতে না পারলেও মেয়াদ শেষে গত শনিবার কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের কোনো সভা না করে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে সাংগঠনিক দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। আর সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা না করে দায়িত্ব বণ্টনের ঘটনায় ছাত্রলীগের নেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন পর দায়িত্ব বণ্টনকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বরিকুল ইসলাম বাঁধন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, দায়িত্ব বণ্টনের কারণে আশা করি সংগঠনে গতি ফিরে আসবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মো. আল আমীন সুজন যুগান্তরকে বলেন, যদিও আমাদের মেয়াদ শেষ বা শেষের দিকে তবুও এ সময় দায়িত্ব পেয়ে আমরা খুশি।

এদিকে সম্মেলন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি সৈয়দ মো. আরিফ হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, দায়িত্ব যেহেতু দেওয়া হয়েছে আমরা দায়িত্ব পালন করব। আমরা যখন যে সাংগঠনিক জেলায় দায়িত্ব পালন করতে যাব তখন তারা যদি আমাদের প্রশ্ন করে, আপনাদের কেন্দ্রীয় কমিটিরই তো মেয়াদ নেই তাহলে আপনারা কি দায়িত্ব পালন করতে এসেছেন। আপনার সংগঠনের শীর্ষ নেতা আপনাদেরই যদি গলদ থাকে তাহলে আমরা কীভাবে সংগঠন চালাব। এই প্রশ্নের উত্তর যে কী সেটা আমি জানি না।

আরেক সহসভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ। ছাত্রলীগের সম্মেলনের সময়ও পার হয়ে গেছে। এখন সম্মেলন নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা কিন্তু তা না করে বর্তমান সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সম্মেলনকে বিলম্বিত করার জন্য দায়িত্ব বণ্টনের নাটক সাজিয়েছেন।

নভেম্বরেই আসছে শীত, ডিসেম্বরে শৈত্য প্রবাহ

মধ্য নভেম্বর থেকে শুরু হবে শীতের আমেজ। আর ডিসেম্বরের শৈত্যপ্রবাহের প্রকোপ থাকতে পারে বলে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছেন।

ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে শীতকাল শুরু হলেও এবার অক্টোবরের শেষের কয়েকদিন ধরে রাতের তাপমাত্রা কমছে, উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ভোরের কুয়াশা পড়ছে। তাই শীত এবার সময়েই আগে আসছে কি না জানতে চাইলে আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, মধ্য নভেম্বরের পর শীত নামবে, আর ডিসেম্বরে আসবে শৈত্য প্রবাহ।

দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিয়েছে। উত্তর-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশে এলে শীত শুরু হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। কার্তিকেও হালকা বৃষ্টির আভাস রয়েছে, এর মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপের খবরও দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। লঘুচাপটি শ্রীলঙ্কার অদূরে তামিলনাড়ু উপকূলে রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ্ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

এদিকে, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আকাশ আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশের দিনের ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

সোমবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে রংপুরের ডিমলায় ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস; এসময় ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারে ৩৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ঢাকায় ছিল ৩২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়াগত বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা করে নভেম্বরে বৃষ্টি, লঘুচাপ, তাপমাত্রার বিষয়ে দুয়েকদিনের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস দেবে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে তিন মাসের (অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর) দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- নভেম্বরে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে ১/২ টি নিম্নচাপ হতে পারে। এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমবে। ডিসেম্বর মাসের শেষার্ধে উত্তর, উত্তর পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে ১/২ টি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ (সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ও মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ (৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বয়ে যেতে পারে।

মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে

অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

সোমবার সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কার অদূরে তামিলনাড়ু–উপকূলে লঘুচাপটি বিরাজমান রয়েছে। এর একটি বাড়তি অংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

পরবর্তী তিন দিনে ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বিষয়ে বলা রয়েছে, এ সময় আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের কোথাও বৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

সোমবার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

গত রোববার কক্সবাজারে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

‘নামাজের দিকে ডাকতে ডাকতে’ চলে গেলেন মুয়াজ্জিন

ফজরের নামাজের আজানরত অবস্থায় হাসানি নামের মিসরী এক মুয়াজ্জিনের ইন্তেকাল হয়েছে। (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)

তার এমন সুন্দর মৃত্যু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ইতিবাচক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মুয়াজ্জিনের জন্য দোয়া করার পাশাপাশি নিজেদেরও যেন এরকম ‘খাতেমাহ বিল-খাইর’ (উত্তম বিদায়) হয়, আল্লাহর কাছে সেই প্রার্থনা করছেন।

সৌদি আরবের প্রভাবশালী গণমাধ্যম আল আরাবিয়া জানিয়েছে, মিসরের আল-মানুফিয়া জেলার আল-বাজাউর এলাকার এক মসজিদে স্থানীয় সময় শুক্রবার ঘটনাটি ঘটে।

আজানের ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ (নামাজের জন্য এসো)-এই অংশটুকু বলা শেষ হওয়ার পর মুয়াজ্জিন আলহাজ হাসানির ইন্তেকাল হয়।

স্থানীয়রা জানান, তিনি আদতে অত্যন্ত ভালো এবং সদাচারী একজন মানুষ ছিলেন।

আলহাজ হাসানির পুত্র মাহমুদ হাসানি জানান, কয়েক বছর যাবত তার বাবা মহল্লার মসজিদে স্বেচ্ছায় এবং বিনা পারিশ্রমিকে আজান দেন। শুধু তিনি-ই নামাজি ছিলেন না; বরং অন্যদেরও নামাজের প্রতি যত্নবান হতে দাওয়াত দিতেন।

ইন্তেকালের দিনের ঘটনা বর্ণনা করে মাহমুদ হাসানি বলেন, ‘প্রতিদিনের মত শুক্রবারও ভোরে অজু করে আমার বাবা মসজিদে যান। তিনি আজান শুরু করেছেন, আমরা তাও শুনি। কিন্তু হঠাৎ ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ বলার পরে আর কোন আওয়াজ শোনা যায়নি। আমরা দৌঁড়ে মসজিদে গেলাম একথা জানতে যে, কেন আজান পরিপূর্ণভাবে দেওয়া হলো না। কিন্তু যখন আমরা মসজিদে প্রবেশ করি, তখন দেখি আমার পিতা মসজিদের মেঝোতে কিবলামুখী হয়ে পড়ে আছেন। বুঝতে পারি-তিনি আর পৃথিবীতে নেই।

আল আরাবিয়া অবলম্বনে- বেলায়েত হুসাইন